লন্ডন ঃ ১৬০ কোটি বছরের প্রাচীন লাল শ্যাওলার জীবাশ্ম পাওয়া গেল ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এটাই হয়ত পৃথিবীর প্রাচীনতম উদ্ভিদজাতীয় প্রাণের উদাহরণ। মধ্যপ্রদেশের চিত্রকূট এলাকা থেকে এই জীবাশ্ম মিলেছে। ‘সুইডিশ মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি’-র গবেষকরা মনে করছেন, পৃথিবীতে বহুকোষীর জন্ম সংক্রান্ত এত দিনের ধারণা ভুল। যত দিন আগে বহুকোষীর জন্ম হয়েছিল বলে মনে করা হত, আসলে বহুকোষীর জন্ম তার থেকেও বহু বছর আগে। 

এককোষী প্রাণের জন্ম হয় ৩৫০ কোটি বছর আগে। সেই সময় এই সব কোষে বেশ কিছু কোষাঙ্গ অদৃশ্য ছিল। এর বহু বছর পর বহুকোষীর উদ্ভব। মনে করা হত, আজ থেকে প্রায় ৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এই বহুকোষীর উদ্ভব। তখন ফেনারোজোইক যুগ। এর আগে ছিল অদৃশ্য জীবনের উপস্থিতি। এই সময় থেকেই জীবন দৃশ্যমান হতে শুরু করে। 

এর আগের আবিষ্কারগুলি গবেষকদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সেগুলো ছিল খুবই অগোছালো আর ব্যাখ্যা করাও কঠিন ছিল। গবেষকরা সর্বক্ষণ সেগুলোকে নিয়ে পরীক্ষা করে গেছেন। নতুন করে ‘প্রাণের পঞ্জিকা’ বানানোর চেষ্টা করে গেছেন। এর আগের যে লাল শ্যাওলা আবিষ্কার হয়েছে, তা ছিল ১২০ কোটি বছরের পুরোনো।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, নবাবিষ্কৃত ভারতীয় উদ্ভিদের এই জীবাশ্ম তার থেকে ৪০ কোটি বছরের প্রাচীন। আর এর আবিষ্কারের পর ‘জীবনপঞ্জি’ ঢেলে সাজতে হবে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, লাল শ্যাওলাগুলির দু’ ধরনের জীবাশ্ম রয়েছে। এক রকম হল, সুতোর মতো। আর এক রকম হল, মাংসল গোছের। এগুলো চিত্রকূটের পাললিক শিলায় দারুণভাবে সংরক্ষিত ছিল। গবেষকরা স্বতন্ত্র অন্তর্কোষীয় গঠন, কোষ সমষ্টি, চ্যাপটা আকৃতির কোষ, গুচ্ছ কোষ ইত্যাদি এই জীবাশ্মের মধ্যে দেখতে পান। তাঁরা জানান, এই চ্যাপটা আকৃতির কোষই মাংসল শরীর গঠনে সাহায্য করেছে। আর তার থেকেই সৃষ্টি লাল শ্যাওলার।

সংস্থার অধ্যাপক স্টিফান বেঙ্গস্টোন জানান, কী কী পদার্থ তার মধ্যে রয়েছে তা অবশ্য জানা সম্ভব হয়নি। কারণ তার মধ্যে এখন আর ডিএনএ অবশিষ্ট নেই। তবে এর অঙ্গসংস্থান আর গঠন সবই লাল শ্যাওলারই – এটা নিশ্চিত। দৃশ্যমান জীবনের শুরু যে, প্রচলিত ধারণার থেকে বহু বহু বছর আগে এটা তারই প্রমাণ। অনুমান করা হচ্ছে, এই নতুন আবিষ্কার হওয়া জীবাশ্মটি রয়েছে ১৬০ কোটি বছর আগের সায়ানো ব্যাকটেরিয়ার জীবাশ্মের আস্তরণের ওপর। সুতোর মতো জীবাশ্মই প্রথম সামনে আসে। পরে যখন গবেষকরা স্ট্রোম্যাটোলাইট মানে সায়ানো ব্যাকটেরিয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন তখনই সামনে আসে এই মাংসল গোছের কাঠামোটি। 

বিজ্ঞানীরা এক ধরনের কণাত্বরণযন্ত্র সম্বলিত টমোগ্রাফ দূরবীক্ষণের সাহায্যে এই জীবাশ্মের যাবতীয় খুঁটিনাটি দেখতে সক্ষম হয়েছেন। তার থেকেই তাঁরা উদ্ভিদের যাবতীয় কোষীয় অঙ্গ, যেমন – প্রতি কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট, সালোকসংশ্লেষের জায়গা ইত্যাদি খুঁজে পেয়েছেন। পেয়েছেন লাল শ্যাওলার নির্দিষ্ট কোষীয় গঠন, প্রত্যেক কোষের কেন্দ্রে কোষ পর্দার উপস্থিতি-সহ অনেক কিছুই।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়, পিএলওএস বায়োলজি পত্রিকায়।  

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন