সানি চক্রবর্তী : 

একই মঞ্চে দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। সৌরভ গাঙ্গুলি আর বরিস বেকার। প্রতিযোগীরা দৌড়বেন কী! মোহিত হয়ে দেখছেন তাঁদের দু’জনকে। দৌড়োনো ভুলে তারা তখন সৌরভ আর বেকারের সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছয় যে প্রতিযোগীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকেও আসতে হল।

শীতের কলকাতা উপভোগ করল এই দুর্দান্ত ভোরের। টাটা স্টিল আয়োজিত কলকাতা ম্যারাথন। সাড়ে ছ’টায় ম্যারাথনের ফ্ল্যাগ অফ করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্ল। এর কিছুক্ষণ পরেই আবির্ভাব সৌরভের। ‘বুম বুম’ বেকারের পাশে দাঁড়িয়ে ‘দাদা’। দুজনে মিলে সূচনা করেন ‘নন এলিট’দের ২৫ কিলোমিটারের রেস। রেস এগিয়ে গেল রেসের মতো। মঞ্চে তখন নিজেদের জগতের দুই কিংবদন্তি দাঁড়িয়ে।

ক্রিকেটের ব্যাপারে কিছু জানেন বরিস? “এটুকু জানি সবুজ মাঠে সাদা জামা পরে খেলা হয় ক্রিকেট। এর বাইরে আমায় কিছু জিজ্ঞেস করবেন না,” সহাস্য জবাব বরিসের। কলকাতার জন্য বরিসের বক্তব্য, “খুব ভালো লাগছে এই শহরে এসে। মানুষের মধ্যে দৌড়োনোর উৎসাহ দেখে আমি খুবই আনন্দিত।” সৌরভ অবশ্য তাঁর স্বভাবচিত ভঙ্গিতে টেনিস আর ক্রিকেটের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন। “ক্রিকেটও সাদা জামা পরে সবুজ ঘাসে খেলা হয়, টেনিসও তাই। ক্রিকেট আর টেনিস দুটোতেই ব্যাট আর বল লাগে।” এর পর অবশ্য দু’টো খেলার মধ্যে তফাৎ-ও খুঁজে পান দাদা। “টেনিসের বল হাল্কা আর ক্রিকেটের বল অনেক বেশি ভারী। লাগলে ব্যাথা করবে”, জবাব সৌরভের।

বরিস বেকারের স্তুতিও বেরিয়ে আসে সৌরভের মুখ থেকে, “টেনিসে যত জন কিংবদন্তি রয়েছেন তার মধ্যে বরিস অন্যতম। ’৯১-এ অস্ট্রেলিয়া ওপেনের সময় মেলবোর্নে প্রথম বার বরিসের খেলা দেখেছিলাম। তার পর বেশ কয়েক বার অবশ্য দেখা হয়েছে। শেষ বার দেখা হয়েছে গত বছর। বরিস তখন নোভাক জোকোভিচের কোচ।”রেস শেষ হওয়া পর্যন্ত অবশ্য সৌরভ থাকতে পারেননি। আইএসএল ফাইনালের জন্য কোচির উদ্দেশে রওনা হয়ে যান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ছিলেন বরিস।

mara-8১ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে পুরুষদের এলিট বিভাগে প্রথম হন জি লক্ষণন। উল্লেখ্য, কলকাতা ম্যারাথনের ইতিহাসে রবিবারের আগে পর্যন্ত দ্রুততম যিনি ছিলেন তাঁর সময়ের থেকে আগে শেষ করেছেন এই ম্যারাথনের প্রথম তিন জন পুরুষ স্থানাধিকারীই। পুরুষদের বিভাগে দ্বিতীয় আর তৃতীয় হন যথাক্রমে শৃনু বাগালা আর বালিয়াপ্পা। মহিলাদের বিভাগে প্রথম হন মনিকা আথারে। দ্বিতীয় আর তৃতীয় হন জ্যোতি গাউতে আর মনিকা রাউত।

mara-4রেস ভেঙে যাওয়ার পর উৎসাহী মানুষদের মধ্যে কিছুটা হতাশা। খুব তাড়াতাড়িই যেন শেষ হয় গেল এক অপূর্ব ভোর। সবার মধ্যে তখন একটাই কথা, “আসছে বছর আবার হবে।”

ছবি : রাজীব বসু

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here