বাংলা -১(মনবীর সিং)            গোয়া-০

গোয়া: স্কোরটা দাঁড়াল ৬-১। না,  ম্যাচের স্কোর নয়। সন্তোষ ট্রফি ফাইনালে এই নিয়ে ৭ বার মুখোমুখি হল বাংলা ও গোয়া। এ বারেরটা নিয়ে ৬ বার জয় ছিনিয়ে নিল বাংলা। তার ওপর গোয়ার মাটিতে গোয়াকে হারিয়ে ট্রফি ঘরে নিয়ে আসার স্বাদই আলাদা। সেই স্বাদটাই এখন তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন বসন্ত, বিশাল, মনবীর, রানা, প্রভাতরা। সঙ্গে অবশ্যই কোচ মৃদুল ব্যানার্জি।

৭১ বার সন্তোষ ট্রফি খেলা হল। ৩২ বার জয় এল বাংলার ঘরে।

রবিবার কোঙ্কলিমের মাঠে বাংলা না জিতলে খারাপই। ম্যাচের বেশির ভাগ জুড়েই প্রাধান্য ছিল মৃদুল ব্যানার্জির ছেলেদের।  তবে যারই প্রাধান্য থাক। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিট, সারাক্ষণই টানটান ছিল ম্যাচ। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ভরপুর বিনোদন পেয়েছেন দর্শকরাও। তবু গোল হতে যে ১১৯ মিনিট লেগে গেল, তার জন্য দুদলের স্ট্রইকিং দক্ষতার অভাবই দায়ী। পাশাপাশি বলতে হবে দুপক্ষের ঠাস বুনোট ডিফেন্সের কথাও। আক্রমণ যে রকম হয়েছে, সেই অনুযায়ী গোলের মুখ খোলেনি।


১২০ মিনিট জুড়ে যে গতিময় ফুটবল এদিন দুদলের অনামি খেলোয়াড়রা উপহার দিলেন, তা ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে নিঃসন্দেহে ভাল বিজ্ঞাপন।


ম্যাচের ১০ মিনিটে গোলের সামনে বল পেয়ে গেছিল গোয়া, কিন্তু দুর্বল শট বাঁচাতে তেমন কসরত করতে হয়নি সেমিফাইনালের নায়ক গোলকিপার শংকর রায়কে। গোটা ম্যাচেই তেমন কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি এদিন শংকরকে। তবু যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তিনি নতুন করে নিজের জাত চিনিয়েছেন।

২৩ মিনিটে অফ সাইড থেকে জালে বল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বাংলার বসন্ত সিং। বসন্ত এবং বিশাল প্রধান নজর কেড়েছেন গোটা ম্যাচ জুড়েই। ম্যাচের একটা বড়ো সময় জুড়ে বাংলার যাবতীয় আক্রমণই হচ্ছিল বসন্তর পা দিয়ে। প্রথমার্ধ জুড়েই ম্যাচে দখল ছিল বাংলার। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২৫ মিনিট গোয়া ম্যাচে প্রাধান্য রাখলেও ম্যাচের শেষের দিকে খেলা ফের ধরে নেন মনবীর, রোনাল্ড সিং-রা। ৮৩ মিনিটে মুমতাজ আখতারের দুরন্ত শট আরও চমৎকার সেভ করেন গোয়ার গোলকিপার ব্রুনো কোলাসো। ব্রুনো অবশ্য গোটা ম্যাচটাই ভাল খেলেছেন। ইনজুরি টাইমে একটি ভাল সেভ করেন শংকর-ও।

অতিরিক্ত সময়ের ১ মিনিটের মাথায় সোনার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন মনবীর সিং। মহমেডান খেলোয়াড়ের হেড ক্রসবারে লেগে যায়। পোয়েটিক জাস্টিস হল তাঁর সঙ্গেই। অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ১ মিনিট আগে রোনাল্ড সিং-এর পাস ধরে চমৎকার ভলিটা গোলে রাখলেন তিনি। তখন কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল গোয়ার ডিফেন্স। অতিরিক্ত সময় জুড়ে বাংলার একটানা আক্রমণের ফল মিলল শেষ মুহূর্তে।

১২০ মিনিট জুড়ে যে গতিময় ফুটবল এদিন দুদলের অনামি খেলোয়াড়রা উপহার দিলেন, তা ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে নিঃসন্দেহে ভাল বিজ্ঞাপন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন