শৈবাল বিশ্বাস

আগামী ৭ জুন কুয়ালালামপুরে এ এফ সি-র ডাকা সালিশি সভায় ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ডাক পাওয়ায় প্রবল ক্ষুব্ধ মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। ভারতীয় ফুটবলের রোডম্যাপ সম্পর্কে এআইএফএফ-এর বক্তব্য জানতে না পারলে তাঁরা ওই সভায় প্রতিনিধি না পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছেন। শনিবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত আইএফএ ও দুই বড় দলের মধ্যে নজিরবিহীন সভায় এআইএফএফ-এর ভূমিকা নিয়ে ঝড় বয়ে যায়। এএফসির সচিব ও এআইএফএফ-এর সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেলের মধ্যে আলোচনায় কী হলো তা দুই বড় ক্লাবকেই জানানোর কথা ছিল। ফেডারেশনের সিইও কুশল দাস বলেছিলেন, ২৫ মে এই বৈঠকের পর রোডম্যাপ প্রত্যেককে জানানো হবে কিন্তু কোথায় কী? উল্টে প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনকে দিয়ে দুই ক্লাবের বিরুদ্ধে জেহাদ ছড়ানো হচ্ছে। ফেডারেশন, প্লেয়ারদের পক্ষ নেওয়ার নাম করে তাদের উসকানি দিচ্ছে। আইএসএলে ফুটবলাররা বেশি টাকা রোজগার করার সুযোগ পাবেন এটা যেমন সত্য আবার স্থানীয় লিগগুলি গুরুত্ব হারালে বহু খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ হারাবেন এটাও সত্য। কিন্তু বর্তমান খেলোয়াড়দের নানা রকম লোভ দেখিয়ে বলা হচ্ছে, ক্লাবগুলিকে আইএসএলে খেলতে বাধ্য কর। কারণ আই লিগ তুলে দেওয়া হবে। তোমরা আর দুটি ক্লাবে খেলার সুযোগ পাবে না। সেই কারণেই প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সচিব রেনেডি সিং ও কর্ণধার বাইচুং ভুটিয়া কুয়ালালামপুরে দুই বড়ো ক্লাবের বিরুদ্ধে গিয়ে আইএসএলকেই দেশের একমাত্র স্বীকৃত টুর্নামেন্ট করার দাবি জানাবেন।

ফেডারেশন সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেলের এই চাল বুঝতে পেরে গতকালই দুই বড় ক্লাবের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ। বিশেষ করে বাইচুং ভুটিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারী হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগও রয়েছে। দুই বড় ক্লাব মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, তিনি যেন খেলোয়াড়দের অনুরোধ করেন, আইএসএলে নিজেদের শর্তে যাতে বড়ো ক্লাবগুলি খেলতে পারে এবং আইএসএল ও আই লিগ যেন পাশাপাশি চলতে পারে সে ব্যাপারে এএফসির কাছে দরবার করতে। খেলোয়াড়দের কথা এএফসি সহজে ঠেলতে পারবে না। এর আগে বিশেষ পরিস্থিতিতে এএফসি চিনে দুটি প্রতিযোগিতাকেই স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল। সেবারেও খেলোয়াড়দের বক্তব্যকে এএফসি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিল। ভারতের ক্ষেত্রেও সেই নীতি অনুসরণ করার জন্য প্লেয়াররা এএফসিকে জানাক—এটাই বড় ক্লাবগুলির আর্জি।

জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী গোটা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ক্রীড়া দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে বাইচুং ভুটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। সেই মতো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস বেশ কড়া ভাষাতেই বাইচুংকে বলেছেন, নানা জায়গায় খেলোয়াড়রা ক্লাব বিরোধী নানা মন্তব্য করছে,এটা যেন বন্ধ হয়। বাইচুং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন নজর রাখবে।

এদিকে বিতর্ক বেড়েছে এআইএফএফ সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেলের কুয়ালালামপুরের সভা এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। আসলে দুই প্রধানের চাপে পড়ে তিনি দিশাহারা। একদিকে নীতা আম্বানিদের আইজিএমআরের চাপ অন্যদিকে টুটু বসুদের চাপ। তিনি যদিও আইএসএলের পক্ষে তবু প্রকাশ্যে এই নিয়ে কোনও বিতর্ক তৈরি করতে চাইছেন না। অবস্থা দেখে বড় ক্লাবগুলি প্রশ্ন তুলেছে, খোদ সভাপতি যে সভায় অনুপস্থিত থাকবেন সেই সভা আয়োজনের প্রয়োজন কী?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here