পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ট্রেনে আসন সংরক্ষণ শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোর ছুটি মানে তো আর পুজোর পাঁচ দিন নয়, পুজোর ছুটি মানে একেবারে সেই দেওয়ালি ছাড়িয়ে। সুতরাং এখনও সময় আছে, বেড়ানোর প্ল্যান করে ট্রেনের টিকিট কেটে ফেলা। আর যদি বিমানে যেতে চান, যত আগে টিকিট কাটবেন, ততই ভাড়া কম হবে। যাই হোক, এখনও যদি পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান না করে উঠতে পারেন তা হলে খবর অনলাইন রয়েছে, আপনাদের জন্য সাজিয়ে দিচ্ছে ভ্রমণ-ছক। শুরু হয়েছিল উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে। তার পর সিকিম। এর পর সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে মহারাষ্ট্র-গোয়া ভ্রমণ ছক। তার পর উত্তরপ্রদেশ। এই পর্বে কুমায়ুন।

mayawati ashram
মায়াবতী আশ্রম

ভ্রমণ-ছক ১: অ্যাবট মাউন্ট-চৌকরি-কৌশানি-বিনসর-মুক্তেশ্বর-নৈনিতাল

প্রথম দিন – বরেলি/কাঠগোদাম/লালকুঁয়া থেকে চলুন অ্যাবট মাউন্ট (২১১১ মি)।

বরেলি থেকে অ্যাবট মাউন্ট ২০৪ কিমি, কাঠগোদাম থেকে ১৬২ কিমি এবং লালকুঁয়া থেকে ১৮৭ কিমি। সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন। বরেলি থেকে গেলে পথে দেখে নিন স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি বিজড়িত শ্যামলাতাল (১৫২৫ মি), চম্পাবতের মন্দিরগুচ্ছ, লোহাঘাটের ৯ কিমি আগে পাহাড়ের মাথায় মানেশ্বর মহাদেব। লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম থেকে এলে পথে দেখে নিন ভীমতাল, দেবীধুরায় বরাহি দেবী মন্দির। রাত্রিবাস অ্যাবট মাউন্ট।

ওক আর পাইনে ছাওয়া অ্যাবট মাউন্ট তার নৈসর্গিক শোভার জন্য বিখ্যাত। পাহাড় শীর্ষে সমতল ক্ষেত্র। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে নন্দাদেবী, নন্দাখাত, পঞ্চচুল্লি, কামেট, ত্রিশূল। সূর্যাস্ত মনোরম।

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন অ্যাবট মাউন্টে।

a view from abbott mount
অ্যাবট মাউন্ট থেকে।

অ্যাবট মাউন্ট থেকে দেখে নিন –

(১)  বানাসুর কেল্লা (১১ কিমি, লোহাঘাট হয়ে), (২) স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিধন্য মায়াবতী (১৯৪০ মিটার, ১৪ কিমি, লোহাঘাট হয়ে), (৩) মানেশ্বর (১৪ কিমি, লোহাঘাট হয়ে বরেলির পথে), (৪) পঞ্চেশ্বর (কালী ও সরযূর সঙ্গমে শিব মন্দির, ২৫ কিমি)।

তৃতীয় দিন – চলুন চৌকরি, অ্যাবট মাউন্ট থেকে ১১৩ কিমি। পথে দেখে নিন গঙ্গোলিহাটে মহাকালী মন্দির, বেরিনাগে পাহাড়চুড়োয় বেণীনাগ মন্দির (পঞ্চচুল্লি সুন্দর দৃশ্যমান), ত্রিপুরাদেবীতে ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির (অতি প্রাচীন বাঙালি কালী মন্দির, এখান থেকেও দেখে নিন তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়)। দেখে আসতে পারেন পাতাল ভুবনেশ্বর গুহা (পাহাড় চুঁয়ে চুঁয়ে জল পড়ে সৃষ্ট স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইট চুনাপাথরের দণ্ডে মূর্ত হয়েছেন দেবদেবীরা)। পাতাল ভুবনেশ্বরের পথ গিয়েছে গুপ্তারি হয়ে, যাতায়াতে ১৫ কিমি অতিরিক্ত। রাত্রিবাস চৌকরি।

a morning at Chaukori, panchachulli is visible
পঞ্চচুল্লিকে নিয়ে সকাল চৌকরিতে।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন চৌকরিতে (২০১০ মি)। চৌকরির প্রশস্তি চৌখাম্বা থেকে পঞ্চচুল্লির প্যানোরামিক ভিউ। পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত চা বাগানে হেঁটে বেড়ান। সারা দিন সঙ্গী করুন হিমালয়কে। দেখুন সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত

ঘুরে আসতে পারেন ধরমঘর (৯ কিমি, গান্ধীজির শিষ্যা সরলাবেনের হিমদর্শন কুটির থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ), কস্তূরী মৃগ ফার্ম (৫ কিমি, কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে দেড় কিমি চড়াই উঠে ২২৭৫ মিটার উচ্চতা)।

পঞ্চম দিন – চলুন কৌশানি (১৮৯০ মি), ৮৫ কিমি। পথে দেখে নিন গোমতী ও সরযূর সঙ্গমে পুণ্য শৈবতীর্থ বাগেশ্বর, বৈজনাথে গোমতীর তীরে ১১ শতকের মন্দিরগুচ্ছসূর্যাস্ত দেখুন গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত অনাশক্তি আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে। রাত্রিবাস কৌশানি।

temples of baijnath
বৈজনাথের মন্দিরগুচ্ছ।

ষষ্ঠ দিন – অনাশক্তি আশ্রম থেকে সূর্যোদয় দেখুন। রওনা হয়ে যান বিনসর (২৪১২ মি), ৫১ কিমি। পথে দেখে নিন বিনেশ্বর মহাদেব। রাত্রিবাস বিনসর।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন বিনসরে। কেএমভিএন লজ থেকে সূর্যোদয় দেখে সকালে বিনসর অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলুন জিরো পয়েন্ট, যাতায়াতে ৪ কিমি। সঙ্গে গাইড নিন, জঙ্গল চিনিয়ে দেবে। নজরমিনার থেকে দেখে নিন হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গরাজি। পশ্চিম থেকে পুবে ৩৪০ কিমি ব্যপ্ত হিমালয়ের বরফাচ্ছাদিত শিখররাজি সুন্দর দৃশ্যমান

বিনসর থেকে ঘুরে আসতে পারেন –

কাসারদেবী মন্দির (বিনসর থেকে ১৭ কিমি) চিতাই গুলু দেবতা মন্দির (কাসারদেবী মন্দির থেকে ৯ কিমি), জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ (চিতাই গুলু দেবতা মন্দির থেকে ২৭ কিমি)। এই জায়গাগুলো শুধু মন্দির বলে নয়, এমনিতেই সুন্দর।

from binsar
বিনসর থেকে।

অষ্টম দিন – সক্কালেই মুক্তেশ্বর (২২৮৬ মি), দূরত্ব ৭৫ কিমি। পথে দেখে নিন আলমোড়া রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং আলমোড়া শহর। রাত্রিবাস মুক্তেশ্বর।

মুক্তেশ্বরে দেখে নিন –

(১) আইভিআরআই-এর চত্বর থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গের সারি। (২) মুক্তেশ্বর শিবমন্দির ও চৌথি কি জালি তথা সানসেট পয়েন্ট। মন্দির থেকে কিছুটা হাঁটার পর মুক্তেশ্বর পাহাড়ের পশ্চিমমুখী অংশ হঠাৎ শেষ, ৩০০০ ফুট নেমে গিয়েছে, বিস্তৃত উপত্যকা। (৩) ঐতিহাসিক পূর্ত বাংলো – করবেট যেখানে থাকতেন।

নবম দিননৈনিতাল (১৯৩৮ মিটার), ৫০ কিমি। পথে দেখে নিন রামগড়ের চা বাগান

নৈনিতালে দেখে নিন –

নৈনি লেক, নয়নাদেবীর মন্দির। কেবল কারে চলুন স্নো ভিউ পয়েন্ট। দেখে নিতে পারেন অবজারভেটরি, হনুমানগড়ি, নয়না পিক, লরিয়াকান্তা, টিফিন টপ, ল্যান্ডস এন্ড

nainital
নৈনিতাল।

দশম দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। ঘুরে আসুন সাততাল (নৈনিতাল থেকে ২২ কিমি), ভীমতাল ( সাততাল থেকে ১২ কিমি), নৌকুচিয়াতাল (ভীমতাল থেকে ৭ কিমি), ফিরে আসুন নৈনিতাল, দুরত্ব ২৫ কিমি।

একাদশ দিন – বাড়ির পথে।

ভ্রমণ-ছক ২: লোহাঘাট- পিথোরাগড়-মুন্সিয়ারি-চৌকরি-বিনসর-শীতলাখেত-রানিখেত

প্রথম দিন – সকালে বরেলি/লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম পৌঁছোন। সেখান থেকে চলুন লোহাঘাট। লোহাঘাট বরেলি থেকে ১৯৯ কিমি, লালকুয়াঁ থেকে ১৮৪ কিমি এবং কাঠগোদাম থেকে ১৫৭ কিমি।

বরেলি থেকে গেলে পথে দেখে নিন স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি বিজড়িত শ্যামলাতাল (১৫২৫ মি), চম্পাবতের মন্দিরগুচ্ছ, লোহাঘাটের ৯ কিমি আগে পাহাড়ের মাথায় মানেশ্বর মহাদেব। লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম থেকে এলে পথে দেখে নিন ভীমতাল, দেবীধুরায় বরাহি দেবী মন্দির। রাত্রিবাস লোহাঘাট (১৭৫৪ মিটার)।

দ্বিতীয় দিন – সকালেই ঘুরে আসুন মায়াবতী, ১০ কিমি। লোহাঘাট থেকে ফিরে চলুন পিথোরাগড় (১৫১৪ মিটার), ৬০ কিমি। পথে দেখে নিন অ্যাবট মাউন্ট (৫ কিমি) থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গরাজি, গুরনা মাতা মন্দির (৪৬ কিমি)। রাত্রিবাস পিথোরাগড়।

mostamanur shiv temple, pithoragarh
মোস্তামানুর শিবমন্দির।

পিথোরাগড়ে দেখে নিন –

কামাখ্যা মন্দির (৭ কিমি), রাইগুম্ফা (৩০টি সিঁড়ি নেমে সোমেশ্বর মহাদেব), চন্দক পাহাড় (৬ কিমি, যাওয়ার প্রশস্ত সময় সূর্যাস্ত, হিমালয়ের নানা শৃঙ্গ দৃশ্যমান), মোস্তামানুর শিবমন্দির (চন্দক পাহাড় থেকে ২ কিমি), উল্কাদেবীর মন্দির (চন্দকের পথে) এবং পশুপতিনাথ মন্দির (মোস্তামানুরের পথে)

তৃতীয় দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন মুন্সিয়ারি, ১২৮ কিমি। পথে দেখে নিন বিরথি জলপ্রপাত, কালামুনিতে (৮৮৫৬ ফুট) কালিকাদেবী মন্দির, পঞ্চচুল্লি দর্শন। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

nandadevi temple munsiyari
নন্দাদেবী মন্দির, মুন্সিয়ারি। পিছনে পঞ্চচুল্লি।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। যেন হাত বাড়ালেই পঞ্চচুল্লি। কোথাও না গিয়ে সারা দিন উপভোগ করুন। সূর্যোদয় দেখুন, সূর্যাস্তেও রঙের খেলা চলে পঞ্চচুল্লিতে। ইচ্ছে হলে ঘুরে আসুন সবুজ বুগিয়ালের মাঝে নন্দামাঈয়ের মন্দির, ড. এস এস পাংথির মিউজিয়াম, ১০ কিমি দূরে ধারকোট গ্রাম (১৫০ বছরের পুরোনো ঘরবাড়ি, একটু নেমে গেলেই গৌরীগঙ্গা)।

পঞ্চম দিন – মুন্সিয়ারি থেকে চৌকোরি (২০১০ মি), ৯৬ কিমি। প্রকৃতির তৈরি এক অসাধারণ ব্যালকনি। চৌকরির প্রশস্তি চৌখাম্বা থেকে পঞ্চচুল্লির প্যানোরামিক ভিউ। পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত চা বাগানে হেঁটে বেড়ান। সারা দিন সঙ্গী করুন হিমালয়কে। দেখুন সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত

ঘুরে আসতে পারেন ধরমঘর (৯ কিমি, গান্ধীজির শিষ্যা সরলাবেনের হিমদর্শন কুটির থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ), কস্তূরী মৃগ ফার্ম (৫ কিমি, কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে দেড় কিমি চড়াই উঠে ২২৭৫ মিটার উচ্চতা)। রাত্রিবাস চকৌরি।

patal bhuvaneshwar
পাতাল ভুবনেশ্বর।

ষষ্ঠ দিন – চকৌরি থেকে ঘুরে আসুন পাতাল ভুবনেশ্বর (গুহা ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত) এবং গঙ্গোলিহাট (মহাকালী মন্দির)। মোট দূরত্ব ৮০ কিমি। রাত্রিবাস চকৌরি।

ঘুরে আসতে পারেন ধরমঘর (৯ কিমি, গান্ধীজির শিষ্যা সরলাবেনের হিমদর্শন কুটির থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ), কস্তূরী মৃগ ফার্ম (৫ কিমি, কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে দেড় কিমি চড়াই উঠে ২২৭৫ মিটার উচ্চতা)।

সপ্তম দিন – চৌকোরি থেকে বিনসর (২৪১২ মি), দূরত্ব ১০৬ কিমি। পশ্চিম থেকে পুবে ৩৪০ কিমি ব্যপ্ত হিমালয়ের বরফাচ্ছাদিত শিখররাজি সুন্দর দৃশ্যমান। রাত্রিবাস বিনসর।

KMVN TRH, Binsar
বিনসর কেএমভিএন।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন বিনসরে। কেএমভিএন লজ থেকে সূর্যোদয় দেখে সকালে বিনসর অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলুন জিরো পয়েন্ট, যাতায়াতে ৪ কিমি। সঙ্গে গাইড নিন, জঙ্গল চিনিয়ে দেবে। নজরমিনার থেকে দেখে নিন হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গরাজি।

বিনসর থেকে ঘুরে আসতে পারেন –

কাসারদেবী মন্দির (বিনসর থেকে ১৭ কিমি) চিতাই গুলু দেবতা মন্দির (কাসারদেবী মন্দির থেকে ৯ কিমি), জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ (চিতাই গুলু দেবতা মন্দির থেকে ২৭ কিমি)। এই জায়গাগুলো শুধু মন্দির বলে নয়, এমনিতেই সুন্দর।

নবম দিন – চলুন সিতলাখেত (১৯০০ মিটার), ৫৫ কিমি। নির্জনতার এক অনন্য স্থান শীতলাখেত। থাকার জায়গা বলতে কেএমভিএন-এর টুরিস্ট রেস্টহাউস, তার লাগোয়া ফরেস্ট বাংলো। টুরিস্ট রেস্টহাউসের চত্বরে বসে উপভোগ করুন হিমালয়ের তুষার শৃঙ্গরাজি। সন্ধ্যা নামলে সামনের পাহাড় সেজে ওঠে আলোকমালায়। দিনের বেলায় যে ধরা দেয় না খুব একটা রাতেই সে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আলমোড়া শহর। রাত্রিবাস সিতলাখেত।

pine forest on the way to Sahayi Devi Temple
পাইনের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সহায়ি দেবী মন্দিরে যাওয়ার পথ। সিতলাখেত।

দশম দিন – আজও থাকুন সিতলাখেতে। উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটাহাঁটি করুন গ্রামটিতে। পায়ের আর বুকের জোর থাকলে চলে যান ৩ কিমি দূরে পাহাড়ের মাথায় সহায়িদেবীর মন্দিরে। কষ্ট করে যেতে পারলে এক অপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকবেন। হিমালয় যে ভাবে ধরা দেবে তা ভোলার নয়।

ঘুরে আসতে পারেন কাতারমল সূর্য মন্দির, ১৯ কিমি। কাত্তুরি রাজবংশের তৈরি ত্রয়োদশ শতকের ওড়িশি শৈলীর মন্দিরগুচ্ছ। হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গরা তো আছেই।

একাদশ দিন – সকালেই চলুন রানিখেত (১৮৬৯ মিটার, ৩০ কিমি)। পথে দেখে নিন কালিকা মন্দিরমাঝখালি থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ। রাত্রিবাস রানিখেত।

golf course ranikhet
গলফ্‌ কোর্স, রানিখেত।

রানিখেতে দেখে নিন –

গলফ কোর্স, ঝুলা দেবী মন্দির, চৌবাটিয়া (পাহাড়ের ঢালে ৬০০ একর জায়গা জুড়ে আপেল-সহ নানা ফলের বাগান, অন্তত ১ কিমি পথ পরিক্রমা, হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ), হায়দাখান বাবাজি মন্দির (চৌবাটিয়ার কাছেই, এর প্রাঙ্গণ থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ বাড়তি পাওনা), দ্বারাহাট (কর্ণপ্রয়াগের পথে ৩৩ কিমি, কাত্তুরি ও চাঁদ রাজাদের রাজধানীর চিহ্ন এখনও বর্তমান এখানকার নানা মন্দির স্থাপত্যে।)

দ্বাদশ দিন – বাড়ির পথে।

কী ভাবে যাবেন ও ফিরবেন

চেষ্টা করুন কলকাতা এমন ট্রেন ধরতে যেটা সক্কালে বরেলি পৌঁছোয়। কলকাতা থেকে সপ্তাহে পাঁচটি ট্রেন।  অকাল তখৎ এক্সপ্রেস প্রতি বুধ এবং রবিবার সকাল ৭:৪০-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬.২৫। কলকাতা-নাঙ্গাল ড্যাম এক্সপ্রেস, প্রতি বৃহস্পতিবার ছাড়ে। সময় অকাল তখতের মতোই। হাওড়া-লালকুয়াঁ এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার সকাল ৮:১৫-য় হাওড়া ছেড়ে বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৫-এ। হাওড়া-জৈসলমের এক্সপ্রেস ছাড়ে প্রতি সোমবার। সময় লালকুয়াঁ এক্সপ্রেসের মতোই।

এ ছাড়াও কলকাতা থেকে বরেলি আসার অনেক ট্রেন আছে – অমৃতসর মেল, দুন এক্সপ্রেস, জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস, কুম্ভ এক্সপ্রেস। কিন্তু এই ট্রেনগুলো এমন সময়ে বরেলি পৌছোয় যে সেই দিনটি বরেলিতেই কাটাতে হবে।

kathgodam station
কাঠগোদাম স্টেশন।

কলকাতা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি এসে সেখান থেকে কাঠগোদামের ট্রেন ধরতে পারেন।

দিল্লি থেকে কাঠগোদাম আসতে রাতের রানিখেত এক্সপ্রেস ধরুন। দিল্লি জংশন স্টেশন থেকে রাত ১০টায় ছেড়ে কাঠগোদাম পৌঁছোয় ভোর ৫.০৫ মিনিটে।

ঘরে ফেরার ট্রেন ধরুন কাঠগোদাম থেকে। নৈনিতাল থেকে দুরত্ব ৩৩ কিমি। দিল্লি হয়ে ফেরার চেষ্টা করুন। কাঠগোদাম থেকে দিল্লি ফেরার জন্য রয়েছে, উত্তর সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস। প্রতিদিন সকাল ৮:৪৫-এ কাঠগোদাম থেকে ছেড়ে নয়াদিল্লি পৌঁছোয় বিকেল ৩:২৫-এ। কাঠগোদাম-নয়াদিল্লি শতাব্দী এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকেল ৩:৩৫-এ ছেড়ে নয়াদিল্লি পৌঁছোয় রাত ৯:০৫-এ। রানিখেত এক্সপ্রেস, প্রতিদিন রাত ৮:৪০-এ ছেড়ে পুরোনো দিল্লি পৌঁছোয় ভোর ৪টে। দিল্লি থেকে হাওড়া ফেরুন।

কাঠগোদাম থেকে হাওড়ার একমাত্র ট্রেন অর্থাৎ বাঘ এক্সপ্রেস সময় অনেক বেশি সময় নেয়।

ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in

কী ভাবে ঘুরবেন

পাহাড়ে বাস পরিষেবার ওপর ভরসা না করে একটা গাড়ি ভাড়া করেই ঘুরে নিন। ভাড়া গাড়ির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন – কুমায়ুন ভ্যালি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (০৫৯৪২-২৩৮৩০৫, ৯৪১০৯ ৩৮৭৮৬), সুনীতি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস (৯৮৯৭২০৯৯৩৩), জয় অম্বে ট্যুরস (০৫৯৪৬-২৬৬০১০, ৯০১২১২৩৪৫৮, ৯৪১২৫৩১৭৪৬), গুনগুন ট্রাভেল (০৫৯৪২-২৪৭২০০, ৯৪১২১৩৪৭৩৪, ৯৬৩৯১১৭৯০২), আগরওয়াল ট্রাভেলস (০৯২১৯৫৬৯১৮৮), শ্রী রাম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (৯৬২৭০৪৮৮৬৪, ৯৯১৭৬৭৩৯৮২), বি এস আর ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস (৯৪১০১৬২৪৮৭, ৯৬২৭৫৯৪০০১), ভাণ্ডারী ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস (০৯৪১২৯৯৪০৬৪, ০৯৫৩৬১৩৭০৭০), ভট্ট ট্যুরস (৯৪১১৩৭৪৮৬৬) ইত্যাদি।

kasar devi temple, near binsar
কাসার দেবী মন্দির, বিনসরের কাছে।

প্রথম ভ্রমণ-ছকে আপনার ভাড়া করা গাড়ি নৈনিতালে ছেড়ে দিতে পারেন। নৈনিতালে বহু সংস্থা কন্ডাক্টেড ট্যুর করায়। ওখানেই খবরাখবর পেয়ে যাবেন।

নৈনিতালে লেক বরাবর দেড় কিমি পথে রিকশা চলে। অনেক জায়গায় হেঁটে যেতে হতে পারে কিংবা ঘোড়ায়।

কোথায় থাকবেন

অ্যাবট মাউন্ট ছাড়া সর্বত্রই কেএমভিএন-এর টুরিস্ট রেস্ট হাউস আছে। অনলাইন বুকিং: kmvn.gov.in । সিতলাখেত সব জায়গাতেই  বেসরকারি হোটেল রিসর্ট আছে। সন্ধান পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq  ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

অ্যাবট মাউন্টে রয়েছে অ্যাবট মাউন্ট কটেজ। দেখুন abbottmountcottage.com ।

trishul from gwaldam
গোয়ালদাম থেকে ত্রিশূল।

মনে রাখবেন

(১) নৈনিতালে কেবল কার চলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত।

(২) প্রথম ভ্রমণ-ছকটা যদি এক দিন বাড়ানো যায় তা হলে আর একটা দিন কৌশানিতে থাকুন, ঘুরে আসুন গোয়ালদাম। ত্রিশূল অত কাছ থেকে দেখা মিস করা যায় না। কৌশানি থেকে গোয়ালদাম (কুমায়ুন থেকে গাড়োয়ালের অন্যতম প্রবেশপথ) ৪০ কিমি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here