coronavirus
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে ফেসবুক তার হার্ডওয়্যার বিভাগের কর্মীদের চিনে যাওয়া আপাতত বন্ধ রেখেছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ডওয়্যার গেমিং সংস্থা রেজারও কর্মীদের চিন যাত্রা বন্ধ করেছে। অন্য দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা এলজি-ও তাদের কর্মীদের চিন ভ্রমণের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, খুব জরুরি না হলে ফেসবুক সংস্থা চিনে যাওয়া বন্ধ তো করেইছে, পাশাপাশি যে সব কর্মী সদ্য চিন থেকে ফিরেছে তাদের ওপর ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।  

চিনে ফেসবুক ব্যন্ড করা হয়েছে, তবে সেখানে ফেসবুকের কার্যালয় আছে। তা ছাড়া সেখানে ওকুলাস ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট এবং ভিডিও চ্যাট ডিভাইসের পোর্টালের জন্য চিনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে সংস্থার কর্মীদের যোগাযোগ তো থাকেই।

অন্য দিকে ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক গেমিং ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইসের সংস্থা রেজার সংবাদসংস্থা দ্য ভার্জ-কে জানিয়েছে, তারাও প্রায় একই রকম পদক্ষেপ করেছে। রেজারের মুখপাত্র জানিয়েছে, তাদের কর্মীদের চিন যাত্রা বাতিল ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, পাশাপাশি যারা চিন থেকে দেশে ফিরেছে তাদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রেজারের অবস্থাও ফেসবুকের মতো। তাদেরও চিনে কার্যালয় রয়েছে, সঙ্গে হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থার চিনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে তাদের সেখানে যোগাযোগও হয়। এই সব যন্ত্রাংশের মধ্যে যেমন করেছে গেমিং মাইক, কি বোর্ড, হেডসেট, ল্যাপটপ।

জেনে নিন – দ্রুত ছড়াচ্ছে গোটা বিশ্বে! কী এই করোনা ভাইরাস?

অন্য দিকে রয়টর্সের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, এলজি চিন যাত্রা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং চিনে থাকা কর্মীদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে।

আর একটি সংস্থা অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুসরণ করে চলছে। তবে তারা চিনে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করার কথা কিছু বলেনি। কিংস্টনের হাইপার এক্স হল মার্কিং যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আরও একটি গেমিং অ্যাসেসরিজ সংস্থা। তারা এই বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেছে। একই ভাবে অ্যাপেল, গুগল, মাইক্রোসফট-কে এই বিষয়ে কিছু বলতে অনুরোধ করা হলে, তারা মুখ খোলেনি।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর ঘটনাটি 2019-nCoV নামে পরিচিত। এটি সাধারণ স্তন্যপায়ী ভাইরাস গোষ্ঠীর অংশ। এটি ২০০২ সালে সার্স মহামারীর কারণ ছিল।  স্বাস্থ্য আধিকারিকরা মনে করছেন যে, এটি ডিসেম্বর মাসে চিনের উহান শহর থেকে উদ্ভূত হয়েছে। তার পর থেকেই  ইউএস সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনস তাদের সমস্ত মার্কিন নাগরিককে জরুরি না হলে চিনে যাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে চলেছে। এই ভ্রমণ সতর্কতা বার্তা প্রচারের তৃতীয় পর্বটি ছিল সোমবার।

উল্লেখ্য, চিনে ইতিমধ্যেই ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই করোনা ভাইরাসের মহামারীতে। বিশ্বজুড়ে প্রায় চার হাজারেরও বেশি মানুষের এই করোনা ভাইরাসের কারণে মৃত্যু ঘটেছে। তবে সব থেকে বেশি পরিমাণ ঘটনা পাওয়া গিয়েছে চিনের হুবেই প্রদেশে। সেখানেই ইউহান শহর। শেষ সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই কারণে পাঁচটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

পড়ুন – করোনায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল, দিল্লিতে আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিন

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন