কিংসটন (জামাইকা): না, এটা তাঁর ‘সব চেয়ে ভালো’ সময় হল না বটে, তবে ঘরের মানুষদের কাছে শেষ দৌড়ে ১০০ মিটার ফাইনাল জিততে কোনো ভুলচুক হল না তাঁর। তিনি উসেইন বোল্ট।

শনিবার রাতে এখানকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছিল ‘স্যালুট টু আ লিজেন্ড’ রেস। সেখানে বোল্ট ১০০ মিটার জিতলেন ১০.০৩ সেকেন্ড সময় করে। অলিম্পিকে আটবার সোনাজয়ী বোল্টের ঝুলিতেই রয়েছে ১০০ মিটারে বিশ্বরেকর্ড, সময় করেছিলেন ৯.৫৮ সেকেন্ড।

বোল্টের দৌড় শেষ হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়ামের দর্শকরা। শুরু হয়ে যায় নাচ, পতাকা নাড়ানো, ভুভুজেলা বাজানো। কিংসটনের আকাশ নানা ধরনের আতসবাজির বিচিত্র আলোয় ভরে যায়।

ফিনিশিং লাইনে আবার ফিরে এসে মাটিতে চুমু খেয়ে বোল্ট জনতার উদ্দেশে তাঁর সেই চিরাচরিত ‘লাইটনিং বোল্ট’ ভঙ্গিমা করেন।

বোল্ট বলেন, “সম্ভবত আমার খারাপ দৌড়গুলোর একটা হল এটা।” তবে আঘাত-মুক্ত থেকে ঘরের মানুষদের কাছে তিনি যে তাঁর দৌড় প্রদর্শন করতে পেরেছেন, এতেই খুশি তিনি। এত বছর ধরে মানুষ যে তাঁকে সমর্থন দিয়ে এসেছেন, তাঁদের প্রতি যে “তিনি কৃতজ্ঞ, এটা দেখানোর দায়” তো তাঁর আছে। “পরিবেশ দেখুন, মানুষগুলোকে দেখুন। ওঁরা এসেছেন, সমর্থন দিয়েছেন, নার্ভকে ধাক্কা দিয়ে যায়। আমি এতটা আশা করিনি। আমি জানতাম খুব বড়ো একটা ব্যাপার হবে। কিন্তু এতটা ভাবিনি। স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভর্তি। সবাই এসেছেন, সমর্থন করেছেন, আমি অভিভূত।”

বোল্টের দৌড় দেখার জন্য এ দিন হাজির ছিলেন জামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান কো।

স্টেডিয়ামের ৩০ হাজার দর্শকের সামনে থেকে হাত নাড়তে নাড়তে বিদায় নিলেন উসেইন বোল্ট। আগামী আগস্টে লন্ডনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসে দৌড়িয়ে বোল্ট তাঁর অ্যাথলেটিক-জীবনে ইতি টানবেন।

ছবি: সৌজন্যে দ্য টেলিগ্রাফ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন