রবিবারের পড়া: সখী ভালোবাসা কারে কয়?

0

দীপঙ্কর ঘোষ

সে দিন আমাদের বৃদ্ধ ডাক্তার ছুটির মেজাজে ছিলেন। চেম্বারে না গিয়ে বিমলবাবুর চায়ের দোকানের পাশে গাছতলায় বসে খোশমেজাজে চা পান করছিলেন। পাশেই কয়েক জন কমবয়সি ছেলেমেয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। বুড়ো কান খাড়া করে শুনছিলেন। কথোপকথনের সুবিধার্থে ধরে নিলাম ওদের নাম কাজু, সুজি, কিশমিশ, লবঙ্গলতিকা আর জিলিপি। কিশমিশ, লবঙ্গলতিকা আর জিলিপি  মেয়ে, বাকি দু’টি ছেলে। হঠাৎ ওদের ভেতরে কাজু কাতরোক্তি করল, “সুলোচনা, সুলোচনা গো, তুমি ভালো না বাসলে আমি আর বাঁচব না।”

একজন ফিসফিসাল, “এই বুড়োটা কিন্তু সব শুনছে।”

কাজু ধূমপানরত টাকলা বুড়োকে উদ্দেশ করে বলল, “দাদু গো সুলোচনাকে না পেলে আমি মরেই যাব।”

ডাক্তার দু’ আঙুলের ফাঁকে সিগারেট রেখে উত্তর দিলে্‌ন, “তা তো বটেই। ভালোবাসা ছাড়া তো বাঁচাই যায় না…।”

ওরা বলল, “জ্জিও দাদু, ক্কী দিলে গো?”

বৃদ্ধ সিগারেটে একটা দীর্ঘ টান দিয়ে বললেন, “হ‍্যাঁ গো দাদুভাইরা, ভালোবাসা ছাড়া কেউই বাঁচাতে পারে না। ভালোবাসাহীন হয়ে, মানে সে ভাবে একা হয়ে গেলে একটা মানুষ মরেও যেতে পারে।”

কথাটা শুনে সব ক’টাই চোখ কপালে তুলল – “বলো কীগো দাদু, এ তো কোনো দিন শুনিনি। তুমি কি কবিতা-টবিতা লেখ নাকি গো?”

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া: খাবারের কোনো ধর্ম নেই, খাবার নিজেই একটি ধর্ম

বৃদ্ধ টাকে হাত বোলালেন, “উফফফফফফফ গলাটা একদম শুকিয়ে গেছে।” পুড়ে যাওয়া ফিল্টারটা টুসকি দিয়ে অমোঘ লক্ষ্যে বিমলবাবুর নোংরা ফেলার ঝুড়ির ভেতরে ফেললেন। তৎক্ষণাৎ জিলিপি হাঁক পাড়ল, “বিমলদা, গল্পদাদুকে একটা চা গরমাগ্রম আমার খাতায়…।”

ডাক্তার হাতে চায়ের ভাঁড়টা ধরামাত্রই কাজু প্রশ্ন করল, “ যে কোনো মেয়েকে দেখলেই অনেকের ঘুম আসে না, অস্থির লাগে, এটা কী?”

বৃদ্ধ মাটির গন্ধমাখা চায়ের ভাঁড়ে একটা লম্বা সুড়ুৎ করে বললেন, “এটা ইনফ‍্যাচুয়েশন। অর্থাৎ যে কোনো মানুষকে দেখলে সব সময় তার কথা ভাবা, একই কথা শয়নে-স্বপনে ঘোরা, এটা আসলে ইনফ‍্যাচুয়েশন। এটা সাধারণত কৈশোরে বেশি হয়। এটাকে আমরা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিস‌অর্ডারও বলতে পারি।”

কিশমিশ কিয়ৎ বিস্মিত – “অসুখ? যাহ্ ব্বাবা! এটা আবার কেন হয়?”

বৃদ্ধ হাসেন – ওঁর চোখ আর গাল হাসিতে কুঁচকে ওঠে – “দেখা যায় এই ধরনের মানুষদের শরীরে সেরোটোনিন বলে একটা নিউরোট্রান্সমিটার একটু কম থাকে।”

লবঙ্গলতিকা চোখ বড়ো বড়ো করে প্রশ্ন করে, “গল্পদাদু তোমার ওই রকম কোনো  ক্রাশ ছিল নাকি?”

বুড়ো চশমাটা কপালে তুলে আকাশপাতাল ভাবেন।

“কী হল? বলো।”

“ছিল রে ছিল…মানে আজও আছে…রাত্তিরে শুয়ে তার ঘাড় ঘুরিয়ে ঠোঁট কামড়ে ব‍্যাঁকা হাসির কথা, আড়নয়নে চাহনির কথা ভাবলে, এখনও আমার পাঁজঞ্জুরিতে  তিড়িতাঙ্ক লাগায়।”

এ বার সবাই সমস্বরে জানতে চায়, “কে? কে গো তোমার সেই অবসেশন?”

বুড়ো চোখ মটকে হাসেন, “অপর্ণা সেন…আমার কিশোরবেলার অবসেশন।”

সবাই একটু হতাশ হয়ে সমবেত দীর্ঘশ্বাস ফেলে – “ এ বাবা! শেষে ফিল্মস্টার!”

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া: ওজোন চাই? চলুন গাছ লাগাই

“এটাই তো অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিস‌অর্ডার – একটা অবাস্তব কিছু নিয়ে মাথাটা খারাপ করা… সেটা হাত ধোওয়া হতে পারে… কিংবা পুজোআচ্চা ধর্ম কিংবা  রাজনীতি অথবা চিত্রতারকা…।”

সুজি প্যান্টের পকেট থেকে একটা সিগারেট বার করে, “ধরাব? তুমি কিছু মনে করবে না তো?”

“আরে না না। শাস্ত্রে বলা আছে, প্রাপ্তেষু ষোড়শ বর্ষে পুত্র মিত্রবৎ আচরেৎ।”

সুজি সিগারেট ধরিয়ে বলে, “যাঃ বাবা! এ তো অং বং চং আওড়াচ্ছ দেখি। তা হলে এ বার বলো দেখি, ভালোবাসা কী জিনিস? এই যে কাজু হা-হুতাশ করছে… ঘুম নেই, খাওয়া নেই, গানবাজনা, লেখাপড়া সব বাদ দিয়ে সুলোচনা সুলোচনা করে কেঁদে মরছে, এটাও কি ইনফ‍্যাচুয়েশন?”

“এসো, আজ তা হলে এই গাছতলায় বসে প্রেম সম্বন্ধে একটু গ‍্যাঁজানো যাক?”

“ভালোবাসা জিনিসটা কী করে হয়?”, বিমর্ষ কাজু ব‍্যাজার মুখে প্রশ্ন করে। 

“তা হলে বাচ্চারা চুপচাপ ধৈর্য ধরে বসো। আমি গল্পটা বলি – সব কিছু কিন্তু আমি জানি না… যতটুকু জানি ততটুকুই বলব।”

“প্রশ্ন করা অ্যালাওড তো?” কিশমিশ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন করে। 

“অবশ্যই। দু’তরফ অংশ না নিলে আড্ডা জমে নাকি গো?” বুড়ো নাক কুঁচকে একগাল হাসেন।

বুড়ো ডাক্তার গ‍্যাঁট হয়ে বসে বলতে শুরু করেন, “আমি একটু গুছিয়ে বলার চেষ্টা করি। ভালোবাসা আসলে খুবই জটিল। তোমরা গোরু দেখেছ? গোরুর দুধ দোয়ানোর সময় বাছুরটাকে দূরে বেঁধে রেখে একটা খড় দিয়ে তৈরি বাছুর মা-গোরুটার কাছে ধরা হয়…।”

চশমা পরা কিশমিশ অবাক, “এম্মা! তা-ই নাকি? কেন?” ও এ রকম কথা কোনো দিন শোনেইনি। তাই চশমার ভেতরে ওর চোখদুটো গোলগোল হয়ে যায়।

“হ‍্যাঁ ভয়ানক রকম সত্যি। ওই পুতুল-বাছুরটাকে দেখলে মা গোরুর অক্সিটোসিন হরমোন বেশি করে বেরোতে থাকে, তখন তার দুধের প্রবাহ বেড়ে যায়। এই রকম ঘটনা মানুষের ক্ষেত্রেও হয়। সদ‍্য সন্তান প্রসব করেছে, এমন মায়ের কোলে অন‍্যের সন্তান তুলে দিলেও নিজের সন্তানের মতোই তার শরীরে অক্সিটোসিনের পরিমাণ বাড়বে। ফলে দুধ প্রবাহিত হবে।”

কাজু মুখ ব‍্যাজার করে, “এ বাবা! এ তো সন্তানস্নেহ… এগুলো তো অন্য জিনিস… প্রেম কোথায়?”

জিলিপি বলল, “তাই তো। গল্পদাদু প্রেম কোথায়?”

“আঃ! বাচ্চাগুলো প্রেম প্রেম করে গলা শুকোচ্ছে…হবে হবে সব হবে…একটু ধৈর্য ধরে বসো না বাপু”, ডাক্তার ধমকে দেন।

ইতিমধ্যে বিমলবাবু সবার জন্য অর্ডার অনুযায়ী ঘুগনি নিয়ে এসেছেন। তবে যে হেতু জানেন বুড়ো ডাক্তারের ঘুগনি সহ‍্য হয় না, তাই ওঁর জন্যে দু’টো টোস্ট নিয়ে এসেছেন। ডাক্তার টোস্টে কামড় দিয়ে বললেন, “অক্সিটোসিন কি কেবল মেয়েদের‌ই বেরোয়, নাকি ছেলেদের ব্রেন থেকেও বেরোয়?”

সুজি বলল, “উঁউঁ তাই তো! ছেলেদেরও বেরোয় পোস্টিরিয়ার পিটুইটারি থেকে – তাই না?”

“হ‍্যাঁ, ওখান থেকে দু’টো হরমোন বেরোয়, অক্সিটোসিন আর ভ্যাসোপ্রেসিন, দু’টোই প্রেমের গল্পে জড়িয়ে আছে, তাই এক‌ই জায়গা থেকে বার হয়।”

কাজু অধৈর্য হয়ে তাড়া দেয়, “ওফফফ! এ তো বায়োলজি, প্রেম কোথায়?”

“অধৈর্য হলে প্রেম হয় না বুঝলে খোকা?” বুড়ো ডাক্তার টোস্টে আরেক দফা কামড় দিয়ে বলেন, “তা হলে প্রসঙ্গে ফেরা যাক। আমরা প্রেমকে তিনটে ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথমে আসে ‘লাস্ট’ মানে কামনা, তার পর অ্যাট্রাকশন মানে মানসিক আকর্ষণ, সব শেষে কম্প‍্যানিয়ন মানে সঙ্গে থাকা। লাস্ট আর ইনফ‍্যাচুয়েশন দু’টো আলাদা জিনিস। লাস্ট অর্থাৎ শারীরিক সৌন্দর্য মানে ইয়ে তার ফিগার দেখে কামনা অনুভব করা। এ ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন অথবা এস্ট্রোজেন কামনা জাগায়। এটা ক্ষণস্থায়ী – হেঁচকির মতো। কিছুক্ষণ থাকে তার পর ভ‍্যানিশ। এ বার যেই মাত্র একজন প্রেমে পড়ে তার হাত ঘামে, ঘিলু মানে বুদ্ধি কাজ করে না, বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করতে থাকে – তাই না কাজু?”

কাজু বিষণ্ণ বদনে ঘাড় নাড়ে, হ‍্যাঁ তাই।

সুজি প্রশ্ন করে, “এটা কেন হয়?”

“অক্সিটোসিন যখন বেরোয় তখন তোমার স্নেহ বা ভালোবাসা জন্মাল। এ বার মানসিক আকর্ষণের সময় সেরেটোনিন অ্যাড্রিন‍্যালিন আর ডোপামিন বেরোয়। এরা হৃদস্পন্দন বাড়ায়, তোমাকে আনন্দিত রাখে, জাগিয়ে রাখে, উত্তেজিত রাখে, বুদ্ধিসুদ্ধি ঘুলিয়ে দেয়।”

কাজু স্বগোতোক্তি করে, “তাই তো! আমারও তো তাই হয়। তার মানে আমার এখন মানসিক আকর্ষণের দশা চলছে?”

লবঙ্গলতিকার মন্তব্য ‘শনির দশা’, তৎক্ষণাৎ জিলিপির পালটা মন্তব্য ‘মরণ দশা’। সুজি আর কিশমিশ পালা করে কাজুর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, “আহা রে বেচারা…তোরা আর ওর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিস না।”

“যা-ই হোক, তোরা একটুস মন দিয়ে শোন – ডোপামিন আমাদের ভালোবাসার পুরস্কার। সংক্ষেপে এটা মন ভালো রাখে। নতুন কিছু করার উৎসাহ জোগায়। কোনো কাজে নতুন উদ‍্যম জোগায়। ঘুম কমিয়ে দেয়। পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ায় – এই সব আর-কি।”

বুড়ো ডাক্তার দম নেওয়ার জন্যে পকেটে হাত ঢোকান। শূন্য প‍্যাকেট বেরিয়ে আসে। সুজি বিমলবাবুকে ওদের গল্পদাদুর জন্যে একটা সিগারেট দিতে বলে। কাজু তখনও বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে বসে আছে।

“এর পর আসে কম্প‍্যানিয়ন ফেজ। এখানে অক্সিটোসিন আর ভ্যাসোপ্রেসিন কাজ করে। অক্সিটোসিন শান্তির হরমোন – ঘর বাঁধার হরমোন আর ভ্যাসোপ্রেসিন প্রিয়জনকে রক্ষা করার হরমোন – সেটা সন্তান বা প্রিয়তম, যে কেউ হতে পারে। স্বভাবতই মেয়েদের অক্সিটোসিন বেশি থাকে, ছেলেদের ভ্যাসোপ্রেসিন। তবে প্রেয়‌ইরি ইঁদুরের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে পুরুষ ইঁদুরের নাকে অক্সিটোসিন ড্রপ দিলে তারাও প্রচুর পরিমাণে সন্তানস্নেহ দেখায়।”

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া: ব্ল্যাক হোল-এর কত কথা

“আচ্ছা… কেউ প্রেমে পড়ে, কেউ পড়ে না। এটা কেন হয় আর আমি কী করে নিজের ঠিকঠাক জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পাব?” লবঙ্গলতিকা যোগ করে, “আর ব‍্যর্থ প্রেমে মানুষ মরে যাবে, কেন হবে সেটা?”

“প্রেম ব‍্যর্থ হলে অক্সিটোসিন, ডোপামিন, সেরেটোনিন – সব কিছুর মাত্রা এত কমে যায় যে তার শরীর আর ঠিক ভাবে কাজ করে না – চরম একাকিত্ব থেকেও এটা হতে পারে, মনে রেখো ডোপামিনের অভাবেই পার্কিন্সন’স অসুখ হয়”, ডাক্তার ধোঁয়া উড়িয়ে বলতে থাকেন, “এ বার শোন তোরা – কুড়ি নম্বর ক্রোমোজোমের বারো নম্বর ইন্টারফেজিক পজিশনে একটা জিন থাকে। সেটা ঠিক করে দেয় কার কতটুকু অক্সিটোসিন বেরোবে। অক্সিটোসিন হল কাডলিং হরমোন, এটা প্রেমের হরমোন। এটা যার বেশি থাকবে সে প্রেমে পড়বে, অন‍্যরা পড়বে না।”

সুজি বলে, “শুধুমাত্র হরমোন? আর কোনো ফ‍্যাক্টর নেই?”

“অবশ্যই আছে। তোমার শিক্ষা, তোমার পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য, সব কিছু। যেমন ধরো, তুমি ভীষণ ধর্মপ্রাণ বাড়িতে মানুষ, তুমি একজন নাস্তিক বিধর্মীর প্রেমে সাধারণ ভাবে পড়বে না। আবার তোমার পূর্বপুরুষ যদি তোমার জিনে সংগীতপ্রীতি দিয়ে থাকেন, তবে তুমি হয়তো একজন সংগীতপ্রেমী মানুষকেই ভালোবাসবে। তোমার শিক্ষা, তোমার জীবনের অন‍্যান‍্য চাহিদাও একটা ফ‍্যাক্টর। যাকে দেখে ভালো লাগে সে-ই যে তোমার ঠিকঠাক জীবনসঙ্গী, তা নাও হতে পারে। যে দিন দু’ জন এক‌ই মানসিকতার মানুষ একই রকম অক্সিটোসিন নিয়ে কাছে আসবে সেই দিন‌ই তোমার প্রেম পূর্ণতা পাবে।”

কাজু হাঁফ ছাড়ে, “যাক বাবা! তা হলে আমার সুলোচনার জন্য কাঁদার কিছু নেই বলো? চলো নতুন করে খুঁজে দেখি আর আবার ভালোবাসার স্বপ্ন দেখি।”

জিলিপি হাসিমুখে বুড়োকে প্রশ্ন করে, “বুড়ো, তুমি ভালোবাসার স্বপ্ন দেখ না?”

ডাক্তার খরগোশের মতো কান খাড়া করে কী যেন শোনার চেষ্টা করেন। একটু পরে এক বুড়ো অন্ধ ভিখারি একটা ছোট্ট বাচ্চার হাত ধরে এগিয়ে আসছে দেখা যায় – তার চোখের কালো চশমার এক দিকের কাচের জায়গায় কাগজ সাঁটানো আছে। বাচ্চাটা রিনরিনে গলায় গান গাইছে, “আর না হবে মোর মানবজনম।” বুড়ো অন‍্য মনে কী যেন ভাবতে থাকেন।

“কী গো, বললে না তো, কোনো স্বপ্ন দেখ?” বুড়ো গালে ভাঁজ ফেলে হাসেন, “স্বপ্ন দেখি সৈন‍্যরা বাগান করছে, এক সঙ্গে গিটার হাতে গান গাইছে আঙুরের বাগানে – ভারতে, ইয়েমেনে, ইথিওপিয়ায় নাইজেরিয়ায় সব বাচ্চা স্কুলে যাচ্ছে, খেতে ফসল ফলে আছে…”, বলতে বলতে আনমনা ডাক্তার স্কুটারের দিকে র‌ওনা দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.