স্পেন -৩ (ইসকো ২, মোরাতা)  ইতালি – ০

সানি চক্রবর্তী: একতরফা স্প্যানিশ আক্রমণের বিরুদ্ধে দাঁতে দাঁত চাপা ইতালিয় রক্ষণ, আর পালটা আক্রমণে জমজমাট ফুটবল। প্রত্যাশার তালিকা ছিল এমনটাই।

প্রথম পর্বটা এল প্রত্যাশা ছাপিয়ে, আর দ্বিতীয়টা একেবারেই স্বভাববিরুদ্ধ হতাশ করার ভঙ্গিতে। যে ইতালিয় রক্ষণ বিশ্বখ্যাত, তারাই যেন এদিন বড়ো ভঙ্গুর। স্পেনকে কৃতিত্ব দিয়েও বললেই হয়, মনসংযোগে বারংবার অভাবে প্রতিপক্ষকে আক্রমণের সুযোগ করে দেওয়া, দিশাহীন পালটা আক্রমণ, মাছি তাড়ানোর মতো দুই স্ট্রাইকারের হন্যে হয়ে বিপক্ষ রক্ষণে বিচরণ। এই ইতালি দল একেবারেই ইতালিসুলভ খেলা মেলে ধরতে পারল না। যার সুবাদে বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বে টানা ৫৬ ম্যাচের পরে অপরাজিত তকমাটা মুছল। শুধু মুছলই নয়, ১৯৫৭ সালে পোর্তুগালের কাছে হারের পরে এদিন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সবথেকে বড়ো ব্যবধানে হারল তারা। নিজেদের ডেরায় ইসকো, রামোসরা একপ্রকার মাস্তানি করে জিতল ৩-০ ব্যবধানে। সঙ্গে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজটাও করা হয়ে গেল হুলেন লুপতেগুইয়ের প্রশিক্ষণাধীন দলের। ৭ ম্যাচের শেষে তারা ১৯ পয়েন্ট নিয়ে পৌঁছে গেল গ্রুপ জি-এর শীর্ষে। ইতালি সমসংখ্যক ম্যাচের শেষে রয়ে গেল ১৬ পয়েন্টেই। যে ছন্দ স্পেন এদিন মেলে ধরল, তাতে গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলো তারা জিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখে রাশিয়া বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন না করতে পারলে সেটাই হবে অঘটন। নিয়মানুযায়ী, নটি গ্রুপের সেরা দেশগুলি সরাসরি রাশিয়ার টিকিট পাবে। আর আটটি সেরা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশ দ্বিতীয় পর্বের যোগ্যতাঅর্জনে খেলতে নামবে ইউরোপ থেকে বিশ্বকাপের বাকি চারটি স্থানের জন্য।

হাইভোল্টেজ ম্যাচে বরাবরই প্রথমে কিছুটা সময় প্রতিপক্ষকে মেপে নিয়ে গোল পাওয়ার জন্য ঝাঁপায়। সেই লক্ষ্যেই ইসকোকে ফলস নাইন পজিশনে রেখে শুরুটা করেছিলেন লুপতেগুই। স্পেন যেমন নিজেদের পরিকল্পনায় একশো শতাংশ সফল মাঝমাঠের দখলের জেরে, তেমনই ইতালির পুরো ভিন্ন অবস্থা। জিয়ানপিয়েরো ভেনটুরার প্রশিক্ষণাধীন দলের খেলায় বোঝাপড়ার বড্ড অভাব চোখে পড়ল। মাঝমাঝে ভেরেত্তি দাঁথ ফোটাতে পারলেন না। যার ফলে বাড়তি চাপ তৈরি হল রক্ষণে। চোটের জেরে চেলিনি না থাকায় সমস্যা দেখা গেল সেখানেও। মাঝে মাঝেই বোঝাপড়ার অভাব চোখে পড়তে লাগল। তার সুযোগেই ১৩ মিনিটের মাথাতেই গোল। অ্যাসেনসিওকে আটকাতে গিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বসলেন ভেরেত্তি। যা থেকে মাপা ডান পায়ের আউটসুইংয়ে বুঁফোকে দাঁড় করিয়ে গোল করে গেলেন ইসকো। মাঝে খেলা ধরার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধের শেষদিকে ফের ইতালির ছন্নছাড়া ফুটবল। যা থেকে কার্যত কিলার ব্লো স্পেনের। অ-ইতালিসুলভ রক্ষণের বোঝাপড়া ও তাকে না আটকানোর সুবিধা নিয়ে বাঁ পায়ে মাপা শটে দ্বিতীয় পোস্টের কোণ ঘেঁষে আরও একটা গোল ইসকোর। মাঝমাঠে শাসন ও দু-দুটো গোল, ইসকো অ্যালারকন ম্যাচসেরার মতোই ফুটবল খেললেন। আর দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত মোরাতার তৃতীয় গোল। গোলটা প্রতি আক্রমণে। মোরাতার সঙ্গে যে মুভে একেবারে উপর পর্যন্ত উঠে বক্সের বাইরে থেকে মাপা ক্রসটা রাখলেন সার্জিও রামোস। হ্যাঁ রক্ষণ ছেড়ে গোলের খোঁজে তখন ব্যস্ত স্পেন অধিনায়ক। রামোসের গোলের সন্ধানই ম্যাচের শেষলগ্নটা ঠিক কেমন ছিল, বুঝিয়ে দিচ্ছে। ইতালি পালটা আক্রমণে চেষ্টা করেছে বটে একটা দুটো, তবে নীল জার্সিদের মাঝে মাঝেই একে অপরকে চেনা নেই বলেই মনে হয়েছে। স্প্যানিশ আর্মাডার ক্রমাগত আক্রমণে ঝাঁঝরা হয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা।

এদিকে গ্যারেথ বেল সেভাবে ছাপ ফেলতে না পারলেও অভিষেকেই বেন উডবার্নের দুরন্ত গোলে জয় পেল ওয়েলস। মাঠে নামার ৫ মিনিটের মধ্যে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ৭৪ মিনিটের মাথায় তরুণ উডবার্নের গোলা ক্রিস কোলম্যানের প্রশিক্ষণাধীন দলের মুখে হাসি ফোটাল। জয়ের ফলে ৭ ম্যাচের ১১ পয়েন্টে পৌঁছে গেল ওয়েলস। গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকলেও বাকিদের সঙ্গে ব্যবধান কমল বেলদের। গ্রুপ ডি-তে সমসংখ্যক ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সার্বিয়া। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র।

এদিকে মাঠে জল জমে যাওয়ায় বাতিল হয়ে গেল ক্রোয়েশিয়া ও কোসোভোর ম্যাচ। তাই গ্রুপ আই-তে ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষে ইউক্রেন। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দুইয়ে থাকা ক্রোয়েশিয়ার হাতে যদিও বাতিল হওয়া খেলার রিম্যাচ রয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন