রবিবারের পড়া: মাতৃদুগ্ধ পান নিয়ে দু-চার কথা

0
breast-feeding

সন্তোষ সেন

সন্তান প্রসবের পর মায়ের স্তনে প্রথম যে তরলটি সঞ্চিত হয়, তা দুধ নয়। তা হল কোলোস্ট্রাম। এই কোলোস্ট্রাম (colostrum) এক দিকে যেমন প্রোটিনসমৃদ্ধ, তেমনই প্রচুর উপকারী ও প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়া থাকে এই তরলে।

প্রকৃতির এই মহান দানকে অনেক ডাক্তারবাবু বা কর্তব্যরত সিস্টার, এমনকি মায়েরা পর্যন্ত অবহেলা করেন। সন্তান জন্মানোর পর বাচ্চাকে মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অজ্ঞানতাবশত এ এক মহা ভুল কাজ, এক কথায় যাকে বলা যায় ‘হিমালয়ান ব্লান্ডার’। এই তরল না পেলে শিশুরা বঞ্চিত হয় প্রচুর পরিমাণে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জোগান থেকে। এর ফলে তারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সহজেই নানান রোগে আক্রান্ত হয়।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: চলছে নির্বিচার বৃক্ষনিধন, মানুষ হচ্ছে প্রকৃতি-বিচ্ছিন্ন

এখানে একটা কথা বলে রাখি – শিশু যখন মায়ের পেটে থাকে তখন ওভারিতে এক প্যাকের মধ্যে সমস্ত দরকারি বায়োম নিয়ে নিশ্চিন্তে সে বেড়ে ওঠে। আর শিশুর খাদ্যের জোগান আসে মায়ের শরীর থেকে প্ল্যাসেন্টার (placenta) মধ্য দিয়ে। তাই গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আর একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয় – জন্মের পর কম করে ছয় মাস মায়ের দুধ ছাড়া বাচ্চাকে অন্য কিছু খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ বহুবিধ। প্রথমত, শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান মায়ের দুধ থেকেই যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, বাইরের অন্য কোনো খাবার, এমনকি জল পর্যন্ত খাওয়ালে বাটি গ্লাস ঝিনুক এবং খাবার থেকে শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি। তৃতীয়ত, মায়ের দুধ জীবাণুমুক্ত, ডায়াবিটিস ও ক্যানসার-সহ নানান রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম মাতৃদুগ্ধ। বুকের দুধ খেলে শিশুদের পেট খারাপ বা ডায়েরিয়া হয় না।

তাই বর্তমানে প্রায় সমস্ত ডাক্তারের দাওয়াই – জন্মের পরেই বাচ্চাকে কোলোস্ট্রাম খাওয়াতেই হবে আর প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কিছু নৈব নৈব চ।

২০১৩ সালে ফ্রান্সের কয়েক জন বিজ্ঞানী কোলোস্ট্রাম নিয়ে গবেষণা চালান। সেই গবেষণা বলছে, কোলোস্ট্রামে অন্তত সাতশো রকমের উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে। এর পর  আবার ২০১৯ সালের পয়লা মার্চ অ্যাপ্ল্যায়েড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মাইক্রোবায়োলজি জার্নালে (Applied  and Environmental Microbiology journal) বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। তাতে আরও এগিয়ে বলা হয়েছে, কোলোস্ট্রাম ও মাতৃদুগ্ধে (অন্তত প্রথম ছয় মাস) উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক-সহ নানান মাইক্রোব থাকে যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রভূত সাহায্য করে।

(লেখক  বিজ্ঞানশিক্ষক ও বিজ্ঞানকর্মী )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here