Connect with us

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: একটি বিপর্যয় ও দেব-রথের সারথি

kedarnath disaster 2013
শৌনক, গুপ্ত

গঙ্গোত্রীকে যেমন আমরা উত্তরাখণ্ডের এক জনপ্রিয় তীর্থক্ষেত্র বলি, তেমনই গঙ্গোত্রীর পথে উত্তরকাশীকে পর্বতারোহীদের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র বলা যেতেই পারে। এখানেই রয়েছে পর্বতারোহণ-প্রশিক্ষণের পীঠস্থান ‘নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং’ বা সংক্ষেপে ‘নিম’। দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব পর্বতারোহী, আরোহণ-প্রশিক্ষক, এমনকি খ্যাতির আড়ালে থাকা বহু আরোহণকুশলীরও চরণধূলি পড়েছে এখানে। সেই ‘তীর্থক্ষেত্র’ উত্তরকাশীতে অবস্থান করছি তখন। সাল ২০১৩।

গোমুখ থেকে ফেরার পথে উত্তরকাশীর যে হোটেলে আমরা ছিলাম সেটা একেবারেই ব্যস্ত রাস্তার ধারে আর একই রকম ব্যস্ত একটা পেট্রলপাম্পের একেবারে বিপরীতে। জুন মাসের ১৫ তারিখ। চারধাম যাত্রা চলছে পুরোদমে। তাই রাস্তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে গাড়ির সারি, হর্নে হর্নে কানে তালা লাগার জোগাড়। বর্ষা তার আগমণ জানান দিতে শুরু করেছে। তাই মাঝে মাঝে বেশ জোরে বৃষ্টি নামছে। পরের দিন আমাদের হরিদ্বার নেমে যাওয়া। পেট্রলপাম্প লাগোয়া স্ট্যান্ডে গিয়ে ফেরার গাড়ির ব্যবস্থাও বিকেল বিকেলই সারা হয়ে গেছে।

পরদিন ভোরে যে প্রবল বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙল, আমরা তাকে গত ক’দিনের পরিচিত বৃষ্টি বলেই ভেবেছিলাম। কিন্তু যে ঘটনা একেবারেই অপরিচিত, তা হল ভোরের উত্তরকাশীতে একটা হর্নের আওয়াজও না-পাওয়া। কপালে যে ভাঁজ নিয়ে বারান্দায় এলাম, ঘরে ফিরে গেলাম তাকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে। বৃষ্টি এতই দুর্ভেদ্য যে উলটো দিকের দশ হাত দূরের পেট্রলপাম্পটাও আর দেখা যাচ্ছে না। গাড়ির লোকটিকে ফোন করতে জানা গেল, ধরাসুতে বড়ো রকম ধস পড়ে রাস্তা বন্ধ। সব গাড়ি আটকে রয়েছে। রাস্তা খুললে গাড়ি আসবে, তখন যাওয়া যাবে। “রাস্তা কব ঠিক হোগা?”, বোকার মতো প্রশ্নটা করেছিলাম প্রতিবর্ত ক্রিয়ায়। একগাল হেসে লোকটি অবশ্য আরও অদ্ভুত একটা উত্তর দিয়েছিল – “বারিশ রুকনে পর”।

আমরা গোছগাছ সেরে নিলাম। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরে মনে হল বৃষ্টির বেগ তো একটুও কমেনি, বরং যেন অনেকটাই বেড়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, চার দিক আরও অন্ধকার হয়ে আসছে। এ দিকে চেক-আউটের সময় হয়ে গেছে। সঙ্গীদের লবিতে লাগেজের সঙ্গে বসিয়ে আমরা দুই বন্ধু ছাতা নিয়ে গাড়ির স্ট্যান্ডে চলে গেলাম। উত্তরকাশীতে যেন অঘোষিত বন্ধ চলছে। ট্যাক্সি ইউনিয়নের অফিসে তিন জন অলস মুডে গল্প করছে। সেই একই ধরাসুর গল্প নতুন করে শুনলাম। ধস সারাই হলে গাড়ি আসবে। আমরা অসহায় ভাবে বসে রইলাম। যেন ওঁরাই ধস সরাতে যাবেন, এই আশায়। প্রায় আধ ঘণ্টা নিজেদের মধ্যে গল্প করার পর ওঁরা মনে হয় বুঝলেন আমরা কতটা নিরুপায়। এ-দিক ও-দিক ফোন-টোন করলেন। শেষে একটা ফোনে ‘তো ফির জায়েগা?’ বলতে শুনে আমরা আশার আলো দেখতে পেলাম। ফোন রেখে ওঁরা জানালেন, একটা গাড়ি আছে, শ্রীনগর গাড়োয়ালের গাড়ি। ড্রাইভার কাল রাতে যাত্রী নিয়ে এসে আর ফিরতে পারেনি। ছ’ হাজার টাকা দিলে হরিদ্বার নামিয়ে দিতে পারে। আমরা স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিতীয় কোনো রাস্তা খোঁজার সাহসটুকুও করলাম না।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: আর মাত্র পনেরোটা বছর, তার পর হয়তো…

ড্রাইভার ছেলেটি বেশ হাসিখুশি, নাম পারভেজ। বাড়িতে স্ত্রী আর ছোটো বাচ্চা আছে। আমাদের হরিদ্বার নামিয়ে বাড়ি ফিরবে। হোটেল থেকে লাগেজ তুলে সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা স্টার্ট দিলাম। প্রথমে উলটো পথ ধরলাম, গঙ্গোত্রীর দিকে। তার পর ডান দিকে একটা নতুন রাস্তা। এই রাস্তাই পিপলডালি হয়ে রুদ্রপ্রয়াগ–হরিদ্বার হাইওয়েতে উঠবে শ্রীনগরের কাছে। গাড়ির সব কাচ তোলা। কাচের ওপর যেন বালতি বালতি জল ঢালা হচ্ছে। শুধু উইন্ডস্ক্রিনে জোড়া ওয়াইপারের চলন মাঝে মাঝে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে গাড়ি রাস্তা ধরেই চলেছে। কিছুটা চলার পর ছাদে একটা জোরে শব্দ হতে পারভেজ গাড়ি দাঁড় করাল। ছাতা মাথায় দিয়ে ছাদে উঠে যেটা নামিয়ে আনল সেটা মাঝারি সাইজের একটা পাথর। পাথরের সাইজ আরেকটু বড়ো হলে কী হত সেটা বলতে দেখলাম পারভেজের বেশ হাসি পাচ্ছে। আরও কিছুটা যেতে দেখলাম বেশ কিছু গাড়ি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে। রাস্তা বন্ধ। এখানেও ধস, তবে বড়োসড়ো কিছু নয়। একটা পাহাড়ি নালা ছোটো ছোটো পাথর রাস্তায় এনে ফেলেছে। গাড়ির ড্রাইভারেরাই হাতে হাত লাগিয়ে সেগুলো সরিয়ে আবার রওনা দিল। পিপলডালি পৌঁছোতে এগারোটা বেজে গেল। বৃষ্টি একটু কমেছে, কিন্তু থামেনি। এখানে খবর পাওয়া গেল, সামনের রাস্তায় ধস নেমে গাড়ি আটকে পড়েছে। পারভেজ আরও দু’জন ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করল, তিনটে গাড়ি এক সঙ্গে একটা খুব উঁচু আর নির্জন কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাবে। ভয় হল। পারভেজকে বললাম, কাছাকাছি থাকার জায়গা পেলে দেখতে। ওর বাড়ি ফেরার আরও তাড়া। তাই ও মোটে থাকার পক্ষপাতী নয়। শুধুই হেসে বলে, “যব নিকল পড়ে হ্যাঁয়, তব পহুঁছনা তো পড়েগাহি না।”

আমাদের আশঙ্কা যে মিথ্যে ছিল না, তার প্রমাণ মিলল মাত্র আধ ঘণ্টা চলেই। সরু নির্জন রাস্তায় পর পর তিনটে গাড়ি দাঁড়িয়ে গেল। রাস্তা আগলে দাঁড়িয়ে বিশাল এক পাথর। গাড়ি ঘুরিয়ে পিছনে যাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টি আবার বেগ বাড়িয়েছে। গাড়ি থেকে নামার আগে এ বার মিষ্টি করে ধমকটা দিয়েই দিল পারভেজ, “ঘর জানা হ্যায় তো উতারকে পত্থর হটানে মে মদত করনা পড়েগা”। তা নামা তো হল, কিন্তু পাথর হঠানোর কোনো উপায় বেরোল না। ছোটো ছোটো পাথর তুলে রাস্তার ধারে ফেলছি। তার ওজনেই হাঁপ ধরে গেছে। এ দিকে সবাই জলকাদায় মাখামাখি। পারভেজরা কিছুক্ষণ ভাবল। তার পর ওই ছোটো পাথরগুলো ছুড়ে ছুড়ে বড়ো পাথরটার রাস্তার দিকের অংশে আঘাত করতে লাগল। ম্যাজিকের মতো কাজ হল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই বড়ো পাথরের সেই দিকটা খুলে পড়ে গেল। খোলা অংশটা সরিয়ে প্রায় খাদ ছুঁয়ে তিনটে গাড়িই বেরিয়ে এল। পরে বুঝেছি, এই নির্জন রাস্তায় আটকে পড়লে কত বড়ো বিপদ হত। অলকানন্দার তীরে শ্রীনগরে এসে যখন হাইওয়েতে পড়লাম তখন দুপুর দুটো। পথে বেশ কয়েক বার নেমে পাথর সরাতে হয়েছে। কাদামাখা জামাকাপড়েই গাড়ির সিটে লেপ্টে আছি। রাস্তাটা অনেক দূর অবধি দেখা যাচ্ছে। তার পুরোটাই দুই লেনে গাড়ির লাইন। গর্জনশীলা অলকানন্দার এমন পাগল রূপ, দেখলে ভয় লাগে। গাড়ি খুব ধীরে ধীরে নামতে লাগল। প্রচুর গাড়ি উঠছেও। বদরীনাথ ও হেমকুণ্ড সাহিবের পথে কাতারে কাতারে তীর্থযাত্রী। তিন মাসের দুধের শিশু থেকে নবতিপর অসুস্থ বৃদ্ধা, কে নেই পুণ্য অর্জনের সেই দীর্ঘ লাইনে। জায়গায় জায়গায় ধস পড়ে রাস্তা এক লেনের হয়ে গেছে। গাড়ির গতি তখন শামুককেও হার মানায়। সেই গতিতেই দেবপ্রয়াগ পৌঁছোলাম সন্ধে সাতটায়। তখন অন্ধকার নামছে। মোবাইলের চার্জও শেষ।

শরীরে এতটুকু শক্তি অবশিষ্ট নেই। পারভেজকে দেখে অবাক লাগছে। একটানা গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। দেবপ্রয়াগের পর একটু গতি বাড়ল। হৃষীকেশ পৌঁছোলাম রাত সাড়ে দশটায়। জানা গেল, আর যাওয়া যাবে না। লক গেট খুলে দেওয়ায় গঙ্গার জল রাস্তার ওপর দিয়ে বইছে। এ দিকে হৃষীকেশ আর ও দিকে রুড়কি পর্যন্ত গাড়ির লম্বা লাইন লেগে গেছে। সকালে জল কমলে আবার যাওয়ার কথা ভাবা যাবে। অত রাতে আর খাওয়া জুটল না। বহু খুঁজে গঙ্গার ধারে একটা ধর্মশালায় আশ্রয় পেলাম। নদীর জল সবেগে আছড়ে পড়ছে তার একতলার উঠোনে। আমরা সন্তর্পণে দোতলায় উঠে গেলাম। মেঝেতে পাতা বিছানায় ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিলাম। পারভেজ কিছুতেই গাড়ি ছেড়ে আসতে রাজি হল না। আমাদের লাগেজও গাড়িতেই ওর জিম্মায় থেকে গেল।

রাস্তা খুলেছে শুনতেই সকাল সকালই বেরিয়ে পড়লাম। জামাকাপড় কিছুই বদলানোর সুযোগ হয়নি। গাড়ি আর কোথাও আটকাল না। হরিদ্বারে হোটেলে এসে ঢুকলাম সকাল সাতটায়। কথা হওয়া ছয় হাজারের এক পয়সাও বেশি নিল না পারভেজ। টানা পনেরো ঘণ্টা ড্রাইভ করে রাতে গাড়িতে ঘুমোনো ছেলেটা একই রকম হেসে ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলে চলে গেল। স্নান সেরে বেরিয়ে টিভি চালাতেই চমকে উঠলাম। কেদারনাথ ধ্বংস। বদরী-হেমকুণ্ডের রাস্তার জায়গায় জায়গায় প্রবল ধস। উত্তরকাশীতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে ঘরবাড়ি। সমস্ত ইন্টারনেট, মোবাইল ও বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন। হাজারে হাজারে মানুষ বিপন্ন, নিখোঁজ, মৃত। বুঝতে বাকি রইল না, ধ্বংস গতকাল আমাদের পিছু পিছু আসছিল। একেই বলে ‘মার্জিনাল এস্কেপ’। মনে পড়ে গেল সেই দুধের শিশু আর বৃদ্ধদের কথা। তারা এখন কোথায়, কেউ জানে না। পারভেজের কথা মনে পড়ল। সে-ও তো শ্রীনগর ফিরবে। ওকে ফোন করলাম, ফোন লাগল না। বেলা বাড়তে খবরের ভয়াবহতাও বাড়তে লাগল। প্রশাসনের পাশাপাশি নিমের পর্বতারোহীরাও নেমে পড়েছে উদ্ধারকাজে। বিমর্ষ মনে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। হরিদ্বারের রাস্তায় ভিড় বাড়ছে। কত বছর কেটে গেছে। নিম-এর ক্যাম্পাসে কিছু পজিটিভ কোটের হোর্ডিং দেখেছিলাম। তার একটা ছিল, “A man is not properly dressed if he is not wearing a smile on his face”। আরেকটা ছিল উইলমা রুডলফের কথা, “I’m in my prime, there’s no goal too far, no mountain too high”। পারভেজ প্রথমটার নিখুঁত প্রতীক ছিল। আর দ্বিতীয় কথাটা গাড়ি চালিয়ে দিন গুজরানো এই ছেলেটা আরও কত সহজ ভাষায় বলেছিল, “যব নিকল পড়ে হ্যাঁ, তব পহুঁছনা তো পড়েগাহি না”। পারভেজের নম্বরে আর কখনও যোগাযোগ করতে পারিনি। কিন্তু ওর সেই আত্মবিশ্বাস আজও আমায় বিশ্বাস করায়, ও বাড়ি ফিরতে পেরেছিল। এই শহুরে বিলাসী জীবনে সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে দেবদূতের মতো আসা রথের সারথি আজও আমায় যে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নিরসনের প্রেরণা জোগায়।

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া ২: অমলাশঙ্কর বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনশীলতার মধ্যে

ঘুমের মধ‍্যে রানির মতো চলে গেলেন পরম আত্মীয়ের কাছে।

papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

ভোরের আলো ফোটার আগেই একটা যুগের অবসান। ঘুমের মধ‍্যে রানির মতো চলে গেলেন পরম আত্মীয়ের কাছে। শতায়ু নৃত্যশিল্পী বার্ধক‍্যজনিত কারণেই ইহলোক ত‍্যাগ করলেন শুক্রবার ভোররাতে।

ব্যবসার কাজে বিদেশে যাওয়ার জন্য বাবা অক্ষয়কুমার নন্দী যদি তাঁকে সঙ্গে না নিতেন, তা হলে তাঁর জীবন কোন দিকে বয়ে যেত বলা মুশকিল। বারো বছরের মেয়েকে নিয়ে প্যারিস যাওয়ার যে পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি, তা এক সময়ে মহার্ঘ পিতৃ-আশীর্বাদ বলেই ভেবেছিলেন তিনি। তিনি নৃত্যশিল্পী অমলাশঙ্কর চৌধুরী, আমাদের সকলের অত্যন্ত শ্রদ্ধার অমলাশঙ্কর (Amala Shankar)।

সময়টা ১৯৩১। প্যারিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোনিয়াল এক্সপোজিশন’ থেকে আমন্ত্রণ এল বাবার কাছে। তাঁর অলংকারের কারখানা ‘ইকোনমিক জুয়েলারি ওয়ার্ক্স’-এর স্টল হবে সেখানে। সেই সূত্রে ফ্রান্সে যাওয়া। ছোট্ট অমলা আত্মহারা। যখন শুনল শহরের বোয়া দে ভান সাঁ বা ভানসার বন নামে একটি বনের ভেতরে প্রদর্শনীটি হবে এবং সেখানে নাচগানও হবে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আরও উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিল কিশোরী অমলা। সেই প্রদর্শনীতে ভারতীয় নৃত্য পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন মাদাম নিয়তা নিয়কা। অমলা তখন নাচের কিছুই জানত না। বাবার উৎসাহে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং নিয়তাই তৈরি করে নিলেন অমলাকে।

১৯৩১ স্মরণীয় হয়ে রইল আরও এক কারণে। সেই প্রদর্শনীতে নৃত্য পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রিত ছিলেন আরও এক ভারতীয়, উদয়শঙ্কর। লোকমুখে জানা হয়ে গিয়েছিল, তিনিও একই জেলার লোক, বাবার বিশেষ পরিচিত ও বিশ্ববিখ্যাত নর্তকী আনা পাভলোভার সঙ্গে ইউরোপ ও আমেরিকায় নৃত্য পরিবেশন করে যশস্বী হয়েছেন। ভারতবর্ষকে গৌরবান্বিত করেছেন।

উদয়শঙ্কর ও অমলাশঙ্কর।

উদয়শঙ্কর – নাম শুনে মনে হল প্রবীণ এক দিকপাল প্যারিসে অবসর যাপন করতে এসেছেন। কিন্তু প্রদর্শনীতে তাঁদের প্যাভেলিয়নের সামনের সারিতে ষোলো আনা সাহেবি পোশাক পরিহিত সেই বাঙালিকে দেখে ধারণা পালটাল। সেই সঙ্গে সে দিনের কিশোরীর মনে একটা সুরও গেঁথে গেল। এত দিন তো পুরুষচিত্র বলতে মনের মধ্যে গাঁথা হয়ে গিয়েছিল কৃষ্ণ, অর্জুন আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  

শঙ্কর পরিবারের অনেকেই থাকতেন প্যারিসে। অক্ষয়বাবুর সঙ্গে কথা বলে অমলা ও তাঁকে তাঁদের বাড়িতে আসার নিমন্ত্রণ করে গেলেন উদয়শঙ্কর। প্যারিসের বাড়িতে অমলাকে পেয়ে উদয়ের মা হেমাঙ্গিনী দেবীর মহা আনন্দ। সে দিন হেমাঙ্গিনীর রান্না করা চচ্চড়ি, মাংস আর পোলাও খেয়েছিলেন অমলা। আর খেলার সঙ্গী হিসাবে পেয়েছিলেন রবিকে, মানে রবিশঙ্করকে।

শঙ্করদের প্যারিসের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন অমলা। একদিন রবির সঙ্গে খেলছেন, এমন সময় উদয়শঙ্করের ডাক। অমলাকে একটা মুদ্রা দেখিয়ে নাচতে বললেন। অমলাও তৎক্ষণাৎ দেখিয়ে দিলেন। উদয় দেখে বুঝেছিলেন, নাচ অমলার রক্তে আছে। এ ভাবেই নৃত্যে হাতেখড়ি অমলার, ‘বড়দা’ উদয়শঙ্করের কাছে। খেলার ছলে নাচ তোলা হতে লাগল অনায়াসে।

ঠিক হল ইউরোপের নানা জায়গায় নাচের অনুষ্ঠান করা হবে। আর অমলার বাবাও ঠিক করেছিলেন ইউরোপের সব শিল্পকেন্দ্রগুলি মেয়েকে ঘুরিয়ে দেখাবেন। ১৯৩১-এর ২৯ ডিসেম্বর – শুরু হল ইউরোপ-যাত্রা, শুরু হল অমলার নৃত্যজীবনের যাত্রাও। ১৬ জনের দলে ছিলেন আরও দুই ভাই, তিন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী – সুরশিল্পী তিমিরবরণ, অন্নদাচরণ এবং পশ্চিম ভারতীয় যুবক বিষ্ণুদাস শিরালি। মহিলা অধ্যক্ষ ছিলেন শিল্পকলাবিদ সুইৎজারল্যান্ডের মিস আলিস বোনর। দলে এসে অমলার নতুন নাম হল অপরাজিতা। ইউরোপ ঘুরে এসে সেই কিশোরী লিখে ফেলেন ‘সাত সাগরের পারে’ নামে এক ভ্রমণের বই। অস্ট্রিয়া থেকে বাল্টিকের লিথুয়ানিয়া, জার্মানির সুলৎজবার্গ, ফ্রান্সের টুলোঁ, সুইডেনের মালমো, নরওয়ের অসলো, ফিনল্যান্ডের হেলজিৎ ফোর্স, বেলজিয়ামের লিজ্‌ – কোথায় না ঘুরে ফেলল ছোট্ট অমলা।

নৃত্যের তালে তালে

ইতিমধ্যে নৃত্যশিক্ষা চলতে লাগল উদয়শঙ্করের হাত ধরে। ‘কালীয়দমন’ দিয়ে মঞ্চে প্রবেশ। অমলা কালীয়, উদয়শঙ্কর কৃষ্ণ। বিদেশিরা অভিভূত নাচ দেখে। আট মাসের সেই সফরে ভারতবর্ষের সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব বিদেশিদের কাছে তুলে ধরলেন তাঁরা। এ দিকে মনের পুরুষচিত্র ধীরে ধীরে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। কষ্ট করে জীবনের পথ খুঁজতে হল না। নৃত্যশৈলী দেখিয়ে দিল কোনটা অমলার পথ। উদয়শঙ্করের হাত ধরেই পথ এসে মিশে গেল অমলার পথে। এ যেন হর-পার্বতীর মিলন।

বছর ষোলো বয়স। ম্যাডান থিয়েটার তথা এলিট সিনেমাহলে ‘কার্তিকেয়’ দেখতে গিয়ে মনের মানুষের খোঁজ যেন আরও ভালো করে পেলেন অমলা, কার্তিকেয়রূপী উদয়শঙ্করকে দেখে। বিদেশ সফরে উদয়শঙ্কর একটি ফোর্ড গাড়ি উপহার পেয়েছিলেন। সেই গাড়িতে অমলা-সহ কয়েক জনকে নিয়ে কলকাতা থেকে দেহরাদুন হয়ে আলমোড়া যাওয়া উদয়শঙ্করের। অমলার কাছে এ যাত্রার স্বাদ ছিল আলাদা। বিচিত্র অনুভূতি – রোমান্সের সঙ্গে মিশে আছে লজ্জা, ভয়, দ্বিধা। বিত্তশালী, অসামান্য মেয়েরা উদয়ের জন্য পাগল। আর সেখানে অমলা তো একরত্তি মেয়ে। তবে জোর ছিল এক জায়গায়। যে দু’-একটি বই কিনে অমলাকে  দিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিল – উইথ লাভ, উদয়শঙ্কর। কত বার বই খুলে সেই নাম দেখা – উদয়শঙ্কর। একদিন মেঘ না চাইতেই জল এসে পড়ল কপালে। উদয়শঙ্কর জানালেন, ম্যাটিনি শো-তে মেট্রো হলে ছবি দেখতে যাওয়ার কথা। অমলার পথ যেন আরও মসৃণ হল।             

বাবা অক্ষয়কুমার নন্দীর সঙ্গে সেই আমলের বহু গুণীজনের ভালো আলাপ ছিল। তাঁদের মধ‍্যে ছিলেন সংগীতবিশারদ বিখ্যাত দিলীপকুমার রায়। অমলার নাচ দেখে প্রশংসা করে জানালেন, এ মেয়ে নাচ করে হৃদয় দিয়ে। ওঁরই উৎসাহে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের বাড়িতে একদিন নাচের আয়োজন করা হল। দেখতে এলেন সুভাষচন্দ্র বসুও। খদ্দরের শাড়ি পরা অমলার নাচ দেখে খুব খুশি সুভাষ। অক্ষয়বাবুকে প্রস্তাব দিলেন আলমোড়ায় উদয়শঙ্করের সেন্টারে অমলাকে পাঠিয়ে দিতে। উদয়শঙ্করের গুণমুগ্ধ ছিলেন সুভাষ, অথচ কেউ কাউকে কোনওদিন দেখেননি। উদয়শঙ্কর সম্পর্কে সুভাষ বলতেন, আই অ্যাম অ্যান আরডেন্ট অ্যাডমায়ারার অফ দিস ম‍্যান। সুভাষ যখন অসুস্থ হয়ে ভিয়েনায় ছিলেন তখন সেখানে উদয়শঙ্করের শো চলছিল। সেই সময় সেখানকার পত্রপত্রিকায় উদয়শঙ্করের কথা তিনি পড়েছিলেন।

সুভাষচন্দ্রের প্রস্তাবে অমলার মন নেচে উঠল। কিন্তু বাধ সাধলেন অক্ষয়বাবু। বিশেষ আমল দিলেন না সেই প্রস্তাবে। লেখালেখিতেই মন দেওয়ার কথা বললেন অমলাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুভাষচন্দ্রের হস্তক্ষেপেই আলমোড়ায় ‘শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচার সেন্টার’-এ  অমলার যাওয়া। সময়টা ১৯৩৯। আলমোড়ার শিক্ষাকেন্দ্রে ১৪টি বাংলো ছিল। তখন সেখানে ছিলেন সিমকি, জোহরা মমতাজ, উজরা বেগম। আলমোড়ার অনাবিল প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য আর শিল্পচর্চার আদর্শ ক্ষেত্র অমলাকে নিবিড় করে প্রশিক্ষিত করে তুলল। এক বছর টানা প্রশিক্ষণ চলল নৃত‍্যের সঙ্গে ধৈর্যের, সহ‍্যের, শারীরিক ক্ষমতার, খাঁটি ভারতীয় মেয়ের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা কতটুকু ইত‍্যাদির। সেই সময় একদিন বলেছিলেন, তিনি সাত ঘাটের জল খেয়েছেন, গঙ্গাজলের স্বাদ কী তা তিনি জানেন। মনের মধ‍্যে শ্রদ্ধা আর অনুরাগ নিয়ে প্রশিক্ষণ চলতে লাগল।

সপরিবার – পুত্র আনন্দ, কন্যা মমতা আর স্বামী উদয়শঙ্করের সঙ্গে।

ইতিমধ্যে মনে মনে ভালোলাগা আর ভালোবাসার পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে নিজেদের অজান্তেই। প্রেম তো বলে কয়ে আসে না। উদয় চিঠি লিখলেন অক্ষয়কুমারকে। তিনি রাজি ছিলেন না। কিন্তু আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের মধ‍্যস্থতায় বিয়ে পরিপূর্ণ রূপ পেল ১৯৪২-এ।

১৯৪৮-এ উদয়শঙ্কর পরিচালিত ‘কল্পনা’ ছবিতে উমা চরিত্রে অভিনয় করলেন অমলাশঙ্কর। এর পরে এগিয়ে যাওয়া। কী সাংসারিক ক্ষেত্রে কী কর্মক্ষেত্রে। পুত্র আনন্দ ও কন‍্যা মমতার মা হয়ে গেলেন। পাশাপাশি এক দক্ষ প্রশিক্ষক হয়ে উঠলেন নৃত‍্যশিল্পে। স্বামী উদয়শঙ্করের সৃষ্টি করা কাজকে ফিরিয়ে এনেছিলেন মঞ্চে। সামান্য ক্ষতি, ছায়ানৃত‍্য মহামানব, মেশিনড‍্যান্স, স্নানাম, গ্রামীণ নৃত‍্য, অস্ত্রপূজা, কার্তিকেয়, রামলীলা সহ নানা কৃষ্টি। অমলাশঙ্কর নিজে মঞ্চায়ন করেছিলেন পুত্র আনন্দশঙ্করের সুরপ্রয়োগে সীতা স্বয়ম্ভরা, যুগচন্দ্র। এ ছাড়াও বাসবদত্তা, চিদাম্বরা, চিত্রাঙ্গদা, কালমৃগয়া – সবেতেই শঙ্কর ঘরানার নৃত‍্যকৌশলের উপস্থিতি যা দর্শকদের  মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল। আজও আমরা তার প্রতিচ্ছবি পাই যোগ্য উত্তরসূরিদের নৃত্য পরিবেশনের মধ্যে।

অমলাশঙ্কর নিজে শুধু শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন এক পূর্ণ মা। শিল্পী হয়েও যিনি বহু ছাত্রছাত্রী ও নিজের শাখাপ্রশাখার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন শঙ্কর ঘরানাকে। মঞ্চ ও পোশাকের উৎকর্ষ নিয়ে প্রতিনিয়ত পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতেন।১৯৯১-এ পদ্মভূষণে ভূষিত হন অমলাশঙ্কর। ২০১২-তে কান্ ফেস্টিভ‍্যালে আবার  উপস্থিত ছিলেন তিনি। ছেলেবেলাতেও সব চেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ওই উৎসবে তাঁর উপস্থিতি সেই সময়ে অনেকের নজর কেড়েছিল।

১৯১৯-এর ১৭ জুন যশোরে জন্ম হয়েছিল অমলা নন্দীর। গত মাসেই উদযাপন করেছিলেন নিজের জন্মের ১০১ বছর। তার মাস খানেক পরেই চলে গেলেন চির ঘুমের দেশে। শিল্পীর মৃত্যু নেই। অমলাশঙ্কর বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনশীলতার মধ্যে, বেঁচে থাকবেন তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের মধ‍্যে।

উদয়শঙ্কর ও অমলাশঙ্কর অভিনীত ছবি কল্পনা

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া ১: ১১ বছর আগের পুরো ক্লাসটাই উঠে এল হোয়াটসঅ্যাপে, স্মৃতি রোমন্থনে বন্ধুরা

শ্রয়ণ সেন

বর্তমানে এরা বিভিন্ন জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ১১ বছর আগে এরা ছিল সদ্য তারুণ্যের দিকে পা বাড়ানো এক দল কিশোর-কিশোরী। বলা বাহুল্য, কিশোরী অনেক বেশি, কিশোর হাতে গোনা কয়েক জন।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে কারা যেন ‘সামাজিক দূরত্বের’ কথা বলে! এই শব্দবন্ধটা যে সম্পূর্ণ ভুল, তা বুঝিয়ে দিল ১১ বছর আগে স্কুলজীবন শেষ করা সেই কিশোর-কিশোরীরা। ২০০৯-এ শেষ হওয়া গোটা ক্লাসটাই উঠে এল হোয়াটসঅ্যাপে। ‘শারীরিক দূরত্ব’ বজায় থাকলেও নিজেদের মধ্যে তৈরি হল ‘সামাজিক বন্ধন।’

হ্যাঁ, এই প্রতিবেদকও সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। কারণ সে-ও যে তখন ওই ক্লাসে পড়ত। একাদশ আর দ্বাদশ শ্রেণির স্মরণীয় দু’টো বছর চরম আনন্দ করে কাটিয়েছিল সেও।

কিছু দিন আগেই এই প্রতিবেদকের এক সহপাঠিনী ফেসবুকে তাদের স্কুলজীবনের শেষ দিনের ছবি পোস্ট করে। ছবিগুলোর মধ্যে নিজেকে খুঁজতে গিয়েই চমকে যায় সে।

ছবিটা দেখে নিজেকে চিনতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল তার। ছবিটায় তার অনেক বন্ধুকে ট্যাগ করা হল। একটা পুনর্মিলনের আবহ তৈরি হল।

ছোটো থেকে সিবিএসই স্কুলে পড়েছে সে। তাই তার কাছে ক্লাস ১০-এর বোর্ড পরীক্ষা হল আদতে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষায় তার নম্বর খারাপ হয়নি। তবুও সুযোগ থাকা সত্বেও সে সায়েন্স না নিয়ে আর্টস বেছে নিয়েছিল।

ছোটো থেকেই আর্টসের প্রতি তার বেশি আগ্রহ। আর্টসকে ভিত্তি করেই সে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখল। তবে তার জন্য তাকে অন্য লোকের কথাও শুনতে হয়েছিল।

আর্টসে মেয়েরা বেশি পড়ে, ছেলে হয়ে সে যেন একা না হয়ে পড়ে, এমন কথা অনেকেই বলেছিল তাকে। বলতে দ্বিধা নেই কিছুটা নিরুৎসাহ করার জন্য এই কথাগুলো অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়েছে।

তার ক্লাসে মেয়েরাই বেশি ছিল, বলাই বাহুল্য। একাদশ শ্রেণিতে ৬ জন ছেলে থাকলেও, দ্বাদশে সেটা আরও কমে চার জনে নেমে এল। ক্লাসে নারী-পুরুষের অনুপাত ১:১০ হয়ে গেল। প্রতি দশ জন মেয়েতে একজন করে ছেলে। মানে ক্লাসে মোট ৪৪ জনের মধ্যে ৪০ জন ছিল মেয়ে, চার জন ছিল ছেলে। এর মধ্যে একটা ছেলে আবার সুযোগ পেলেই ডুব মারত।

ক্লাসে এই ১:১০ অনুপাত কি ছেলেদের কিছুটা ব্যাকফুটে রেখে দিয়েছিল? একদমই না। এই দু’টো বছর এই প্রতিবেদকের স্কুলজীবনের সেরা বছর ছিল নিঃসন্দেহে।

পড়াশোনার চাপ ছিল ভালোই, সেই সঙ্গে ছিল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্নেহ। তাদের আশীর্বাদ ছিল, ছিল বকুনিও। এই সবই ছিল জীবনে বড়ো হওয়ার ক্ষেত্রে পাথেয়।

পড়াশোনা যেমন চলত, তেমন সুযোগ পেলে বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটিও লেগে থাকত সমান তালে। একজন ছেলে তো আসতই না প্রায় স্কুলে। কিন্ত বাকি তিন জন ছেলে অর্থাৎ সে নিজে, অর্ণব আর শুভম নিজেদের মধ্যে খুব মজা করে কাটিয়েছে।

ওদের ঠিক পেছনের বেঞ্চেই বসত সুকন্যা, অভিরূপা, স্পৃহা, দেবদত্তা। ওদের সঙ্গে খুনসুটি লেগেই থাকত। খুনসুটির ব্যাপারগুলো বেশিমাত্রায় অবশ্য অর্ণব করত। এ ছাড়া অঙ্কিতা, পায়েল, গায়েত্রী, শ্রেয়সী, অরুণিমারাও খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছিল।

স্কুলজীবনে অর্ণব খুব প্রাণচঞ্চল ছিল। এখনও রয়েছে অবশ্য। ভারতের ক্রিকেট ম্যাচ থাকলে ও রেডিও নিয়ে আসত স্কুলে। টিফিনের সময়ে ছেলেরা চলে যেত পেছনে একটা ঘরে। ও রেডিও চালিয়ে দিত।  

টিফিন টাইমে ওই ঘরে সায়ান্স আর কমার্স স্ট্রিম থেকে বেশ কয়েক জন আসত। এক সঙ্গে হইহই করে টিফিন খেতে খেতে খেলার রিলে শোনা হত। টিফিনের পর আবার ক্লাস শুরু।

এই অর্ণবের জন্যই একটা মারাত্মক দুষ্টুমি এই প্রতিবেদক শিখেছিল ক্লাস ১২-এ উঠে। ওদের ভূগোল ল্যাবটা ছিল চার তলায়। তিন তলায় নিজেদের ক্লাসরুম থেকে ভূগোল ক্লাসের সময়ে রোজ ওই ল্যাবে যেতে হত। ল্যাবের ঠিক পাশেই লিফ্ট। স্বাভাবিক ভাবেই ওই লিফ্টে চড়ার অনুমতি ছিল না ছাত্রছাত্রীদের।

অর্ণবের মাথায় একটি কুবুদ্ধি এল। ও রোজ ভূগোল ল্যাবে ঢোকার আগে লিফ্টের সুইচটা টিপে দিত। বলা নেই, কওয়া নেই, ফাঁকা লিফ্ট নীচ থেকে চার তলায় উঠে আসত। এই ব্যাপারটায় বেশ মজা লাগত।

তার পর এক দিন সব শেষ হল।

দিনটা ছিল ২০ ডিসেম্বর ২০০৮। স্কুলজীবনের শেষ দিন। বড্ড মন খারাপের দিন। সকাল সাড়ে সাতটায় স্কুলে পৌঁছেই বোঝা গেল মুডটা পুরো অন্য রকম।

আন্টিরা বলেই দিয়েছিলেন কোনো ক্লাস হবে না, এমনকি প্রথম বারের মতো সে দিনই স্কুলে মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সবার চোখ জলে ভরে আসছে। জানি না আসন্ন পরীক্ষার পর আবার কবে আমাদের দেখা হবে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি। এই সময়টা তো আর ফিরবে না।

প্রথমে ক্লাসরুমের ভেতর, তার পর স্কুলের চাতালে খুব হইহল্লা হল। তার পর স্কুল শেষে গেটের বাইরে বেরিয়ে ফোটোসেশন। সেই ছবিগুলোই গত সপ্তাহে ফুটে উঠল ফেসবুকের দেওয়ালে।

স্কুল শেষ হওয়ার পরের বেশ কয়েকটা বছর অনেকেই অনেকের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। দু’এক জনের সঙ্গে দু’এক জনের সম্পর্ক থাকলেও, মোটের ওপরে গোটা ক্লাসটা বিচ্ছিন্নই হয়ে গিয়েছিল।

এর পর কলেজজীবন। সেটা পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাধা টপকে সবাই এখন জীবনে প্রতিষ্ঠিত। ক্লাসের অনেকেই এখন স্কুল বা কলেজের শিক্ষিকা হয়েছে। কেউ ট্র্যাভেল এজেন্সিতে কাজ করছে, কেউ আরও পড়াশোনা করে পিএইচডি করছে, কেউ গৃহকর্মে নিপুণা, অনেকেই মা হয়েছে, কেউ পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে সাংবাদিকতাকে। কেউ বলিউডের একজন অতিপরিচিত গায়েকের সাগরেদ হয়েছে।  

তবে সবার শিকড় তো একটা জায়গাতেই। বিডি মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউট, বর্তমানে যা বিডিএম ইন্টারন্যশনাল হিসেবে পরিচিত। সবার জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বীকার্য।  

সোশ্যাল মিডিয়ার খারাপ দিক হয়তো আছে, কিন্তু ঠিকঠাক ব্যবহার করলে তার ভালো দিক আরও অনেক বেশি। আজ থেকে কুড়ি বছর আগে এমনটা হলে পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পেতে হয়তো সাংঘাতিক বেগ পেতে হত। কিন্তু বর্তমানে ফেসবুকের যুগে সেটা আর কোনো সমস্যাই নয়।

গত রবিবার, অর্থাৎ ১৯ জুলাইয়ের কথা। এই প্রতিবেদকই ফেসবুকে তার স্কুলজীবনকে স্মরণ করে একটা লেখা লিখল। সেই লেখা যে তার বন্ধুদের মধ্যে এমন আবেগের বিচ্ছুরণ ঘটাবে সে আন্দাজ করতেই পারেনি। গোটা দিন ধরে স্কুলজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করে গেল তার বন্ধুরা। কিন্তু আসল ঘটনা ঘটল ওই দিন রাতে।

তৈরি হয়ে গেল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। ‘১১-১২ আর্টস ২০০৯ ব্যাচ’। অবশ্য এই গ্রুপ তৈরি করার পেছনে প্রতিবেদকের প্রাক্তন সহপাঠী বাদশাহর সব থেকে বড়ো অবদান। বলিউড গায়কের সাগরেদ সে-ই। থাকে মুম্বইয়ে। কিন্তু এখনও নিজের শিকড় ভোলেনি।

বাদশাহরই ইচ্ছা ছিল আবার সব বন্ধুর সঙ্গে পুনরায় আলাপ করবে। সেই ইচ্ছা থেকেই এই গ্রুপের আত্মপ্রকাশ। ব্যাচের অনেক বন্ধুকেই ওই গ্রুপের সদস্য করা হল। তবে এখনও সবাইকে সদস্য করা যায়নি। ৪৪ জনের মধ্যে সবে ৩০ জন সদস্য হয়েছে। বাকিদেরও গ্রুপে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

করোনাভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে বিভিন্ন রূপে লকডাউন চলছে। কোথাও খুব কড়া, খুব হালকা। কিন্তু চাকুরিরত অনেকেরই এই সময়টা এক রকমই চলছে। সব কিছুই বাড়ি বসে।

শিক্ষিকারাও বাড়ি বসে অনলাইন ক্লাস করছেন, যারা পড়াশোনা করছে, তারাও বাড়ি বসে। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত যারা, তারাও বাড়ি বসে কাজ করছে। বাড়িতে বসে টানা কাজের ফলে মানসিক ভাবে যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই পরিস্থিতিতে এই গ্রুপটাই যেন একটা অক্সিজেন। সারা দিনের কাজের ধকল মিটিয়ে ওই গ্রুপে গিয়ে আড্ডাটা সবার কাছেই উপভোগ্য। পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন তো থাকেই, সেই সঙ্গে আরও অনেক আড্ডায় মেতে ওঠে বন্ধুরা।

ঠিক এই কারণেই লকডাউনটা তাদের কাছে একটা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। হয়তো করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি না হলে কেউ স্কুলজীবনের কথা ভাবতই না। আর তখন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের প্রয়োজনীয়তাই থাকত না।

যা-ই হোক, এই গ্রুপ তো হল। গ্রুপে আড্ডাও হচ্ছে রোজ। কিন্তু এখানেই তো থেমে থাকা যায় না। বন্ধুরা তাই পরিকল্পনা করছে, করোনা অতিমারির শেষে একটা গ্র্যান্ড পুনর্মিলনের আয়োজন করবে, সে কলকাতাতেই হোক বা দু’ দিনের জন্য বাইরে কোথাও।

ওই যে বললাম না ‘সামাজিক দূরত্ব’ শব্দটা কতটা ভুল। এই বন্ধুরাই প্রমাণ করে দিল, নিজেদের মধ্যে ‘শারীরিক দূরত্ব’ যতটাই থাক, সামাজিক ভাবে তারা আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, ঠিক ১১ বছর আগের মতো।

Continue Reading

রবিবারের পড়া

রবিবারের পড়া: মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ও নয়নচাঁদ মল্লিক

পুরীর শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের অনুকরণে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে নয়নচাঁদ মল্লিক হুগলি জেলার মাহেশে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করান।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের অন্তর্গত মাহেশের খ্যাতি তার  জগন্নাথ মন্দির ও রথযাত্রার জন্য হলেও এই স্থান খুবই প্রাচীন।  মাহেশ গ্রামের উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি বিপ্রদাস পিপলাইয়ের ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে। সেই কাব্যে তদবর্ণিত সময়কাল সম্ভবত ১৪৯৫ সাল। তবে মাহেশের রথযাত্রা তারও প্রাচীন। মাহেশের বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল ১৭৫৫ সালে। সেই মন্দির নির্মাণের খরচ বহন করেন কলকাতার বড়োবাজার অঞ্চলের মল্লিক পরিবারের নয়নচাঁদ মল্লিক মহাশয়। ভারতবর্ষের দ্বিতীয় প্রাচীনতম জগন্নাথমন্দির ও মল্লিক বংশের কিছু তথ্যই এই নিবন্ধে লিপিবদ্ধ করলাম।

দানবীর নিমাইচরণ মল্লিক কলকাতার বড়োবাজারের মল্লিক বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আনুমানিক ১৭৩৬সালে। এই পরিবারের মূল উপাধি ‘দে’, পরবর্তী কালে মল্লিক উপাধি প্রাপ্ত হন। এই বংশের স্বনামধন্য পুরুষ বনমালী মল্লিক তাঁর জমিদারির মধ্যে কাঁচড়াপাড়ার কাছে জনসাধারণের সুবিধার জন্য একটি খাল কাটান। সেই খাল এখনও মল্লিকদের খাল নামে প্রসিদ্ধ। সেই বনমালী মল্লিকের পুত্র বৈদ্যনাথ মল্লিক শ্রীশ্রীসিংহবাহিনী দেবীকে পেয়েছিলেন এবং এই মূর্তিপ্রাপ্তির পরই তাঁর বংশের শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে শুরু করে।

নিমাইচরণের পিতামহ দর্পনারায়ণ মল্লিক ও নিমাইচরণের পিতার নাম নয়নচাঁদ মল্লিক। নয়নচাঁদ অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। কলকাতার বড়োবাজারের একটি পাকা রাস্তা তৈরি করে সাধারণ মানুষের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দান করেন। নয়নচাঁদ মল্লিক ছিলেন ইংরাজি, বাংলা ও ফারসি, এই তিন ভাষায় বিজ্ঞ। পিতার মৃত্যুর পর নিমাইচরণ মল্লিক প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন।  নিজের প্রতিভাবলে নিমাইচরণ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে বিশাল খ্যাতি লাভ করেন এবং একজন প্রসিদ্ধ সওদাগর ও ব্যাঙ্কার হিসাবে পরিচিতও হয়েছিলেন।

পুরীর শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের অনুকরণে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে নয়নচাঁদ মল্লিক হুগলি জেলার মাহেশে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট এবং মন্দিরের বিগ্রহ জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবী। মন্দির ও সেই মন্দিরের সেবায়েতগণের বসতি নিয়ে প্রায় তিন বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই মন্দির।

মাহেশের রথযাত্রা শুরু করার ক্ষেত্রে এক বহু প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। বস্তুত পক্ষে বর্তমানে মাহেশ এখন বঙ্গের রথযাত্রা উৎসবের কেন্দ্রস্থল হিসাবে পরিচিত এবং ভারতবর্ষের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথ, পুরীর পরেই।

সন্ন্যাসী-সাধক শ্রী ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী একবার পুরীর রথযাত্রায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তাঁর নিজের হাতে ভোগ রান্না করে জগন্নাথদেবকে নিবেদন করবেন। কিন্তু মন্দিরের পুরোহিতরা তাঁর এই ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত হতে দেননি। ধ্রুবানন্দ মনঃকষ্টে ভেঙে পড়ায় জগন্নাথদেব তাঁকে মাহেশে আসার নির্দেশ দিলেন এবং প্রভুর কথা মতন তিনি মাহেশে উপস্থিত হলেন। একদিন গঙ্গার ধারে ধ্রুবানন্দ বসে দেখলেন গঙ্গায় নিমকাঠ ভেসে আসছে। সেই নিমকাঠ দিয়েই তৈরি হল মাহেশের জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবী। তার পর ১৩৯৭ সালে মাহেশের প্রাচীন মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হলেন তিন বিগ্রহ।

নবরত্ন মন্দিরের আদলে মাহেশের রথ।

কিন্তু মাহেশের সেই প্রাচীন মন্দির আজ আর নেই। সেই স্থানেই ২০,০০০ টাকা খরচ করে বড়োবাজারের মল্লিক বংশের নয়নচাঁদ মল্লিক মন্দির নির্মাণ করালেন।

ঠাকুরের নিত্যভোগরাগে সাড়ে বারো সের চালের অন্ন নিবেদন করা হয়। নিত্য ভোগের জন্য নিমাই মল্লিকের দান বার্ষিক ১৯২ টাকা ও রামমোহন মল্লিকের ট্রাস্ট ফান্ডের দান ১৫০টাকা। খিচুড়ি ভোগের জন্য নিমাই মল্লিকের স্বতন্ত্র দান ছিল বার্ষিক ৪৩৬ টাকা। বর্তমানে মল্লিক পরিবারের পক্ষ থেকে মাহেশের জগন্নাথদেবের সেবাপুজোর জন্য আরও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়।

নিমাইচরণ মল্লিকের কনিষ্ঠপুত্র মতিলাল মল্লিক গঙ্গার ধারে সুদৃশ্য রাসমঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন। মতিলালের পোষ্যপুত্র যদুলাল মল্লিক রাসযাত্রার সময় মাহেশে গিয়ে প্রচুর অর্থ দান করতেন। রথ, স্নানযাত্রা, দোল, ঝুলন ও রাস মাহেশে বিখ্যাত। সমস্ত কিছু উৎসবের মধ্যেও মাহেশের রথে ভক্তদের ভিড় দেখার মতন।

মাহেশের রথে চেপে জগন্নাথ তাঁর দুই ভাই বোনকে নিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন রথযাত্রার দিন এবং উল্টোরথের দিন ফিরে আসেন নিজ মন্দিরে। তার পর তিন বিগ্রহকে রথ থেকে নামিয়ে মন্দিরে পুনরায় বসানো হয়।

মাহেশের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। ১৩৯৭ সাল থেকে মাহেশের রথ অপরিবর্তিত থাকলেও চারশো বছর পর অর্থাৎ ১৭৯৭ সালে শ্রীরামকৃষ্ণশিষ্য বলরাম বসুর পিতামহ কৃষ্ণরাম বসু রথ তৈরির জন্য অর্থ দান করেছিলেন। তাঁর পুত্র গুরুপ্রসাদ বসু রথের সংস্কার করান ১৮৩৫ সালে। কিন্তু সেই রথ আগুন লেগে নষ্ট হয়ে গেলে কালাচাঁদ বসু রথ নির্মাণ করান ১৮৫২সালে। সেই রথের ভেতরে  একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলে বিশ্বম্ভর বসু ১৮৫৭ সালে আরও একটি রথ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রথও টিকল না। বিশ্বম্ভরবাবুর নির্মিত রথও পুড়ে যায়। তার পর আসে বর্তমান রথটি। মার্টিন বার্ন কোম্পানিকে দিয়ে সেই তৈরি করান দেওয়ান কৃষ্ণচন্দ্র বসু। লোহার রথটি আজও অটুট। ৪৫ ফুট উচ্চতার রথ বাংলার নবরত্ন মন্দিরের আদলে তৈরি।

এই রথটি তৈরি করতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল। ঐতিহ্যপূর্ণ মাহেশের রথযাত্রা দর্শন করতে এসেছিলেন শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, শ্রী মা সারদাদেবী, গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ মহাপুরুষরা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের পটভূমি ছিল এই মাহেশের রথ। আজ প্রায় ৬২৫ বছর ধরে মাহেশের রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে মহাসমারোহে, যদিও এ বছর করোনার কারণে রথ না বেরোলেও পুজো হয়েছে সব কিছু নিয়ম মেনেই।

Continue Reading
Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন

Advertisement
Suresh raina and dhoni
ক্রিকেট2 hours ago

ধোনির ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই অবসর ঘোষণা করলেন সুরেশ রায়না

রাজ্য3 hours ago

রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ হার নামল ৯ শতাংশের নীচে, সুস্থতার হারে বৃদ্ধি

বিজ্ঞান3 hours ago

বিতর্কের মধ্যেই করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচের উৎপাদন রাশিয়ায়

MS Dhoni
ক্রিকেট4 hours ago

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি

সোনু সুদ
বিনোদন4 hours ago

চিকিৎসার জন্য ৩৯ শিশুকে ফিলিপিন্স থেকে দিল্লি উড়িয়ে আনছেন সোনু সুদ

প্রযুক্তি4 hours ago

আয়কর রিটার্নের ভুল সংশোধনের জন্য ৯টি সহজ পদক্ষেপ

বিনোদন5 hours ago

রিয়া চক্রবর্তী কি সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা সরিয়েছিলেন? তদন্ত শুরু করল সিবিআই

রাজ্য5 hours ago

বেসরকারিকরণ: বিকল্প পন্থায় পোস্টকার্ডে প্রতিবাদ শ্রমিক সংগঠন টিইউসিসির

দেশ14 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৬৫০০২, সুস্থ ৫৭৩৮১

দেশ14 hours ago

ভারতকে চ্যালেঞ্জ করলে কড়া জবাব, লালকেল্লায় হুংকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

বিজ্ঞান1 day ago

কোভিডের সম্ভাব্য উপসর্গের ক্রমগুলি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, দাবি এক দল বিজ্ঞানীর

ফুটবল2 days ago

এ বার কি মেসির সঙ্গে জুটি বাঁধবেন রোনাল্ডো? সিআর৭-এর বার্সেলোনা যাত্রার জল্পনা তুঙ্গে

ক্রিকেট2 days ago

কোহলি-স্মিথ-উইলিয়ামসনরা অভিষেক করার আগে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি, ফের সুযোগ পেলেন বৃহস্পতিবার

দেশ1 day ago

রাজস্থানে আস্থাভোটে জয়ী অশোক গহলৌত সরকার

দেশ2 days ago

প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টেস্টে আক্রান্ত ৬৫ হাজারের কম, আরও পড়ল সংক্রমণের হার

বিদেশ1 day ago

৪০ বছর ধরে মিলেছে অক্ষরে অক্ষরে, ২০২০-তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ বলে দিলেন সেই অধ্যাপক!

কেনাকাটা

care care
কেনাকাটা2 days ago

চুল ও ত্বকের বিশেষ যত্নের জন্য ১০০০ টাকার মধ্যে এই জিনিসগুলি ঘরে রাখা খুবই ভালো

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পার্লার গিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় অনেকেরই নেই। সেই ক্ষেত্রে বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতি অনেকেই অবলম্বন করেন। বাড়িতে...

কেনাকাটা1 week ago

ঘর ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম কিনতে চান? অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্ক : অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ঘর আর রান্না ঘরের একাধিক সামগ্রিতে প্রচুর ছাড়। এই সেলে পাওয়া যাচ্ছে ওয়াটার...

কেনাকাটা1 week ago

এই ১০টির মধ্যে আপনার প্রয়োজনীয় প্রোডাক্টটি প্রাইম ডে সেলে কিনতে পারেন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : চলছে অ্যামাজনের প্রাইমডে সেল। প্রচুর সামগ্রীর ওপর রয়েছে অনেক ছাড়। ৬ ও ৭  তারিখ চলবে এই সেল।...

কেনাকাটা1 week ago

শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল, জেনে নিন কোন জিনিসে কত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্: শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল। চলবে ২ দিন। চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখ থাকছে এই অফার।...

things things
কেনাকাটা2 weeks ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা3 weeks ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা4 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা4 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা4 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

নজরে

Click To Expand