Connect with us

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: করোনা, মাটির বাড়ি ও আপনার ভোট

স্পন্দন গাইন

আপনি বিকাশ। প্রত্যন্ত এক গ্রামের শেষ প্রান্তে ততোধিক এক গরিবঘরে আপনার জন্ম। জন্ম থেকেই দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই। এ ভাবেই খুব কষ্টে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ পঁচিশটা বছর। দু’ বেলা দু’ মুঠো খেয়ে কোনো রকমে বেঁচেবর্তে থাকাই আপনার লক্ষ্য।

গ্রামে আপনাদের একটি মাটির (কাঁচা) বাড়িও আছে। আর আছে চার কাঠা জমি। তাতে সামান্যই ফসল হয়, তাও বছরে এক বার। তাই গরিবের সংসারে সামান্য সুরাহা করার জন্য অন্যের জমিতে মজুরের কাজ করতে হয় আপনাকে।  

আপনি তো জানেন আপনার কী অবস্থা! অথচ এই কাঁচা বাড়ি আর জমি দেখেই পাশের গ্রামের দিলীপকাকু তাঁর মেয়ের সঙ্গে আপনার বিয়ে দিয়ে দিলেন। আপনার মৃদু আপত্তি ধোপে টেকেনি। দায় বেড়েছে। কয়েক মাস পর আপনি বুঝতে শুরু করলেন, এই ভাবে বেশি দিন চলা সম্ভব নয়।

ও পাড়ার শিবুদা তো অন্য রাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। বছরে দু’ বার গ্রামে ফেরেন। কত সুন্দর জামাকাপড় পরে আসেন, বাড়ির সকলের জন্য কত কিছু নিয়ে আসেন। এক বার শিবুদার সঙ্গে আপনার কথা হয়েছিল যখন গত বছর পুজোর ছুটিতে এসেছিলেন। কেমন একটা হাবভাব করছিলেন তিনি।

বউকে আপনি বলেছিলেন, কী ব্যাপার বলো তো?

বউ বলেছিল, ও সব ছাড়ো।

আমিও তো শিবুদাকে বলে ওঁর সঙ্গে অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে পারি? আপনি বলেছিলেন। বউ সাফ মানা করে দেওয়ায় আপনার সে যাত্রা আর যাওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া/করোনার পদ্য: ইস্তাহার

কিন্তু ক্রমশ আপনার ওপর সংসারের চাপ বাড়ছিল। আর যতই চাপ বাড়ছিল, আপনি ততই শিবুদার সঙ্গে দেখা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠছিলেন। হাতে চাঁদ পেলেন আপনি, যখন পুজোর পর কালীপুজোতেও শিবুদা গ্রামে এলেন ৩-৪ দিনের জন্য।

আপনি ছুটেছিলেন শিবুদার সঙ্গে দেখা করার জন্য। আসলে শিবুদা গ্রামে এসেছিলেন আরও কয়েক জনকে যদি তাঁর জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন, সেই আশায়। যেখানে শিবুদা কাজ করেন সেখানে বড়ো একটা বাড়ির কাজ শুরু হয়েছিল। ওই কাজ শেষের তাড়াও ছিল। আপনি শিবুদার কাছে যাওয়ায় শিবুদারও সুবিধে হল, আপনিও রাস্তা খুঁজে পেলেন। ভাইফোঁটা কাটতেই আগুপিছু কিছু না ভেবে আপনি শিবুদার সঙ্গে রওনা দিলেন ভিন রাজ্যে, দিল্লিতে।

নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ভালোই গেল। বাড়িতেও টাকা পাঠালেন। বাড়িতে ফোন করে জানলেন বউ খুশি। ভেবে রেখেছিলেন গ্রামে ফেরার সময় বউয়ের জন্য একটা সিল্কের শাড়ি কিনে ফিরবেন।

হঠাৎ ফেব্রুয়ারির গোড়া থেকেই একটা কানাঘুষো শুরু হল। এ দেশে ভিন দেশের প্রেসিডেন্ট আসবেন। কাজ সব বন্ধ থাকবে বেশ কিছু দিন। শিবুদা ভরসা দিলেন, চিন্তা করিস না। টাকা তো পাবি। শিবুদার ভরসার মাঝেও একটা ভয় ভয় কাজ করছিল।

তিনি এলেন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। তার পর কোনো রকমে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাটল। তার পর একদিন শিবুদা বললেন, এ দেশে একটা রোগ এসেছে, নাম করোনা। কত রোগের নাম শুনেছেন, এ রোগের নাম তো কোনো দিন শোনেননি। ক্রমে কাজ কমতে শুরু করল। ইট, বালি, সিমেন্টও অমিল হতে শুরু করল। শিবুদার কপালে চিন্তার ভাঁজ। আপনিও ফ্যালফ্যাল করে শিবুদার দিকে তাকিয়ে থাকেন।

হঠাৎ শিবুদা একদিন বললেন, বিকাশ লকডাউন শুরু হচ্ছে। লকডাউন? সে আবার কী? জানা গেল, এর অর্থ কাজ বন্ধ রেখে কিছু দিন চুপচাপ ঘরে বসে থাকতে হবে। আপনি ভাবলেন, যাক কয়েকটা দিন বিশ্রাম নেওয়া যাবে। কিন্তু কিছু দিন পর শিবুদা আবার বললেন, লকডাউন বাড়ছে। এখন গ্রামে ফেরারও উপায় নেই। ট্রেন-বাস সব বন্ধ। আপনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। টাকাও আর হাতে নেই। চোখে জল এল। বউ আসতে বারণ করেছিল, কেন তখন শোনেননি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, যে যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন। ফ্রি খাবার দেওয়া হবে। দু’ বার খাবার দিয়েওছিল, তার পর আর কেউ খোঁজ নেয়নি।

হঠাৎ আপনি শিবুদার মুখে শুনলেন সরকার বলেছে, সবাইকে নিজের রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে টিকিট কাটার টাকা লাগবে। বেশ কয়েক দিন এক বেলা, এক মুঠো খেয়ে থাকা আপনার কোটরে ঢুকে যাওয়া চোখ চকচক করে উঠল। কিন্তু টাকা কোথায়? বউয়ের মুখটা ভেসে উঠল। শুয়ে শুয়ে আপনি আকাশ-পাতাল ভাবতে শুরু করলেন।

ভোট এলেই আপনার গ্রামের মাটির ওই কাঁচা বাড়িতে অনেক রাজনৈতিক নেতার আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রয়োজনে মাথা নিচু করেই বারান্দায় পাতা খেজুরপাতার চাটাইয়ে বসতে একটুও দ্বিধা করেন না তাঁরা। আপনার পরিবারের হাতের এক গ্লাস জল যেন ওই নেতাদের জীবন ফিরিয়ে দেয়। আপনার নোংরা জামা পরা শিশুটিকে তাঁরা কত্তো ভালোবাসেন। এক পলকে তাকে কোলে তুলে নিতে একটুও আড়ষ্টতা নেই। পারলে এক মুহূর্তে তাঁরা আপনার পৃথিবীটা বদলে দিতে পারেন। এ সব দেখে আপনিও গলে জল হয়ে যান।

কারণ আপনি একজন ভোটার। ভোটের সময়ই আপনার বিশাল গুরুত্ব। মনে মনে আপনার ভালোই লাগে। হয়তো তুল্যমূল্য বিচার করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেন – না, উনিই সব চেয়ে বেশি ভাবেন আমার মতো সাধারণের জন্য। আমারও তো ভোটটা ওঁকেই দেওয়া উচিত। বিশ্বাস করুন, সেই মুহূর্তে নেতাকে ঘিরে থাকা সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার ঝলকানিতে সত্যি আপনার চোখ ঝলসে্ যায়।

আর আপনি আজ যখন নিজের পেটের তাগিদে, বলতে পারেন পেটের জ্বালায়, ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন, তখন সেখান থেকেই নিজে একবেলা খেয়ে সংসারের জন্য টাকা পাঠিয়েছেন। কেউ পাশে দাঁড়াননি। কেন গিয়েছিলেন? কেউ জানতে চাইবে না কোনো দিনও।

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া: করোনায় ‘বিয়োগ’ তো রয়েছে, ‘গুণ-ভাগ-যোগ’ই বা কম কী!

যখন ভিন রাজ্যে করোনার থাবায় আটকে আছেন, যখন আপনার এক বেলা খাওয়ার টাকাও হাতে নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁইও সেই রাজ্য আপনার থেকে কেড়ে নিয়েছে, আতংকে কাটছে আপনার প্রতিটি মুহূর্ত, নিজের ঘরে ফেরার জন্য আপনি উদগ্রীব আর সেই সময় আপনি সম্পূর্ণ কপর্দকশূন্য। এই ভাবে প্রায় চল্লিশ দিন কেটে যাওয়ার পর আপনার দেশের প্রশাসন একটু সদয় হয়ে আপনাকে ফেরানোর উদ্যোগ নিল, যারা আপনার ভোট পেয়ে আজ ক্ষমতায়। শুধু ট্রেনের ভাড়া নয়, স্লিপার ক্লাসে আসতে গেলেও অতিরিক্ত ৫০ টাকা আপনাকে গুনতে হবে। টাকা আপনার কাছে নেই, তো কী করবেন আপনি?

মনে মনে ভাবছেন, এই আমার দেশ! এই দেশের জন্য ভোট দিই! এই দেশকে আমরা ট্যাক্স দিই, যেখানে সাধারণের কথা ভাবাই হয় না?

আপনি হয়তো আপনার রাজ্যে ফিরবেন, তবু ফেলে আসা চল্লিশটা দিনের কথা ভুলে যাবেন। আবার পরবর্তী ভোটের আগে তাঁদের কাউকে না কাউকে দেখতে পাবেন। আর আবার সেই ব্যাপারগুলোই ঘটবে। আর আপনিও সেই ভুলটাই আবার করবেন।

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: বিন্দাস ও গজুরামের কিসসা

দীপঙ্কর ঘোষ

বিন্দাস – পুরো নাম বিনয় দাস। ডাক্তার বিনয় দাস। আসল মানুষটিকে বোঝাতে সবাই নামটা ছোটো করে বিন্দাস বলেই ডাকে। আর গজুরাম – পুরো নাম গজুরাম সাউ। একজন স্বনামখ‍্যাত  ফুচকাওয়ালা। এক‌ই জায়গায় দু’জনের ব‍্যবসা।

সন্ধেবেলা যখন ডাক্তারের খুপরি ফাঁকা হয়ে যায় তখন ডাক্তার পাশের সিনেমাহলের টিকিট কাউন্টারের পেছনের কোনায় একটা বোতল নিয়ে বসে পড়েন। গজুরাম ফুচকা বিক্রি করতে করতে মাঝে মাঝে এসে দু’-একটা চুমুক দিয়ে যায়। তখন ও রঙিন হয়ে যায়, ওর হাতে তখন ঘুঙরুর বোল ওঠে। দেশের বাড়িতে বউ-বাচ্চার জন্য ওর মন তখন হয়তো আতুরি-পাতুরি করে। তাই হয়তো দু’ পাত্তর পান করে।

সেই সময় পাশেই দোকানে ব‍্যস্ত হাবুদা মোটা চশমার ফাঁকে চোখ মেলে ‘ফায়ার পান’ বানায়। মাথার ওপরে জ্বলে থাকা হাই পাওয়ার আলোর গরমে ঘামতে ঘামতে হাবুদা দোকান সামলায়। গানপাগল হাবুদার দোকানে সব সময় গান বাজে – কখনও কিশোর বা মান্না, কখনও বা লতা, আশা।

ও সব এখন ব‍্যথাময় স্মৃতি – রঙিন পানীয়ের দাম এখন আকাশছোঁয়া। এখন ডাক্তার ওষুধের ড্রপারে করে মেপে মেপে মদ‍্যপান করেন। আনাড়ি ডাক্তার গত দু’ দিন স্টেট ব‍্যাঙ্কে একটা কাজ করতে ব‍্যর্থ চেষ্টা করে আজ বাজারের পিএনবির ব্র‍্যাঞ্চে সেই কাজে এসেছেন। সুপার ঘূর্ণিঝড়ের সাত দিন পরে আজ বিজলি এসেছে। বিন্দাস চান হবে। কিন্তু পিঠের ঠিক মাঝখানটা কী ভাবে পরিষ্কার হবে সেটা ভাবতে ভাবতে ডাক্তার আকুল – ‘দু’টি বই হাত মোর নাই রে’ জাতীয় দুশ্চিন্তা।

অন‍্যমনস্ক ডাক্তার বিন্দাস কাচের দরজা খুলে সোজা কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়াতেই চার পাশে একটা হই হই রই রই পড়ে গেল। কেউ বলে বন্দুক আন, কেউ বলে হাত ধুইয়ে দে। তার পর থার্মাল গান, স‍্যানিটাইজার… ঈস, কোন কথা থেকে কোথায় এসে গিয়েছি।

যাই হোক, ডাক্তার বিনয়দাস উর্ফ বিন্দাস ব‍্যাঙ্ক থেকে বেরিয়েই দেখেন গজুরাম চৌরাস্তার মোড়ে ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছে, মুখখানি শুকনো। লকডাউনে শুধু ওর ফুচকা বিক্রি বন্ধ হয়নি, ওই প্রলয় ঝড়ে ওর ভ্যানরিকশার ছাউনিও উড়ে গিয়েছে। ডাক্তার ওকে ফিসফিসিয়ে ডাকেন, “গজুরাম, তোমার পরিবারের খবর কী? চলছে কী ভাবে? টাকা পয়সা আছে? লাগবে কিছু? লজ্জা কোরো না, বলো।”

গজুরাম হাসল। ওর হাসিতে ঝমঝমে রোদ্দুর নিভে লক্ষ তারা ঝিকমিকিয়ে উঠল। “না ডগদরবাবু, হমার দিন গুজরান হয়ে যাচ্ছে…।” আবার গালভাঙা মুখে আকাশ জুড়িয়ে দেওয়া হাসি। একটা আঙুল তুলে ওর ভ‍্যানরিকশাটার দিকে দেখাল।

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া: করোনা, মাটির বাড়ি ও আপনার ভোট

গজুর ভ‍্যানরিকশা কলা আপেল আম লিচুতে ভরে আছে। পিয়ানোর ঝঙ্কারে তারারা হেসে ওঠে। সহস্র বেহালার ছড় সুর তোলে। “আমি সকাল সকাল ফলপট্টি থেকে খরিদ করি আর দিনভর বেচে দিই…হুজুরের কিরপায় চলে যায়…।”

আশার মাতাল গলা বেজে ওঠে, “আও হুজুর তুমকো সিতারোঁমে লে চলুঁ…।” করোনা, উম্পুনকে হারিয়ে দিল এক হার-না-মানা হাসি। ডাক্তার বিন্দাসকে এক আকাশ তারা উপহার দিয়ে ভ‍্যানরিকশা নিয়ে রোদ্দুর ভেদ করে এগিয়ে চলেছে গজুরাম।

অঙ্কন: লেখক

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া/করোনার পদ্য: ইস্তাহার

দেবারুণ রায়

যত্রতত্র কোরো না আহার

হুটহাট করে যেও না বাহার

মেনে চল কথা মোদী-মমতার

করোনার ভয়, নয় ক্ষমতার।

মনকে কোরো না প্রশ্ন, কারণ

একুশের ভোটে করোনা-করণ

ভুলেও ভুলো না রাম-রসায়ন

করো-না কুস্তি, নেই তো বারণ।

করোটির কাজ করোনা-করণ

রাম-রহিমের ভোট ব্যাকরণ।

আহাহা, কী হবে অন্নদাতার

হাহাকার শোনো ভারতমাতার

রেলপথে, পথে মরছে কাতার

এরা ছিল ভোট, এরা যে অঙ্ক গরিষ্ঠতার!

সামনে কিন্তু অকুল পাথার

মনে পড়ে রাম হাবুডুবু মহাসাগরে সাঁতার?

এক ছিল হনু কম্যান্ডো, একা হল পারাপার!

আর নিধিরাম কাঠবেড়ালি যে ইঞ্জিনিয়ার।

নেতার ভাষণে বারণ তবুও বাড়ছে বেকার

করোনায় কত মরল নাকি সে অন্য বিকার?

যমের বাড়ি না ক্লাবে হল কার সদগতি সৎকার?

এ বারের ভোট করোনামৃত, করোনাই হবে পারানির কড়ি, ইস্তাহার!

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: করোনায় ‘বিয়োগ’ তো রয়েছে, ‘গুণ-ভাগ-যোগ’ই বা কম কী!

papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

বাতাসে বহিছে প্রেম/নয়নে লাগিল নেশা/কারা যে ডাকিল পিছে/বসন্ত এসে গেছে। সত্যি? হ্যাঁ, সত্যি। মধ্য বসন্তকালে এল অচেনা রোগের ভাইরাস। এই ভাইরাস-প্রেম খানিকটা সদ্য প্রেমে পড়া কিশোর-কিশোরীর মতো। বাঁধনহীন বলগা হরিণ, যে দিক পানে ছুটে চলেছে, সেখানেই তার চিহ্ন রাখছে কমবেশি। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুব থেকে পশ্চিম, ঈশান, নৈঋত, অগ্নি, বায়ু – কোথাও বাদ নেই।

এই আতঙ্কগ্রস্ত মানবজীবনে ভোর থেকে রাত, একটা গোটা দিনে কোনো স্বস্তি নেই। লেখকের কলমও অস্থির। তবুও সম্পাদকের অনুরোধে রবিবারের পাতে একটু অন্য ধরনের পদ। রাগ করবেন না পাঠককুল। ক্ষমা করবেন নিজ গুণে।

এ বার কী অপূর্ব আনন্দ সমাগমে ঋতুরাজ আসতে শুরু করেছিল। পাড়ায়, গানের স্কুলে, বাড়িতে বাড়িতে বসন্ত আর বৈশাখ উৎসবের আয়োজন শুরুও হয়েছিল, মানে মহড়া। কিন্তু…কিন্তু! কারা যে ডাকিল পিছে…মধুর অমৃতবাণী চার দিকে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে দিল কোভিড ১৯। রে রে করে উঠল দিগবিদিক। কোথাও বাঁধন আলগা হয়ে বন্যার জল (কোভিড ১৯ জীবাণু) ঢুকে পড়ল, আবার কোথাও বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোর বিচিত্র ছবি ধরা পড়ল ক্যামেরার লেন্সে। ফলত কী হল? তারই কথা।

সব কিছু ঘটনার যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ আছে। ‘যোগ’ শব্দ আগে থাকলেও শেষে আসব সেই কথায়। ‘বিয়োগ’ বড়ো ব্যথার। অচেনা রোগের প্রকোপে বেশ কিছু মানুষের মৃত্যু তালিকা তৈরি হয়ে গেল, বিশেষ করে যাঁরা তীব্র রোগাক্রান্ত। লেখকের এ লেখা রাজনীতির লেখা নয়। বিয়োগ তো বিয়োগান্তই হয়। ধরণীর ভার সাম্যহীন হয়ে পড়েছিল। অবাধে কাটা হয়েছে গাছ। পুকুর-ডোবা বুজিয়ে উঠেছে আকাশমুখো চৌখুপি। ইদানীং মানুষ বড়ো বেশি পাহাড়প্রেমী হয়েছে। তাই পাহাড়িয়া পথে প্লাস্টিকের প্যাকেট, জলের বোতল, চানাচুর-ক্যাডবেরি মায় শৌখিন টিনের পানীয়পাত্রের বিপুল বর্জ্য সম্ভার। এমনকি কলকল ছলছল করে বয়ে যাওয়া নদীর কিনারাতেও দিন দিন গজিয়ে উঠছে হোটেল, ঘরবাড়ি। প্রকৃতি দিন গুনছিল প্রতিবাদ করার, প্রতিশোধ নেওয়ার।

ঘরবন্দি শহর।

‘গুণ’ শব্দের শেষ নেই। দ্বিগুণ, তিনগুণ, দশগুণ… কোভিড ১৯ বাড়িয়ে তুলছে আক্রান্তের সংখ্যা। হ্যাঁ, এই ‘গুণ’ নিয়েই বলব – এই কোভিড ১৯ বিশ্ববাসীকে ঘরবন্দি করে ফেলেছে। ভাগ্যিস ঘরবন্দি! না হলে কি জানতে পারতাম এমন ঘরের কোণে কোণে, দেশে-বিদেশের বারান্দায়, সিঁড়িতে, ছাদে কিংবা ঠাকুরঘরে কত গাইয়ে-বাজিয়ে মানুষ লুকিয়েছিল। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা কথার জাল বোনা নিত্য দিন। সেগুলো পড়তে পড়তে জানা যায় কত লেখনী-গুণ লুকিয়ে আছে ঘরের টেবিলে, পড়ার খাতায়, হিসেবের অঙ্কে।

এই যেমন সে দিন – সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটতে ঘাঁটতে শুনতে পেলাম কী অপূর্ব কণ্ঠে গাইছেন এক সত্তর উত্তীর্ণ মাসিমা। ওপরে লেখা ‘আমি বা বাদ যাই কেন?’ কত শিশুর আবৃত্তি, কত কিশোর-কিশোরীর নাচ-গান, কত যুবক-যুবতীর সংগীত পরিবেশন। এরা কেউই নামকরা নয়।

ঘরবন্দি কিন্তু ‘মনবন্দি’ নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়ছে ঘরের আনাচে-কানাচের কত প্রতিভা। এরা কিন্তু সুন্দর ভাবে সময় কাটাচ্ছে, সুন্দর দিন উপহার দিচ্ছে। এক দিন তো এক প্রৌঢ় শিল্পী আদুল গায়ে নাচলেন। আমরা বিস্মিত। কত মানুষ নানা রান্না শেখাচ্ছেন, কেউ গান, কেউ বা আবৃত্তি। শান্তিনিকেতন থেকে বেশ কয়েক জন সুধীরঞ্জনবাবুর কাছে আলপনা শেখার আবদার জানিয়েছেন। কেউ বা অনলাইনে পুরোনো সেলাই বের করে ফেলেছেন, কেউ বা গানের খাতা।

