moitry

মৈত্রী মজুমদার

ভেড়াঘাট নিয়ে বলা যায় অনেক কথাই। তবু পরিসর যে হেতু বেশি নয়, তাই কিছুটা সংক্ষেপ করে নিচ্ছি।

এখানে ট্যুরিস্ট গাইডকে নিয়ে নৌকাবিহার করা যায়। আর মজার ব্যাপার হল নৌকায় যাওয়ার রাস্তায়, এখানকার পাহাড়গুলো, এ রকম ভাবেই হঠাৎ হঠাৎ সামনে এসে পড়ে যে এগোনোর পথের হদিস পাওয়া মুশকিল হয়। তাই এই পথটিকে ভুলভুলাইয়াও বলে থাকে স্থানীয় মানুষেরা।

এ ছাড়া এর আরও একটি পুরনো নাম আছে। ‘বান্দর-কোদিনি’। পথের মাঝে মাঝে সাদা, বাদামি, নীল, গোলাপি রঙের মার্বেল পাথরের পাহাড়গুলো একে অন্যের এত কাছে এসে পড়ে যে, বাঁদররা এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড় লাফিয়ে পার হতে পারে। বাঁদরের সংখ্যা বেশি হওয়ার এর একটা কারণ হতে পারে।

এই জায়গাটা শাহরুখ খান অভিনীত ‘অশোকা’, রাজ কাপুর অভিনীত ‘জিস দেশ মে গঙ্গা বহতি হ্যায়’-সহ বিভিন্ন সিনেমার শ্যুটিং-এর জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে।

পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলোয় যে এই মার্বেল রক না দেখেছে তার ভ্রমণ অসম্পূর্ণ । তাই এখানে আসার আগে ক্যালেন্ডার মিলিয়ে আসুন।

for bhedaghat (1)

থাকার জন্য সার্কিট হাউস বুক করতে পারেন। একদম মার্বেল রক-এর উপরেই এই জায়গা। লর্ড ওয়েলেসলির আমলে তৈরি, সাহেবের ছুটি কাটানোর জন্য। এখন সরকারি অতিথির জন্য ব্যবহৃত হয়। এই বাংলো থেকে মার্বেল রকের ভিউ ভারি সুন্দর।  ঘর মাত্র দু’টো, তাই আগে থেকে বুকিং করতে হবে। এ ছাড়া এম পি ট্যুরিজমের বাংলো আছে ভেড়াঘাটে। আর জব্বলপুর শহরে থাকার জায়গার তো অঢেল।

সার্কিট হাউসের প্রবেশদ্বারের বাইরেই আছে পঞ্চমঠা মন্দির। এর বিশেষত্ব হল যে এটি কোনও রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি মন্দির নয়, বরং ঋষিদের তৈরি সাধনক্ষেত্র। তাই শিবলিঙ্গ থাকলেও, পূজার্চনার ঘটা নেই। বরং এর দেওয়াল আর অলিন্দগুলি শব্দ অনুরণনের এমন নিয়মে তৈরি যে শব্দ এখানে ভিন্ন অনুষঙ্গ সৃষ্টি করে। স্থানীয় গাইডের মতে, এখানকার দেওয়ালের অলিন্দে মাথা গলিয়ে নিয়মিত ‘ওম’ কারের অভ্যাস, ই এন টি সমস্যার সমাধান করতে পারে।

ভেড়াঘাট থেকে আপনি কিনতে পারেন ছোট ছোট মার্বেলের আর্ট পিস, যা স্থানীয় কারিগরেরা এখানেই বসে তৈরি করেন। এ ছাড়া এখানকার কারিগরের তৈরি মার্বেলের মূর্তি সারা দেশে এবং বিদেশেও বিক্রির জন্য পাঠানো হয়।

যে কথাটা না বলে থাকা যাচ্ছে না তা হল, নর্মদা নদীকে পরিষ্কার রাখার জন্য সরকার এবং জনগণের মিলিত প্রচেষ্টা। পুরো শহরের বর্জ্য জল পাইপলাইন দিয়ে নদী পর্যন্ত নিয়ে আসা হলেও আবর্জনা রিসাইকেল করার পরই সেই জল নদীতে ছাড়া হয়। নদীর আশেপাশে প্লাস্টিকের ব্যবহারও নিষিদ্ধ।

এখানকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস প্রধানত নিরামিষ, কিন্তু বড়ই উপাদেয়। আর পথের পাশের গুমটি-রেস্তরাঁগুলোতে পেয়ে যাবেন বাদাম পোহা, কান্দা পোহা, বটাটা পকোড়ার মতো সুস্বাদু জলখাবার।

ভেড়াঘাট ছাড়াও জব্বলপুরকে কেন্দ্র করে আরও বেশ কয়েকটি টুরিস্ট স্পট ঘুরে দেখে নিতে পারবেন। তা হলে আর দেরি কেন? পাঁজি পুথি মিলিয়ে বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। জবব্বপুর আপনার ভ্রমণপিপাসাকে মেটাবেই মেটাবে।

ছবি:লেখক


মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here