Connect with us

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ও নয়নচাঁদ মল্লিক

পুরীর শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের অনুকরণে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে নয়নচাঁদ মল্লিক হুগলি জেলার মাহেশে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করান।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের অন্তর্গত মাহেশের খ্যাতি তার  জগন্নাথ মন্দির ও রথযাত্রার জন্য হলেও এই স্থান খুবই প্রাচীন।  মাহেশ গ্রামের উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি বিপ্রদাস পিপলাইয়ের ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে। সেই কাব্যে তদবর্ণিত সময়কাল সম্ভবত ১৪৯৫ সাল। তবে মাহেশের রথযাত্রা তারও প্রাচীন। মাহেশের বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল ১৭৫৫ সালে। সেই মন্দির নির্মাণের খরচ বহন করেন কলকাতার বড়োবাজার অঞ্চলের মল্লিক পরিবারের নয়নচাঁদ মল্লিক মহাশয়। ভারতবর্ষের দ্বিতীয় প্রাচীনতম জগন্নাথমন্দির ও মল্লিক বংশের কিছু তথ্যই এই নিবন্ধে লিপিবদ্ধ করলাম।

দানবীর নিমাইচরণ মল্লিক কলকাতার বড়োবাজারের মল্লিক বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আনুমানিক ১৭৩৬সালে। এই পরিবারের মূল উপাধি ‘দে’, পরবর্তী কালে মল্লিক উপাধি প্রাপ্ত হন। এই বংশের স্বনামধন্য পুরুষ বনমালী মল্লিক তাঁর জমিদারির মধ্যে কাঁচড়াপাড়ার কাছে জনসাধারণের সুবিধার জন্য একটি খাল কাটান। সেই খাল এখনও মল্লিকদের খাল নামে প্রসিদ্ধ। সেই বনমালী মল্লিকের পুত্র বৈদ্যনাথ মল্লিক শ্রীশ্রীসিংহবাহিনী দেবীকে পেয়েছিলেন এবং এই মূর্তিপ্রাপ্তির পরই তাঁর বংশের শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে শুরু করে।

নিমাইচরণের পিতামহ দর্পনারায়ণ মল্লিক ও নিমাইচরণের পিতার নাম নয়নচাঁদ মল্লিক। নয়নচাঁদ অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। কলকাতার বড়োবাজারের একটি পাকা রাস্তা তৈরি করে সাধারণ মানুষের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দান করেন। নয়নচাঁদ মল্লিক ছিলেন ইংরাজি, বাংলা ও ফারসি, এই তিন ভাষায় বিজ্ঞ। পিতার মৃত্যুর পর নিমাইচরণ মল্লিক প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন।  নিজের প্রতিভাবলে নিমাইচরণ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে বিশাল খ্যাতি লাভ করেন এবং একজন প্রসিদ্ধ সওদাগর ও ব্যাঙ্কার হিসাবে পরিচিতও হয়েছিলেন।

পুরীর শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের অনুকরণে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে নয়নচাঁদ মল্লিক হুগলি জেলার মাহেশে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট এবং মন্দিরের বিগ্রহ জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবী। মন্দির ও সেই মন্দিরের সেবায়েতগণের বসতি নিয়ে প্রায় তিন বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই মন্দির।

মাহেশের রথযাত্রা শুরু করার ক্ষেত্রে এক বহু প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। বস্তুত পক্ষে বর্তমানে মাহেশ এখন বঙ্গের রথযাত্রা উৎসবের কেন্দ্রস্থল হিসাবে পরিচিত এবং ভারতবর্ষের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথ, পুরীর পরেই।

সন্ন্যাসী-সাধক শ্রী ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী একবার পুরীর রথযাত্রায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তাঁর নিজের হাতে ভোগ রান্না করে জগন্নাথদেবকে নিবেদন করবেন। কিন্তু মন্দিরের পুরোহিতরা তাঁর এই ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত হতে দেননি। ধ্রুবানন্দ মনঃকষ্টে ভেঙে পড়ায় জগন্নাথদেব তাঁকে মাহেশে আসার নির্দেশ দিলেন এবং প্রভুর কথা মতন তিনি মাহেশে উপস্থিত হলেন। একদিন গঙ্গার ধারে ধ্রুবানন্দ বসে দেখলেন গঙ্গায় নিমকাঠ ভেসে আসছে। সেই নিমকাঠ দিয়েই তৈরি হল মাহেশের জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবী। তার পর ১৩৯৭ সালে মাহেশের প্রাচীন মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হলেন তিন বিগ্রহ।

নবরত্ন মন্দিরের আদলে মাহেশের রথ।

কিন্তু মাহেশের সেই প্রাচীন মন্দির আজ আর নেই। সেই স্থানেই ২০,০০০ টাকা খরচ করে বড়োবাজারের মল্লিক বংশের নয়নচাঁদ মল্লিক মন্দির নির্মাণ করালেন।

ঠাকুরের নিত্যভোগরাগে সাড়ে বারো সের চালের অন্ন নিবেদন করা হয়। নিত্য ভোগের জন্য নিমাই মল্লিকের দান বার্ষিক ১৯২ টাকা ও রামমোহন মল্লিকের ট্রাস্ট ফান্ডের দান ১৫০টাকা। খিচুড়ি ভোগের জন্য নিমাই মল্লিকের স্বতন্ত্র দান ছিল বার্ষিক ৪৩৬ টাকা। বর্তমানে মল্লিক পরিবারের পক্ষ থেকে মাহেশের জগন্নাথদেবের সেবাপুজোর জন্য আরও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়।

নিমাইচরণ মল্লিকের কনিষ্ঠপুত্র মতিলাল মল্লিক গঙ্গার ধারে সুদৃশ্য রাসমঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন। মতিলালের পোষ্যপুত্র যদুলাল মল্লিক রাসযাত্রার সময় মাহেশে গিয়ে প্রচুর অর্থ দান করতেন। রথ, স্নানযাত্রা, দোল, ঝুলন ও রাস মাহেশে বিখ্যাত। সমস্ত কিছু উৎসবের মধ্যেও মাহেশের রথে ভক্তদের ভিড় দেখার মতন।

মাহেশের রথে চেপে জগন্নাথ তাঁর দুই ভাই বোনকে নিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন রথযাত্রার দিন এবং উল্টোরথের দিন ফিরে আসেন নিজ মন্দিরে। তার পর তিন বিগ্রহকে রথ থেকে নামিয়ে মন্দিরে পুনরায় বসানো হয়।

মাহেশের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। ১৩৯৭ সাল থেকে মাহেশের রথ অপরিবর্তিত থাকলেও চারশো বছর পর অর্থাৎ ১৭৯৭ সালে শ্রীরামকৃষ্ণশিষ্য বলরাম বসুর পিতামহ কৃষ্ণরাম বসু রথ তৈরির জন্য অর্থ দান করেছিলেন। তাঁর পুত্র গুরুপ্রসাদ বসু রথের সংস্কার করান ১৮৩৫ সালে। কিন্তু সেই রথ আগুন লেগে নষ্ট হয়ে গেলে কালাচাঁদ বসু রথ নির্মাণ করান ১৮৫২সালে। সেই রথের ভেতরে  একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলে বিশ্বম্ভর বসু ১৮৫৭ সালে আরও একটি রথ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রথও টিকল না। বিশ্বম্ভরবাবুর নির্মিত রথও পুড়ে যায়। তার পর আসে বর্তমান রথটি। মার্টিন বার্ন কোম্পানিকে দিয়ে সেই তৈরি করান দেওয়ান কৃষ্ণচন্দ্র বসু। লোহার রথটি আজও অটুট। ৪৫ ফুট উচ্চতার রথ বাংলার নবরত্ন মন্দিরের আদলে তৈরি।

এই রথটি তৈরি করতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল। ঐতিহ্যপূর্ণ মাহেশের রথযাত্রা দর্শন করতে এসেছিলেন শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, শ্রী মা সারদাদেবী, গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ মহাপুরুষরা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের পটভূমি ছিল এই মাহেশের রথ। আজ প্রায় ৬২৫ বছর ধরে মাহেশের রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে মহাসমারোহে, যদিও এ বছর করোনার কারণে রথ না বেরোলেও পুজো হয়েছে সব কিছু নিয়ম মেনেই।

ক্রিকেট

রবিবারের পড়া ২ / রানআউটে শুরু, রানআউটেই শেষ…

ধোনি কিন্তু নিজের মর্জিমাফিক চলেন বোঝা যায়। টেস্ট থেকে যেমন আচমকা অবসর ঘোষণা করেছিলেন, তেমনই সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে যখন অবসর ঘোষণা করলেন তখন তাঁর জন্য একটি বিদায় ম্যাচের আয়োজন করারও উপায় নেই।

Published

on

শ্রয়ণ সেন

১০ জুলাই ২০১৯। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপ্টিলের দুরন্ত একটা থ্রো শেষ করে দিল ১৩০ কোটির স্বপ্ন। একটুর জন্য ক্রিজের ভেতরে ঢুকতে পারেনি তাঁর ব্যাট, আর তাতেই সব স্বপ্নের জলাঞ্জলি।

বরাবরের আবেগহীন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সে দিন কিন্তু নিজের আবেগকে চেপে রাখতে পারেননি। প্যাভিলিয়নে ফেরার সময়ে তাঁর চোখে জল দেখা গিয়েছিল স্পষ্ট। ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ধোনির ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটে খুব একটা ঘটেনি, কিন্তু সে দিন হয়েছিল।

গত দু’ বছর ধরেই ধোনির ফর্ম পড়ে গিয়েছিল। শেষের দিকে নেমে রান পেলেও আগের মতো সেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধোনি কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন। তবুও একটা স্বপ্ন ছিল, ধোনির হাত ধরেই ভারত আরও একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে।

কিন্তু সেই সব স্বপ্ন শেষ করে দিল সেই দুঃস্বপ্নের রানআউট। রানআউট হওয়ার আগে ওই ম্যাচটায় খারাপ খেলেননি ধোনি। অর্ধশতরান করেছিলেন। কিন্তু ভারতের ব্যর্থতায় সেই সব কিছুই চাপা পড়ে গেল।

ধোনি কিন্তু ভারতের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি। তাঁর অবসরের ঘোষণা ছিল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তবুও আশায় ছিলেন ক্রিকেটভক্তরা। যদি কোনো ভাবে নিজের মত বদল করেন তিনি।

সেই সেমিফাইনালে রানআউটের মধ্যে দিয়ে শেষ হওয়া কেরিয়ারের সুচনাও হয়েছিল রানআউট দিয়েই।

সেটা ২০০৪-এর ডিসেম্বর। ঘরোয়া ক্রিকেটে তখন ফুলিঝুরি ঝরাচ্ছেন বছর ২৩-এর ধোনি। রাহুল দ্রাবিড়ের ওপর থেকে ভার কিছুটা হালকা করার জন্য একদিনের ক্রিকেটে ভারতের দরকার ভালো নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জোরাজুরির কারণে বাংলাদেশ সফররত ভারতের একদিনের দলে ধোনিকে জায়গা দিতে বাধ্য হলেন নির্বাচকরা।

[চট্টগ্রামের অভিষেক ম্যাচে রানআউট ধোনি]

কিন্তু শুরুটা যে ভালো হল না ধোনির। চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে ব্যাট করতে নেমেই রানআউট। খাতা খোলার সুযোগই এল না তাঁর কাছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে মোটামুটি নাম করে ফেলা ধোনির এ হেন অভিশপ্ত অভিষেক কেউ কল্পনাই করতে পারেননি।

তবে ধোনিকে নিজের জাত চেনাতে লাগল মাত্র পাঁচটা ম্যাচ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচ ছিল সেটা। ফাটকা খেলে তিন নম্বরে ধোনিকে নামিয়েছিলেন সৌরভ। আর তাতেই বাজিমাত। ১২৩ বলে ১৪৮ রানের দুর্ধর্ষ একটি ইনিংস। ব্যাস, তার পর আর তাঁকে ফিরে তাকাতে হয়নি।

[বিশাখাপত্তনমে শতরানের পর]

কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও ধোনি-তাণ্ডব। এ বার জয়পুরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। তাঁর ব্যাট থেকে বেরোল অপরাজিত ১৮৩ রানের দুর্ধর্ষ একটা ইনিংস।

এর পর টেস্ট ক্রিকেটেও নিয়ে আসা হল ধোনিকে। আর সেখানেও কয়েক মাস পরেই বাজিমাত। ২০০৬-এর পাকিস্তান সফরে ফৈজলাবাদ টেস্টে শোয়েব আখতারদের ঠেঙিয়ে ১৪৮ রানের তুখোড় একটি ইনিংস। ঝাঁকড়া চুলের ধোনি তত দিনে গোটা বিশ্বে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন। তাঁর চুলের জন্য ফ্যান হয়ে গিয়েছেন স্বয়ং পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পরভেজ মুশারফ। ধোনিকে চুল না কাটারও আবদার করেছিলেন মুশারফ। যদিও পরের বছরই সেই চুল ছেঁটে ফেলেন মাহি।

[ফৈজলাবাদ টেস্টে শতরান করে ধোনি]

আসলে দায়িত্ব বাড়তেই এই বাড়তি বোঝা নিজের শরীরের ওপর থেকে ঝেড়ে ফেলেন ধোনি। ধোনি তত দিনে ভারতের অধিনায়ক হয়ে গিয়েছেন। অধিনায়কের কেরিয়ারের শুরুতেই বাজিমাত।

২০০৭-এ ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের গ্রুপ লিগেই বিদায়ের পর কেউ ভাবতেই পারেনি যে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে টি২০ বিশ্বকাপে ভারত আদৌ ভালো ফল করতে পারবে বলে।

সম্ভবত নির্বাচকদেরও বেশি আশা ছিল না। আর তাই সৌরভ-সচিন-দ্রাবিড়দের বাদ দিয়ে পুরোপুরি যুবদল ভারত পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকায় টি২০ বিশ্বকাপের জন্য। অধিনায়ক করা হয় ধোনিকে। ওই দলে বেশি অভিজ্ঞতার যুবরাজ থাকলেও নির্বাচকরা ভরসা করেন ধোনির ওপরেই। আর এটাই হয়ে যায় এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

[২০০৭-এ টি২০ বিশ্বকাপে জয়ের পর]

ধোনির নেতৃত্বে টি২০ বিশ্বকাপ ঘরে তোলে ভারত। টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাকিস্তান, সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া, তার আগে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারিয়ে নজির তৈরি করে ভারত। এই বিশ্বজয়ের পরেই ভারতের একদিনের আর টেস্ট দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেন রাহুল দ্রাবিড়। একদিনের অধিনায়কের কুর্সিতেও বসে পড়েন ধোনি।

তার পরেই ভারতীয় ক্রিকেটের এক স্বর্ণযুগের শুরু। কার্যত ‘ম্যান উইথ দ্য মিডাস টাচ’ হয়ে যান ধোনি। ২০০৮-এ অনিল কুম্বলের অবসরের পরে টেস্ট দলের দায়িত্বও তাঁর হাতে চলে আসে।

একদিনের দলকে নিজের মতো করে তৈরি করতে গিয়ে বেশ কিছু অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাঁকে। সৌরভ আর দ্রাবিড়ের মতো সিনিয়রদের একদিনের দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন। প্রবল সমালোচিত হয়েছিলেন বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু তাঁর হাতে তৈরি ভারতীয় দল ফল দিয়েছিল।

ধোনি যে ভাবে একদিনের দল তৈরি করতে চেয়েছিলেন, সেটাই করেছিলেন। আর তার ফলস্বরূপ ২০১১-তে বিশ্বজয়।

[২০১১-এ বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে ধোনি]

নিঃসন্দেহে ধোনির কেরিয়ারে সব থেকে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ভারতের এই বিশ্বজয়। এর ঠিক দু’ বছরের মাথায় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দখল নিল ভারত। ধোনিই প্রথম অধিনায়ক যিনি আইসিসির তিনটে টুর্নামেন্টেই নিজের দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেন।

পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে ভারতের সব থেকে সফল অধিনায়ক হয়ে যান ধোনি। সৌরভের রেকর্ড ভেঙে টেস্টে সর্বাধিক জয়ের রেকর্ডেরও মালিক হন অধিনায়ক ধোনি, পরবর্তীকালে যে রেকর্ডের দখল নিয়েছেন বিরাট কোহলি।

কিন্তু এর মধ্যে একটি বিতর্কও থেকে যায়। পরিসংখ্যানের দিক থেকে সব থেকে সফল অধিনায়ক হলেই কি তাঁকে সফল বলা চলে?

বিদেশে টেস্ট জয়ের নিরিখে ধোনি কিন্তু সৌরভ আর বিরাট কোহলির থেকে পিছিয়েই শেষ করলেন। বিদেশের মাঠে ২৫টা টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ৬টায় ভারতকে জিতিয়েছেন ধোনি। ভারত হেরেছে ১১টি টেস্টে।

তবে ধোনির টেস্ট ক্রিকেট খুব একটা প্রিয় ছিল না, সেটা তিনি বুঝিয়ে দেন ২০১৪-এর ডিসেম্বরে। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সবাইকে চমকে দিয়ে টেস্ট থেকে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন মাহি। এর পর শুধুই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মনোনিবেশ করেন তিনি।

২০১৫-এর বিশ্বকাপে ধোনির নেতৃত্বে ভারত সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। গোটা টুর্নামেন্টে ভারত একটা মাত্র ম্যাচেই হেরেছিল। অস্ট্রেলিয়ার কাছে সেমিফাইনালে।

এর পরের বছরের এক্কেবারে শেষলগ্নে একদিনের ম্যাচের অধিনায়কত্বও ছেড়ে দেন মাহি। বিরাট কোহলির কাঁধে দায়িত্ব চলে আসে। তবে বকলমে ভারতের অধিনায়ক ধোনিই ছিলেন, সেটা পরতে পরতে বোঝা গিয়েছে। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ধোনিকে অনেক বার ফিল্ড সেট করতে দেখা গিয়েছে।

বিরাট কোহলিও ধোনিকে অসম্ভব ভরসা করতেন। আর সেই কারণেই শেষ দু’ বছর তাঁর ব্যাটিং ফর্ম পড়ে গেলেও ধোনি সম্পর্কে কোনো বিরূপ ধারণা তৈরি হয়নি কোহলির। অধিনায়কের ব্যাকিং সব সময়ে পেয়ে গিয়েছিলেন ধোনি। এমনকি ক্রিকেটবিশ্ব যখন ধোনির সমালোচনায় মুখর, তখন তার জবাব কোহলিই দিয়েছেন।

কিন্তু যতই অধিনায়কের সমর্থন থাকুক, ধোনির নিজের ফর্ম যে পড়তির দিকে সেটা তিনিও সম্ভবত বুঝতে পারছিলেন। তবুও তাঁর আশা ছিল ভারতকে আরও একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেই ক্রিকেট মাঠকে বিদায় জানাবেন তিনি।

কিন্তু মার্টিন গাপ্টিলের একটা রানআউট তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দিল না। রানআউটে শুরু হওয়া একটি কেরিয়ার শেষ হল রানআউটের মধ্যে দিয়েই।

[যে রানআউটে শেষ হয়ে গেল ১৩০ কোটির স্বপ্ন]

ধোনি কিন্তু নিজের মর্জিমাফিক চলেন বোঝা যায়। টেস্ট থেকে যেমন আচমকা অবসর ঘোষণা করেছিলেন, তেমনই সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে যখন অবসর ঘোষণা করলেন তখন তাঁর জন্য একটি বিদায় ম্যাচের আয়োজন করারও উপায় নেই।

তবুও আমরা চাই, আপামর ক্রিকেটভক্ত চায়, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও চান, অন্তত একটা ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলুন ধোনি। করোনার দাপট কমে গেলে সামনের বছর দর্শকভরতি কোনো স্টেডিয়ামেই হোক এই ম্যাচ।

আপাতত চেন্নাই সুপারকিংসের হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে ধোনিকে। কিন্তু নীল জার্সির মাহাত্ম্য যে সব সময় আলাদা।

২০১১-এর বিশ্বকাপের ফাইনালে ছয় মেরে ভারতকে জেতানোর সময়ে রবি শাস্ত্রীর বিখ্যাত ধারাবিবরণীটা এখনও মনে পড়ে, “ধোনি ফিনিসেজ অফ ইন স্টাইল!”

সেটাই কিন্তু এ বারও হল। একবারে নিজস্ব ঢঙে, নিজস্ব কায়দায় কেরিয়ার শেষ করলেন মাহি।

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া ১ / ঠিক ৪০ বছর আগের ১৬ আগস্ট

ঘরে ঘরে প্রিয়জনদের উদগ্রীব অপেক্ষা – ছেলেটা ঘরে ফিরল? পাড়ায় পাড়ায় জিজ্ঞাসা – ছেলেটা ফিরেছে?

Published

on

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

মায়ের সঙ্গে একবার গঙ্গাস্নান করতে বাবুঘাটে এসে ছেলেটি অবাক হয়ে দেখেছিল, একটু দূরে সেনাব্যারাকের পাশের মাঠে একদল গোরা একটা পেটমোটা গোল জিনিস নিয়ে খেলছে, ছুটছে, পায়ে পায়ে কেড়ে নিচ্ছে…। হঠাৎ ফেনসিং-এর ধারে সেই গোল জিনিসটা চলে এল। একজন গোরা ছুটে এসে সেটা চাইল। ছেলেটি তৎক্ষণাৎ সেই গোল জিনিসটা তুলে নিয়ে গোরার দিকে ছুড়ে দিল। তার পর তার ফিরে আসা মায়ের সঙ্গে। কিন্তু মনের মধ্যে সেই মুহূর্তগুলো জ্বলজ্বল করতে লাগল। ভাবনায় বার বার ঘুরে ঘুরে আসতে লাগল।

ছেলেটি কলকাতার হেয়ার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তার অভিজ্ঞতার কথা বন্ধুদের কাছে বলল। জানল, ওই পেটমোটা গোল বস্তুটা হল ‘বল’, আর খেলাটার নাম ‘ফুটবল’। ছেলেটির নাম নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী। তারই উদ্যমে কেনা হল একটি বল। সেই জোগাড় করল তার স্কুলের সহপাঠীদের। নামল সবাই মিলে মাঠে, শুরু হল খেলা। কিন্তু সে খেলা ছিল এলোপাথাড়ি – যে যে দিকে পারে ছুটছে, এলোপাথাড়ি লাথি মারছে, বল পায়ে পেলে যে দিকে খুশি মেরে দিচ্ছে – সে এক হট্টগোলের হল্লাগুল্লা খেলা।

১৮৭৯-এর সেই গোড়ার কথা

পাশেই হিন্দু কলেজ। সেখানকার কয়েক জন ছাত্রও জুটে গেল তাদের সঙ্গে। কয়েক দিন পরে হিন্দু কলেজের (পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ, অধুনা বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক বি ভি স্ট্যাকের নজরে পড়ল ঘটনাটা। শেষে তিনিই উদ্যোগী হয়ে নিয়ে এলেন নতুন বল। শেখালেন খেলার নিয়মকানুন। ছাত্রদের দু’ দলে ভাগ করে দিয়ে তিনিই রেফারি হিসাবে মুখে বাঁশি নিয়ে মাঠে নামলেন। শুরু হল বাংলার মাটিতে ফুটবলের ইতিহাস। সময়টা ১৮৭৯।

নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী।

তখন থেকেই শুরু বাংলা ও বাঙালির ফুটবল-ইতিহাসের অগ্রগতি। একে একে জন্ম নিল ওয়েলিংটন ক্লাব (পরে টাউন ক্লাব), শোভাবাজার ক্লাব, মোহনবাগান ক্লাব, ইস্টবেঙ্গল ক্লাব, মহমেডান স্পোর্টিং, ঢাকার ওয়েলিংটন ক্লাব (পরে উয়াড়ি ক্লাব), ঢাকা স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদি। বাঙালির আবেগে, রক্তে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হল ফুটবলের আকর্ষণ, উত্তেজনা। স্বামী বিবেকানন্দও তাঁর কৈশোরকালে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন। অনুভব করেছিলেন ফুটবল খেলার মাধ্যমে শরীরচর্চার তাৎপর্য, তাই ডাক দিতে পেরেছিলেন ফুটবল খেলতে।

ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে একটা জাতিয়তাবাদী সত্তা ও আবেগ জন্ম নিয়েছিল পরাধীন ভারতবর্ষে। তাই তো বোধহয় ১৯১১-তে ১১ জন বাঙালির যুবকের খালি পায়ে লড়াই বাঙালিকে ইংরেজের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিল।

গত শতকের প্রতিটি দশকে বাঙালি ও ফুটবল একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছিল। আর সেই খেলার ২২ জন খেলোয়াড় ছাড়া বাকি যে বিরাট অংশ – সেই বঙ্গসন্তানেরা কখনও মাঠের ধারে, কখনও বা গ্যালারিতে বা রেডিও ধারাবিবরণীতে মশগুল হয়ে থাকত। প্রিয় দলের জেতা-হারায় ছিল আনন্দ-দুঃখের অভিব্যক্তি। বাংলার গ্রামে-গঞ্জে, মফস্‌সলে কৈশোর, যৌবন ফুটবল খেলার প্রতি ছিল নিবেদিত প্রাণ। সেই আবেগ এমনই ছিল বা বলা যায় আজও আছে, যে বিশ্ব ফুটবলের প্রতিযোগিতায় বাঙালি দলে দলে বিভক্ত হয়ে যায় – ব্রাজিল, আর্জেন্তিনা, জার্মানি, ইংল্যান্ড ইত্যাদির পক্ষে। ঠিক যেমন, দেশের মাটিতে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল-মহমেডান…।

সেই দিনটিতে ফুটবল কাঁদিয়েছিল

সেই ফুটবল খেলা, যা বাঙালিকে আনন্দ দেয়, উত্তেজনায় ভরপুর করে তোলে, শপথে-প্রতিজ্ঞায় সুদৃঢ় করে তোলে, সেই ফুটবল বাঙালিকে কাঁদিয়েও তোলে, যখন বাঙালির মনে পড়ে আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগের একটি দিনের ইতিহাস, যে দিন ফুটবলের চোখে নেমেছিল কান্না, হাহাকার।

দিনটা ছিল ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট। খেলার নন্দনকানন ইডেন গার্ডেনস। কলকাতা লিগের ডার্বি ম্যাচ – প্রতিপক্ষ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ। দর্শকসংখ্যা ৭০ হাজারের কিছু বেশি। রেডিওতে কান পেতেছে লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমী। দূরদর্শনে চোখ রেখেছে আরও অনেকে। মোহনবাগানের ক্যাপ্টেন কম্পটন দত্ত আর ইস্টবেঙ্গলের সত্যজিৎ মিত্র। রেফারি সুধীন চ্যাটার্জি।

টানটান উত্তেজনায় শুরু হল খেলা। দু’ পক্ষই অঙ্গীকারবদ্ধ – জিততেই হবে। গ্যালারিতে সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে দর্শকদের অন্তরে অন্তরে – শরীরী ভাষায় আর তাদের শিরায় শিরায় বইছে উত্তেজিত রক্তস্রোত। খেলা এগোচ্ছে, দু’ দলই মরিয়া তাদের সম্মান-ঐতিহ্য অটুট রাখতে। মাঠের মধ্যে ৯০ মিনিটের প্রতি সেকেন্ডে খেলোয়াড়দের যেমন চোয়াল শক্ত করে চলছে লড়াই, ঠিক তেমনই গ্যালারির বুকে হাজার হাজার সমর্থকের হৃদপিণ্ডে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। এক সময় খেলা শেষ হল, ফল ০-০। কিন্তু ততক্ষণে মাঠের গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। গ্যালারিতে শুরু হয়ে গিয়েছিল বিশৃঙ্খলা, ভেঙে পড়েছিল প্রশাসনিক দৃঢ়তা। দর্শকরা যে যার মতো করে প্রাণ হাতে করে ছুটতে শুরু করল। দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হাজার হাজার মানুষ। কে রইল পেছনে, কে রইল পায়ের নীচে – সে সব চিন্তা তখন কারও নেই। সবার অবস্থা তখন ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’।            

সে দিনের বিশৃঙ্খলা।

ঘটে গেল কলকাতার ফুটবলের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে মারা গেলেন ১৬ জন ফুটবলপ্রেমী – ১৯৮০-র ১৬ আগস্ট। সারা মাঠ, সারা শহর, বাংলার গ্রাম-গঞ্জ-মফস্‌সল সে দিন হতবাক, শোকে বিহ্বল। হাহাকারে, আর্তনাদে ভরে গিয়েছিল বাঙালির মন-প্রাণ।

খেলা দেখতে বেরিয়ে আর ঘরে ফিরল না ১৬টি তরতাজা প্রাণ – হিমাংশুশেখর দাস, উত্তম ছাউলে, কার্তিক মাইতি, সমীর দাস, অলোক দাস, সনৎ বসু, বিশ্বজিৎ কর, নবীন নস্কর, কার্তিক মাজী, ধনঞ্জয় দাস, প্রশান্তকুমার দত্ত, শ্যামল বিশ্বাস, রবীন আদক, মদনমোহন বাগলি, অসীম চ্যাটার্জি এবং কল্যাণ সামন্ত। সে দিন আহত হয়েছিল কয়েকশো ফুটবলপ্রেমী দর্শক।

১৬ আগস্টের সন্ধ্যা-রাত্রি ভীষণ ভারী হয়ে উঠেছিল বাংলার বুকে, বড়ো দীর্ঘ হয়ে উঠেছিল, কিছুতেই সকাল হতে চাইছিল না সেই রাত। ঘরে ঘরে প্রিয়জনদের উদগ্রীব অপেক্ষা – ছেলেটা ঘরে ফিরল? পাড়ায় পাড়ায় জিজ্ঞাসা – ছেলেটা ফিরেছে? সারা বাংলা সে দিন গুমরে গুমরে কাটিয়েছিল নিদ্রাহীন রাত।

পরের দিন প্রভাতী সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবরের অক্ষরগুলো যেন কেঁদে উঠেছিল। আকাশবাণীতে ঝরে পড়েছিল কষ্টের উচ্চারণ ‘সংবাদ বিচিত্রা’য়। উপেন তরফদারের উপস্থাপনায় প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে হৃদয় নিঙড়ানো শ্রদ্ধা জানানো হয়েছিল উত্তম ছাউলে, মদনমোহন বাগলিদের (তখনও পর্যন্ত সকলের নাম জানা যায়নি) প্রতি। সে দিন বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ শুনেছিলেন সেই অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে শোনা গিয়েছিল এক সন্তানহারা পিতার আর্তনাদ – খো…কা, খো…কা।  

‘খেলার মাঠে কারও খোকা আর না হারায় দেখো’

বাংলার মানুষ শুনেছিলেন বাংলা নাট্যজগতের অন্যতম নক্ষত্র সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সেই ঐতিহাসিক গান – ‘খেলা ফুটবল খেলা, খোকা দেখতে গেল সেই সকালবেলা’। সেই সন্তানহারা পিতার কান্নাই বোধহয় তাঁকে দিয়ে এই গান লিখিয়ে নিয়েছিল। গানটিতে সুর দিয়েছিলেন প্রখ্যাত সুরকার নচিকেতা ঘোষের পুত্র সুপর্ণকান্তি ঘোষ। গেয়েছিলেন মান্না দে।

গানটি ১৯৮১ সালের সরস্বতী পুজোর আগে এইচএমভি থেকে প্রকাশ করা হয়। ফুটবল-শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্টস ক্লাব এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানেই ওই গানটি প্রকাশ করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন স্বয়ং মান্না দে, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপর্ণকান্তি ঘোষ, সেই সময়কার অ্যাডভোকেট জেনারেল স্নেহাংশুকান্ত আচার্য, পি কে ব্যানার্জি, চুণী গোস্বামী, সুঁটে ব্যানার্জি, পঙ্কজ রায়, বিদেশ বসু, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, কম্পটন দত্ত, সত্যজিৎ মিত্র-সহ বাংলার ক্রীড়া ও সংস্কৃতি জগতের নক্ষত্ররা।

গানটি ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ মিনিটের। শেষে সন্তানহারা পিতার সেই মর্মস্পর্শী আবেদন প্রোথিত হয়ে যায় বাঙালির মর্মস্থলে – ‘তোমরা আমার একটা কথাই রেখো / খেলার মাঠে কারও খোকা আর না হারায় দেখো’।

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া ২: অমলাশঙ্কর বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনশীলতার মধ্যে

ঘুমের মধ‍্যে রানির মতো চলে গেলেন পরম আত্মীয়ের কাছে।

Published

on

papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

ভোরের আলো ফোটার আগেই একটা যুগের অবসান। ঘুমের মধ‍্যে রানির মতো চলে গেলেন পরম আত্মীয়ের কাছে। শতায়ু নৃত্যশিল্পী বার্ধক‍্যজনিত কারণেই ইহলোক ত‍্যাগ করলেন শুক্রবার ভোররাতে।

ব্যবসার কাজে বিদেশে যাওয়ার জন্য বাবা অক্ষয়কুমার নন্দী যদি তাঁকে সঙ্গে না নিতেন, তা হলে তাঁর জীবন কোন দিকে বয়ে যেত বলা মুশকিল। বারো বছরের মেয়েকে নিয়ে প্যারিস যাওয়ার যে পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি, তা এক সময়ে মহার্ঘ পিতৃ-আশীর্বাদ বলেই ভেবেছিলেন তিনি। তিনি নৃত্যশিল্পী অমলাশঙ্কর চৌধুরী, আমাদের সকলের অত্যন্ত শ্রদ্ধার অমলাশঙ্কর (Amala Shankar)।

সময়টা ১৯৩১। প্যারিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোনিয়াল এক্সপোজিশন’ থেকে আমন্ত্রণ এল বাবার কাছে। তাঁর অলংকারের কারখানা ‘ইকোনমিক জুয়েলারি ওয়ার্ক্স’-এর স্টল হবে সেখানে। সেই সূত্রে ফ্রান্সে যাওয়া। ছোট্ট অমলা আত্মহারা। যখন শুনল শহরের বোয়া দে ভান সাঁ বা ভানসার বন নামে একটি বনের ভেতরে প্রদর্শনীটি হবে এবং সেখানে নাচগানও হবে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আরও উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিল কিশোরী অমলা। সেই প্রদর্শনীতে ভারতীয় নৃত্য পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন মাদাম নিয়তা নিয়কা। অমলা তখন নাচের কিছুই জানত না। বাবার উৎসাহে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং নিয়তাই তৈরি করে নিলেন অমলাকে।

১৯৩১ স্মরণীয় হয়ে রইল আরও এক কারণে। সেই প্রদর্শনীতে নৃত্য পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রিত ছিলেন আরও এক ভারতীয়, উদয়শঙ্কর। লোকমুখে জানা হয়ে গিয়েছিল, তিনিও একই জেলার লোক, বাবার বিশেষ পরিচিত ও বিশ্ববিখ্যাত নর্তকী আনা পাভলোভার সঙ্গে ইউরোপ ও আমেরিকায় নৃত্য পরিবেশন করে যশস্বী হয়েছেন। ভারতবর্ষকে গৌরবান্বিত করেছেন।

উদয়শঙ্কর ও অমলাশঙ্কর।

উদয়শঙ্কর – নাম শুনে মনে হল প্রবীণ এক দিকপাল প্যারিসে অবসর যাপন করতে এসেছেন। কিন্তু প্রদর্শনীতে তাঁদের প্যাভেলিয়নের সামনের সারিতে ষোলো আনা সাহেবি পোশাক পরিহিত সেই বাঙালিকে দেখে ধারণা পালটাল। সেই সঙ্গে সে দিনের কিশোরীর মনে একটা সুরও গেঁথে গেল। এত দিন তো পুরুষচিত্র বলতে মনের মধ্যে গাঁথা হয়ে গিয়েছিল কৃষ্ণ, অর্জুন আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  

শঙ্কর পরিবারের অনেকেই থাকতেন প্যারিসে। অক্ষয়বাবুর সঙ্গে কথা বলে অমলা ও তাঁকে তাঁদের বাড়িতে আসার নিমন্ত্রণ করে গেলেন উদয়শঙ্কর। প্যারিসের বাড়িতে অমলাকে পেয়ে উদয়ের মা হেমাঙ্গিনী দেবীর মহা আনন্দ। সে দিন হেমাঙ্গিনীর রান্না করা চচ্চড়ি, মাংস আর পোলাও খেয়েছিলেন অমলা। আর খেলার সঙ্গী হিসাবে পেয়েছিলেন রবিকে, মানে রবিশঙ্করকে।

শঙ্করদের প্যারিসের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন অমলা। একদিন রবির সঙ্গে খেলছেন, এমন সময় উদয়শঙ্করের ডাক। অমলাকে একটা মুদ্রা দেখিয়ে নাচতে বললেন। অমলাও তৎক্ষণাৎ দেখিয়ে দিলেন। উদয় দেখে বুঝেছিলেন, নাচ অমলার রক্তে আছে। এ ভাবেই নৃত্যে হাতেখড়ি অমলার, ‘বড়দা’ উদয়শঙ্করের কাছে। খেলার ছলে নাচ তোলা হতে লাগল অনায়াসে।

ঠিক হল ইউরোপের নানা জায়গায় নাচের অনুষ্ঠান করা হবে। আর অমলার বাবাও ঠিক করেছিলেন ইউরোপের সব শিল্পকেন্দ্রগুলি মেয়েকে ঘুরিয়ে দেখাবেন। ১৯৩১-এর ২৯ ডিসেম্বর – শুরু হল ইউরোপ-যাত্রা, শুরু হল অমলার নৃত্যজীবনের যাত্রাও। ১৬ জনের দলে ছিলেন আরও দুই ভাই, তিন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী – সুরশিল্পী তিমিরবরণ, অন্নদাচরণ এবং পশ্চিম ভারতীয় যুবক বিষ্ণুদাস শিরালি। মহিলা অধ্যক্ষ ছিলেন শিল্পকলাবিদ সুইৎজারল্যান্ডের মিস আলিস বোনর। দলে এসে অমলার নতুন নাম হল অপরাজিতা। ইউরোপ ঘুরে এসে সেই কিশোরী লিখে ফেলেন ‘সাত সাগরের পারে’ নামে এক ভ্রমণের বই। অস্ট্রিয়া থেকে বাল্টিকের লিথুয়ানিয়া, জার্মানির সুলৎজবার্গ, ফ্রান্সের টুলোঁ, সুইডেনের মালমো, নরওয়ের অসলো, ফিনল্যান্ডের হেলজিৎ ফোর্স, বেলজিয়ামের লিজ্‌ – কোথায় না ঘুরে ফেলল ছোট্ট অমলা।

নৃত্যের তালে তালে

ইতিমধ্যে নৃত্যশিক্ষা চলতে লাগল উদয়শঙ্করের হাত ধরে। ‘কালীয়দমন’ দিয়ে মঞ্চে প্রবেশ। অমলা কালীয়, উদয়শঙ্কর কৃষ্ণ। বিদেশিরা অভিভূত নাচ দেখে। আট মাসের সেই সফরে ভারতবর্ষের সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব বিদেশিদের কাছে তুলে ধরলেন তাঁরা। এ দিকে মনের পুরুষচিত্র ধীরে ধীরে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। কষ্ট করে জীবনের পথ খুঁজতে হল না। নৃত্যশৈলী দেখিয়ে দিল কোনটা অমলার পথ। উদয়শঙ্করের হাত ধরেই পথ এসে মিশে গেল অমলার পথে। এ যেন হর-পার্বতীর মিলন।

বছর ষোলো বয়স। ম্যাডান থিয়েটার তথা এলিট সিনেমাহলে ‘কার্তিকেয়’ দেখতে গিয়ে মনের মানুষের খোঁজ যেন আরও ভালো করে পেলেন অমলা, কার্তিকেয়রূপী উদয়শঙ্করকে দেখে। বিদেশ সফরে উদয়শঙ্কর একটি ফোর্ড গাড়ি উপহার পেয়েছিলেন। সেই গাড়িতে অমলা-সহ কয়েক জনকে নিয়ে কলকাতা থেকে দেহরাদুন হয়ে আলমোড়া যাওয়া উদয়শঙ্করের। অমলার কাছে এ যাত্রার স্বাদ ছিল আলাদা। বিচিত্র অনুভূতি – রোমান্সের সঙ্গে মিশে আছে লজ্জা, ভয়, দ্বিধা। বিত্তশালী, অসামান্য মেয়েরা উদয়ের জন্য পাগল। আর সেখানে অমলা তো একরত্তি মেয়ে। তবে জোর ছিল এক জায়গায়। যে দু’-একটি বই কিনে অমলাকে  দিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিল – উইথ লাভ, উদয়শঙ্কর। কত বার বই খুলে সেই নাম দেখা – উদয়শঙ্কর। একদিন মেঘ না চাইতেই জল এসে পড়ল কপালে। উদয়শঙ্কর জানালেন, ম্যাটিনি শো-তে মেট্রো হলে ছবি দেখতে যাওয়ার কথা। অমলার পথ যেন আরও মসৃণ হল।             

বাবা অক্ষয়কুমার নন্দীর সঙ্গে সেই আমলের বহু গুণীজনের ভালো আলাপ ছিল। তাঁদের মধ‍্যে ছিলেন সংগীতবিশারদ বিখ্যাত দিলীপকুমার রায়। অমলার নাচ দেখে প্রশংসা করে জানালেন, এ মেয়ে নাচ করে হৃদয় দিয়ে। ওঁরই উৎসাহে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের বাড়িতে একদিন নাচের আয়োজন করা হল। দেখতে এলেন সুভাষচন্দ্র বসুও। খদ্দরের শাড়ি পরা অমলার নাচ দেখে খুব খুশি সুভাষ। অক্ষয়বাবুকে প্রস্তাব দিলেন আলমোড়ায় উদয়শঙ্করের সেন্টারে অমলাকে পাঠিয়ে দিতে। উদয়শঙ্করের গুণমুগ্ধ ছিলেন সুভাষ, অথচ কেউ কাউকে কোনওদিন দেখেননি। উদয়শঙ্কর সম্পর্কে সুভাষ বলতেন, আই অ্যাম অ্যান আরডেন্ট অ্যাডমায়ারার অফ দিস ম‍্যান। সুভাষ যখন অসুস্থ হয়ে ভিয়েনায় ছিলেন তখন সেখানে উদয়শঙ্করের শো চলছিল। সেই সময় সেখানকার পত্রপত্রিকায় উদয়শঙ্করের কথা তিনি পড়েছিলেন।

সুভাষচন্দ্রের প্রস্তাবে অমলার মন নেচে উঠল। কিন্তু বাধ সাধলেন অক্ষয়বাবু। বিশেষ আমল দিলেন না সেই প্রস্তাবে। লেখালেখিতেই মন দেওয়ার কথা বললেন অমলাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুভাষচন্দ্রের হস্তক্ষেপেই আলমোড়ায় ‘শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচার সেন্টার’-এ  অমলার যাওয়া। সময়টা ১৯৩৯। আলমোড়ার শিক্ষাকেন্দ্রে ১৪টি বাংলো ছিল। তখন সেখানে ছিলেন সিমকি, জোহরা মমতাজ, উজরা বেগম। আলমোড়ার অনাবিল প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য আর শিল্পচর্চার আদর্শ ক্ষেত্র অমলাকে নিবিড় করে প্রশিক্ষিত করে তুলল। এক বছর টানা প্রশিক্ষণ চলল নৃত‍্যের সঙ্গে ধৈর্যের, সহ‍্যের, শারীরিক ক্ষমতার, খাঁটি ভারতীয় মেয়ের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা কতটুকু ইত‍্যাদির। সেই সময় একদিন বলেছিলেন, তিনি সাত ঘাটের জল খেয়েছেন, গঙ্গাজলের স্বাদ কী তা তিনি জানেন। মনের মধ‍্যে শ্রদ্ধা আর অনুরাগ নিয়ে প্রশিক্ষণ চলতে লাগল।

সপরিবার – পুত্র আনন্দ, কন্যা মমতা আর স্বামী উদয়শঙ্করের সঙ্গে।

ইতিমধ্যে মনে মনে ভালোলাগা আর ভালোবাসার পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে নিজেদের অজান্তেই। প্রেম তো বলে কয়ে আসে না। উদয় চিঠি লিখলেন অক্ষয়কুমারকে। তিনি রাজি ছিলেন না। কিন্তু আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের মধ‍্যস্থতায় বিয়ে পরিপূর্ণ রূপ পেল ১৯৪২-এ।

১৯৪৮-এ উদয়শঙ্কর পরিচালিত ‘কল্পনা’ ছবিতে উমা চরিত্রে অভিনয় করলেন অমলাশঙ্কর। এর পরে এগিয়ে যাওয়া। কী সাংসারিক ক্ষেত্রে কী কর্মক্ষেত্রে। পুত্র আনন্দ ও কন‍্যা মমতার মা হয়ে গেলেন। পাশাপাশি এক দক্ষ প্রশিক্ষক হয়ে উঠলেন নৃত‍্যশিল্পে। স্বামী উদয়শঙ্করের সৃষ্টি করা কাজকে ফিরিয়ে এনেছিলেন মঞ্চে। সামান্য ক্ষতি, ছায়ানৃত‍্য মহামানব, মেশিনড‍্যান্স, স্নানাম, গ্রামীণ নৃত‍্য, অস্ত্রপূজা, কার্তিকেয়, রামলীলা সহ নানা কৃষ্টি। অমলাশঙ্কর নিজে মঞ্চায়ন করেছিলেন পুত্র আনন্দশঙ্করের সুরপ্রয়োগে সীতা স্বয়ম্ভরা, যুগচন্দ্র। এ ছাড়াও বাসবদত্তা, চিদাম্বরা, চিত্রাঙ্গদা, কালমৃগয়া – সবেতেই শঙ্কর ঘরানার নৃত‍্যকৌশলের উপস্থিতি যা দর্শকদের  মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল। আজও আমরা তার প্রতিচ্ছবি পাই যোগ্য উত্তরসূরিদের নৃত্য পরিবেশনের মধ্যে।

অমলাশঙ্কর নিজে শুধু শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন এক পূর্ণ মা। শিল্পী হয়েও যিনি বহু ছাত্রছাত্রী ও নিজের শাখাপ্রশাখার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন শঙ্কর ঘরানাকে। মঞ্চ ও পোশাকের উৎকর্ষ নিয়ে প্রতিনিয়ত পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতেন।১৯৯১-এ পদ্মভূষণে ভূষিত হন অমলাশঙ্কর। ২০১২-তে কান্ ফেস্টিভ‍্যালে আবার  উপস্থিত ছিলেন তিনি। ছেলেবেলাতেও সব চেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ওই উৎসবে তাঁর উপস্থিতি সেই সময়ে অনেকের নজর কেড়েছিল।

১৯১৯-এর ১৭ জুন যশোরে জন্ম হয়েছিল অমলা নন্দীর। গত মাসেই উদযাপন করেছিলেন নিজের জন্মের ১০১ বছর। তার মাস খানেক পরেই চলে গেলেন চির ঘুমের দেশে। শিল্পীর মৃত্যু নেই। অমলাশঙ্কর বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনশীলতার মধ্যে, বেঁচে থাকবেন তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের মধ‍্যে।

উদয়শঙ্কর ও অমলাশঙ্কর অভিনীত ছবি কল্পনা

Continue Reading

Amazon

Advertisement
বিনোদন5 mins ago

চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শারীরিক অবস্থার অবনতি

রাজ্য3 hours ago

অসুস্থ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি টুইটারে পোস্ট করে সমালোচনার মুখে রাজ্যপাল জগদীপ ধানখড়

Narendra Modi in Maan Ki Baat
দেশ3 hours ago

পুজো মণ্ডপে আগের মতো ভিড় হয়নি, উৎসবে মানুষ সংযত থাকছেন: নরেন্দ্র মোদী

দেশ4 hours ago

দৈনিক মৃতের সংখ্যা ফের ছ’শোর নীচে, সুস্থতার হার বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ

দেশ5 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৫০১২৯, সুস্থ ৬২০৭৭

currency notes
শিল্প-বাণিজ্য5 hours ago

মোরাটোরিয়াম: কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে বাড়তি সুদের টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক

দেশ6 hours ago

কোভ্যাকসিনের ট্রায়াল শেষ হতে পারে এপ্রিলের পর, তবে জরুরি ব্যবহারের সম্ভাবনা তার আগেই!

বিদেশ6 hours ago

কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর ক্ষমা চেয়ে নিলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

দেশ5 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৫০১২৯, সুস্থ ৬২০৭৭

রাজ্য3 days ago

সপ্তমীর দুপুরে সুন্দরবনে আঘাত হানবে অতি গভীর নিম্নচাপ, ভারী বর্ষণে ভাসতে পারে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলা

কলকাতা2 days ago

কাশীবোস লেনে ‘দেবীঘট’, হাতিবাগানে ‘অসমাপ্ত’, নলীন সরকারে ‘পুজো এবার কাঠামোতে’, নর্থ ত্রিধারার ‘শ্রদ্ধার্ঘ্য’, সিকদারবাগানে ‘উৎসব’

ক্রিকেট2 days ago

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি কপিল দেব

covaxin
দেশ3 days ago

ভারত বায়োটেকের ‘কোভ্যাকসিন’কে তৃতীয় দফার পরীক্ষার জন্য ছাড়পত্র

ক্রিকেট3 days ago

মনীশ, বিজয়ের রেকর্ড জুটিতে রাজস্থানকে হারিয়ে দিল হায়দরাবাদ

কলকাতা2 days ago

মহাসপ্তমীতে কলকাতা মহানগরীর অচেনা ছবি

ক্রিকেট2 days ago

ব্যাটে-বলে দাপট মুম্বইয়ের, ছিন্নভিন্ন চেন্নাই

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 weeks ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা3 weeks ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা3 weeks ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা4 weeks ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা4 weeks ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা4 weeks ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা1 month ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা1 month ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা1 month ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

নজরে