পৃথিবী ছুটছিল এক দুরন্ত গতিতে। এক শ্রেণির মানুষের হাতে প্রচুর অর্থ এখন। নতুন প্রজন্ম দুর্বার, দুর্বিনীত। সপ্তাহান্তে পার্টি, অবাধ মেলামেশা। মল কালচার উড়িয়ে নিচ্ছিল ওয়ালেটে সাজানো কার্ডের রক্তরস। আমার আপনার ঘরের ছেলেমেয়েরা তখন ভুলে যাচ্ছিল তাদেরই কষ্টার্জিত অর্থ কী ভাবে উবে যাচ্ছে – এটাই নাকি তাদের কাছে রিল্যাক্স, আনন্দ, উপভোগ – ডিপ্রেশন কাটানোর মহা ওষুধ। এক কথায় হুল্লোড়বাজি। আর এই ভাবে মেতে উঠেছে কিছু অভিভাবকও।

পৃথিবী ছুটছে দুরন্ত গতিতে। অন্ধকার ঘরে একা বাবা-মা। কিংবা গাছের পরিচর্যা করতে করতে মনে পড়ে ছেলে-মেয়ে-বৌমা-নাতি-নাতনির কথা। আহা, ‘বালিগঞ্জ কোর্ট’ সিনেমার কথা মনে পড়ে গেল। মনোজ মিত্র এক জায়গায় গাছের গায়ে হাত বুলিয়ে দেখছেন। বড়ো ছেলে যখন জন্মেছিল, তখন সেই গাছটি পুঁতেছিলেন। আজ গাছটা কাছে আছে।

এই ঘরবন্দি দশায় আমরা ফিরে গিয়েছি সেই ৩২-৩৩ বছর আগের রামায়ণ-মহাভারতে। আর তারই মাঝে মাঝে বিরতিতে দেখতে পাচ্ছি কত পুরোনো বিজ্ঞাপন। বাবা-মা-আত্মীয়পরিজন তা দেখে কিছু সময় কাটাচ্ছেন। কত স্মৃতি আসে ফিরে/গোপনে গোপনে। তাই তাঁদের জীবনে ‘কী পাইনি’, সেই হা-হুতাশ নেই। তাঁদের চাওয়া-পাওয়া সবই সংসার ঘিরে। দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া কর্মজীবন (সমাজব্যবস্থা) এই প্রজন্মের কাছে আশীর্বাদ না অভিশাপ, তা শুধু বিজ্ঞানই বলতে পারবে। তারাও ঘরবন্দি। একটানা ঘরে বসে কাজ। কখনও কখনও নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে রাত কেটে ভোর হয়ে যাচ্ছে। অসীম ধৈর্যের পরীক্ষা। ‘গুণ’ তো বলতেই হয়। আর অভিভাবকেরাও চওড়া হাসি হেসে, বুকের ছাতি ফুলিয়ে বলতে থাকছেন বাজারের থলি হাতে নিয়ে – ‘আর বলবেন না – আমার…’। বাতাসে বহিছে প্রেম…। করোনা কিন্তু আবডালে হাসছে।

এ বার বাজারের থলিতে এসে পড়েছি। অর্থাৎ ‘ভাগ’ নিয়ে বলব। মনে পড়ে যাচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রপিতা যে দিন ভাষণে জানালেন লকডাউনের কথা, সে দিন এক ছুটে লেখকও বারমুখো হয়েছিল দু’টো থলে হাতে নিয়ে। যেতে যেতে ভেবেছিল যা পাবে তা-ই নেবে। তখন ‘ভাগ’-এর কথা ভাবেনি। পাশ দিয়ে হু হু করে বেরিয়ে যাচ্ছে মোটরবাইক, স্কুটার, স্কুটি। লেখক চলেছে পায়ে হেঁটে। পেটি পেটি ডিম, আলু, পেঁয়াজ প্লাস্টিকে বা বড়ো বড়ো থলে ভরতি করে দু’ চাকার গায়ে বেঁধে হুস। মূল রাস্তায়, বাজারের কাছে গিয়ে থমকে যাওয়া। এই কি সেই অতি পরিচিত ২৬ বছরের বাজার? রাস্তাঘাট, পুকুরপাড়? সব বন্ধ। একটি দোকান খোলা – সেখানে লম্বা লাইন। অগত্যা লেখকের থলের তলায় গড়াগড়ি খেতে লাগল একটি টোস্ট বিস্কুটের প্যাকেট। ভাগ করে খাও।

