Connect with us

আহার-বিহার

রেসিপি পাঠিয়ে পুরস্কার জিতুন মিডিয়া ফাইভের ‘মুঠোয় হেঁশেল.কম’-এ

Published

on

cook

খবরঅনলাইন ডেস্ক : মিডিয়া ফাইভের মুকুটে যুক্ত হল আরও একটি পালক। শুরু হয়ে গেল মিডিয়া ফাইভের চতুর্থ প্রচেষ্টা ‘মুঠোয় হেঁশেল.কম’। রকমারি সুস্বাদু রান্নার এক অসামান্য পোর্টাল এই ‘মুঠোয় হেঁশেল’। পাঠকদের পাঠানো রান্নার রেসিপি প্রকাশ করা হয় এই সাইটে। সঙ্গে রয়েছে সেরা রান্নার রেসিপি প্রেরকের জন্য বিশেষ পুরস্কারও।

আপাতত চটজলদি রান্না, ফিউশন ফুড, রকমারি ব্রেকফাস্ট, মা ঠাকুমার রান্না এই চারটি বিভাগের জন্য রান্নার রেসিপি নেওয়া হচ্ছে। রেসিপি পাঠাতে পারেন ‘মুঠোয় হেঁশেল’-এর ফেসবুক পেজের ইনবক্সে। ফেসবুক পেজটি হল https://www.facebook.com/MuthoyHeshel/। অথবা হোয়াটস অ্যাপ করতে পারেন ৭৮৯০৭৮৫৩০৭ এই নম্বরে।

এ ছাড়াও ‘মুঠোয় হেঁশেল’-এর রয়েছে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলও। ইউটিউব চ্যানেলের লিঙ্ক হল https://www.youtube.com/channel/UCmno4zAKYBq6mGTIWT63Bbg

প্রতি মাসে সেরা রেসিপি প্রেরকের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। যে রেসিপিতে সব থেকে বেশি রেটিং থাকবে সেই রেসিপি প্রেরককে দেওয়া হবে পুরস্কার।

আপনারা জানেন, মিডিয়া ফাইভের ‘মুঠোয় হেঁশেল’ ছাড়াও রয়েছে খবরের সাইট ‘খবরঅনলাইন.কম’ । সব রকম খবরের খুঁটিনাটি নজরে আনতে নির্ভরযোগ্য সাইট খবর অনলাইন।

ভ্রমণ সংক্রান্ত সমস্ত খবরাখবরের জন্য রয়েছে ‘ভ্রমণঅনলাইন.কম’। কাছে দূরের ভ্রমণ নিয়ে যাবতীয় তথ্য ও পরামর্শ পেতে এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য সাইট।  

স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় সাইট রয়েছে ‘স্বাস্থ্যঅনলাইন.ইন’

আহার-বিহার

শীতে জলপাইগুড়ি গেলে এই জিনিসটার স্বাদ নিতে ভুলবেন না

রাজা বন্দ্যপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: বাষ্পের সাহায্যে সেদ্ধ হবে চালের গুঁড়ো। তার মাঝখানে তিন জায়গায় সামান্য মিষ্টির ছোঁয়া। এই হল ‘ভাকা পিঠে’। শীতে কি এই অপরূপ পিঠের স্বাদ নিতে চান? তা হলে চলুন জলপাইগুড়ি। জলপাইগুড়ি শহর এবং সংলগ্ন এলাকাতে এই ভাকা পিঠের বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত। জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলায় এই ভাকা পিঠের কদর […]

Published

on

রাজা বন্দ্যপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: বাষ্পের সাহায্যে সেদ্ধ হবে চালের গুঁড়ো। তার মাঝখানে তিন জায়গায় সামান্য মিষ্টির ছোঁয়া। এই হল ‘ভাকা পিঠে’। শীতে কি এই অপরূপ পিঠের স্বাদ নিতে চান? তা হলে চলুন জলপাইগুড়ি।

জলপাইগুড়ি শহর এবং সংলগ্ন এলাকাতে এই ভাকা পিঠের বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত।

জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলায় এই ভাকা পিঠের কদর প্রচুর। এখন তো নিউ জলপাইগুড়ি-সহ বিভিন্ন স্টেশনে সারা বছর এই ভাকা পিঠে বিক্রি হয়। কোনো তেল মশলা নেই। কেবল দরকার চালের গুঁড়ো। বাকি যে উপকরণ লাগে সেগুলি হল নারকেল কোরা, গুড় এবং চিনি।

জলপাইগুড়ির দিনবাজার সেতুর ওপর মোট চার জন ভাকা পিঠে বিক্রি করেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন সম্পর্কে ভাই। জলপাইগুড়ি শহর থেকে কিছু দূরের রাহুতবাগানের বাসিন্দা নিতাই পাল এবং খরুম পাল। পাশাপাশি আলাদা ভাবে ভাকা পিঠে বিক্রি করলেও নিজেদের মধ্যে কোনো রেষারেষি নেই। শীতের দুপুরে দু’ জন দু’টো ভ্যানরিকশায় মালপত্র নিয়ে চলে আসেন দিনবাজার সংলগ্ন করলা সেতুর ওপর। ভ্যানরিকশার ওপর স্টোভ ধরিয়ে একটা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে জল গরম করতে দেন। ওপরের ঢাকনায় একটি এক ইঞ্চি গোলাকৃতি এবং অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোটো দু’টো ফুটো করা থাকে।

আরও পড়ুন ‘পছন্দের নয়, দার্জিলিং হোক ভালোবাসার,’ সেলফি পয়েন্ট তৈরি করে আবেদন বিনয়ের

জল ফোটা আরম্ভ করলে দু’টো ফুটো দিয়ে বাষ্প বার হতে থাকে। তখন ব্যাগে রাখা চালের গুঁড়ো স্টিলের বাটিতে ভরা হয়। বাষ্পের ওপর বসানোর আগে বাটির চালের গুঁড়োর ওপরে গুড় মেশানো নারকেল কোরা অল্প মাত্রায় দেওয়া হয়। একটা সাদা কাপড়ে বাটির মুখ আটকে দেওয়া হয়। তার পর যে পাত্রটির ফুটো থেকে বাষ্প বার হচ্ছিল তার ওপর উলটো করে বাটি বসিয়ে দেওয়া হয়। বড়ো ফুটোর ওপর বড়ো বাটি এবং ছোটো ফুটোর ওপর ছোটো বাটি। বাষ্প যে ফুটো দিয়ে বার হচ্ছে তার মুখের ওপর  সাদা কাপড়ে ঢাকা বাটির মধ্যের চালের গুঁড়ো থাকে। এক মিনিট পরেই তৈরি হবে যায় ভাকা পিঠে। গুড়, নারকেল কোরার মিশ্রণ না দিয়ে অনেকে আবার চিনিও ব্যবহার করেন। ক্রেতা চাইলেই কাগজের ওপর রেখে পরিবেশন করা হয়। বড়োটার দাম ১০ এবং ছোটোটার দাম ৫ টাকা।

বিক্রেতা পাল ভাইয়েরা জানালেন যে তাঁরা প্রত্যেকে রোজ আট কিলোগ্রাম চালের গুঁড়ো নিয়ে বসেন। এক কিলোগ্রাম চালের গুঁড়োয় ছোটো বড়ো মিলিয়ে ২২ থেকে ২৫টা ভাকা পিঠে তৈরি হয়। পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত ভাকা পিঠে জলপাইগুড়ি শহরে বিক্রি হবে। পৌষ সংক্রান্তির পর বাড়িতে বাড়িতে পিঠে তৈরি শুরু হয়ে যায়। তখন ভাকা পিঠের কদর কমে যায়। নিতাই এবং খরুম পালের দাবি, “ভাকা পিঠে অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য। শরীরের কোনো ক্ষতি করে না।”

সুতরাং এই শীতে জলপাইগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় গেলে খেতেই হবে ভাকা পিঠে।

Continue Reading

আহার-বিহার

রানাঘাটের যে স্বাদ ভোলা যায় না

Published

on

পায়েল সামন্ত[/caption] চুর্ণী নদী, জয় গোস্বামী আর রাখি গুলজারের রানাঘাটে এলে পান্তুয়া না খেয়ে ফেরা আর তারাপীঠে গিয়ে মা তারার দর্শন না করা সমান অপরাধের! আমাদের টোটোচালক বছর বাইশের ফটিকের এই উক্তি শুনে চমকে গিয়েছিলাম। ও বলল বলেই তো চুর্ণী নদী দেখে ফেরার পথে সাইনবোর্ডহীন একটা মিষ্টির দোকানে ঢুকলাম পান্তুয়া খেতে। একটা বড়ো কড়াইয়ে রসশয্যায় শায়িত পান্তুয়াদের দল আমাকে ইশারাতে ডাকল। এই মিষ্টির দোকানের খুব কাছেই রানাঘাটের আদি জমিদার পালচৌধুরীদের বাড়ি। ফটিক ফিসফিস করে বলল, “আজকের পালচৌধুরীরাও এই দোকান থেকে পান্তুয়া কেনে! কলকাতাতেও যায় এদের পান্তুয়া। পান্তুয়া কি কলকাতায় তৈরি হয় না?  তবু রানাঘাট পান্তুয়া এ ব্যাপারে এক নম্বর। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আমল থেকেই তা প্রবাদপ্রতিম। কেন জানেন, জিআই মানে জিওগ্রাফিক্যাল আইডেনটিটি।  যেমন একটা গান আছে না, আছে গৌরনিতাই নদিয়াতে, কৃষ্ণ আছে মথুরাতে, কালীঘাটে….। ওটাই জিআই। কৃষ্ণনগরের সরভাজা-সরপুরিয়া, রানাঘাটের পান্তুয়া, বাংলাদেশের ইলিশ।…” ফটিক আরও কী সব বলে যাচ্ছিল, কিন্তু কানে কিছুই ঢুকছিল না। মুখে তখন পান্তুয়া। কী স্বাদ! মনে হল, কৃষ্ণচন্দ্রের আমল থেকে এই অপরিবর্তিত স্বাদই কি জন্ম দিয়েছে কিংবদন্তি পান্তুয়ার? যে রেসিপির হাতে লেগে আছে রানাঘাটের অগণিত নাম-না-জানা হালুইকরের ব্র্যান্ড ইকুয়িটি। ব্র্যান্ডের কথাই যদি বলি, ফটিকের মতে, জগু ময়রা ওরফে যজ্ঞেশ্বর প্রামাণিকের একচ্ছত্র রাজত্ব রানাঘাটে। মানে প্রায় একশো বছর আগে রানাঘাটে তাঁর মহান হাত ধরেই দোকানে পান্তুয়ার আবির্ভাব হয়। তাঁরই বংশ পরম্পরায় ধরে রানাঘাটে পান্তুয়ার মোঘল সাম্রাজ্য চলে আসছে। প্রভাত প্রামাণিকের হাতে ১৯২০ সাল নাগাদ পান্তুয়ার স্বর্ণযুগ এল। যেন শাজাহানের আমল। জগু ময়রার দোকান এখনও আছে। জগু ময়রার উত্তরাধিকারীরা আজ এলাকায় মেজদা সেজদা ছোড়দা (যেন পান্তুয়া সাম্রাজ্যের ‘ডন’) নামে পরিচিত। sweet shop in ranaghatশহর জুড়েই প্রচুর মিষ্টির দোকান। দত্তফুলিয়া, রথতলার একগুচ্ছ মিষ্টির দোকানের সবেতেই পান্তুয়া মজুত। সুজি, ছানা, ক্ষীর, ঘি, নকুলদানা দিয়ে তো পৃথিবীর সকলেই পান্তুয়া বানায়। তবে রানাঘাটের পান্তুয়ার রহস্য কী? তারা মা মিষ্টান্ন ভান্ডারের সুনীল কুণ্ডু প্রায় রহস্য করে জানালেন, এই উপকরণ দিয়ে তো ল্যাংচা, লালমোহন, লেডিকেনি, নিখুঁতি, গুলাবজামুন প্রায় সবই তৈরি হয়! তবে শক্তিগড়ের ল্যাংচা যেমন বর্ধমানের নয়, ঠিক যে রকম রানাঘাটের পান্তুয়া আবার পুরো নদে জেলার নয়। তেমনি ভীম নাগের লেডিকেনি আবার রানাঘাটের পান্তুয়া নয়। মাছ আর মাছরাঙা বা বর আর বরকন্দাজ যেমন এক নয়, এ তো অনেক ছোটোবেলাতেই জেনেছি। পান্তুয়া আর লেডিকেনিও এক হবে না। কিন্তু পান্তুয়ার রহস্য ভেদ তো হল না! বরং ভেবে দেখলাম, বিতর্কিত বিষয় বটে! পান্তুয়া গুলাবজামুন নাকি গুলাবজামুন পান্তুয়া? সিদ্ধেশ্বরী সুইটস্-এ দেখা হল মিষ্টিরসিক তাপস দে-র সঙ্গে। তিনি বললেন, “পান্তুয়াতে বেশি খোয়াক্ষীর থাকে। আসলে কড়াইতে পান্তুয়া ভাজার উপরই নির্ভর করে স্বভাবটা কেমন হবে। রানাঘাটের পান্তুয়া একটু বেশিই ভাজা হয়। উপরের লালচে পুরু আবরণটা বেশ শক্ত। ওটাই কায়দা! এখনকার কারিগরেরা অবশ্য পুরনো ঐতিহ্য মেনেই পান্তুয়া তৈরি করে চলেছে।”

আরও পড়ুন: শান্তিনিকেতনের পথে বড়ার চৌমাথায় মণ্ডার স্বাদ নিন

রানাঘাটের পান্তুয়ার স্বভাব যা-ই হোক না কেন, আকারটা ঠিক আমাদের কলকাতার চেনা গোল গোল আকৃতির নয়। আবার শক্তিগড়ের ল্যাংচাসুলভ লম্বাটেও নয়। বলা ভালো, লম্বাটে ধাঁচের, দেখতে মাকু আকৃতির বললে খুব অবিচার হবে না। আবার মুখে দিলে একটা পুরু আবরণীতে কামড় পড়বে। এমনিতে অবাঙালিরা আমাদের কলকাতার পান্তুয়াকে গুলাবজামুন বলতে পারলেও রানাঘাটের পান্তুয়া তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জন্য এ সবের থেকে স্বতন্ত্র। লোকনাথ সুইটসের নিয়মিত খদ্দের বিশ্বজিৎ দেবনাথ জানালেন, “এখনকার পান্তুয়া আকারে ছোটো হচ্ছে। সেই কোয়ালিটিও নেই। তার পর দামও বাড়ছে উত্তরোত্তর। সে যা-ই হোক, তা বলে পান্তুয়া খাওয়া ছাড়তে পারা যাচ্ছে না। মুখে দিলে ও-সব আর মাথায় থাকে না।” খুব পুরোনো শহর রানাঘাট। মন্দিরের সঙ্গে গির্জাও যেমন আছে, তেমনি প্রাচীনের পাশে নতুনেরও সহাবস্থান এখানে। কিন্তু মিষ্টির দোকানে নতুন মিষ্টির আগে ঠাঁই পায় কুলীন পান্তুয়া। এক কালে পুরো ঘি দিয়ে ভাজা হত পান্তুয়া। এখন অবশ্য ঘি ব্যবহার করা হয় না। ছানার কোয়ালিটিও আগের মতো নেই। তাতেই প্রতি পিস ৫ টাকা, আবার ১০ টাকাও আছে। পান্তুয়া সাম্রাজ্যের এক করুণ ইতিহাসও শুনে নিলাম রানাঘাট স্টেশন চত্বরে। সারা শহরে হরিদাস পালের অভাবটা নাকি পূরণ হচ্ছে না! কে এই হরিদাস পাল? পান্তুয়া টাইকুন নাকি বিখ্যাত কারিগর? রানাঘাট স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্মের বাইরে নিজের দোকান করেছিলেন হরিদাস পাল। পান্তুয়ার এমন স্বাদ যেন এলাকার মানুষের মুখে লেগে আজও। বছর ত্রিশ হল সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শোনা যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সন্ধ্যা রায় এখানে পান্তুয়া খেয়েছেন। হরিদাস পালের পরিপূরক নাকি আজও হয়নি। এই শহরে কত দোকান! তবুও একটা বিশেষ দোকানের কথা বলা হলে বোঝা যায়, সত্যিই তা কালজয়ী বটে! পান্তুয়া খেয়ে-খাইয়ে এবং বেঁধে নিয়ে মনে হল, পান্তুয়ার জিআই স্বীকৃতি নিয়ে রানাঘাট মুখর হবে কবে? রসগোল্লা নিয়ে এখন যখন বাংলা আর ওড়িশার মধ্যে ধুন্ধুমার চলছে তখন রানাঘাটে বসে শুনলাম, হারাধন ময়রার কথা। তিনি পালচৌধুরীদের জন্য কাজ করতেন। উনিশ শতকে চিনির রসে তাঁর হাত থেকে কিছু ছানার গোল্লা পড়ে যায়। আর তাই নাকি হয়ে যায় রসগোল্লা! এ সব ক’জন জানেন? নবীন ময়রা, কেসি দাসকে যত লোক চেনেন, তাঁরা সবাই কি হারাধন ময়রাকে চেনেন? তাই তো জিআই দরকার পান্তুয়ারও! হাজার বছর পরে পান্তুয়ার জন্মরহস্য নিয়ে কথা উঠলে ওটাই হবে গাছকোষ্ঠি।]]>

Continue Reading

আহার-বিহার

শান্তিনিকেতনের পথে বড়ার চৌমাথায় মণ্ডার স্বাদ নিন

শম্ভু সেন সাত সকালেই বড়ার চৌমাথায় দিলীপ ঘোষের মণ্ডার দোকানে বেশ ভিড়। আপাতত আমাদের গন্তব্য শান্তিনিকেতন হয়ে নানুর। ফেরার পথে এক বার ঢুঁ মারব। দিলীপবাবুর মণ্ডার সঙ্গে আমার পরিচয় বছর তিনেক আগে। সে বারেও ফিরছিলাম শান্তিনিকেতন থেকে। গুসকরা পেরিয়ে আসার পর চায়ের তেষ্টাটা জোরদার চেপে বসল। বড়ার চৌমাথায় বর্ধমানমুখী রাস্তার বাঁ দিকে পেয়ে গেলাম দিলীপ […]

Published

on

IMG_7247

শম্ভু সেন

সাত সকালেই বড়ার চৌমাথায় দিলীপ ঘোষের মণ্ডার দোকানে বেশ ভিড়। আপাতত আমাদের গন্তব্য শান্তিনিকেতন হয়ে নানুর। ফেরার পথে এক বার ঢুঁ মারব।

দিলীপবাবুর মণ্ডার সঙ্গে আমার পরিচয় বছর তিনেক আগে। সে বারেও ফিরছিলাম শান্তিনিকেতন থেকে। গুসকরা পেরিয়ে আসার পর চায়ের তেষ্টাটা জোরদার চেপে বসল। বড়ার চৌমাথায় বর্ধমানমুখী রাস্তার বাঁ দিকে পেয়ে গেলাম দিলীপ ঘোষের দোকান। চায়ের সঙ্গে ‘টা’ হিসাবে সিঙাড়ার সঙ্গে নিয়েছিলাম মণ্ডা। কিছুটা অনুরোধে পড়ে। লোকে তো উপরোধে ঢেঁকিও গেলে। আসলে দিলীপবাবুর দোকানের অন্য ক্রেতারাই জোর করেছিলেন মণ্ডা পরখ করে দেখার জন্য। বেশ ভয়ে ভয়েই চেখেছিলাম। কারণ বীরভূম-বর্ধমান-বাঁকুড়ার অতি আদরের মণ্ডা খাওয়ার ‘সৌভাগ্য’ আগে অনেক বার হয়েছে। মূলত চিনির পাক, ছানা আছে কি নেই, বোঝা যায় না। কিন্তু দিলীপবাবুর মণ্ডা ? বুঝলাম অন্য জিনিস।

মণ্ডা-মিঠাই একটা বহুল প্রচলিত শব্দবন্ধ। সামগ্রিক ভাবেই মিষ্টান্ন শ্রেণিকেই বোঝাত। কালক্রমে মণ্ডা ও মিঠাই দু’টি বিশেষ শ্রেণির মিষ্টান্নে পরিণত হয়। ছোলা বা মুগের বেসন থেকে তৈরি ঘিয়ে ভাজা ছোট ছোট দানাকে (যাকে চলতি কথায় বোঁদে বলে) চিনি বা গুড়ের রসে পাক করে পরে গোল করে বাঁধাই করা যে মিষ্টি তাকেই সাধারণ ভাবে বলা হয় মিঠাই। পরে যা থেকে জন্ম হয়েছে ‘দরবেশ’-এর। আর মণ্ডা কথাটি সম্ভবত ‘মণ্ড’ থেকে এসেছে। চিনি বা শর্করাকে পাক করে পাওয়া যায় যে মণ্ড তার থেকে তৈরি মিষ্টি হল মণ্ডা। মূলত চিনির গোলাকার মিষ্টান্নকেই মণ্ডা বলা হত। এ ধরনের মিষ্টির মধ্যে পড়ে চিনির বিস্কুট বা নবাত, বাতাসা, কদমা, চিনির মুড়কি। দেবভোগ্য মিষ্টান্ন হিসাবে প্রাচীনকালে এই মণ্ডার চল ছিল। আজ থেকে ষাট-সত্তর বছর আগেও মিঠাই ও মণ্ডার কদর ছিল খুব বেশি। গ্রামবাংলায় পাড়ায় পাড়ায় নবজাতকের জন্মের খবর হলেই মাটির সরায় ভরে মিঠাই ও মণ্ডা বিতরণ করা হত দোরে দোরে। আজও দেবদেবীর নিত্যনৈমিত্তিক সেবায় এই মণ্ডা চালু থাকলেও সামগ্রিক ভাবে মণ্ডার আর সে দিন নেই। এখন মণ্ডা বললেই একটা নাক-সিঁটকানো ভাব। এটা আবার মিষ্টি নাকি ! কিন্তু দিলীপের মণ্ডার জাতই আলাদা।

কর্ণধার দিলীপ ঘোষ

কর্ণধার দিলীপ ঘোষ

তাই তিন বছর পরে ফের যখন এ রাস্তায় পা পড়ল, তখনই মনে পড়ে গেল দিলীপ ঘোষের মণ্ডার কথা। জিটি রোড দিয়ে গিয়ে বাঁ দিকে রাজবাটী, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরকে রেখে ডান দিকে গাড়ি ঘুরল। বর্ধমানের বিখ্যাত ১০৮ শিবমন্দির পেরিয়ে গাড়ি ছুটে চলল। সিউড়ি রোড। এ রাস্তার চেহারা-চরিত্র এখন বেশ ভালো। তাই শান্তিনিকেতন বা বীরভূমের অন্যত্র যেতে হলে এখন আর খুব একটা কেউ পানাগড়-ইলামবাজারের পথ ধরেন না। চলেন সিউড়ি রোড হয়ে। আমরাও সেই পথের শরিক। আসা-যাওয়া, দু’ বেলাতেই।

ফেরার পথে সন্ধে নেমেছে বোলপুর ছাড়াতেই। তাই যখন গুসকরা পেরিয়ে গেলাম, আঁধার বেশ ঘনই। এগিয়ে চলেছি। লক্ষ্য, বড়ার চারমাথায় দিলীপ ঘোষের ‘অন্নপূর্ণা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’। বেশ কয়েকটা চৌমাথা পেরোলাম, কিন্তু বড়া আর আসে না। পেরিয়ে এলাম নাকি! অন্ধকারে হয়তো ঠাহর করতে পারিনি। মনকে প্রবোধ দিই, এ বার আর মণ্ডা চাখা হল না। আশা যখন হতাশার পথ ধরেছে, ঠিক তখনই আলোআঁধারিতে নজরে পড়ে গেল ‘অন্নপূর্ণা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’।

DSCN0263

তিন বছর আগে এই দোকানেই মণ্ডার স্বাদ পেয়েছিলাম, দিলীপবাবুকে এ কথা জানাতেই রীতিমতো খাতির জুড়ে দিলেন। সেই সঙ্গে দোকানের বেঞ্চে বসে থাকা অন্য খদ্দেররাও।

৩৫ বছর ধরে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। মণ্ডার সঙ্গে এখানে পাওয়া যায় ল্যাংচা, রাজভোগ ইত্যাদি মিষ্টি। কিন্তু তাঁর ‘স্পেশাল মণ্ডা’র কদরই সব চেয়ে বেশি। এর খ্যাতি এখন কলকাতাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। “যাঁরা এই পথে নিয়মিত কলকাতা যাতায়াত করেন, তাঁরা আমার মণ্ডার বড়ো খদ্দের। তাঁদের দৌলতেই হয়তো কলকাতা থেকে অর্ডার আসে” – বেশ গর্বভরে বললেন দিলীপবাবু।

কিন্তু মণ্ডা বললেই তো আমরা নাক সিঁটকাই। সন্দেশের কাছে তো পাত্তাই পায় না। অনেকে আবার চিনির ডেলা বলে হতছেদ্ধা করে। তাঁর মণ্ডার এত খ্যাতি কেন ?

“আমার মণ্ডার সঙ্গে সন্দেশের তফাৎ সামান্যই। সন্দেশে ১ কেজি ছানায় ৩০০ গ্রাম চিনি লাগে। আর আমার মণ্ডায় ১ কেজি ছানায় ৫০০ গ্রাম চিনি থাকে। আর সাধারণত মণ্ডা বলতে আমরা যা বুঝি তাতে ছানা আর চিনির ভাগ সমান সমান। এর পর কারিগরের হাত তো আছেই। তাঁর হাতের পাকের ওপরেও নির্ভর করে মণ্ডার স্বাদ” –- দিলীপবাবুর জবাব।

কথায় কথায় আমাদের মণ্ডা প্যাক হয়ে গিয়েছে। “এ তো নিচ্ছেন বাড়ির জন্য। এখানে বসে একটু স্বাদ নিয়ে যান” – দিলীপবাবুর নির্দেশে আমাদের জন্য চলে এল সব থেকে বড় সাইজের গরম মণ্ডা আর চা। বলা বাহুল্য, এর জন্য দাম নিলেন না দিলীপবাবু।

“৩৫ বছর আগে শুরু করেছিলাম ছোট্ট একটা চালাঘর দিয়ে। নিজেই বানাতাম মণ্ডা। আজ দোকান বড়ো হয়েছে। কারিগর রাখতে হয়েছে। বিয়ে-শাদির মরশুমে অর্ডার সাপ্লাই দিতে হিমশিম খেয়ে যাই। সবই আপনাদের আশীর্বাদে” -– দিলীপবাবুর নমস্কারের বিনিময়ে প্রতিনমস্কার করলাম।

বর্ধমান থেকে শান্তিনিকেতন বা বীরভূমের অন্য কোথাও যাতায়াতের পথে অন্তত একবারটি চলুন সিউড়ি রোড ধরে। বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দির থেকে ৯-১০ কিমি বড়া। গুসকরার আগেই বড়ার চৌমাথায় ‘অন্নপূর্ণা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের’ মণ্ডার স্বাদ নিন। পশ্চিমবঙ্গের এক প্রাচীন মিষ্টি। ঠকবেন না, এটুকু গ্যারান্টি রইল।



Continue Reading
Advertisement
Narendra Modi
দেশ45 mins ago

২০১৫ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৫১৮ কোটি টাকা

দেশ2 hours ago

অর্থনীতিতে নতুন হাতছানি বাংলাদেশ-ভারত পণ্যবাহী রেল চলাচল

IPL rajasthan Royals
ক্রিকেট2 hours ago

রানের বন্যা শেষে চেন্নাই-জয় রাজস্থান রয়্যালসের

Sherpa Ang Rita
অ্যাডভেঞ্চার5 hours ago

অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়াই ১০ বার মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়ী আং রিটা প্রয়াত

রাজ্য5 hours ago

পর পর তিন দিন দৈনিক মৃতের সংখ্যা ৬০-এর উপরে, তবে ঊর্ধ্বমুখী সুস্থতার হার

Currency
শিল্প-বাণিজ্য6 hours ago

জল জীবন মিশনের আওতায় ৫০ লক্ষ টাকা জেতার সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্র, তবে উৎরাতে হবে আইসিটি গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জে

কেনাকাটা7 hours ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

দেশ9 hours ago

এ বার আলু, পেঁয়াজ, চাল, ডাল, ভোজ্য তেল অত্যাবশ্যক পণ্য নয়, বিল পাশ রাজ্যসভায়

দেশ16 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৭৫০৮৩, সুস্থ ১০১৪৬৮

দেশ2 days ago

সোমবার থেকে স্কুল খোলা বাধ্যতামূলক নয়, দেখে নিন কোন রাজ্য কী সিদ্ধান্ত নিল

দেশ3 days ago

ব্যথার কারণ খুঁজতে হল এক্স-রে, বন্দির মলদ্বারে হদিশ মিলল চারটি মোবাইলের

coronavirus west bengal
দেশ15 hours ago

এই প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ কোভিডরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়াল

রাজ্য3 days ago

জাতীয় গড়ের তুলনায় রাজ্যে সুস্থতার হার অনেকটাই বেশি, কেন্দ্রের প্রশংসা

mamata banerjee
রাজ্য2 days ago

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত

corona
দেশ2 days ago

৫টি রাজ্যেই মোট সক্রিয় কোভিডরোগীর ৬০ শতাংশ!

coronavirus west bengal
রাজ্য2 days ago

রাজ্যের চার জেলার কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ ভাবে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দফতর

কেনাকাটা

কেনাকাটা7 hours ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা3 days ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা6 days ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা2 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা2 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

কেনাকাটা4 weeks ago

ঘর সাজানোর ও ব্যবহারের জন্য সেরামিকের ১৯টি দারুণ আইটেম, দাম সাধ্যের মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এ দোকান সে দোকান ঘুরে উপযুক্ত...

কেনাকাটা1 month ago

শোওয়ার ঘরকে আরও আরামদায়ক করবে এই ৮টি সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : সারা দিনের কাজের পরে ঘুমের জায়গাটা পরিপাটি হলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সুন্দর মনোরম পরিবেশে...

kitchen kitchen
কেনাকাটা1 month ago

রান্নাঘরের এই ৮টি জিনিস কাজ অনেক সহজ করে দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজকাল রান্নাঘরের প্রত্যেকটি কাজ সহজ করার জন্য অনেক উন্নত ব্যবস্থা এসে গিয়েছে। তা হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট...

care care
কেনাকাটা1 month ago

চুল ও ত্বকের বিশেষ যত্নের জন্য ১০০০ টাকার মধ্যে এই জিনিসগুলি ঘরে রাখা খুবই ভালো

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পার্লার গিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় অনেকেরই নেই। সেই ক্ষেত্রে বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতি অনেকেই অবলম্বন করেন। বাড়িতে...

নজরে