জুভেন্তাস – ২ (হিগুয়েন-২)    মোনাকো – ০

সানি চক্রবর্তী:

পারেননি মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা। পারলেন না চূড়ান্ত ছন্দে থাকা এমবেপে-ফালকাওরাও। জুভেন্তাসের বিখ্যাত রক্ষণের দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা খেল মোনাকো। ফরাসি দলটিকে তাদের ঘরের মাঠে গিয়ে তুরিনের ক্লাবটি হারিয়ে এল ২-০ ব্যবধানে। ইতালীয় রক্ষণের সঙ্গে গোলের নীচে বুঁফো, এই ভয়ানক কম্বিনেশনে এ বার আবার যোগ হয়েছে আপফ্রন্টে হিগুয়েন-ডিবালা জুটি। মিডফিল্ড জেনারেল মার্কিসিওকে সঙ্গত দিতে এসেছেন খেদিরা, প্যাজনিক। সব মিলিয়ে দুর্ধর্ষ এক প্যাকেজ হিসেবে দেখাচ্ছে ওল্ড লেডি অফ তুরিনকে। এক দিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটে ১২ গোল করেছিল মোনাকোর আক্রমণ। আর ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার ১১ ম্যাচে মাত্র ২ গোল হজম করেছিল জুভেন্তাসের রক্ষণের লড়াই। তাই বিখ্যাত রক্ষণের দেওয়াল অক্ষত থাকে কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ছিল ফুটবলবিশ্ব। যে লড়াইয়ের প্রথম পর্বে দাপট দেখিয়েই জিতলেন বুঁফোরা।

অ্যাওয়ে ম্যাচে জোড়া গোল এ দিন হিগুয়েনের। দেশোয়ালি ডিবালার সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া, পালটা আক্রমণের গতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, বিপক্ষ কোচেদের ঘুম উড়ে যেতে পারে তাদের খেলা দেখলে। পাশাপাশি উল্লেখ করতে হবে ড্যানি আলভেসের সঙ্গে হিগুয়েনের বোঝাপড়া। ব্রাজিলিয়ান-আর্জেন্টাইন কম্বিনেশনে ডান প্রান্ত থেকে মিডল করিডর, জুভেন্তাস আক্রমণ শানাতে থাকে ক্রমাগত। আলভেস-গিগুয়েনের বোঝাপড়াতেই এ দিনের দু’টি গোলই।

প্রথমটি খেলার আধ ঘণ্টার ঠিক আগের মিনিটে। আলভেসের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাকফ্লিক ধরে হিগুয়েনের প্রথম গোল। ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়ে প্রত্যাশামতোই তেড়েফুঁড়ে লেগেছিল মোনাকো। জুভেন্তাসের রক্ষণের পাশাপাশি কিছুটা সুযোগের সদ্ব্যবহার না করতে পারাটাও এমবেপেদের বিপক্ষে গিয়েছে। তবে সেই সুযোগ এসেছে অতি সামান্য। কারণ, রক্ষণ পরাস্ত হলে ছিলেন বুঁফো। জুভেন্তাসের কোচ ম্যাক্সিমিলিয়ানো আলেগ্রি তো ম্যাচের পরে বলেই দিলেন, “জিজি প্রমাণ করে দিল আরও এক বার, বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক ওই।”

এমনিতেই আরও এক বার ইতালির সেরা হওয়াটা জুভের কাছে সময়ের অপেক্ষা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে ও কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সার বিরুদ্ধে যে রকম খেলা মেলে ধরল তাতে কার্ডিফের রাস্তা বেশ পরিষ্কার তাদের কাছে। বড়োসড়ো অঘটন না ঘটলে বেলের দেশের মাঠে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে রিয়ালের সঙ্গে জুভেন্তাসের লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও ফুটবলে সবই সম্ভব। আর একটা তথ্য উল্লেখযোগ্য, পরপর দু’বছর কোনো দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেনি। রোনাল্ডোরা নতুন ইতিহাস লিখবেন, না কি তুরিনের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান বুঁফোর ভাগ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিঁকে ছিড়বে? উত্তরটা পাওয়া যাবে ৩ জুন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here