ওয়াশিংটন : ভবিষ্যতে চাঁদে উপনিবেশ গড়ে তুলতে হলে হয়ত জলের সমস্যা হবে না। একটা নতুন গবেষণায় এই ধারণাই উঠে এল। একটা সময় পর্যন্ত মনে করা হত চাঁদে জল নেই, চাঁদ শুষ্ক উপগ্রহ। তার পর ২০০৮ সালে অ্যাপোলো ১৫ আর ১৭-র চন্দ্রাভিযানের পর সেই ধারণা বদলাল। জানা গেল চাঁদে জল আছে। তবে ভারতের চন্দ্রায়ণের অভিযানের পর ধারণাটা আরও খানিকটা বদলাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা বলছেন, চন্দ্রায়ণ অভিযান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা দেখা গেছে, ধারণার থেকে হয়তো অনেক বেশি পরিমাণ জল চাঁদে আছে, যা ভবিষ্যতে চাঁদের বুকে উপনিবেশ গড়ে তোলার পক্ষে সহায়ক হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের যে অংশে জলের উপস্থিতি অনুমান করা হয়েছিল সেখানে ছাড়াও জল আছে অন্য জায়গাতেও। চাঁদের বিভিন্ন জায়গায় আগ্মেয়গিরিগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ জল সঞ্চিত রয়েছে। বহু বহু বছর আগে থেকে এই জল সঞ্চিত রয়েছে স্ফটিকের মতো আকারে। লাভা নিঃসরণের সময় চন্দ্রগর্ভ থেকে এই জল বেরিয়ে এসেছিল। তাঁরা বলেন, চাঁদের কেন্দ্র অদ্ভুত ভাবে জলে পূর্ণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী র‍্যালফ মিল্কেন বলেন, চন্দ্রায়ণ থেকে পাওয়া এই নতুন তথ্য এটা প্রমাণ করল যে, অ্যাপোলো অভিযানের তথ্য অস্বাভাবিক বা ভুল ছিল না। চাঁদের অভ্যন্তর জলে পূর্ণ।

বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার কাজে স্পেক্ট্রোমিটার ব্যবহার করেছেন। এটা বর্ণালী বীক্ষণ যন্ত্র। দেখেছেন তাতে আলোকরশ্মির প্রতিফলন ঘটছে। সেই আলোক বিচ্ছুরণের তরঙ্গপ্রবাহ থেকে বিজ্ঞানীরা আন্দাজ করছেন যে কী ধরনের জিনিস সেখানে রয়েছে। সেই ধারণার সঙ্গে চাঁদের খনিজবিষয়ক মানচিত্র-বিজ্ঞান আর চন্দ্রায়ণ থেকে পাওয়া তথ্যের গবেষণা করে দেখছেন তাঁরা। তাতে দেখা গেছে, গোটা চন্দ্রপৃষ্ঠতে বিভিন্ন জায়গায় জলের উপস্থিতি রয়েছে। আগ্নেয়গিরিগুলোর মুখে খুব বেশি পরিমাণ জল নেই। মোট পরিমাণের ০.৫% জল আছে সেখানে। তবে জলের পরিমাণ অনেক, প্রয়োজনে তা বের করে আনা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন