Connect with us

পুজোর নানারকম

রবিবারের পড়া: কোথায় হারিয়ে গেল পুজোর গান / ১

তপন মল্লিক চৌধুরী

সতেরোটি নতুন গানের রেকর্ড বেরোনোর একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে পুজোর ঠিক কয়েক দিন আগে। বিজ্ঞাপনটিতে বিভিন্ন শিল্পীর নাম এবং তাঁর গানের কয়েকটি কথাও উল্লেখ করা ছিল। যেমন, মানদাসুন্দরী দাসী – ‘এস এস বলে রসিক নেয়ে…’ (কীর্তন) ও ‘আমার সুন্দর…’, কে মল্লিক –   ‘গিরি একি তব বিবেচনা’ – (আগমনী; মিশ্র কাফি) ও ‘কী হবে ঊমা চলে যাবে’ – (বিজয়া; ভৈরবী), কৃষ্ণভামিনী – ‘মাকে কে জানে’- (মালকোষ) ও ‘অলসে অবশে বল কালী’- (পূরবী)…। এই ভাবে ওই বিজ্ঞাপনে ছিল আরও কয়েক জন শিল্পীর নাম ও তাঁদের গাওয়া গানের কয়েকটি কথা। উল্লেখ্য, ছিল বেদনা দাসী – জন্মাষ্টমীর গান ও ‘আমি এসেছি বঁধু হে’- (কেদারা মিশ্র) এবং মিস দাস (অ্যামেচার)- ‘হে মোর দেবতা’-(ইমন কল্যাণ) ও ‘প্রতিদিন আমি হে জীবনস্বামী’-(সিন্ধু কাফি)…। প্রসঙ্গত, এই মিস দাস হলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের বোন অমলা দাস। তখন সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েরা রেকর্ডে গান গাইতেন না। বলা যায়, তিনিই প্রথম নাম গোপন করে রবীন্দ্রনাথের গান রেকর্ড করেন। সে কালে হাসির গানও শ্রোতাদের পছন্দ ছিল। ওই বিজ্ঞাপনেই ছিল হাসির গান; শিল্পী অভয়াপদ চট্টোপাধ্যায় – ‘স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আদর’ ও ‘স্বামীর প্রতি স্ত্রীর আদর’। তবে ওটাই যে প্রথম পুজোর গানের বিজ্ঞাপন এবং ওই গানগুলিই যে প্রথম পুজোর গান তা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। কারণ তার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হাতে নেই।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া ১ / কেমন আছেন ‘বড়োলোকের বিটি’?

১৯৩০ সালের ২৭ এপ্রিল কলকাতা বেতারে হৃদয়রঞ্জন রায় নামে এক শিল্পীর বাংলা গান সম্প্রচারের সময় উপস্থাপক বাংলা গান কথাটির আগে আধুনিক শব্দটি ব্যবহার করেন। এর পরই বাংলা গানের পরিবর্তে আধুনিক গান কথাটি ব্যাপক ভাবে চালু হয়ে যায়। একই বছর বাংলা ছবি কথা বলতে শিখলে নাটকের মতো ছবিতেও গানের ব্যবহার আরম্ভ হয়ে যায়। আর তার জন্য দু’-একটি ক্ষেত্র বাদ দিয়ে অধিকাংশ গানের জন্য শিল্পীকে ছাড়াও দরকার পড়ে গান-লিখিয়ে অর্থাৎ গীতিকার এবং তাঁর লেখা গানের কথায় সুরারোপের জন্য দরকার হয় সুরকারের। তখন থেকে চালু হয়ে যাওয়া আধুনিক গান বা বেসিক রেকর্ড এবং ছবির গানের জন্য গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে এগিয়ে এলেন অনেকেই। পাশাপাশি গান রেকর্ড করে প্রকাশের জন্য তৈরি হল কোম্পানি। এর পর থেকেই মানে তিরিশের দশকেই এইচএমভি, কলম্বিয়া, হিন্দুস্তান, মেগাফোন, মেনোলা প্রভৃতি থেকে প্রায় প্রতি মাসেই বেরোতে থাকে গানের রেকর্ড। আগমনী, বিজয়া, বাগানবাড়ির গান, ভক্তিগীতি, নাটকের গানের পাশাপাশি বেসিক রেকর্ড যা বেরোত তার বেশিটাই আধুনিক গান। লক্ষণীয়, গত শতকের ছয়ের দশকের গোড়া থেকেই সারা বছর ধরে রেকর্ড প্রকাশ ভীষণ ভাবেই কমে গেল। তার জায়গায় বাড়ল পুজোর সময় বেরোনো রেকর্ডের সংখা। খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে গেল পুজোর গান আর সেটাই হয়ে গেল সারা বছরের গান।

booklet of songs released by hmv

এইচএমভি প্রকাশিত শারদ অর্ঘ্য।

তবে তার আগেই বিশ ও তিরিশের দশকে পুজোর সময় প্রকাশিত গানে পাওয়া গেল অবিস্মরণীয় কিছু শিল্পী। যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম আশ্চর্যময়ী দাসী, আঙ্গুরবালা, ইন্দুবালা, কৃষ্ণচন্দ্র দে, পঙ্কজ কুমার মল্লিক, কমল ঝরিয়া ইত্যাদি। ১৯১৭ সালেই পুজোর গানে কৃষ্ণচন্দ্র দে রেকর্ড করেন ‘আর চলে না মা গ’ ও ‘মা তোর মুখ দেখে কি’। ১৯৩৫-এর পুজোয় ‘সখী লোকে বলে কালো’ ও ‘আমি চন্দন হইয়ে’, ১৯৩৯-এ ‘স্বপন দেখিছে রাধারানি’ ও ‘হিয়ায় রাখিতে সে পরশমণি’ তাঁর উল্লেখযোগ্য পুজোর গান। ১৯২৩-এ ইন্দুবালার পুজোর রেকর্ড ‘তুমি এস হে’ (ইমন) ও ‘ওরে মাঝি তরী হেথায় বাঁধব না’(জংলা) দারুন হিট করেছিল। আঙ্গুরবালার ১৯২২-এর পুজোয় ‘কত আশা করে তোমারি দুয়ারে’ ও ‘আমার আমায় বলিতে কে আর’ ভক্তিগীতি হলেও খুব জনপ্রিয় হয়। কমল ঝরিয়া প্রথম রেকর্ড করেন ১৯৩০-এর পুজোতে, ‘প্রিয় যেন প্রেম ভুলো না’(গজল) ও ‘নিঠুর নয়নবান কেন হান’(দাদরা)।

দেশাত্মবোধক গানও তখন পুজোর গানের রেকর্ডে জায়গা পেত। ১৯৩৮ সালের পুজোয় দিলীপকুমার রায় রেকর্ড করেন ‘বন্দেমাতরম’ ও ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’, ১৯৪৭ সালের পুজোয় করেন ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ ও ‘ধাও ধাও সমরক্ষেত্রে’। ১৯২৫-এর পুজোয় নজরুলের গানের প্রথম রেকর্ড ছিল ‘জাতির নামে বিজ্জাতি’, গানটি গেয়েছিলেন হরেন্দ্রনাথ দত্ত। এর আগেও ১৯২২-এর পুজোতে প্রকাশিত হয় ‘সেকালের বাংলা’, ‘চরকার গান’ও ‘দেশ দেশ নন্দিত করি’।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: অমলিন বোধের একদিন

দিলীপ কুমার রায়ের পুজোর গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল আগেই; ১৯২৫ সালে ‘ছিল বসি সে কুসুমকাননে’-(কীর্তন) ও ‘রাঙ্গাজবা কে দিল তোর পায়ে’-(মিশ্র সিন্ধু), গান দু’টির রেকর্ড খুবই উল্লেখযোগ্য। দিলীপ কুমার রায়ের গানের প্রসঙ্গে আরেকটি নাম এসেই পড়ে; তিনি উমা বসু। দিলীপ কুমারের কথা ও সুরে ১৯৩৯ সালে উমা বসুর পুজোর গান ‘জীবনে মরণে এস’ সুপারহিট। সে কালে পুজোর গানে অন্যান্য গানের মতোই রেকর্ড হত অতুলপ্রসাদ সেনের গানও। ১৯২৫-এর পুজোয় বিখ্যাত শিল্পী সাহানা দেবীর গাওয়া ‘কত গান তো গাওয়া হল’ ও ‘শুধু দুদিনেরি খেলা’ জনপ্রিয় হয়েছিল। বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কনক দাস ১৯৩২-এ পুজোর গানে রেকর্ড করেন অতুলপ্রসাদের দু’টি গান।

জনপ্রিয়তার কারণে সে কালের পুজোয় নাটক বা পালাগানেরও রেকর্ড প্রকাশিত হত। ১৯১৫-র পুজোয় ছ’টি রেকর্ডের সিরিজে বেরিয়েছিল ‘অন্নদামঙ্গল’, একই বছর প্রকাশিত হয় গিরিশচন্দ্রের গীতিনাট্য ‘আবু হোসেন’। ১৯২৭ সালের পুজোয় প্রকাশিত অহীন্দ্র চৌধুরীর ‘কর্ণার্জুন’ নাটকের অভিনয় কিছু কাল আগে পর্যন্ত স্মরণীয় ছিল।

record cover

আগেকার দিনের গানের রেকর্ডের কভার।

পুজোর গানেই সে কালের বহু সঙ্গীতশিল্পী জনপ্রিতার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন। প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় বাংলা ও হিন্দি গানের দুনিয়ার অন্যতম শচীন দেববর্মনের কথা। ১৯৩২ সালে হিন্দুস্তান রেকর্ড থেকে তাঁর পুজোর গান ‘ডাকলে কোকিল রোজ বিহানে’ ও ‘এই পথে আজ এস প্রিয়’ বেরোনোর পরই কিন্তু তিনি জনপ্রিয় হন। তাঁর পুজোর হিট গান ‘মম মন্দিরে’ (’৩৬), ‘তুমি যে গিয়াছ’ (’৩৮) ইত্যাদি। ১৯৪৪ সাল থেকে তিনি মুম্বইবাসী হলেও পুজোর গান নিয়মিত রেকর্ড করতেন। তাঁর সুপারহিট পুজোর গান ‘মন দিল না বঁধু’(‘৫৬), ‘দূর কোন পরবাসে’ ও ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই’(’৬০)। ১৯৩৪ সালের পুজোয় তেরো-চোদ্দো বছরের এক কিশোরীর গান ‘আমি ভোরের যূথিকা’ ও ‘সাঁঝের তারকা আমি’ প্রকাশিত হওয়ামাত্র সাড়া পড়ে গেল। যূথিকা রায় প্রতিষ্ঠিত হলেন অসামান্য সংগীতশিল্পী হিসেবে। ১৯৫০ সালে তাঁর গাওয়া পুজোর গান ‘এমনি বরষা ছিল সেদিন’ ফের গানের ভুবন জয় করল। (চলবে)

ঋণস্বীকার: এইচএমভি প্রকাশিত শারদ অর্ঘ্য, বিভিন্ন রেকর্ড কোম্পানির ক্যাটালগ, স্বপন সোম, অতনু চক্রবর্তী প্রমুখ।

 

কলকাতা

পুজো শুরুর আড়াই মাস আগেও কেন থমকে ভগবানের আঁতুড়ঘর!

kumartuli
smita das
স্মিতা দাস

রথের রশিতে টান আর দুর্গাপুজোর গান একই সঙ্গে শুরু হয়। এই বছরও সেই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। দিকে দিকে খুঁটিপুজোর মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে দেবীবন্দনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তার সঙ্গে শুরু হয়েছে কুমোরটুলি পাড়ায় প্রতিমা বায়নার পালাও। কিন্তু এই বারের ছন্দ বেশ ঢিমে। তাই নিয়ে শিল্পীদের মধ্যে চাপা দুশ্চিন্তা গুমরে উঠছে। কেমন কাটবে এই বছরের বাজার। সবই এখন চার আঙুলের ভরসা। তবে মানুষ তো আশায় বাঁচে। সেই আশা ছাড়েননি তাঁরাও। দেখা যাক।

গোটা কুমোরটুলি ঘুরে কিছুটা হাওয়া বোঝার চেষ্টা করা গেল। কোথাও মাটি ঠাসা হচ্ছে, কোথাও খড়বিচালি বাঁধা হচ্ছে। কোথাও বা মাটি লাগানো চলছে।  অলংকার বানাচ্ছেন যাঁরা, তাঁরাও টুকটুক করে ঘাড় গুঁজে কাজ করে চলেছেন।

খড়ের ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে

কথা বলা হল বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে। মহিলা শিল্পী জবা পাল বলেন, এখনও অবধি এ বারের বাজার বেশ খারাপ। অন্যান্য বছর এই সময়ের মধ্যে যে পরিমাণ কাজের বায়না আসে, যে তৎপরতা থাকে, সেই সব কিছুই এখনও শুরু হয়নি। কিছু বাইরের বায়না কাজ হচ্ছে। তবে তাঁর আশা, কিছু দিন পরে হলেও বায়না পাবেন। এর জন্য তিনি দায়ী করছেন রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক সমস্যাকেই।

প্রতিমার অলংকারশিল্পী ফণীভূষণ মালাকারেরও একই কথা – এখনও পর্যন্ত এ বছরের বাজার বেশ মন্দা। প্রতিমার বায়নার ওপর অলংকারের চাহিদা নির্ভর করে। কিন্তু সে দিক থেকে দেখলে অলংকারের অর্ডার নেই। প্রতি বারই নতুন কিছু নকশা, নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন তিনি। তেমনটি এ বারও ভেবে রেখেছেন। কিন্তু অর্ডার না পেলে সবই মাটি, মন্তব্য তাঁর। তবে বাজার শেষ অবধি কেমন যাবে এখনই তা বলা যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন তিনি।  

তৈরি হচ্ছে গয়না

শিল্পী মালা পাল বললেন, তিনি ছোটো ঠাকুর বেশি করেন। সেইমতো কিছু বায়না এখনও অবধি এসেছে। তবে এ বারে তিনি তিনটি বড়ো পুজোর কাজ হাতে নিয়েছেন।

শিল্পী মোহনবাঁশী রুদ্র পাল বলেন, তিনি এখনও পর্যন্ত মোটামুটি ভালোই অর্ডার পেয়েছেন। তাঁকে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে অনেক শিল্পীই সমস্যার কথা বলছেন।

চলছে ফাইবারের ঠাকুরে রং করার কাজ

কুমোরটুলির ঘরে ঘরে বায়নার খাতার চিত্রটা ঠিক কী? তা জানতে কথা বলা হল কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতির যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের সঙ্গে। তিনি বললেন, এই বারের হাওয়া বেশ হালকা। ২০১৮ সালের সঙ্গে তুলনা করলে এখনও পর্যন্ত এই বছরের বায়নার সংখ্যা অনেক কম। রথের দিন অন্যান্য বারে যে পরিমাণ অর্ডার পাওয়া যায় তার তিল মাত্রও এখনও হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তার জন্য দায়ী কাকে করবেন? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য অনেকটাই দায়ী রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পাশাপাশি তার ফলে প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও। তা ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি তো রয়েছেই। বলেন, এই সময়ে বিদেশে বা রাজ্যের বাইরেও অনেক ঠাকুর পাঠিয়ে দেওয়া হয়ে যায়। সেখানে এই বছর তেমন বায়নাই আসেনি। ফলে মৃৎশিল্পীরা যেমন হতাশ তেমনই হতাশ প্রতিমার অলংকারশিল্পীরাও। কারণ প্রতিমা হলে তবেই তো অলংকার লাগে। তবে রবিবারগুলি একটু করে আশার আলো জাগিয়ে তুলছে। ওই দিন কুমোরটুলি দেখলে মনে হচ্ছে পুজো এসেছে। কিন্তু অন্য বারের তুলনায় শতকরা হিসাবে এই বার অর্ধেকেরও অর্ধেক বায়না পাওয়া গিয়েছে। গত বছর ও তার আগের বছর জিএসটি নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল ঠিকই কিন্তু তা-ও বাজার ভালোই ছিল।

গণেশ পুজোর প্রস্তুতি

রঞ্জিতবাবু বলেন, কাটমানি এই বারে পুজোর বাজারে একটি বিরাট প্রভাব ফেলেছে। রথের দিন খুঁটিপুজোতেই এই অর্থ কাজে লাগিয়ে বহু পুজো কমিটি অনেক উপহার দিয়ে থাকে। আর সেই সব উপহার কুমোরটুলি থেকেই তারা কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু এই বারে সেই ধরনের কোনো ব্যবসাই হয়নি।

তিনি বলেন, বিদেশের বায়না পাওয়ার ক্ষেত্রে বলা যায় গোটা কুমোরটুলি থেকে প্রায় ৪০-৪২টি ঠাকুর বাইরে যায়। তাতে কিছু শোলার ঠাকুর থাকে, তবে বেশির ভাগটাই ফাইবারের। দেখা যাক এই বছর কী হয় শেষ পর্যন্ত।

এক চালচিত্রের ছোট্টো দুর্গা পাড়ি দেবে মার্কিন যুক্ত্রাষ্ট্রে

গোটা চত্ত্বর ঘুরে যা দেখা গেল বেশির ভাগ শিল্পীর কণ্ঠে হতাশা, কুমোরটুলি যেন থমকে আছে। ভগবানের আঁতুড়ঘরের শিল্পীদের সঙ্গে মন মিলিয়ে সবাই কামনা করছেন, প্রতিমার বাজার এ বার যেন ভালোই যায়। আসল ছবিটা বোঝা যাবে আর কিছু দিন পর।

আরও পড়ুন – রুপোলী পর্দা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে হিন্দুস্থান পার্কের খুঁটিপুজো

Continue Reading

পুজোর নানারকম

সৌরশক্তি, বায়ুশক্তিতে জ্বলছে আলো, পথ দেখাল চালতাবাগানের পুজো

স্মিতা দাস[/caption] চালতাবাগানের ঠাকুর কলকাতা শহরের অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু কেউ কি জানেন এই মণ্ডপের প্রতিটা আলো জ্বলেছে অপ্রচলিত শক্তির সাহায্যে। প্রায় ২৫ কিলোওয়াট প্রতি দিন লাগছে এই গোটা মণ্ডপের আলোকসজ্জায়। আর এই বিদ্যুৎ তৈরি করা হচ্ছে সৌরশক্তি আর বায়ুশক্তি থেকে। গত দশ বছর ধরে এই একই ভাবে চালতাবাগানের দুর্গাপুজোর আলো জ্বালানো হয়ে আসছে বলে খবর অনলাইনকে জানালেন গীতাঞ্জলি  সোলার এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা অনুপম বড়াল। চালতাবাগানের পুজোর বয়স ৭৫ বছর। গত ন’ বছর ধরে এখানে সৌরশক্তির সাহায্যে আলো জ্বালানোর পর এ বছর একটা বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৌরশক্তির সঙ্গে বায়ুশক্তিও তৈরি হচ্ছে। একে বলে হাইব্রিড সিস্টেম। মণ্ডপের ভেতরেও এই মিলিত শক্তির আলোই রয়েছে। সঙ্গে অপ্রচলিত শক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারের ব্যবস্থা রয়েছে মণ্ডপে। রয়েছে স্লোগানও। রয়েছে বিশাল সেন্ট্রাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। প্রতি আলোর ওপরে রয়েছে সোলার প্যানেল আর উইন্ড টারবাইন। বৃষ্টির কথা ভেবে রয়েছে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য এনার্জি স্টোরের ব্যবস্থা। টানা দু’ দিন বৃষ্টিতেও এই সঞ্চিত শক্তি দিয়েই আলো জ্বালা সম্ভব। অনুপমবাবু প্রায় ৩৩ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে। তিনি বলেন, অপ্রচলিত শক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম। তাই মানুষকে সচেতন করতেই মূলত পুজোমণ্ডপকে বেছে নেওয়া। সেখানে হাজারে হাজারে মানুষের ভিড় হয়। আর কোনো ভালো বার্তা দিয়ে চাইলে এক সঙ্গে অনেক মানুষ পাওয়াটা জরুরি। প্রথম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পাড়ার পুজোতেই এই শক্তির ব্যবহার করা হয়েছিল। তার পর চালতাবাগান যোগাযোগ করে, এই ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়। ফলে বেশ কিছুটা প্রচার হয়। এ বছর সন্তোষপুরের দু’টো মণ্ডপে এই শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। [caption id="attachment_54030" align="aligncenter" width="484"]anupam boral অনুপম বড়াল[/caption] তাপশক্তির ব্যবহারের ফলে দূষণ যেমন বাড়ছে, খরচও বেশি। পাশাপাশি মাটির নীচ থেকে জীবাশ্ম থেকে সৃষ্ট কয়লা তুলে নেওয়ার ফলে তা সঞ্চয়ও প্রায় শেষ হতে বসেছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামগ্রিক স্বার্থের কথা ভেবে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ানো দরকার। কেন্দ্রীয় সরকারও এই ব্যাপারে প্রচার চালাচ্ছে। ১০০ গিগাওয়াট শক্তি তৈরির লক্ষ্য নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্যারিস চুক্তিতেও এই ব্যাপারে কথা হয়েছে। অনুপমবাবু বলেন, এই ব্যাপারে জনগণকেই তো এগিয়ে আসতে হবে। লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ বলা যায়। তিনি বলেন, এই প্রজেক্ট প্ল্যান্টের খরচ ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ উৎপাদন বাড়লে খরচ কমে। দেশপ্রিয় পার্ক-সহ বেশ কিছু এলাকায়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে, হোটেলে, আবাসনে, হাসপাতালে এই শক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। অনেক রাজ্যে গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েও গিয়েছে। এ রাজ্যে খুব শীঘ্রই এই ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে। অপ্রচলিত শক্তি সম্পর্কে যুব সমাজকে সচেতন করতে বিভিন্ন কলেজেও এই শক্তির ব্যাপারে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে অনুপমবাবু জানান। প্রশিক্ষণের জন্য যুবকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গীতাঞ্জলি সোলার এন্টারপ্রাইজেও পাঠানো হয়। সরকারি উদ্যোগেও কম খরচে বা নিখরচায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রশিক্ষণের খরচ খুব বেশি নয়। সাধারণের সাধ্যের মধ্যেই। বর্তমানে বহু মানুষ তাঁদের রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারছেন এই শক্তির সঙ্গে নিজেকে নানা ভাবে জড়িয়ে।]]>

Continue Reading

খাওয়াদাওয়া

পুজো রেসিপি কনটেস্ট বিজয়া দশমী: নারকেল তিলের বড়া

recipe contest

মেঘমালা সেনগুপ্ত

কী কী লাগবে

১) নারকেল কোরা- ৩ বড় চামচ

২) সাদা তিল- ৩ বড়ো চামচ

৩) কাঁচালঙ্কা, শুকনো লঙ্কা- ১টা

৪) নুন, চিনি – স্বাদ মতো

৫) ব্যাসন- ২ ছোটো চামচ

৬) সর্ষের তেল

কী ভাবে বানাবেন

১) নারকেল কোরা , তিল আর কাচালঙ্কা, শুকনো লঙ্কা এক সঙ্গে নিয়ে মিক্সিতে বা শিল-এ একদম শুকনো করে পিষে নিতে হবে।

২) এবার এই মিশ্রণে নুন , চিনি আর ব্যাসন দিয়ে মেখে নিতে হবে

৩) তেল গরম করে এই মিশ্রণ থেকে ছোটো ছোটো বড়ার মতো বানিয়ে লাল করে ভেজে তুলতে হবে।

৪) গরম ভাত আর ডাল দিয়ে খেতে দারুণ।

Continue Reading
Advertisement
Currency
রাজ্য16 mins ago

ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারের আর্জি খারিজ স্যাটে

Hemant Soren
দেশ50 mins ago

মন্ত্রী করোনা আক্রান্ত! কোয়রান্টিনে গেলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন

দেশ2 hours ago

‘গান্ধী’ পরিবারের তিনটি ট্রাস্টের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে উচ্চস্তরের কমিটি গড়ল কেন্দ্র

রাজ্য4 hours ago

বিকল্প শিক্ষাপদ্ধতি: তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে লকডাউন পাঠশালা

দেশ6 hours ago

নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে, কিছুটা বাড়ল সুস্থতা

কলকাতা6 hours ago

করোনা প্রতিরোধে মাস্ক-স্যানিটাইজার বিতরণ ‘উই আর দ্য কমন পিপল’-এর

দেশ7 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২২৭৫২, সুস্থ ১৬৮৮৩

ক্রিকেট7 hours ago

জন্মদিনের দিন দেখে নেওয়া যাক অধিনায়ক সৌরভের পাঁচটি কালজয়ী সিদ্ধান্ত

দেশ7 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২২৭৫২, সুস্থ ১৬৮৮৩

currency
শিল্প-বাণিজ্য2 days ago

পিপিএফের ৯টি নিয়ম, যা জেনে রাখা ভালো

দেশ3 days ago

২০২১-এর আগে নয় করোনা ভ্যাকসিন? প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও সময়সীমা মুছে দিল বিজ্ঞানমন্ত্রক!

কলকাতা2 days ago

কলকাতায় এখন ১৮টি কনটেনমেন্ট জোন, ১৮৭২টি আইসোলেশন ইউনিট, ফারাকটা কোথায়?

রাজ্য2 days ago

করোনা রুখতে পশ্চিমবঙ্গের ‘সেফ হোম’-এর ভূয়সী প্রশংসা কেন্দ্রের

বিনোদন3 days ago

করোনা আবহে কী ভাবে হল ‘বিবাহ বার্ষিকী’র শুটিং? দেখে নিন অভিনেত্রী দর্শনা বণিকের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার

দেশ3 days ago

গাজিয়াবাদের কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ৭

ক্রিকেট2 days ago

ওপেনার সচিন তেন্ডুলকরের গোপন রহস্য ফাঁস করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

কেনাকাটা

কেনাকাটা22 hours ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা2 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা3 days ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা1 week ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

নজরে