হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট যদি সত্যিই ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্ট’ করা হয় তা হলে বলিউডের চ্যাট কী ভাবে ফাঁস হয়ে যায়

0
whats-app
হোয়াটসঅ্যাপে সব কিছুই এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড। প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: হোয়াটসঅ্যাপে বিনিময় হওয়া মেসেজ, টেক্সট, ছবি, ভিডিও- সব কিছুই এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড। অর্থাৎ বিনিময়রত দু’জন ছাড়া অন্য কেউ কোনো কিছুই দেখতে পায় না। এমনকী, তা হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষেরও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে। কিন্তু এত কঠোর নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে বলিউডে কোনো কেলেঙ্কারি ঘটলে প্রতিবারই সম্পর্কিত ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হয়ে যায়? ইদানীং একের পর এক বলিউড সেলিব্রিটির হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এমন প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।

২০২০ সালে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। আবার মাদককাণ্ডের তদন্তে এনসিবি অফিসে যাওয়ার পর আরেক অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের চ্যাট প্রকাশ্যে এসেছিল। তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে। মুম্বইয়ের প্রমোদতরীতে মাদককাণ্ডে গ্রেফতার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের সঙ্গে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের সূত্র ধরে পর এনসিবি তাঁকে তলব করেছিল।

হোয়াটসঅ্যাপ সত্যিই কি এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড?

হোয়াটসঅ্যাপ সবসময়ই নিজের এন্ড টু এন্ড এনক্রিপডেট নীতি বজায় রাখে। অর্থাৎ, এই প্ল্যাটফর্মে বিনিময় হওয়া যে কোনো ধরনের বার্তা প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া তৃতীয় কেউ দেখতে বা পড়তে পারে না। এমনকী, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক-ও নয়। হোয়াটসঅ্যাপের এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন একটি সিগন্যাল প্রোটোকল ব্যবহার করে, যা তৃতীয় পক্ষ এবং হোয়াটসঅ্যাপকে মেসেজ বা কল অ্যাক্সেস করতে দেয় না।

হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, এই প্ল্যাটফর্মের কোনো মেসেজ বা এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্ট করা কলগুলো শোনার ক্ষমতা নেই তৃতীয় পক্ষের। কারণ, এগুলো সম্পূর্ণ ভাবে একে অপরের ডিভাইসে ঘটে। কোনো মেসেজ প্রেরকের ডিভাইস ছেড়ে যাওয়ার আগে , এটা একটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফিক লক’ দিয়ে সুরক্ষিত, এবং শুধুমাত্র প্রাপকের কাছেই সেটা খোলার চাবি রয়েছে। এ সমস্ত ঘটনাই ঘটে পরদার আড়ালে। ফলে সেখানে তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশের কোনো সম্ভাবনাই নেই।

তা হলে কী ভাবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হয়ে যায়?

কাজের ধরনে স্পষ্ট, এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটাকে সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা হলে ডেটা ভেঙে ফেলা অসম্ভব। স্বাভাবিক ভাবেই এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্ট ভেঙে ফেলা যদি অসম্ভব হয়, তা হলে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট কী ভাবে ফাঁস হয়ে যায়?

নির্দিষ্ট কিছু কারণে তার সম্ভাবনা রয়ে যায় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন-

১. ফোনটিকে যদি শারীরিক ভাবে অ্যাক্সেস করা হয় অথবা ব্যবহারকারীকে তা আনলক করতে বলা হয়। এক বার আনলক হয়ে গেলে সমস্ত চ্যাট অ্যাক্সেস করা যায়। সেখান থেকেই স্ক্রিনশট নিয়ে বা কপি করে সেগুলো শেয়ার করা যায়।

২. যখন ফোনটি শারীরিক ভাবে অ্যাক্সেস করা হয়, অথচ তা আনলক করা হয় না। সে ক্ষেত্রে ফরেনসিক দল নিজেদের কিছু বিশেষ দক্ষতা দেখাতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলি এনক্রিপ্ট করা হয় ঠিকই, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউডে হোয়াটসঅ্যাপ যে চ্যাট ব্যাকআপ তৈরি করছিল তা এনক্রিপ্ট করা হয়নি। এই চ্যাট ব্যাকআপগুলিকে কিছু বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে অ্যাক্সেস করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ফোনের ডেটা কম্পিউটারে ক্লোন করার পর বিশেষ কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করে এটা সম্ভব হতে পারে।

৩. আদালতের নির্দেশ নিয়েও গুগল বা অ্যাপলের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ব্যাকআপ (তখন পর্যন্ত এনক্রিপ্ট না করা) পেতে পারে কোনো তদন্তকারী সংস্থা। এ ধরনের ব্যাকআপ ফরেনসিক ল্যাবে আলাদা করা যেতে পারে।

৪. যাঁদের অ্যাকাউন্ট আছে, কিন্তু এনক্রিপশন অ্যাকসেপ্ট করেননি, তাঁদের এটা করে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে অপশন এনাবলড করতে হয়। ফলে যতক্ষণ না আপনি স্পষ্ট ভাবে হোয়াটসঅ্যাপকে আপনার চ্যাট ব্যাকআপ এনক্রিপ্ট করতে বলবেন, সেগুলি ততক্ষণ এনক্রিপ্ট না করা আকারে থাকবে।

আরও পড়তে পারেন: অতিরিক্ত চিন্তা ফেলতে পারে বড়ো বিপদে, জানুন কী ভাবে মুক্তি পাবেন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন