রবিবারের পড়া: আয়ারামের প্রবেশ, গয়ারামের প্রস্থান, ব্যাটেবলে বিজেপির সঙ্গে

0
kirti and gautam
কীর্তি আজাদ, গৌতম গম্ভীর।
দেবারুণ রায়

এক দিকে প্রবেশ আর অন‍্য দিকে প্রস্থান। শুধু জাতীয় দলগুলো কেন, ভোটের মুখে বড় আঞ্চলিক দলগুলোরও দস্তুর এটাই। প্রায় প্রত‍্যেক দিনই দিল্লির সদর দফতর থেকে জাতীয় দলগুলোর বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে, কাল অমুক সময়ে আমাদের দলে যোগ দিচ্ছেন তমুক বিশিষ্ট নেতা বা নামকরা লোক। তার পর, মুখে হাসি বুকে বল তেজে ভরা মন/ মানুষ হইতে হবে এই যার পণ…। পুরোনো দলের নামে কুকথা শুরুর আগে নতুন দলের নেতাদের স্তুতি। নতুন নেতা ঔদার্যমাখা মুখে তাকে গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে মুখে লাড্ডু, সুগার থাকলে এক কুচি, এটা মাস্ট। অবশেষে আলতো করে বাজারের হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া —। উনিই এ বার গবুচন্দ্রর বিরুদ্ধে হবু। ঔদ্ধত্য আর দুর্নীতি একেবারে দেখতে পারেন না। সে জন্যই এ বার আমরণ রিলে অনশন শুরু হচ্ছে। ঋ, ৯, এ, ঐ – কেউ বাকি থাকবে না। এই শেষ লাইন ছাড়া আর সব অফ রেকর্ড। অমুক দা জিঁদাবাদ…।

পর দিন আবার কালকের পাড়ায় হাঁড়ি ফাটল…

‘ক’ পার্টি ছেড়ে আরেক কৌরব ‘প’ পার্টিতে গেলেন। বদল আর বদলা দুই-ই হয়ে গেল। বদলাবদলি হয়ে গেল শুধু সিম্বল। একে ইভিএম তায় এই বদল। মুখ‍্যুসুখ‍্যু মানুষ গুলিয়ে ফেলবে তো? এত কোটি টাকার কারবার। নোটবদলের পর! সারদার মতো সব ভ‍্যানিশ হয়ে যাবে না তো?

– আরে দাদা আপনি কী ভাবছেন? নেতার হাঁচি জনতা চেনে। তাই না জননেতা! এ সব কেসে কখ্খনও কারও গুলিয়ে ফেলার চান্স নেই। ইয়ে হ‍্যায় ইন্ডিয়া!

আরও পড়ুন পদ্ম-র মুকুলও ফুল হলে যে ঝরার দিকেই এগোয়

বলি, এই রামের দেশে আয়ারাম গয়ারামদের বয়স তো অর্ধেক শতাব্দী পেরিয়ে গেছে। ওদের হাতযশ আর নীলপদ্মেই তো রামরাজ‍্যের ভাঙাগড়া। এই ইন্ডিয়া সেই কবে থেকে খুঁজে চলেছে তার মিস্টার ইন্ডিয়াকে। যে কখনও নিজেকে জাহির করবে না। লোকে তার জয়ধ্বনি করলেও সে সামনে আসবে না, বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে না। স্তাবকরা তার চপেটাঘাতে ত্রস্ত হবে। সে হবে অমলকান্তি। সে রোদ্দুরে দীপ্ত হবে, অমানিশায় অতন্দ্র। এবং নিজের ঢাক পেটাতে দেবে না, অনর্গল বলবে তাহাদের কথা। কখনও বলবে না, বা কাউকে দোয়ার ধরতেও দেবে না যে, “আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ,/তখন সকলে বলিল বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।”

rahul and kirti
কীর্তি আজাদকে কংগ্রেসে বরণ। ছবি কীর্তির টুইট করা।

দ্বারভাঙার সাংসদ ছিলেন কীর্তি আজাদ। স্ত্রীকে দাঁড় করিয়েছিলেন দিল্লির ভোটে। অটল জমানায় বিজেপির নীলনয়ন বালক। নামী ক্রিকেটার। জাতীয় দলে আকাল থেকে সকাল হওয়ার যুগে। বড়ো পরিচয় বিহারে রাজীব জমানার মুখ‍্যমন্ত্রী ভগবত ঝা আজাদের ছেলে। ভাগলপুরের দাঙ্গায় কলুষিত তাঁর শাসনপর্ব। রাজীব সদ্ভাবনা যাত্রা করেও পটনার ঐতিহাসিক কংগ্রেসি সদর সদাকত আশ্রমের সুদিন ফেরাতে পারেননি। শেষ জীবনে লালুর কাছে বিহারের তখত্‌-এ- তাউস খুইয়ে এবং শীলা ও অর্জুনের সঙ্গে জোট বেঁধৈ প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওয়ের কোপে পড়েন। হিন্দি বলয়ের সর্বত্রই কংগ্রেসি পরিবার ভেঙে বোলবোলাও হয়েছে বিজেপির। আজাদ পরিবারও ছিল ভাঙনের শিকার। এত দিনে পরিবারের কীর্তি পরম্পরার দ্বারে। রাহুল তাঁকে দলে নিয়েছেন বিহারের পুনরুত্থান পর্বে।

amit and gautam
গৌতম গম্ভীরকে বিজেপিতে বরণ। ছবি সৌজন্যে দ্য হিন্দু।

বিজেপির ক্রিজ ছেড়ে টিম বদল করলেন কীর্তি। এ দিকে বুলন্দ দরওয়াজা দিয়ে গম্ভীর ভাবে গেরুয়া পিচে ব‍্যাট হাতে নামলেন গুড বয় গৌতম। দিল্লিতে কেজরি-কংগ্রেস জোট হলেও রান পাবেন গম্ভীর? গেরুয়া শিবিরে একা চেতন চৌহানই পড়ে আছেন এত দিন। মনে মনে ভক্ত হলেও দেশপ্রেমের ভরকেন্দ্রে নেই রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলে বা বীরু সহবাগ। পারিবারিক ভাবে বিজড়িত বীরুর বিয়ের রিসেপশন হয়েছিল বিজেপি সদর সংলগ্ন অরুণ জেটলির বাংলোয়। ও দিকে, অমৃতসরে বিষিয়ে গিয়ে শত্রুশিবিরে অনেক আগেই আশ্রয় নিয়েছেন নবজোত সিধু। ক্যাপ্টেন পক্ষে না থাকলেও বিজেপির স্পিনের মোকবিলা করে চলেছেন।

ভিন্ন প্রজাতির হলেও কথাকবি কুমার বিশ্বাসের কথা বলব। দিল্লির আপ-এর কেন্দ্রীয় নেতা। রাজনৈতিক তার্কিক ও স্বভাবকবি। কথকতায় সিধুর মতোই সিদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর কৃতিত্বের কৈফিয়ত বর্ণে বর্ণে নস্যাৎ ও খণ্ডন করছেন। রাজস্থান থেকে শুরু করেছেন। লক্ষ্য, রাজধানী থেকে হিন্দি বলয়ের প্রত‍্যন্ত এলাকায় মতাদর্শের মরুদ্যান গড়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here