Connect with us

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া ২: অমলেন্দু স্যারকে যেমন দেখেছি

Published

on

চিরঞ্জীব পাল

সে দিনটা ছিল সূর্যগ্রহণের ঠিক আগের দিন। সকালবেলা বাড়ির পরিচারিকা ঘর মুছতে মুছতে বলল, ‘‘বৌদি কাল সূর্যগ্রহণ। সাড়ে ন’টা থেকে শুরু হবে। তাড়াতাড়ি রান্না–খাওয়া করে নিও। ও বাড়ির বৌদি বলছিল।’’

‘ও বাড়ির বৌদি’ মানে আমার বাড়িতে কাজে আসার আগে যে বাড়িতে ও কাজ করে এসেছে সে-ই বাড়ির মালকিন। ভদ্রমহিলা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। 

Loading videos...

মেয়েটির কথা শুনে খুব একটা অবাক হইনি, কিন্তু যখন ও বৌদির প্রসঙ্গ তুলল তখন একটু ধাক্কা খেলাম। বুঝতে পারলাম, আমার জানা জগৎটা এখনও অনেকটা অজানা। এক পা আগে দু’ পা পিছে করতে গিয়ে আমরা কখন যেন শুধু পেছনেই হাঁটতে শুরু করেছি। পিছনে হাঁটাতে ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা হয়েও উপদেশ দেন সূর্যগ্রহণের সময় না-খাওয়ার। অথচ সব কিছু জলের মতো পরিষ্কার। আমরা সবাই জানি কেন সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ হয়। টিভিতে লাইভ সূর্যগ্রহণ দেখায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ টেলিকাস্ট হয়। তবুও গ্রহণের সময় না-খাওয়ার কুসংস্কারটা আঁকড়ে ধরে থাকতে ইচ্ছে করে। ঠিক যেন বাপ-ঠাকুর্দার দেওয়া ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখার মতো। যুক্তিবোধ সেখানে ঠুনকো।

অন্তহীন এক গ্রহণ

সূর্যগ্রহণের ঠিক দু’দিন পর মারা গেলেন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। খবরটা পেয়ে মনে হল আমার জানা একটা সূর্য ঢাকা পড়ে গেল মৃত্যুর ছায়ায়। সেই সূর্য আর গ্রহণ ছেড়ে বেরোবে না। তবে কি পৃথিবীটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকবে?

একটা ফোন কিছু মুহূর্ত

সাল: ২০০২।

হ্যালো স্যার? আমাদের পাড়ায় একটা স্লাইড শো করব?

কবে করবে বাবা! আগামী সপ্তাহ আমি পারব না। তার পরে একটা দিন ঠিক করো।

দিন ঠিক করলাম। ফোনে জানালাম স্যারকে। স্যার মানে অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’ দিন ধরে চলল মাইক-প্রচার। অনুষ্ঠানের দিন যথা সময়ে তিনি হাজির হলেন। স্লাইড রেডি করে তিনি প্রস্তুত। কিন্তু লোক নেই। মাইকে ঘোষণা চলছে। কেউ কেউ উঁকি-ঝুঁকি মেরে দেখে সরে পড়ছেন। উদ্যোক্তা হিসাবে আমাদের অবস্থা তো কাহিল। গা দিয়ে দরদর করে ঘাম পড়ছে। এই বুঝি স্যার বলেন, লোক জোগাড় করতে পারবে না যখন আমাকে ডাকলে কেন। জল মাপার জন্য গুটি গুটি পায়ে ওঁর কাছে গেলাম। বললাম, স্যার দশ মিনিট বাদে শুরু করুন লোকজন চলে আসবে। 

স্যার বললেন, ঠিক আছে বাবা, একটু দেখে নিই, যে ক’জন আছে তাদের নিয়েই শুরু করব। 

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া ১: এক অমল বিজ্ঞানী ড. অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

মনে মনে গুণে দেখলাম জনা ছয়েক দর্শক আছেন। এঁদের মধ্যে একজন একটি স্কুলের দিদিমণি, তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। বেগতিক দেখে ক্লাবের বাইরে বসে থাকা কয়েক জন বিহারী মিস্ত্রিকে বললাম, মাঠে যাও চাঁদ-তারা দেখাবে। তাঁরা প্রতি দিন এই সময় কাজ থেকে ফিরে গল্প করেন। আমাদের কথা শুনে তাঁরা মাঠে গিয়ে বসলেন। শুরু হল স্লাইড শো। মিনিট তিনেক চলার পর পরিস্থিতি বদলে গেল। ছোটো মাঠ ভরে গেল দর্শকে। মহাবিশ্বের নানা রহস্য একের পর এক উজাড় করে দিচ্ছেন স্যার। সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছে। জলে যে ভাবে মাছ থাকে কখন যে তিনি সে ভাবে দর্শকের মনের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন কেউ বুঝতে পারেনি। মনের মধ্যে সাঁতার কাটতে কাটতে তিনি আরও গভীরে পৌঁছোতে চাইছেন। শো চলাকালীন কেউ বেরোলেন না। এমনকি ওই মিস্ত্রিরাও না।

শো-এর শেষ পর্বে উনি মহাকাশকে ঘিরে কুসংস্কার প্রসঙ্গে বললেন। এল গ্রহণের সময় না খাওয়ার প্রসঙ্গও। আক্ষরিক অর্থে জলের মতো বুঝিয়ে দিলেন যে, গ্রহণের সময় খেলে কোনো ক্ষতি হয় না।

এ রকমই মন্ত্রমুগ্ধতা দেখেছিলাম নৈহাটি পুরসভার হলে একটি অনুষ্ঠানে। হল ‘হাউসফুল’। অনেকে জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। যেন নামী কোনো নায়কের ছবির প্রথম শো। আলো নেভার কিছুক্ষণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল মন্ত্রমুগ্ধতা।

মাটির কাছাকাছি এক তারা

পৃথিবী থেকে কোটি কোটি যোজন দূরে থাকা তারা, গ্রহ, উপগ্রহ নিয়ে কাজ করেও তিনি যেন মাটির মানুষ। বোঝানোর সময় যথাসম্ভব বাংলা পরিভাষার ব্যবহার, দর্শকদের প্রশ্নগুলো ভালো করে শোনা, তাদের বোধগম্য করে উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি ছিল শিক্ষণীয়। অনেক ‘বড়ো মাপের’ জ্ঞানীগুণী ব্যক্তির একটা ‘তেজরশ্মি’ বেরোয়। সেই রশ্মির কাছে কাছাকাছি পৌঁছোতে পারে না ‘সাধারণ মানুষ’। অমলেন্দুবাবু নামী জ্যোর্তিবিজ্ঞানী। মাঠেঘাটে গিয়ে স্লাইড দেখানোর সময় তাঁর সেই রশ্মির খোঁজ করেছি। দেখতে পাইনি। তাই তাঁকে ছুঁয়েছি। প্রশ্ন করেছি। 

আমরা জেনেছিলাম, তিনি নারকোল-মুড়ি খেতে ভালোবাসেন। একবার এক ঘরোয়া স্লাইড শোর শেষে তাঁকে মুড়ি-নারকোল খেতে দিয়েছিলাম। কী তৃপ্তি করে যে খেয়েছিলেন!

মৃত্যুকালে অমলেন্দুবাবুর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। আড়াই বছর আগে মেয়েকে নিয়ে সোদপুরে তাঁর একটি স্লাইড শো দেখতে গিয়েছিলাম। শরীরের কারণে গতি শ্লথ হলেও বোঝানার সময় আগের মতোই তারুণ্য উপচে পড়ছিল। সেই স্লাইড শো দেখে মেয়ের প্রশ্ন আর থামে না। 

ভুল ভুল আমি ভুল

না! না! সূর্য কখনও অনন্ত গ্রহণে থাকতে পারে না। আপনজনের মৃত্যুর খবরে ও আমার মনের বিকার। বিড়লা তারামণ্ডলের ডিরেক্টর পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি শুধু বিজ্ঞান গবেষণা করে জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে স্লাইড নিয়ে ছুটে গেছেন মাঠে ঘাটে। কারণ, তিনি মনে করতেন ‘পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে’। এই সত্যিটা না বুঝলে মানতে হবে প্লাস্টিক সাজার্রি করে গণেশের মাথা বসানো হয়েছে কিংবা গোমূত্র সর্বরোগহর।

বিনোদন

রবিবারের পড়া: শহর ছেড়ে তুমি কি চলে যেতে পারো তিন ভুবনের পারে

‘বর্ণালী’ ছবিতে নৌকায় শর্মিলার কণ্ঠে ‘যখন ভাঙল মিলন মেলা ভাঙল’ গানটি শুনে মনে হল গীতবিতান তোমার কাছে আত্মার শান্তি আর আবোলতাবোল তোমার প্রাণের স্পন্দন।

Published

on

'তিন ভুবনের পারে' ছবিতে তনুজার সঙ্গে।

পাপিয়া মিত্র

এই বাদামগাছের ছায়ায় / তোমায় আমি উপহার দেব একটি শোক / জেনো আজ এই চৈত্রদিনের সন্ধ্যার / তার থেকে আপন আর তোমার কেউ নেই। (এই বাদাম গাছের ছায়ায়)

তাঁর লেখা কবিতা দিয়েই আজকের লেখা শুরু। তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো, খানিক গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোর মতো। চৈত্রের দিন নয়। হেমন্তের প্রান্তদিনের মধ‍্যগগনে মনের মধ‍্যে শেষ চৈত্রের ঝড় এল – চলে যায় মরি হায় বসন্তের দিন। সৌমিত্র মানে বসন্ত। সে বসন্ত যৌবনের, সে বসন্ত প্রৌঢ়ের, আবার সে বসন্ত বার্ধক্যেরও। এই তিন পর্যায়ের বসন্তের এক তৃপ্ত আকর্ষণ আছে, যার টানে প্রেক্ষাগৃহে দেখা গেছে নানা স্তরের দর্শকদের। তাঁকে বা তাঁর অভিনয়ক্ষমতা বিশ্লেষণ করার স্পর্ধা নেই। বরং নতমস্তকে আজ মনে করব সেই সব চিরসবুজ, চিরযৌবনের গানের কলি।  কখনও সৌমিত্র গেয়েছেন আবার কখনও তাঁর নায়িকারা। কখনও বা তিনি একাই।

Loading videos...
‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবিতে শর্মিলার সঙ্গে।

জনসমুদ্রের মাঝে আমাদের অপু, ক্ষিদদা, অমল, ফেলুদা তথা প্রদোষচন্দ্র মিত্র, গঙ্গাচরণ, সন্দীপ, অসীম, ময়ূরবাহন, অমিতাভ রায়, নরসিং, রতন, অরুণাভ মুখার্জি, শ‍্যাম, উদয়ন পণ্ডিত। সুধীন দাশগুপ্তের কথা, পুলক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের সুর, মান্না দের কণ্ঠ আর লেজেন্ডের লিপ – এই শহর থেকে আরও অনেক দূরে / চলো কোথাও চলে যাই। গঙ্গায় নৌকায়, দূরে বিবেকানন্দ সেতু। সঙ্গে ‘প্রথম কদমফুল’ ছবির নায়িকা তনুজা।

রবিবারে অলস দুপুরে তখন রাজপথে রাজার মতো অনন্তশয‍্যায় চলেছেন কিং লিয়র। এই শহর ছেড়ে যাওয়ার কথা সৌমিত্র কখনও ভাবেননি বা বলেননি। কৃষ্ণনগর জন্মস্থান আর কৈশোর যৌবন প্রৌঢ়কালের জীবনযুদ্ধের খেলাঘর তাঁর সৃষ্টির শহর এই কলকাতা। এই শহর দেখেছে তাঁর প্রথম সব কিছু। এই শহর দেখেছে ‘জীবনে কী পাবো না’র মতো যৌবনের উদ্দাম টুইস্ট। না বলা বাণী দিয়ে অনেক সময় চিরনবীন বসন্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রেমিক হতে হয় কেমন করে।

‘বসন্ত বিলাপ’ ছবিতে অপর্ণার সঙ্গে।

সংস্কৃতি জগতের কিংবদন্তি শেষ স্তম্ভকে বিদায় জানাতে যে জনদেবতার শোকমিছিল পায়ে পায়ে এগিয়েছে সেখানে ততই জীবন্ত হয়ে উঠছিল আমাদের ‘গণদেবতা’। মন বলে ওঠে চাই, তোমায় ফিরে পেতে চাই। তুমি যে চলেছ অনন্তধামের দিকে… ভুল ভেঙে যায়। সুইমিংপুলের ধার ঘেঁষে গলার শিরা ফুলিয়ে ক্ষিদদার ‘ফাইট কোনি ফাইট’ চিৎকার কানে আসছে। চোয়াল তোমার দৃঢ়, তুমি বলছ, ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখনি মগনলাল। অশনি সংকেতের হনহনিয়ে হেঁটে চলা পণ্ডিতমশাইয়ের ছাত্র পড়ানোর আওয়াজ কানে আসছে।

১৫ নভেম্বর দুপুর ১২.১৫ মিনিটে কিছু ক্ষণের জন্য সব থেমে গেলেও এই কয়দিনের সকালের পুবালি হাওয়া জানান দেয় আসলে তুমি এই শহরের জনস্রোতের মধ্যে মিশে আছ। শহর ছেড়ে তুমি কি চলে যেতে পারো তিন ভুবনের পারে? যেখানে প্রেমের জন্য দুরন্ত বন‍্য হওয়ার অমন নিবেদন করার কেউ থাকবে না? আশুতোষ মুখোপাধ‍্যায় পরিচালিত তনুজা অভিনীত বখাটে ছেলেটি আজ ৮৬র ঘরে। তোমার অসংখ্য নন্দিনীরা ঘর থেকে রাজপথে। হেমন্তের ছায়ানামা ছাদ থেকে বারান্দায়। তোমার নায়িকারা টিভির সামনে খুঁজে বেড়াচ্ছেন ‘দূরে দূরে কাছে কাছে এখানে ওখানে’ কত দূরের সেই মানুষটিকে।

ভিড়ে, ফুলে মানবসমুদ্রের মধ্যে দিয়ে তোমার শকট চলেছে হাসপাতালের দুয়ার থেকে অমৃতলোকের সিংহদুয়ারের দিকে। সে যাক। সেটা তোমার শুধুমাত্র শরীরটা। ‘মন্ত্রমুগ্ধ’র মতো মানুষ তোমার কত স্মৃতি মনে করে চলেছে। তোমার ধুতির কোঁচা মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। বগলে চোলাইয়ের বোতল নিয়ে তুমি গাইছ ‘একটু চোলাই খাব আর ধোলাই খাব না?’ তোমার নায়িকা সাবিত্রীকে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছ ‘মাতাল হব আর পাতালে যাব না?’ কী একস্প্রেশন দিয়েছ তুমি!

চারুলতা’ ছবিতে মাধবীর সঙ্গে।

এখন আর দুঃখ নয়। তোমার রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়ে তোমার জন্মদিনের মালা গাঁথা শুরু। সোনালি রোদকে সঙ্গী করে সাইকেলের চাকা এগিয়ে চলেছে এক নতুন পৃথিবীর দিকে। ‘ও আকাশ সোনা সোনা, এ মাটি সবুজ সবুজ’ নায়ক সৌমিত্রের আটপৌরে পোশাকে নতুন রঙ ধরিয়ে দিল সোনার পৃথিবীতে। মাধবী-সৌমিত্রের দুরন্ত অভিনয় উপহার দিল ‘অজানা শপথ’। নায়িকা তন্দ্রা বর্মনের সঙ্গে সৌমিত্র ‘অতল জলের আহ্বান’-এ গাইলেন ‘একি চঞ্চলতা জাগে আমার মনে’। ‘কে যেন গো ডেকেছে আমায়’- আরও এক নায়িকা সন্ধ্যা রায়কে শেখাচ্ছেন গান। ‘মরমিয়া কেন গো…ফাগুন আগুন লাগে মন কোনও কাজে লাগে না, কি করিতে কী যে হয়ে যায়’।

আজ মন বড়ো চঞ্চল। কেন না তুমি নাকি নেই। এই তো মানবমন। যেখানের পৃথিবীর সীমারেখা শুধুই খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার পর্যন্ত। সেই-ই তো নায়ক, সেই ‘অগ্রদানী’র ঠাকুরমশাই হয়ে আনন্দে গান ধরেছ নদী পার করে বটের ঝুরি ধরে – ‘শোনো গাঁয়ের মাঠঘাট/ শোনো বৃক্ষলতা / গ্রামবাসী প্রতিজনে / শোনো সুখের কথা / আমার বংশে দিতে বাতি / আমার ঘরে আসছে এবার আমার বাপের নাতি / এত দিনে ঘুচল বুঝি পাপ / আমার বৌ হবে মা আমি হব বাপ।’ কী অভিব‍্যক্তি! যখন তুমি বাবা হওয়ার খবর শুনলে।

‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে সুচিত্রার সঙ্গে।

তুমি ‘সুদূর নীহারিকা’ হয়ে থেকে যেও না। সুমিত্রা মুখোপাধ‍্যায় নাচছে ‘আজ এই রাত জলসার রাত’ গানের সঙ্গে। ওই একই চলচ্চিত্রে সোমা দের সঙ্গে গাইলে ‘জীবন মরণের সাথী’। মানবেন্দ্রের কণ্ঠে ঠোঁট মেলালে ‘কার মঞ্জীর ঝঙ্কার’ গানে। আবার ‘শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন’-এ নায়ক যদি গায় ‘এ কী এমন কথা তাকে বলা গেল না’ পাশাপাশি নায়িকা অপর্ণা গেয়ে ওঠেন ‘নেই সত‍্যি বলে কিছু নেই’।  তা হলে তো বলতেই হয় তুমি কোথাও যেতে পার না। তুমি উদয়ন পণ্ডিত হয়ে থেকে গেছ পাঠশালার শিশুদের মধ‍্যে।

‘বেনারসী’ ছবিতে বেলডাঙার বেনারসী বাইজিকে (রুমা গুহঠাকুরতা) পানের দোকানে চিনে ফেলে রতন (সৌমিত্র)। কিশোরী সোনা গঙ্গাস্নানে হারিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে বেনারসী বাইজি হয়। টান টান আভিজাত‍্যের মোড়কে গল্প এগিয়ে গিয়েছে। আবার মিনু কাফে চায়ের দোকানের মালিক সঞ্জুদা হয়ে তুমি ‘নতুন দিনের আলো’য় বন্ধুদের মাঝে গান ধরলে ‘চলেছে, চলছে চলবেই / যা কৈলাশে জমে আছে বরফের স্তূপ হয়ে / সে তো বন‍্যার স্রোত হতে গলবেই’।

নানা রঙের চরিত্রের পাশে কতই না নায়িকা অভিনয় করেছেন। শর্মিলা ঠাকুর, তনুজা, অরুন্ধতী দেবী, মাধবী মুখোপাধ‍্যায়, সুচিত্রা সেন, সুপ্রিয়া চৌধুরী, সাবিত্রী চট্টোপাধ‍্যায়, তন্দ্রা বর্মন, অপর্ণা সেন, আরতি ভট্টাচার্য, সুমিত্রা মুখোপাধ‍্যায়, সন্ধ্যা রায়, লিলি চক্রবর্তী, সুমিতা সান‍্যাল, অঞ্জনা ভৌমিক, মৌসুমী চট্টোপাধ‍্যায়, রুমা গুহঠাকুরতা, মমতাশঙ্কর, নন্দিনী মালিয়া-সহ বহু নায়িকা। প্রবীণদের পাশাপাশি অনেক নবীন অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় করে ছবিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছ।

‘ঘরে বাইরে’ ছবিতে স্বাতীলেখার সঙ্গে।

এমন মজাদার গানের আগে পরে আমরা পাই ‘ঘরে বাইরে’র সন্দীপকে, ‘বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান’ গানটিতে। ‘বর্ণালী’ ছবিতে নৌকায় শর্মিলার কণ্ঠে ‘যখন ভাঙল মিলন মেলা ভাঙল’ গানটি শুনে মনে হল গীতবিতান তোমার কাছে আত্মার শান্তি আর আবোলতাবোল তোমার প্রাণের স্পন্দন।

এ বার সব বাধা দূরে সরিয়ে একবার বলে ওঠ তো ‘মুশকিল আসান, আমি এসে গেছি’।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

সৌমিত্র, কবে যে চলে এলে গৃহস্থের রান্নাঘর থেকে বৈঠকখানা হয়ে শীতের ছাদে আলোচনায়

Continue Reading

ক্রিকেট

রবিবারের পড়া ২ / রানআউটে শুরু, রানআউটেই শেষ…

ধোনি কিন্তু নিজের মর্জিমাফিক চলেন বোঝা যায়। টেস্ট থেকে যেমন আচমকা অবসর ঘোষণা করেছিলেন, তেমনই সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে যখন অবসর ঘোষণা করলেন তখন তাঁর জন্য একটি বিদায় ম্যাচের আয়োজন করারও উপায় নেই।

Published

on

শ্রয়ণ সেন

১০ জুলাই ২০১৯। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপ্টিলের দুরন্ত একটা থ্রো শেষ করে দিল ১৩০ কোটির স্বপ্ন। একটুর জন্য ক্রিজের ভেতরে ঢুকতে পারেনি তাঁর ব্যাট, আর তাতেই সব স্বপ্নের জলাঞ্জলি।

বরাবরের আবেগহীন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সে দিন কিন্তু নিজের আবেগকে চেপে রাখতে পারেননি। প্যাভিলিয়নে ফেরার সময়ে তাঁর চোখে জল দেখা গিয়েছিল স্পষ্ট। ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ধোনির ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটে খুব একটা ঘটেনি, কিন্তু সে দিন হয়েছিল।

গত দু’ বছর ধরেই ধোনির ফর্ম পড়ে গিয়েছিল। শেষের দিকে নেমে রান পেলেও আগের মতো সেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধোনি কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন। তবুও একটা স্বপ্ন ছিল, ধোনির হাত ধরেই ভারত আরও একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে।

Loading videos...

কিন্তু সেই সব স্বপ্ন শেষ করে দিল সেই দুঃস্বপ্নের রানআউট। রানআউট হওয়ার আগে ওই ম্যাচটায় খারাপ খেলেননি ধোনি। অর্ধশতরান করেছিলেন। কিন্তু ভারতের ব্যর্থতায় সেই সব কিছুই চাপা পড়ে গেল।

ধোনি কিন্তু ভারতের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি। তাঁর অবসরের ঘোষণা ছিল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তবুও আশায় ছিলেন ক্রিকেটভক্তরা। যদি কোনো ভাবে নিজের মত বদল করেন তিনি।

সেই সেমিফাইনালে রানআউটের মধ্যে দিয়ে শেষ হওয়া কেরিয়ারের সুচনাও হয়েছিল রানআউট দিয়েই।

সেটা ২০০৪-এর ডিসেম্বর। ঘরোয়া ক্রিকেটে তখন ফুলিঝুরি ঝরাচ্ছেন বছর ২৩-এর ধোনি। রাহুল দ্রাবিড়ের ওপর থেকে ভার কিছুটা হালকা করার জন্য একদিনের ক্রিকেটে ভারতের দরকার ভালো নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জোরাজুরির কারণে বাংলাদেশ সফররত ভারতের একদিনের দলে ধোনিকে জায়গা দিতে বাধ্য হলেন নির্বাচকরা।

[চট্টগ্রামের অভিষেক ম্যাচে রানআউট ধোনি]

কিন্তু শুরুটা যে ভালো হল না ধোনির। চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে ব্যাট করতে নেমেই রানআউট। খাতা খোলার সুযোগই এল না তাঁর কাছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে মোটামুটি নাম করে ফেলা ধোনির এ হেন অভিশপ্ত অভিষেক কেউ কল্পনাই করতে পারেননি।

তবে ধোনিকে নিজের জাত চেনাতে লাগল মাত্র পাঁচটা ম্যাচ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচ ছিল সেটা। ফাটকা খেলে তিন নম্বরে ধোনিকে নামিয়েছিলেন সৌরভ। আর তাতেই বাজিমাত। ১২৩ বলে ১৪৮ রানের দুর্ধর্ষ একটি ইনিংস। ব্যাস, তার পর আর তাঁকে ফিরে তাকাতে হয়নি।

[বিশাখাপত্তনমে শতরানের পর]

কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও ধোনি-তাণ্ডব। এ বার জয়পুরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। তাঁর ব্যাট থেকে বেরোল অপরাজিত ১৮৩ রানের দুর্ধর্ষ একটা ইনিংস।

এর পর টেস্ট ক্রিকেটেও নিয়ে আসা হল ধোনিকে। আর সেখানেও কয়েক মাস পরেই বাজিমাত। ২০০৬-এর পাকিস্তান সফরে ফৈজলাবাদ টেস্টে শোয়েব আখতারদের ঠেঙিয়ে ১৪৮ রানের তুখোড় একটি ইনিংস। ঝাঁকড়া চুলের ধোনি তত দিনে গোটা বিশ্বে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন। তাঁর চুলের জন্য ফ্যান হয়ে গিয়েছেন স্বয়ং পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পরভেজ মুশারফ। ধোনিকে চুল না কাটারও আবদার করেছিলেন মুশারফ। যদিও পরের বছরই সেই চুল ছেঁটে ফেলেন মাহি।

[ফৈজলাবাদ টেস্টে শতরান করে ধোনি]

আসলে দায়িত্ব বাড়তেই এই বাড়তি বোঝা নিজের শরীরের ওপর থেকে ঝেড়ে ফেলেন ধোনি। ধোনি তত দিনে ভারতের অধিনায়ক হয়ে গিয়েছেন। অধিনায়কের কেরিয়ারের শুরুতেই বাজিমাত।

২০০৭-এ ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের গ্রুপ লিগেই বিদায়ের পর কেউ ভাবতেই পারেনি যে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে টি২০ বিশ্বকাপে ভারত আদৌ ভালো ফল করতে পারবে বলে।

সম্ভবত নির্বাচকদেরও বেশি আশা ছিল না। আর তাই সৌরভ-সচিন-দ্রাবিড়দের বাদ দিয়ে পুরোপুরি যুবদল ভারত পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকায় টি২০ বিশ্বকাপের জন্য। অধিনায়ক করা হয় ধোনিকে। ওই দলে বেশি অভিজ্ঞতার যুবরাজ থাকলেও নির্বাচকরা ভরসা করেন ধোনির ওপরেই। আর এটাই হয়ে যায় এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

[২০০৭-এ টি২০ বিশ্বকাপে জয়ের পর]

ধোনির নেতৃত্বে টি২০ বিশ্বকাপ ঘরে তোলে ভারত। টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাকিস্তান, সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া, তার আগে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারিয়ে নজির তৈরি করে ভারত। এই বিশ্বজয়ের পরেই ভারতের একদিনের আর টেস্ট দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেন রাহুল দ্রাবিড়। একদিনের অধিনায়কের কুর্সিতেও বসে পড়েন ধোনি।

তার পরেই ভারতীয় ক্রিকেটের এক স্বর্ণযুগের শুরু। কার্যত ‘ম্যান উইথ দ্য মিডাস টাচ’ হয়ে যান ধোনি। ২০০৮-এ অনিল কুম্বলের অবসরের পরে টেস্ট দলের দায়িত্বও তাঁর হাতে চলে আসে।

একদিনের দলকে নিজের মতো করে তৈরি করতে গিয়ে বেশ কিছু অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাঁকে। সৌরভ আর দ্রাবিড়ের মতো সিনিয়রদের একদিনের দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন। প্রবল সমালোচিত হয়েছিলেন বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু তাঁর হাতে তৈরি ভারতীয় দল ফল দিয়েছিল।

ধোনি যে ভাবে একদিনের দল তৈরি করতে চেয়েছিলেন, সেটাই করেছিলেন। আর তার ফলস্বরূপ ২০১১-তে বিশ্বজয়।

[২০১১-এ বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে ধোনি]

নিঃসন্দেহে ধোনির কেরিয়ারে সব থেকে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ভারতের এই বিশ্বজয়। এর ঠিক দু’ বছরের মাথায় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দখল নিল ভারত। ধোনিই প্রথম অধিনায়ক যিনি আইসিসির তিনটে টুর্নামেন্টেই নিজের দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেন।

পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে ভারতের সব থেকে সফল অধিনায়ক হয়ে যান ধোনি। সৌরভের রেকর্ড ভেঙে টেস্টে সর্বাধিক জয়ের রেকর্ডেরও মালিক হন অধিনায়ক ধোনি, পরবর্তীকালে যে রেকর্ডের দখল নিয়েছেন বিরাট কোহলি।

কিন্তু এর মধ্যে একটি বিতর্কও থেকে যায়। পরিসংখ্যানের দিক থেকে সব থেকে সফল অধিনায়ক হলেই কি তাঁকে সফল বলা চলে?

বিদেশে টেস্ট জয়ের নিরিখে ধোনি কিন্তু সৌরভ আর বিরাট কোহলির থেকে পিছিয়েই শেষ করলেন। বিদেশের মাঠে ২৫টা টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ৬টায় ভারতকে জিতিয়েছেন ধোনি। ভারত হেরেছে ১১টি টেস্টে।

তবে ধোনির টেস্ট ক্রিকেট খুব একটা প্রিয় ছিল না, সেটা তিনি বুঝিয়ে দেন ২০১৪-এর ডিসেম্বরে। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সবাইকে চমকে দিয়ে টেস্ট থেকে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন মাহি। এর পর শুধুই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মনোনিবেশ করেন তিনি।

২০১৫-এর বিশ্বকাপে ধোনির নেতৃত্বে ভারত সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। গোটা টুর্নামেন্টে ভারত একটা মাত্র ম্যাচেই হেরেছিল। অস্ট্রেলিয়ার কাছে সেমিফাইনালে।

এর পরের বছরের এক্কেবারে শেষলগ্নে একদিনের ম্যাচের অধিনায়কত্বও ছেড়ে দেন মাহি। বিরাট কোহলির কাঁধে দায়িত্ব চলে আসে। তবে বকলমে ভারতের অধিনায়ক ধোনিই ছিলেন, সেটা পরতে পরতে বোঝা গিয়েছে। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ধোনিকে অনেক বার ফিল্ড সেট করতে দেখা গিয়েছে।

বিরাট কোহলিও ধোনিকে অসম্ভব ভরসা করতেন। আর সেই কারণেই শেষ দু’ বছর তাঁর ব্যাটিং ফর্ম পড়ে গেলেও ধোনি সম্পর্কে কোনো বিরূপ ধারণা তৈরি হয়নি কোহলির। অধিনায়কের ব্যাকিং সব সময়ে পেয়ে গিয়েছিলেন ধোনি। এমনকি ক্রিকেটবিশ্ব যখন ধোনির সমালোচনায় মুখর, তখন তার জবাব কোহলিই দিয়েছেন।

কিন্তু যতই অধিনায়কের সমর্থন থাকুক, ধোনির নিজের ফর্ম যে পড়তির দিকে সেটা তিনিও সম্ভবত বুঝতে পারছিলেন। তবুও তাঁর আশা ছিল ভারতকে আরও একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেই ক্রিকেট মাঠকে বিদায় জানাবেন তিনি।

কিন্তু মার্টিন গাপ্টিলের একটা রানআউট তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দিল না। রানআউটে শুরু হওয়া একটি কেরিয়ার শেষ হল রানআউটের মধ্যে দিয়েই।

[যে রানআউটে শেষ হয়ে গেল ১৩০ কোটির স্বপ্ন]

ধোনি কিন্তু নিজের মর্জিমাফিক চলেন বোঝা যায়। টেস্ট থেকে যেমন আচমকা অবসর ঘোষণা করেছিলেন, তেমনই সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে যখন অবসর ঘোষণা করলেন তখন তাঁর জন্য একটি বিদায় ম্যাচের আয়োজন করারও উপায় নেই।

তবুও আমরা চাই, আপামর ক্রিকেটভক্ত চায়, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও চান, অন্তত একটা ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলুন ধোনি। করোনার দাপট কমে গেলে সামনের বছর দর্শকভরতি কোনো স্টেডিয়ামেই হোক এই ম্যাচ।

আপাতত চেন্নাই সুপারকিংসের হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে ধোনিকে। কিন্তু নীল জার্সির মাহাত্ম্য যে সব সময় আলাদা।

২০১১-এর বিশ্বকাপের ফাইনালে ছয় মেরে ভারতকে জেতানোর সময়ে রবি শাস্ত্রীর বিখ্যাত ধারাবিবরণীটা এখনও মনে পড়ে, “ধোনি ফিনিসেজ অফ ইন স্টাইল!”

সেটাই কিন্তু এ বারও হল। একবারে নিজস্ব ঢঙে, নিজস্ব কায়দায় কেরিয়ার শেষ করলেন মাহি।

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া ১ / ঠিক ৪০ বছর আগের ১৬ আগস্ট

ঘরে ঘরে প্রিয়জনদের উদগ্রীব অপেক্ষা – ছেলেটা ঘরে ফিরল? পাড়ায় পাড়ায় জিজ্ঞাসা – ছেলেটা ফিরেছে?

Published

on

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

মায়ের সঙ্গে একবার গঙ্গাস্নান করতে বাবুঘাটে এসে ছেলেটি অবাক হয়ে দেখেছিল, একটু দূরে সেনাব্যারাকের পাশের মাঠে একদল গোরা একটা পেটমোটা গোল জিনিস নিয়ে খেলছে, ছুটছে, পায়ে পায়ে কেড়ে নিচ্ছে…। হঠাৎ ফেনসিং-এর ধারে সেই গোল জিনিসটা চলে এল। একজন গোরা ছুটে এসে সেটা চাইল। ছেলেটি তৎক্ষণাৎ সেই গোল জিনিসটা তুলে নিয়ে গোরার দিকে ছুড়ে দিল। তার পর তার ফিরে আসা মায়ের সঙ্গে। কিন্তু মনের মধ্যে সেই মুহূর্তগুলো জ্বলজ্বল করতে লাগল। ভাবনায় বার বার ঘুরে ঘুরে আসতে লাগল।

ছেলেটি কলকাতার হেয়ার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তার অভিজ্ঞতার কথা বন্ধুদের কাছে বলল। জানল, ওই পেটমোটা গোল বস্তুটা হল ‘বল’, আর খেলাটার নাম ‘ফুটবল’। ছেলেটির নাম নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী। তারই উদ্যমে কেনা হল একটি বল। সেই জোগাড় করল তার স্কুলের সহপাঠীদের। নামল সবাই মিলে মাঠে, শুরু হল খেলা। কিন্তু সে খেলা ছিল এলোপাথাড়ি – যে যে দিকে পারে ছুটছে, এলোপাথাড়ি লাথি মারছে, বল পায়ে পেলে যে দিকে খুশি মেরে দিচ্ছে – সে এক হট্টগোলের হল্লাগুল্লা খেলা।

Loading videos...

১৮৭৯-এর সেই গোড়ার কথা

পাশেই হিন্দু কলেজ। সেখানকার কয়েক জন ছাত্রও জুটে গেল তাদের সঙ্গে। কয়েক দিন পরে হিন্দু কলেজের (পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ, অধুনা বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক বি ভি স্ট্যাকের নজরে পড়ল ঘটনাটা। শেষে তিনিই উদ্যোগী হয়ে নিয়ে এলেন নতুন বল। শেখালেন খেলার নিয়মকানুন। ছাত্রদের দু’ দলে ভাগ করে দিয়ে তিনিই রেফারি হিসাবে মুখে বাঁশি নিয়ে মাঠে নামলেন। শুরু হল বাংলার মাটিতে ফুটবলের ইতিহাস। সময়টা ১৮৭৯।

নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী।

তখন থেকেই শুরু বাংলা ও বাঙালির ফুটবল-ইতিহাসের অগ্রগতি। একে একে জন্ম নিল ওয়েলিংটন ক্লাব (পরে টাউন ক্লাব), শোভাবাজার ক্লাব, মোহনবাগান ক্লাব, ইস্টবেঙ্গল ক্লাব, মহমেডান স্পোর্টিং, ঢাকার ওয়েলিংটন ক্লাব (পরে উয়াড়ি ক্লাব), ঢাকা স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদি। বাঙালির আবেগে, রক্তে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হল ফুটবলের আকর্ষণ, উত্তেজনা। স্বামী বিবেকানন্দও তাঁর কৈশোরকালে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন। অনুভব করেছিলেন ফুটবল খেলার মাধ্যমে শরীরচর্চার তাৎপর্য, তাই ডাক দিতে পেরেছিলেন ফুটবল খেলতে।

ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে একটা জাতিয়তাবাদী সত্তা ও আবেগ জন্ম নিয়েছিল পরাধীন ভারতবর্ষে। তাই তো বোধহয় ১৯১১-তে ১১ জন বাঙালির যুবকের খালি পায়ে লড়াই বাঙালিকে ইংরেজের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিল।

গত শতকের প্রতিটি দশকে বাঙালি ও ফুটবল একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছিল। আর সেই খেলার ২২ জন খেলোয়াড় ছাড়া বাকি যে বিরাট অংশ – সেই বঙ্গসন্তানেরা কখনও মাঠের ধারে, কখনও বা গ্যালারিতে বা রেডিও ধারাবিবরণীতে মশগুল হয়ে থাকত। প্রিয় দলের জেতা-হারায় ছিল আনন্দ-দুঃখের অভিব্যক্তি। বাংলার গ্রামে-গঞ্জে, মফস্‌সলে কৈশোর, যৌবন ফুটবল খেলার প্রতি ছিল নিবেদিত প্রাণ। সেই আবেগ এমনই ছিল বা বলা যায় আজও আছে, যে বিশ্ব ফুটবলের প্রতিযোগিতায় বাঙালি দলে দলে বিভক্ত হয়ে যায় – ব্রাজিল, আর্জেন্তিনা, জার্মানি, ইংল্যান্ড ইত্যাদির পক্ষে। ঠিক যেমন, দেশের মাটিতে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল-মহমেডান…।

সেই দিনটিতে ফুটবল কাঁদিয়েছিল

সেই ফুটবল খেলা, যা বাঙালিকে আনন্দ দেয়, উত্তেজনায় ভরপুর করে তোলে, শপথে-প্রতিজ্ঞায় সুদৃঢ় করে তোলে, সেই ফুটবল বাঙালিকে কাঁদিয়েও তোলে, যখন বাঙালির মনে পড়ে আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগের একটি দিনের ইতিহাস, যে দিন ফুটবলের চোখে নেমেছিল কান্না, হাহাকার।

দিনটা ছিল ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট। খেলার নন্দনকানন ইডেন গার্ডেনস। কলকাতা লিগের ডার্বি ম্যাচ – প্রতিপক্ষ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ। দর্শকসংখ্যা ৭০ হাজারের কিছু বেশি। রেডিওতে কান পেতেছে লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমী। দূরদর্শনে চোখ রেখেছে আরও অনেকে। মোহনবাগানের ক্যাপ্টেন কম্পটন দত্ত আর ইস্টবেঙ্গলের সত্যজিৎ মিত্র। রেফারি সুধীন চ্যাটার্জি।

টানটান উত্তেজনায় শুরু হল খেলা। দু’ পক্ষই অঙ্গীকারবদ্ধ – জিততেই হবে। গ্যালারিতে সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে দর্শকদের অন্তরে অন্তরে – শরীরী ভাষায় আর তাদের শিরায় শিরায় বইছে উত্তেজিত রক্তস্রোত। খেলা এগোচ্ছে, দু’ দলই মরিয়া তাদের সম্মান-ঐতিহ্য অটুট রাখতে। মাঠের মধ্যে ৯০ মিনিটের প্রতি সেকেন্ডে খেলোয়াড়দের যেমন চোয়াল শক্ত করে চলছে লড়াই, ঠিক তেমনই গ্যালারির বুকে হাজার হাজার সমর্থকের হৃদপিণ্ডে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। এক সময় খেলা শেষ হল, ফল ০-০। কিন্তু ততক্ষণে মাঠের গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। গ্যালারিতে শুরু হয়ে গিয়েছিল বিশৃঙ্খলা, ভেঙে পড়েছিল প্রশাসনিক দৃঢ়তা। দর্শকরা যে যার মতো করে প্রাণ হাতে করে ছুটতে শুরু করল। দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হাজার হাজার মানুষ। কে রইল পেছনে, কে রইল পায়ের নীচে – সে সব চিন্তা তখন কারও নেই। সবার অবস্থা তখন ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’।            

সে দিনের বিশৃঙ্খলা।

ঘটে গেল কলকাতার ফুটবলের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে মারা গেলেন ১৬ জন ফুটবলপ্রেমী – ১৯৮০-র ১৬ আগস্ট। সারা মাঠ, সারা শহর, বাংলার গ্রাম-গঞ্জ-মফস্‌সল সে দিন হতবাক, শোকে বিহ্বল। হাহাকারে, আর্তনাদে ভরে গিয়েছিল বাঙালির মন-প্রাণ।

খেলা দেখতে বেরিয়ে আর ঘরে ফিরল না ১৬টি তরতাজা প্রাণ – হিমাংশুশেখর দাস, উত্তম ছাউলে, কার্তিক মাইতি, সমীর দাস, অলোক দাস, সনৎ বসু, বিশ্বজিৎ কর, নবীন নস্কর, কার্তিক মাজী, ধনঞ্জয় দাস, প্রশান্তকুমার দত্ত, শ্যামল বিশ্বাস, রবীন আদক, মদনমোহন বাগলি, অসীম চ্যাটার্জি এবং কল্যাণ সামন্ত। সে দিন আহত হয়েছিল কয়েকশো ফুটবলপ্রেমী দর্শক।

১৬ আগস্টের সন্ধ্যা-রাত্রি ভীষণ ভারী হয়ে উঠেছিল বাংলার বুকে, বড়ো দীর্ঘ হয়ে উঠেছিল, কিছুতেই সকাল হতে চাইছিল না সেই রাত। ঘরে ঘরে প্রিয়জনদের উদগ্রীব অপেক্ষা – ছেলেটা ঘরে ফিরল? পাড়ায় পাড়ায় জিজ্ঞাসা – ছেলেটা ফিরেছে? সারা বাংলা সে দিন গুমরে গুমরে কাটিয়েছিল নিদ্রাহীন রাত।

পরের দিন প্রভাতী সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবরের অক্ষরগুলো যেন কেঁদে উঠেছিল। আকাশবাণীতে ঝরে পড়েছিল কষ্টের উচ্চারণ ‘সংবাদ বিচিত্রা’য়। উপেন তরফদারের উপস্থাপনায় প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে হৃদয় নিঙড়ানো শ্রদ্ধা জানানো হয়েছিল উত্তম ছাউলে, মদনমোহন বাগলিদের (তখনও পর্যন্ত সকলের নাম জানা যায়নি) প্রতি। সে দিন বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ শুনেছিলেন সেই অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে শোনা গিয়েছিল এক সন্তানহারা পিতার আর্তনাদ – খো…কা, খো…কা।  

‘খেলার মাঠে কারও খোকা আর না হারায় দেখো’

বাংলার মানুষ শুনেছিলেন বাংলা নাট্যজগতের অন্যতম নক্ষত্র সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সেই ঐতিহাসিক গান – ‘খেলা ফুটবল খেলা, খোকা দেখতে গেল সেই সকালবেলা’। সেই সন্তানহারা পিতার কান্নাই বোধহয় তাঁকে দিয়ে এই গান লিখিয়ে নিয়েছিল। গানটিতে সুর দিয়েছিলেন প্রখ্যাত সুরকার নচিকেতা ঘোষের পুত্র সুপর্ণকান্তি ঘোষ। গেয়েছিলেন মান্না দে।

গানটি ১৯৮১ সালের সরস্বতী পুজোর আগে এইচএমভি থেকে প্রকাশ করা হয়। ফুটবল-শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্টস ক্লাব এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানেই ওই গানটি প্রকাশ করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন স্বয়ং মান্না দে, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপর্ণকান্তি ঘোষ, সেই সময়কার অ্যাডভোকেট জেনারেল স্নেহাংশুকান্ত আচার্য, পি কে ব্যানার্জি, চুণী গোস্বামী, সুঁটে ব্যানার্জি, পঙ্কজ রায়, বিদেশ বসু, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, কম্পটন দত্ত, সত্যজিৎ মিত্র-সহ বাংলার ক্রীড়া ও সংস্কৃতি জগতের নক্ষত্ররা।

গানটি ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ মিনিটের। শেষে সন্তানহারা পিতার সেই মর্মস্পর্শী আবেদন প্রোথিত হয়ে যায় বাঙালির মর্মস্থলে – ‘তোমরা আমার একটা কথাই রেখো / খেলার মাঠে কারও খোকা আর না হারায় দেখো’।

Continue Reading
Advertisement
রাজ্য4 mins ago

আচমকা মেঘের আনাগোনা, থমকে গেল পারদ-পতন

দেশ32 mins ago

দিল্লি এবং আরও ৩ রাজ্য থেকে মহারাষ্ট্রে ঢুকতে গেলে লাগবে কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট

Donald Trump
বিদেশ52 mins ago

‘যা করতে হয় করুন’, পরাজয় প্রায় স্বীকারই করে ফেললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মালদা7 hours ago

মালদহের মানিকচকে ভেসেল উলটে ৮টি ট্রাক পড়ল গঙ্গায়, বেশ কিছু মানুষ নিখোঁজ

ফুটবল8 hours ago

পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে প্রথম ম্যাচে ৩ পয়েন্ট ঘরে তুলল হায়দরাবাদ

রাজ্য12 hours ago

রাজ্যের নতুন সংক্রমণ নেমে এল সাড়ে তিন হাজারের ঘরে, কমল দৈনিক মৃত্যুও

বন্ধন ব্যাঙ্ক
শিল্প-বাণিজ্য12 hours ago

এবার কলকাতা মেট্রোর স্মার্ট কার্ডে থাকবে বন্ধন ব্যাঙ্কের লোগো

বিদেশ15 hours ago

যুদ্ধ বাধাতে পারেন ‘দুর্বল’ জো বাইডেন, আশঙ্কা করছে চিন

দেশ24 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৪৪০৫৯, সুস্থ ৪১০২৪

শিক্ষা ও কেরিয়ার3 days ago

কোন রাজ্য ফের স্কুল খুলেছে, কোথায় এখনও বন্ধ? জেনে নিন বিস্তারিত

ভ্রমণ কথা2 days ago

রূপসী বাংলার সন্ধানে ১/ অবাক করল তাজপুর

বিনোদন2 days ago

রবিবারের পড়া: শহর ছেড়ে তুমি কি চলে যেতে পারো তিন ভুবনের পারে

ফুটবল3 days ago

প্রথম বিদেশি হিসেবে আইএসএলে অনন্য রেকর্ড করলেন সবুজ মেরুনের তিরি

শরীরস্বাস্থ্য3 days ago

কেন খাবেন কামরাঙা? ১৩টি কারণ জেনে নিন

ঘরদোর3 days ago

ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারের আগে ৫টি জরুরি তথ্য, যা আপনার অবশ্যই জানা উচিত

বিনোদন3 days ago

সন্ত্রাসবাদ থেকে শিশুদের উদ্ধার করতে শরণার্থী শিবিরে সঞ্জয় দত্ত, দেখুন ‘তোরবাজ’-এর ট্রেলার

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 days ago

লিভিংরুমকে নতুন করে দেবে এই দ্রব্যগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে ডিজাইনার আলোর জুড়ি মেলা ভার। অ্যামাজন থেকে তেমনই কয়েকটি হাল ফ্যাশনের...

কেনাকাটা6 days ago

কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস, দাম একদম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: কাজের সময় হাতের কাছে এই জিনিসগুলি থাকলে অনেক খাটুনি কমে যায়। কাজও অনেক কম সময়ের মধ্যে করে...

কেনাকাটা3 weeks ago

দীপাবলি-ভাইফোঁটাতে উপহার কী দেবেন? দেখতে পারেন এই নতুন আইটেমগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই কালীপুজো, ভাইফোঁটা। প্রিয় জন বা ভাইবোনকে উপহার দিতে হবে। কিন্তু কী দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন...

কেনাকাটা4 weeks ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা2 months ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা2 months ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা2 months ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

নজরে