Connect with us

দূরে কোথাও

পুজোয় চলুন / খবর অনলাইনের ভ্রমণ-ছক : গন্তব্য মহারাষ্ট্র-গোয়া

১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী, দুর্গাপুজো শুরু। সময় আর নেই। পুজোর ছুটিতে বেড়ানোর পরিকল্পনা এখনই করে ফেলতে হবে। পর্যটন সম্পদে সমৃদ্ধ আমাদের দেশ। ঘোরার জন্য রয়েছে নামী-অনামী বহু জায়গা। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খবর অনলাইন এ বারও সাজিয়ে দিচ্ছে এক গুচ্ছ ভ্রমণ পরিকল্পনা। শুরু হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত দিয়ে। তার পর ছিল সিকিম। এ বার মহারাষ্ট্র। তার সঙ্গে গোয়া। পুজো […]

Published

on

১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী, দুর্গাপুজো শুরু। সময় আর নেই। পুজোর ছুটিতে বেড়ানোর পরিকল্পনা এখনই করে ফেলতে হবে। পর্যটন সম্পদে সমৃদ্ধ আমাদের দেশ। ঘোরার জন্য রয়েছে নামী-অনামী বহু জায়গা। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খবর অনলাইন এ বারও সাজিয়ে দিচ্ছে এক গুচ্ছ ভ্রমণ পরিকল্পনা। শুরু হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত দিয়ে। তার পর ছিল সিকিম। এ বার মহারাষ্ট্র। তার সঙ্গে গোয়া। পুজো এ বার অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে। সুতরাং এ বার মহারাষ্ট্রের বনাঞ্চলে ঘোরার সুযোগ রয়েছে।

ভ্রমণ-ছক ১: নাগজিরা-তাড়োবা থেকে অজন্তা-ইলোরা ছুঁয়ে বাণিজ্যনগরীতে

প্রথম দিন – পৌঁছে যান গোন্ডিয়া। চলুন ৩৪ কিলোমিটার দূরের বোধলকসা। ছোটো ছোটো পাহাড়, জঙ্গল, ঝরনার মাঝে প্রকৃতি উপভোগ করুন বোধলকসায়। রাত্রিবাস বোধলকসা

দ্বিতীয় দিন – সকালেই চলুন নাগজিরা, বোধলকসা থেকে ৫৭ কিমি। সাফারি করুন। রাত্রিবাস নাগজিরা।tadoba forestতৃতীয় দিন – চলুন ১০৯ কিমি দূরের নাগপুর হয়ে আরও ১৪১ কিমি দূরের তাড়োবা। রাত্রিবাস তাড়োবা।

Loading videos...

চতুর্থ দিনবাঘ দেখতে সাফারি করুন। রাত্রিবাস তাড়োবা।

পঞ্চম দিন – ফিরুন নাগপুর। রাত্রিবাস নাগপুর। ভোঁসলেদের রাজধানী ছিল নাগপুর। দেখে নিন ভোঁসলে প্রাসাদ, ভোঁসলে ছত্তিশ, গান্ধীসাগর, গান্ধীবাগ, সতী মন্দির, সর্বেশ্বরা মন্দির ইত্যাদি।

ষষ্ঠ দিন – নাগপুর থেকে গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস (সকাল ৭.২০) অথবা মহারাষ্ট্র এক্সপ্রেস (সকাল ১০.৫৫) ধরে চলে আসুন ভুশওয়াল। গীতাঞ্জলি ভুশওয়াল পৌঁছোয় দুপুর ১.১০-এ, মহারাষ্ট্র এক্সপ্রেস পৌঁছোয় বিকেল ৫.৪০ মিনিটে। এখান থেকে চলুন অজন্তা, ৭১ কিমি। রাত্রিবাস অজন্তা।

ajanta cave from vew point

ভিউ পয়েন্ট থেকে অজন্তা গুহা।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন অজন্তায়। সকালে ধীরেসুস্থে দেখুন অজন্তা গুহা। বিকেলের দিকে আধ ঘণ্টা চড়াই ভেঙে ভিউ পয়েন্টে চলুন। ওপর থেকে দেখুন পুরো অজন্তা ও তার চার পাশ। এখান থেকে সূর্যাস্তও মনোরম

কুলকুল করে বয়ে চলেছে ছিপছিপে বাঘোড়া। তারই তীরে ৮৫০ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা এই গুহামন্দির। সহ্যাদ্রি পাহাড়ের কোলে বাকাতক রাজাদের কালে খ্রিপূঃ ২০০ থেকে খ্রিস্টোত্তর ৬৫০ – এই সময় ধরে গড়ে ওঠে ২৯টি বৌদ্ধগুহা মন্দির। এদের মধ্যে পাঁচটি, ৯, ১০, ১৯, ২৬ ও ২৯ নম্বর গুহা চৈত্য অর্থাৎ ছোট্টো ভজনালয় এবং বাকি ২৪টি মন্যাস্টেরি বা বিহার, সন্ন্যাসীদের বাসের জন্য খুপরি। দেওয়ালচিত্র ও ভাস্কর্যের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে অজন্তার প্রতিটি গুহায়

অষ্টম দিন – সক্কালেই চলুন আওরঙ্গাবাদ, ১০১ কিমি। মধ্যাহ্নভোজের আগে দেখে নিন তাজমহলের অনুকরণে তৈরি বিবি কা মকবরা, পানি চাক্কি ও তারই চত্বরে আওরঙ্গজেবের সুফি ধর্মগুরু বাবা শাহর সমাধি তথা দরগা। মধ্যাহ্নভোজের পরে দেখে নিন ১০টি গুহার সমাহার আওরঙ্গাবাদ গুহা। রাত্রিবাস আওরঙ্গাবাদ।

kailas temple, ellora cave

গুহা নম্বর ১৬, কৈলাস টেম্পল।

নবম দিন – চলুন ইলোরা, ৩০ কিমি। মধ্যাহ্নভোজের পর দেখে নিন অর্ধচন্দ্রাকারে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের তৃতীয় আশ্চর্য অনুপম ভাস্কর্যের ইলোরা গুহা। রাত্রিবাস ইলোরা।

ইলোরার গুহাগুলি পশ্চিমমুখী, তাই পড়ন্ত দুপুর তথা বিকেলে যথেষ্ট আলোকিত হয় গুহাগুলি। অনুমান করা হয়, এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ছয় শতকের মধ্যভাগে, চলেছিল ৫০০ বছর ধরে। ব্যাসল্ট রক কেটে তৈরি এই গুহাগুলি উত্তর থেকে দক্ষিণে ২ কিমি ধরে বিস্তৃত। গুহামন্দিরের সংখ্যা ৩৪হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের সমন্বয় ঘটেছে এই গুহামন্দিরগুলিতে। ১ থেকে ১২ নম্বর বৌদ্ধ গুহা, ১৩ থেকে ২৯ হিন্দু গুহা এবং ৩০ থেকে ৩৪ জৈন গুহা। স্থাপত্য, ভাস্কর্য আর গঠন সৌষ্ঠবে অভিনব ১৬ নম্বর তথা কৈলাস গুহা

এই কৈলাস গুহা থেকেই ইলোরা দর্শন শুরু। কৈলাস গুহা থেকে বেরিয়ে এসে ডান হাতে ১৭ থেকে ৩৪ নম্বর গুহা দেখে ফিরে আসুন কৈলাস গুহায়, এ বার চলুন বাঁ দিকে ১৫ থেকে ১ নম্বর গুহা দেখতে। ২৫ ও ২৬ নম্বর গুহার মাঝখানে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে নদী নামছে জলপ্রপাতের মতো।  

daulatabad town from daulatabad fort

দৌলতাবাদ ফোর্ট থেকে দৌলতাবাদ শহর।

দশম দিন – সকালে চলুন ইলোরা গুহা থেকে ১ কিমি দূরে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম গৃষনেশ্বর দর্শনে। ফিরে এসে ফিরে চলুন আওরঙ্গাবাদ। পথে দেখে নিন আওরঙ্গজেবের সমাধি খুলদাবাদ (৫ কিমি), তার পর দেবগিরি তথা দৌলতাবাদ ফোর্ট (৯ কিমি)। রাত্রিবাস আওরঙ্গাবাদ।

একাদশ দিন – আওরঙ্গাবাদ স্টেশন থেকে সকাল ৬টার জনশতাব্দী ধরে সাড়ে ১২টায় পৌঁছে যান মুম্বই। এই ট্রেনের টার্মিনাস দাদর স্টেশন।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া বা দেশের অন্য জায়গা থেকে গোন্ডিয়া আসার জন্য ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in

নাগপুর থেকে ভুশওয়াল আসার জন্য দু’টি ট্রেন সুবিধাজনক সময়ে। সকাল সাড়ে ৭টার গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস ভুশওয়াল পৌঁছে দেয় দুপুর ১.১০ মিনিটে এবং সকাল ১০.৫৫ মিনিটের মহারাষ্ট্র এক্সপ্রেস ভুশওয়াল পৌঁছে দেয় বিকেল ৫.৪৫-এ।

মুম্বই থেকে কোথাও ফেরার থাকলে ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in আর বিমানের সময়ের জন্য দেখে নিন ইন্টারনেট।

safari at tadoba

তাডোবায় সাফারি।

কী ভাবে ঘুরবেন

সর্বত্রই বাস সার্ভিস রয়েছে। তবে গাড়ি ভাড়া করে নিলে সুবিধা। গোন্ডিয়া বা নাগপুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে বোধলকসা ও নাগজিরা দেখে নাগপুরে এসে গাড়ি ছেড়ে দিন। পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িও ভাড়া করতে পারেন। নাগপুর থেকে চন্দ্রপুর হয়ে বাসে চলুন তাড়োবা। গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন।

আরও পড়ুন পুজোয় চলুন / খবর অনলাইনের বাছাই : গন্তব্য উত্তর-পূর্ব / ১

ভুশওয়াল থেকে গাড়ি ভাড়া করে ফর্দাপুর বা অজন্তা টি জংশনে চলুন। ফর্দাপুর বা অজন্তা টি জংশন থেকে ব্যাটারি চালিত বাসে অজন্তা গুহায় যেতে হয়। আওরঙ্গাবাদ আসুন গাড়ি ভাড়া করে।

আওরঙ্গাবাদ ঘুরে নিন গাড়ি বা অটো ভাড়া করে। এমনকি অটো ভাড়া করে চলে যেতে পারেন ইলোরাও। সেই অটোকে যদি বলে রাখেন তা হলে সে পরের দিন আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

fdcm bungalow, nagzira

নাগজিরায় বনবাংলো।

কোথায় থাকবেন

নাগজিরায় থাকার জন্য আছে ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন অফ মহারাষ্ট্রের (এফডিসিএম) লগ হাট, মধুকুঞ্জ, লতাকুঞ্জ, হলিডে হোম, ডর্মিটরি। নাগজিরার গেট চোরখামারা থেকে ২৯ কিমি দূরে পিতেজারিতেও রয়েছে এফডিসিএম-এর ইকো টুরিজম কমপ্লেক্স। অনলাইন বুকিং www.fdcm.nic.in

নাগজিরার গেট চোরখামারায় রয়েছে নাগজিরা টাইগার রিসর্ট। যোগাযোগ: সুধাকর দহিকর (০৯৬৭৩৩৮৭৫৬১)। এদের ওয়েবসাইট nagziratigerresort.org

নাগজিরার কাছে বোধলকসায় রয়েছে মহারাষ্ট্র টুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এমটিডিসি) রিসর্ট। এমটিডিসি রিসর্ট আছে তাড়োবার গেট মোহারলিতে, নাগপুরে, অজন্তা গুহা থেকে ৪ কিমি দূরে অজন্তা টি জংশনে ও ৫ কিমি দূরে ফর্দাপুরে, আওরঙ্গাবাদে। অনলাইন বুকিং  www.maharsahtratourism.gov.in  

mtdc tourist rest house, fardapur

ফর্দাপুরে এমটিডিসি টুরিস্ট রেস্ট হাউস।

তাড়োবায় এফডিসিএম-এর রিসর্ট আছে মোহারলি ও কোলারা গেটে। অনলাইন বুকিং www.fdcm.nic.in

ইলোরায় থাকার জন্য রয়েছে হোটেল কৈলাস (২৪৩৭ ২৪৪৫৪৩, ২৪৩৭ ২৪৪৪৪৬)। কলকাতা এজেন্ট হিমালচূড়া (২৩৭০৮০০৪)। বিস্তারিত জানার জন্য দেখে নিন ওয়েবসাইট https://www.hotelkailas.com/ ।

এ ছাড়া নাগজিরা, তাড়োবায় বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল, রিসর্ট রয়েছে। নাগপুর, আওরঙ্গাবাদ ও মুম্বইয়ে তো বেসরকারি হোটেলের ছড়াছড়ি। এদের সন্ধান পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq  ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

মনে রাখবেন

১) মঙ্গলবার তাড়োবা বন্ধ থাকে। তাড়োবা ভ্রমণের যাবতীয় তথ্যের জন্য দেখুন  https://www.mahatadobatiger.com/ ওয়েবসাইটে এবং নাগজিরা ভ্রমণের যাবতীয় তথ্যের জন্য দেখে নিন ওয়েবসাইট   https://www.mahanntr.com/hours-directions.aspx

২) নাগজিরা ও তাড়োবায় যেখানে রাত্রিবাস করবেন সেখান থেকে জঙ্গল সাফারির যাবতীয় খোঁজখবর পাবেন।

আরও পড়ুন পুজোয় চলুন / খবর অনলাইনের ভ্রমণ-ছক : উত্তর-পূর্ব / ২

৩) সোমবার ও জাতীয় ছুটির দিকে অজন্তা বন্ধ থাকে। অজন্তা খোলার সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। অজন্তা গুহা দেখার জন্য ডুলি ও চেয়ার মেলে। ১, ২, ১০, ১৬ ও ১৭ নম্বর গুহা  বৈদ্যুতিক আলো ভাড়া করে দেখে নেওয়া উচিত হবে।

৪) মঙ্গলবার ও জাতীয় ছুটির দিন ইলোরা বন্ধ থাকে। ইলোরা খোলা সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। ইলোরা দেখার জন্য ব্যাটারি চালিত টোটো মেলে।

on way to baradari in daulatabad fort

দৌলতাবাদ ফোর্টে বরাদরির পথে।

৫) দৌলতাবাদ ফোর্ট সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা। পুরো ফোর্ট না হলেও অন্তত ভুলভুলাইয়া দেখার জন্য গাইড নিন।

৬) মুম্বইয়ে পৌঁছে নিজের পরিকল্পনামাফিক ঘুরুন। যাঁদের বাড়ি ফেরার, তাঁরা ট্রেন বা বিমানে ঘরপানে ফিরুন।

ভ্রমণ-ছক ২: অজন্তা-ইলোরা দেখে মহাবালেশ্বর ছুঁয়ে কোঙ্কন উপকূলে

প্রথম দিন – ভুশওয়াল থেকে চলুন অজন্তা, ৭১ কিমি। রাত্রিবাস অজন্তা।

দ্বিতীয় দিন থেকে পঞ্চম দিনভ্রমণ-ছক ১-এর সপ্তম থেকে দশম দিনের মতো

aurangzeb's grave in khuldabad

খুলদাবাদে আওরঙ্গজেবের সমাধি।

ষষ্ঠ দিন – সকালেই আওরঙ্গাবাদ থেকে চলুন পুনে। দৈনিক ট্রেন দিনে একটা, আওরঙ্গাবাদ-পুনে প্যাসেঞ্জার, সময় নেয় ১২ ঘণ্টা। এ ছাড়া দু’টি সাপ্তাহিক ও দ্বিসাপ্তাহিক ট্রেন আছে। সুতরাং বাসে চলুন। প্রচুর বাস। ২৩০ কিমি পথ পাড়ি দিতে সময় নেয় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। বাসে আগাম আসন সংরক্ষণ করা যায়। ঘোরাঘুরি করুন পুনেতে। রাত্রিবাস পুনে।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন পুনেতে।

পুনেতে দেখে নিন – 

(১) মারাঠা শৈলীতে নানাসাহেবের তৈরি পার্বতী মন্দির

(২) পার্বতী মন্দিরের পাদদেশে ৩০ একর  জমি জুড়ে পেশোয়া উদ্যান। অদূরে বাঙালির আর এক তীর্থ বরেণ্য সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুঠি

(৩) শুক্রবার পেটে রাজা দিনকর কেলকর মিউজিয়াম

aga khan palace, pune

আগা খাঁ প্রাসাদ, পুনে।

(৪) শহর থেকে ৫ কিমি দূরে তালেগাঁও রোডে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নীরব সাক্ষী আগা খাঁ প্রাসাদ। ১৯৪২-এর আন্দোলনে এখানেই বন্দিবাস করেন মহাত্মা গান্ধী, কস্তুরবা গান্ধী, মহাত্মার সেক্রেটারি মহাদেবভাই দেশাই, সরোজিনী নাইডু প্রমুখ। এখানেই বন্দিবাসে প্রয়াত হন কস্তুরবা, মহাদেবভাই। পাশেই গান্ধী জাতীয় মিউজিয়াম

(৫) শনিবার পেটে পেশোয়া বাজিরাও ১-এর দারুনির্মিত ৭ তলা দুর্গাকার প্রাসাদ বা শনিবার ওয়াড়া। এর অন্দরেই ঘটেছিল বাজিরাও ও রূপসী নর্তকী মস্তানির প্রেম।

(৬) কাছেই রাস্তার ও-পারে শিবাজির লাল মহল, ছবিতে শিবাজির জীবনচরিত বিধৃত।

(৭) পাতালেশ্বর মন্দির – শহরের পশ্চিমে শিবাজিনগরে রাষ্ট্রকূটদের কালে ৮ শতকের গুহামন্দির। ধাপে ধাপে সিঁড়ি উঠতে হয়।

(৮) সরসবাগ গণপতি মন্দির

(৯) শ্রী মহালক্ষ্মী মন্দির

(১০) দাগদুশেঠ হালোয়াই গণপতি মন্দির

singhagad

সিংহগড়।

অষ্টম দিন – ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমে চলুন সিংহগড়, শহর থেকে ২৪ কিমি দূরে ভুলেশ্বর পর্বতমালায় ৪৩২০ ফুট উচ্চতায় শিবাজির দুর্গ। পথেই খড়াকভাসলা লেক, পাথাল লেক ইত্যাদি। সিংহগড় দেখে ফিরুন পুনে। এ বার চলুন শৈবতীর্থ ভীমাশংকর, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। সহ্যাদ্রি পাহাড়ে ৩৩৯২ ফুট উচ্চতায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ভীমাশংকর। পুনে থেকে ৯৫ কিমি। আজকের প্রাতরাশ ও মধ্যাহ্নভোজ পথেই সারুন। রাত্রিবাস পুনে।

আরও পড়ুন পুজোয় চলুন / খবর অনলাইনের ভ্রমণ-ছক : গন্তব্য সিকিম

নবম দিন – সকালেই চলুন মহাবালেশ্বর (৪৫০০ ফুট, ১২০ কিমি)। মহাবালেশ্বরে দেখে নিন কৃষ্ণাবাঈ তথা পঞ্চগঙ্গা মন্দির (কৃষ্ণা, ভেন্না, কোয়না, সাবিত্রী আর গায়ত্রী নদীর জল ৫টি ধারায় আসছে), অতিবালেশ্বর ও মহাবালেশ্বর মন্দির। এ ছাড়াও অন্তত ৩০টি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে মহাবালেশ্বরে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য আর্থার সিট, হান্টিং পয়েন্ট, ইকো পয়েন্ট, ম্যালকম পয়েন্ট, টাইগার স্প্রিং, উইলসন পয়েন্ট (বাজার থেকে ২ কিমি দূরে, মহাবালেশ্বরের উচ্চতম পয়েন্ট), নিডল হোল পয়েন্ট, মাংকিস পয়েন্ট, লোডউইক পয়েন্ট, এলফিনস্টোন পয়েন্ট, বেবিংটন পয়েন্ট, কেটিস পয়েন্ট, ভেন্না লেক, মুম্বাই পয়েন্ট (সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য) ইত্যাদি। রাত্রিবাস মহাবালেশ্বর।

view from needle point

নিডল হোল পয়েন্ট থেকে, মহাবালেশ্বর।

দশম দিন – সকালে চলুন প্রতাপগড়, ১৬৫৬-য় শিবাজির হাতে তৈরি দুর্গ, যদিও বিধ্বস্ত, তবে আকর্ষণ কম নয়। ৪৫০ সিঁড়ি উঠে ১০৩০ মিটার উচ্চতায় দুর্গ। এখানেই বিজাপুরের সুলতান আদিলশাহের দূত আফজল খাঁকে বাঘনখ দিয়ে বধ করেন শিবাজি।

মহাবালেশ্বর ফিরে চলুন পঞ্চগনি (৪২৪২ ফুট, ২০ কিমি)। পথে দেখে নিন লিঙ্গমালা ফলস্‌। পঞ্চগনিতে দেখুন পার্সি পয়েন্ট (নিচুতে কৃষ্ণা ভ্যালি), শহরের শিরে টেবল ল্যান্ড, রাজপুরী পয়েন্ট তথা কার্তিকেয় মন্দির, ১৪ কিমি দূরে ওয়াইতে কৃষ্ণা নদীর ধারে প্রাচীন মন্দিররাজি। রাত্রিবাস মহাবালেশ্বর।

view of ganapatipule beach from mtdc resort

গণপতিপুলে সৈকত।

একাদশ দিন – চলুন গণপতিপুলে, ১৯৩ কিমি। সবুজে ছাওয়া সাগরবেলা। পাহাড়ি অধিত্যকা, ১০০ মিটার উঁচুতে গণপতি মন্দির। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে তৈরি মরাঠি শৈলীর মন্দির। পাহাড়ি পথে মন্দির প্রদক্ষিণ রোমাঞ্চ জাগায়। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাগরতীরে আম, কাঁঠাল, নারকেল আর কলার সবুজ বনানী। রাত্রিবাস গণপতিপুলে।

দ্বাদশ দিন – সকালে চলুন রত্নগিরি, ২৫ কিমি। নানা সৈকতের সমাহার রত্নগিরিতে – পান্দ্রে বিচ, ভাটে বিচ, মান্ডভি বিচ ইত্যাদি।  এ ছাড়াও দেখে নিন থিবো প্যালেস (বার্মারাজ থিবোকে বন্দি করে রাখার জন্য ব্রিটিশদের গড়া প্রাসাদ), ভগবতী মন্দির, রত্নগিরি দুর্গ, লোকমান্য তিলকের বাড়িতে তিলক স্মারক সংগ্রহশালা ইত্যাদি।

গণপতিপুলে ফিরে দুপুরের খাওয়া সেরে চলুন ১৭ শতকের জয়গড় ফোর্ট ও লাইটহাউস। পথে গণপতিপুলের গা লাগোয়া সৈকত মালগুন্দে মরাঠি কবি কেশবসুতের বাসভবনে কেশবসুত স্মারক। রাত্রিবাস গণপতিপুলে।

sea at harihareswar

হরিহরেশ্বর।

ত্রয়োদশ দিন – চলুন হরিহরেশ্বর, ২০৬ কিমি। পশ্চিমঘাট পাহাড়ের কোলে রমণীয় সাগরবেলা, সাগরতীরে টিলার কালভৈরব মন্দির। মন্দিরের পিছন দিক থেকে নেমে গিয়েছে গণেশ গলি, দু’টি পাথরের মাঝখান দিয়ে তিন ফুট চওড়া পথ, ১৫০ ফুট দীর্ঘ পথ নেমে গিয়েছে সমুদ্রতীরে। সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনায় শুক্লতীর্থ। পাশেই গায়ত্রীতীর্থ। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত রমণীয় হরিহরেশ্বরে। রাত্রিবাস হরিহরেশ্বর।

চতুর্দশ দিন – সকালে চলুন ফেরি পেরিয়ে ব্যাঙ্কট ফোর্ট, বাগমণ্ডলা সৈকত। ফিরে এসে প্রাতরাশ সেরে চলুন মুরুড সৈকত, ৫৬ কিমি। পথে দেখে নিন শ্রীবর্ধন (সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ এক গুচ্ছ মন্দির), দিবেগর (সৈকত ও সোনার গণেশ মন্দির)। মুরুড পৌঁছে ফেরিতে চলুন সাগরের মাঝে জঞ্জিরা ফোর্ট। দেখে নিন নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ প্রাসাদ, দত্তাত্রেয় মন্দির, গরম্বি ফলস্‌। রাত্রিবাস মুরুড।

kashid beach

কাশিদ সৈকত।

পঞ্চদশ দিন – ফিরে চলুন মুম্বই, ১৪৫ কিমি। পথে দেখে নিন নন্দগাঁও সৈকত, কাশিদ সৈকত, কোরলাই ফোর্ট, রেভডান্ডা ফোর্ট, আলিবাগ সৈকত, সেখান থেকে ভাটার সময় দেখে ঘোড়ার গাড়ি চড়ে কোলাবা ফোর্ট

কী ভাবে যাবেন

ভুশওয়াল দেশের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেনপথে যুক্ত। ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in

আওরঙ্গাবাদ থেকে বাসেই চলুন পুনে। বাসে আগাম সংরক্ষণের জন্য দেখুন www.redbus.in

পুনে থেকে বাসে বা গাড়িতে চলুন মহাবালেশ্বর। মহাবালেশ্বর থেকে বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে চলুন গণপতিপুলে।

সরাসরি বাসের অভাবে গণপতিপুলে থেকে হরিহরেশ্বর গাড়ি ভাড়া করে আসতে হবে।

হরিহরেশ্বর থেকে গাড়ি ভাড়া করে আসুন মুরুড এবং মুরুড থেকে গাড়ি ভাড়া করে আসুন মুম্বই। এই পথে বাস আছে বটে, তবে পথে যা দেখে নেওয়া উচিত, তার জন্য গাড়িই ভাড়া করতে হবে।

beach cricket at murud

মুরুডে বিচ ক্রিকেট।

কী ভাবে ঘুরবেন

পুনে দর্শনের জন্য সারা দিনের কন্ডাক্টেড ট্যুরের ব্যবস্থা আছে। বিস্তারিত দেখুন www.geodirect.in ওয়েবসাইটে। কন্ডাক্টেড ট্যুরে মন নাও ভরতে পারে। সে ক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরুন।

পুনে থেকে সিংহগড় ও ভীমাশংকর যাওয়ার জন্য বাস পাওয়া গেলেও তা যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া সিংহগড়ের বাস পাহাড়ের পাদদেশে নামিয়ে দেয়। বাকিটা হেঁটে উঠতে হয়। বাসে গেলে এক দিনে দুটি জায়গা দেখাও মুশকিল। তাই গাড়ি ভাড়া করে দেখে নিন সিংহগড় ও ভীমাশংকর।

গণপতিপুলে থেকে এক দিন গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নিন জয়গড় দুর্গ ও রত্নগিরি।

মুরুড থেকে অটোতে রাজপুরী এসে সেখান থেকে জঞ্জিরার ফেরিতে চাপুন। অটোতেই চলুন মুরুডের দ্রষ্টব্য দেখতে।

mtdc resort at harihareswar

হরিহরেশ্বরে এমটিডিসি রিসর্ট।

কোথায় থাকবেন

মহাবালেশ্বর, গণপতিপুলে ও হরিহরেশ্বরে রয়েছে মহারাষ্ট্র পর্যটনের রিসর্ট। অনলাইন বুকিং  www.maharsahtratourism.gov.in

এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল ও রিসর্ট। খোঁজ পেয়ে যাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq  ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

মনে রাখবেন

(১) এই ভ্রমণসূচি যদি দীর্ঘ মনে হয়, তা হলে সরাসরি ভ্রমণ শুরু করতে পারেন পুনে থেকে। পুনে দেশের সব জায়গার সঙ্গে ট্রেনে ও বিমানে যুক্ত। অথবা অজন্তা থেকেই শুরু করুন। সে ক্ষেত্রে পুনেতে বুড়ি ছুঁয়ে নিন, মহাবালেশ্বর যাওয়ার জন্য।

(২) পুনেতে রাজা দিনকর কেলকর মিউজিয়াম প্রতি দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত, গান্ধী জাতীয় মিউজিয়াম সকাল ৯টা ঠেলে দুপুর সাড়ে ১২টা ও দুপুর দেড়টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত, শনিবার ওয়াড়া সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খোলা।

shanivar wada

শনিবার ওয়াড়া।

(৩) পুনের গান্ধী জাতীয় মিউজিয়ামে বুধবার ছাড়া এবং শনিবার ওয়াড়ায় প্রতি দিন লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো হয় সন্ধ্যায়।

(৪) জঞ্জিরা ফোর্ট সকাল ৭টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত খোলা। শুজ্রবার বন্ধ।   

ভ্রমণ-ছক ৩: কোঙ্কন উপকূল থেকে গোয়া 

প্রথম দিন – মুম্বই থেকে আলিবাগ হয়ে চলুন মুরুড, ১৪৫ কিমি। পথে দেখে নিন আলিবাগ সৈকত, সেখান থেকে ভাটার সময় দেখে ঘোড়ার গাড়ি চড়ে কোলাবা ফোর্ট, তার পর পথে পড়বে রেভডান্ডা ফোর্ট, কোরলাই ফোর্ট, কাশিদ সৈকত, নন্দগাঁও সৈকত। রাত্রিবাস মুরুড।

on way to kolaba fort

কোলাবা ফোর্ট যাওয়ার পথে।

দ্বিতীয় দিন – আজ মুরুডে থাকুন। দেখে নিন নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ প্রাসাদ, গরম্বি ফলস্‌, টিলার টঙে দত্তাত্রেয় মন্দির, কাসা ফোর্ট। রাজপুরী জেটি থেকে চলুন জঞ্জিরা ফোর্ট

তৃতীয় দিন – আজকের গন্তব্য হরিহরেশ্বর। ভোরেই বেরিয়ে পড়ে আগে চলুন রায়গড় ফোর্ট, উপকূল ছেড়ে অন্দরে, ৯০ কিমি পথ। বাইরি পাহাড়ে শিবাজির বাবা শাহজির গড়া দুর্গের শিরে নতুন দুর্গ গড়েন শিবাজি। আজ সেখানে রয়েছে তার ধ্বংসাবশেষ। শিবাজির মৃত্যুও ঘটে এই রাইগড়ে। তাকমাক ক্লিফ, লিঙ্গমালা রক ফেস, কুইনস্‌ প্যালেস, রাজভবন, জিজামাতা ভবন, তাকমাক টক তথা পানিশমেন্ট পয়েন্ট, গঙ্গাসাগর লেক, জগদীশ্বর মন্দির ছাড়াও পাহাড় থেকে চার দিকের দৃশ্যও সুন্দর দৃশ্যমান। রায়গড় দেখে চলে আসুন হরিহরেশ্বর, ৮৫ কিমি। পথে দেখে নিন শ্রীবর্ধন (সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ এক গুচ্ছ মন্দির)।   রাত্রিবাস হরিহরেশ্বর।

চতুর্থ দিন – আজ থাকুন হরিহরেশ্বরে। পশ্চিমঘাট পাহাড়ের কোলে রমণীয় সাগরবেলা হরিহরেশ্বর, সাগরতীরে টিলার টঙে কালভৈরব মন্দির। মন্দিরের পিছন দিক থেকে নেমে গিয়েছে গণেশ গলি, দু’টি পাথরের মাঝখান দিয়ে তিন ফুট চওড়া পথ, ১৫০ ফুট দীর্ঘ পথ নেমে গিয়েছে সমুদ্রতীরে। সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনায় শুক্লতীর্থ। পাশেই গায়ত্রীতীর্থসূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত রমণীয় হরিহরেশ্বরে।

sunset at ganapatipule

সূর্য ডোবার পালা, গণপতিপুলে।

পঞ্চম দিন – চলুন গণপতিপুলে, ২০৬ কিমি। সবুজে ছাওয়া সাগরবেলা। পাহাড়ি অধিত্যকা, ১০০ মিটার উঁচুতে গণপতি মন্দির। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে তৈরি মরাঠি শৈলীর মন্দির। পাহাড়ি পথে মন্দির প্রদক্ষিণ রোমাঞ্চ জাগায়। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাগরতীরে আম, কাঁঠাল, নারকেল আর কলার সবুজ বনানী। রাত্রিবাস গণপতিপুলে।

ষষ্ঠ দিন – ঘুরে আসুন ১৭ শতকের জয়গড় ফোর্ট ও লাইটহাউস, ২০ কিমি। পথে গণপতিপুলের গা লাগোয়া সৈকত মালগুন্দে মরাঠি কবি কেশবসুতের বাসভবনে কেশবসুত স্মারক। বাকি সময় উপভোগ করুন গণপতিপুলের সাগরবেলা। রাত্রিবাস গণপতিপুলে।

fishing boats are ready for sea venture

সমুদ্রে যেতে তৈরি মাছ ধরার নৌকাগুলো, রত্নগিরি।

সপ্তম দিন – সকালে বেরিয়ে পড়ুন, আজকের গন্তব্য কুঙ্কেশ্বর। প্রথমে চলুন রত্নগিরি, ২৫ কিমি। নানা সৈকতের সমাহার রত্নগিরিতে – পান্দ্রে বিচ, ভাটে বিচ, মান্ডভি বিচ ইত্যাদি।  এ ছাড়াও দেখে নিন থিবো প্যালেস (বার্মারাজ থিবোকে বন্দি করে রাখার জন্য ব্রিটিশদের গড়া প্রাসাদ), ভগবতী মন্দির, রত্নগিরি দুর্গ, লোকমান্য তিলকের বাড়িতে তিলক স্মারক সংগ্রহশালা ইত্যাদি।

রত্নগিরি দেখে চলুন বিজয়দুর্গ, ৯৬ কিমি। পথে দেখে নিন পুরানগড় ফোর্ট (পাহাড়ি পথে অল্প চড়াই ভাঙতে হয়) ও পাওয়াসে স্বামী স্বরূপানন্দের আশ্রম। বাঘোতন নদীর মোহনায় বিজয়দুর্গ সৈকত সংলগ্ন বিজয়দুর্গ ফোর্ট। সিলাহরাদের তৈরি করা এই ফোর্ট বার বার হাত বদল হয়েছে – প্রথমে আদিলশাহ, তার পর মরাঠা, তার পর ব্রিটিশ এবং শেষে ধুলুপদের হাতে। বিজয়দুর্গ ফোর্টের বাইরে ধুলুপ ম্যানসন

বিজয়দুর্গ দেখে চলে আসুন কুঙ্কেশ্বর, ৩৫ কিমি। পথে দেখে নিন রামেশ্বর মন্দির, এখানে রয়েছে কানহোজি আংরের উত্তরপুরুষ তুলাজি আংরের সমাধি। রাত্রিবাস কুঙ্কেশ্বর।

kunkeswar

কুঙ্কেশ্বর।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন কুঙ্কেশ্বর। কোঙ্কন উপকূলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৈকত কুঙ্কেশ্বর। বিচ আর শিব মন্দির, এই নিয়ে কুঙ্কেশ্বর। নিশ্চিন্ত বিশ্রামের ঠিকানা। যেতে পারেন দেবগড়, সাড়ে ৭ কিমি। মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত আম হাপুসের রাজধানী, দেখে নিন সৈকত, ফোর্ট আর মন্দির

নবম দিন – চলুন তারকার্লি, ৪৯ কিমি। তারকার্লির ৫ কিমি আগে মালভান সৈকত। এখান থেকে যেতে পারেন সিন্ধুদুর্গ, বেলাভূমি থেকে আধ কিমি দূরে কুটে দ্বীপে। মালভান জেটি থেকে বোট মেলে সিন্ধুদুর্গ যাওয়ার। শিবাজির গড়া সামুদ্রিক ফোর্ট, মরাঠা শক্তির নৌবাহিনীর মূল কেন্দ্র, ১২ ফুট উঁচু ৩০ ফুট চওড়া প্রাচীরে ঘেরা। ব্রিটিশদের হাতে যেতে নাম হয়েছিল ফোর্ট অগাস্টাস। শিবাজির ছেলে রাজারামের গড়া শিবাজির কালো মর্মর মূর্তিটি দেখার মতো।

মহারাষ্ট্রের একটি সুন্দর বিচ তারকার্লি, সুরু ও নারকেল গাছে ছাওয়া। মিহি বালুকাবেলা, স্ফটিক স্বচ্ছ জল নিয়ে মনোরম বিচ তারকার্লি। আজ বিশ্রাম এখানেই।

দশম দিন – চলুন গোয়া। রাত্রিবাস কোলভা

একাদশ থেকে ত্রয়োদশ দিন – রাত্রিবাস কোলভা

sunset at palolem

প্যালোলেমে সূর্যাস্ত।

চতুর্দশ দিন – ফিরুন ঘরপানে। ট্রেনে, বাসে বা বিমানে। কোলভা থেকে মাড়গাঁও রেলস্টেশন ৮ কিমি, পানাজি ৩২ কিমি, ডাবোলিম এয়ারপোর্ট ২১ কিমি। ট্রেনে কলকাতা ফিরতে হলে মাড়গাঁও থেকে ধরতে পারেন সকাল ৭.৫০-এর অমরাবতী এক্সপ্রেস। সপ্তাহে চার দিন চলে। অন্যথায় মুম্বই হয়ে ফিরুন।

কী ভাবে যাবেন

যে হেতু পথে দেখতে দেখতে যাওয়া, সে হেতু মুম্বই থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো। এ পথে বিভিন্ন রুটে বাস আছে বটে বা কোঙ্কন  রেলপথের ট্রেনও আছে, তবু ভ্রমণ পরিকল্পনা যে ভাবে করা হয়েছে তাতে বাস বা ট্রেনে গেলে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে না।

তারকার্লিতে মুম্বই থেকে ভাড়া করা গাড়ি ছেড়ে দিন। স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন গোয়ার কোলভা বিচে, দূরত্ব ১৪১ কিমি। অথবা ৫৫ কিমি দুরের সাওয়ান্তবাড়ি এসে সকাল সোয়া ৯টার কোঙ্কনকন্যা এক্সপ্রেস ধরুন। বেলা ১২.১০ মিনিটে পৌঁছে যান মাড়গাঁও রেলস্টেশন। এখান থেকে কোলভা বিচ ৮ কিমি, চলে আসুন ট্যাক্সি বা অটোতে।

কী ভাবে ঘুরবেন

মুম্বই থেকে গাড়ি ভাড়া করে নিলে সেই গাড়িতেই ঘুরবেন। আর এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় বাস বা ট্রেনে গেলে সে ভাবে ভ্রমণ প্ল্যান করে নেবেন এবং যেখানে রাত্রিবাস করবেন সেখানকার স্থানীয় যানে ঘুরবেন।

shantadurga temple, goa

শান্তাদুর্গা মন্দির।

গোয়া পৌঁছে প্রথম দিন কোলভা বিচের সৌন্দর্য উপভোগ করুন। এর পর দু’দিন গোয়া পর্যটন উন্নয়ন নিগমের উত্তর গোয়া এবং দক্ষিণ গোয়া সফরে চলুন।  বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিও উত্তর গোয়া ও দক্ষিণ গোয়া সফর করায়। শেষ দিনে ইচ্ছামতো ঘুরুন –  কোলভার কাছেই মাড়গাঁও শহর (৮ কিমি), কিছু দূরে পানজিম শহর (উত্তরে ৩২ কিমি) বা প্যালোলেম সৈকত (দক্ষিণে ৪২ কিমি, অনিন্দ্যসুন্দর সূর্যাস্ত)। এ ছাড়াও অজস্র সৈকত আছে। স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে চলে যেতে পারেন।

গোয়া পর্যটন উন্নয়ন নিগমের উত্তর গোয়া এবং দক্ষিণ গোয়া সফরে আগাম আসন সংরক্ষণ হয়। অনলাইন বুকিং www.goa-tourism.com ।

কোথায় থাকবেন

হরিহরেশ্বর, গণপতিপুলে, কুঙ্কেশ্বর ও তারকার্লিতে রয়েছে মহারাষ্ট্র পর্যটনের রিসর্ট। অনলাইন বুকিং  www.maharsahtratourism.gov.in

কোলভায় রয়েছে গোয়া পর্যটনের কোলভা রেসিডেন্সি। অনলাইন বুকিং www.goa-tourism.com

এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল ও রিসর্ট। খোঁজ পেয়ে যাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq  ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

mtdc resort, kunkeswar

এমটিডিসি রিসর্ট, কুঙ্কেশ্বর।

মনে রাখবেন

(১) এই ভ্রমণসূচি যদি দীর্ঘ মনে হয়, তা হলে রায়গড় বাদ দিতে পারেন। আরও ছোটো করতে হলে গণপতিপুলে এক দিন কমিয়ে দিন, তারকার্লি ছেঁটে দিন। সে ক্ষেত্রে গোয়া আসার জন্য কুঙ্কেশ্বর থেকে ৪৭ কিমি দুরের কাঙ্কভলি স্টেশন থেকে ধরুন সকাল ৮.০৬ মিনিটের কোঙ্কন কন্যা এক্সপ্রেস, বেলা ১২.১০ মিনিটে পৌঁছে যান মাড়গাঁও রেলস্টেশন। এর আগে অবশ্য আরও একটি ট্রেন আছে কাঙ্কভলি থেকে , সকাল ৬.৪২ মিনিটের ম্যাঙ্গালোর এক্সপ্রেস, মাড়গাঁও পৌঁছে দেয় ৮.৫০ মিনিটে।

(২) দেড় থেকে দু’ ঘণ্টা সময় লাগে রায়গড় ফোর্টে চড়তে। হাঁটতে না চাইলে রয়েছে রোপওয়ে। গাড়ি রোপওয়ে স্টেশন পর্যন্ত যায়।

(৩) দেবগড় থেকে কুঙ্কেশ্বর ফিরুন সন্ধের পর। দেবগড়ের খুব কাছে তারামুমবারি বিচ। এখান থেকে ৫ কিমি বিচ ট্রেক করে যদি কুঙ্কেশ্বর আসতে পারেন তা হলে এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী থাকবেন – সামুদ্রিক দীপ্তি (ফসফোরেসেন্স)। মনে হবে সমুদ্রে আগুন লেগেছে।

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

দূরে কোথাও

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: শেষ পর্ব/ দুর্যোগ কাটিয়ে ঘরে ফেরা

Published

on

manas sarovar

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

ভোরের আলো ফোটার আগেই রওনা দিলাম নাজাং-এর উদ্দেশে। সবার মুখ থমথমে। লিয়াজঁ অফিসারদের খুব চিন্তাগ্রস্ত লাগছে। কাল রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টি চলছে, সঙ্গে কনকনে হাওয়া। চারিদিক থেকে ধসের খবর আসছে। দুর্যোগ পিছু ছাড়ছে না। বৃষ্টির মধ্যেই কালী নদীকে বাঁ হাতে রেখে পাহাড়ের ঢাল বরাবর সরু রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলেছি। কোথাও কোথাও রাস্তা খুবই সংকীর্ণ। পাহাড়ের ঢালে পিঠ ঘষে কোনো রকমে যাওয়া যায়। ঝুরঝুরে আলগা মাটি। একটু অসাবধান হলেই চরম বিপদ। ছোটো ছোটো পাহাড়ি ঝোরাগুলো বিশাল আকার ধারণ করেছে।

Loading videos...

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ১১/ ফেরার পথে গুনজি হয়ে বুধিতে

টানা দু’ দিনের বৃষ্টিতে পাহাড়ের চিত্র পুরো বদলে গিয়েছে। মাঝেমাঝেই পাহাড়ের ওপর থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ছে। দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছেন। কখনও নদীর পাড়, তো কখনও পাহাড়ের চুড়ো – এ ভাবেই চড়াই-উতরাই ভেঙে আমরা এগিয়ে চলেছি। বৃষ্টির জল পেয়ে কালী নদী ফুঁসছে। মনে হচ্ছে চার দিক ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর হাতছানি। ঝরনার জলে আমরা সবাই ভিজে গিয়েছি। আমাদের যাওয়ার রাস্তা অবিরাম পরিষ্কার করে চলেছে বুলডোজার, কিন্তু ধসের বিরাম নেই। এ যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অসম লড়াই। কোনো কোনো রাস্তার কোনো চিহ্নই নেই। বৃষ্টির জন্য পা প্রতি মুহূর্তে পিছলে যাচ্ছে। পা টিপে টিপে এগিয়ে চলেছি। মুখে ঈশ্বরের নাম।

১৯৯৮ সালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যে সব কৈলাসযাত্রী মারা যান, তাঁদের স্মৃতিতে মালপায় স্মারক।

এ ভাবেই ১০টা নাগাদ মালপায় এলাম। প্রাতরাশের জন্য পথ চলার সাময়িক বিরতি এখানে। ১৯৯৮ সালের ১৭ আগস্ট শেষ রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই মালপা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। ২২১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে ৬০ জন ছিলেন কৈলাসযাত্রী। তাঁরা ছিলেন ১৩ নম্বর ব্যাচের যাত্রী। কী অদ্ভুত সমাপতন! আজও ১৭ আগস্ট এবং আমরাও ১৩ নম্বর ব্যাচ। জানি না, পরমেশ্বর আমাদের কপালে কী রেখেছেন? পুরো যাত্রা এত সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এ কোন পরীক্ষার মধ্যে ফেললেন আমাদের তিনি?

প্রবল বৃষ্টিতে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এক হাতে লাঠি আর অন্য হাতে ছাতা, পাশে গণেশ। কোনো কোনো ঘাসের ঝাড় ধরে ঝুলে নামা। নীচে কোথায় পা দেব, বুঝে উঠতে পাচ্ছি না, এত খাড়া পাহাড়ের গা। নীচে থেকে গণেশ হাতে ধরে পা বসিয়ে দিচ্ছে। ঘাসের গোড়া বা গাছের শিকড় মুঠিতে চেপে ধরে, বুক-পেট পাহাড়ের গায়ে লাগিয়ে একটু বিশ্রাম নিই। বর্ষার পর এ পথে আমরাই প্রথম। এ ভাবেই সেই ৪৪৪৪ সিঁড়িওয়ালা পাহাড় অতিক্রম করলাম। সামনে আরও একটা বড়ো পাহাড়। সেই পাহাড় পেরিয়ে নীচে নামলেই নাজাং, যেখানে আমাদের জন্য গাড়ি অপেক্ষা করছে।

লেখকের পথের সাথি গণেশ।

পাহাড়ে উঠতে গিয়ে প্রায়ই পা পিছলে যাচ্ছে। যেখানেই থমকে যাচ্ছি, গণেশ এসে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এরা না থাকলে এতক্ষণে আমাদের চলে যেতে হত কালী নদীতে। কালী নদীর দিকে তাকানো যাচ্ছে না, এখন তার রূপ এতটাই ভয়াল। শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের মাথায় এসে পৌঁছোলাম।

এ বার নীচে নামার পালা। এ দিকের রাস্তা আরও খারাপ। কোনো কোনো জায়গায় সরীসৃপের মতো বুকে ভর দিয়ে নামতে হচ্ছে, আবার কোনো কোনো জায়গায় হামাগুড়ি। সারা গা কাদায় মাখামাখি। ছোটোবেলার কথা মনে পড়ছে। বৃষ্টির দিনে এ ভাবেই কাদা মেখে ফুটবল খেলতাম। আর আজ? প্রতি মুহূর্তে বাঁচার লড়াই। অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফেরার লড়াই। কোনো কোনো জায়গায় রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে গণেশও হাত ধরতে পারছে না। হাত ধরতে গেলেই দু’ জনেরই খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। শরীরে আর বিন্দুমাত্র শক্তি নেই, পা আর চলছে না। ঈশ্বরের নাম জপতে জপতে একটা সময় দেখলাম নাজাং-এ এসে গিয়েছি। নীচে নেমে শুয়ে পড়ে পাহাড়কে প্রণাম করলাম।

মনে একরাশ আনন্দ। হ্যাঁ, পেরেছি – হেঁটে কৈলাস-মানস দর্শন করতে। আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন সফল হয়েছে। চোখে আমার জল। তখনও কি জানতাম, সামনে আরও বড়ো বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

নাজাং থেকে গাড়িতে ধারচুলা যাওয়ার কথা। কিন্তু ছ’ কিমি দূরে রাস্তা পুরো ধসে গিয়েছে। সব গাড়ি ওখানে আটকে। এখানে অপেক্ষা না করে লিয়াজঁ অফিসারদের নির্দেশে সামনে এগিয়ে চললাম। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। প্রবল বৃষ্টিতে জায়গায় জায়গায় পাথর পড়ে রাস্তা বন্ধ। এই সব পাথর টপকে টপকে সন্তর্পণে এগোতে লাগলাম। এক সময় সেই ছ’ কিমি পথ শেষ হল। আর রাস্তা নেই। দু’টি বুলডোজার ব্যস্ত রাস্তা পরিষ্কারের কাজে। কিন্তু যে জায়গাটা পরিষ্কার করা হচ্ছে, মুহূর্তের মধ্যে ধস নেমে সেই জায়গা আবার অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মীরা এক সময়ে হাল ছেড়ে দিলেন।

লেখকের দুই যাত্রাসঙ্গী জহরভাই ও সুরজভাই।

আর উপায় নেই। এ বার এক এক করে এই জায়গাটা পার হতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মীরা বাঁশি বাজালে এক জন করে যাত্রী ধসের জায়গাটা পার হবেন। বাঁশি বাজতেই প্রথম যাত্রী দৌড় দিলেন। কিন্তু যেই মাঝপথে পৌঁছেছেন ওপর থেকে পাথর পড়া শুরু হয়ে গেল। আমরা সবাই চিৎকার করে উঠলাম। যাত্রীভাই মাঝপথ থেকে ফিরে এলেন। আবার বাঁশি বাজল, কিন্তু প্রাণ হাতে নিয়ে কেউ এগিয়ে গেল না। সবাই ভয়ে পিছিয়ে আসছেন।

আমি দেখলাম এই ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে কোনো লাভ নেই। কতক্ষণ এ ভাবে খোলা আকাশের নীচে থাকতে হবে তার কোনো হিসেব নেই। সামনে এগোতেই হবে, ঈশ্বরের নাম নিয়ে আমিই দৌড় লাগালাম। সামনেই একটা ঝরনা। ঝরনার জল প্রবল বেগে নেমে এসে খাদ দিয়ে গড়িয়ে নীচের কালী নদীতে গিয়ে মিশছে। কোনো ভাবে পা হড়কে গেলে সোজা নদীতে। মৃত্যুকে এত কাছ থেকে আমি কখনও দেখিনি। চিরকালই আমি ডানপিটে, মৃত্যুভয় আমার নেই। যে দিন এই পৃথিবীতে এসেছিলাম, সে দিন নিজের ইচ্ছায় আসিনি। আর যে দিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে, সে দিনও নিজের ইচ্ছায় হবে না। তা হলে কেন এই মৃত্যুভয়?

ঝরনা অতিক্রম করে দেখি, সামনে এক বিশাল পাথর। টিকটিকির মতো বুকে ভর দিয়ে সেই পাথরও পেরিয়ে এলাম। এ বারে একটা পাথর থেকে আরেকটা পাথর লাফিয়ে এগিয়ে চললাম। পাথরগুলো পেরিয়ে এসে অন্য বিপদ। হাঁটু পর্যন্ত কাদায় পা দু’টো আটকে গেল। কোনো দৈবশক্তি জেন আমার উপর ভর করল। কে যেন আমাকে এক হাত ধরে তুলে নিল। তবে কি আমার প্রভু আমাকে এ যাত্রায় রক্ষা করলেন? সারা গায়ে কাদা মেখে এ পারে আসতেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি দিয়ে এ প্রান্তের মানুষজন আমায় জড়িয়ে ধরল। পরে জহরভাইয়ের কাছে শুনেছিলাম, আমার দৌড় শুরু করার কয়েক সেকেন্ড পর থেকেই পাহাড় থেকে পাথর পড়া শুরু হয়্। দু’-একটা মুহূর্ত এ-দিক ও-দিক হলেই…।

সেই বিপজ্জনক জায়গা।

এ পারে এসে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, কখন দলের বাকি সদস্যরা আসবে? পাথর পড়া যখন দু’-তিন মিনিটের জন্য বন্ধ হচ্ছে, এক জন করে যাত্রী এ পারে আসছেন। তীব্র উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটতে লাগল। এ পারে আসতে গিয়ে গণেশ কাদার মধ্যে পড়ে গেল দেখলাম। হাঁটু থেকে রক্ত বার হচ্ছে। এক মহিলা যাত্রী কাদার মধ্যে প্রায় ঢুকে যাচ্ছিলেন। দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মীরা ছুটে গিয়ে তাঁকে রক্ষা করলেন। অনেকক্ষণ পর জহরভাই আর সুরজভাইও পেরিয়ে এলেন। শেষ পর্যন্ত সবাই অক্ষত অবস্থায় এ পারে এলেন।

এ বার গাড়িতে করে রওনা ধারচুলা। আমাদের লাগেজ পড়ে রইল গুনজিতে। এক কাপড়ে ধারচুলা থেকে দিল্লি, তার পর কলকাতা। কলকাতায় আসার দশ দিন পর এল আমার লাগেজ। এসে পৌঁছোল কৈলাস-মানসের পবিত্র জলও। এটাই সব চেয়ে দামি আমার কাছে। (শেষ)

ছবি: লেখক    

Continue Reading

দূরে কোথাও

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ১১/ ফেরার পথে গুনজি হয়ে বুধিতে

Published

on

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

কাল প্রায় সারা রাত জেগে কেটেছে। চোখ জ্বালা করছে। কিন্তু যে দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছি, তাতে মনে অপার শান্তি। অতিথিশালায় ফিরে এসে বাকি সময়টা বসে বসেই কাটিয়ে দিয়েছি। আজ মানসকে বিদায় জানানোর পালা।

Loading videos...

আরেক বার গেলাম মানসের পাড়ে। দূরে উজ্জ্বল কৈলাস পর্বত। ভোররাতের ঘটনার কথা ভেবে এখনও লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে। বৌদ্ধমন্দির থেকে ভেসে আসছে ‘ওম মণি পদ্মে হুম’-এর সুর। ভেসে আসছে ড্রামের আওয়াজ। মন কিছুতেই চাইছে না এই জায়গা ছেড়ে যেতে। বাসের হর্ন শোনা যাচ্ছে। শেষ বারের মতো মানসের জল মুখে নিয়ে, পরমেশ্বরের উদ্দেশে প্রণাম জানিয়ে ছুটলাম বাসের দিকে। বাসের যাত্রীরা সবাই শিবের ভজন গাইছে। বাস এগিয়ে চলল আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে। ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল আমার স্বপ্নের মানস-কৈলাস। আমার দু’ চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। কে যেন কানে কানে বলছে – আবার আসিস।

আরেক বার মানস দর্শন।

কখন যে তাকলাকোট পৌঁছে গিয়েছি, খেয়াল করিনি। হোটেলে ফিরেও হোয়াটস অ্যাপে বাড়ির সঙ্গে কথা বললাম। কত দিন পর প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা হল। দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে শহরটা ঘুরে এলাম।

খুব সকালে ঘুম ভেঙে গেল। আজ ১৫ আগস্ট। এই পুণ্য দিনে ফিরে চলেছি ভারতে। তাড়াতাড়িই প্রস্তুত হয়ে গেলাম। ৯টা নাগাদ আমাদের নিয়ে যাওয়া হল চিনা অভিবাসন দফতরে। তার পর কাস্টমস অফিসে। আমাদের মালপত্র পরীক্ষার পর তিব্বত তথা চিন ত্যাগের অনুমতি পেলাম। আধ ঘণ্টার মধ্যে বাসে করে চলে এলাম লিপুলেখ পাস সংলগ্ন ভারত-চিন সীমান্তে। চিনা অফিসারেরা আমাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করলেন। মিলল পাহাড়ে চড়ার অনুমতি। দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি ১৫ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

গণেশ যথারীতি চলে এসেছে। ওর কাছে আমার রুকস্যাক দিয়ে পাহাড়ে চড়তে শুরু করলাম। ১৫ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা আমাদের দেখে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি দিতে লাগলেন। আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। আজ স্বাধীনতা দিবস। তাই মহাদেবের পাশাপাশি ভারতমাতার নামেও জয়ধ্বনি হল।

মানস থেকে ফেরার পথে মন্যাস্টেরি।

লিপুলেখ পাসের নীচেই আইটিবিপি-র ক্যাম্প। গরম কফি আর পকোড়া সহযোগে তারা আমাদের আপ্যায়ন করল। আইটিবিপি-র জওয়ানদের সঙ্গে ছবি তোলা হল।

আজ আমাদের গন্তব্য গুনজি, ২৬ কিমি। আসার সময় যে পথ তিন দিনে এসেছিলাম, সেই পথ এক দিনে পেরোব। একটু যে টেনশন হচ্ছে না, তা নয়। তবু হাঁটতে তো হবেই।

খুব জোরে হাঁটতে পারছি না। পথের সৌন্দর্যও সে ভাবে আকর্ষণ করছে না। কেবল কৈলাস-মানসের কথা মনে পড়ছে। মানস সরোবরে ভোররাতের অলৌকিক ক্রিয়াকলাপ যেন চোখের সামনে ভাসছে। প্রায় ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর একটা বিশাল ঝরনার কাছে চলে এলাম। গোটা পথকে প্লাবিত করে ঝরনা প্রবল বেগে নীচে নেমে যাচ্ছে। লাঠির সাহায্যে অতি সন্তর্পণে পথটুকু অতিক্রম করলাম। চলে এলাম নাভিডাং। এখানে সেনাশিবিরে স্বল্পক্ষণের যাত্রাবিরতি। দেখলাম জওয়ানরা জাতীয় পতাকা উত্তোলনে ব্যাস্ত। ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত। এখানে প্রাতরাশ সেরে আবার হাঁটা শুরু করলাম কালাপানির উদ্দেশে।

কিছুটা হাঁটার পর বুঝতে পারছি, বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রামের প্রয়োজন। কিছুক্ষণ পাথরের উপর বসে রইলাম। শ্বাসপ্রশ্বাস অনেকটা মসৃণ হল, বেশ আরাম লাগছে। আবার হাঁটা শুরু করলাম। কিন্তু চলার ক্ষমতা যে বেশ কমছে, বুঝতে পারছি। বাঁ পায়ের হাঁটুতে একটা ব্যথা টের পাচ্ছি। জহরভাইয়েরও একই সমস্যা হয়েছিল। আমার দেওয়া ওষুধ খেয়ে কিছুটা সামলেছে। সমতলে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে না। কিন্তু চড়াই-উতরাই এলেই সমস্যা।

পথের দু’ পাশে সুউচ্চ পর্বতমালা। তার মধ্যের উপত্যকা দিয়ে একটি নদী বয়ে চলেছে। সেই নদীকে ডান হাতে রেখে আমরা এগিয়ে চলেছি। মখমলের মতো সবুজ ঘাস আর গুল্ম দিয়ে মোড়া পুরো উপত্যকা। অসংখ্য রঙিন ফুল ফুটে রয়েছে। এ যেন এক স্বপ্নলোক। এ ভাবে ২-৩ ঘণ্টা হাঁটার পর আমরা ১২টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম কালাপানির অতিথিশালায়। দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা এখানেই। আমি দুপুরের খাবার না খেয়ে এগিয়ে চললাম। কালাপানিতে পাসপোর্টে সিল মারিয়ে আবার এগিয়ে চলা। পথেই আলাপ হল আইটিবিপি-র এক জওয়ানভাইয়ের সঙ্গে। উনি আমাদের হাতে চকোলেট তুলে দিলেন। বাড়িতে ওঁর ছোটো একটা ছেলে আছে। তার বিদেশি মুদ্রা জমানোর খুব শখ। আমি ওঁর হাতে ১০০ চিনা ইউয়ানের একটি নোট তুলে দিলাম। সারা পথ ওঁদের সুখ-দুঃখের গল্প শুনতে শুনতে বিকেল নাগাদ পৌঁছে গেলাম গুনজি ক্যাম্পে। এসেই দেখি মনীশভাই আমাদের জন্য জায়গা রেখে দিয়েছেন। গুনজি ক্যাম্পে আজ খুব ভিড়। ক্যাম্পের পাশেই পাহাড়ে মেলা বসেছে। দূরদূরান্ত থেকে গ্রামবাসী আসছেন। গুনজি আইটিবিপি ক্যাম্প রাতে আমাদের জন্য ডিনার পার্টির আয়োজন করেছে। অনেক দিন পর দেশের খাবার খেলাম। জওয়ানভাইদের আন্তরিকতা মন ছুঁয়ে যায়।

গুনজি ক্যাম্প।

পরদিন ঘুম থেকে উঠতেই চার দিক থেকে ধসের খবর আসতে লাগল। পাহাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল রাতেও বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের রূপ বদলে যায়। ছোটো ছোটো পাহাড়ি ঝোরা বিশাল আকার ধারণ করে। এখানেও তাই। আজ গণেশ ছাড়াই পথ চলা শুরু হয়েছে। মেলার জন্য গণেশ একদিন গুনজিতে থেকে গেল। কাল সকালে বুধিতে আমার সঙ্গে দেখা করবে।

গুনজি থেকে ছায়লেক পর্যন্ত রাস্তা সমতল। তার পর পাহাড়ি সিঁড়ি ভেঙে নীচে নামতে হবে। সেই পথটা খুব বিপজ্জনক। দু’-তিন ঘণ্টা একটানা হেঁটে চলেছি। ফুসফুস ক্রমশ হাপর হয়ে উঠছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে। লজেন্স মুখে দিলাম। লজেন্সের মোড়ক বুকপকেটে রেখে দিলাম প্রকৃতির বুকে দূষণ এড়ানোর জন্য। কৈলাস পরিক্রমার সময় দেখেছিলাম জায়গায় জায়গায় ডাস্টবিন রাখা। আমাদের উত্তরাখণ্ডে সে সবের বালাই নেই।

আরও কিছুটা এগোনোর পর জলপতনের গর্জন শোনা গেল। যতই এগোচ্ছি, গর্জন ক্রমশ বাড়ছে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর সেই জায়গায় পৌঁছে গেলাম। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে হুড়হুড় করে পড়ছে ঝরনার জল। যেন বিরাট তুলোর বস্তা। প্রচণ্ড গতিতে নেমে আসা সেই জল রাস্তা ভাসিয়ে কালী নদীতে পড়ছে। ঝরনার জল সারা গা ভিজিয়ে দিল। তবে নিজেকে নিয়ে চিন্তা নয়, চিন্তা ক্যামেরাটা নিয়ে। ক্যামেরার ছবি আমার কাছে মহা মূল্যবান, আমার সারা জীবনের সম্পদ, আমার বেঁচে থাকার অক্সিজেন। ক্যামেরা বাঁচিয়ে কোনো রকমে পেরিয়ে এলাম সেই জায়গা।

১২টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম ছায়লেকে। খাওয়ার জন্য সাময়িক বিরতি। আবার পথ চলা শুরু। এ বার নীচে নামার পালা। হালকা বৃষ্টি হচ্ছে, পথ ভয়ংকর পিছল। আশেপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। পাহাড়ের বুকে আমি একা। ট্রেকিং-এ এ রকম হয়, কেউ যায় এগিয়ে, কেউ থাকে পিছিয়ে – যার যেমন চলার সামর্থ্য বা গতি।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ১০/ সেই জ্যোতিদর্শন

পাহাড় থেকে নামতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাঁ পায়ের হাঁটুর ব্যথা প্রচণ্ড বেড়েছে। কিন্তু থেমে গেলে চলবে না। বাধ্য হয়ে ব্যথা কমানোর ওষুধ খেলাম। অনেক নীচে বুধির ক্যাম্প দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই বৃষ্টির তেজ প্রচণ্ড বাড়ল। এক হাতে ছাতা, অন্য হাতে লাঠি নিয়ে, পা টিপে টিপে পরমেশ্বরের নাম করতে করতে এগিয়ে চললাম ক্যাম্পের দিকে।

ঈশ্বরকে মনেপ্রাণে ডাকছি – আর একটা দিন তুমি শক্তি দাও, এতটা রাস্তা যদি হেঁটে আসতে পারি, তা হলে শেষ বেলায় কেন এত পরীক্ষা নিচ্ছ? তোমার কৃপা না থাকলে এতটা পথ আসতে পারতাম না। হাঁটুতে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ব্যথা কমানোর মলম স্প্রে করলাম। একটু যেন স্বস্তি এল। ধীরে ধীরে নেমে চললাম। পৌঁছে গেলাম বুধি। কেএমভিএন-এর এক কর্মীভাই যথারীতি শরবত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের স্বাগত জানাতে। (চলবে)

ছবি: লেখক                 

Continue Reading

দূরে কোথাও

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ১০/ সেই জ্যোতিদর্শন

Published

on

view of Kailas from Kailas

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

বেলা ১১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম কিউগুতে। মানসের তীরে এই জনপদ। সরোবরের নীল জলরাশি সূর্যের আলোয় হিরের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। শত সহস্র জলকণা সূর্যের আলোয় তারার মতো জ্বলজ্বল করছে। দূরে দেখা যাচ্ছে কৈলাস পর্বত। সরোবর সংলগ্ন এক অতিথিশালায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। আমাদের ঘরের জানলা দিয়ে হাত বাড়ালেই যেন মানসের জলের স্পর্শ পাওয়া যাবে। ঘরে ঢুকেই সবাই বেরিয়ে গেলাম। ছুটলাম মানসের জলে অবগাহন করতে। হিমশীতল জল। বাইরের তাপমাত্রা ৭-৮ ডিগ্রির কাছাকাছি, সঙ্গে প্রবল হাওয়া। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো বাধাই আর বাধা নয়। মানস সরোবর যেন দু’ হাত বাড়িয়ে আমাদের ডাকছে। এই সেই মানস সরোবর। স্বয়ং দেবাদিদেব যেখানে অবগাহন করেন।

Loading videos...
কিউগুতে মানস সরোবর।

মানস সরোবরের জলে নেমে স্নান করার ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বালতি করে জল তুলে এনে স্নান করতে হয়। কিন্তু কে মানে সেই বিধিনিষেধ! মানসের জলে নেমে সবাই আনন্দে আত্মহারা। ‘হর হর মহাদেব’ আওয়াজে মুখরিত চারিদিক। মানসের জল আর চোখের অশ্রু মিলেমিশে তখন সব একাকার। মানসের জল তো শুধু জল নয়, এর মধ্যে আছে ঈশ্বরের ছোঁয়া। এ আমার কাছে চরণামৃত। সরোবরের জলে অবগাহন করতে করতে বললাম –

করচরণকৃতং বাক্কায়জং কর্মজং বা শ্রবণনয়নজং বা মানসং বাহপরাধম। / বিহিতমবিহিতং বা সর্বমেতত ক্ষমস্ব জয় জয় করুণাব্ধে শ্রীমহাদেব শম্ভো।।

(হে প্রভু, আমার এই জন্মে হস্তপদের দ্বারা কৃত অপরাধ, বাক্যজ, শরীরজ, কর্মজ, শ্রবণজ, নয়নজ কিংবা মানস অপরাধ, সঞ্চিত কিংবা ভবিতব্য অপরাধ, সব ক্ষমা কোরো।)

সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে সমর্পণ করলাম। হে প্রভু, তুমি না থাকলে এই পুণ্যধামে আমার আসার সুযোগ হত না। কত বাধা, কত বিঘ্ন উপস্থিত হয়েছে। তুমি সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে আমাকে এই পুণ্যধামে নিয়ে এসেছ। এ তোমার অপার মহিমা। আমাকে তোমার চরণে স্থান দাও।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৯/ পরিক্রমা অন্তে হোর-এ

পিতৃপুরুষদের স্মরণ করার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর কিছু হতে পারে না বলে মনে হয় না। পিতৃঋণ থেকে মুক্ত হব, এ আশাও আমি করি না। যত দিন বাঁচব, পিতৃঋণ আমি সানন্দে বহন করতে চাই। এই বলে মানস সরোবরের জল নিয়ে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ শুরু করলাম। তর্পণ করার কোনো সামগ্রীই আমার কাছে ছিল না, সামান্য একটু তিল ছাড়া। সেই তিল হাতে নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে পিতৃদেবকে স্মরণ করে বললাম –

ওঁ পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহি পরমং তপঃ/পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রীয়ন্তে সর্বদেবতাঃ।

কতক্ষণ জলের মধ্যে ছিলাম জানি না, জহরভাইয়ের ডাকে হুঁশ এল – তাড়াতাড়ি চলুন স্যর, হোমযজ্ঞ যে শুরু হয়ে যাবে। মানসের জলে ডুব দিয়ে কিছু পাথর সংগ্রহ করে অতিথিশালার দিকে পা বাড়ালাম।

সরোবরের পাশেই যজ্ঞের স্থান। মুম্বইনিবাসী মুকেশভাই যজ্ঞ করার দায়িত্ব নিলেন। তাঁকে সাহায্য করলেন জহরভাই। যজ্ঞের সামনে বসে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ যেন এক আলাদা অনুভূতি। সবাই মিলে হোম-যজ্ঞে পরমেশ্বরের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করলাম। মুকেশভাই বেদির উপর মাথা ঠুকতে ঠুকতে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্তব পাঠ করতে লাগলেন।

সব তীর্থযাত্রীর চোখে জল। আসলে এই চোখের জল তো শুধুমাত্র জল নয়, এ আনন্দাশ্রু – ঈশ্বরকে দেখার, ঈশ্বরকে কাছে পাওয়ার যে আনন্দ, তারই প্রকাশ। এই বিরল মুহূর্তটাকে ক্যামেরাবন্দি করলাম অতি দ্রুত।

যজ্ঞ শেষ হওয়ার পর অতিথিশালায় ফিরে জানলার ধারে বসে রইলাম। মানস সরোবরের এই রূপ থেকে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। নীল জলের অপর প্রান্তে কৈলাস পর্বত এখনও ঝকঝক করছে। কখন যে চোখ লেগে গিয়েছে, টের পাইনি। জহরভাইয়ের ডাকে ঘুম ভাঙল। রাতের খাওয়া সেরে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। ভোররাতে উঠতে হবে। শুনেছি, ভোররাতেই শিব-পার্বতী মানসের জলে অবগাহন করতে আসেন। চিত্রকল্পটা মনের মধ্যে আঁকতে আঁকতে কখন যে ঘুম এসে গেল!

মানসের ধারে যজ্ঞের আয়োজন।

১৩ আগস্ট। রাত ৩টের সময় সুরজভাইয়ের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। দেখি, কয়েক জন যাত্রী মানসের পাড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাইরে এখন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে। সঙ্গে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া। বাইরে এসে দেখি আমাদের বন্ধুরা সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছেন। সবার মুখে তখন ‘ওঁ নমঃ শিবায়’। ওই মন্ত্র ছাড়া কারও মুখে কোনো কথা নেই। ধীরে ধীরে পুব আকাশে সূর্যের উদয় হল। চারি দিক আলোকিত হয়ে উঠল। কিন্তু স্বপ্নপূরণ হল না। তাঁরা এলেন না। অতিথিশালায় ফিরে এলাম।

আজ আমাদের অখণ্ড অবসর। আজ শুধু মানসের চার পাশে ঘুরে বেড়ানো আর ছবি তোলা। অতিথিশালার সংলগ্ন গুম্ফায় গেলাম। চার দেওয়ালে বৌদ্ধের বাণী আর তৈলচিত্র। বুদ্ধের মূর্তির সামনে বসে এক উপাসক ড্রাম বাজাচ্ছেন। ড্রামের ডুম ডুম আওয়াজ আর ধূপের গন্ধ চারি দিকে স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বুদ্ধের মূর্তির সামনে আমিও বেশ কিছুক্ষণ বসে রইলাম। লাউডস্পিকারে অতি মৃদু স্বরে ভেসে আসছে – বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি (আমি বুদ্ধের শরণ নিলাম)/ধম্মং শরণং গচ্ছামি (আমি ধর্মের শরণ নিলাম)/ সংঘং শরণং গচ্ছামি (আমি সংঘের শরণ নিলাম)। জানতে পারলাম এই গুম্ফা ৩০০ বছরের পুরোনো। ভিতরের তৈলচিত্রগুলোও সেই সময়কার। অথচ এখনও কত উজ্জ্বল।

মানসের ধারে গুম্ফা।

দুপুর হতেই দল বেঁধে চললাম স্নান করতে। কেউ নিয়ম মানছেন না। আশেপাশে কোনো পাহারাদার নেই দেখে সবাই ডুব দিতে জলে নেমে পড়ল। আমিও নেমে পড়লাম মানসের জলে। কাচের মতো স্বচ্ছ জল। সরোবরের অনেক গভীর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।

দুপুরের খাওয়ার পর মানসের জল আনতে ছুটলাম। বোতলে ভরলাম। কলকাতার অনেকেই মানসের জল আনতে বলেছেন। জানি না, এই জল শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক গন্তব্যে পৌঁছোবে কি না। ঘোড়ার পিঠে করে আমাদের মালপত্র যাবে নাজাং পর্যন্ত। সেখান থেকে ট্রাকে করে দিল্লি, তার পর ট্রেনে কলকাতা। তখনও জানতাম না ফেরার সময় আমাদের জন্য কী দুর্যোগ অপেক্ষা করছে।

রাতের খাওয়া শেষ করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে দিল ঘড়ির অ্যালার্ম। হালকা বৃষ্টি পড়ছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। আকাশ মেঘলা থাকলে দৃশ্যমানতা কমে যায়। তবে কি আজও তাঁর দেখা পাব না? এক অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠল। মানস সরোবরে আজই আমাদের শেষ রাত। কাল সকালেই আমরা রওনা দেব তাকলাকোটের উদ্দেশে। হাতে ছাতা নিয়ে মানসের জেটিতে গিয়ে বসলাম। বেশ কিছু যাত্রী অনেক আগে থেকেই অধীর আগ্রহে বসে আছেন। কারও মুখে কোনো কথা নেই। কৈলাসের দিকে তাকিয়ে মনে মনে প্রভুকে ডেকে চলেছি।

ঠিক ৩.২৫ মিনিট। হঠাৎ দেখি মানসের জল স্থির হয়ে গেল। কৈলাস পর্বতের মাথায় একটা হলুদ আলো দপদপ করে জ্বলে উঠল। অনেকটা হ্যালোজেন আলোর মতো। সেই আলোর জ্যোতিতে মানস আলোকিত। আলোটা কৈলাস পর্বত থেকে নেমে এসে মানসের জলে ঘুরপাক খেতে লাগল। ৩০-৪০ সেকেন্ডের পর আলোটা জল থেকে উঠে কৈলাস পর্বতে মিলিয়ে গেল। উত্তেজনায় আমাদের শরীর কাঁপছে, আমরা মূক। কতক্ষণ যে এই ভাবে ছিলাম, জানি না। পাশের যাত্রীর ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে সম্বিত ফিরে পেলাম। নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। এ আমি কী দেখলাম! পরমেশ্বর অবশেষে আমাদের দেখা দিলেন। তা হলে কি সেই কাহিনি সত্যি? সত্যিই কি শিব-পার্বতী ভোররাতে মানসের জলে অবগাহন করতে আসেন?

এই অলৌকিক ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞান আজও দিতে পারেনি। কী ভাবে এই আলোর উৎপত্তি? কেনই বা সেই আলো এসে পড়ে মানসের জলে? আমার সারা শরীর শিহরিত। গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠেছে। সহযাত্রী জহরভাইকে জড়িয়ে ধরলাম। দেখলাম জহরভাই আর সুরজভাই উত্তেজনায় কাঁপছে, মুখে শুধু ‘হর হর মহাদেব’। আমার দু’ চোখে জলের ধারা। পবিত্র মানসের জল মুখে-মাথায় দিলাম। পরমেশ্বরের এই রূপ দেখতেই তো এত কষ্ট করে, বাড়ি-ঘর-সংসার ফেলে এখানে ছুটে আসা। ধীরে ধীরে পুব আকাশে সূর্যদেব দেখা দিলেন। আমরা এখনও বিস্ময়ে বিমূঢ়। (চলবে)

ছবি: লেখক

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
দেশ2 hours ago

ভারত-বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক স্থগিত

ফুটবল3 hours ago

পেনাল্টি মিস, কেরলের বিরুদ্ধে জিততেও পারত নর্থইস্ট

রাজ্য5 hours ago

রাজ্যে আরও কমল নতুন সংক্রমণ, কমল তার হারও, তবে কলকাতা-উত্তর ২৪ পরগণায় সংক্রমণ কমল না

শিল্প-বাণিজ্য5 hours ago

স্থায়ী ভাবে বাড়ি থেকে কাজের সুবিধার বিনিময়ে আপনি কি বেতন ছাঁটাইয়েও রাজি? সমীক্ষায় উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য

প্রবন্ধ6 hours ago

মারাদোনা – গোল করা আর ভুল করা যাঁর কাছে দু’টোই সমান!

দঃ ২৪ পরগনা6 hours ago

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত বন্‌ধের আকার নিল সাধারণ ধর্মঘট

bank strike
শিল্প-বাণিজ্য7 hours ago

ডিসেম্বর মাসে কোন কোন দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে, এখানে দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা

ক্রিকেট8 hours ago

ক্রিকেট ও ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াই, বাঙালি ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্লকবাস্টার শুক্রবার

দেশ17 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৪৪৪৮৯, সুস্থ ৩৬৩৬৭

দেশ9 hours ago

ধর্মঘট সফল, দাবি বামফ্রন্টের, নীতিগত ভাবে সমর্থন মমতার

শিক্ষা ও কেরিয়ার2 days ago

টেট-২০১৪ পাশ যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষকপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি

দেশ1 day ago

সংক্রমণে লাগাম টানতে ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন বিধিনিষেধ, নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

ফুটবল2 days ago

পিকে-চুণী স্মরণে ডার্বি শুরুর আগে নীরবতা পালন হোক, আইএসএল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাল ইস্টবেঙ্গল

শরীরস্বাস্থ্য2 days ago

২৪ ঘণ্টা ব্রা পরার ফল মারাত্মক হতে পারে

শরীরস্বাস্থ্য2 days ago

কেন খাবেন মৌরি? জেনে নিন ১ ডজন উপকারিতা

Jallikattu
বিনোদন1 day ago

ভারত থেকে অস্কারের দৌড়ে মালায়ালি ছবি ‘জাল্লিকাট্টু’

কেনাকাটা

কেনাকাটা16 hours ago

শীতের নতুন কিছু আইটেম, দাম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: শীত এসে গিয়েছে। সোয়েটার জ্যাকেট কেনার দরকার। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে কিনতে যাওয়া মানেই বাড়ি এসে এই ঠান্ডায়...

কেনাকাটা2 days ago

ঘর সাজানোর জন্য সস্তার নজরকাড়া আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরকে একঘেয়ে দেখতে অনেকেরই ভালো লাগে না। তাই আসবারপত্র ঘুরিয়ে ফিরে রেখে ঘরের ভোলবদলের চেষ্টা অনেকেই করেন।...

কেনাকাটা5 days ago

লিভিংরুমকে নতুন করে দেবে এই দ্রব্যগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে ডিজাইনার আলোর জুড়ি মেলা ভার। অ্যামাজন থেকে তেমনই কয়েকটি হাল ফ্যাশনের...

কেনাকাটা1 week ago

কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস, দাম একদম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: কাজের সময় হাতের কাছে এই জিনিসগুলি থাকলে অনেক খাটুনি কমে যায়। কাজও অনেক কম সময়ের মধ্যে করে...

কেনাকাটা3 weeks ago

দীপাবলি-ভাইফোঁটাতে উপহার কী দেবেন? দেখতে পারেন এই নতুন আইটেমগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই কালীপুজো, ভাইফোঁটা। প্রিয় জন বা ভাইবোনকে উপহার দিতে হবে। কিন্তু কী দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন...

কেনাকাটা4 weeks ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা2 months ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

নজরে