রবিবারের পড়া: অন্য দেশে জন্মালে গোপালচন্দ্র নোবেল পেতেন

0
gopal chandra bhattacharya
গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য। ছবি সৌজন্যে বইপোকা গ্রন্থাগার।
তপন মল্লিক চৌধুরী

প্রত্যেক বছরের মতো এ বারও নীরবে পেরিয়ে গেল বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের জন্মদিন। এ বছর ১ আগস্ট তিনি ১২৫ বছরে পা রাখলেন। ইথোলজি বা অ্যানিম্যাল বিহেভিয়ার এই সময়ে বিজ্ঞানের একটি সুপরিচিত শাখা। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, ডিসকভারি আর অ্যানিমেল প্ল্যানেট ইত্যাদি টেলিভিশন চ্যানেলের সৌজন্যে এই সব শব্দগুলি আর তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমরা খুবই পরিচিত। সমুদ্রের অনেক নীচের ছোটো ছোটো মাছ থেকে শুরু করে হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো অদৃশ্য পোকার জীবনকাণ্ড আজ আমরা সহজেই দেখতে পাই টেলিভিশনের পর্দায়। কিন্তু গোপালচন্দ্র যখন তাঁর কাজ শুরু করেন তখন একেবারেই সুগম ছিল না তাঁর পথ। অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে নিজের মত। তখন দেশও পরাধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকায় কাজ এবং গবেষণায় এগিয়ে থাকলেও তাঁর সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেন এক বিজ্ঞানী। কিন্তু দমে যাননি গোপালচন্দ্র। ভেঙেও পড়েননি। বসু বিজ্ঞান মন্দিরে এক সামান্য চাকরি থেকে অর্জন করে নেন গবেষকের পদমর্যাদা। হাজারের ওপর প্রবন্ধ লিখেছেন বাংলায়। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার যে সূত্রপাত করেছিলেন তাঁর পূর্বসূরিরা তাকেই খুব সার্থক ভাবে বহন করে নিয়ে গিয়েছেন গোপালচন্দ্র।

তাঁর লেখা থেকেই সর্ব প্রথম জানা যায় মাকড়সারা টিকটিকি, চামচিকা, আরশোলা, মাছ এমনকি ছোটো সাপও খায়। মাছ-শিকারি মাকড়সা সম্পর্কে গোপালচন্দ্রের গবেষণা থেকে জানা যায়, এরা দিনের বেলায় অনেকটা সময় থাকে জলের ওপর, কখনও বা ভাসমান উদ্ভিদের পাতার নীচে। কাছাকাছি ছোটো ছোটো মাছ এক সঙ্গে জড়ো হলে মাকড়সা প্রথমে তাদের গতিবিধি লক্ষ করে। তার পর সময় আর সুযোগ বুঝে আচমকা মাছের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বিষদাঁত ফুটিয়ে হত্যা করে। মাকড়সা সম্পর্কে গোপালচন্দ্রের বক্তব্য, মাকড়সা পিঁপড়েকে অনুসরণ করে। কেবল তাদের হাঁটাচলাই নয়, গায়ের রং, শারীরিক গঠন সব কিছু হুবুহু পিঁপড়ের মতো। বলা ভালো, আত্মরক্ষার জন্যই মাকড়সার এই অনুকরণ।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: মাতৃদুগ্ধ পান নিয়ে দু-চার কথা

কীটপতঙ্গের জীবনের অদ্ভুত দিকও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন গোপালচন্দ্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শুঁয়োপোকার মৃত্যু অভিযান। এ ছাড়া গোপালচন্দ্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পেনিসিলিন প্রয়োগে ব্যাঙাচির শারীরিক বিকাশকে রোধ করা। এই গবেষণা তাঁকে আন্তর্জাতিক সম্মান ও খ্যাতি এনে দিয়েছিল। ব্যাঙাচি ব্যাঙে পরিণত হয় যে হরমোনের প্রভাবে, তার নাম থাইরোসিন। তিনি সূক্ষ্ম ভাবে লক্ষ করলেন যে ব্যাঙাচির এই রূপান্তর বন্ধ করা যায় পেনিসিলিন প্রয়োগের মাধ্যমে। এর ফলে ব্যাঙাচি ব্যাঙাচিই থেকে যায়। তা আর ব্যাঙ হয়ে ওঠে না।

গোপালচন্দ্রের গবেষণাধীন ছিল খাদ্যনির্ভর তত্ত্ব। এটা খুব মজার একটা থিয়োরি বা তত্ত্ব। পিঁপড়ে সমাজে রাজা, রানি, শ্রমিক ও সৈনিক পিঁপড়ের সংখ্যা নির্ধারিত হতে পারে স্রেফ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ করে। প্রকৃতিবিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র গবেষণা করে এই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ থিয়োরি বা তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। মনুষ্যসমাজে যে রকম একজনের বাচ্চা অন্য জনে চুরি করে নিয়ে যায় তেমনি কীটপতঙ্গও অন্যের বাচ্চা চুরি করে। গোপালচন্দ্রের গবেষণা থেকে এ সব অভিনব ঘটনা জানা যায়। তাঁর লেখা ‘ভীমরুলের রাহাজানি’ পড়ে জানা যায়, কী ভাবে দৈহিক শক্তি ও দুষ্টবুদ্ধি নিয়ে কয়েকটি ভীমরুল শত শত বোলতার সামনে থেকে বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যায় কিংবা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

গোপালচন্দ্রের বয়স যখন সাড়ে পাঁচ তখন তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে। বাবা ছিলেন গ্রামের জমিদারবাড়ির কুলপুরোহিত। বাবার যজন রক্ষা করে সংসার চালাতে হবে তাকে, তাই ৯ বছর বয়সেই গোপালের উপনয়ন হয়। প্রতি দিন দুর্গম পথ পেরিয়ে যজমানের বাড়িতে গিয়ে পুজো সেরে বাড়ি ফেরা, তার পর স্কুলে যাওয়া। এ ভাবেই পড়া ও যজমানি দু’টো বাঁচিয়ে গোপালচন্দ্র ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ফরিদপুর জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়।

উচ্চ শিক্ষার জন্য গোপালচন্দ্র ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হওয়ার পরই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে কলেজের পড়া মাঝপথে থেমে যায়। তবে নিজের গ্রামের হাইস্কুলে শিক্ষকতার চাকরি জুটিয়ে ফেলেন তিনি। স্কুলে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়াতেন বনে-জঙ্গলে। নিবিষ্ট মনে লক্ষ করতেন কীটপতঙ্গের গতিবিধি। গাছপালা নিয়ে করতেন নানা ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা।

ছোটোবেলা থেকেই জলে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো ছিল তাঁর নেশা। গোপালচন্দ্র তাঁর একটি বইতে লিখেছেন, ‘মাঝে মাঝে যোগেন মাস্টার ছেলেদের ডেকে এনে ম্যাজিকের খেলা দেখাতেন। একটা মজার জিনিস দেখাবেন বলে একদিন তিনি সবাইকে ডেকে নিয়ে এলেন। পকেট থেকে গাঢ় খয়েরি রঙের কতকগুলি বিচি বের করে টেবিলের ওপরে রাখার পরেই একটি বিচি প্রায় চার ইঞ্চি উঁচু লাফিয়ে উঠল। তার পর প্রায় সবগুলি থেকে থেকে লাফাতে শুরু করে দিল।…অবশেষ মাস্টারমশাই ছুরি দিয়ে একটা বিচি চিরে ফেলতেই দেখা গেল তার ভেতরে একটা পোকা (লারভা)’।

ছেলেবেলায় আলেয়া বা ভূতের আগুন দেখার লোভে গোপালচন্দ্র একদিন এক বন্ধুকে নিয়ে বৃষ্টির রাতে হারিকেন, ছাতা হাতে অভিযানে বেরিয়েছিলেন। দেখেন আগুনের কুণ্ডলী কিন্তু আশ্চার্য ব্যাপার আগুনের কোনো শিখা নেই। কয়লা পুড়লে যেমন আগুন হয় তেমন জ্বল জ্বল করছে। আরও কাছে যেতে দেখেন পুরোনো একটা গাছের গুঁড়ি থেকে আলো বেরোচ্ছে। গুঁড়ির কাছেই একটা কচু গাছের পাতা নড়ছে। তার জন্যই আলোটা একবার নিবছে আর জ্বলছে। তিনি গাছের গোড়া থেকে কিছুটা অংশ সংগ্রহ করে নিয়ে এসে ভালো করে দেখার পর বোঝেন আসলে জমে থাকা জৈব পদার্থ পচে মিথেন গ্যাসে পরিণত হয় আর সেটিই বাতাসের সংস্পর্শে জ্বলে ওঠে।

আর্থিক কারণে গ্রামের স্কুলে বেশি দিন থাকা সম্ভব হয়নি। চাকরি নিয়ে কলকাতায় আসেন। কলকাতাতেও পোকামাকড়ের ঘরবসত খেয়াল করতেন, তাদের নিয়ে ভাবতেন। একদিন আলোয়া নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত লিখে পাঠিয়ে দেন ‘প্রবাসী’ পত্রিকায়। লেখাটি চোখে পড়ে জগদীশচন্দ্র বসুর। তাঁর আগ্রহে বসু বিজ্ঞান মন্দিরে যোগ দেন গোপালচন্দ্র। সে বছর বসু বিজ্ঞান মন্দিরে আসেন জার্মান প্রকৃতিবিজ্ঞানী হ্যানস মলিশ। গোপালচন্দ্রকে করা হয় তাঁর সহকারী। ছ’ মাসের ওই কাজে প্রকৃতি ও প্রাণী পর্যবেক্ষণের কাঠামোগত ব্যাপারটি তিনি রপ্ত করে ফেলেন। দু’ জনে মিলে কীটপতঙ্গের আচার-আচরণ, গতি-প্রকৃতি, খাদ্য সংগ্রহের কৌশল,  তাদের বংশবিস্তার ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করেন। সহকারী হিসাবে তার একটি কাজ ছিল ছবি আঁকা। সেটিতেও তিনি পারদর্শী হয়ে ওঠেন। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু তখন তাঁকে ছবি তোলা শিখতে বলেন এবং পরে কিছু দিন তিনি আচার্যের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষনের ওপরও প্রশিক্ষণ নেন। এর পর একদিন তিনি নিজেই একা গবেষণা করতে শুরু করেন।

গোপালচন্দ্র প্রথম দিকে উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। গাছের কাণ্ডের স্থায়িত্ব নিয়ে গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গবেষণাপত্র। এর পর নিয়মিত জৈব আলো এবং উদ্ভিদবিদ্যার ওপর বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশিত হতে থাকে। পরবর্তী কালে তাঁর সমস্ত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয় কীটপতঙ্গের গতিবিধির উপর।

বসু বিজ্ঞান মন্দিরে থাকাকালীন গোপালচন্দ্র নালসো পিঁপড়েদের (লাল পিঁপড়ে নামে পরিচিত) দিনের পর দিন পর্যবেক্ষণ করে দেখান পিঁপড়েদের খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে তাদের যথাক্রমে রাজা, রানি, কর্মী ও সৈনিক পিপড়ে হওয়ার সম্পর্ক আছে। সে সময় ধারণা ছিলে জিনই একমাত্র কারণ। কিন্তু গোপালচন্দ্রের গবেষণায় বোঝা গেল, জিন ছাড়াও খাদ্যাভাসও পিঁপড়ের শ্রেণিভেদের একটা অন্যতম কারণ।

কানকোটারি এক ধরনের কুমরো পোকা। গোপালচন্দ্র লক্ষ করেন অন্যান্য পোকার মতো এরাও তাদের ডিম রক্ষা করার চেষ্টা করে। তবে তারা কেবল তাদের সহজাত প্রবৃত্তিতে চালিত হয় না, অন্য উপায়ও অবলম্বন করে। কানকোটারি নিজেদের পায়ের মধ্যে কাদা লাগিয়ে নেয়। কাদা শুকিয়ে যখন শক্ত হয় মনে হয় যেন পায়ে বুট পরা। তার পর কোনো শত্রু ডিমের কাছে এলে তাকে এই বুট পরা পা দিয়ে লাথি দিয়ে দেয় কানকোটারি!

গোপালচন্দ্র ছিলেন প্রচারবিমুখ। কুমোরে পোকা সম্পর্কে তাঁর গবেষণালব্ধ তথ্য প্রকাশের  সময়টিও তিনি লিখে রাখেননি। মানুষের মতো পতঙ্গরাও বাচ্চা চুরি করে। এই অভিনব ঘটনা জানা যায় গোপালচন্দ্রের ‘ভীমরুলের রাহাজানি’ পড়লে – জানা যায় কী ভাবে দৈহিক শক্তি ও বুদ্ধি নিয়ে কয়েকটি ভীমরুল শত শত বোলতার সামনে থেকে বাচ্চা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পিঁপড়ের ‘ব্লিৎসক্রিগ’ সম্পর্কে নানা তথ্য প্রকাশ করে বিজ্ঞানী গোয়েটস খ্যাতি পান। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রচারের অভাবে ওই একই বিষয় নিয়ে গবেষণা করলেও বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্রের নাম বিস্মৃত থেকে যায়। সুদীর্ঘ অধ্যবসায়ে গোপালচন্দ্র দেখিয়েছিলেন, ডানাবিহীন লাল রঙের নালসো শ্রমিক পিঁপড়েরা যুদ্ধের সময় যেমন সৈনিকের কাজ করে, তেমনই রানি ও পুরুষের সংসারের যাবতীয় কাজও তাদের করতে হয়।

বসু বিজ্ঞান মন্দিরে থাকাকালীন গোপালচন্দ্র গবেষণা করেছেন ব্যাঙ্গাচি, শুঁয়োপোকা, মাছখোকো মাকড়সা, বোলতা ইত্যাদি পোকামাকড়ের জীবন, স্ত্রী ও পুরুষ মাকড়সার আচার-আচরণ,  তাদের শক্তি ও অবস্থান, ডিম দেওয়া ও যত্ন, স্ত্রী মাকড়সার প্রতি পুরুষ মাকড়সার আচরণ, স্ত্রী মাকড়সা কর্তৃক পুরুষ মাকড়সার গলাধঃকরণ। এ সব নিয়ে ১৬টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ লেখেন গোপালচন্দ্র। এগুলোর বেশির ভাগ প্রকাশিত হয় আনন্দবাজার পত্রিকায়। তাঁর লেখা কিছু ইংরেজি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় সায়েন্স অ্যান্ড কালচার, ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির মুখপত্র, মডার্ন রিভিউতে। পিঁপড়ে, মাকড়সা, ব্যাঙ্গাচি এবং ফড়িং-এর ওপর অনেক ছবি তোলেন। তাঁর প্রায় ২২টির মতো নিবন্ধ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ পায়।

গোপালচন্দ্র ১৯৪৯ সালে বসু বিজ্ঞান মন্দির ছেড়ে সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রতিষ্ঠিত বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের  বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জ্ঞান ও বিজ্ঞান’ পত্রিকার দায়িত্ব নেন। ১৯৫১ সালে ভারতের কীটপতঙ্গের ওপর নিবন্ধ পাঠের জন্য প্যারিসে অনুষ্ঠিত আর্ন্তজাতিক সভায় ডাক পান গোপালচন্দ্র। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার সেখানে অ্যাকাডেমিক শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে তাঁকে উপেক্ষা করা হলে তিনি মনঃকষ্ট পান। অথচ তার অনেক আগেই গোপালচন্দ্র প্রকৃতিবিজ্ঞানী হয়ে উঠেছিলেন।

‘করে দেখা’ (তিন খণ্ড) গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের একটি বিখ্যাত বই। ‘জ্ঞান ও বিজ্ঞান’ পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালীন তিনি শিশু-কিশোরদের উপযোগী প্রায় ৮০০ নিবন্ধ লেখেন। সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দেওয়ার এই কাজের স্বীকৃতি হিসাবে তিনি ১৯৬৮ সালে লাভ করেন ‘আনন্দ পুরুস্কার’। ১৯৭৪ সালে লাভ করেন আচার্য সতেন্দ্রনাথ বসু ফলক। ১৯৭৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় সংবর্ধনা। ১৯৭৫ সালে ‘কীটপতঙ্গ’ গ্রন্থের জন্য তিনি পান রবীন্দ্র পুরস্কার।

গোপালচন্দ্র পরাধীন দেশের মুক্তিকামী বিপ্লবীদের কাজে সহায়তা করতেন। তিনি গুপ্ত সমিতির জন্য নানা বিস্ফোরক পদার্থের ফরমুলা সরবরাহ করা ছাড়াও অন্যান্য সাহায্য করতেন। গ্রামের অবহেলিত মানুষদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য স্থাপন করেছিলেন ‘কমল কুটির’। বিনা বেতনে সেখানে লেখাপড়া, মেয়েদের হাতের কাজ শেখানো হত। গোপালচন্দ্র সামাজিক কুসংস্কার ও জাতপাতের বিরুদ্ধেও ছিলেন প্রতিবাদমুখর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here