Connect with us

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের সংগীতজ্ঞান / পর্ব ১

Published

on

তপন মল্লিক চৌধুরী

গভীর রাত্রে জগৎসিংহের সঙ্গে গোপন সাক্ষাতে গড় মান্দারণ থেকে শৈলেশ্বর মন্দিরে চলেছেন বিমলা, সঙ্গে গজপতি বিদ্যাদিগ্‌গজ। রূপসী বিমলাকে ওই রাত্রে মুগ্ধ করতে বিগলিত দিগ্‌গজ গান গাইতে শুরু করে, ‘সই, কি ক্ষণে দেখিলাম শ্যামে কদম্বেরি ডালে।/সেই দিন পুড়িল কপাল মোর-/কালি দিলাম কুলে’। এই গানের সূত্র ধরে সংগীতনিপুণা বিমলা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গান গেয়ে উঠলে বিদ্যাদিগ্‌গজের আর গান গাওয়া হয় না, কারণ সে ‘বীণাশব্দবৎ মধুর সঙ্গীতধ্বনি’ শুনে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ে। গান শেষ হলে সে বিমলাকে একটি বাংলা গান গাওয়ার আনুরোধ করে।

নিজের প্রথম উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’র প্রথম খণ্ড পঞ্চদশ পরিচ্ছেদে বঙ্কিমচন্দ্র সংগীতের এমনই এক সুন্দর আবহ রচনা করেছিলেন। সে কালে প্রচলিত কায়স্থ কমলাকান্তের রূপ-অভিসারের পদ ‘কি ক্ষণে শ্যামাচাঁদের রূপ নয়নে লাগিল’ অথবা বেলডাঙার রূপচাঁদ অধিকারীর ঢপকীর্তন ‘কি রূপ দেখিনু কদম্বমূলে/কলিন্দ নন্দিনীর কূলে’ ইত্যাদি বাংলা গানের আদলে বঙ্কিম যে গীতিকাব্য রচনা করেছিলেন তা গজপতি বিদ্যাদিগ্‌গজের পক্ষে যেমন খুবই মানানসই ছিল তেমনই বঙ্কিমের সংগীতপ্রীতি-সহ তাঁর গান রচনার দক্ষতাও স্পষ্ট হয়। অন্য দিকে বিমলার গান শেষ হওয়ার পর গজপতি বিদ্যাদিগ্‌গজ যখন ‘একটি বাংলা গাও’ বলে অনুরোধ করে তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে বিমলা শুদ্ধ কোনো হিন্দুস্তানি রাগসংগীত গেয়েছিলেন। বিমলা যে শাস্ত্রীয়সংগীত জানতেন সে কথা আমরা জানতে পারি ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড সপ্তম পরিচ্ছেদে। সেখানে বিমলা জগৎসিংহকে তাঁর লেখা একটি চিঠিতে জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন মানসিংহের মহিষী, জগৎসিংহের বিমাতা ঊর্মিলা দেবীর সহচারিণী দাসী, যিনি বিমলাকে দাসী নয় সহোদরা বোনের মর্যাদা দিতেন। বিমলাকে নানা বিদ্যায় শিক্ষিত করেছিলেন এবং তাঁরই ইচ্ছায় বিমলা নাচ ও গানের তালিম নিয়েছিলেন। বিমলার গানে মুগ্ধ হয়েছিলেন নবাব কতলু খাঁ। মৃত্যুর আগে বিমলার গান শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, ‘এ কি মানুষের গান, না সুররমণী গায়?’

Loading videos...

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: চলছে নির্বিচার বৃক্ষনিধন, মানুষ হচ্ছে প্রকৃতি-বিচ্ছিন্ন

গীতিকার হিসাবে বঙ্কিমের সম্যক পরিচয় মেলে ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসে। এই উপন্যাসে মোট বারোটি গান আছে, এর মধ্যে মাত্র দু’টি গান উপন্যাসের নায়িকা ‘মৃণালিনী’-র গলায় আর বাকি দশখানি গান গেয়েছেন গিরিজায়া। এই গিরিজায়া ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসে প্রথম আবির্ভূত হন প্রথম খণ্ড তৃতীয় পরিচ্ছেদে। গিরিজায়া আসলে ভিখারিনি বেশে দূতী। গিরিজায়া প্রথম গান গায়; এক দিকে কানু ও রাই, অন্য দিকে হেমচন্দ্র ও মৃণালিনী। গিরিজায়া গেয়ে চলে, ‘মথুরাবাসিনি, মধুরহাসিনি, শ্যামবিলাসিনি-রে।/কহ লো নাগরি, গেহ পরিহারি, কাঁহে বিবাসিনি-রে’। গিরিজায়ার কণ্ঠে এই গান শুনে মৃণালিনীর এতই ভালো লাগে যে সে দ্বিতীয় বার গিরিজায়াকে গানটি গাওয়ার অনুরোধ করে। দ্বিতীয় বার গান শেষ হলে মৃণালিনী গিরিজায়াকে জিজ্ঞাসা করে, “তুমি গীত সকল কোথায় পাও?” গিরিজায়া জানায়, “যেখানে যা পাই তাই শিখি”।

গিরিজায়া মারফত বঙ্কিম আমাদের ফের জানিয়ে দেন যে হাটে-মাঠে-বাটে গান গেয়ে ফেরা বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীরা চিরকালই বাংলার সেরা গান সংগ্রাহক। লক্ষণীয় এই গানের ভাষা ব্রজবুলি ভাষায় এই গানের রচয়িতা বঙ্কিম, ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসে তিনি ওই ভাষায় কেবল একটি নয় আরও বেশ কয়েকটি গান লিখেছেন। প্রসঙ্গত বঙ্কিমের ‘মৃণালিনী’ যখন প্রকাশিত হয় তখন রবীন্দ্রনাথ আট বছরের বালক। তার মানে ভানুসিংহ নন, বঙ্কিমই ব্রজবুলি ভাষাকে বাংলা সাহিত্যে নতুন ভাবে ব্যবহার করার অগ্রপথিক। গানটির ফুটনোটে আছে ‘এই গীত ঢিমে তেতালা তাল যোগে জয়জয়ন্তী রাগিণীতে গেয়’।

‘মৃণালিনী’ উপন্যাসে একের পর এক গান এসেছে নানা অনুষঙ্গে। ‘যমুনার জলে মোর, কি নিধি মিলিল।/ঝাঁপ দিয়া পশি জলে, যতনে তুলিয়া গলে,/পরেছিনু কুতুহলে, যে রতনে’। গিরিজায়ার কণ্ঠে এ গানে হেমচন্দ্র ও মৃণালিনীর পরিচয়, অনুরাগ ও শেষে আকস্মিক বিচ্ছেদের কথাই যেন ফুটে উঠছে। ব্রজবুলি ভাষায় রচিত আরেকখানি গান, ‘ঘাট বাট তট মাঠ ফিরি ফিরনু বহু দেশ।/কাঁহা মেরে কান্ত বরণ, কাঁহা রাজবেশ’। ব্রজবুলি ভাষায় রচিত গিরিজায়ার গাওয়া এই গানও যে  মৃণাল-হারা হেমচন্দ্রের উদভ্রান্ত দশার কথা বলেছে সেটা বুঝতে অসুবিধে হয় না।

কেবল ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি ঢঙে রাগাশ্রয়ী গান তো নয়, বাংলার নিজস্ব ধ্রুপদী গানের অন্য ধারারও দেখা মেলে উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ডের তৃতীয় পরিচ্ছেদে। যখন গিরিজায়া ও মৃণালিনী একটি ছোটো নৌকায় চড়ে নদীতে ভেসে চলেছে, তখন তাদের কথোপকথনের মধ্যে যে গানের কলিগুলি বিনিময় হয় তা তো আসলে একটি কীর্তনের আসর। এই পরিচ্ছেদের প্রথম গান, ‘চরণতলে দিনু হে শ্যাম পরাণ রতন/দিব না তোমারে নাথ মিছার যৌবন’। দ্বিতীয় গান, ‘সাধের তরণী আমার কে দিল তরঙ্গে।/কে আছে কান্ডারি হেন কা যাইবে সঙ্গে’।

সংগীতপ্রেমী বঙ্কিম বাংলার নিজস্ব ধ্রুপদী সংগীত কীর্তনের প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। সেই আগ্রহ থেকে তিনি সংগ্রহ করতেন বৈষ্ণব গীতিপদ, তাঁর নিজস্ব সংগ্রহে ছিল বহু কীর্তন গান। ‘ক্যালকাটা রিভিউ’ পত্রিকায় ১৮৭১ সালের ১০৪ সংখ্যায় ‘বেঙ্গলি লিটারেচার’ শীর্ষক প্রবন্ধেও তিনি  বাংলার নিজস্ব ধ্রুপদী সংগীত কীর্তন প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। বঙ্কিমের সংগীতপ্রীতি কেবল কীর্তন গানে সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি বাউল গানেরও একজন মুগ্ধ শ্রোতা ছিলেন। ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসে তাঁর নিজস্ব ভাষাশৈলীতে যেমন কীর্তনাঙ্গের গান বেঁধেছেন, পাশাপাশি ‘সাধের তরণী আমার কে দিল তরঙ্গে’র মতো যে গান রচনা করেছেন তাতে লালন বিরচিত ‘চাতক স্বভাব না হলে…’ কিংবা লালন-শিষ্য গোঁসাই গোপালের ‘না জেনে অকুল পাথারে ভাসালাম তরী’ ইত্যাদির প্রভাব লক্ষ করা যায়।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: একটি বিপর্যয় ও দেব-রথের সারথি

১৮ শতকের শেষ দিক থেকেই বাংলার উত্তর-পূর্ব প্রান্তে লালনের সহজিয়া গান ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। কর্মজীবনের শুরুতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমকে ঘুরতে হয়েছিল যশোর, খুলনার গ্রামেগঞ্জে। গানের টানে বঙ্কিমও কি সেই মাটিতে পা রেখেছিলেন, মাতোয়ারা হয়েছিলেন একতারার সহজ সুরধ্বনিতে? তাঁর সঙ্গে কি লালন ফকিরের দেখা হয়েছিল? এখনও পর্যন্ত তেমন কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি তবে বঙ্কিম যে কীর্তনের মতো বাউল গানেরও ভক্ত ছিলেন তাতে সংশয় নেই। হয়তো বঙ্কিম কীর্তনের মতো বাউল গানেরও সংগ্রাহক ছিলেন।

‘মৃণালিনী’ ছাড়াও কীর্তনের আসর বসতে দেখা যায় ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসে; সপ্তম পরিচ্ছেদে, এখানে আসর অনেক বেশি জমজমাট। ‘কথা কইতে যে পেলাম না—দাদা বলাই সঙ্গে ছিল—কথা কইতে যে’ তুলসির মালা পরা, কপালে তিলককাটা বৈরাগীর দলকে মৃদঙ্গ বাজিয়ে নগেন্দ্র দত্তের ঠাকুরবাড়িতে যেমন গাইতে দেখি, তেমনই বৈষ্ণবীদেরও রসকলি কেটে খঞ্জনীর তালে গাইতে দেখা যায় ‘মধো কানের’ বা ‘গোবিন্দ অধিকারীর’ গীত। এর পর নবম পরিচ্ছেদে শোরগোল তুলে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে আবির্ভুত হয় হরিদাসী বোষ্টমী। হরিদাসী ভেকধারী, জাল বোষ্টমী, আসলে দেবেন্দ্র দত্ত, নগেন্দ্রর অন্তঃপুরে প্রবেশের জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। গিরিজায়ার মতো সে নয়, কিন্তু তার ঝুলিতে বঙ্কিম ভরে রাখেন আঠারো শতকের শেষপাদ ও উনিশ শতকের বাংলা গানের নমুনা। এক এক করে হরিদাসী পেশ করে সেই সব গান। কুন্দনন্দিনীর উদ্দেশে হরিদাসী প্রথমে কীর্তন, ‘শ্রীমুখপঙ্কজ—দেখবো বলে হে,/ তাই এসেছিলাম এ গোকুলে।/আমায় স্থান দিও রাই চরণতলে’। এর পর ঢপ, ‘আয়রে চাঁদের কণা/তোরে খেতে দিব ফুলের মধু, পরতে দিব সোনা’। এর পর দেবেন্দ্র বা হরিদাসী আরো প্রগলভ হয়ে ওঠে, ‘কাঁটাবনে তুলতে গেলাম কলঙ্কের ফুল,/গো সখি কাল কলঙ্কেরি ফুল’। জাল বোষ্টমী চরিত্র বোঝাতে বঙ্কিম উচ্চাঙ্গের কীর্তন যেমন রেখেছেন তেমনই হাজির করেছেন বাগানবাড়ির গান, গোপাল উড়ের টপ্পার ধাঁচে লঘু গান ইত্যাদি। (চলবে)

প্রবন্ধ

রবিবারের পড়া: ‘কাকে বলে ভালো থাকা?’ এমন প্রশ্ন তিনিই তুলতে পারেন

Published

on

ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া।

পাপিয়া মিত্র

এক কবি যেতে চেয়েছিলেন কীর্তনখোলা নদীর তীরে। আর এক কবি যেতে চেয়েছিলেন সান্ধ‍্যনদীর ধারে। জীবনের প্রান্ত সময়ে। কিন্তু দুঃসময় বলে কয়ে আসে না। তাই তাঁদের শেষ ইচ্ছে পূরণ হয়নি সেই অর্থে। গিয়েছিলেন শেষ ইচ্ছের আরও বছর দুই আগে। দুই কবিই বরিশালের ভূমিপুত্র।

Loading videos...

কবি অরবিন্দ গুহর স্মরণসভায় গভীর নিবিড় আর অত‍্যন্ত কাছ থেকে শঙ্খবাবুকে দেখা আমার। দু’জনেই আপাত আটপৌরে পোশাকে অথচ প্রবল ভাবে ব‍্যক্তিত্বময় দুই পুরুষ।

সামান্য গুঞ্জন, তিনি আসছেন। সবাই উঠে দাঁড়ালেন। ধীর পায়ে এলেন, বসলেন। বছর তিনেক আগের সময়। কলেজ স্ট্রিটের কফিহাউস। বহু ভালোবাসার মানুষের উপস্থিতি। তারই মাঝে শ্বেতশুভ্র পোশাকে শঙ্খবাবু। খানিক তফাতে বাকি সকলে। এক সময়ে আমার কিছু বলার পালা এল।

বলতে উঠে প্রথম কথা অরবিন্দ গুহ (ইন্দ্রমিত্র) ছিলেন আমার কাছে মেসোমশাই। প্রথম সারিতে বসা ধুতির পা একটু জমিয়ে বসল। নিজের মতো করে বলায় স্বাভাবিক ভাবেই খানিক থামা। বহু স্মৃতির জট মাথায়। বলতে বলতে সামনে তাকাতেই সেই মানুষটির স্থির দৃষ্টি যেন মনে হল আমার না-বলা কথামালা দ্রুত সব পড়ে ফেলছেন। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে। খুব কাছ থেকে দেখা এই আমার শঙ্খবাবুকে। তা-ও মাত্র বছর তিনেক আগে।

বহু বার দেখেছি দূর থেকে, পর্দায়, মঞ্চে। দেখেছি বেশি, শুনেছি কম। আসলে বড়ো কম কথার মানুষ ছিলেন কিনা। এখানেই তিনি মাস্টারমশাই, অন্তত আমার কাছে।  শিখতে পারিনি কী করে কম কথা বলে কলমে গর্জে ওঠা যায়। কোনো দিন যেতে পারিনি বইপাহাড়ে ঘিরে থাকা ফসলঘরে। মনে হয়েছে অসম্ভব গাম্ভীর্যপূর্ণ শান্ত মানুষটিকে ফোন করব? ভয়ে, সত্যি সেই ভয় আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে আজীবন। যদি উনি সম্মত হন তা হলে আমি কী ভাবে সামনে দাঁড়াব? আমার কটা কবিতার লাইন নিয়ে? আমার প্রায় কিছুই করতে-না-পারা জীবনের জন্য উনি মূল্যবান সময় ব‍্যয় করবেন? গিয়ে যদি দেখি একঘর ছেলেমেয়ে! আর উনি বলছেন, “তোমরা এসেছ তাই তোমাদের বলি/এখনো সময় হয়নি।/একবার এ মুখে একবার অন‍্য মুখে তাকাবার এই সব প্রহসন/আমার ভালো লাগে না।”

কিন্তু করেছেন, বহু মানুষের পাশে থেকে স্নেহের কলম উপহার দিয়েছেন। তাই তিনি স‍্যার, মাস্টারমশাই। কাছে না যেতে পারলেও আপনি আমার কাছে মাস্টারমশাই শঙ্খবাবু। মনে হয়েছে এক জন শিক্ষকই বলতে পারেন এমন কথা। দিতে পারেন এমন উপদেশ – “অন্ত নিয়ে এতটা ভেবো না।/মৃত্যুপথে যেতে দাও/মানুষের মতো মর্যাদায়– শুধু/তোমরা সকলে ভালো থেকো।/কিন্তু কাকে বলে ভালো থাকা? জানো?” এমন বাস্তব প্রশ্ন তিনিই তুলতে পারেন, কারণ তিনি এই সমাজের মাস্টারমশাই। এই অশান্ত সময়ে তিনি চেতনায় নাড়া দিয়ে গেছেন। “কাকে বলে ভালো থাকা?” এই ভালো থাকার বীজমন্ত্র তিনি তো তাঁর ভাবীকালকেই দিয়ে গেছেন, যাঁরা তাঁর সান্নিধ‍্য পেয়েছেন গভীর ভাবে, নিবিড় ভাবে।

আরও পড়ুন: নিঃশব্দেই, তিনি তর্জনী উঠিয়ে থাকবেন

স্বভাবসিদ্ধ মন্দ্রতারে বাঁধা মাস্টারমশাইয়ের কাঠামো ঠিক সাধারণের বৃত্তে ধরা পড়ত না। যেমনটি এই কলমচির পড়েনি। তাই দূর থেকে তাঁর বিভার ওম নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই দুর্যোগের সময় ৪০ ও ৫০-এর দশকের কৃষ্টির অভিভাবকেরা জায়গা ফাঁকা করে দিচ্ছেন। সময়ের ডাকে হাত মেলাচ্ছেন। মাস্টারমশাই আপনার প্রবাদ দিয়ে ডাক দিই “কিছুই কোথাও যদি নেই/তবুতো কজন আছি বাকি/আয় আরো হাতে হাত রেখে/আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”। আপনার শিক্ষা বহু মানুষের চলার পথের পাথেয়। প্রতিবাদী হওয়ার শিক্ষা, নানা পুরস্কারে উজ্জ্বল হয়েও কী ভাবে নিরুত্তাপ থাকা যায়, সেই শিক্ষা। তবে আপনাকে মাপার সাহস আমার নেই মাস্টারমশাই।

বাংলা ভাষার ওপর মাস্টারমশাইয়ের দখল প্রায় ক্লাসিক‍্যাল। আমাদের ভাষার নিজস্ব এক সৌন্দর্য আছে। প্রতিটি শব্দের যে আলাদা আলাদা ধার ও ভার আছে তা মাস্টারমশাইয়ের চেয়ে ভালো করে খুব কম লেখকই অনুভব করেছেন। কোনো পুরস্কারই মাস্টারমশাই আপনাকে মাটিছাড়া করেনি। মাথা আকাশ ছুঁলেও পা দু’খানি বাঁধা ছিল আটপৌরে সংসারে। “আমিই সবার চেয়ে কম বুঝি, তাই/আচম্বিতে আমার বাঁ-পাশে এসে হেসে/পিঠ ছুয়ে চলে যাও;/অত কি সহজ? বলো তুমি।”

ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া।

আপাতগম্ভীর মানুষটির আড্ডা ছিল না? এক জায়গায় নবনীতা দেবসেন লিখছেন, সারা বিকেল সারা সন্ধে আড্ডা দেওয়ার সুন্দর বন্ধুরা ছিলেন সুবীর, প্রণবেন্দু, অমিয়, স্বপন, সৌরীন, মানব, শঙ্খদা, চিত্তবাবু, পিনাকেশ, অশোক, পরে এলেন পবিত্র। যাদবপুরের ঝিলের ধারে, ফ‍্যাকালটি ক্লাবের টেবিল ঘিরে চা অমলেট টোস্টের আড্ডা। কত কিছু জানা ও শেখা ওই চায়ের আসর থেকে। সেই আড্ডার রংরসের তুলনা হয় না। সকলেই কিছু না কিছু লিখছেন। যে যার কাজ নিয়ে কথা হয়। একে অন‍্যের কাছে উপকৃত হয়। তখন কলকাতা দূরদর্শন নবজাতক। শঙ্খদা আর স্বপন পঙ্কজকে সাহিত্যসম্পর্কিত অনুষ্ঠানের নানা আলোচনায় সাহায্য করতে যেতেন। সুবীর, সৌরীনের ভারতকোষ, অশোকের সমার্থক বাংলা অভিধান, প্রণবেন্দুর অলিন্দ, কৃত্তিবাস চলছে রমরমিয়ে, নিত‍্যনতুন নাটক তৈরি হচ্ছে শহর কলকাতায়। বাংলাদেশ থেকে নাটকের দল আসছে। শম্ভু মিত্র এসে শুনিয়ে যাচ্ছেন চাঁদ বণিকের পালা। মাঝে মাঝে শঙ্খদা সমেত যাদবপুর থেকে দল বেঁধে নাটক দেখতে যাচ্ছি। তখন চারদিকের বাতাসে নবীন সৃষ্টির উত্তেজক মুহূর্ত ভেসে বেড়াচ্ছে। এরই মধ‍্যে নিত্য নতুন বই বেরিয়ে যাচ্ছে শঙ্খবাবুর।

সময় ১৯৫১। সংকটে বার বার উদ্ধত হয়েছে কলম। কোচবিহারের ভুখা মিছিলে অসহায় মানুষের ওপরে চলেছিল পুলিশের গুলি। কবিতা বসু (২৫), বন্দনা তালুকদার (১৬), বাদল বিশ্বাস (২০), সতীশ দেবনাথ (১৫) আর বকুল তালুকদারের (৭) দেহ রাস্তায় লুটিয়ে পড়ল। কবির সৃষ্টি ‘যমুনাবতী’ এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল, “আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি বাঁচার আনন্দে।”

জরুরি অবস্থার প্রতিবাদ কেমন ছিল? “ভোর এল ভয় নিয়ে, সেই স্বপ্ন ভুলিনি এখনো/স্থির অমাবস‍্যা, আমি শিয়রে দাঁড়িয়ে আছি দিগন্তের ধারে/দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে /আমার শরীর যেন আকাশের মূর্ধা ছুঁয়ে আছে।” অথবা “পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, রক্তে জল ছল ছল করে/নৌকার গলুই ভেঙে উঠে আসে কৃষ্ণা প্রতিপদ/জলজ গুল্মের ভারে ভরে আছে সমস্ত শরীর/আমার অতীত নেই, ভবিষ্যৎও নেই কোনোখানে।”

কবিতা সংগ্রহ/দে’জ পাবলিশিং/প্রথম প্রকাশ পৌষ ১৩৬৭/প্রচ্ছদ পূর্ণেন্দু পত্রী/দাম কুড়ি টাকা। কবির প্রয়াণের দিনই সোশ্যাল মিডিয়া মারফত এসে পড়ে পিডিএফ। কোনো এক শুভাকাঙ্ক্ষী পাঠিয়েছেন। ঈশ্বর জানেন আমি কম জানি, পড়ি তার থেকেও কম। ইচ্ছার প্রাধান‍্যে এসে পড়ে কিছু কিছু হাতে। ঠিক এই ভাবে “লাইনেই ছিলাম বাবা” পেয়ে গিয়েছিলাম অফিসে কাজ করতে করতে। কটা বাক‍্যে এই বিশাল ব‍্যাপ্তিময় কবিকে কী ভাবে ধরব? রবীন্দ্রচর্চায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিলেন মাস্টারমশাই। অনুবাদের কাজেও তাঁর কলম চলেছে সমান গতিতে। বিশ্বের কবিতা থেকে চয়ন করে কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তর সঙ্গে জুটি বেঁধে সম্পাদনা করলেন ‘সপ্তসিন্ধু দশদিগন্ত’। সাহিত্যের প্রতি তাঁর সত‍্যানুরক্তি ও সদাশয়তা ছিল অপার। শক্তি চট্টোপাধায়কে নিয়ে একটি অবিশ্বাস্য প্রবন্ধ লেখেন ‘এই শহরের রাখাল’। বাংলা সাহিত্যজগতে প্রায় সমবয়সি প্রতিদ্বন্দ্বী কবির ভূয়সী প্রশংসা করতে কুণ্ঠিত হননি কখনও।

কিন্তু এ বড়ো যন্ত্রণাময় পরিস্থিতি। কে বাঁচি, কে থাকি এটুকু নিয়ে যাপনের শ্বাস ফেলা। এখন “যেদিকেই যাও শুধু প্রাচীনের ভস্ম ঝরে পড়ে/মাথার উপরে/বন্ধ হয়ে আসে সব চোখ/ভুলে গেছি কে দেয় কে দিতে পারে/কেইবা প্রাপক/এই মহা ক্রান্তিকালে।” তবু জানি আমার এক কোল আছে, আছে এক আশ্রয়। আছেন আমার মাস্টারমশাই। কবি জয় গোস্বামীর কলম দিয়ে এই আশ্রয়টুকু প্রাপ্তি হয়ে থাক – “আমি আছি তোমার আশ্রয়ে/এই দিন পুড়ে যাওয়া দিন/এ জীবন, ঝলসানো জীবন/এসে বসি তোমার আশ্রয়ে/তুমি দাও ক্ষতের ওষধি/দাও শ্বাসবায়ু। (কবি শঙ্খ ঘোষকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা ‘আশ্রয়’ কবিতার অংশবিশেষ)  

আরও পড়ুন: শঙ্খ ঘোষ নেই, তাঁর ধুম লেগেছে হৃৎকমলে

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: দেশে দেশে যত বিচিত্র ভোট

Published

on

গাম্বিয়ার ভোট।

তপন মল্লিক চৌধুরী

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কিছু কিছু দেশে এমন বিচিত্র পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয় যা রীতিমতো অবাক করে। যেমন আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। গাম্বিয়ায় ভোট দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি পুরোপুরি আলাদা। সেখানে ইভিএম নেই, ব্যালট আছে। কিন্তু ব্যালট হিসেবে কাগজের বদলে ব্যবহৃত হয় পাথর। অর্থাৎ সিল মারার কোনো ব্যাপার নেই। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটবাক্স বা ইভিএম-এর বদলে থাকে কয়েকটা করে ড্রাম। নির্বাচনে যোগ দেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য বরাদ্দ করা হয় নির্দিষ্ট রঙের ড্রাম। তার পরে সেই ড্রামে সেঁটে দেওয়া হয় প্রার্থীর ছবি। ভোটাররা বুঝতে পারে ভোটটা সে কাকে দিচ্ছে। ভোটারের কাজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একটা পাথর তুলে তার পছন্দের প্রার্থীর ছবিওলা ড্রামে ফেলে দেওয়া। একটার বেশি পাথর বা ভোট যাতে না দিতে না পারে তার জন্যও আছে ব্যবস্থা। ড্রামের ভিতর একটা ঘণ্টা এমন ভাবে থাকে যে প্রত্যেকটা পাথর ভিতরে পড়ার সময় একবার করে বেজে ওঠে। বাইরে থাকা পোলিং এজেন্টরা বেল বাজার শব্দ একটার বেশি হল কিনা সে দিকে খেয়াল রাখে।

Loading videos...

ভোট শেষে গণনা। এক একটি ড্রাম থেকে পাথর ঢালা হয় ২০০ বা ৫০০ ঘরের এক একটি কাঠের ফ্রেমে। সেইগুলি যোগ করে হিসাব করা হয় কোন কেন্দ্রে কতগুলো ভোট পেল এক একজন প্রার্থী। গাম্বিয়ার মানুষের নিরক্ষরতার কারণে ভোটের জন্য এ রকম বিচিত্র পদ্ধতি। প্রথম যখন গাম্বিয়ায় ভোটের ব্যবস্থা চালু হয় তখন মনে করা হয়েছিল প্রচলিত ব্যালট পেপার, প্রতীক, সিলের ভোটব্যবস্থা চালু করতে গেলে অধিকাংশ মানুষ বুঝবে না যে সে কাকে কী ভাবে ভোট দিচ্ছে। তবে দেশে শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাবে ভোট নেওয়ার প্রয়োজনও ধীরে ধীরে কমে আসছে বলে গাম্বিয়া সরকারও চাইছে আস্তে আস্তে অন্যান্য দেশের মতোই ভোটগ্রহণ পদ্ধতি চালু করতে।

কিছু আশ্চর্য ঘটনা

এ বার সব থেকে আশ্চর্যের নির্বাচিত প্রার্থীর কথা। ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরের সিটি কাউন্সিলে ১৯৫৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিল একটা গণ্ডার। কী ভাবে ঘটল এমন অকল্পনীয় ঘটনা? সেই সময় শহর সাও পাওলোর নাগরিকরা রাজনীতির মানুষদের দুর্নীতিতে এতটাই বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় কাকারেকো নামের একটা গণ্ডারকে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক ভাবেই ভোট-প্রার্থী হিসাবে একটি গণ্ডারের মনোনয়ন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। পরে অবশ্য মানুষের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়। কিন্তু তার থেকেও আশ্চর্যের ঘটনা হল যখন ভোটের ফলাফল বের হল তখন দেখা গেল কাকারেকো পেয়েছে এক লক্ষেরও বেশি ভোট। শুধু তা-ই নয়, এত ভোট অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর ভাগ্যে জোটেনি। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ভোটগুলি নষ্ট হয়েছে, কারণ ব্রাজিলের আইন অনুসারে কাউন্সিলের সদস্য হতে হলে অবশ্যই কোনো একটা দল থেকে মনোনয়ন পেতে হয়।

এ বার আরেকটি আশ্চর্য ঘটনার কথা। এটা আগের চেয়েও অদ্ভুত মনে হতে পারে। ১৯৬৭ সালে ইকুয়েডোরের পিকোয়াজা নামের একটা শহরে মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিল পালভাপাইস নামের একটি ফুড পাউডার। নির্বাচনের বাজারে পাউডারের বিজ্ঞাপন করতে ওই ফুড পাউডার কোম্পানি বেশ কিছু চটকদার লাইন বের করেছিল, যার মধ্যে একটা ছিল: Vote for any candidate, but if you want well-being and hygiene, vote for Pulvapies। কিন্তু ভোটের ফলাফল যখন প্রকাশিত হল দেখা গেল বিজ্ঞাপনের ওই লাইনটাকে শহরের মানুষ এত বেশি করে নিয়েছে যে রাইট-ইন ভোটে জিতে শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছে পালভাপাইস! যদিও সেই দায়িত্ব সেই কোম্পানি আদৌ নিয়েছিল কি না সেই তথ্য আজ আর জানার উপায় নেই।

উত্তর কোরিয়ায় ভোট?

কিম জং উনের দেশ উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল একটি ব্যালট নির্ধারণ করে। সেই ব্যালটে থাকে একটি মাত্র নাম। সেখানে বিকল্প প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো সুযোগ রাখা হয় না। কিন্তু সেই দেশেও নির্বাচন হয়। কিম জং উনের একচ্ছত্র আধিপত্য যেখানে ধার্য সেখানে আবার ভোট কী ভাবে সম্ভব?

হ্যাঁ,  সম্ভব। তবে পদ্ধতিটি ভিন্ন। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মতো কখনোই নয়। উত্তর কোরিয়ার এই নির্বাচনকে ভোট ভোট খেলা বলা যেতে পারে। প্রতি পাঁচ বছরে সেখানে একটি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সালে সেখানে ভোটে যোগ দেয় ৯৯.৭ শতাংশ ভোটার। কিন্তু হাস্যকর হলেও এটা ঘটনা যে, ভোটারদের পছন্দসই প্রার্থী বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। ভোটাররা শুধু সেই ব্যালটের নির্দিষ্ট ঘরে প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে।

পাশে আলাদা একটি বাক্স রাখা ছিল। সেখানে ভোটাররা সরকারের বিপক্ষে অর্থাৎ শাসক প্রত্যাখ্যানের মত দিতে পেরেছিল। কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়নি। অন্য দিকে যে বাক্সে রাষ্ট্রপ্রধানের নাম লেখা ব্যালট ফেলা হয়েছিল সেটিই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এতে নির্বাচিত প্রার্থী শতভাগ ভোট পেয়েছেন বলে প্রচার করা হয়। এর অর্থ হল কেউই এখানে শাসককে প্রত্যাখ্যান করেনি। খেলা হলেও এমন ভোট প্রতি পাঁচ বছর অন্তর হয়েছিল।

ভোটের দিন, ভোটের বয়স এবং আরও তথ্য

রবিবার দিনটি সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ভোট দেওয়ার জন্য আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ এই দিনটিকেই উপযুক্ত মনে করে। কানাডার নাগরিকরা সোমবার, ব্রিটেন বৃহস্পতিবার এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড শনিবার বেছে নিয়েছে। আমেরিকায় মঙ্গলবার ভোট হওয়ার নিয়মটি আইন দ্বারা সিদ্ধ ছিল না কখনও। অথচ উনিশ শতক থেকে তারা মঙ্গলবারই ভোট দিয়ে আসছে।

অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের প্রতিটি নাগরিককে ভোটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। আর এই আইন সবার জন্য বাধ্যতামূলক। শুধু তা-ই নয়, ভোটারদের ফেডারেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাও বাধ্যতামূলক। যদি কোনো কারণে কোনো ভোটার উপস্থিত থাকতে না পারে তবে তাকে মোটা অংকের জরিমানা গুনতে হয়। সেই জরিমানা হতে পারে ১৫ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত।

প্রাপ্তবয়স্করাই সাধারণত দেশের ভোটার হয়ে থাকেন। কিন্তু ব্রাজিল চলে উলটো পথে। সেখানে ১৯৮৮ সাল থেকে কিশোররাও ভোটদানের অধিকার অর্জন করেছে। তাদের বিবেচনায়, দেশের জনগণের বেশির ভাগ যখন জাতীয় নির্বাচনে নিজের মতামত প্রদানের সুযোগ পায় তখন সে দেশে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। আর এই কারণেই ব্রাজিল নিজের দেশের ১৬ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের ভোটাধিকার দিয়েছে। শুধু ব্রাজিল নয়,  নিকারাগুয়া ও আর্জেন্তিনাও একই নিয়ম।

আরও পড়ুন: পয়লা বৈশাখ এমন এক আনন্দ-উৎসব যার কোনো সংজ্ঞা নেই

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: বঙ্গদেশের প্রথম সমাজসংস্কারক লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরীর ৪৫০ বছর

সপ্তদশ শতাব্দীতেই সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি। তাই সে কারণেই সাবর্ণ কুলসূর্য রায় লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় মজুমদার চৌধুরী বঙ্গদেশের প্রথম সমাজসংস্কারক।

Published

on

সাবর্ণদের আটচালা, বড়িশা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

ঋষি সাবর্ণির নামানুসারেই পরিচয় সাবর্ণ গোত্র বা গোষ্ঠীর। এই গোষ্ঠীর আদি বাসস্থান ছিল কাহ্নকুব্জ, যা এখন কনৌজ নামে পরিচিত। 

Loading videos...

গৌড়ের রাজা আদিশূর যে ব্রাহ্মণ পঞ্চককে কাহ্নকুব্জ থেকে এনেছিলেন তাঁরা রাঢ়ীয় ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত। এঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শ্রী বেদগর্ভ। বাকি চার জন হলেন শ্রী দক্ষ, শ্রী ভট্টনারায়ণ, শ্রী হর্ষ এবং শ্রী ছন্দ (ছান্দড়)। তখন বঙ্গদেশে সপ্তশতী ব্রাহ্মণদের মধ্যে যজ্ঞকার্যে পারদর্শী কেউ না থাকায় বিশেষ যজ্ঞকার্য সম্পাদনের জন্য উপযুক্ত ব্রাহ্মণ পাঠাতে রাজা আদিশূর কাহ্নকুব্জের রাজা চন্দ্রকেতুর কাছে দরবার করেন। আদিশূরের প্রার্থনা শুনে গৌড়বঙ্গে পাঁচ জন বেদজ্ঞ সাগ্নিক ব্রাহ্মণকে পাঠান চন্দ্রকেতু।

ওই পাঁচ ব্রাহ্মণের মধ্যে বেদগর্ভ ছিলেন ঋষি সাবর্ণির পৌত্র। তাঁর পিতা ছিলেন ঋষি সৌভরি। গৌড়বঙ্গে এসে বেদগর্ভ পেয়েছিলেন গৌরমণ্ডলের বটগ্রাম নামক একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম (বর্তমানে যা মালদহ জেলায় গঙ্গাতীরে বটরি বা বটোরিয়া গ্রাম)।

এই পণ্ডিত বেদগর্ভেরই অধস্তন পুরুষ লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরী হলেন সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের প্রথম জমিদার এবং পরিবারের কুলতিলক। ৯৭৭ বঙ্গাব্দের (১৫৭০ খ্রিস্টাব্দ) আশ্বিন মাসে কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার দিন জন্ম লক্ষ্মীকান্তের। লক্ষ্মীপূজার দিন ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন বলে নাম লক্ষ্মীনারায়ণ বা লক্ষ্মীকান্ত। সন্তান জন্ম দিয়েই মা পদ্মাবতীর মৃত্যু হয়। শিশুপুত্রকে কালীঘাটের প্রধান পুরোহিত আত্মারাম ঠাকুরের কাছে অর্পণ করে বাবা জীয়া গঙ্গোপাধ্যায় চলে গেলেন মণিকর্ণিকায়, হয়ে উঠলেন ভারতবিখ্যাত সাধক কামদেব ব্রক্ষ্মচারী।

কালীক্ষেত্রে জন্মগ্রহণের পর লক্ষ্মীকান্ত কালীঘাটের সেবায়েতগণের ব্যবস্থাপনায় বড়ো হতে লাগলেন এবং পাঁচ বছর বয়সে হাতেখড়ি ও তেরো বছর বয়সে তাঁর উপনয়ন সম্পন্ন হয়। মাত্র পনেরো বছরেই তিনি হয়ে উঠলেন সংস্কৃত ভাষায় সুপণ্ডিত এবং আরও বহু ভাষা তিনি আয়ত্তে আনলেন। লক্ষ্মীকান্তের পিতা ছিলেন আত্মারামের শিষ্য। পুত্র লক্ষ্মীকান্তও তাঁর থেকে দীক্ষা নিলেন এবং শক্তিপূজার নিয়ম শিখলেন।

সাবর্ণ গোত্রীয় সুসন্তান লক্ষ্মীকান্ত বঙ্গের অন্যতম জমিদার বিক্রমাদিত্যের অধীনে সপ্তগ্রাম সরকারে রাজস্ব আদায়ের কর্মচারী হন। বিক্রমাদিত্যের পুত্র প্রতাপাদিত্য (যিনি পরবর্তী কালে মহারাজা প্রতাপাদিত্য নামে পরিচিত হন এবং বাংলার বারো ভুঁইয়ার মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠেন) ছিলেন লক্ষ্মীকান্তের সমবয়সি। প্রতাপাদিত্যকে বহু কাজে সাহায্য করতে লাগলেন লক্ষ্মীকান্ত। তাঁর বুদ্ধি, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনায় প্রতাপ মুগ্ধ হতে লাগলেন।

বিক্রমাদিত্য মারা যাওয়ার পর প্রতাপাদিত্য সিংহাসনে বসলেন। তিনি লক্ষ্মীকান্তকে দেওয়ান পদে নিযুক্ত করলেন। প্রতাপের সমস্ত কাজেই সায় থাকত লক্ষ্মীকান্তের। কিন্তু নিজের খুল্লতাত বসন্ত রায়কে প্রতাপ হত্যা করায় সেই কাজ মেনে নিতে পারেননি লক্ষ্মীকান্ত। তাঁর ঔদ্ধত্যে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে কালীঘাটে ফিরে আসেন।

মহারাজা প্রতাপাদিত্যকে দমন করার পর বঙ্গের সুবেদার রাজা মান সিংহ গুরুদক্ষিণাস্বরূপ লক্ষ্মীকান্তকে দিলেন ৮টি পরগনার নিষ্কর জমিদারি (উত্তরে হালিশহর থেকে দক্ষিণে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত)। এর বার্ষিক রাজস্ব তখন ছিল ২৪৬৯৫০ তৎকালীন মুদ্রা। অর্থাৎ ১৬০৮ সালে দিল্লির বাদশাহ জাহাঙ্গিরের স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত সনদের বলে লক্ষ্মীকান্ত দক্ষিণবঙ্গের বিশাল ভূখণ্ডের জায়গির পেলেন। সঙ্গে উপাধি পেলেন ‘রায়’ ও ‘চৌধুরী’। সে দিন থেকে লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় পরিচিত হলেন রায় লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার চৌধুরী হিসাবে।

জমিদারি লাভ করার পর ১৬১০ সালে লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী ভগবতীদেবী শুরু করলেন কলকাতার প্রথম দুর্গাপূজা। লক্ষ্মীকান্তের জমিদারি ভাগীরথীর দুই তীরেই ছিল। তাঁর জমিদারিভুক্ত ছিল পূর্ব তীরে আলিপুরের অধীন গার্ডেনরিচ, খিদিরপুর, চেতলা, বেহালা-বড়িশা, কালীঘাট; ব্যারাকপুর, নিমতা, দমদম, বরানগর, আগরপাড়া, খড়দহ, বেলঘরিয়া, বারাসাত; ডায়মন্ডহারবারের অধীন মথুরাপুর, রসা, রামনগর, বাঁশতলা, লক্ষ্মীকান্তপুর এবং হালিশহরের অধীন বেশ কিছু জায়গা। আর ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে সালকিয়া, শ্রীরামপুর প্রভৃতি, মেদিনীপুর জেলার কাঁথিও ছিল তাঁর জমিদারির অন্তর্গত।

সাবর্ণদের প্রতিষ্ঠিত কালীঘাট।

কালীঘাটের কালীমন্দিরের সংস্কার করে সেখানে দেবীর পূজার্চনার নতুন ব্যবস্থাও গ্রহণ করলেন লক্ষ্মীকান্ত। কালীঘাটের মায়ের সেবার জন্য লক্ষ্মীকান্ত ৫৯৫ বিঘা ৪ কাঠা ২ ছটাক জমি দান করেছিলেন। শুধুমাত্র কালীঘাটই নয় তিনি কলিকাতা, আমাটি, গোঘাটেও মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং জমিজমা দান করেছিলেন। বলা বাহুল্য রায় লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার চৌধুরী ছিলেন সমগ্র বাংলায় ব্রাহ্মণ জমিদারগণের মধ্যে সব চেয়ে ধনশালী এবং বিচক্ষণ জমিদার। জমিদারি রক্ষা করার জন্য তিনি দক্ষ যোদ্ধাবাহিনী তৈরি করেছিলেন। এই বাহিনী প্রয়োজনে মুঘল বাহিনীকেও সাহায্য করত। তিনিই কলকাতার প্রথম সমাজসংস্কারক।  

রাজা বল্লাল সেনের সময়ে হিন্দুদের সর্বোচ্চ দু’টি সম্প্রদায়ের (ব্রাহ্মণ ও কায়স্থ) ব্যক্তিদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তি ও হৃদয়বৃত্তিসংক্রান্ত ন’টা গুণ থাকলে তাদের  কুলীন বলে গণ্য করা হত। এই ন’টা গুণ হল আচার, বিনয়, বিদ্যা, প্রতিষ্ঠা, তীর্থদর্শন, নিষ্ঠা, শান্তি, তপ ও দান। সুতরাং কুলীনপ্রথা প্রবর্তনের সূচনাকালে দেখা যায় উচ্চমানের সংস্কৃতি, পরিচ্ছন্ন ও ধর্মভাবাপন্ন জীবনযাপন, সামাজিক আচারব্যবহারে নম্রতা, সরলতা ও ঋজুতা – এই লক্ষণগুলি কুলীনের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই সব গুণ আছে কি না সে ব্যাপারে খোঁজখবর করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হিন্দু রাজসরকার কুলাচার্য নিযুক্ত করতেন।

বল্লাল সেন যে কুলীনপ্রথা প্রবর্তন করেছিলেন, তাকে ঘিরে পরবর্তী কালে সমাজে দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কুলাচার্য তথা ঘটকরা কুলীনবিচারের প্রক্রিয়াটি ক্রমশ নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে এলেন। লক্ষ্মীকান্তের সময়ে ষোড়শ শতকের শেষার্ধে দেবীবর নামে মহাবিক্রমশালী এক কুলাচার্য উৎকোচলোভী স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠলেন। তিনি ব্রাহ্মণ এবং কায়স্থদের বিভিন্ন ‘মেল’ বা সম্প্রদায়ে ভাগ করে দিলেন। এগুলির মধ্যে ‘ফুলিয়া মেল’, ‘বল্লভী মেল’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। অর্থলোভী দেবীবর বিধান দিলেন, যে পরিবার একবার কুলীন হয়েছে, সেই পরিবার কুলীন থাকবে। তিনি বললেন, তাঁরা চরিত্রহীন, মাতাল, এমনকি চোর হলেও তাঁদের কৌলীন্যচ্যুতি ঘটবে না। ফলে সমাজে বহুবিবাহ প্রথার সুত্রপাত হল। অর্থলোভে এবং কৌলীন্য বজায় রাখতে পুরুষ শতাধিক বিবাহ করতেও পিছপা হলেন না।

বংশের কৌলীন্য বজায় রাখার জন্য কন্যাদায়গ্রস্ত পিতামাতা সর্বস্ব খুইয়ে অর্থ সংগ্রহ করে কুলীন পাত্রের সঙ্গে কন্যার বিবাহ দিতে বাধ্য হতেন। আশি বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে আট বছরের বালিকার বিবাহের উদাহরণ সমাজে ভুরি ভুরি মিলতে লাগল। ফলে নারীরা সমাজে ক্রমশই লাঞ্ছিত, অত্যাচারিত ও বিড়ম্বিত হতে লাগল।

লক্ষ্মীকান্ত শুদ্ধ কুলীনের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু কৌলীন্যের নামে বদমায়েশির বিপক্ষে ছিলেন। তা ছাড়া তাঁর পিতা কামদেব ব্রহ্মচারীর মতো নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণকে কৌলীন্যচ্যুত করায় লক্ষ্মীকান্ত ইতিমধ্যেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। সমাজের দুর্নীতি এবং নারীজীবনের এই দুর্দশা তাঁকে ব্যাকুল করে তুলেছিল। ব্রাহ্মণসমাজের ধর্মীয় ও নৈতিক অধঃপতন, বিধবা রমণীদের চোখের জল, অর্থলোভী ঘটক তথা কুলাচার্যদের অত্যাচার দেখে ন্যায়পরায়ণ, রুচিশীল লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় সমাজের এই কুসংস্কার দূর করার জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে উঠলেন।

