ভারত

১) শিখরে সিন্ধু

pv-sindhu-medal

রিও অলিম্পিকের আগে ভারতের ব্যাডমিন্টন বলতে লোকে সাইনা নেহওয়ালকেই বুঝত, কিন্তু অলিম্পিকের পর সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন পুসার্লা বেঙ্কট সিন্ধু। অলিম্পিকে সোনা জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও স্পেনের কারোলিনা মারিনের বিরুদ্ধে হেরে গিয়ে রূপো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। এর মাস তিনেক পর চিন ওপেন জেতেন সিন্ধু।

২) অলিম্পিকে নারী জাগরণ

sakshi-malik

রিও অলিম্পিক ভারতের মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকল। সিন্ধুর রূপোর পাশাপাশি, কুস্তিতে ব্রোঞ্জ জেতেন সাক্ষী মালিক। অনন্য নজির গড়লেন বাঙালি কন্যা দীপা কর্মকার। অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী প্রথম ভারতীয় মহিলা জিমন্যাস্ট হওয়ার পাশাপাশি অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ খোয়ান তিনি। ললিতা বাবরও কম যান না। পিটি উষার পর ললিতাই প্রথম মহিলা যিনি হেপ্টাথেলনের ফাইনালে ওঠেন। গলফে নজর কাড়েন অদিতি অশোকও।

৩) প্যারালিম্পিকে কৃতিত্ব

অলিম্পিকে ভারত যা করতে পারেনি সেটাই করে দেখালেন ভারতের বিশেষ ভাবে সক্ষম ক্রীড়াবিদরা। দু’টো সোনা-সহ চারটি পদক যেতে ভারত। হাই জাম্পে সোনা জেতেন মারিয়াপ্পান থাঙ্গাভেলু। একই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন বরুণ ভাট্টি। ভারতের দ্বিতীয় সোনাটি আসে জাভেলিন ইভেন্ট থেকে। বারো বছর পর একই ইভেন্টে দ্বিতীয় বার সোনা জেতেন দেবেন্দ্র ঝাজারিয়া। ডিসকাস ছোড়া ইভেন্টে রুপো জেতেন দীপা মালিক।   

৪) হকিতে নজরকাড়া প্রদর্শন

india-junior-world-cup

২০১৬ সাল বিগত কয়েক বছরে নিঃসন্দেহে ভারতীয় হকির সেরা বছর। বেলজিয়ামকে ফাইনালে হারিয়ে হকির যুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে এশিয়া-সেরা হয় পুরুষ দল, অন্য দিকে চিনকে ফাইনালে উড়িয়ে এশিয়া-সেরার শিরোপা পায় মহিলা হকি দলও। বিগত কয়েকটা অলিম্পিকের মধ্যে এ বার অলিম্পিকেও ভালো খেলে ভারত। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গেলেও, সোনাজয়ী আর্জেন্তিনাকে গ্রুপ স্টেজে হারায় ভারত।  

৫) ইস্টবেঙ্গলের ‘হেপ্টা’ জয়

eastbengalfc

টানা সাত বার কলকাতা লিগ জিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করল ইস্টবেঙ্গল। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫, টানা ছ’বার কলকাতা লিগ জেতার রেকর্ড ছিল ইস্টবেঙ্গলেরই। নিজেদের তৈরি করা সেই রেকর্ড ভাঙল তারা। ২০১০ থেকে ২০১৬, টানা সাতবার কলকাতা সেরার শিরোপা উঠল ইস্টবেঙ্গলের মাথায়।

৬) এএফসি কাপ ফাইনালে বেঙ্গালুরু

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এএফসি কাপের ইতিহাসে বেঙ্গালুরু এফসিই একমাত্র ভারতীয় ক্লাব যারা ফাইনালে উঠল। সেমিফাইনালে মালয়েশিয়ার দলকে ৪-২-তে হারায় বেঙ্গালুরু। তবে ফাইনালে ইরাকের ক্লাবের বিরুদ্ধে হেরে গেলেও বেঙ্গালুরুর লড়াই সকলে মন কাড়ে।   

৭) প্রথম পিঙ্ক বল ম্যাচ ইডেনে

edengardens-pinkballmatch

ইতিহাসের পাতায় ঢুকল ইডেন গার্ডেনস। ভারতের সর্বপ্রথম পিঙ্ক বল ম্যাচ আয়োজিত হল ক্রিকেটের নন্দনকাননে। আইসিসির পিঙ্ক বলে দিন-রাতের টেস্ট আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি। ঠিক করেন স্থানীয় চার দিনের সুপার লিগ ফাইনাল হবে দিন-রাতের। সৌরভের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান সুপারলিগ ফাইনালে ওঠা দুই দল মোহনবাগান আর ভবানীপুর। ১৪ জুন, ইডেনের বুকে শুরু হয় এই ম্যাচ। সৌরভের উদ্যোগে খেলার লাইভ সম্প্রসারণের ব্যবস্থাও করা হয়। ম্যাচ জেতে মোহনবাগান।

৮) ‘বিরাট’ প্রাপ্তি

kohli

২০১৬ বিরাট কোহলির বছর বললে কিচ্ছু বাড়াবাড়ি হবে না। যেমন ব্যাটিং, তেমনই অধিনায়কত্ব। টেস্টে তিনটে দ্বিশতরান-সহ রান করেন বিরাট। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে টেস্ট র‍্যাঙ্কিং-এ শীর্ষে নিয়ে যান ভারতকে। টেস্টের পাশাপাশি ব্যাটসম্যান হিসেবে একদিন এবং টি-২০-তেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ এবং টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের প্রধান ব্যাটসম্যান কোহলি।

৯) সেরার সেরা রবিচন্দ্রণ অশ্বিন

ashwin

২০১৬-কে বিশেষ ধন্যবাদ দেবেন রবিবন্দ্রণ অশ্বিন। এই বছরই বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার উপাধি পান ভারতের এই অলরাউন্ডার। বোলিং তো তাঁর দুর্ধর্ষ ছিলই বিগত এক বছরে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে যথেষ্ট প্রমাণিত করেছেন অশ্বিন। ব্যাট হাতে ছয় নম্বরে নেমে দলকে অনেক চাপের মুহূর্ত থেকেও উদ্ধার করেছেন তিনি। তাঁর এই পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে তাঁকে বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার উপাধি দেয় আইসিসি।

১০) সহবাগের রেকর্ড ভাঙতেই বসেছিলেন করুন নায়ার

কী কীর্তিই না করলেন করুন নায়ার। জীবনের প্রথম সিরিজে একশো নয়, দুশো নয়, শেষ করলেন একেবারে তিনশোয়। অধিনায়ক কোহলি ইনিংস ডিক্লেয়ার না করলে বীরেন্দ্র সহবাগের রেকর্ড ভেঙেই হয়তো ফেলতেন করুন। গ্যারি সোবার্স আর ববি সিম্পসনের পর করুনই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি প্রথম শতরানটাই নিয়ে গেলেন ত্রিশতরানে।

বিশ্ব

১) বছরটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর

ronaldo-ballon-d-or-1

দুর্দান্ত বছর গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। তাঁর অধিনায়কত্বে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইউরো কাপ জেতে পর্তুগাল। এর মাস দেড়েকের মধ্যেই উয়েফার বিচারে ইউরোপের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন তিনি। তবে সব থেকে বড়ো পুরস্কার বছরের শেষ প্রান্তে এসে পেলেন সিআর সেভেন। ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। এই নিয়ে চার বার ‘ব্যালন ডি অর’ জিতলেন তিনি। এই পুরস্কারের বিচারে তাঁর সামনে শুধু লেওনেল মেসি।   

২) মেসির অবসর এবং ফিরে আসা

messi

কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্যর্থ হয়ে আচমকা ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণ করেন লেওনেল মেসি। টুর্নামেন্টের ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন লেও। এত কম বয়সে অবসরে স্তম্ভিত হয়ে যায় ফুটবল বিশ্ব। ফুটবলে ফিরে আসার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে অনুরোধ ওঠে। অবশেষে সিদ্ধান্ত বদলান মেসি। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়িং ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করেই গোলের মুখ দেখেন মেসি। তবে তাঁর অবসর ঘোষণা স্রেফ একটা নাটক ছিল বলে ব্যঙ্গ করেন অনেকেই, যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন দিয়েগো মারাদোনা।

৩) ইউরোয় আইসল্যান্ডের উত্থান

iceland

দেশটার জনসংখ্যা তিন লক্ষের কিছু বেশি অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার তিনশো ভাগের এক ভাগ। বছরে ছ’মাস বরফের তোলায় থাকে দেশটা। ফুটবল খেলার চর্চাও সেই ভাবে নেই, রাজধানী রেইকাভিকে কয়েকটা ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন ফুটবলাররা। এ হেন আইসল্যান্ড প্রথম বার ইউরো কাপে নেমে কোয়ার্টার উঠে গেল তারা। কোয়ার্টারে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিলেও ফুটবল আবেগে টেক্কা দিয়ে গেলেন আইসল্যান্ডের সমর্থকরা।

৪) ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৯। ব্যাট হাতে এক অনামি কার্লোস ব্র্যাথওয়েথ। চার বল পর সেই ব্র্যাথওয়েথই হয়ে গেলেন হিরো। পরপর চার বলে চারটি ছয় আর তাতেই দ্বিতীয় বারের জন্য টি-২০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই দিন দুপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহিলা দলও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপের ট্রফি তোলে।  

৫) শাহিদ আফ্রিদির অবসর-নাটক, ম্যাককালামের অবসর

শাহিদ আফ্রিদি কি সত্যি সত্যিই অবসর নিলেন। না, এ বারও নয়। টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিদায়ের পর অবসরের কথা বললেও সেই পথে হাঁটেননি ‘লালা’। নিন্দুকদের মতে এই নিয়ে দশম বার অবসর ঘোষণা করেও ফিরে এলেন আফ্রিদি। তবে আফ্রিদি বিদায় না নিলেও ক্রিকেটকে সত্যি সত্যিই বিদায় জানান নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নিজের শেষ ম্যাচে টেস্টের ইতিহাসে দ্রুততম শতরান হাঁকান ব্রেন্ডন।  

৬) উসেন বোল্ট-এর ‘ট্রিপল ট্রিপল’

usain-bolt

‘ট্রিপল ট্রিপল’ জিতে অলিম্পিককে বিদায় জানালেন উসেন ‘থান্ডার’ বোল্ট। পর পর তিনটি অলিম্পিকে তিনটে করে সোনা জিতলেন তিনি। ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪ x ১০০ মিটার রিলে। এই অনন্য নজির গড়ে বোল্ট বলেন, “আমিই গ্রেটেস্ট”।

৭) মাইকেল ফেল্পস-এর রেকর্ড

phelps

অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ভাবে সর্বোচ্চ সোনা জেতার রেকর্ড করলেন মাইকেল ফেল্পস। রিও অলিম্পিকের শেষে তাঁর সোনার সংখ্যা দাঁড়াল ২৩। রিও-তেই অলিম্পিক থেকে বিদায় ঘোষণা করেন ফেল্পস।

৮) মহম্মদ আলির মৃত্যু

muhammad-ali

৩ জুন ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যু হয় বক্সিং কিংবদন্তি মহম্মদ আলির। ১৯৬০ সালের প্রথম দিকে ধুমকেতুর মতো বক্সিং জগতে আবির্ভাব হয় এই মার্কিন বক্সারের। তাঁর ধারাবাহিক পারফরমেন্স বুঝিয়ে দেয় তিনি মোটেই ধুমকেতু নন। তিনি ‘রাজ’ করতে এসেছেন বক্সিং-এর জগতে। অলিম্পিকে সোনা জিতে শুরু হয় তাঁর বর্ণময় কেরিয়ার। তার পর সেই ‘জয়’ পাওয়াকে তিনি অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। কেরিয়ারে মোট ৬১টি লড়াইয়ের মধ্যে ৫৬টিতেই জেতেন আলি। তিন বার বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব জিতে অবসর নেন তিনি।

৯) বিদায় জওয়ান ক্রুয়েফ

cruyff

হল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার জোয়ান ক্রুয়েফের মৃত্যু হয় ২৪ মার্চ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। ফুটবলার দুনিয়ায় যথেষ্ট প্রভাবশালী হিসেবে গণ্য করা হত ক্রুয়েফকে। ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি কোচ হিসেবেও যথেষ্ট সফল তিনি। বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে ৬৬১টি ম্যাচ খেলে ৩৬৯টি গোল করেন ক্রুয়েফ। হল্যান্ডের হয়ে ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩৩টি গোল রয়েছে ক্রুয়েফের।

১০) চলে গেলেন হানিফ মহম্মদ

hanif-muhammad

সচিনের আগে তাঁকেই লিটল মাস্টার বলে চিনত ক্রিকেট বিশ্ব। প্রথম এশীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিনশো করার অনন্য নজির গড়েন হানিফ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাঁর ৩৩৭ রানের ইনিংসটি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংস।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here