করোনায় কর্মহীন।

ভাগ করতে আজও শিখল না আমাদের সমাজ। রোজ তার বাজার যাওয়া চাই। ‘পুরোনো অভ্যাস, কী আর করব? একটু বেরিয়ে পড়লাম’ গোছের হাবভাব। এখানেও ‘করোনা’ ভাগ হয়ে যাচ্ছে সুন্দর ভাবে। ওই যে ‘বাতাসে বহিছে প্রেম’ – সে তো অচেনা রোগের প্রেম নিয়ে এসেছে। আর প্রেম তো নীরবেই আসে। ভাগ করে খাও, সকলকে দিয়ে খাও। সুযোগ করে দাও, অন্য জনও যেন নিতে পারে। যাঁদের কেউ নেই, যাঁরা হাঁটতে চলতে অক্ষম, সন্তানেরা বিদেশে-প্রবাসে, যাঁরা সহায়সম্বলহীন, যাঁরা দিন আনেন দিন খান, তাঁদের জন্য সমাজের এক শ্রেণির মানুষ থাকেই। ‘পাশে থাকা’ বা ‘যাঁদের না হলে চলে না’ – এ রকম সু-তকমায় পরিচিত, তাঁরা আছেন, থাকবেন। তাঁরা ব্যক্তিবিশেষ হতে পারেন বা কোনো আশ্রম, হয়তো বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তবে অনুগ্রহ করে, এই দুর্দিনে কেউ ‘বিশেষ’ নাম কেনার চেষ্টা করবেন না। আর কাউকে চড়-থাপ্পড়ও মারবেন না (সৌজন্য সোশ্যাল মিডিয়া)।

কিছু মানুষ বড়ো অসহায় আজ। আবার কিছু মানুষের হেঁশেলে খাওয়ার উৎসব লেগেছে – ওরে ভাই মোচ্ছব লেগেছে ঘরে ঘরে। দু’ পাশ থেকে শোনা যাচ্ছে মাংসের আলু শক্ত, মাছটা ভালো দেয়নি বলে খিস্তি, দুধটা এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গিয়েছে বলে ফোনে কাউকে ঝাড়। ‘কেন ডাঁটা-চচ্চড়ি হবে না’ বলে চার তলা থেকে চিৎকার। ‘ভাগ’ আজ ভাগীদার হয়েছে মা-বাবাদের কাছে। দুর্যোগের বাজারে মা-বাবাকে ‘ভাগ’ করেছেন সন্তানেরা – খাওয়াতে হবে, ওষুধ খরচা আছে, অসুস্থ হওয়ার রিস্ক আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এ খবরও বাতাসে ভাসছে, তাদের হাতে ফোনও নেই। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। অথচ বস্তিঘরে সবাই তো এক সঙ্গেই আছে। এক ফালি চাঁদের আলো তাঁদের ঘরে আজও পড়ে। ভগবান, এই লেখককে অন্ধ করে দাও, বধির করে দাও। কিছু যেন দেখতে শুনতে না হয়।

যান আছে, যাত্রী নেই।

‘ভাগ’ বড়ো বালাই। পেট বড়ো বালাই। অভাব বড়ো বালাই। সব বালাইকে জয় করার জন্য কত নতুন নতুন গান বাঁধা চলছে। তাতে সুর দেওয়ার কাজ চলছে। কত নতুন মুখ চোখের সামনে ভেসে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে – ‘ভাগ’-এর জায়গা দখল করে নিল ‘যোগ’।

অঘোষিত যুদ্ধ চলছে সারা বিশ্ব জুড়ে। প্রথম শ্রেণির সৈনিক অবশ্যই চিকিৎসাজগতের মানুষ ও পুলিশবাহিনী। অসীম দক্ষতায় কাজ করে চলেছেন। সৈনিক সেই সাংবাদিক বন্ধুরাও, যাঁরা দিনরাত এক করে খবর করে চলেছেন। ‘যোগ’ এখানে বেশি। পুরোনো জিনিস গোছানো বা খুঁজতে গিয়ে অমূল্যরতন পাওয়া। এমন ‘অসময়’ যে ‘সুসময়’ হয়ে ঘরবন্দি করে ফেলবে গেরস্থালিকে, কেউ কি ভেবেছিল? এই পড়ে পাওয়া অখণ্ড অবসরে পুরোনো ডায়েরিতে কত না ‘কোটেশন’, কত লেখা, কত আধ-লেখা কবিতা, গল্প, কত না-গাওয়া গান, কত বন্ধুর নাম, আত্মীয়পরিজনের নাম, ফোন নম্বর (যদিও সেই নম্বর আজ অস্তিত্বহীন)। তবুও একে অন্যের সূত্র ধরে এক লহমায় পৌঁছে যাওয়া পাড়ায়, স্কুলে, কলেজে, বেড়াতে গিয়ে বন্ধু হওয়া এমন বহু স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়া। অনেক অবাক হওয়া কণ্ঠস্বর, অনেক লুকোচুরি চলছে সারা দিন ধরে ফোনে ফোনে।

একটানা বাড়ির সব কাজে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মাঝে ‘যোগ’ হয়ে যাচ্ছে বাড়ির কর্তার বা দেওরের অথবা সন্তানের করে দেওয়া এক কাপ চা। সুমনের সেই ‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই’। প্রায় ৩০ বছর আগের সুমনের সেই অমৃতবাণী। আসে ফিরে স্মৃতি। কত না-পড়া বই আলমারিতে সাজানো। সেই বই আজ পরম বন্ধু। কেউ পড়ছেন ‘তপোভূমি নর্মদা’, কেউ পড়ছেন ‘শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’, কেউ আবার ‘আবোলতাবোল’-এর ছড়া মুখস্থ করছে। কেউ অনলাইনে পড়াশোনার ক্লাস করছে, কেউ তবলা শেখাচ্ছেন, কেউ বা গান। যার যা খুশি। শুধু ডাক্তারবাবুরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে থাকুন, ঘরবন্দি হলেও ‘মনবন্দি’ কিছুতেই নয়। মনের আনন্দ নিজেকে খুঁজে নিতে হবে। ছাদ আছে, বারান্দা আছে, সিঁড়ি আছে, স্নানঘর আছে – গলা ছেড়ে গান ধরুন। শুধু ভালো থাকুন। – এই তো এত ‘যোগ’সূত্র। অ্যালবাম ঘেঁটে ছবি পোস্ট করুন। বলা তো যায় না কোনো হারানো বন্ধুর ছবি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে উঠল? আসলে আমাদের ‘যোগ’ এক। কারণ বিশ্ববাসী এক নৌকার যাত্রী। আমাদের ভেসে যাওয়া করোনার স্রোতে।

লড়াই চলছে, চলবে।

আমাদের ‘যোগ’-এর খাতায় আরও বাকি। প্রতি দিন সকালে হেঁকে যায় সব্‌…জি, মা…ছ, ফ…ল। সাইকেলভ্যান-ভাইরা, তোমরাও সাবধানে থেকো। তোমরা হাসিমুখে খাবারের উপকরণ এনে দিচ্ছ দোরগোড়ায়। তবুও কেন বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিতে এখনও চায়ের দোকান খোলা?

কোভিড ১৯ শিক্ষা দিয়েছে মিতব্যয়ী হতে। কোভিড ১৯ শারীরিক দূরত্ব শিখিয়েছে। কিন্তু কোভিড ১৯ পারিবারিক বন্ধনের শিক্ষাও দিচ্ছে। শিক্ষা দিচ্ছে প্রকৃতির রঙিন পাখিদের চিনতে। শিক্ষা দিচ্ছে বাড়ির গুরুজনদের, ছোটোদের সঙ্গে সময় কাটানোর। যে কটা দিন পাওয়া যায়। প্রবীণদের পাশ কাটিয়ে, সন্তানকে সেবিকার হাতে তুলে দিয়ে যে সব মা চাকরিতে দৌড়ত, আজ তারা সেই সন্তানের সঙ্গে অন্তত আঁকছে, খেলছে, গাইছে, নাচছে, কাজের অবসরে বা কাজের শেষে। এই মুহূর্তে আবার মনে পড়ল বৃদ্ধ সেই মাস্টারমশাইয়ের দানের কথা। অশীতিপর বৃদ্ধ জানলা দিয়ে হাত নেড়ে ডাকছিলেন পুলিশ ভাইদের। কাছে যেতে দেখা গেল একটি চেক তুলে দিলেন সরকারের ত্রাণ তহবিলের জন্য। দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলা পৃথিবীতে এ-ও এক শিক্ষা দিয়ে গেল কোভিড ১৯।

আরও পড়ুন: হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

সেই বৃদ্ধা ঠাকুরঘরে গাইছেন একাকী – আজ তোমারে দেখতে এলেম অনেক দিনের পরে।/ভয় কোরো না, সুখে থাকো, বেশিক্ষণ থাকব নাকো–/এসেছি দণ্ড-দুয়ের তরে। অসময়ে সব হারিয়ে তিনি ঠাকুরপুজো ত্যাগ করেছিলেন। কোভিড ১৯ আবার ফিরিয়ে দিল তাঁকে ঠাকুরঘরে।

ছবি: রাজীব বসু                                   

Continue Reading

ট্রেন্ড্রিং