খবর অনলাইন: প্রথম ইউরো-আবির্ভাবেই চমক দিল ওয়েলস। গ্রুপ শীর্ষ থেকে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল তারা। সোমবার রাতে রাশিয়াকে তারা হারাল ৩-০ গোলে।

প্রথমার্ধের শুরুতেই অ্যারন র‍্যামসির গোলে ১-০ এগিয়ে যায় । এর কিছুক্ষণ পরেই ২-০ করেন নিল টেলর। এই টেলরের মা কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন। বিরতির পরেও আক্রমণ করতে থাকে ওয়েলস। প্রথম দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ফের গোল করেন গ্যারেথ বেল। ওপেন প্লে থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন  ওয়েলস-এর তারকা। তিন গোল করে আপাতত  টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন বেল।

ইউরোর অন্য ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করল ইংল্যান্ড আর স্লোভাকিয়া। গোটা ম্যাচেই আক্রমণের পর আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের মুখ দেখেনি রয় হজসনের দল। ইংল্যান্ডের ড্র আর ওয়েলসের জয়ের ফলে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল ইংল্যান্ড।

কে নিল টেলর ?

সোয়ানসি সিটি-র লেফট্‌ ব্যাক ২৭ বছরের নিল জন টেলর ওয়েলস-এর জাতীয় দলে খেলছেন ২০১০ থেকে। ওয়েলসে জন্ম হলেও পরিবারের সূত্রে তিনি অর্ধেক ভারতীয়। নিলের মা কলকাতার মেয়ে। নিলের মামা-মাসিরা সব কলকাতা আর দিল্লিতে থাকেন। বহু বার নিল ভারতে এসেছেন, আত্মীয়দের কাছে বেশ কিছু দিন ধরে কাটিয়ে গিয়েছেন। এই দেশটা ভালোই চেনেন। ১৬ বছর বয়সে, ২০০৫-এ  পেশাদার ফুটবলার হওয়ার পর থেকে নিল কলকাতা-সফরের সময় পাননি। তবে তিন বছর আগে, ২০১৩-এর জুনে নিল আবার কলকাতায় আসেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্পনসর করা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ‘প্রিমিয়ার লিগ কলকাতা গোলৎস প্রোজেক্ট’-এ যোগ দিতে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল, অবহেলিত, বিভিন্ন সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত তরুণ ফুটবলারদের জন্য কিছু করা।

নিল মনে করেন, কাতার যদি বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করতে পারে, তা হলে ভারতও পারবে। এবং এখানকার মানুষ ফুটবল সম্পর্কে এত আবেগপ্রবণ যে এখানে বিশ্বকাপ হলে দারুণ জমবে। ভারত দেশটির বৈচিত্র্যই বিশ্বকাপ ফুটবলকে বর্ণময় করে তুলবে। আর ফুটবলে ভারতের উন্নতিও দ্রুত হবে, যেমনটি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯৪-এ বিশ্বকাপ আয়োজন করার পর। ক্রিকেট দিয়েই ভারত প্রমাণ করে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করার পরিকাঠামো ভারতের আছে।

নিল জানিয়েছেন, ইচ্ছে করলে তিনি ভারতের হয়েও খেলতে পারতেন। কিন্তু তিনি যে হেতু ওয়েলস-এ জন্মেছেন তাই সে জায়গার হয়ে খেলাটাই বেছে নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here