কাঠমান্ডু: মেশিনেরও মৃত্যু হয়, হারিয়ে যেতে যেতে এটাই বলে গেলেন উয়েলি স্টেক। সুইৎজারল্যান্ডের পর্বতারোহী স্টেক, যিনি নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙতেন বারবার। উইকিপিডিয়ায় তাঁর নাম খুঁজলে এতক্ষণে নামের পাশে দেখাবে, ৪ অক্টোবর ১৯৭৬ – ৩০ এপ্রিল ২০১৭।  এভারেস্ট অভিযান শুরু হওয়ার দিন কয়েকের মধ্যেই মাউন্ট নুপ্সে থেকে পড়ে  মৃত্যু হল দু’বার পিওলেট ডি’ওর খেতাব পাওয়া পর্বতারোহী উয়েলি স্টেকের। তাঁর মৃতদেহ নিয়ে আসা হয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডুতে।

দ্রুততার সঙ্গে পর্বতারোহণে উয়েলি স্টেক একটা বিশ্ববিখ্যাত নাম।  আলপ্‌স এবং হিমালয় জুড়ে সেই কৈশোর থেকেই দাপিয়ে বেড়িয়েছে স্টেক। পৃথিবীর দুর্গম শৃঙ্গ জয়ে কখনও তাঁর সময় লাগত মাত্র দিন কয়েক, কখনও বা কয়েক ঘণ্টা। ২০১২ সালে সাউথ কল দিয়ে ছুঁয়ে এসেছিলেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দুকে। তা-ও আবার অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়াই। ‘খুম্বু এক্সপ্রেস’ নাম থেকেই অভিযানের দ্রুততা সম্পর্কে আঁচ পাওয়া যায়। ২০১৫-তে আলপ্‌সের ৮২টা শৃঙ্গ জয় করতে স্টেক সময় নিয়েছিলেন ৬২ দিন। ২০১৭-র এভারেস্ট অভিযানে বেছে নিয়েছিলেন সম্পূর্ণ অন্য এক পথ। সঙ্গে ছিল মাউন্ট লোৎসে জয়ের পরিকল্পনাও।

 

তাঁর তৈরি রেকর্ড অন্য কেউ ভাঙলে কেমন লাগে জানতে চাওয়া হলে উয়েলি বলেছিলেন, “রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই তৈরি হয়, আজ না হয় কাল কেউ না কেউ তো ভাঙতই।” বছর চারেক আগে সুইস সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উয়েলি বলেছিলেন, “এ এক এমন নেশা যা খুব তাড়াতাড়ি আমার মৃত্যু ডেকে আনবে”। কিন্তু মৃত্যু যে এত কাছে, নুপ্সের হাজার মিটার নীচেই তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল, তা হয়তো নিজেও বোঝেননি বছর চল্লিশের ‘সুইস মেশিন’। দ্রুত পাহাড়ে ওঠার দক্ষতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে এই নামেই পরিচিত ছিলেন স্টেক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here