rahul dravid and steve waugh

ওয়েবডেস্ক: শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, সারা বিশ্ব ক্রিকেটই তাঁকে চেনে একজন আদর্শ ভদ্রলোক ক্রিকেটার হিসাবেই। তাঁর মৃদুভাষিতা এবং কোমল হৃদয়ের নমুনা বার বার পেয়েছে কলকাতাও। তবুও খেলার মাঠে একজন খেলোয়াড় হিসাবে তাঁর বিরুদ্ধে স্লেজিং-এর মারাত্মক অভিযোগ আনলেন রাহুল দ্রাবিড়!

বেঙ্গালুরুতে গো স্পোর্টস অ্যাথলিট কনক্লেভের উদ্বোধনে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের বক্তব্যে টেনে নিয়ে এলেন ২০০১-এর ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ম্যাচের কথা। কলকাতার ইডেনে ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করে তোলে ৪৪৫ রান। যার জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৭১ রানে গুটিয়ে যায় ভারতীয় দল। স্বাভাবিক ভাবেই ফলো-অনের স্বীকার হয় ভারত। এমন একটা দুর্ধর্ষ ইনিংসে হাল ধরেন ভি ভি লক্ষ্মণ এবং রাহুল। লক্ষ্মণ করেন ২৮১ এবং রাহুল ১৮০ রান। ওই ম্যাচে ইডেন সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় ছিল একটি বিশ্ব রেকর্ডের। স্টিভ ওয়ার নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া তখন টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজেয় থাকার রেকর্ডের জন্য মুখিয়ে ছিল।

রাহুল বলেন, ‘‘কলকাতার ওই ম্যাচে আমাদের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না। বিশেষ করে আমিও ফর্মে ছিলাম না। আগের মুম্বাই টেস্টেও আমি রান করতে পারিনি। আগের ইনিংসে ঠিক মতো খেলতে না পারায় আমাকে ছ’নম্বরে নামিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। ওই সময় মাঠে নামার পর স্টিভ আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাহুল এই ইনিংসে ছ’নম্বরে ব্যাট করছে। পরের ইনিংসে কত ? ১২ নম্বরে ব্যাট করবে না কি?’’

স্টিভের মতো এক জন অধিনায়কের কাছ থেকে এমন মন্তব্য শুনে যে কোনো ব্যাটসম্যানই মানসিক ভাবে চাপে পড়তে পারেন। হতে পারে তিনি এ কথা ব্যাঙ্গ করেই বলেছেন। কিন্তু কোনো ব্যাটসম্যান যখন ফর্ম হারিয়ে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন তখন তাঁর কাছে এটা চরম হতাশার জন্ম দিতে পারে। কিন্তু রাহুল স্টিভের এই তির্যক মন্তব্যে মনোসংযোগ নষ্ট করেননি। উল্টে ওই ইনিংস তাঁর তো বটেই দলের ভাগ্যই বদলে দিয়েছিল। রাহুল স্বীকার করেন, কোনো ছোটো ঘটনাও যে ভবিষ্যতে বড়োসড়ো ইতিহাস তৈরি করে দিতে পারে, সে কথা বোঝাতেই ওই পুরনো ঘটনার কথা টেনে এনেছেন। কারণ ফলো-অনের স্বীকার হয়েও ওই ম্যাচে ভারতই জয়লাভ করেছিল। থমকে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিজয় রথ।

প্রাক্তন ভারত ক্রিকেট অধিনায়ক তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। বরং সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলাই ভালো।

উল্লেখ্য, স্টিভ ব্যক্তিগত ভাবে রাহুলের ভূয়সী করে থাকেন। তিনি মনে করেন, রাহুলের খেলার মধ্যে একটা স্বতন্ত্র কাব্যিক দিক রয়েছে। যা তিনি আর কারও কাছ থেকে পাননি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here