হালিশহরে সাবর্ণদের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির।

হালিশহরের কাছে কাঞ্চনপল্লি ছিল লক্ষ্মীকান্তের হাভেলি সরকারের অধীন। দেবীবরের দুর্নীতির খবর পেয়ে এই কাঞ্চনপল্লিতে তাঁর শোভাযাত্রা বন্ধ করে দিলেন লক্ষ্মীকান্ত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেদগর্ভের আরও এক উত্তরপুরুষ ঢাকা বিক্রমপুরের গাঙ্গুলি বংশের সন্তান রাঘবকে তাঁর বিবাহের সময় ‘শ্রেষ্ঠ কুলীন’ মর্যাদা দিলেন দেবীবর এবং ঘোষণা করলেন কোনো কুলীন ব্রাহ্মণ পরিবার লক্ষ্মীকান্তের চার কন্যাকে বিবাহ করবে না।

লক্ষ্মীকান্তের কাছে এই অভিশাপে বর হল। লক্ষ্মীকান্ত মূলত চেয়েছিলেন সমাজে এই কুসংস্কার বন্ধ করতে। কুলীন হওয়ার মোহ তাঁর ছিল না। লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরী তাঁর কন্যাদের বিবাহ দেওয়ার জন্য প্রচুর ভূসম্পত্তি আর নগদ অর্থ দেওয়ার কথা ঘোষণা করতেই তৎকালীন ‘ফুলিয়া মেল’, ‘খড়দহ মেল’, ‘বল্লভী মেল’ এবং ‘সর্বানন্দী মেল’ থেকে চলে এল উপযুক্ত পাত্র। এই উৎকৃষ্ট চার ‘মেল’-এর ঘরে চার কন্যার বিবাহ দিলেন লক্ষ্মীকান্ত।

তখন ঘটকদের সঙ্গে সমাজ সংস্কারক লক্ষ্মীকান্তের যুদ্ধ বেঁধে গেল। দরিদ্র কন্যাদায়গ্রস্ত পিতামাতা দু’হাত তুলে লক্ষ্মীকান্তকে আশীর্বাদ করলেন। লক্ষ্মীকান্ত তাঁর সাত পুত্রের বিবাহও সম্ভ্রান্ত উচ্চ কুলীন পরিবারেই দিলেন। লালমোহন বিদ্যানিধি বলেছেন লিখেছেন –

“লক্ষ্মীর অতুলবিত্ত রায় চৌধুরী খ্যাতি।/ কন্যাদানে কুলনাশে কুলের দুর্গতি।।/ ভাগিনেয় উপানৎ-বহ এই স্পর্দ্ধায়।/ শ্রেষ্ঠ কুলচূর্ণ করে অবহেলায়।।/ কুলীনের মাতামহ হয়ে কুলপতি।/ কুলভঙ্গেও তবু গোষ্ঠীপতির খ্যাতি।।/ যতকালে কালীঘাটে কালিকার স্থিতি।/ লক্ষ্মীনাথে কুলভঙ্গে সাবর্ণের মতি।।”

দেবীবর ও অন্যান্য অর্থলোভী ঘটকদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীকান্ত সর্বশক্তি দিয়ে সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন। অবশেষে পরাজিত দেবীবর একটা সমঝোতায় এলেন। তিনি ‘ভগ্নকুলীন’ নামক একটি সংজ্ঞা নির্ণয় করলেন। লক্ষ্মীকান্তের জামাতা বংশগুলি ‘ভগ্নকুলীন’ বলে গণ্য হলেন। এ ছাড়া রায় লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় মজুমদার চৌধুরীকে সমাজের শিরোমণি এবং গোষ্ঠীপতি বলে ঘোষণা করা হল। সপ্তদশ শতাব্দীতেই সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি। তাই সে কারণেই সাবর্ণ কুলসূর্য রায় লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় মজুমদার চৌধুরী বঙ্গদেশের প্রথম সমাজসংস্কারক।

ঋণ স্বীকার:

১. বঙ্গীয় সাবর্ণ কথা-কালীক্ষেত্র কলিকাতা – ভবানী রায় চৌধুরী

২. Laksmikanta: A Chapter in the social History of Bengal – A.K.Roy

৩. কলিকাতা বিচিত্রা – রাধারমণ রায়

৪. সম্বন্ধ নির্ণয় – লালমোহন বিদ্যানিধি

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
দেশ2 hours ago

Tamil Nadu Oath Ceremony: মন্ত্রীসভায় গান্ধী-নেহরু, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন এমকে স্ট্যালিন

দেশ2 hours ago

Corona Update: দেশের দৈনিক সংক্রমণে আরও কিছুটা বৃদ্ধি, বাড়ল সুস্থতাও

রাজ্য3 hours ago

Bengal Corona Update: গ্রামাঞ্চলেও দাপট বাড়ছে করোনার, মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্য3 hours ago

Bengal Corona Update: থমকে গিয়েছে নিম্নগামী যাত্রা, পর পর পাঁচ দিন রাজ্যের কোভিডমুক্তির হার ঊর্ধ্বমুখী

west bengal lockdown
দেশ4 hours ago

Coronavirus Second Wave: সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের শরণাপন্ন একাধিক রাজ্য, দেখে নিন তালিকা

বিদেশ12 hours ago

বিস্ফোরণে জখম হলেন মলদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, হাসপাতালে ভরতি

দেশ13 hours ago

মুম্বই বিমানবন্দরে পেটে ভর দিয়ে জরুরি অবতরণ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের, যাত্রীরা নিরাপদ

দেশ13 hours ago

টিকা পেতে ভারতকে চিঠি, সীমান্তে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

yogi adityanath
দেশ3 days ago

UP Panchayat Polls: বারাণসী, অযোধ্যা, মথুরায় ধরাশায়ী বিজেপি

ক্রিকেট2 days ago

Corona Crisis In IPL: জৈব বলয় ভেদ করে কী ভাবে ঢুকল করোনা, উঠে এল একাধিক কারণ

শিক্ষা ও কেরিয়ার3 days ago

JEE Main 2021: মে মাসের জয়েন্ট এন্ট্রাস (মেইন‌) ২০২১ পরীক্ষা স্থগিত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

রাজ্য2 days ago

Oath Ceremony: তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্য3 days ago

Bengal Corona Update: ঊর্ধ্বমুখী দৈনিক সংক্রমণ, তাল মিলিয়ে বাড়ছে সুস্থতাও

election commission of india
রাজ্য3 days ago

নন্দীগ্রামের সেই রিটার্নিং অফিসারের বাড়তি নিরাপত্তা

রাজ্য2 days ago

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার দাবিতে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্য2 days ago

বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে লোকাল ট্রেন বন্ধ, মেট্রো ও সরকারি বাস অর্ধেক, এক গুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে