Connect with us

ইতিহাস

রবিবারের পড়া: “এই ভাবে ফুটবল খেলতে হয়, এই ভাবে ফুটবল অনুভব করতে হয়”

Arunava Gupta

অরুণাভ গুপ্ত

উতরে গেল রাশা বিশ্বকাপ। অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা না ঘটলেও ফলাফল হয়েছে খেলার গতির সঙ্গে সাজুয্য রেখেই। সব দিক থেকে এগিয়ে থাকা টিম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হল। রেফারিং জঘন্য মানের, ভাগ্য বিরূপ গোছের যুক্তি জড়ো করেও ধোঁপে টিকছে না বা বাজার গরম করে লাভ নেই। আজীবন তথ্য বলবে – ফ্রান্স ৪, ক্রোয়েশিয়া ২। তার থেকে যা পাওয়া গেল তাতে খুশ থাকা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো, কেন না কোনো দিন হিসেব মেলেনি, মিলবেও না। যেমন প্রতিটি দেশের অধিবাসীই চাইবেন,তাঁর দেশ জিতুক। আবার দেশের বাইরে যে বিরাট সংখ্যক ফুটবল অনুরাগী আবেগ ভাসেন, তাঁরাও নিজেদের পছন্দের টিমের জন্য গলা ফাটান। হাতে গরম কলকাতার কথা ধরলে থরে থরে প্রমাণ মিলেছে। এক-একটা গলিতে এক-এক দলের সমর্থকরা নিজেদের পছন্দের টিমের কল্যাণ কামনায় যাগযজ্ঞ করেছেন, বেশির ভাগটাই মুষড়ে পড়েছে, যাদের মিলেছে তাদের আর পায় কে।

একটা মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন মাথায় আসছে-যাচ্ছে, তা হল আমরা ফুটবলের কাছে কী আশা করি, মানে একটা ফুটবল ম্যাচে কী কী থাকলে দর্শকবৃন্দ আহ্লাদে আটখানা হবেন। ‘নো আনসার’- কারণ সমর্থনের বড়ি গিলে সব নেশাড়ু প্রিয় দল জিতলেই খুশি। অথচ ফুটবল উন্মাদ বোদ্ধা দর্শক এটাও চান, ফুটবল ম্যাচে থাকবে গোল, দু’টো প্রান্তের গোলপোস্টে লাগাতার আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, গভীরতা, কুশলী পায়ের বিশেষত্ব, নাটক, জমজমাট ঘটনা এবং বিতর্ক। তবেই তো ফুটবলে মজবে তামাম বিশ্ব।

croatia lossজোহান ক্রয়েফের অভিমত, বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ অধিকাংশ সময় ডাহা বোরিং হয়। কারণ দু’টো টিমের কেউ ম্যাচ হারতে চায় না। ভয় পায়। দোষ দেওয়া যায় না, যে হেতু হারলে হাত দিয়ে মাথা কাটবে সকলে। কে বোঝাবে, যে হারে তার থেকে বেশি দু:খ কেউ পেতে পারে না। অত্যন্ত বাস্তব সত্য, ফুটবলাররা ফুটবলের মাধ্যমে নির্ভেজাল শান্তি, আনন্দ ও তৃপ্তি পান এবং ফুটবলকে রোমান্টিক করার জন্য তাঁরা মুখিয়ে থাকেন। কিন্তু বেহিসেবি হওয়া কখনোই চলবে না। কোচের স্ট্র্যাটেজির বাইরে যাওয়ার এক্তিয়ার কারও নেই।

franceফিফা প্রচার করেছিল – ‘গো ফর গোলস’। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে গোল সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। তবে নির্মম সত্য, পাশাপাশি আর একটা অভিযান সমান ভাবে সক্রিয় ছিল, যার স্লোগান-‘গো ফর ওন গোলস’।

ফ্রান্স বনাম ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে দর্শক যা চান, তার সমস্ত মালমশলাই মজুত ছিল। মোট গোল হয়েছে হাফ ডজন। চমক ছিল আত্মঘাতী, বল ছুটেছে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, ফুটবলারদের কলাকৌশল যথেষ্ট ছিল, নাটকীয়তারও ঘাটতি ছিল না, যখন দেখা গেল লঘু পাপে গুরুদণ্ড দিলেন রেফারি, তা হলে বোরিং ফুটবল কোথায়। দু’টো টিমই তো ফুটবলের কাছে যাবতীয় পাওনা-গণ্ডা মিটিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া আরও একটা বড়ো মাপের প্রাপ্তি মিলেছে। ক্রোয়েশিয়ার প্লে-মেকার লুকা মদ্রিচ। সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছেন মাঠ কভারিংয়ে। সব থেকে বেশিক্ষণ পায়ে বল রেখেছেন এবং বিনা দ্বিধায় বলা যায় বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে মদ্রিচের ভূমিকা ছিল সব থেকে বেশি। অমায়িক চরিত্র বলেই টিমে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না।

france-2

পরাজয়ের গ্লানি-হতাশা তাড়া করবে বেশ কিছু দিন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় প্রমাণিত হয়েছে মদ্রিচের পায়ের ছাপ বহু দিন চিহ্নিত হয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব ফুটবলে। নিজের এমন সরব অস্তিত্বের পুরস্কার স্বরূপ মিলেছে গোল্ডেন বল অর্থাৎ প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট।

jorge valdano

জর্জ ভালদানো।

আর্জেন্তিনার প্রবাদপ্রতিম ফুটবলার জর্জ ভালদানো যথার্থই বলেছেন, “এই ভাবে ফুটবল খেলতে হয়, এই ভাবে ফুটবল অনুভব করতে হয়। সেখানেই তোমার তুমি প্রকাশিত। এখানে ঝকঝকে ‘লিভিং ফুটবল”।

আরও পড়ুন : রবিবারের পড়া: বিশ্বকাপের ছড়া

ইতিহাস

রবিবারের পড়া: বিশ্বকাপ ফাইনালে দর্শকদের তল্লাশি করে মিলেছিল ১৬০০ রিভলভার

তপন মল্লিক চৌধুরী

এক মাস ধরে সারা দুনিয়াকে টান টান উত্তেজনায় বেঁধে রাখছে বিশ্বকাপ ফুটবল বা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। সারা বিশ্ব জুড়ে কয়েক কোটি মানুষ টিভির পর্দাতেই বিভোর হচ্ছেন রোনাল্ডো, মেসি, নেইমারদের পায়ের জাদুতে। ৮৮ বছর আগে এই টুর্নামেন্টের শুরুটা হয়েছিল কী ভাবে?  কেমন ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস তাই নিয়েই দু-চার কথা।

ফুটবল তখন কি এতটা জনপ্রিয় ছিল? অল্প কিছু দেশ তখন ফুটবল খেলত। প্রথম বার নয়, অলিম্পিকের দ্বিতীয় আসরে ফুটবলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু সে বারও জাতীয় দলগুলো অংশ নেয়নি। ফুটবল প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে মর্যাদা পায় ১৯০৮ সালের অলিম্পিকে। এর পরের দু’দশকের মধ্যেই ফুটবলের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দুনিয়ায়। এ কথা নিঃসন্দেহেই বলা যায় যে, ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে মূল আকর্ষণ ছিল ফুটবল। আর তাতেই নড়েচড়ে বসেন ফিফার কর্তারা। অলিম্পিকের আদলে একটি আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় সংস্থাটি।

আরও পড়ুন ফিরে দেখা ফুটবল বিশ্বকাপ: যে রেকর্ড কোনো দিনই ভাঙবে না

কিন্তু আইওসি কিছুতেই মানতে নারাজ। ফিফার সঙ্গে এই নিয়েই টালবাহানা চলে বেশ কিছু কাল ধরে। আর এরই জেরে ফুটবলকে শেষ পর্যন্ত অলিম্পিকের স্পোর্টস ক্যাটাগরি থেকে  বাদই দেওয়া হয়। অন্য দিকে তার রেশ ধরে অলিম্পিকের পরবর্তী আসরের আগেই তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে তাঁর নিজের নামে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করবেন এমন সিদ্ধান্ত নেন।

তবে  সফল ভাবে প্রথম বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা আয়োজিত  হয় ১৯৩০ সালে, উরুগুয়েতে। এতে নতুন এক দিগন্তের সূচনা হয় ঠিকই, তবে শুরুতে ইউরোপের দলগুলো ব্যাপারটাকে খুব ভালো চোখে দেখেনি। তাই নানা বাধাবিপত্তিতে জড়িয়ে যায় প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল। সেই সব বিপত্তি পেরিয়ে ইউরোপের মাত্র চারটি দল যোগ দেয় বিশ্বকাপে। ওই এক বারই বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইউরোপের দলগুলোর চেয়ে লাতিন দলগুলির উপস্থিতি ছিল বেশি।

arjentina team examining the ground before the final match in 1930

১৯৩০-এ ফাইনাল ম্যাচের আগে মাঠ পরীক্ষা করছে আর্জেন্তিনা দল।

১৯৩০ সাল ছিল উরুগুয়ের স্বাধীনতার একশো বছর। বছরটিকে ঐতিহাসিক ভাবে উদযাপন করার অংশ হিসেবেই বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় দেশটি। তাদের চাওয়া মেনে নেয় লাতিন ল্যাটিন আমেরিকার প্রায় সবগুলো দল। ইউরোপিয়ানদের কাছ থেকে কিছু আপত্তি আসে। আসলে অনেক দেশই আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে চায়নি । যদিও আয়োজক দেশ উরুগুয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাবতীয় খরচও বহন করতে সম্মত ছিল। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে বিশ্বকাপের জন্য উরুগুয়েকেই নির্ধারণ করা হয়। দেশের রাজধানী মন্টেভিডিওর মোট তিনটি মাঠে আয়োজিত হয় ওই বিশ্বকাপ। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম স্বাক্ষর রাখে উরুগুয়ে।

সেবার অংশ নিয়েছিল মোট ১৩টি দেশ। বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া ও যুগোস্লাভিয়া – এই চারটি দেশ ছিল ইউরোপ থেকে। পেরু, পারাগুয়ে, চিলে, আর্জেন্তিনা, ব্রাজিল, বলিভিয়া ও উরুগুয়ে, এই সাতটি দেশ ছিল লাতিন আমেরিকার। বাকি দু’টি দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। ১৩ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই – এই ১৮ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই বিশ্বকাপের আসর। ১৩টি দেশ বা দলকে চার ভাগে ভাগ করে সাজানো হয়েছিল খেলা।

আরও পড়ুন ফিরে দেখা ফুটবল বিশ্বকাপ: যম আছে পিছে

ফিফা সভাপতি জুলেরিমে নিজের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে না পারলেও বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় নিজের দেশকে রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। ফ্রান্স এবং মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ। আর  সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। আর প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা এখনও পোহাচ্ছে মেক্সিকো। কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব চেয়ে বেশি ২৫টি ম্যাচে হেরেছে মেক্সিকো। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ পায়। তবে মজার ব্যাপার হল সেমিফাইনালের দু’টি ম্যাচের ফল হয় একই। এক দিকে উরুগুয়ে ৬-১ গোলে হারায় যুগোস্লাভিয়াকে। অন্য দিকে আমেরিকাকে ৬-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্তিনা। তবে ফাইনালেই যাবতীয় উৎসাহ-উত্তেজনা যেন জড়ো হয়। ফাইনাল খেলা দেখতে ৬০ হাজারের বেশি দর্শক হাজির হয়েছিল। দর্শকদের হাবভাব দেখে প্রথমে সন্দেহ হয় রেফারির। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দর্শকদের তল্লাশি করতে বলেন। কিন্তু সে কাজ যে মোটেও সহজ নয়। কিন্তু সেই কঠিন কাজ শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয় এবং তল্লাশিতে দর্শকদের কাছ থেকে ১৬০০ রিভলভার পাওয়া যায়।

শুধু তা-ই নয়। এর পর বল নিয়েও লাগে আরেক বিপত্তি। দু’ দলই চায় নিজেদের বল নিয়ে খেলতে। শেষে সিদ্ধান্ত হয় প্রথমার্ধে আর্জেন্তিনার এবং দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের বল দিয়ে খেলা হবে। প্রথমার্ধে নিজেদের বলে খেলে দু’টি গোল করে আর্জেন্তিনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের বল নিয়ে খেলে উরুগুয়ে করে ৪টি গোল। ফলে ৪-২ ব্যবধানে আর্জেন্তিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে।

Continue Reading

ইতিহাস

জার্মানি যেখানে হাত দেয়, সেখানেই সোনা

দেশ হল জার্মানি, যেখানে হাত ঠেকায় সেখানেই সোনা হয়ে যায়। সেটা ভালো হোক বা মন্দ, সে সব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না জার্মানরা, যেন একটা মেশিন।

২০০৬-এ এহেন জার্মানির মাটিতে বিশ্বকাপের দামামা বাজল। সব আসরের পরেই গুছিয়ে খতিয়ান রাখতে হয়, যাতে তথ্য খুঁজতে খুব বেশি হাতড়াতে না হয়। সেই রেডি রেফারেন্সই বলছে, ২০১৪ পর্যন্ত যত দেশে বিশ্বকাপের আসর বসছে, সবাইকে টেক্কা দিয়েছে জার্মানি।

সে বার লাল কার্ড দেখার সংখ্যা ২৮ আর হলুদ কার্ড ৩৫৪টি। মানে চোখে সর্ষে ফুল দেখার মতো অবস্থা। হয়তো একেই বলে জার্মান ম্যাজিক। অবশ্য ভিন্নমতও রয়েছে- সব দেশ এক যোগে মিলে জার্মানকে কেমন ফাউলের পীঠস্থান বানাল!

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফাউল করা একটা বিশেষ ছোঁয়াচে রোগ, শুরু হলে পালা করে দুটো দলই করে যাবে। দেখে মনে হতে পারে, যেন এখানেও হার-জিতের অঙ্ক আছে। এমনটাই ঘটেছে ওই ২০০৬ জার্মান বিশ্বকাপে। খেলা চলছে ন্যুরেনবার্গের ফ্র্যাঙ্কেন স্টেডিঅনে। নামে এবং কামে ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনই বটে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে নেদারল্যান্ডস এবং পর্তুগাল।

valentin ivanov

ভ্যালেন্টিন ইভানভ

দুটো টিম তেতে রয়েছে কে কাকে সামলাবে। রুশ রেফারি ভ্যালেন্টিন ইভানভ গুনে গুনে ৪টি লাল আর ১৬টি হলুদ কার্ড দেখালেন। পকেট হাত ঢোকান আর বার করেন। পর দিন সংবাদে প্রকাশ- উনি না কি সে রাতে ঘুমের মধ্যেও লাল আর হলুদ কার্ড দেখিয়ে গিয়েছেন।

সত্যি, আতঙ্ক বটে!

সংকলক: অরুণাভ গুপ্ত
Continue Reading

ইতিহাস

জেনে নিন ফুটবল বিশ্বকাপের সেরা দশ অঘটন

অনেক অঘটনের উপহার দিয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এখানে আমরা দেখে নেব, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা দশটি অঘটন।

১) ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল- ব্রাজিলকে ওড়াল জার্মানি 

চার বছর আগের বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল। নেইমার, থিয়েগো সিলভা না থাকলেও যথেষ্ট শক্তিশালী দলই ছিল ব্রাজিল। কিন্তু ম্যাচের ফল যে এ রকম হতে পারে, সম্ভবত  জার্মানিরও কোনো অন্ধ ভক্ত এমনটা আশা করেননি। প্রথম আধঘণ্টার মধ্যেই ম্যাচ শেষ। ১১তম মিনিটে গোলের খাতা খুলেছিলেন থমাস মুলার। এর ১৯ মিনিটের মধ্যে আরও চারটে গোল।

ভাগ্যিস, ৫ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা ঢিলেমি দিয়েছিল জার্মানি, না হলে ব্রাজিল যে আর ক’টা গোল খেত, তা ধারণারও বাইরে!

২) ২০১৪ বিশ্বকাপ- হল্যান্ডের কাছে পরাস্ত স্পেন

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আগের বারের জয়ীদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলল হল্যান্ড। ম্যাচের প্রথম গোলটা স্পেন করলেও বিরতির আগে হল্যান্ডের হয়ে সমতা ফেরান রবিন ফ্যান পার্সি। বিরতির পর ফ্যান পার্সি, আর্জেন রবেনরা মিলে করলেন আরও চারটে গোল।

৩) ২০০২ বিশ্বকাপ- ফ্রান্সকে হারাল সেনেগাল

আগের বিশ্বকাপের জয়ী দল প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা সেনেগালের বিরুদ্ধে। ম্যাচে জিনেদিন জিদান খেলেননি। তবুও এরকম ফল যে হতে পারে কারও মাথাতেও ছিল না। পাপা বৌপা ডিউপের গোলে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় সেনেগাল। গ্রুপ লিগ থেকেই বিদায় নেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠে যায় সেনেগাল।

৪) ২০০২ বিশ্বকাপ- দক্ষিণ কোরিয়া হারাল ইতালিকে

দক্ষিণ কোরিয়া আয়োজক দেশ ছিল বলে সমর্থন ছিল তাদের পক্ষেই। কিন্তু তারা যে ইতালির মতো বাঘা দলকে হারিয়ে দেবে, সেটা কল্পনা করা যায়নি। এমনটাই ঘটেছিল ২০০২ বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। ইতালিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে তাদের রূপকথা সেখানেই শেষ হয়নি। বিশ্বকাপের চতুর্থ দলের শিরোপা ওঠে তাদের মাথায়।

৫) ১৯৯০ বিশ্বকাপ- ক্যামেরন হারিয়ে দিল আর্জেন্তিনাকে

যথারীতি আগের বিশ্বকাপের জয়ী দলের পরের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের মুখ থুবড়ে পড়ার গল্প। ন’জনে খেলা ক্যামেরন ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্তিনাকে। তবে এই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্তিনা। ফাইনালে অবশ্য পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যায় তারা।

৬) ১৯৮২ বিশ্বকাপ- আলজেরিয়ার কাছে পরাজিত পশ্চিম জার্মানি

আগের বারের ইউরো কাপ জয়ীদের মুখোমুখি হয়েছিল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা আফ্রিকার এই দলটি। কিন্তু স্নায়ুচাপের কোনো লক্ষণই দেখায়নি আলজেরিয়া। হয়তো আফ্রিকার দলটিকে হালকা ভাবেই নিয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। তাই আলজেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। তবে এই বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল জার্মানি। সেখানে ৩-১ গোলে ইতালির কাছে হেরে যায় তারা।

৭) ১৯৭৮ বিশ্বকাপ- স্কটল্যান্ডের কাছে হারল হল্যান্ড

হল্যান্ডের কার্যত স্বর্ণযুগ চলছিল বলা যায়। মনে করা হচ্ছিল স্কটল্যান্ডকে হাতের কাছে পেয়ে ছিনিমিনি খেলবে তারা। কিন্তু সেটা তো হলই না। উলটে হল্যান্ডে ডিফেন্স ভেদ করে তিন গোল করে স্কটল্যান্ড। জবাবে মাত্র দু’টি গোল করে হল্যান্ড।

৮) ১৯৬৬ বিশ্বকাপ- ইতালিকে হারাল উত্তর কোরিয়া

এই বিশ্বকাপে একটা পয়েন্টও পাওয়ার আশা করেনি উত্তর কোরিয়া। তবুও তারা অঘটন ঘটাল। ইতালিকে হারিয়ে দিল ১-০ গোলে। পরের ম্যাচেও পর্তুগালের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। তবে তার পর ইউসেবিওর দাপটে ৫-৩-এ হেরে যায় তারা।

৯) ১৯৫৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল- পশ্চিম জার্মানির কাছে হারল হাঙ্গেরি

অনেকের মনে হবে এটা আর কী এমন অঘটন! এটা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যখন হাঙ্গেরির ওই বিশ্বকাপের ফর্মের ব্যাপারে জানা যাবে তখন বোঝা যাবে ওটা অঘটন ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ম্যাচের আগে গ্রুপ ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকেও ৮-০ গোলে হারিয়েছিল হাঙ্গেরি। সেই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৯-০ এবং ব্রাজিল এবং উরুগুয়েকে যথাক্রমে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল হাঙ্গেরি।

১০) ১৯৫০ বিশ্বকাপ- হারল ইংল্যান্ড, জিতল যুক্তরাষ্ট্র

ফুটবলে তখন বিশেষ মনোনিবেশ করত না যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ২৩ জয়, ৩ ড্র এবং মাত্র চারটে হারের রেকর্ড ছিল ইংল্যান্ডের। সেই ইংল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১-০ গোলে হারিয়ে দেওয়া অঘটন বই কী!

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
দেশ35 mins ago

সাড়ে আট কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৭,১০০ কোটি টাকা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

দেশ4 hours ago

করোনাভাইরাস: ২১ লক্ষ ছাড়াল আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ল সুস্থতার হার

দেশ4 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৬৪৩৯৯, সুস্থ ৫৩৮৭৯

দেশ5 hours ago

অন্ধ্রপ্রদেশের কোভিড কেয়ার সেন্টারে আগুন, মৃত কমপক্ষে ৭ রোগী

বিনোদন5 hours ago

মহামারির আবহে নতুন রূপে এল ‘একলা চলো রে’

বিনোদন6 hours ago

হাসপাতালে ভরতি সঞ্জয় দত্ত, তবে করোনা নেগেটিভ

রাজ্য6 hours ago

বেসরকারি হাসপাতালে ভরতির সময় অগ্রিমের পরিমাণ বেঁধে দিল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন

দেশ13 hours ago

বাংলাদেশের উন্নয়ন মানেই ভারতের উন্নয়ন, বললেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন

দেশ4 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৬৪৩৯৯, সুস্থ ৫৩৮৭৯

দেশ1 day ago

বিমান দুর্ঘটনা লাইভ: উদ্ধার ব্ল্যাক বক্স, উদ্ধারকারীদের কোয়ারান্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ শৈলজার

দেশ2 days ago

১ সেপ্টেম্বর থেকেই স্কুলের ঘণ্টা বাজানোর কেন্দ্রীয় প্রস্তুতি

গাড়ি ও বাইক3 days ago

চলতি মাসে যে ৫টি নতুন মোটর বাইক বাজারে আসছে

কলকাতা1 day ago

ঢাকায় পথদুর্ঘটনায় নিহত পর্বতারোহী, শোকস্তব্ধ কলকাতার পাহাড়প্রেমীরা

প্রযুক্তি3 days ago

হ্যাকার এবং সাইবার অপরাধীরা করোনার সুযোগ নিচ্ছে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

রাজ্য3 days ago

রাজ্যে প্রথম বার এক দিনে ২৫ হাজার টেস্ট, আক্রান্তের সংখ্যায় রেকর্ড হলেও সুস্থতার হারে স্বস্তি

বিজ্ঞান3 days ago

করোনা রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্লাজমা থেরাপির কোনো ভূমিকা নেই, বলেছে এইমসের অন্তর্বর্তী বিশ্লেষণ

রবিবারের খবর অনলাইন

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 days ago

ঘর ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম কিনতে চান? অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্ক : অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ঘর আর রান্না ঘরের একাধিক সামগ্রিতে প্রচুর ছাড়। এই সেলে পাওয়া যাচ্ছে ওয়াটার...

কেনাকাটা3 days ago

এই ১০টির মধ্যে আপনার প্রয়োজনীয় প্রোডাক্টটি প্রাইম ডে সেলে কিনতে পারেন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : চলছে অ্যামাজনের প্রাইমডে সেল। প্রচুর সামগ্রীর ওপর রয়েছে অনেক ছাড়। ৬ ও ৭  তারিখ চলবে এই সেল।...

কেনাকাটা4 days ago

শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল, জেনে নিন কোন জিনিসে কত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্: শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল। চলবে ২ দিন। চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখ থাকছে এই অফার।...

things things
কেনাকাটা1 week ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা2 weeks ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা2 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা3 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা3 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

laptop laptop
কেনাকাটা4 weeks ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

নজরে

Click To Expand