খবর অনলাইন : শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হওয়া ইউরোর গ্রুপ স্টেজ আর কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালের খবর দেওয়া হল।

ইউরো: শেষরক্ষা হল না সুইডেনের, সহজ জয় পেল স্পেন

বেশির ভাগ সময়ে বল দখলে থাকল সুইডেনের, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাজিমাত করল ইতালি। স্বপ্ন পূরণ হল না জ্‌লাটান ইব্রাহিমোভিচের। প্রথম খেলোয়াড় হিসাবে চারটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করবেন, ইব্রাহিমোভিচের এই স্বপ্নে কাঁটা হয়ে থাকল আজুরিরা। অবশেষে ম্যাচ শেষ হওয়ার দু’ মিনিট আগে ইতালির মার্টিন্স খেলার একমাত্র গোলটি করে দলকে শেষ ষোলোয় পৌঁছে দিলেন। গ্রুপ ‘ই’ এই ম্যাচ শুরুর আগে সুইডেনের কোচ এরিক হামরেন কথা দিয়েছিলেন, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেলার পুনরাবৃত্তি হবে না। হামরেনের ছেলেরা তাঁকে ডোবাননি। গোড়াতেই সুযোগ পেয়েছিলেন ইব্রাহিমোভিচ। ইতালির ডিফেন্ডার জিওরজিও চেলিনি হেড দিয়ে দলকে বাঁচান। পর পর দু’টি ম্যাচে জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল ইতালি।

তুরস্ক শেষ বার স্পেনের বিরুদ্ধে জিতেছিল সেই ১৯৫৪ সালে। তার পর কেবলই হার। সেই ধারাই অক্ষুণ্ণ রয়েছে ৬২ বছর ধরে। এ বারেও তার ব্যত্যয় হল না। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন ৩-০ গোলে তুরস্ককে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করল। নিজের নিজের দলকে জয়ের মুখ দেখানোর মূল দায়িত্ব ছিল দুই মিডফিল্ডার ইনিয়েস্তা আর তুরানের। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে খেলায় ১-০ হেরে তুরস্কের অধিনায়ক তুরান সমালোচনার মুখে পড়েন। বার্সিলোনার এই প্লেয়ার সে দিন খেলার পর তুরস্কের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে খেলায়ও সে ভাবে জ্বলে উঠতে দেখা গেল না তুরানকে। ও দিকে ইনিয়েস্তার একটা সুন্দর পাস থেকে একমাত্র গোল করে চেকের বিরুদ্ধে প্রথম জয় পেয়েছিল স্পেন। তুরস্কের বিরুদ্ধে এ দিনও স্বমহিমায় ছিলেন ইনিয়েস্তা। শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ ছিল স্পেনের হাতে। কিন্তু গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৩৪ মিনিট পর্যন্ত। নোলিতোর ইনসুইং ক্রস থেকে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন মোরাতা। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয় গোল, এ বার গোলদাতা নোলিতো নিজেই, তোপালের হেড থেকে বল তাঁর পায়ে। বল গোলে পাঠাতে ভুলচুক হয়নি নোলিতোর। দ্বিতীয়ার্ধ সবে শুরু হয়েছে। তৃতীয় গোলটি এল মোরাতার পা থেকে।

শুক্রবার ইউরোয় দ্বিতীয় খেলা ছিল চেক রিপাবলিক বনাম ক্রোয়েশিয়ার। ফল হল ২-২।

কোপা: সেমিফাইনালে কলম্বিয়া

গ্রুপ ম্যাচে ব্রাজিলকে হতচকিত করে পেরু জায়গা করে নিয়েছিল কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পেনাল্টি শুটআউটে ২-৪ গোলে কলম্বিয়ার কাছে হেরে গেল। সেমিফাইনালে চলে গেল কলম্বিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ২ মিনিট ধরে দুই দল সমানে সমানে লড়ে যায়। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারেনি। ম্যাচের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ম্যাচ চলে যায় পেনাল্টি শুটআউটে। কলম্বিয়ার হয়ে প্রথম গোল করেন খামেস রদরিগুয়েজ। দিয়াজের গোলে পেরু করে ১-১। কুয়াদ্রাদোর গোল, কলম্বিয়া ২-১। এ বার পেরুর পালা। তাপিয়ার গোলে পেরু ২-২। এর পরই ম্যাচ ঘুরে যায়। মোরেনোর গোলে কলম্বিয়া ৩-২। সুযোগ নষ্ট করেন পেরুর ত্রাউকো। এ বার পেরেজের গোলে কলম্বিয়া ৪-২। পেরুর কুয়েভা ক্রসবারের উপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দিয়ে কলম্বিয়াকে পৌঁছে দেয় সেমিফাইনালে।

শনিবার ইউরোয় মুখোমুখি বেলজিয়াম-আয়ারল্যান্ড (সন্ধে সাড়ে ৬টা); আইসল্যান্ড-হাঙ্গেরি (রাত সাড়ে ৯টা); পর্তুগাল-অস্ট্রিয়া (রাত সাড়ে ১২টা)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here