ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত, দেখুন ভিডিও

0
345

ওয়েবডেস্ক: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথ মানেই স্মৃতিতে গেঁথে থাকা বেশ কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। টেস্ট হোক বা এক দিনের ম্যাচ, অথবা হালফিলের টি-২০, পড়শি দুই দেশ মুখোমুখি হওয়া মানেই উত্তেজনায় ভরপুর একটা আবহ।

রবিবার লন্ডনের কেনিংটন ওভালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। হতেই পারে, আরও একটি জমজমাট উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ দেখা যাবে। তার আগে খবর অনলাইন বেছে দিল, এক দিনের ক্রিকেটে ভারত-পাক দ্বৈরথের কয়েকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

১৯৮৬ অস্ট্রেলেশিয়া কাপ, মিয়াঁদাদের শেষ বলে ছক্কা

ক্রিকেটভক্তদের কাছে এই ম্যাচটি ভোলার নয়। অস্ট্রেলিয়াশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে এই দু’টি দেশ। প্রথমে ব্যাট করে সাত উইকেটে ২৪৫ তোলে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের দাপটে বেশ চাপেই ছিল পাকিস্তান। কিন্তু একা কুম্ভ হয়ে লড়ছিলেন মিয়াঁদাদ। শতরান হয়ে গিয়েছে তাঁর। ম্যাচ জেতার জন্য শেষ বলে পাকিস্তানের দরকার চার রান। ক্রিজে মিয়াঁদাদ, বল হাতে চেতন শর্মা। চার রান আটকানোর জন্য সব ফিল্ডারকে বাউন্ডারি লাইনে পাঠিয়েছেন কপিল। কিন্তু ফুল টস করে বসলেন চেতন শর্মা, এবং তাতে অবলীলায় ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন করে দিলেন মিয়াঁদাদ।

১৯৯৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল

ম্যাচটি দু’টি পৃথক ঘটনার জন্য ক্রিকেটভক্তদের মনে এখনও টাটকা। প্রথমটি অজয় জাদেজার তাণ্ডব এবং দ্বিতীয়টি আমির সোহেল বনাম বেঙ্কটেশ প্রসাদ ডুয়েল। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে আট উইকেটে ২৮৭ করে ভারত। নভজ্যোত সিং সিধু সর্বোচ্চ ৯৩ করলেও, ভারতীয় ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট হয় জাদেজার ২৫ বলে ৪৫। ওয়াকার ইউনিসকে একার হাতে ছিঁড়ে খান জাদেজা। জবাবে ভালো শুরু করে পাকিস্তান। দলকে দ্রুতগতিকে এগিয়ে নিয়ে যান দুই ওপেনার আমির সোহেল এবং সঈদ আনোয়ার। এখানে আবার টার্নিং পয়েন্ট হয় সোহেলের মাথা গরম করা। বেঙ্কটেশ প্রসাদকে অযথা চালাতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। তিনি ফিরতেই পাকিস্তানের আশা শেষ। এই ম্যাচটি ছিল জাভেদ মিয়াঁদাদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

২০০৩ বিশ্বকাপ, সচিনের তাণ্ডব

এই ম্যাচের একটাই শিরোনাম হতে পারে, সচিন বনাম পাকিস্তান। ২০০৩ বিশ্বকাপ, নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে সমালোচনায় জর্জরিত ভারত। সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপে কিছুই করতে পারবে না ভারত। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে কোনো রকমে হারিয়ে এবং পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্রী হারের পর, ভারত বেশ কোণঠাসা। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচ থেকে নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু ভারতের। জিম্বাবোয়ে, ইংল্যান্ড এবং নামিবিয়াকে উড়িয়ে এল পাকিস্তান ম্যাচ। তবে প্রথম ইনিংসে দাপট ছিল পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের। সঈদ আনোয়ারের শতরানে ভর করে ২৭৩ করে পাকিস্তান। এর পর শুরু হয় সচিনের তাণ্ডব। রান তাড়া করতে নেমে কার্যত একার হাতেই শেষ করেন পাকিস্তানকে। বারোটা চার এবং একটা ছয়ে সাজানো ছিল তাঁর ৭৫ বলে ৯৮ রানের ইনিংস। তবে সচিন আউট হওয়ার পর, পাকিস্তানের ম্যাচে ফেরার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগ ব্যর্থ করে ভারতকে জিতিয়ে দেন দ্রাবিড় এবং যুবরাজ।

২০০৪, ভারত-পাকিস্তান প্রথম একদিনের ম্যাচ, করাচি

ম্যাচটি অনেকেই মনে রাখবেন পাকিস্তানি ড্রেসিংরুম থেকে ব্যাটসম্যানের উদ্দেশে কোচ মিয়াঁদাদের অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করে নির্দেশ দেওয়ার জন্য। ভারত এবং পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগে সৌহার্দ্য সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। করাচিতে চলছে প্রথম একদিনের ম্যাচ। প্রথমে ব্যাট করে দ্রাবিড়ের ৯৯-এর সুবাদে ৩৪৯ করে ভারত। তখনকার দিনে এই স্কোর তাড়া করা যেতে পারে, সেই ধারণাও আসেনি। কিন্তু অসাধ্যসাধন প্রায় করেই ফেলেছিল পাকিস্তান। ইনজামামের শতরানের সুবাদে প্রায় জয়ের কাছাকাছি চলে আসে তারা। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯, বল হাতে আশিস নেহরা। ওভারের প্রথম পাঁচটি বল অসাধারণ করলেন নেহরা। দিলেন মাত্র তিন রান। শেষ বলে দরকার ছয়। অর্থাৎ মিয়াঁদাদের শেষ বলে ছক্কা মারার সেই প্রেক্ষাপট। চেতন শর্মার মতো এখানেও ফুলটসই দিলেন নেহরা। কিন্তু টাইমিং করতে না পেরে ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়ে যান ব্যাটসম্যান মঈন খান। পাঁচ রানে ম্যাচ জেতে ভারত।

২০১১ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

ম্যাচের ফল খুব সাদামাটা। উত্তেজক কোনো মুহূর্তও সে ভাবে তৈরি হয়নি। কিন্তু ম্যাচটির মাহাত্ম্য ছিল অন্য কারণে।  ২০০৮-এর মুম্বই হামলার পর, এই প্রথম ভারতের মাটিতে খেলল পাকিস্তান, তাও আবার ভারতেরই বিরুদ্ধে। ম্যাচটি মোহালিতে হওয়ায়, সীমান্ত পেরিয়ে খেলা উপভোগ করতে আসেন ও-পারের সাধারণ মানুষও। আর আসেন দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের আবেদনে সাড়া দিয়ে ম্যাচ দেখতে আসেন তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ছিল ক্রিকেট-কূটনীতি। ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে ভারত, এবং বিশ্বকাপ বিজয়ীও হয় ধোনিবাহিনী।

 

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here