কলকাতা: স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছরে (Azadi Ka Amrit Mahotsav) একবার ফিরে যাই ১৯৬২ সালের সেই ঐতিহাসিক সময়, যখন জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ফুটবলে সোনা যেতে ভারত। আর সেই দলেরই অধিনায়ক ছিলেন চুণী গোস্বামী (Chuni Goswami)।

ষাটের দশক নিঃসন্দেহে ছিল ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগ। আর সেই স্বর্ণযুগের অন্যতম রচয়িতা চুণী। বলের ওপর অসাধারণ দখল তাঁর। সঙ্গে মাঠের পরিস্থিতি বোঝার আশ্চর্য ক্ষমতা। শুধু এশিয়ার গেমসই নয়, দু’বছর পর এশিয়ান কাপ এবং মারডেকা টুর্নামেন্টে ভারতীয় টিম রুপোর পদক পায় তাঁরই নেতৃত্বে।

কিংবদন্তি এই ফুটবলারের আসল নাম সুবিমল গোস্বামী। জন্মেছিলেন পূর্ববঙ্গের কিশোরগঞ্জে। মাত্র ৯ বছর বয়সে মোহনবাগানের জুনিয়র টিমে খেলা খেলা শুরু করেন। ১৯৫৪ সালে যোগ দেন সিনিয়র টিমে। ১৫ বছর খেলেছেন মোহনবাগানের হয়ে।

৬ বার ডুরান্ড কাপ এবং ১০ বার কলকাতা লিগ বিজয়ী দলে ছিলেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৪ অবধি মোহনবাগানে পালন করেন অধিনায়কের দায়িত্ব। তাঁর কৌশলী নেতৃত্বে পরপর ৩ বার ডুরান্ড কাপ জিতে নেয় মোহনবাগান।

চুনী গোস্বামীকে বলা হত ‘ড্রিবলিংয়ের রাজা’। চিনের অলিম্পিক টিমের বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক খেলায় পা রাখেন। ৫০টি ম্যাচ খেলেন জাতীয় দলের হয়ে। অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস, এশিয়া কাপ, মারডেকা কাপে মুগ্ধ করেছেন সবাইকে।

ভারতীয় ফুটবল টিমের অন্যতম সফল অধিনায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু ফুটবল থেকে আচমকা অবসর নিয়ে নেন বড্ড অল্প বয়সেই, মাত্র সাতাশ বছর বয়স তাঁর। সেই সময় খ্যাতির শীর্ষে তিনি। ফুটবল ছাড়লেও খেলা ছাড়েননি তিনি। এর পর ক্রিকেটে মনোনিবেশ করেন তিনি। অবশ্য ফুটবলের আগে তিনি স্কুল জীবনে ক্রিকেট খেলেছেন বাংলার হয়ে।

সব মিলিয়ে ৪৬টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছিলেন চুণী। বাংলা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর অধিনায়কত্বে বাংলা রঞ্জি ট্রফির ফাইনালেও ওঠে। যদিও হেরে যায় মুম্বইয়ের কাছে। জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য তাঁর নাম বিবেচিত হয়েছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলতে পারেননি তিনি।

তবে ১৯৬৬ সালে বিশ্বসেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে খেলা ক্রিকেটারদের নিয়ে যৌথ একাদশে স্থান পান চুণী। ক্রিকেটে তিনি ছিলেন অলরাউন্ডার।

আবার ‘অলরাউন্ডার’ চুণী গোস্বামী হকি খেলাতেও ছিলেন দক্ষ। সাউথ ক্লাবে নিয়মিত টেনিস খেলতেন। বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সারা জীবনে। এশিয়ার সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার, অর্জুন পুরস্কার, পদ্মশ্রী সম্মান, মোহনবাগান রত্ন লাভ করেন। ২০০৫ সালে কলকাতার শেরিফ নির্বাচিত হন। ‘প্রথম প্রেম’ নামের এক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন।

২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল প্রয়াত হন চুণী। ৮২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সেই সময় করোনাজনিত লকডাউন থাকার ফলে তাঁর শেষযাত্রায় মানুষের ঢল নামতে পারেনি। নইলে সে দিন পুরো কলকাতাই যে রাস্তায় নামত, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়তে পারেন: 

ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে অন্যতম সেরা মুহূর্ত, অ্যাটলান্টা অলিম্পিকে লিয়েন্ডার পেজের পদক জয়

প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন আরতি সাহা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন