মোহন-ইস্টে না খেললে প্লেয়াররা কি দর ধরে রাখতে পারবেন ? উঠছে প্রশ্ন

0
2148
শৈবাল বিশ্বাস

আইএসএলের রমরমা যুগে প্লেয়ারদের দর উঠছে কোটি কোটি টাকা। ফ্রাঞ্চাইজির কমিশন বাদ দিয়ে প্লেয়াররা যা পাবেন তা নেহাৎ কম নয়। যেমন বলবন্ত সিংয়ের দর উঠেছে ৬৫ লক্ষ টাকা, প্রীতম কোটাল বিক্রি হবেন ৮০ লক্ষ টাকায়। অর্ণব মন্ডলের দামও ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে। ঝড়তিপড়তি প্লেয়াররাও দেখছেন এই মওকা। যতটা পারি কামিয়ে নিই। তাই অসীম বিশ্বাস,রহিম নবির মতো প্রায় খেলা ছেড়ে দেওয়া ফুটবলাররাও নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়ে নিয়েছেন। ১০-২০ লক্ষ যা পাওয়া যায় তাই সই।

এ পর্যন্ত গল্পটা তো সবারই জানা কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এই প্লেয়াররা তাদের দর বজায় রাখতে পারবেন তো? নাকি এক সিজনের পর মুখ থুবড়ে পড়বেন কানাগলিতে। ফের রাকেশ মাসি, মেহরাজের মতো আই লিগ খেলা প্লেয়ারদের হাত ধরে সামনের বছর মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল বা গোয়ার ক্লাবকে ধরাধরি করতে হবে?

আশঙ্কাটা ফলে যাওয়ার সম্ভাবনা ষোল আনা তার কারণ, এবার স্টার স্পোর্টস আইলিগ ও আইএসএল একসঙ্গে দেখাবে। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আই লিগে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, চার্চিল ব্রাদার্সের খেলা যত লোক দেখবেন তার পাঁচ শতাংশও আইএসএলের ব্য‌াপারে আগ্রহ দেখাবেন না। অঙ্কটা খুব সহজ- আসলে মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের গোটা বিশ্বজুড়ে ফ্য‌ান ফলোয়িং আছে। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে যেমন ক্রিকেটারদের ফ্য‌ান ফলোয়িং-ই বেশি তেমনই ফুটবলের ক্ষেত্রে ক্লাবের ফ্য‌ান ফলোয়িংই সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের মতো টিম যদি নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ পায় তাহলে মাঠ দর্শকে ভরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। সেই সঙ্গে টেলিভিশনের দর্শকরা তো আছেনই। আইএসএল লোক হয় আসলে প্রচুর লোভ দেখিয়ে,বিজ্ঞাপন করে তবেই। তাও মাঠের দশ শতাংশ আসম পূর্ণ হয় কিনা সন্দেহ। আইলিগ ও আইএসএল পাশাপাশি চললে আইএসএল দর্শক টানা ও দর্শক মনোরঞ্জনের ব্য‌াপারে যে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়বে তা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।

মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের ফান ফলোয়িং বলতে মনে পড়ে গেল নয়ের দশকের একটি ঘটনার কথা। সেবার ভারতীয় কোচের অদ্ভুত ফরমানে নামজাদা প্লেয়াররা কোচিং ক্য‌াম্পে চলে গিয়েছিলেন। প্রবল আপত্তি করা সত্ত্বেও মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ভাল  প্লেয়ারদের কলকাতা লিগের জন্য‌ ধরে রাখতে পারেনি। জনৈক অমিতাভ মুখার্জি ছিলেন মোহনবাগানের মুখ্য‌ গোলদাতা, যাঁকে আগের সিজনে কেউ চিনতো না। তাঁর খেলা দেখতেই মাঠ কানায় কানায় ভরে যেত। আসলে সে যেই হোক না কেন, সমর্থকরা আসতেন খেলোয়াড় দেখতে নয়, টিমের খেলা দেখতে। ভারতীয় ফুটবলে ক’জন মজিদ বাসকর, চিমা বা শ্য‌াম থাপা এসেছেন যে আলাদা করে দর্শক তাদের খেলা দেখতে আসবেন? আইএসএলেই বা কে মহার্ঘ খেলোয়াড় আছেন যাঁকে ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান সমর্থকরাও না দেখে পারবেন না? বিদেশের কয়েকজন বাতিল ঘোড়া আর এ দেশের মাঝারি মানের কয়েকজন প্লেয়ার এই তো পুঁজি। এদের দেখতে মানুষ মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলকে ভুলে যাবে এমনটা মনে করা দুরাশা।

তাই এবার এবং সামনের বার (শোনা যাচ্ছে সামনের বারও নাকি আলাদা আইলিগ ও আইএসএল হবে) আইএসএল মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য‌। স্টার স্পোর্টসও দর্শক মাহাত্ম্যে সম্প্রচার অর্থ আইলিগের জন্য‌ অনেক বাড়িয়ে দেবে। আইলিগের টিম গুলির বিশেষ করে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলেরও স্পনসর পেতে অসুবিধা হবে না। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য‌ই আইএসএলের খেলোয়াড়দের টাকা নামমাত্র করে দিতে বাধ্য‌ হবে। তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা পাবে আইলিগের ফুটবলাররা। হয়তো সেই টাকার পরিমাণ খুব একটা ফোলানো ফাঁপানো হবে না। কিন্তু ভাল খেলোয়াড়ের চার-পাঁচ সিজন স্থায়ী রোজগারের গ্য‌ারান্টি থাকবে। এ বছর যাঁরা বিনা নোটিশে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইএসএলে গেলেন, তাঁরা আইলিগে ফিরতে পারবেন তো? তাঁরা এমন কেউ কেষ্টবিষ্টু হয়ে যাননি যে স্বমহিমায় পুরনো জায়গা দখল করতে পারবেন। দেখা যাক।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here