ওয়েবডেস্ক: বিবর্তনের নিয়ম মেনে আধুনিক মানুষের জন্মলগ্ন থেকে জনসংখ্যা ১০০ কোটিতে পৌঁছোতে সময় লেগেছিল দু’ লক্ষ বছর। আর ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে মাত্র আট বছরে। পরবর্তী ১০০ কোটি মানুষের কাছে এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট পৌঁছোল আরও দ্রুত, পাঁচ বছরেরও কম সময়ে। ঘন ঘন ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন এমন মানুষের সংখ্যা বর্তমানে ২০০ কোটি। তবে ফেসবুকে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট আছে তাঁর চেয়েও অনেক বেশি সংখ্যকের।
ফেসবুক ব্যবহারকারীর হারের এই অস্বাভাবিক দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে রয়েছে বেশ মজার কিছু তথ্য। আন্তর্জাতিক সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো ধর্ম ছাড়াও যে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে একই পরিচয়ের আওতায় আনা যায়, ফেসবুক তার একমাত্র উদাহরণ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম না হয়ে ফেসবুক যদি কোনো ধর্ম হত, সংখ্যার ভিত্তিতে খ্রিষ্ট ধর্মের পরেই জায়গা করে নিত এই ধর্মাবলম্বীরা। পৃথিবীতে সব চেয়ে বেশি প্রচলিত ভাষা ম্যান্ডারিন। ১৩০ কোটি মানুষ কথা বলেন এই ভাষায়। ফেসবুক কিন্তু এই সংখ্যাটা ছাড়িয়েছে বেশ কিছু দিন আগেই। পৃথিবীর জনসংখ্যা সব চেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে (৬০০ কোটি থেকে ৭০০ কোটি) ২০০০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। ফেসবুক কিন্তু সেই লক্ষ্য ছুঁয়েছে প্রায় আড়াই গুন দ্রুত হারে।

২০০ কোটি মানুষকে এক মঞ্চে নিয়ে আসার সুবিধে যেমন রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে কিছু অসুবিধেও। সাম্প্রতিক অতীতে সমাজে ফেসবুকের ভূমিকা একাধিকবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মনোবিদরা কখনো সোচ্চার হয়েছেন কিশোর মনে এর নেতিবাচক(আত্মহত্যার প্রবণতা) প্রভাবের বিরুদ্ধে। ফেসবুকের জনপ্রিয়তা সাংবাদিকতার গুণগত মানে অবক্ষয় এনেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে, এমন সমালোচনার ঝড়ও কম ওঠেনি।

এরকম পরিস্থিতিতে শুক্রবার এক নতুন নীতির কথা ঘোষণা করেছেন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুক ইউজারদের একাংশ নিয়মিত কিছু ‘নিচু মানের’ লিঙ্ক শেয়ার করে থাকেন। যেগুলি মূলত চমকপ্রদ(যাতে মানুষ লিঙ্কটি ক্লিক করে দেখতে উৎসুক হয়), সংবেদনশীল(যা থেকে সমাজে উত্তেজনা বা হিংসা ছড়াতে পারে) এবং ভুল তথ্য। এই ধরনের ব্যবহারকারীদের ঠেকাতে কোনো ব্যবহারকারীর দিনে ৫০টির বেশি লিঙ্ক শেয়ারে বিধিনিষেধ আনছে ফেসবুক। জানিয়েছেন ফেসুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম মোসেরি। কেউ যদি দিনে ৫০টির বেশি লিঙ্ক শেয়ার করেন, তাহলে সেটি আর নিউস ফিডে দেখা যাবে না। গত মার্কিন নির্বাচনের সময় এই প্রবণতার ক্ষতিকারক দিকটি বেশি করে নজরে আসে। তার থেকেই ফেসবুক এই সিদ্ধান্তের পথে হেঁটেছে বলে জানা গিয়েছে। আগস্ট থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে।

যদিও সাধারণ লেখা বা ছবি পোস্টের সংখ্যায় কোনো বিধিনিষেধ রাখা হচ্ছে না। সে সব চলবে আগের মতোই।

২০০৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডর্মিটারি থেকেই জন্ম ফেসবুকের। উদ্যোক্তা সেখানকার কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র মার্ক জুকারবার্গ এবং তাঁর কয়েকজন সহপাঠী। শুরুর দিকে শুধু এই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের মধ্যেই সীমিত ছিল ফেসবুক। আস্তে আস্তে সেখান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠান, এবং ক্রমশ সারা পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে এই যোগাযোগ মাধ্যম। মার্কের শিক্ষাগত যোগ্যতা? হার্ভার্ড ড্রপ আউট। পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে সেই বছরই নিজের তৈরি সাইটের কাজে ক্যালিফোর্নিয়া পাড়ি দেন মার্ক। বাকিটা ইতিহাস। মাস খানেক আগেই হার্ভার্ড থেকে সাম্মানিক ডিগ্রি দেওয়া হল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনীকে। সেদিন হার্ভার্ডের মঞ্চ থেকে রসিক জুকারবার্গ বলেছিলেন, “এই বক্তৃতা যদি শেষ করে উঠতে পারি, তবে তা-ই হবে আমার হার্ভার্ড জীবনের প্রথম কোনো সম্পূর্ণ করা কাজ”।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন