লন্ডন: চাপ স্থির রেখে তাপমাত্রা বাড়ালে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রসারিত হয়। একই ভাবে তাপমাত্রা কমালে গ্যাসের আয়তন কমে। তাপমাত্রা কমাতে কমাতে ০ কেলভিন বা -২৭৩.১৫ সেলসিয়াসে নিয়ে গেলে গ্যাসটির আয়তন শুন্য হয়ে যায়। তাই ০ কেলভিন বা -২৭৩.১৫ সেলসিয়াসকে বলা হয় পরম শূন্য। থার্মোডায়নামিক্সের এই তৃতীয় সূত্রের জন্য জার্মান বিজ্ঞানী ভালথার নারন্সট ১৯২০ সালে রসায়ন বিভাগে নোবেল জিতেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরম শূন্যের ভাবনার বিরোধিতা করেছিলেন আইনস্টাইন, মাক্স প্লাঙ্ক-এর মতো তাবড় পদার্থবিদরা। নারন্সটের নোবেল জয়ের একশো বছর পেরোতে না পেরোতেই লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দুই গবেষক প্রমাণ করলেন কোনো বাস্তব ব্যবস্থায় পরম শূন্যে পৌঁছোনো সম্ভব নয়। 

ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের দুই গবেষক জনাথন ওপেনহাইম এবং লুই মাসানেস গাণিতিক ভাবে প্রমাণ করলেন অসীম (ইনফিনিটি) ছাড়া কোনো পদার্থের পক্ষেই বাস্তবে -২৭৩.১৫ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পৌঁছোনো সম্ভব নয়। অর্থাৎ অসীম সময় এবং সম্পদ থাকলে তবেই অসীম ধাপ পেরিয়ে কোনো পদার্থকে ওই তাপমাত্রায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এত দিন ধরা হত মহাবিশ্বে উপস্থিত শীতলতম বস্তুর তাপমাত্রা -২৭৩.১৫ সেন্টিগ্রেডের কম হতে পারে না। নতুন গবেষণা প্রমাণ করল এত কম উষ্ণতায় মহাবিশ্বের কোনো বস্তুরই প্রাকৃতিক অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। 

‘নেচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে গত ১৪ মার্চ প্রকাশিত হওয়া গবেষণাপত্রটি রীতিমতো সাড়া ফেলেছে আন্তর্জাতিক পদার্থ বিজ্ঞানী মহলে। 

গবেষণাপত্র বিশদে পড়তে ক্লিক করুন এই লিঙ্ক-এ,  https://www.nature.com/articles/ncomms14538

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন