Connect with us

ভ্রমণ

সাহস করে শিকল ভেঙে – দারোন্দার আঙিনায়

সব রকম সতর্কতা অবলম্বন করে আমরা ১৭ জন একটা এসি ট্রাভেলারে করে বেরিয়ে পড়লাম এক শনিবারের সাতসকালে।

Published

on

পার হয়ে যায় গোরু।
শ্যামলী মল্লিক

পৃথিবীর অসুখ। মনেরও। চারিদিকে শুধু নেতিবাচক সতর্কতা। সদর দরজায় ঝুলছে বড়ো তালা। চরণযুগল সুদীর্ঘ বিশ্রামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করার জন্য মুখিয়ে আছে। চড়া বাজারেও তবু যা হোক পেটে জুটছে দু’মুঠো কিন্তু দীর্ঘ অনশনে মনের মৃতপ্রায় অবস্থা।

এমন সময়ে মৌমিতার ডাক, “দারোন্দা যাবে?” শান্তিনিকেতন থেকে আট কিলোমিটার আগে ইলামবাজারে।

মৌমিতা – যার হাত ধরে সত্তর বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা কার্তিকস্বামী দর্শন করে, সুউচ্চ লাদাখ পরিভ্রমণ করে, লাক্ষাদ্বীপে ফিনিক্স পাখির মতো এ-দ্বীপ ও-দ্বীপ ঘুরে বেড়ায়। সেই ভরসা আর নির্ভরতার মৌমিতার সঙ্গে, সব রকম সতর্কতা অবলম্বন করে আমরা ১৭ জন একটা এসি ট্রাভেলারে করে বেরিয়ে পড়লাম এক শনিবারের সাতসকালে।

কিছু দূর গিয়ে দুর্গাপুর হাইওয়েতে একটা বড়ো দুর্ঘটনার জন্য বিশাল জ্যাম। অতএব ঘুরপথ। গাড়ি নেমে পড়ল গ্রামের অলিগলি মেঠো পথে। মৌমিতার কপালে চিন্তার ভাঁজ। আমাদের কিন্তু কোনো চিন্তা নেই।

কাশের সমারোহ।

আমরা তো দিব্যি তাজা সবজির বাজার, সরু পথের দু’ধারে চেনা ফুলের সমারোহ আর সবুজ বনানীর ছায়ায় ছায়ায় বেশ আমেজেই ছিলাম। প্রায় চল্লিশ মিনিট ঘুরপাক খেয়ে আবার গাড়ি উঠল হাইওয়েতে। এর পর শুধুই নির্দিষ্ট গন্তব্য।

ক্রমশ শহুরে ইমারত অদৃশ্য হয়ে শুরু হল কংক্রিট শাড়ির শুভ্র কাশপাড়। যত দূর চোখ যায় কাশের ঢেউ আর কাশের ঢেউ। চোখের আয়নায় উড়ন্ত কাশের শিফন আঁচল, মনের কুঠরিতে অন্ধকার দূর করে আলোর লন্ঠন। শরতের চিঠি এসে গেছে।

কাশঘোর কাটিয়ে উঠে পৌঁছে গেলাম উপাসনা রির্সটে । চিত্রশিল্পীর হাতে আঁকা ছবির মতো গ্রাম — ছবির মতো রির্সট।

গাড়িতেই প্রাতরাশের পর্ব মিটে গিয়েছিল। তাই স্নান সেরে, ডাল-ভাত-মাছের ঝোল দিয়ে মধ্যাহ্নভোজনের পর কিছুক্ষণের বিশ্রাম। বিকেল চারটের সময় আমরা পৌঁছোলাম অজয় নদের তীরে।

দারোন্দার আবাস।

তখন সূর্যাস্তের বিষণ্ণ আলো কাশের বুকে দিনান্তের ক্লান্তিটুকু জুড়িয়ে নিচ্ছে। নদীর জলে কাশ আর রক্তিম কিরণের ছায়া । আমরা বাকরুদ্ধ, মন্ত্রমুগ্ধ। প্রকৃতি দরাজ হাতে তার অতিথিদের আনন্দ বিলোতে ব্যস্ত। আমরাও নিঃসঙ্কোচে তার কাছে সঁপে দিলাম মনের যত অবসাদ।

মনে হল সাহস করে শিকল কাটতেই হয়, তবেই তো মেলে অপার মুক্তি। অদূরে গাছের তলায় চা-ওলার ছাউনি। লিকার চা খেয়ে ফিরে এলাম রিসর্টে। সান্ধ্যআড্ডা জমে উঠল মুড়ি তেলেভাজা আর গরম চায়ের সাথে। একেবারে খাঁটি বাঙালিয়ানা।

গানের সুরে, গল্পের তোড়ে, নাচের ছন্দে বয়স পালাল হার-না-মানার দেশে আর কোভিড নিখোঁজ হল নিরুদ্দেশের পাতায়। সাহস করে শিকল না ভাঙলে কী যে ভুল হত, তা মনে মনে স্বীকার করে নিলাম।

রাত নটায় দিশি চিকেনের ঝোল, নরম রুটি আর লোভনীয় স্বাদের রসগোল্লা সহযোগে ডিনার সেরে যখন ঘরের দিকে পা বাড়ালাম তখন মাথার ওপর তারাদের সাথে অসংখ্য জোনাকি আলো জ্বালাতে ব্যস্ত — জীবনের আলো!

রির্সটের তত্ত্বাবধান করেন মাালিক ও তাঁর স্ত্রী। তাই কোথাও নেই কোনো কৃত্রিমতার ছোঁয়া। তাঁদের নিজস্ব ভাবনায় অনন্যতার মাত্রা পেয়েছে রির্সটটি। পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে কর্মীদের নিবিড় আন্তরিকতা কোনো অতিথিকেই কোনো অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেয় না। কোভিডের মোকাবিলা করার জন্য সব রকম সতর্কতাই এখানে অবলম্বন করতে দেখেছি। এ বিষয়ে রিসর্টের কোনো খামতি নেই ।

পর দিন কাকভোরে ছাদে উঠে দেখলাম দিনশুরুর রঙমশাল আলোর হোলি। মেঘের জন্য সূর্যোদয় অধরা থেকে গেল। দিনের আলো পরিষ্কার হতেই আমরা ছুটলাম কামারপাড়ায় লক্ষ্মীসায়র দেখতে।

উপাসনায় আমরা।

দারোন্দায় এখন ছোটো বড়ো সব দীঘিই শাপলা শালুক পদ্মে ভরপুর। মহামায়াকে বরণ করতে তারা সম্পূর্ণ তৈরি। এখানে তালগাছে এখনও অনেক তাল মজুত। কত তাল মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি যাচ্ছে। প্রচুর তাল কুড়োনো হল।

লক্ষ্মীসায়র নামের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আয়নার মতো স্বচ্ছ ও পবিত্র। মাছ আছে বলে এই দীঘির পুষ্পবাহার নেই। ছবি তোলা হল। বটের ঝুড়ি ধরে দোল খেয়ে ফিরে গেলাম আমাদের যৌবনে। বিজ্ঞান প্রয়োজন, প্রকৃতি অপরিহার্য।

পাতাঝরা মাটির পথ পেরিয়ে মনে মনে একটা প্রতিজ্ঞা হয়েই গেল “আবার আসিব ফিরে।”

ফেরার সময় রিসর্টকর্মী পল্লব গ্রুপ ছবি তুলে সকলকে একটা করে ছোটো ছোটো গাছের চারা উপহার দিলেন, মধুর স্মৃতির ফুল ফুটিয়ে যা আজীবন পল্লবিত হয়ে থাকবে।

কালিম্পং

মেঘমুক্ত আকাশে হাসছে কাঞ্চনজঙ্ঘা, উত্তরবঙ্গে আনন্দে আত্মহারা পর্যটকরা

Published

on

লেপচাজগৎ থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি: অনির্বাণ নান

খবরঅনলাইন ডেস্ক: মেঘমুক্ত আকাশে হাসছে কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga)। কোভিডের (Covid 19) আবহেও এই ছবি দেখে অত্যন্ত খুশি উত্তরবঙ্গ ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকরা। অনেক দিন পর এই ছবি দেখে খুশি স্থানীয়রাও।

বর্ষা বিদায় নিয়েছে সপ্তাহ খানেক আগেই। কিন্তু কিছুতেই মেঘ সরছিল না উত্তরবঙ্গের আকাশ থেকে। এমনকি বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের কারণে দুর্গাপুজোর সময়ে উত্তরবঙ্গ জুড়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিও হয়েছে। অবশেষে সেই মেঘ আর বৃষ্টির প্রভাব থেকে মুক্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গ।

মঙ্গলবার সকালেও দেখা গিয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু সে দিন পর্যটকদের মন ভরেনি। কারণ সকালের দিকে তাকে দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘের আড়ালে মুখ লুকিয়েছিল সে। তবে বুধবার সকাল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অন্য রূপ দেখা গিয়েছে। এ দিন সূর্যোদয়ের সময়ে ঝকঝকে আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘায় দুর্দান্ত রঙ বদল দেখা গিয়েছে।

কাফের থেকে দেখা কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি: মৌমিতা মুখোপাধ্যায়

কালিম্পংয়ের কাফের থেকে এ দিন দুর্দান্ত সূর্যোদয় দেখেন মৌমিতা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গে আসছেন তিনি। তবে বুধবার ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘায় যে মায়াবী রঙ বদলের খেলা হয়েছে, সেটা খুব একটা দেখা যায় না বলেই জানান তিনি।

অন্য দিকে দার্জিলিংয়ের কাছে লেপচাজগৎ থেকেও দুর্দান্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখেছেন চন্দননগরের বাসিন্দা অনির্বাণ নান। ডুয়ার্সের কিছু জায়গা থেকেও এ দিন দর্শন দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সব থেকে তাৎপর্যের বিষয় হলেও বেলা বারোটাতেও কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দুর্দান্ত ভাবে দেখা যাচ্ছে পাহাড় থেকে।

তবে দুর্দান্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলেও এখনও সে ভাবে ঠান্ডা পড়েনি পাহাড়ে। দার্জিলিংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এ দিন ১১ ডিগ্রি ছিল। সমতলেও শীতের লেশমাত্র নেই। শিলিগুড়ির পারদ রয়েছে কুড়ি ডিগ্রির ওপরেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

বিসর্জনের আগেই আগুন, পুড়ে ছাই সল্টলেকের দুর্গাপুজো মণ্ডপ

Continue Reading

ভ্রমণ

চলুন ঘুরে আসি: ফুটফুটে ফুটিয়ারি

সবুজের বুক চিরে লালমাটির চোখরাঙানি, তাল-পলাশ-কুসুম-মহুয়াদের সদর্প অধিষ্ঠান, তিলাবনিদের বিশ্বস্ত সঙ্গ।

Published

on

ফুটফুটে ফুটিয়ারি।
সঞ্জয় গোস্বামী

সুন্দরী কলাবনি আর লধুড়কার মাঝে ফুটিয়ারির রূপকথা। আপন খেয়ালে বয়ে চলা ফুটিয়ারি নদীর ছন্দ কাটে ফুটিয়ারির ড্যামে, তিন দিক থেকে চলে শাসন তিন পাহাড়ের, তিলাবনি, পাঞ্জোনিয়া, সিন্দুরপুর – এই ত্রয়ীর কড়া অনুশাসনে ফুটিয়ারি গেঁথে চলে রূপকথা।

বেশ কিছু দিন ধরেই দিব্যেন্দুদা বলছিলেন, “দাদা, একবার সময় করে আসুন, দেখে যান।”  কিন্তু পরিস্থিতির চাপে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। হঠাৎ একদিন মনস্থির করেই ফেললাম। ক’ দিন ধরেই পুরুলিয়া টানছিল, তাই চাকা ছুটল।

কাশের আগমনী বার্তা রাস্তার ধারে, শরতের নীল আকাশ আর রাঙামাটির মনে দোলা দেওয়া ল্যান্ডস্কেপ – এ নিয়েই গাড়ি ছুটে চলে পুরুলিয়ার দিকে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অপরূপা  বাংলার স্বাদ নিতে নিতে অবশেষে ফুটিয়ারির কোলে। আকাশে তখন মেঘের আস্তরণ বেড়েই চলেছে। তাল গাছগুলি আরও দৃপ্ত পদচ্ছাপ রেখে দেওয়ার প্রস্তুতিতে, ফুটিয়ারির জলে ধীরে ধীরে ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ বয়ে চলেছে।

অপর দিকে তিলাবনি আর প্যাঞ্জোনিয়া ক্রমেই স্নানের প্রস্তুতি নিয়ে চলেছে, মাঝে আমি বুনে চলেছি স্বপ্নের বাসভবন।  আহা এর মাঝে যদি হত আমার স্বপ্নকুটির, মোহাচ্ছন্নতা কাটালেন দিব্যেন্দুদা – “আরে দাদা, দেশি মুরগির ঝোল রেডি, গরম গরম দু’টো ভাত পেটে দিয়ে আবার  নিজের স্বপ্নকুঁড়ি ফোটান।”

অপরূপা ফুটিয়ারি।

ডাল, বেগুনভাজা আর গরম মুরগির ঝোল দিয়ে সপাসপ মেরে এ বার সারপেন্টাইল রাস্তা ধরে হন্টন। কী অপরূপ ল্যান্ডস্কেপ বলে বোঝানো যাবে না। সবুজের বুক চিরে লালমাটির চোখরাঙানি, তাল-পলাশ-কুসুম-মহুয়াদের সদর্প অধিষ্ঠান, তিলাবনিদের বিশ্বস্ত সঙ্গ, ড্যামের রাস্তা ধরে স্থানীয়দের সাইক্লিং – সবে মিলে শোণিতধারা পালটে দেওয়ার সব উপকরণ হাজির।

মেঘ আরও জমে আসছে, কালো আকাশের নীচে ফুটিয়ারি যেন আরও অভিমানী। উষ্ণতার পারদ ক্রমেই নিম্নমুখী, গায়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির আয়োজন, বাতাসে লালমাটি ভেজা গন্ধ, কাশঝোপে মেটাক্রোনাল তরঙ্গ… এ আমি স্বপ্ন দেখছি না তো? বৃষ্টির তেজ বাড়াতে অগত্যা টেন্টে ফেরা।

শালুকের সমারোহ।

ফুটিয়ারি রিট্রিট দিব্যেন্দু দার স্বপ্নের প্রজেক্ট। আগে তাজপুর রিট্রিট বানিয়েছিলেন, তার পর এই ফুটিয়ারি প্রজেক্ট।  আপাতত একটি ডিলাক্স কটেজ আর চারটি টেন্ট। বাথরুম থেকে বেডরুম –  সবেতেই সুরুচিসম্মত মননের ছাপ। ফুটিয়ারির পাশে হওয়া এই ফুটিয়ারি রিট্রিট অবস্থান মাহাত্ম্যে বেশ মনোমুগ্ধকর। আপাতত এসি না থাকলেও ধীরে সে ব্যবস্থাও হবে। সবে তো পথচলা শুরু হয়েছে। রক ক্লাইম্বিং থেকে জিপ লাইনিং, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের বহু ক্রিয়াকলাপ আগামী বছর থেকে শুরু হয়ে যাবে প্রায় ১৪ বিঘার বিশাল প্রজেক্টে। তবে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস শুরু হওয়ার আগের ফুটিয়ারি রিট্রিট দেখে আমি মুগ্ধ।  বাকিগুলি শুরু হলে হয়ত ট্যুরিজমের এক অন্য দিক খুলে যাবে। কায়াকিংও শুরু হয়ে যাবে এই বছরের শেষ দিক থেকে।

রাত জেগে ড্যামের ধারে বেশ কিছুক্ষণ কাটিয়ে আরামকেদারায় বসে শুধু ভাবছিলাম এই বাংলাকে ঠিক কতটা চিনেছি আমরা। কত অদেখা জায়গা শুধু এই বাংলাতেই। বিশেষ করে এই পুরুলিয়ার কত জায়গা অনাঘ্রাত থেকে গিয়েছে আমাদের কাছে।

ভোর হতেই গাড়ি র চাকা ছুটে চলে তিলাবনি, প্যাঞ্জোনিয়া আর সিন্দুরপুরের দিকে। পথের শোভা ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব। মাত্র ১০-১২ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে এ এক স্বপ্নভূমিই বটে। তিনটে পাহাড়ই আবহবিকারের ফলে ভগ্নপ্রায় অবস্থায়। পাহাড় ভেঙে বড়ো বড়ো বোল্ডার গা বেয়ে নেমে আসছে।  দাবার ছকে যেন বোল্ডারের গুটি সাজানো। পাহাড়ের নিচু ঢালের পাশ থেকে বয়ে চলেছে পিচঢালা কালো রাস্তার ঢেউ। মনে এসে গেল সেই পঞ্চম দার সুরে গানের দৃশ্যায়ণ – ‘পান্না কি তমান্না হ্যায় কি হিরা মুঝে মিল যায়ে’ – হ্যাঁ, একদম সেই স্পট।

পাহাড়ের নিচু ঢালের পাশ থেকে বয়ে চলেছে পিচঢালা কালো রাস্তা।

তিন পাহাড়ের সান্নিধ্যলাভের পর চললাম দ্বারকেশ্বর নদীর উৎপত্তিস্থল দেখতে। সুন্দর ল্যান্ডস্কেপকে পাশে রেখে দুর্গাসিংডাঙা য় পৌঁছে তো অবাক। প্রস্রবণের জলধারা সরু হয়ে বয়ে চলেছে ক্যানিয়ন বেয়ে। ভাবা যায়, এই দ্বারকেশ্বরই ‘বাঁকুড়ার দুঃখ’-এর রূপ নেয় বছরে বছরে।

পরের গন্তব্য পাকবিড়রা ভৈরবস্থান। কষ্টিপাথরের এক অদ্ভুত শৈলী যে এই বাংলায় আছে জানতামও না, দিব্যেন্দুদা না বললে। সময় কম। তাই এর পর কাশীপর রাজবাড়ি দেখে আবার ফিরে আসতে হল।

তবে এই ফুটিয়ারি রিট্রিট-এ থেকে আপনি ঘুরে নিতে পারেন অচেনা, অনাঘ্রাত পুরুলিয়ার বেশ কিছু অংশ। এ ছাড়া চেনা পুরুলিয়া তো আছেই –  আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম,  বামনি ফলস, চড়িদা, পাখিপাহাড় ইত্যাদি ইত্যাদি।

কী ভাবে যাবেন

(১) যদি গাড়ি নিয়ে যান –

কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিমি, সময় লাগবে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। পথ: কলকাতা থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পানাগড়, টোল প্লাজা পেরিয়ে দুর্গাপুরের কাছে বাঁ দিকে বাঁকুড়ার পথ ধরুন। বাঁকুড়ার ধলডাঙা মোড় থেকে ডান দিকে পুরুলিয়ার পথ ধরুন (জাতীয় সড়ক ৬০এ)। ৬ কিমি মতো গিয়ে পুয়াবাগান মোড় থেকে ডান দিকে চলুন হুরা। ওই পথে আরও ১৫ কিমি গিয়ে লোধুর্কা মোড়। সেখান থেকে ডান দিকে চলুন শালডিহা মোড় (৩ কিমি)। সেখান থেকে বাঁ দিকে ২ কিমি ফুটিয়ারি রিট্রিট।

(২) যদি ট্রেনে যান –

হাওড়া থেকে ট্রেনে আদ্রা বা পুরুলিয়ায় গিয়ে সেখান থেকে গাড়িতে ফুটিয়ারি। দূরত্ব ২৭-২৮ কিমি। 

থাকার উত্তম ব্যবস্থা।

কোথায় থাকবেন

থাকবেন ফুটিয়ারি রিট্রিট-এ। যোগাযোগ : দিব্যেন্দু ঘোষ  (+৯১৯০৫১১৬৬৫৬৩)  

খরচ: ডিলাক্স কটেজ – প্রতি দিন মাথাপিছু ১৬০০ টাকা (যদি দু’জন থাকেন)/১৪০০ টাকা (যদি তিন বা চার জন থাকেন)।

টেন্ট – প্রতি দিন মাথাপিছু ১৪০০ টাকা (যদি দু’জন থাকেন)/১২০০ টাকা (যদি তিন জন থাকেন)।

খরচ থাকা এবং খাওয়া-সহ।

ঘোরাঘুরি

ফুটিয়ারি থেকে অফবিট পুরুলিয়া ঘুরে দেখতে বোলেরো গাড়িতে খরচ হবে ২৫০০-২৮০০ টাকা।

ছবি: লেখক

Continue Reading

দেশ

‘ওয়ার্ক ফ্রম মাউন্টেন’, পর্যটনকে চাঙ্গা করতে পাহাড়ে বসে অফিস করার সুযোগ দিচ্ছে উত্তরাখণ্ড

কাজ করেও ছুটির আমেজ উপভোগ করার এই সুবিধার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়ার্ককেশন’।

Published

on

খবরঅনলাইন ডেস্ক: কোভিড ১৯ (Covid 19) অতিমারির আবহে ছয়-সাত মাস হয়ে গেল সাধারণ চাকুরিজীবীর একটা বড়ো অংশকেই বাড়ি থেকে কাজ করতে হচ্ছে। টানা বাড়ি থেকে কাজ করার ফলে হতাশা, একঘেয়েমি গ্রাস যে করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই একঘেয়েমি কাটাতেই এ বার অভিনব একটা ব্যবস্থা নিল উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) সরকার। এই ব্যবস্থায় আপনি হয়তো কোনো পাহাড়ি গ্রামে রয়েছেন। সেখানে বসেই আপনি করছেন অফিসের কাজ। কাজ করতে করতেই আপনি চারিদিকটা দেখে নিলেন। হাতছানি দিচ্ছে তুষারশুভ্র শৃঙ্গ।

এমন উদ্যোগ উত্তরাখণ্ডের পর্যটন দফতরের। রাজ্যের বিভিন্ন বিভিন্ন মনোরম পর্যটন কেন্দ্রে ‘ওয়ার্ক ফ্রম মাউন্টেন’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজ করেও ছুটির আমেজ উপভোগ  করার এই সুবিধার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়ার্ককেশন’।

এই বিষয়ে উত্তরাখণ্ড পর্যটনের সচিব দিলীপ জাওয়ালকর বলেছেন, ‘‘ছুটি কাটানোর সব থেকে আধুনিক ধারণা হল এই ওয়ার্কেশন। কোভিড অতিমারিতে বাড়ি থেকে কাজ করার যুগে এই সুযোগ আনছে উত্তরাখণ্ড সরকার। ছুটিতে এসেও যাতে অফিসের কাজ করা যায়, সে জন্যই এই উদ্যোগ।”

জিম করবেট উদ্যান, ল্যান্সডাউন, মুসৌরি, কৌশানি, দেহরাদুন, নৈনিতাল, আলমোড়ার মতো জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার মধ্যেই কাজ করতে পারবেন পর্যটকরা, এমনই জানাচ্ছে পর্যটন দফতর। এই সব জায়গার বিভিন্ন হোমস্টে, হোটেল ও রিসর্টে কম খরচেই ওয়ার্ককেশনের সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন জাওয়ালকর।

সর্বক্ষণ বিদ্যুৎ পরিষেবা ও ইন্টারনেটের ব্যবস্থা থাকবে সেখানে। কাজ করার ফাঁকে যাতে ঘুরতে যাওয়া, বাইকিং, ট্রেকিং করা যায়, সেই সব ব্যবস্থাও থাকবে পর্যটন বিভাগের তরফে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পেশাদার এই ওয়ার্ককেশনের প্যাকেজ নিয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করেছেন বলে জানাচ্ছেন সেখানকার হোমস্টে ও হোটেল মালিকরা। এই ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে রাজ্য পর্যটনের সুদিন আবার ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

টিটাগড়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা খুন, সিবিআই তদন্ত দাবি

Continue Reading

Amazon

Advertisement
বিদেশ37 mins ago

দরিদ্র দেশগুলির জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিমা প্রকল্পের পরিকল্পনা ‘হু’-র

kolkata High Court
রাজ্য37 mins ago

কোভিডরোগীদের জন্য মারণ হতে পারে বাজির ধোঁয়া, ঠেকাতে ফের আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি

Mayawati
দেশ1 hour ago

আর রাখঢাক নয়, এ বার বিজেপিকে সরাসরি ভোট দেওয়ার আহ্বান মায়াবতীর

দেশ1 hour ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৪৮,৬৪৮, সুস্থ ৫৭,৩৮৬

দেশ1 hour ago

স্বস্তি আরও বাড়িয়ে ভারতে সক্রিয় রোগী নামল ছ’লক্ষের নীচে, আপাতত চিন্তা দিল্লিকে নিয়ে

দেশ2 hours ago

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় যুব সাধারণ সম্পাদক-সহ ৩ বিজেপি নেতা নিহত

Covid situation kolkata
কলকাতা3 hours ago

পাঁচ দিনে কমল সাড়ে চারশো, কলকাতায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা নামল ৭ হাজারের নীচে

দেশ4 hours ago

মুম্বইয়ে সকলের জন্য লোকাল ট্রেন চালু করছে মহারাষ্ট্র সরকার

কেনাকাটা

কেনাকাটা14 hours ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা3 weeks ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা4 weeks ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা4 weeks ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা1 month ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা1 month ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা1 month ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা1 month ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা1 month ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা1 month ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

নজরে