রাখিবন্ধনের সঙ্গে রয়েছে এই পৌরাণিক কাহিনিগুলির যোগ

0
mythology
পুরান কথা

ওয়েবডেস্ক: কলকাতায় রাখিবন্ধন উৎসব শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ২০ জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই আন্দোলন প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথও সেই আন্দোলনে শামিল হন। ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের দিন ঠিক হয়। সেই দিন হিন্দু মুসলমান একে অপরের হাতে সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসাবে বেঁধে দেন রাখি। সেই থেকে চল হয় রাখি উৎসবের। তবে বাঙালি ছাড়া মূলত অবাঙালি সম্প্রদায় পঞ্জাবি ও মারোয়াড়িদের মধ্যে এই রাখিপূর্ণিমার উৎসব খুব ধুমধাম করে পালিত হয়। তবে রাখি পরানোর বিষয়টির সঙ্গে যোগ রয়েছে বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনিরও।  

কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

মহাভারতের কাহিনি থেকে জানা যায়, একটি যুদ্ধের সময় শ্রীকৃষ্ণের হাতের কবজিতে আঘাত লাগে। সেই ক্ষত থেকে রক্তপাত হতে শুরু হয়। তা দেখতে পেয়ে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। তার পর থেকেই শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে নিজের বোন সখী হিসাবে মানতে শুরু করেন। এই উপকারের প্রতিদান দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন কৃষ্ণ। এর পর পাশা খেলায় পাণ্ডবরা সর্বস্ব খুইয়ে যখন দ্রৌপদীকে কৌরবদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়, দ্রৌপদীর চরম বিপদ এসে পড়ে। দুঃশাসন তাঁর বস্ত্রহরণ করতে গেলে দ্রৌপদী শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণ ভরে স্মরণ করেন। দ্রৌপদীর সম্মানরক্ষা করে সেই শ্রীকৃষ্ণ সেই প্রতিদান দেন। সেই সময় থেকে এই ভাবেই রাখিবন্ধন উৎসবের প্রচলন হয়।

বলিরাজা ও লক্ষ্মী

পুরাণের অন্য একটি গল্পে আছে রাখিবন্ধনের আরও একটি কাহিনি। দৈত্যরাজা বলি ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত। ভক্তের রাজত্ব রক্ষা করতে বিষ্ণু বৈকুণ্ঠ ত্যাগ করে মর্ত্যে এসেছিলেন। এর পর স্বামীকে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য এক সাধারণ নারীর বেশে বলিরাজের শরণাপন্ন হন। বলেন, তাঁর স্বামী হারিয়ে গিয়েছেন। যতক্ষণ না স্বামীকে ফিরে পাচ্ছেন ততক্ষণ যেন বলিরাজ তাঁকে আশ্রয় দেন। বলিরাজও তাতে রাজি হয়ে যান। এর পর শ্রাবণ পূর্ণিমা এলে লক্ষ্মীদেবী বলিরাজের হাতে একটি রাখি বেঁধে দেন। বলিরাজ এই সবের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে সবটা খুলে বলেন। তখন বলিরাজ নিজের ক্ষতি সাধন করে সর্বস্ব খুইয়েও লক্ষ্মীদেবীর কথা রাখেন। তিনি বিষ্ণুকে বৈকুণ্ঠে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এর পর লক্ষ্মী নারায়ণ ফিরে যান। তার পর থেকে শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথি রাখিপূর্ণিমা হিসাবে পালিত হয়।

শুভ লাভ ও সন্তোষী মা

প্রচলিত আছে, রাখি বন্ধনের দিন গণেশের হাতে তাঁর বোন রাখি বেঁধে দেন। তা দেখে গণেশের দুই পুত্র শুভ ও লাভেরও রাখি বাঁধার ইচ্ছা হয়। তাঁরা গণেশের কাছে বোন পাওয়ার জন্য আবদার করেন। গণেশ দুই ছেলের সন্তোষের জন্য দিব্য আগুন থেকে কন্যা সন্তোষীর জন্ম দেন। সেই সন্তোষী হলেন দেবী সন্তোষী মা। তিনি তাঁর ভাই যুগল শুভ, লাভকে রাখি পরান।

যম ও যমুনা

পুরাণ কথা অনুযায়ী, এক বার যমুনা নদী যমরাজকে রাখি পরিয়েছিলেন। তাতে খুশি হয়েছিলেন যমরাজ। তিনি যমুনা নদীকে অমরত্বের আশীর্বাদ দেন। তার পর থেকেই এটাই প্রচলিত বিশ্বাস যে, যদি কোনো বোন বা দিদি ভাই বা দাদার হাতে রাখি বাঁধে তা হলে সে অমরত্ব প্রাপ্ত হবে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here