Connect with us

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া : চিরায়ত ঐতিহ্য মুর্শিদাবাদ সিল্ক

jahir raihan

জাহির রায়হান

ময়ূরকণ্ঠী নীল জমিন আর তার সোনালি পাড়। কিংবা রানি রঙের ঢালে নিপুণ কালোর ছোঁয়া। আর তার আঁচল বেয়ে নেমে এসেছে রঙিন ঝুমকো, অথবা নির্ঝরা লতাপাতার আলংকারিক রূপটান। কটনের মাঝেই রেশমি সুতোর স্বভাবসিদ্ধ নিবিড় বুনন। কোনোটায় আবার রেশম সুতোর ভিড়ে সোনালি জরির ফুল-পাখি। আঁচল বেয়ে ঢালাও স্বর্ণালি জরির কারুকাজ। কিংবা অফ হোয়াইট শাড়িতে লাল-নীল-হলুদের বুটি-বাহার আর আঁচলের ধার বরাবর লতিয়ে উঠেছে হরেক ফুলের নকশা। এ সবই চিরন্তন মুর্শিদাবাদ সিল্ক সম্পর্কিত বর্ণনা যে সিল্ক ‘বুনোটের রানি’ বা ‘রানির বুনোট’ নামে খ্যাত, জগদ্বিখ্যাত।

মুর্শিদাবাদ সিল্কের খ্যাতি ভুবনময়, জগৎজোড়া। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চিনে প্রথম রেশম আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কারের পর দীর্ঘদিন চিন সন্তর্পণে রেশমচাষ ও উৎপাদনে গোপনীয়তা বজায় রাখে। পরবর্তী কালে সিল্ক রোড-এর মাধ্যমে চিনের বেজিং থেকে ভূমধ্যসাগরের উপকূল বেয়ে প্রথমে গ্রিস ও পরে রোমান সাম্রাজ্যে রেশম ব্যবসা প্রসার লাভ করে। তারও পরে দক্ষিণে ইয়েমেন, বর্মা ও ভারতবর্ষে সম্প্রসারিত হয় সিল্ক রুট। উপমহাদেশে প্রথম তিব্বত থেকে ভারতবর্ষের হিমালয়ের পাদদেশে রেশম চাষের বিস্তার ঘটে।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: কোথায় হারিয়ে গেল পুজোর গান / ১

মুর্শিদকুলি খাঁয়ের হাত ধরে ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে প্রবেশ করে বালুচরী। সে সময় রংবেরং সুতোর বুনানিতে বালুচরীর মসৃণ আঁচলে ফুটিয়ে তোলা হত নবাবি জীবনযাত্রা। অচিরেই এই শিল্প দিল্লির মোঘল শাসকদের হৃদয় হরণ করে। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে মোঘল সম্রাটদের সর্বাঙ্গীন পৃষ্ঠপোষকতায় তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় রেশমশিল্প ব্যাপকতায় উন্নীত হয়। অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলা ও ভারতের মালদা ও মুর্শিদাবাদ বেঙ্গল সিল্কের প্রধান উৎপাদনস্থল হিসেবে হয় পরিগণিত।  রাজশাহী ও মালদা, সিল্ক ইতিহাসের সেই নজিরই বহন করে এখনও। রাজশাহীর রেশম ও রেশম শাড়ি তৈরির কারখানা ইতিহাসের সিল্ক যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়। বেঙ্গল সিল্ক বলতে মূলত রাজশাহী, মালদা ও মুর্শিদাবাদের সিল্ককেই বোঝানো হত সে কালে।

কথিত আছে, রেশমচাষের পদ্ধতি, সিল্কের কার্যক্রম ও ব্যবসায় হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য টিপু সুলতান সুদূর মহীশুর থেকে শিক্ষানবিশ হিসেবে স্থানীয় তাঁতিদের পাঠিয়েছিলেন অবিভক্ত বাংলায়। বেঙ্গল সিল্কের টানে ভারতবর্ষের অন্য রাজা-মহারাজারাও বাংলায় পাইক-পেয়াদা-পণ্ডিত পাঠিয়ে রেশমচাষে দীক্ষা নিতেন। পরবর্তী সময়ে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সারা দক্ষিণ ভারত জুড়ে রেশমচাষ প্রসার লাভ করে এবং এই শিল্পের ব্যাপক উন্নতিসাধন হয়। বাংলা থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে গুটিপোকা তার জাল বিস্তার করে, রেশমচাষ বিস্তৃত হয় আসমুদ্র হিমাচল।

বলা যায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে আসে রেশমের টানে। রেশম-বাণিজ্যে দখলদারি থেকেই পরে তারা ঔপনিবেশিক দখলদারি কায়েম করে। যদিও বাংলায় রেশমের ইতিহাস আরও দীর্ঘ। ১৬৬০-এর দশকে মুর্শিদাবাদ একটি পরগনা সদর দফতর হিসেবে গণ্য হয়। এ সময়েই মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারে ইউরোপীয়রা কুঠি স্থাপন করে। কেননা সে সময় ইউরোপের বাজারে বেঙ্গল সিল্কের চাহিদা ছিল দুর্নিবার এবং এ অঞ্চল থেকে তখন প্রচুর পরিমাণে রেশম ও রেশমজাত দ্রব্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিয়মিত রফতানি হত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটেনে প্রচুর পরিমাণ বেঙ্গল সিল্ক রফতানি করে সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে।

silk worm

গুটিপোকা। ছবি সৌজন্যে উইকিপিডিয়া।

রেশম কাপড়ের সোনালি দিন আজ আর নেই সত্যি। নেই মসলিন, জামদানি, বালুচরী বা বুটিদারের রমরমা। কালের কঠোর নিয়মে হারিয়ে গিয়েছে বাংলার নবাব, দিল্লির সম্রাট, ইংরেজ বণিক অথবা কাশিমবাজার কুঠি। কিন্তু চারশো বছরে সব কিছুই কি একেবারেই হয়েছে বিলীন? হয়তো বা না। তাই মুর্শিদাবাদের গ্রামে গ্রামে আজও চাষ হয় তুঁত গাছ, চাষ হয় রেশমগুটি। খোসবাগ থেকে রোশনিবাগ যাওয়ার পথে এ রকম অনেক তুঁতখেত এখনও চোখে পড়ে। সচরাচর তুতঁগাছের সঙ্গে আমাদের পরিচয় নেই। তাই রাস্তার দু’ ধারে তুঁতগাছ দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বাভাবিক কৌতূহলে। খবর নিয়ে জানা যায়, কেজি প্রতি ৩১০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয় তুঁতপাতা। খরচ বাদে লাভ মন্দ নয়। ব্যবসায়ীদের কাছে সরাসরি বিক্রি করার সুবিধা আছে বলে দামও ভালো। জেলা মুর্শিদাবাদে এ রকম ছোটোবড়ো বেশ কিছু তুঁতক্ষেত্র রয়েছে এখনও।

জিয়াগঞ্জ মুর্শিদাবাদ জেলার আরেকটি শহর। শহর জিয়াগঞ্জ পার হয়ে একটু এগোলেই রয়েছে তাঁতিপাড়া। এখানে তৈরি হয় সিল্কের শাড়ি। লোকে একে সিল্ক সিটিও বলে। নামে যদিও তাঁতিপাড়া, কিন্তু এখানে তাঁতি পরিবার রয়েছে হাতে গোনা, মাত্র খান ছয়েক। কারখানার মালিকরাই এগুলো পরিচালনা করেন। মালিক-পরিবারের সদস্যরাই এখানে সর্বক্ষণের কর্মচারী। আলাদা করে কর্মচারী নিয়োগে লাভ থাকে না। ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি কোনো সহায়তা নেই, তাই হতাশা সর্বত্রই। সরকার খাদির জন্য অনুদান দেয়, সিল্কের জন্য না। শাড়ি ভেদে আটশো টাকা থেকে বারোশো টাকা পর্যন্ত কারখানা মালিকরা মজুরি পান। অনেক সময় মহাজন সুতো দেয়, সে ক্ষেত্রে হেরফের হয় মজুরি। তখন লাভ হয় ন্যূনতম। ‘তবুও বাপ-দাদার পেশা’ প্রাণে ধরে ছাড়তে পারে না তারা। তাঁতিপাড়ার সবারই প্রায় একই কথা। তাদের মতে, বড়ো জোর আর বছর দশেক, তার পরই হয়ত শেষ হয়ে যাবে মুর্শিদাবাদ সিল্কের বর্তমান অধ্যায়। রেশমশিল্পের আদানপ্রদানের কল্যাণে এ পাড়ার অধিকাংশেরই কোনো না কোনো যোগসূত্র রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে। কারো বাপ-ঠাকুরদাদার ভিটেমাটি বাংলাদেশে, কেউ হয়তো শৈশবে এসেছেন। তার পর কেটে গিয়েছে বহু যুগ, কালের নিয়মে জীবনযাত্রার বাধ্যবাধকতায় তাঁরাও থিতু হয়েছেন এখানেই।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: কোথায় হারিয়ে গেল পুজোর গান/শেষ পর্ব

বর্ধিষ্ণু গ্রাম মির্জাপুরে সহস্রাধিক পরিবারের বাস। এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দারই এক সময় প্রধান জীবিকা ছিল তাঁত বোনা। শ’ছয়েক তাঁত ছিল গ্রামে। এখন যা প্রায় অর্ধেক। কেননা মির্জাপুরে যে গুণমানের গরদ সিল্ক তৈরি হয় সেই তুলনায় তার বাজার ও প্রচার প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ বাণিজ্য বাড়াতে এ যুগে প্রচারটাই সর্বাপেক্ষা জরুরি বিষয়। সেটারই বিশেষ অভাব মির্জাপুরের। ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে যেখানে অনলাইন শপিং ক্রমবর্ধায়মান তখন মির্জাপুর পড়ে আছে জেলার মধ্যেই সেই তিমিরেই। এ কথা জোর দিয়ে বলা যায়, সঠিক প্রচার কৌশল ও যথাযথ বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলে মুর্শিদাবাদ সিল্ক আবার তার হৃতগৌরব ফিরে পাবে।

মির্জাপুর মূলত গরদ-সিল্কের জন্য খ্যাত। আগে গরদের শাড়ি দখল করত সীতাহরণ, জটায়ু বধ বা শকুন্তলা। এখন পুরাণ সরিয়ে ছোঁয়াচ লেগেছে আধুনিকতার। সাদা সিল্কের সুতোকে বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে, তা দিয়েই তৈরি হচ্ছে রঙিন জাকার্ড শাড়ি। কোনোটা সিঙ্গল জাকার্ড তো কোনোটা ডাবল। তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে থার্ড জাকার্ডের তাঁতের ছোঁয়া। মির্জাপুরে সিল্কের কদর বাড়িয়ে শাড়ির বাজারের অনেকটাই দখল করে নিয়েছে জাকার্ড ব্রোকেট অলমিনার। সঙ্গে রয়েছে স্বর্ণচরী ব্রোকেট, স্বর্ণচরী ঘিচা, স্বর্ণচরী স্ট্রাইপ, স্বর্ণচরী ট্রাডিশনাল কিংবা স্বর্ণচরী সিল্কের উপর জাকার্ড মেসিনের ব্রোকেটের কাজ। তাতে আবার জরির নকশা করা। আগে এ কাজ বাইরে থেকে করিয়ে আনতে হত। এখন জাকার্ড মেশিনের সাহায্যে প্রায় সবটাই তৈরি হচ্ছে এই অঞ্চলেই। মূল্য পাঁচ হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে। দামটা একটু বেশি বলে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন মির্জাপুরের রেশম ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দুশ্চিন্তা দূর করে বাজারে রমরমিয়ে বিকোচ্ছে সিল্কের উপর সোনালি জরির নকশা।

murshidabad silk

মুর্শিদাবাদ সিল্ক। ছবি সৌজন্যে উৎসবপিডিয়া।

আধুনিক তাঁতশিল্পীদের মতে, গুণমানসম্পন্ন উৎকৃষ্ট মানের শাড়িতে হাতের কাজ যতটা ভালো ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়, অপেক্ষাকৃত কমদামি শাড়িতে সেটা সম্ভব হয় না। কোরিয়ালের সাদা শরীরের দুই দিকে ৫ থেকে ৭ ইঞ্চির পাড়। বুনতে লাগে দিন সাতেক মতো। রঙিন জাকার্ডেও দিন আষ্টেক সময় প্রয়োজন। ফলে দামটা কিঞ্চিৎ বেশি পড়ে সর্বদা। তবে আশার কথা মানুষ এখন আর সস্তার শাড়ি চাইছেন না। আবার এরই মধ্যে অনেকের আক্ষেপ, বর্তমানের ই-যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন-লাইন বিপণনে সড়গড় হতে পারলে জেলা ছাড়িয়ে দেশ বিদেশের বাজারেও সমানে টেক্কা দিত মুর্শিদাবাদি সিল্ক, অতীতের মতোই।

এক সময় মুর্শিদাবাদ খ্যাতি লাভ করেছিল পূর্ব ভারতের ‘সিল্ক মক্কা’ হিসেবে। মুর্শিদাবাদ সিল্কের কদর ছিল দেশ-বিদেশে। এখনও ভিন্ন দেশীয় মানুষের মধ্যে সিল্কের সেই চাহিদা রয়েছে, রয়েছে ভালোবাসাও। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সে ভাবে মেলে না উঁচু দরের মুর্শিদাবাদ সিল্ক। সিল্কশিল্পে জড়িত কারিগরদের আক্ষেপ, প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে আজ মুর্শিদাবাদ সিল্কের এই দৈন্যদশা। কারিগরদের জন্যও যেমন কিছু ভাবা হয়নি, তেমনই বাজার ধরে রাখতেও চোখে পড়েনি সরকারি উদ্যোগ। যে সিল্কের খ্যাতি বিশ্বজনীন সেই সিল্কেরই কারিগরেরা এখন অস্তিত্বের সংকটে। অনিশ্চিত এই পেশা থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন বহু শিল্পী। কেউ কেউ অন্য পেশার সঙ্গে এখনও ধরে রেখেছেন এই শিল্পকে। কিন্তু, কত দিন এই পেশায় থাকতে পারবেন তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। তাই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই, ফলে অবশ্যম্ভাবী সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী মুর্শিদাবাদ সিল্ক আজ বিপন্ন।

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া ২: অমলাশঙ্কর বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনশীলতার মধ্যে

ঘুমের মধ‍্যে রানির মতো চলে গেলেন পরম আত্মীয়ের কাছে।

papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

ভোরের আলো ফোটার আগেই একটা যুগের অবসান। ঘুমের মধ‍্যে রানির মতো চলে গেলেন পরম আত্মীয়ের কাছে। শতায়ু নৃত্যশিল্পী বার্ধক‍্যজনিত কারণেই ইহলোক ত‍্যাগ করলেন শুক্রবার ভোররাতে।

ব্যবসার কাজে বিদেশে যাওয়ার জন্য বাবা অক্ষয়কুমার নন্দী যদি তাঁকে সঙ্গে না নিতেন, তা হলে তাঁর জীবন কোন দিকে বয়ে যেত বলা মুশকিল। বারো বছরের মেয়েকে নিয়ে প্যারিস যাওয়ার যে পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি, তা এক সময়ে মহার্ঘ পিতৃ-আশীর্বাদ বলেই ভেবেছিলেন তিনি। তিনি নৃত্যশিল্পী অমলাশঙ্কর চৌধুরী, আমাদের সকলের অত্যন্ত শ্রদ্ধার অমলাশঙ্কর (Amala Shankar)।

সময়টা ১৯৩১। প্যারিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোনিয়াল এক্সপোজিশন’ থেকে আমন্ত্রণ এল বাবার কাছে। তাঁর অলংকারের কারখানা ‘ইকোনমিক জুয়েলারি ওয়ার্ক্স’-এর স্টল হবে সেখানে। সেই সূত্রে ফ্রান্সে যাওয়া। ছোট্ট অমলা আত্মহারা। যখন শুনল শহরের বোয়া দে ভান সাঁ বা ভানসার বন নামে একটি বনের ভেতরে প্রদর্শনীটি হবে এবং সেখানে নাচগানও হবে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আরও উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিল কিশোরী অমলা। সেই প্রদর্শনীতে ভারতীয় নৃত্য পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন মাদাম নিয়তা নিয়কা। অমলা তখন নাচের কিছুই জানত না। বাবার উৎসাহে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং নিয়তাই তৈরি করে নিলেন অমলাকে।

১৯৩১ স্মরণীয় হয়ে রইল আরও এক কারণে। সেই প্রদর্শনীতে নৃত্য পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রিত ছিলেন আরও এক ভারতীয়, উদয়শঙ্কর। লোকমুখে জানা হয়ে গিয়েছিল, তিনিও একই জেলার লোক, বাবার বিশেষ পরিচিত ও বিশ্ববিখ্যাত নর্তকী আনা পাভলোভার সঙ্গে ইউরোপ ও আমেরিকায় নৃত্য পরিবেশন করে যশস্বী হয়েছেন। ভারতবর্ষকে গৌরবান্বিত করেছেন।

উদয়শঙ্কর ও অমলাশঙ্কর।

উদয়শঙ্কর – নাম শুনে মনে হল প্রবীণ এক দিকপাল প্যারিসে অবসর যাপন করতে এসেছেন। কিন্তু প্রদর্শনীতে তাঁদের প্যাভেলিয়নের সামনের সারিতে ষোলো আনা সাহেবি পোশাক পরিহিত সেই বাঙালিকে দেখে ধারণা পালটাল। সেই সঙ্গে সে দিনের কিশোরীর মনে একটা সুরও গেঁথে গেল। এত দিন তো পুরুষচিত্র বলতে মনের মধ্যে গাঁথা হয়ে গিয়েছিল কৃষ্ণ, অর্জুন আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  

শঙ্কর পরিবারের অনেকেই থাকতেন প্যারিসে। অক্ষয়বাবুর সঙ্গে কথা বলে অমলা ও তাঁকে তাঁদের বাড়িতে আসার নিমন্ত্রণ করে গেলেন উদয়শঙ্কর। প্যারিসের বাড়িতে অমলাকে পেয়ে উদয়ের মা হেমাঙ্গিনী দেবীর মহা আনন্দ। সে দিন হেমাঙ্গিনীর রান্না করা চচ্চড়ি, মাংস আর পোলাও খেয়েছিলেন অমলা। আর খেলার সঙ্গী হিসাবে পেয়েছিলেন রবিকে, মানে রবিশঙ্করকে।

শঙ্করদের প্যারিসের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন অমলা। একদিন রবির সঙ্গে খেলছেন, এমন সময় উদয়শঙ্করের ডাক। অমলাকে একটা মুদ্রা দেখিয়ে নাচতে বললেন। অমলাও তৎক্ষণাৎ দেখিয়ে দিলেন। উদয় দেখে বুঝেছিলেন, নাচ অমলার রক্তে আছে। এ ভাবেই নৃত্যে হাতেখড়ি অমলার, ‘বড়দা’ উদয়শঙ্করের কাছে। খেলার ছলে নাচ তোলা হতে লাগল অনায়াসে।

ঠিক হল ইউরোপের নানা জায়গায় নাচের অনুষ্ঠান করা হবে। আর অমলার বাবাও ঠিক করেছিলেন ইউরোপের সব শিল্পকেন্দ্রগুলি মেয়েকে ঘুরিয়ে দেখাবেন। ১৯৩১-এর ২৯ ডিসেম্বর – শুরু হল ইউরোপ-যাত্রা, শুরু হল অমলার নৃত্যজীবনের যাত্রাও। ১৬ জনের দলে ছিলেন আরও দুই ভাই, তিন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী – সুরশিল্পী তিমিরবরণ, অন্নদাচরণ এবং পশ্চিম ভারতীয় যুবক বিষ্ণুদাস শিরালি। মহিলা অধ্যক্ষ ছিলেন শিল্পকলাবিদ সুইৎজারল্যান্ডের মিস আলিস বোনর। দলে এসে অমলার নতুন নাম হল অপরাজিতা। ইউরোপ ঘুরে এসে সেই কিশোরী লিখে ফেলেন ‘সাত সাগরের পারে’ নামে এক ভ্রমণের বই। অস্ট্রিয়া থেকে বাল্টিকের লিথুয়ানিয়া, জার্মানির সুলৎজবার্গ, ফ্রান্সের টুলোঁ, সুইডেনের মালমো, নরওয়ের অসলো, ফিনল্যান্ডের হেলজিৎ ফোর্স, বেলজিয়ামের লিজ্‌ – কোথায় না ঘুরে ফেলল ছোট্ট অমলা।

নৃত্যের তালে তালে

ইতিমধ্যে নৃত্যশিক্ষা চলতে লাগল উদয়শঙ্করের হাত ধরে। ‘কালীয়দমন’ দিয়ে মঞ্চে প্রবেশ। অমলা কালীয়, উদয়শঙ্কর কৃষ্ণ। বিদেশিরা অভিভূত নাচ দেখে। আট মাসের সেই সফরে ভারতবর্ষের সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব বিদেশিদের কাছে তুলে ধরলেন তাঁরা। এ দিকে মনের পুরুষচিত্র ধীরে ধীরে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। কষ্ট করে জীবনের পথ খুঁজতে হল না। নৃত্যশৈলী দেখিয়ে দিল কোনটা অমলার পথ। উদয়শঙ্করের হাত ধরেই পথ এসে মিশে গেল অমলার পথে। এ যেন হর-পার্বতীর মিলন।

বছর ষোলো বয়স। ম্যাডান থিয়েটার তথা এলিট সিনেমাহলে ‘কার্তিকেয়’ দেখতে গিয়ে মনের মানুষের খোঁজ যেন আরও ভালো করে পেলেন অমলা, কার্তিকেয়রূপী উদয়শঙ্করকে দেখে। বিদেশ সফরে উদয়শঙ্কর একটি ফোর্ড গাড়ি উপহার পেয়েছিলেন। সেই গাড়িতে অমলা-সহ কয়েক জনকে নিয়ে কলকাতা থেকে দেহরাদুন হয়ে আলমোড়া যাওয়া উদয়শঙ্করের। অমলার কাছে এ যাত্রার স্বাদ ছিল আলাদা। বিচিত্র অনুভূতি – রোমান্সের সঙ্গে মিশে আছে লজ্জা, ভয়, দ্বিধা। বিত্তশালী, অসামান্য মেয়েরা উদয়ের জন্য পাগল। আর সেখানে অমলা তো একরত্তি মেয়ে। তবে জোর ছিল এক জায়গায়। যে দু’-একটি বই কিনে অমলাকে  দিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিল – উইথ লাভ, উদয়শঙ্কর। কত বার বই খুলে সেই নাম দেখা – উদয়শঙ্কর। একদিন মেঘ না চাইতেই জল এসে পড়ল কপালে। উদয়শঙ্কর জানালেন, ম্যাটিনি শো-তে মেট্রো হলে ছবি দেখতে যাওয়ার কথা। অমলার পথ যেন আরও মসৃণ হল।             

বাবা অক্ষয়কুমার নন্দীর সঙ্গে সেই আমলের বহু গুণীজনের ভালো আলাপ ছিল। তাঁদের মধ‍্যে ছিলেন সংগীতবিশারদ বিখ্যাত দিলীপকুমার রায়। অমলার নাচ দেখে প্রশংসা করে জানালেন, এ মেয়ে নাচ করে হৃদয় দিয়ে। ওঁরই উৎসাহে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের বাড়িতে একদিন নাচের আয়োজন করা হল। দেখতে এলেন সুভাষচন্দ্র বসুও। খদ্দরের শাড়ি পরা অমলার নাচ দেখে খুব খুশি সুভাষ। অক্ষয়বাবুকে প্রস্তাব দিলেন আলমোড়ায় উদয়শঙ্করের সেন্টারে অমলাকে পাঠিয়ে দিতে। উদয়শঙ্করের গুণমুগ্ধ ছিলেন সুভাষ, অথচ কেউ কাউকে কোনওদিন দেখেননি। উদয়শঙ্কর সম্পর্কে সুভাষ বলতেন, আই অ্যাম অ্যান আরডেন্ট অ্যাডমায়ারার অফ দিস ম‍্যান। সুভাষ যখন অসুস্থ হয়ে ভিয়েনায় ছিলেন তখন সেখানে উদয়শঙ্করের শো চলছিল। সেই সময় সেখানকার পত্রপত্রিকায় উদয়শঙ্করের কথা তিনি পড়েছিলেন।

সুভাষচন্দ্রের প্রস্তাবে অমলার মন নেচে উঠল। কিন্তু বাধ সাধলেন অক্ষয়বাবু। বিশেষ আমল দিলেন না সেই প্রস্তাবে। লেখালেখিতেই মন দেওয়ার কথা বললেন অমলাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুভাষচন্দ্রের হস্তক্ষেপেই আলমোড়ায় ‘শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচার সেন্টার’-এ  অমলার যাওয়া। সময়টা ১৯৩৯। আলমোড়ার শিক্ষাকেন্দ্রে ১৪টি বাংলো ছিল। তখন সেখানে ছিলেন সিমকি, জোহরা মমতাজ, উজরা বেগম। আলমোড়ার অনাবিল প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য আর শিল্পচর্চার আদর্শ ক্ষেত্র অমলাকে নিবিড় করে প্রশিক্ষিত করে তুলল। এক বছর টানা প্রশিক্ষণ চলল নৃত‍্যের সঙ্গে ধৈর্যের, সহ‍্যের, শারীরিক ক্ষমতার, খাঁটি ভারতীয় মেয়ের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা কতটুকু ইত‍্যাদির। সেই সময় একদিন বলেছিলেন, তিনি সাত ঘাটের জল খেয়েছেন, গঙ্গাজলের স্বাদ কী তা তিনি জানেন। মনের মধ‍্যে শ্রদ্ধা আর অনুরাগ নিয়ে প্রশিক্ষণ চলতে লাগল।

সপরিবার – পুত্র আনন্দ, কন্যা মমতা আর স্বামী উদয়শঙ্করের সঙ্গে।

ইতিমধ্যে মনে মনে ভালোলাগা আর ভালোবাসার পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে নিজেদের অজান্তেই। প্রেম তো বলে কয়ে আসে না। উদয় চিঠি লিখলেন অক্ষয়কুমারকে। তিনি রাজি ছিলেন না। কিন্তু আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের মধ‍্যস্থতায় বিয়ে পরিপূর্ণ রূপ পেল ১৯৪২-এ।

১৯৪৮-এ উদয়শঙ্কর পরিচালিত ‘কল্পনা’ ছবিতে উমা চরিত্রে অভিনয় করলেন অমলাশঙ্কর। এর পরে এগিয়ে যাওয়া। কী সাংসারিক ক্ষেত্রে কী কর্মক্ষেত্রে। পুত্র আনন্দ ও কন‍্যা মমতার মা হয়ে গেলেন। পাশাপাশি এক দক্ষ প্রশিক্ষক হয়ে উঠলেন নৃত‍্যশিল্পে। স্বামী উদয়শঙ্করের সৃষ্টি করা কাজকে ফিরিয়ে এনেছিলেন মঞ্চে। সামান্য ক্ষতি, ছায়ানৃত‍্য মহামানব, মেশিনড‍্যান্স, স্নানাম, গ্রামীণ নৃত‍্য, অস্ত্রপূজা, কার্তিকেয়, রামলীলা সহ নানা কৃষ্টি। অমলাশঙ্কর নিজে মঞ্চায়ন করেছিলেন পুত্র আনন্দশঙ্করের সুরপ্রয়োগে সীতা স্বয়ম্ভরা, যুগচন্দ্র। এ ছাড়াও বাসবদত্তা, চিদাম্বরা, চিত্রাঙ্গদা, কালমৃগয়া – সবেতেই শঙ্কর ঘরানার নৃত‍্যকৌশলের উপস্থিতি যা দর্শকদের  মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল। আজও আমরা তার প্রতিচ্ছবি পাই যোগ্য উত্তরসূরিদের নৃত্য পরিবেশনের মধ্যে।

অমলাশঙ্কর নিজে শুধু শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন এক পূর্ণ মা। শিল্পী হয়েও যিনি বহু ছাত্রছাত্রী ও নিজের শাখাপ্রশাখার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন শঙ্কর ঘরানাকে। মঞ্চ ও পোশাকের উৎকর্ষ নিয়ে প্রতিনিয়ত পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতেন।১৯৯১-এ পদ্মভূষণে ভূষিত হন অমলাশঙ্কর। ২০১২-তে কান্ ফেস্টিভ‍্যালে আবার  উপস্থিত ছিলেন তিনি। ছেলেবেলাতেও সব চেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ওই উৎসবে তাঁর উপস্থিতি সেই সময়ে অনেকের নজর কেড়েছিল।

১৯১৯-এর ১৭ জুন যশোরে জন্ম হয়েছিল অমলা নন্দীর। গত মাসেই উদযাপন করেছিলেন নিজের জন্মের ১০১ বছর। তার মাস খানেক পরেই চলে গেলেন চির ঘুমের দেশে। শিল্পীর মৃত্যু নেই। অমলাশঙ্কর বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনশীলতার মধ্যে, বেঁচে থাকবেন তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের মধ‍্যে।

উদয়শঙ্কর ও অমলাশঙ্কর অভিনীত ছবি কল্পনা

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া ১: ১১ বছর আগের পুরো ক্লাসটাই উঠে এল হোয়াটসঅ্যাপে, স্মৃতি রোমন্থনে বন্ধুরা

শ্রয়ণ সেন

বর্তমানে এরা বিভিন্ন জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ১১ বছর আগে এরা ছিল সদ্য তারুণ্যের দিকে পা বাড়ানো এক দল কিশোর-কিশোরী। বলা বাহুল্য, কিশোরী অনেক বেশি, কিশোর হাতে গোনা কয়েক জন।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে কারা যেন ‘সামাজিক দূরত্বের’ কথা বলে! এই শব্দবন্ধটা যে সম্পূর্ণ ভুল, তা বুঝিয়ে দিল ১১ বছর আগে স্কুলজীবন শেষ করা সেই কিশোর-কিশোরীরা। ২০০৯-এ শেষ হওয়া গোটা ক্লাসটাই উঠে এল হোয়াটসঅ্যাপে। ‘শারীরিক দূরত্ব’ বজায় থাকলেও নিজেদের মধ্যে তৈরি হল ‘সামাজিক বন্ধন।’

হ্যাঁ, এই প্রতিবেদকও সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। কারণ সে-ও যে তখন ওই ক্লাসে পড়ত। একাদশ আর দ্বাদশ শ্রেণির স্মরণীয় দু’টো বছর চরম আনন্দ করে কাটিয়েছিল সেও।

কিছু দিন আগেই এই প্রতিবেদকের এক সহপাঠিনী ফেসবুকে তাদের স্কুলজীবনের শেষ দিনের ছবি পোস্ট করে। ছবিগুলোর মধ্যে নিজেকে খুঁজতে গিয়েই চমকে যায় সে।

ছবিটা দেখে নিজেকে চিনতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল তার। ছবিটায় তার অনেক বন্ধুকে ট্যাগ করা হল। একটা পুনর্মিলনের আবহ তৈরি হল।

ছোটো থেকে সিবিএসই স্কুলে পড়েছে সে। তাই তার কাছে ক্লাস ১০-এর বোর্ড পরীক্ষা হল আদতে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষায় তার নম্বর খারাপ হয়নি। তবুও সুযোগ থাকা সত্বেও সে সায়েন্স না নিয়ে আর্টস বেছে নিয়েছিল।

ছোটো থেকেই আর্টসের প্রতি তার বেশি আগ্রহ। আর্টসকে ভিত্তি করেই সে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখল। তবে তার জন্য তাকে অন্য লোকের কথাও শুনতে হয়েছিল।

আর্টসে মেয়েরা বেশি পড়ে, ছেলে হয়ে সে যেন একা না হয়ে পড়ে, এমন কথা অনেকেই বলেছিল তাকে। বলতে দ্বিধা নেই কিছুটা নিরুৎসাহ করার জন্য এই কথাগুলো অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়েছে।

তার ক্লাসে মেয়েরাই বেশি ছিল, বলাই বাহুল্য। একাদশ শ্রেণিতে ৬ জন ছেলে থাকলেও, দ্বাদশে সেটা আরও কমে চার জনে নেমে এল। ক্লাসে নারী-পুরুষের অনুপাত ১:১০ হয়ে গেল। প্রতি দশ জন মেয়েতে একজন করে ছেলে। মানে ক্লাসে মোট ৪৪ জনের মধ্যে ৪০ জন ছিল মেয়ে, চার জন ছিল ছেলে। এর মধ্যে একটা ছেলে আবার সুযোগ পেলেই ডুব মারত।

ক্লাসে এই ১:১০ অনুপাত কি ছেলেদের কিছুটা ব্যাকফুটে রেখে দিয়েছিল? একদমই না। এই দু’টো বছর এই প্রতিবেদকের স্কুলজীবনের সেরা বছর ছিল নিঃসন্দেহে।

পড়াশোনার চাপ ছিল ভালোই, সেই সঙ্গে ছিল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্নেহ। তাদের আশীর্বাদ ছিল, ছিল বকুনিও। এই সবই ছিল জীবনে বড়ো হওয়ার ক্ষেত্রে পাথেয়।

পড়াশোনা যেমন চলত, তেমন সুযোগ পেলে বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটিও লেগে থাকত সমান তালে। একজন ছেলে তো আসতই না প্রায় স্কুলে। কিন্ত বাকি তিন জন ছেলে অর্থাৎ সে নিজে, অর্ণব আর শুভম নিজেদের মধ্যে খুব মজা করে কাটিয়েছে।

ওদের ঠিক পেছনের বেঞ্চেই বসত সুকন্যা, অভিরূপা, স্পৃহা, দেবদত্তা। ওদের সঙ্গে খুনসুটি লেগেই থাকত। খুনসুটির ব্যাপারগুলো বেশিমাত্রায় অবশ্য অর্ণব করত। এ ছাড়া অঙ্কিতা, পায়েল, গায়েত্রী, শ্রেয়সী, অরুণিমারাও খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছিল।

স্কুলজীবনে অর্ণব খুব প্রাণচঞ্চল ছিল। এখনও রয়েছে অবশ্য। ভারতের ক্রিকেট ম্যাচ থাকলে ও রেডিও নিয়ে আসত স্কুলে। টিফিনের সময়ে ছেলেরা চলে যেত পেছনে একটা ঘরে। ও রেডিও চালিয়ে দিত।  

টিফিন টাইমে ওই ঘরে সায়ান্স আর কমার্স স্ট্রিম থেকে বেশ কয়েক জন আসত। এক সঙ্গে হইহই করে টিফিন খেতে খেতে খেলার রিলে শোনা হত। টিফিনের পর আবার ক্লাস শুরু।

এই অর্ণবের জন্যই একটা মারাত্মক দুষ্টুমি এই প্রতিবেদক শিখেছিল ক্লাস ১২-এ উঠে। ওদের ভূগোল ল্যাবটা ছিল চার তলায়। তিন তলায় নিজেদের ক্লাসরুম থেকে ভূগোল ক্লাসের সময়ে রোজ ওই ল্যাবে যেতে হত। ল্যাবের ঠিক পাশেই লিফ্ট। স্বাভাবিক ভাবেই ওই লিফ্টে চড়ার অনুমতি ছিল না ছাত্রছাত্রীদের।

অর্ণবের মাথায় একটি কুবুদ্ধি এল। ও রোজ ভূগোল ল্যাবে ঢোকার আগে লিফ্টের সুইচটা টিপে দিত। বলা নেই, কওয়া নেই, ফাঁকা লিফ্ট নীচ থেকে চার তলায় উঠে আসত। এই ব্যাপারটায় বেশ মজা লাগত।

তার পর এক দিন সব শেষ হল।

দিনটা ছিল ২০ ডিসেম্বর ২০০৮। স্কুলজীবনের শেষ দিন। বড্ড মন খারাপের দিন। সকাল সাড়ে সাতটায় স্কুলে পৌঁছেই বোঝা গেল মুডটা পুরো অন্য রকম।

আন্টিরা বলেই দিয়েছিলেন কোনো ক্লাস হবে না, এমনকি প্রথম বারের মতো সে দিনই স্কুলে মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সবার চোখ জলে ভরে আসছে। জানি না আসন্ন পরীক্ষার পর আবার কবে আমাদের দেখা হবে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি। এই সময়টা তো আর ফিরবে না।

প্রথমে ক্লাসরুমের ভেতর, তার পর স্কুলের চাতালে খুব হইহল্লা হল। তার পর স্কুল শেষে গেটের বাইরে বেরিয়ে ফোটোসেশন। সেই ছবিগুলোই গত সপ্তাহে ফুটে উঠল ফেসবুকের দেওয়ালে।

স্কুল শেষ হওয়ার পরের বেশ কয়েকটা বছর অনেকেই অনেকের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। দু’এক জনের সঙ্গে দু’এক জনের সম্পর্ক থাকলেও, মোটের ওপরে গোটা ক্লাসটা বিচ্ছিন্নই হয়ে গিয়েছিল।

এর পর কলেজজীবন। সেটা পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাধা টপকে সবাই এখন জীবনে প্রতিষ্ঠিত। ক্লাসের অনেকেই এখন স্কুল বা কলেজের শিক্ষিকা হয়েছে। কেউ ট্র্যাভেল এজেন্সিতে কাজ করছে, কেউ আরও পড়াশোনা করে পিএইচডি করছে, কেউ গৃহকর্মে নিপুণা, অনেকেই মা হয়েছে, কেউ পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে সাংবাদিকতাকে। কেউ বলিউডের একজন অতিপরিচিত গায়েকের সাগরেদ হয়েছে।  

তবে সবার শিকড় তো একটা জায়গাতেই। বিডি মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউট, বর্তমানে যা বিডিএম ইন্টারন্যশনাল হিসেবে পরিচিত। সবার জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বীকার্য।  

সোশ্যাল মিডিয়ার খারাপ দিক হয়তো আছে, কিন্তু ঠিকঠাক ব্যবহার করলে তার ভালো দিক আরও অনেক বেশি। আজ থেকে কুড়ি বছর আগে এমনটা হলে পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পেতে হয়তো সাংঘাতিক বেগ পেতে হত। কিন্তু বর্তমানে ফেসবুকের যুগে সেটা আর কোনো সমস্যাই নয়।

গত রবিবার, অর্থাৎ ১৯ জুলাইয়ের কথা। এই প্রতিবেদকই ফেসবুকে তার স্কুলজীবনকে স্মরণ করে একটা লেখা লিখল। সেই লেখা যে তার বন্ধুদের মধ্যে এমন আবেগের বিচ্ছুরণ ঘটাবে সে আন্দাজ করতেই পারেনি। গোটা দিন ধরে স্কুলজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করে গেল তার বন্ধুরা। কিন্তু আসল ঘটনা ঘটল ওই দিন রাতে।

তৈরি হয়ে গেল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। ‘১১-১২ আর্টস ২০০৯ ব্যাচ’। অবশ্য এই গ্রুপ তৈরি করার পেছনে প্রতিবেদকের প্রাক্তন সহপাঠী বাদশাহর সব থেকে বড়ো অবদান। বলিউড গায়কের সাগরেদ সে-ই। থাকে মুম্বইয়ে। কিন্তু এখনও নিজের শিকড় ভোলেনি।

বাদশাহরই ইচ্ছা ছিল আবার সব বন্ধুর সঙ্গে পুনরায় আলাপ করবে। সেই ইচ্ছা থেকেই এই গ্রুপের আত্মপ্রকাশ। ব্যাচের অনেক বন্ধুকেই ওই গ্রুপের সদস্য করা হল। তবে এখনও সবাইকে সদস্য করা যায়নি। ৪৪ জনের মধ্যে সবে ৩০ জন সদস্য হয়েছে। বাকিদেরও গ্রুপে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

করোনাভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে বিভিন্ন রূপে লকডাউন চলছে। কোথাও খুব কড়া, খুব হালকা। কিন্তু চাকুরিরত অনেকেরই এই সময়টা এক রকমই চলছে। সব কিছুই বাড়ি বসে।

শিক্ষিকারাও বাড়ি বসে অনলাইন ক্লাস করছেন, যারা পড়াশোনা করছে, তারাও বাড়ি বসে। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত যারা, তারাও বাড়ি বসে কাজ করছে। বাড়িতে বসে টানা কাজের ফলে মানসিক ভাবে যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই পরিস্থিতিতে এই গ্রুপটাই যেন একটা অক্সিজেন। সারা দিনের কাজের ধকল মিটিয়ে ওই গ্রুপে গিয়ে আড্ডাটা সবার কাছেই উপভোগ্য। পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন তো থাকেই, সেই সঙ্গে আরও অনেক আড্ডায় মেতে ওঠে বন্ধুরা।

ঠিক এই কারণেই লকডাউনটা তাদের কাছে একটা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। হয়তো করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি না হলে কেউ স্কুলজীবনের কথা ভাবতই না। আর তখন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের প্রয়োজনীয়তাই থাকত না।

যা-ই হোক, এই গ্রুপ তো হল। গ্রুপে আড্ডাও হচ্ছে রোজ। কিন্তু এখানেই তো থেমে থাকা যায় না। বন্ধুরা তাই পরিকল্পনা করছে, করোনা অতিমারির শেষে একটা গ্র্যান্ড পুনর্মিলনের আয়োজন করবে, সে কলকাতাতেই হোক বা দু’ দিনের জন্য বাইরে কোথাও।

ওই যে বললাম না ‘সামাজিক দূরত্ব’ শব্দটা কতটা ভুল। এই বন্ধুরাই প্রমাণ করে দিল, নিজেদের মধ্যে ‘শারীরিক দূরত্ব’ যতটাই থাক, সামাজিক ভাবে তারা আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, ঠিক ১১ বছর আগের মতো।

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ও নয়নচাঁদ মল্লিক

পুরীর শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের অনুকরণে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে নয়নচাঁদ মল্লিক হুগলি জেলার মাহেশে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করান।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের অন্তর্গত মাহেশের খ্যাতি তার  জগন্নাথ মন্দির ও রথযাত্রার জন্য হলেও এই স্থান খুবই প্রাচীন।  মাহেশ গ্রামের উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি বিপ্রদাস পিপলাইয়ের ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে। সেই কাব্যে তদবর্ণিত সময়কাল সম্ভবত ১৪৯৫ সাল। তবে মাহেশের রথযাত্রা তারও প্রাচীন। মাহেশের বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল ১৭৫৫ সালে। সেই মন্দির নির্মাণের খরচ বহন করেন কলকাতার বড়োবাজার অঞ্চলের মল্লিক পরিবারের নয়নচাঁদ মল্লিক মহাশয়। ভারতবর্ষের দ্বিতীয় প্রাচীনতম জগন্নাথমন্দির ও মল্লিক বংশের কিছু তথ্যই এই নিবন্ধে লিপিবদ্ধ করলাম।

দানবীর নিমাইচরণ মল্লিক কলকাতার বড়োবাজারের মল্লিক বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আনুমানিক ১৭৩৬সালে। এই পরিবারের মূল উপাধি ‘দে’, পরবর্তী কালে মল্লিক উপাধি প্রাপ্ত হন। এই বংশের স্বনামধন্য পুরুষ বনমালী মল্লিক তাঁর জমিদারির মধ্যে কাঁচড়াপাড়ার কাছে জনসাধারণের সুবিধার জন্য একটি খাল কাটান। সেই খাল এখনও মল্লিকদের খাল নামে প্রসিদ্ধ। সেই বনমালী মল্লিকের পুত্র বৈদ্যনাথ মল্লিক শ্রীশ্রীসিংহবাহিনী দেবীকে পেয়েছিলেন এবং এই মূর্তিপ্রাপ্তির পরই তাঁর বংশের শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে শুরু করে।

নিমাইচরণের পিতামহ দর্পনারায়ণ মল্লিক ও নিমাইচরণের পিতার নাম নয়নচাঁদ মল্লিক। নয়নচাঁদ অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। কলকাতার বড়োবাজারের একটি পাকা রাস্তা তৈরি করে সাধারণ মানুষের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দান করেন। নয়নচাঁদ মল্লিক ছিলেন ইংরাজি, বাংলা ও ফারসি, এই তিন ভাষায় বিজ্ঞ। পিতার মৃত্যুর পর নিমাইচরণ মল্লিক প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন।  নিজের প্রতিভাবলে নিমাইচরণ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে বিশাল খ্যাতি লাভ করেন এবং একজন প্রসিদ্ধ সওদাগর ও ব্যাঙ্কার হিসাবে পরিচিতও হয়েছিলেন।

পুরীর শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের অনুকরণে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে নয়নচাঁদ মল্লিক হুগলি জেলার মাহেশে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট এবং মন্দিরের বিগ্রহ জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবী। মন্দির ও সেই মন্দিরের সেবায়েতগণের বসতি নিয়ে প্রায় তিন বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই মন্দির।

মাহেশের রথযাত্রা শুরু করার ক্ষেত্রে এক বহু প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। বস্তুত পক্ষে বর্তমানে মাহেশ এখন বঙ্গের রথযাত্রা উৎসবের কেন্দ্রস্থল হিসাবে পরিচিত এবং ভারতবর্ষের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথ, পুরীর পরেই।

সন্ন্যাসী-সাধক শ্রী ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী একবার পুরীর রথযাত্রায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তাঁর নিজের হাতে ভোগ রান্না করে জগন্নাথদেবকে নিবেদন করবেন। কিন্তু মন্দিরের পুরোহিতরা তাঁর এই ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত হতে দেননি। ধ্রুবানন্দ মনঃকষ্টে ভেঙে পড়ায় জগন্নাথদেব তাঁকে মাহেশে আসার নির্দেশ দিলেন এবং প্রভুর কথা মতন তিনি মাহেশে উপস্থিত হলেন। একদিন গঙ্গার ধারে ধ্রুবানন্দ বসে দেখলেন গঙ্গায় নিমকাঠ ভেসে আসছে। সেই নিমকাঠ দিয়েই তৈরি হল মাহেশের জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবী। তার পর ১৩৯৭ সালে মাহেশের প্রাচীন মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হলেন তিন বিগ্রহ।

নবরত্ন মন্দিরের আদলে মাহেশের রথ।

কিন্তু মাহেশের সেই প্রাচীন মন্দির আজ আর নেই। সেই স্থানেই ২০,০০০ টাকা খরচ করে বড়োবাজারের মল্লিক বংশের নয়নচাঁদ মল্লিক মন্দির নির্মাণ করালেন।

ঠাকুরের নিত্যভোগরাগে সাড়ে বারো সের চালের অন্ন নিবেদন করা হয়। নিত্য ভোগের জন্য নিমাই মল্লিকের দান বার্ষিক ১৯২ টাকা ও রামমোহন মল্লিকের ট্রাস্ট ফান্ডের দান ১৫০টাকা। খিচুড়ি ভোগের জন্য নিমাই মল্লিকের স্বতন্ত্র দান ছিল বার্ষিক ৪৩৬ টাকা। বর্তমানে মল্লিক পরিবারের পক্ষ থেকে মাহেশের জগন্নাথদেবের সেবাপুজোর জন্য আরও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়।

নিমাইচরণ মল্লিকের কনিষ্ঠপুত্র মতিলাল মল্লিক গঙ্গার ধারে সুদৃশ্য রাসমঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন। মতিলালের পোষ্যপুত্র যদুলাল মল্লিক রাসযাত্রার সময় মাহেশে গিয়ে প্রচুর অর্থ দান করতেন। রথ, স্নানযাত্রা, দোল, ঝুলন ও রাস মাহেশে বিখ্যাত। সমস্ত কিছু উৎসবের মধ্যেও মাহেশের রথে ভক্তদের ভিড় দেখার মতন।

মাহেশের রথে চেপে জগন্নাথ তাঁর দুই ভাই বোনকে নিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন রথযাত্রার দিন এবং উল্টোরথের দিন ফিরে আসেন নিজ মন্দিরে। তার পর তিন বিগ্রহকে রথ থেকে নামিয়ে মন্দিরে পুনরায় বসানো হয়।

মাহেশের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। ১৩৯৭ সাল থেকে মাহেশের রথ অপরিবর্তিত থাকলেও চারশো বছর পর অর্থাৎ ১৭৯৭ সালে শ্রীরামকৃষ্ণশিষ্য বলরাম বসুর পিতামহ কৃষ্ণরাম বসু রথ তৈরির জন্য অর্থ দান করেছিলেন। তাঁর পুত্র গুরুপ্রসাদ বসু রথের সংস্কার করান ১৮৩৫ সালে। কিন্তু সেই রথ আগুন লেগে নষ্ট হয়ে গেলে কালাচাঁদ বসু রথ নির্মাণ করান ১৮৫২সালে। সেই রথের ভেতরে  একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলে বিশ্বম্ভর বসু ১৮৫৭ সালে আরও একটি রথ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রথও টিকল না। বিশ্বম্ভরবাবুর নির্মিত রথও পুড়ে যায়। তার পর আসে বর্তমান রথটি। মার্টিন বার্ন কোম্পানিকে দিয়ে সেই তৈরি করান দেওয়ান কৃষ্ণচন্দ্র বসু। লোহার রথটি আজও অটুট। ৪৫ ফুট উচ্চতার রথ বাংলার নবরত্ন মন্দিরের আদলে তৈরি।

এই রথটি তৈরি করতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল। ঐতিহ্যপূর্ণ মাহেশের রথযাত্রা দর্শন করতে এসেছিলেন শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, শ্রী মা সারদাদেবী, গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ মহাপুরুষরা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের পটভূমি ছিল এই মাহেশের রথ। আজ প্রায় ৬২৫ বছর ধরে মাহেশের রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে মহাসমারোহে, যদিও এ বছর করোনার কারণে রথ না বেরোলেও পুজো হয়েছে সব কিছু নিয়ম মেনেই।

Continue Reading
Advertisement
দেশ5 hours ago

৩৫ ফুট গভীর খাদে, কোড়িকোড়ে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ১৭

দেশ7 hours ago

কোড়িকোড়ে কী ভাবে ধ্বংস হয়ে গেল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানটি?

রাজ্য9 hours ago

টেস্ট বাড়লেও অল্প কমল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, রাজ্যে কমল মৃত্যুর হারও

দেশ9 hours ago

কোড়িকোড়ে ১৯১ জন যাত্রী নিয়ে পিছলে গিয়ে দু’টুকরো এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমান, মৃত পাইলট-সহ ১১

খেলাধুলো9 hours ago

জাতীয় দলের অধিনায়ক-সহ পাঁচ ভারতীয় হকি খেলোয়াড় করোনা পজিটিভ

শরীরস্বাস্থ্য10 hours ago

যষ্টিমধু কেন খাবেন? জেনে নিন উপকারিতা

relation
জীবন যেমন10 hours ago

দীর্ঘ বিচ্ছেদে উৎকণ্ঠায় ভুগছেন? কী ভাবে সামলাবেন এই পরিস্থিতি?

দেশ10 hours ago

পাকস্থলি-জনিত অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি মুলায়ম সিং যাদব

দেশ21 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৬২৫৩৮, সুস্থ ৪৯৭৬৯

গাড়ি ও বাইক3 days ago

পেট্রোলচালিত গাড়ি ‘এস-ক্রস’ বাজারে নিয়ে এল মারুতি সুজুকি

ক্রিকেট3 days ago

অঘটন! ৩২৯ তাড়া করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারাল আয়ারল্যান্ড

ক্রিকেট3 days ago

আইপিএলের নিয়মাবলি: গুচ্ছের টেস্টিং, চলা-ফেরায় নিয়ন্ত্রণ, একটি দলের জন্য একটি হোটেল

দেশ3 days ago

রুপোর ইট দিয়ে রামমন্দিরের শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

প্রযুক্তি2 days ago

শাওমি, বাইডু-সহ আরও বেশ কয়েকটি চিনা সংস্থার অ্যাপ নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র

Hrithik Roshan
বিনোদন2 days ago

‘ক্রিশ ৪’ নয়, তার আগেই একটি কমেডি ছবিতে হৃতিক রোশনকে দেখা যাবে?

কলকাতা2 days ago

রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতার একাংশ

রবিবারের খবর অনলাইন

কেনাকাটা

কেনাকাটা1 day ago

ঘর ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম কিনতে চান? অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্ক : অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ঘর আর রান্না ঘরের একাধিক সামগ্রিতে প্রচুর ছাড়। এই সেলে পাওয়া যাচ্ছে ওয়াটার...

কেনাকাটা1 day ago

এই ১০টির মধ্যে আপনার প্রয়োজনীয় প্রোডাক্টটি প্রাইম ডে সেলে কিনতে পারেন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : চলছে অ্যামাজনের প্রাইমডে সেল। প্রচুর সামগ্রীর ওপর রয়েছে অনেক ছাড়। ৬ ও ৭  তারিখ চলবে এই সেল।...

কেনাকাটা2 days ago

শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল, জেনে নিন কোন জিনিসে কত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্: শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল। চলবে ২ দিন। চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখ থাকছে এই অফার।...

things things
কেনাকাটা1 week ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা1 week ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা2 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা2 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা3 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

laptop laptop
কেনাকাটা3 weeks ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

নজরে

Click To Expand