Connect with us

দূরে কোথাও

পুজোয় চলুন / খবর অনলাইনের ভ্রমণ-ছক : গন্তব্য সিকিম

১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী, দুর্গাপুজো শুরু। হাতে আর দিন সাতেক সময়, শুরু হয়ে যাবে পুজোর ছুটিতে ট্রেনের আসনের আগাম সংরক্ষণ। সুতরাং আর দেরি নয়। এখনই করে ফেলতে হবে পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা। পর্যটন সম্পদে সমৃদ্ধ আমাদের দেশ। ঘোরার জন্য রয়েছে নামী-অনামী বহু জায়গা। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খবর অনলাইন এ বারও সাজিয়ে দিচ্ছে এক গুচ্ছ ভ্রমণ পরিকল্পনা। শুরু হয়েছে […]

Published

on

১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী, দুর্গাপুজো শুরু। হাতে আর দিন সাতেক সময়, শুরু হয়ে যাবে পুজোর ছুটিতে ট্রেনের আসনের আগাম সংরক্ষণ। সুতরাং আর দেরি নয়। এখনই করে ফেলতে হবে পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা। পর্যটন সম্পদে সমৃদ্ধ আমাদের দেশ। ঘোরার জন্য রয়েছে নামী-অনামী বহু জায়গা। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খবর অনলাইন এ বারও সাজিয়ে দিচ্ছে এক গুচ্ছ ভ্রমণ পরিকল্পনা। শুরু হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত দিয়ে। এই পর্বে রয়েছে সিকিম।

ভ্রমণ-ছক ১: পূর্ব-উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিম সিকিম

প্রথম দিন – ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) পৌঁছে বা বিমানে বাগডোগরা পৌঁছে গাড়ি বা বাসে রওনা হয়ে যান গ্যাংটকের উদ্দেশে, এনজেপি স্টেশন থেকে গ্যাংটক ১২০ কিমি, বাগডোগরা থেকে গ্যাংটক ১২৬ কিমি। রাত্রিবাস গ্যাংটক (৫৪১০ ফুট)।

Loading videos...

দ্বিতীয় দিন – গ্যাংটকে ঘোরাঘুরি। ঘুরে আসুন রুমটেক মন্যাস্টেরি, ২৩ কিমি। রাত্রিবাস গ্যাংটক।

nathu la

নাথু লা।

তৃতীয় দিন – ঘুরে আসুন ছাঙ্গু লেক (১২৩১৩ ফুট), বাবা মন্দির ও নাথু লা (১৪১৪০ ফুট)। গ্যাংটক থেকে ৫৭ কিমি। রাত্রিবাস গ্যাংটক।

কী দেখবেন গ্যাংটকে –

(১) তাশি ভিউ পয়েন্ট – ভোরেই চলুন। আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার মহিমাময় দৃশ্য ভোলার নয়। নীচে দৃশ্যমান গ্যাংটক শহর।

(২) রঙ্কা মন্যাস্টেরি – গ্যাংটক থেকে ১৪ কিমি। পাহাড়ের কোলে এক শান্ত নিভৃত জায়গায় অবস্থিত এই মন্যাস্টেরি ভীষণ টানে।

(৩) হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক – রেড পান্ডা, হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক আর স্নো লেপার্ড রয়েছে এই চিড়িয়াখানায়। পাহাড়ের ঢালে এই চিড়িয়াখানা বাচ্চাদের নিয়ে উপভোগ করার মতো জায়গা।

(৪) বনঝাকরি ফলস্‌ – রঙ্কা মন্যাস্টেরি যাওয়ার পথে গ্যাংটক থেকে সাড়ে চার কিমি।

tashi view point, gangtok

তাশি ভিউ পয়েন্ট।

(৫) নামগিয়াল ইনস্টিটিউট অফ টিবেটোলজি ও দো দ্রুল চোর্তেন – সিটি সেন্টার থেকে ৫ কিমি। ইনস্টিটিউট অফ টিবেটোলজিতে দেখবেন বৌদ্ধধর্ম সংক্রান্ত চিত্রাবলি, নানা শিল্পকর্ম, বহু বর্ণের ঝুলন্ত বস্তু, এবং লেপচা, বাংলা ও ওড়িয়া ভাষায় লেখা তালপাতার পুথি ইত্যাদি।

(৬) এনচে মন্যাস্টেরি – শহর থেকে ৬ কিমি। গ্যাংটকের অন্যতম প্রাচীন মন্যাস্টেরি।

(৭) গ্যাংটক রোপওয়ে – সিয়ারি রোডে এই রোপওয়ে। ৫-৭ মিনিটের ভ্রমণ। সঙ্গে বাচ্চারা থাকলে মজা পাবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে উপভোগ্য ভ্রমণ।

(৮)  সেভেন সিস্টার্স ওয়াটারফল –  গ্যাংটক থেকে ৩০ কিমি।

চতুর্থ দিন – রওনা হয়ে যান নর্থ সিকিমের উদ্দেশে। এ দিনের গন্তব্য লাচেন, দূরত্ব ১০৭ কিমি। পথে দেখে নিন বাকথাং ওয়াটারফল, বাটারফ্লাই ওয়াটারফল, নাগা ওয়াটারফল, চুং থাং- এ লাচেন চু ও লাচুং চু-র সঙ্গম (যে দুই নদী মিলে তৈরি হয়েছে তিস্তা), ইত্যাদি। রাত্রিবাস লাচেন (৯০২২ ফুট)।

gurudongmar lake

গুরুদোংমার লেক।

পঞ্চম দিন – চলুন তিব্বতি যাযাবরদের গ্রাম থাঙ্গু হয়ে চোপতা ভ্যালি ও আরও ৩০ কিমি গিয়ে গুরুদোংমার লেক (লাচেন থেকে ৬৬ কিমি, ১৭৮০০ ফুট)। গুরুদোংমার থেকে আরও ১০ কিমি এগিয়ে গেলে চোলামু লেক। বরফ-রাজ্যে এক অবিস্মরণীয় ভ্রমণ। এ যেন এক অনাঘ্রাতা অঞ্চল, সাধারণ টুরিস্টের পদলাঞ্ছিত নয়। রাত্রিবাস লাচেন।

ষষ্ঠ দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন লাচুং-এর উদ্দেশে, দূরত্ব ৪৫ কিমি। লাচুং-এ (৮৮৫৮ ফুট) প্রাতরাশ সেরে চলুন কাটাও (১৫০০০ ফুট), দূরত্ব ২৮ কিমি। রাত্রিবাস লাচুং।

সপ্তম দিন – চলুন ফুলের রাজ্য ইয়ুমথাং, দূরত্ব ২৬ কিমি। ১১৮০০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট উপত্যকায় বিচরণ করুন। চলে যান উষ্ণ প্রস্রবণে, দেখুন শিব মন্দির। ইয়ুমথাং থেকে আরও ৩০ কিমি এগিয়ে একবারে তিব্বত সীমান্তের কাছে ইউমেসামডং বা জিরো পয়েন্ট (১৫৫০৩ ফুট) চলুন। রাত্রিবাস লাচুং।

yumesamdong

ইউমেসামডং।

অষ্টম দিন – ফিরে আসুন গ্যাংটক। এখানে কিছু দেখার বাকি থাকলে দেখে নিন। রাত্রিবাস গ্যাংটক।

নবম দিন – প্রাতরাশ সেরে চলুন নামচি হয়ে চলুন পেলিং (৭০৫৪ ফুট), দুরত্ব ১৫০ কিমি। পথে দেখে নিন টেমি টি গার্ডেন, সামদ্রুপৎসে হিলসিদ্ধেশ্বর ধাম। সামদ্রুপৎসে হিলে আছে গুরু পদ্মসম্ভবের বিশাল মূর্তি। আর সিদ্ধেশ্বর ধাম কার্যত চারধাম। এখানে আছে পূর্বের জগন্নাথ ধাম, পশ্চিমের দ্বারকা ধাম, উত্তরের বদ্রীনাথ ধাম এবং দক্ষিণের রামেশ্বরম ধামের রেপ্লিকা।  রাত্রিবাস পেলিং।

পেলিং-এ ম্যাল না থাকলেও রয়েছে সুন্দর একটা হেলিপ্যাড। দেখুন সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে  কোকতাং, কুম্ভকর্ণ, রাতোং, কাব্রু ডোম, কাঞ্চনজঙ্ঘা, পান্ডিম, জোপুনো, সিম্ভো, নরসিং, সিনিয়লচু-সহ আরও নানা শিখর।

singshore bridge, sikkim

সিংশোর ব্রিজ।

দশম দিন –  আলো ফোটার আগে ৪ কিমি হেঁটে চলুন সাঙ্গা চোলিং মন্যাস্টেরি। কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে অপরূপ সূর্যোদয়ের সাক্ষী থাকুন। মন্যাস্টেরি থেকে দেখুন ফুলের উপত্যকা বার্সে

ফিরে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন। চলুন পেমেয়াংসে, (পেলিং থেকে ৯ কিমি) ৩০০ বছরের বেশি পুরোনো মন্যাস্টেরি দেখতে। সেখান থেকে চলুন রাবদান্তসে (পেমেয়াংসে থেকে ১১ কিমি), সিকিমের দ্বিতীয় চোগিয়ালের দ্বিতীয় রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ। ফিরে মধ্যাহ্নভোজ (রাবদান্তসে থেকে পেলিং ৯ কিমি)। এ বার বেরিয়ে পড়ুন ছাঙ্গে ফলস্‌ (১৫ কিমি), সিংশোর ব্রিজ (আরও ১২ কিমি, এশিয়ার দ্বিতীয় গভীরতম গর্জের ওপর ১৯৮ মিটার লম্বা ৬৭৮ ফুট উঁচু সেতু) হয়ে নেপাল সীমান্তে রডোডেনড্রনে ছাওয়া উতরে গ্রামের (আরো ১০ কিমি) কিমি) উদ্দেশে। রাত্রিবাস পেলিং।

একাদশ দিন – প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন। চলুন রিমবি ফলস্‌ (১৮ কিমি, পাহাড় থেকে নামছে রিমবি নদী)। সেখান থেকে চলুন ১৫ কিমি দূরে লেপচাদের পবিত্র লেক খেচিপেড়ি (ইচ্ছেপূরণের জন্য খ্যাত খেচিপেড়ি পেয়ার ফ্ল্যাগ আর গাছগাছালিতে ছাওয়া, লেকের জলে পাতা পড়ে না), লেকের পাড়ে ছোট্টো গুম্ফা। খেচিপেড়ি দেখে চলুন ১৫ কিমি দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্‌। ৩০০ ফুট ওপর থেকে দুদ্দাড় বেগে নামা কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্‌ আকর্ষণে অনবদ্য। এ বার চলুন ১২ কিমি দূরে ইয়ুকসম। ১৭৮০ মিটার উঁচু ইয়ুকসম সিকিমের প্রথম রাজধানী। তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্ম লাল টুপি শাখার পত্তনও এই ইয়ুকসমে। কার্থোক লেকের পাড়ে পাইন গাছের তলায় প্রথম চোগিয়ালের মাটি ও পাথরে গড়া করোনেশন থ্রোন। পাথরে পায়ের ছাপ। অতীতের চোর্তেনের ধ্বংসাবশেষ। চার কিমি দূরে নিরালা নির্জনে সিকিমের দ্বিতীয় প্রাচীন দুবদি মন্যাস্টেরি। রাত্রিবাস পেলিং।

দ্বাদশ দিন – গাড়ি ভাড়া করে বা শেয়ার জিপে চলে আসুন এনজেপি স্টেশন (১৩৬ কিমি) বা বাগডোগরা বিমানবন্দর (১৪৩কিমি)।

আরও পড়ুন পুজোয় চলুন / খবর অনলাইনের ভ্রমণ-ছক : উত্তর-পূর্ব / ২

biddha park, ravangla

বুদ্ধ পার্ক, রাবাংলা।

ভ্রমণ-ছক ২: পূর্ব-দক্ষিণ-পশ্চিম সিকিম

প্রথম থেকে তৃতীয় দিনভ্রমণ ছক ১-এর মতো।

চতুর্থ দিন – নামচি (গ্যাংটক থেকে নামচি ৮০ কিমি) হয়ে চলুন রাবাংলা (৭০০০ ফুট, ২৫ কিমি)। পথে দেখে নিন টেমি টি গার্ডেন, সামদ্রুপৎসে হিল ও সিদ্ধেশ্বর ধাম। সামদ্রুপৎসে হিলে আছে গুরু পদ্মসম্ভবের বিশাল মূর্তি। আর সিদ্ধেশ্বর ধাম কার্যত চারধাম। রাবাংলায় দেখে নিন বুদ্ধ পার্ক আর কাঞ্চনজঙ্ঘা। রাত্রিবাস রাবাংলা।

পঞ্চম দিন – রাবাংলা থেকে চলুন পেলিং, ৫০ কিমি। রাত্রিবাস পেলিং।

ষষ্ঠ দিন ও সপ্তম দিনভ্রমণ ছক ১-এর দশম ও একাদশ দিনের মতো

অষ্টম দিন – গাড়ি ভাড়া করে বা শেয়ার জিপে চলে আসুন এনজেপি স্টেশন (১৩৬ কিমি) বা বাগডোগরা বিমানবন্দর (১৪৩কিমি)।

আরও পড়ুন পুজোয় চলুন / খবর অনলাইনের বাছাই : গন্তব্য উত্তর-পূর্ব / ১

barsey rhododebdron sanctuary

বার্সে রডোডেনড্রন স্যাঙ্কচুয়ারি।

ভ্রমণ-ছক ৩: পশ্চিম সিকিম

প্রথম দিন – চলুন ওখরে। নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশন থেকে ১২৮ কিমি, বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে ১৩৪ কিমি। রাত্রিবাস ওখরে (৮২০০ ফিট)।

দ্বিতীয় দিন – গাড়িতে চলুন হিলে, ১০ কিমি। সেখানে থেকে ট্রেক করে চলুন ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় ফুলের উপত্যকা বার্সে। সাড়ে চার কিমি সহজ ট্রেক। ফুলের মরশুম না হলেও বার্সে রডোডেনড্রন স্যাঙ্কচুয়ারির মধ্য দিয়ে হাঁটা এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা। নিস্তব্ধ পরিবেশে দেখা যায় হরেক পাখি। রাত্রিবাস ওখরে।

তৃতীয় দিন – চলুন কালুক (৫৬০০ ফুট, ৪৬ কিমি)। শান্ত, স্নিগ্ধ ছোট্টো জনপদ। এর খ্যাতি কুম্ভকর্ণ, কোকতাং, কাব্রু, গোচা সহ সপার্ষদ কাঞ্চনজঙ্ঘার ১৮০বিস্তৃতি। দেখে নিন পাহাড়ের মাথায় গুরুং মন্যাস্টেরি। রাত্রিবাস কালুক।

চতুর্থ দিন – ঘুরে আসুন রিনচেনপং (৫৫৭৬ ফুট, ৩ কিমি)। দেখে নিন রিনচেনপং মন্যাস্টেরি, পয়জন লেক, লেপচা হেরিটেজ হাউজ, রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য রবীন্দ্র স্মৃতি বন, রিশম মন্যাস্টেরি। রাত্রিবাস কালুক।

kanchenjungha from rinchenpong

রিনচেনপং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

পঞ্চম দিন – চলুন হি-পাতাল (৮৪০০ ফুট, ১৭ কিমি)। নির্জন পাহাড়ি গ্রাম, বিচিত্র জাতের ও রঙের নানা পাখি সুরেলা ভাষায় কথা বলে। কাঞ্চনজঙ্ঘা সর্বক্ষণের সঙ্গী। চড়াই পথে হেঁটে দেখে নিন গাঁয়ের মন্যাস্টেরি। হি বাজার থেকে ঢাল গড়ানো পথে নেমে দেখে নিন সিকিমের উপাস্য শ্রীজঙ্ঘার স্মৃতি বিজড়িত ইউমা স্যামিও মন্দির, রহস্যময় আরণ্যক পরিবেশে শ্রীজঙ্ঘা ঝরনা এবং শ্রীজঙ্ঘা গুহা। চলুন তিন কিমি দূরে ছায়াতাল। রাত্রিবাস হি-পাতাল।

ষষ্ঠ দিন – দেখে নিন হি-খোলা ওয়াটার পার্ক, সিংশোর ব্রিজ, উত্তরে গ্রাম, ডেনটাম চিজ ফ্যাক্টরি ইত্যাদি। রাত্রিবাস হি-পাতাল।

সপ্তম দিনডেন্টাম ভ্যালি হয়ে চলে আসুন পেলিং, দূরত্ব ৩৯ কিমি। পথে দেখে নিন ছাঙ্গে ফলস্‌। এ দিন দেখে নিন পেমেয়াংসে, (পেলিং থেকে ৯ কিমি) ৩০০ বছরের বেশি পুরোনো মন্যাস্টেরি দেখতে। সেখান থেকে চলুন রাবদান্তসে (পেমেয়াংসে থেকে ১১ কিমি), সিকিমের দ্বিতীয় চোগিয়ালের দ্বিতীয় রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ। ফিরে মধ্যাহ্নভোজ (রাবদান্তসে থেকে পেলিং ৯ কিমি)।

অষ্টম দিন – আলো ফোটার আগে ৪ কিমি হেঁটে চলুন সাঙ্গা চোলিং মন্যাস্টেরি। কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে অপরূপ সূর্যোদয়ের সাক্ষী থাকুন। মন্যাস্টেরি থেকে দেখুন ফুলের উপত্যকা বার্সে

kanchenjunga falls, pelling

কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্‌।

প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন। চলুন রিমবি ফলস্‌ (১৮ কিমি, পাহাড় থেকে নামছে রিমবি নদী)। সেখান থেকে চলুন ১৫ কিমি দূরে লেপচাদের পবিত্র লেক খেচিপেড়ি (ইচ্ছেপূরণের জন্য খ্যাত খেচিপেড়ি পেয়ার ফ্ল্যাগ আর গাছগাছালিতে ছাওয়া, লেকের জলে পাতা পড়ে না), লেকের পাড়ে ছোট্টো গুম্ফা। খেচিপেড়ি দেখে চলুন ১৫ কিমি দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্‌। ৩০০ ফুট ওপর থেকে দুদ্দাড় বেগে নামা কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্‌ আকর্ষণে অনবদ্য। এ বার চলুন ১২ কিমি দূরে ইয়ুকসম। ১৭৮০ মিটার উঁচু ইয়ুকসম সিকিমের প্রথম রাজধানী। তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্ম লাল টুপি শাখার পত্তনও এই ইয়ুকসমে। কার্থোক লেকের পাড়ে পাইন গাছের তলায় প্রথম চোগিয়ালের মাটি ও পাথরে গড়া করোনেশন থ্রোন। পাথরে পায়ের ছাপ। অতীতের চোর্তেনের ধ্বংসাবশেষ। চার কিমি দূরে নিরালা নির্জনে সিকিমের দ্বিতীয় প্রাচীন দুবদি মন্যাস্টেরি। রাত্রিবাস পেলিং।

নবম দিন – গাড়ি ভাড়া করে বা শেয়ার জিপে চলে আসুন এনজেপি স্টেশন (১৩৬ কিমি) বা বাগডোগরা বিমানবন্দর (১৪৩কিমি)।

কী ভাবে যাবেন

(১) নিউজলপাইগুড়ি যাওয়ার জন্য ট্রেনের সময় জানতে দেখুন erail.in । বাগডোগরা উড়ানের সময় জানার জন্য ইন্টারনেট দেখে নিন।

(২) এনজেপি স্টেশন বা বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি বা শেয়ার জিপ মেলে গ্যাংটক যাওয়ার জন্য। দু’ জায়গাতেই প্রিপেড ট্যাক্সি পাওয়া যায়। চেষ্টা করবেন সিকিম রেজিস্ট্রেশনের গাড়ি নিতে। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেজিস্ট্রেশনের গাড়ি নিলে সেই গাড়ি নামিয়ে দেবে গ্যাংটক সিটি সেন্টারের ২ কিমি নীচে দেওরালিতে। সেখান থেকে লোক্যাল ট্যাক্সি নিয়ে হোটেলে পৌঁছোতে হবে।

(৩) সিকিম ন্যাশনালাইজড ট্রান্সপোর্টের (এসএনটি) বাস চলাচল করে শিলিগুড়ি-গ্যাংটক রুটে। এনজেপি স্টেশন থেকে অটো ধরে চলে আসুন শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে, তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনালের পাশে এসএনটি বাসস্ট্যান্ডে।

(৪) এনজেপি স্টেশন বা বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে ওখরে যেতে পারেন গাড়ি ভাড়া করে। অথবা শেয়ার জিপে জোড়থাং, সেখান থেকে শেয়ার জিপে ওখরে আসতে পারেন।

the road to yumesamdong

ইউমেসামডং যাওয়ার রাস্তা।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) গ্যাংটকে লোক্যাল ট্যাক্সি ভাড়া করে ঘুরে নিন স্থানীয় দ্রষ্টব্য।

(২) লোক্যাল ট্যাক্সি ভাড়া করে বা শেয়ার জিপে ঘুরে আসুন ছাঙ্গু লেক।

(৪) ভাড়া করা জিপে নর্থ সিকিম চলুন। কোনো ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাতেও যেতে পারেন। আপনার ট্যুর প্রোগ্রাম তাদের বলুন, সেই ভাবে ভ্রমণসূচি সাজানো হবে। অথবা তাদের নির্দিষ্ট প্যাকেজ ট্যুরেও যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনার বাছাই দু’-একটা জায়গা বাদ পড়তে পারে।

(৫) গ্যাংটক থেকে গাড়ি ভাড়া করে পেলিং চলুন।

(৬) পেলিং ঘুরে নিন স্থানীয় যানে।

(৭) পেলিং থেকে এনজেপি স্টেশন বা বাগডোগরা এয়ারপোর্ট আসতে পারেন ভাড়া করা গাড়িতে বা শেয়ার জিপে।

chayatal heritage homestay

ছায়াতাল হেরিটেজ হোমস্টে।

কোথায় থাকবেন

(১) গ্যাংটক, লাচেন, লাচুং, রাবাংলা ও পেলিং-এ এখন বেসরকারি হোটেলের সংখ্যা প্রচুর। এদের খোঁজ পাবেন triviago.in, make my trip, goibibo, yatra.com, holidayiq, tripadvisor  ইত্যাদি ওয়েবসাইটগুলিতে

(২) সিকিমের বহু জায়গায় রয়েছে অনেক হোমস্টে। ইন্টারনেট থেকে সে সবের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

(৩) নর্থ সিকিম ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমেও যেতে পারেন। তারা যেখানে রাখবে, সেখানে থাকবেন। সিকিম ট্যুরিজমও নর্থ সিকিম নিয়ে যায়। দেখুন ওয়েবসাইট www.sikkimtourismindia.com । রাজ্য সরকার অনুমোদিত যে সব প্রাইভেট অপারেটর নর্থ সিকিম ট্যুরে নিয়ে যায় তাদের তালিকার জন্য দেখুন www.sikkimtourism.gov.in/Webforms/General/TATO/TATO_List.aspx 

(৪) আরামদায়ক হোটেলের ডালি সাজিয়ে বসে আছে ওখরে। গুগলে সার্চ করুন ‘accommodation in okhrey’, পেয়ে যাবেন সন্ধান।

(৫) কালুকে থাকার জন্য রয়েছে কাঞ্চেন ভ্যালি ট্যুরিস্ট লজ (০৯৪৩৩১২৭৮২৮/৯৮৩৬৫৫৭৮৯০), ঘোন্ডে ভিলেজ রিসর্ট (০৩৫৯৫-২৪৫২৬৭/৯৯৩৩০০১১২৭), ম্যান্ডারিন ভিলেজ রিসর্ট (০৩৫৯৫-২৪৫২০৯/৯৯৩২৪০৮১৪১/০৯০৮৩২৫২৫৪০), রিনচেনপং ভিলেজ রিসর্ট (০৩৫৯৫-২৩১০১৭) ইত্যাদি। আরও হোটেলের জন্য গুগলে সার্চ করুন ‘accommodation in kaluk’

(৬) হি-পাতালে থাকার জন্য রয়েছে নেচার হিলটপ রিসর্ট (৯৯৩২৫১১৫২৬, ৯৫৬৪৬১৬৯৩৫), লেকভিউ রেসিডেন্সি (৭৭৯৭০০৭০০০, ৯০৯৩২০০৬০১), হোটেল সায়লেন্ট ভ্যালি (৮৯৬১৫২০৫৫৪, ৯৯০৩৮২৫২৮৭, ওয়েবসাইট www.bermiok.com), হোটেল কাঞ্চন ভিউ (৯০৫১১৬৬৫৬৩, ওয়েবসাইট hebermiok.com) ইত্যাদি। গুগলে ‘accommodation in hee bermiok’ সার্চ করলে বেশ কিছু হোম স্টে-র সন্ধান পাবেন।

থাকতে পারেন ছায়াতালেও – ছায়াতাল হেরিটেজ হোমস্টে (যোগাযোগ সৌরভ নায়েক ৮০১৭৬৩৩২৩৯)।

gangtok ropeway

গ্যাংটক রোপওয়ে।

মনে রাখবেন

(১) গ্যাংটকে রোপওয়ে চালু থাকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত।

(২) নাথু লা ও নর্থ সিকিম ভ্রমণে সিকিমের পর্যটন ও অসামরিক পরিবহণ দফতরের ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। কোনো রেজিস্টার্ড ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। অনুমতিপত্রের জন্য ফোটো আইডি এবং দু’টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। সরকার অনুমোদিত যে সব ট্রাভেল এজেন্ট অনুমতিপত্র সংগ্রহে সাহায্য করতে পারেন তাদের তালিকার জন্য দেখুন:    www.sikkimtourism.gov.in/Webforms/General/TATO/TATO_List.aspx

(৩) নাথু লা যাওয়া যায় বুধবার থেকে রবিবার।

(৪) নর্থ সিকিম ভ্রমণসূচিতে কাটাও থাকে না। সময় থাকলে গাড়ির ড্রাইভারদের অতিরিক্ত টাকা দিলে তাঁরা সানন্দে কাটাও নিয়ে যান।

(৫) পশ্চিম সিকিম ভ্রমণ যদি ছোটো করতে চান তা হলে কালুক ও হি-পাতালে এক দিন করে অবস্থান কমাতে পারেন।

দূরে কোথাও

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: শেষ পর্ব/ দুর্যোগ কাটিয়ে ঘরে ফেরা

Published

on

manas sarovar

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

Loading videos...

ভোরের আলো ফোটার আগেই রওনা দিলাম নাজাং-এর উদ্দেশে। সবার মুখ থমথমে। লিয়াজঁ অফিসারদের খুব চিন্তাগ্রস্ত লাগছে। কাল রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টি চলছে, সঙ্গে কনকনে হাওয়া। চারিদিক থেকে ধসের খবর আসছে। দুর্যোগ পিছু ছাড়ছে না। বৃষ্টির মধ্যেই কালী নদীকে বাঁ হাতে রেখে পাহাড়ের ঢাল বরাবর সরু রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলেছি। কোথাও কোথাও রাস্তা খুবই সংকীর্ণ। পাহাড়ের ঢালে পিঠ ঘষে কোনো রকমে যাওয়া যায়। ঝুরঝুরে আলগা মাটি। একটু অসাবধান হলেই চরম বিপদ। ছোটো ছোটো পাহাড়ি ঝোরাগুলো বিশাল আকার ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ১১/ ফেরার পথে গুনজি হয়ে বুধিতে

টানা দু’ দিনের বৃষ্টিতে পাহাড়ের চিত্র পুরো বদলে গিয়েছে। মাঝেমাঝেই পাহাড়ের ওপর থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ছে। দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছেন। কখনও নদীর পাড়, তো কখনও পাহাড়ের চুড়ো – এ ভাবেই চড়াই-উতরাই ভেঙে আমরা এগিয়ে চলেছি। বৃষ্টির জল পেয়ে কালী নদী ফুঁসছে। মনে হচ্ছে চার দিক ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর হাতছানি। ঝরনার জলে আমরা সবাই ভিজে গিয়েছি। আমাদের যাওয়ার রাস্তা অবিরাম পরিষ্কার করে চলেছে বুলডোজার, কিন্তু ধসের বিরাম নেই। এ যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অসম লড়াই। কোনো কোনো রাস্তার কোনো চিহ্নই নেই। বৃষ্টির জন্য পা প্রতি মুহূর্তে পিছলে যাচ্ছে। পা টিপে টিপে এগিয়ে চলেছি। মুখে ঈশ্বরের নাম।

১৯৯৮ সালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যে সব কৈলাসযাত্রী মারা যান, তাঁদের স্মৃতিতে মালপায় স্মারক।

এ ভাবেই ১০টা নাগাদ মালপায় এলাম। প্রাতরাশের জন্য পথ চলার সাময়িক বিরতি এখানে। ১৯৯৮ সালের ১৭ আগস্ট শেষ রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই মালপা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। ২২১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে ৬০ জন ছিলেন কৈলাসযাত্রী। তাঁরা ছিলেন ১৩ নম্বর ব্যাচের যাত্রী। কী অদ্ভুত সমাপতন! আজও ১৭ আগস্ট এবং আমরাও ১৩ নম্বর ব্যাচ। জানি না, পরমেশ্বর আমাদের কপালে কী রেখেছেন? পুরো যাত্রা এত সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এ কোন পরীক্ষার মধ্যে ফেললেন আমাদের তিনি?

প্রবল বৃষ্টিতে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এক হাতে লাঠি আর অন্য হাতে ছাতা, পাশে গণেশ। কোনো কোনো ঘাসের ঝাড় ধরে ঝুলে নামা। নীচে কোথায় পা দেব, বুঝে উঠতে পাচ্ছি না, এত খাড়া পাহাড়ের গা। নীচে থেকে গণেশ হাতে ধরে পা বসিয়ে দিচ্ছে। ঘাসের গোড়া বা গাছের শিকড় মুঠিতে চেপে ধরে, বুক-পেট পাহাড়ের গায়ে লাগিয়ে একটু বিশ্রাম নিই। বর্ষার পর এ পথে আমরাই প্রথম। এ ভাবেই সেই ৪৪৪৪ সিঁড়িওয়ালা পাহাড় অতিক্রম করলাম। সামনে আরও একটা বড়ো পাহাড়। সেই পাহাড় পেরিয়ে নীচে নামলেই নাজাং, যেখানে আমাদের জন্য গাড়ি অপেক্ষা করছে।

লেখকের পথের সাথি গণেশ।

পাহাড়ে উঠতে গিয়ে প্রায়ই পা পিছলে যাচ্ছে। যেখানেই থমকে যাচ্ছি, গণেশ এসে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এরা না থাকলে এতক্ষণে আমাদের চলে যেতে হত কালী নদীতে। কালী নদীর দিকে তাকানো যাচ্ছে না, এখন তার রূপ এতটাই ভয়াল। শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের মাথায় এসে পৌঁছোলাম।

এ বার নীচে নামার পালা। এ দিকের রাস্তা আরও খারাপ। কোনো কোনো জায়গায় সরীসৃপের মতো বুকে ভর দিয়ে নামতে হচ্ছে, আবার কোনো কোনো জায়গায় হামাগুড়ি। সারা গা কাদায় মাখামাখি। ছোটোবেলার কথা মনে পড়ছে। বৃষ্টির দিনে এ ভাবেই কাদা মেখে ফুটবল খেলতাম। আর আজ? প্রতি মুহূর্তে বাঁচার লড়াই। অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফেরার লড়াই। কোনো কোনো জায়গায় রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে গণেশও হাত ধরতে পারছে না। হাত ধরতে গেলেই দু’ জনেরই খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। শরীরে আর বিন্দুমাত্র শক্তি নেই, পা আর চলছে না। ঈশ্বরের নাম জপতে জপতে একটা সময় দেখলাম নাজাং-এ এসে গিয়েছি। নীচে নেমে শুয়ে পড়ে পাহাড়কে প্রণাম করলাম।

মনে একরাশ আনন্দ। হ্যাঁ, পেরেছি – হেঁটে কৈলাস-মানস দর্শন করতে। আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন সফল হয়েছে। চোখে আমার জল। তখনও কি জানতাম, সামনে আরও বড়ো বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

নাজাং থেকে গাড়িতে ধারচুলা যাওয়ার কথা। কিন্তু ছ’ কিমি দূরে রাস্তা পুরো ধসে গিয়েছে। সব গাড়ি ওখানে আটকে। এখানে অপেক্ষা না করে লিয়াজঁ অফিসারদের নির্দেশে সামনে এগিয়ে চললাম। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। প্রবল বৃষ্টিতে জায়গায় জায়গায় পাথর পড়ে রাস্তা বন্ধ। এই সব পাথর টপকে টপকে সন্তর্পণে এগোতে লাগলাম। এক সময় সেই ছ’ কিমি পথ শেষ হল। আর রাস্তা নেই। দু’টি বুলডোজার ব্যস্ত রাস্তা পরিষ্কারের কাজে। কিন্তু যে জায়গাটা পরিষ্কার করা হচ্ছে, মুহূর্তের মধ্যে ধস নেমে সেই জায়গা আবার অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মীরা এক সময়ে হাল ছেড়ে দিলেন।

লেখকের দুই যাত্রাসঙ্গী জহরভাই ও সুরজভাই।

আর উপায় নেই। এ বার এক এক করে এই জায়গাটা পার হতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মীরা বাঁশি বাজালে এক জন করে যাত্রী ধসের জায়গাটা পার হবেন। বাঁশি বাজতেই প্রথম যাত্রী দৌড় দিলেন। কিন্তু যেই মাঝপথে পৌঁছেছেন ওপর থেকে পাথর পড়া শুরু হয়ে গেল। আমরা সবাই চিৎকার করে উঠলাম। যাত্রীভাই মাঝপথ থেকে ফিরে এলেন। আবার বাঁশি বাজল, কিন্তু প্রাণ হাতে নিয়ে কেউ এগিয়ে গেল না। সবাই ভয়ে পিছিয়ে আসছেন।

আমি দেখলাম এই ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে কোনো লাভ নেই। কতক্ষণ এ ভাবে খোলা আকাশের নীচে থাকতে হবে তার কোনো হিসেব নেই। সামনে এগোতেই হবে, ঈশ্বরের নাম নিয়ে আমিই দৌড় লাগালাম। সামনেই একটা ঝরনা। ঝরনার জল প্রবল বেগে নেমে এসে খাদ দিয়ে গড়িয়ে নীচের কালী নদীতে গিয়ে মিশছে। কোনো ভাবে পা হড়কে গেলে সোজা নদীতে। মৃত্যুকে এত কাছ থেকে আমি কখনও দেখিনি। চিরকালই আমি ডানপিটে, মৃত্যুভয় আমার নেই। যে দিন এই পৃথিবীতে এসেছিলাম, সে দিন নিজের ইচ্ছায় আসিনি। আর যে দিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে, সে দিনও নিজের ইচ্ছায় হবে না। তা হলে কেন এই মৃত্যুভয়?

ঝরনা অতিক্রম করে দেখি, সামনে এক বিশাল পাথর। টিকটিকির মতো বুকে ভর দিয়ে সেই পাথরও পেরিয়ে এলাম। এ বারে একটা পাথর থেকে আরেকটা পাথর লাফিয়ে এগিয়ে চললাম। পাথরগুলো পেরিয়ে এসে অন্য বিপদ। হাঁটু পর্যন্ত কাদায় পা দু’টো আটকে গেল। কোনো দৈবশক্তি জেন আমার উপর ভর করল। কে যেন আমাকে এক হাত ধরে তুলে নিল। তবে কি আমার প্রভু আমাকে এ যাত্রায় রক্ষা করলেন? সারা গায়ে কাদা মেখে এ পারে আসতেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি দিয়ে এ প্রান্তের মানুষজন আমায় জড়িয়ে ধরল। পরে জহরভাইয়ের কাছে শুনেছিলাম, আমার দৌড় শুরু করার কয়েক সেকেন্ড পর থেকেই পাহাড় থেকে পাথর পড়া শুরু হয়্। দু’-একটা মুহূর্ত এ-দিক ও-দিক হলেই…।

সেই বিপজ্জনক জায়গা।

এ পারে এসে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, কখন দলের বাকি সদস্যরা আসবে? পাথর পড়া যখন দু’-তিন মিনিটের জন্য বন্ধ হচ্ছে, এক জন করে যাত্রী এ পারে আসছেন। তীব্র উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটতে লাগল। এ পারে আসতে গিয়ে গণেশ কাদার মধ্যে পড়ে গেল দেখলাম। হাঁটু থেকে রক্ত বার হচ্ছে। এক মহিলা যাত্রী কাদার মধ্যে প্রায় ঢুকে যাচ্ছিলেন। দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মীরা ছুটে গিয়ে তাঁকে রক্ষা করলেন। অনেকক্ষণ পর জহরভাই আর সুরজভাইও পেরিয়ে এলেন। শেষ পর্যন্ত সবাই অক্ষত অবস্থায় এ পারে এলেন।

এ বার গাড়িতে করে রওনা ধারচুলা। আমাদের লাগেজ পড়ে রইল গুনজিতে। এক কাপড়ে ধারচুলা থেকে দিল্লি, তার পর কলকাতা। কলকাতায় আসার দশ দিন পর এল আমার লাগেজ। এসে পৌঁছোল কৈলাস-মানসের পবিত্র জলও। এটাই সব চেয়ে দামি আমার কাছে। (শেষ)

ছবি: লেখক    

Continue Reading

দূরে কোথাও

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ১১/ ফেরার পথে গুনজি হয়ে বুধিতে

Published

on

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

Loading videos...

কাল প্রায় সারা রাত জেগে কেটেছে। চোখ জ্বালা করছে। কিন্তু যে দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছি, তাতে মনে অপার শান্তি। অতিথিশালায় ফিরে এসে বাকি সময়টা বসে বসেই কাটিয়ে দিয়েছি। আজ মানসকে বিদায় জানানোর পালা।

আরেক বার গেলাম মানসের পাড়ে। দূরে উজ্জ্বল কৈলাস পর্বত। ভোররাতের ঘটনার কথা ভেবে এখনও লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে। বৌদ্ধমন্দির থেকে ভেসে আসছে ‘ওম মণি পদ্মে হুম’-এর সুর। ভেসে আসছে ড্রামের আওয়াজ। মন কিছুতেই চাইছে না এই জায়গা ছেড়ে যেতে। বাসের হর্ন শোনা যাচ্ছে। শেষ বারের মতো মানসের জল মুখে নিয়ে, পরমেশ্বরের উদ্দেশে প্রণাম জানিয়ে ছুটলাম বাসের দিকে। বাসের যাত্রীরা সবাই শিবের ভজন গাইছে। বাস এগিয়ে চলল আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে। ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল আমার স্বপ্নের মানস-কৈলাস। আমার দু’ চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। কে যেন কানে কানে বলছে – আবার আসিস।

আরেক বার মানস দর্শন।

কখন যে তাকলাকোট পৌঁছে গিয়েছি, খেয়াল করিনি। হোটেলে ফিরেও হোয়াটস অ্যাপে বাড়ির সঙ্গে কথা বললাম। কত দিন পর প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা হল। দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে শহরটা ঘুরে এলাম।

খুব সকালে ঘুম ভেঙে গেল। আজ ১৫ আগস্ট। এই পুণ্য দিনে ফিরে চলেছি ভারতে। তাড়াতাড়িই প্রস্তুত হয়ে গেলাম। ৯টা নাগাদ আমাদের নিয়ে যাওয়া হল চিনা অভিবাসন দফতরে। তার পর কাস্টমস অফিসে। আমাদের মালপত্র পরীক্ষার পর তিব্বত তথা চিন ত্যাগের অনুমতি পেলাম। আধ ঘণ্টার মধ্যে বাসে করে চলে এলাম লিপুলেখ পাস সংলগ্ন ভারত-চিন সীমান্তে। চিনা অফিসারেরা আমাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করলেন। মিলল পাহাড়ে চড়ার অনুমতি। দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি ১৫ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

গণেশ যথারীতি চলে এসেছে। ওর কাছে আমার রুকস্যাক দিয়ে পাহাড়ে চড়তে শুরু করলাম। ১৫ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা আমাদের দেখে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি দিতে লাগলেন। আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। আজ স্বাধীনতা দিবস। তাই মহাদেবের পাশাপাশি ভারতমাতার নামেও জয়ধ্বনি হল।

মানস থেকে ফেরার পথে মন্যাস্টেরি।

লিপুলেখ পাসের নীচেই আইটিবিপি-র ক্যাম্প। গরম কফি আর পকোড়া সহযোগে তারা আমাদের আপ্যায়ন করল। আইটিবিপি-র জওয়ানদের সঙ্গে ছবি তোলা হল।

আজ আমাদের গন্তব্য গুনজি, ২৬ কিমি। আসার সময় যে পথ তিন দিনে এসেছিলাম, সেই পথ এক দিনে পেরোব। একটু যে টেনশন হচ্ছে না, তা নয়। তবু হাঁটতে তো হবেই।

খুব জোরে হাঁটতে পারছি না। পথের সৌন্দর্যও সে ভাবে আকর্ষণ করছে না। কেবল কৈলাস-মানসের কথা মনে পড়ছে। মানস সরোবরে ভোররাতের অলৌকিক ক্রিয়াকলাপ যেন চোখের সামনে ভাসছে। প্রায় ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর একটা বিশাল ঝরনার কাছে চলে এলাম। গোটা পথকে প্লাবিত করে ঝরনা প্রবল বেগে নীচে নেমে যাচ্ছে। লাঠির সাহায্যে অতি সন্তর্পণে পথটুকু অতিক্রম করলাম। চলে এলাম নাভিডাং। এখানে সেনাশিবিরে স্বল্পক্ষণের যাত্রাবিরতি। দেখলাম জওয়ানরা জাতীয় পতাকা উত্তোলনে ব্যাস্ত। ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত। এখানে প্রাতরাশ সেরে আবার হাঁটা শুরু করলাম কালাপানির উদ্দেশে।

কিছুটা হাঁটার পর বুঝতে পারছি, বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রামের প্রয়োজন। কিছুক্ষণ পাথরের উপর বসে রইলাম। শ্বাসপ্রশ্বাস অনেকটা মসৃণ হল, বেশ আরাম লাগছে। আবার হাঁটা শুরু করলাম। কিন্তু চলার ক্ষমতা যে বেশ কমছে, বুঝতে পারছি। বাঁ পায়ের হাঁটুতে একটা ব্যথা টের পাচ্ছি। জহরভাইয়েরও একই সমস্যা হয়েছিল। আমার দেওয়া ওষুধ খেয়ে কিছুটা সামলেছে। সমতলে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে না। কিন্তু চড়াই-উতরাই এলেই সমস্যা।

পথের দু’ পাশে সুউচ্চ পর্বতমালা। তার মধ্যের উপত্যকা দিয়ে একটি নদী বয়ে চলেছে। সেই নদীকে ডান হাতে রেখে আমরা এগিয়ে চলেছি। মখমলের মতো সবুজ ঘাস আর গুল্ম দিয়ে মোড়া পুরো উপত্যকা। অসংখ্য রঙিন ফুল ফুটে রয়েছে। এ যেন এক স্বপ্নলোক। এ ভাবে ২-৩ ঘণ্টা হাঁটার পর আমরা ১২টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম কালাপানির অতিথিশালায়। দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা এখানেই। আমি দুপুরের খাবার না খেয়ে এগিয়ে চললাম। কালাপানিতে পাসপোর্টে সিল মারিয়ে আবার এগিয়ে চলা। পথেই আলাপ হল আইটিবিপি-র এক জওয়ানভাইয়ের সঙ্গে। উনি আমাদের হাতে চকোলেট তুলে দিলেন। বাড়িতে ওঁর ছোটো একটা ছেলে আছে। তার বিদেশি মুদ্রা জমানোর খুব শখ। আমি ওঁর হাতে ১০০ চিনা ইউয়ানের একটি নোট তুলে দিলাম। সারা পথ ওঁদের সুখ-দুঃখের গল্প শুনতে শুনতে বিকেল নাগাদ পৌঁছে গেলাম গুনজি ক্যাম্পে। এসেই দেখি মনীশভাই আমাদের জন্য জায়গা রেখে দিয়েছেন। গুনজি ক্যাম্পে আজ খুব ভিড়। ক্যাম্পের পাশেই পাহাড়ে মেলা বসেছে। দূরদূরান্ত থেকে গ্রামবাসী আসছেন। গুনজি আইটিবিপি ক্যাম্প রাতে আমাদের জন্য ডিনার পার্টির আয়োজন করেছে। অনেক দিন পর দেশের খাবার খেলাম। জওয়ানভাইদের আন্তরিকতা মন ছুঁয়ে যায়।

গুনজি ক্যাম্প।

পরদিন ঘুম থেকে উঠতেই চার দিক থেকে ধসের খবর আসতে লাগল। পাহাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল রাতেও বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের রূপ বদলে যায়। ছোটো ছোটো পাহাড়ি ঝোরা বিশাল আকার ধারণ করে। এখানেও তাই। আজ গণেশ ছাড়াই পথ চলা শুরু হয়েছে। মেলার জন্য গণেশ একদিন গুনজিতে থেকে গেল। কাল সকালে বুধিতে আমার সঙ্গে দেখা করবে।

গুনজি থেকে ছায়লেক পর্যন্ত রাস্তা সমতল। তার পর পাহাড়ি সিঁড়ি ভেঙে নীচে নামতে হবে। সেই পথটা খুব বিপজ্জনক। দু’-তিন ঘণ্টা একটানা হেঁটে চলেছি। ফুসফুস ক্রমশ হাপর হয়ে উঠছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে। লজেন্স মুখে দিলাম। লজেন্সের মোড়ক বুকপকেটে রেখে দিলাম প্রকৃতির বুকে দূষণ এড়ানোর জন্য। কৈলাস পরিক্রমার সময় দেখেছিলাম জায়গায় জায়গায় ডাস্টবিন রাখা। আমাদের উত্তরাখণ্ডে সে সবের বালাই নেই।

আরও কিছুটা এগোনোর পর জলপতনের গর্জন শোনা গেল। যতই এগোচ্ছি, গর্জন ক্রমশ বাড়ছে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর সেই জায়গায় পৌঁছে গেলাম। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে হুড়হুড় করে পড়ছে ঝরনার জল। যেন বিরাট তুলোর বস্তা। প্রচণ্ড গতিতে নেমে আসা সেই জল রাস্তা ভাসিয়ে কালী নদীতে পড়ছে। ঝরনার জল সারা গা ভিজিয়ে দিল। তবে নিজেকে নিয়ে চিন্তা নয়, চিন্তা ক্যামেরাটা নিয়ে। ক্যামেরার ছবি আমার কাছে মহা মূল্যবান, আমার সারা জীবনের সম্পদ, আমার বেঁচে থাকার অক্সিজেন। ক্যামেরা বাঁচিয়ে কোনো রকমে পেরিয়ে এলাম সেই জায়গা।

১২টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম ছায়লেকে। খাওয়ার জন্য সাময়িক বিরতি। আবার পথ চলা শুরু। এ বার নীচে নামার পালা। হালকা বৃষ্টি হচ্ছে, পথ ভয়ংকর পিছল। আশেপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। পাহাড়ের বুকে আমি একা। ট্রেকিং-এ এ রকম হয়, কেউ যায় এগিয়ে, কেউ থাকে পিছিয়ে – যার যেমন চলার সামর্থ্য বা গতি।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ১০/ সেই জ্যোতিদর্শন

পাহাড় থেকে নামতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাঁ পায়ের হাঁটুর ব্যথা প্রচণ্ড বেড়েছে। কিন্তু থেমে গেলে চলবে না। বাধ্য হয়ে ব্যথা কমানোর ওষুধ খেলাম। অনেক নীচে বুধির ক্যাম্প দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই বৃষ্টির তেজ প্রচণ্ড বাড়ল। এক হাতে ছাতা, অন্য হাতে লাঠি নিয়ে, পা টিপে টিপে পরমেশ্বরের নাম করতে করতে এগিয়ে চললাম ক্যাম্পের দিকে।

ঈশ্বরকে মনেপ্রাণে ডাকছি – আর একটা দিন তুমি শক্তি দাও, এতটা রাস্তা যদি হেঁটে আসতে পারি, তা হলে শেষ বেলায় কেন এত পরীক্ষা নিচ্ছ? তোমার কৃপা না থাকলে এতটা পথ আসতে পারতাম না। হাঁটুতে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ব্যথা কমানোর মলম স্প্রে করলাম। একটু যেন স্বস্তি এল। ধীরে ধীরে নেমে চললাম। পৌঁছে গেলাম বুধি। কেএমভিএন-এর এক কর্মীভাই যথারীতি শরবত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের স্বাগত জানাতে। (চলবে)

ছবি: লেখক                 

Continue Reading

দূরে কোথাও

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ১০/ সেই জ্যোতিদর্শন

Published

on

view of Kailas from Kailas

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

Loading videos...

বেলা ১১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম কিউগুতে। মানসের তীরে এই জনপদ। সরোবরের নীল জলরাশি সূর্যের আলোয় হিরের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। শত সহস্র জলকণা সূর্যের আলোয় তারার মতো জ্বলজ্বল করছে। দূরে দেখা যাচ্ছে কৈলাস পর্বত। সরোবর সংলগ্ন এক অতিথিশালায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। আমাদের ঘরের জানলা দিয়ে হাত বাড়ালেই যেন মানসের জলের স্পর্শ পাওয়া যাবে। ঘরে ঢুকেই সবাই বেরিয়ে গেলাম। ছুটলাম মানসের জলে অবগাহন করতে। হিমশীতল জল। বাইরের তাপমাত্রা ৭-৮ ডিগ্রির কাছাকাছি, সঙ্গে প্রবল হাওয়া। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো বাধাই আর বাধা নয়। মানস সরোবর যেন দু’ হাত বাড়িয়ে আমাদের ডাকছে। এই সেই মানস সরোবর। স্বয়ং দেবাদিদেব যেখানে অবগাহন করেন।

কিউগুতে মানস সরোবর।

মানস সরোবরের জলে নেমে স্নান করার ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বালতি করে জল তুলে এনে স্নান করতে হয়। কিন্তু কে মানে সেই বিধিনিষেধ! মানসের জলে নেমে সবাই আনন্দে আত্মহারা। ‘হর হর মহাদেব’ আওয়াজে মুখরিত চারিদিক। মানসের জল আর চোখের অশ্রু মিলেমিশে তখন সব একাকার। মানসের জল তো শুধু জল নয়, এর মধ্যে আছে ঈশ্বরের ছোঁয়া। এ আমার কাছে চরণামৃত। সরোবরের জলে অবগাহন করতে করতে বললাম –

করচরণকৃতং বাক্কায়জং কর্মজং বা শ্রবণনয়নজং বা মানসং বাহপরাধম। / বিহিতমবিহিতং বা সর্বমেতত ক্ষমস্ব জয় জয় করুণাব্ধে শ্রীমহাদেব শম্ভো।।

(হে প্রভু, আমার এই জন্মে হস্তপদের দ্বারা কৃত অপরাধ, বাক্যজ, শরীরজ, কর্মজ, শ্রবণজ, নয়নজ কিংবা মানস অপরাধ, সঞ্চিত কিংবা ভবিতব্য অপরাধ, সব ক্ষমা কোরো।)

সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে সমর্পণ করলাম। হে প্রভু, তুমি না থাকলে এই পুণ্যধামে আমার আসার সুযোগ হত না। কত বাধা, কত বিঘ্ন উপস্থিত হয়েছে। তুমি সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে আমাকে এই পুণ্যধামে নিয়ে এসেছ। এ তোমার অপার মহিমা। আমাকে তোমার চরণে স্থান দাও।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৯/ পরিক্রমা অন্তে হোর-এ

পিতৃপুরুষদের স্মরণ করার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর কিছু হতে পারে না বলে মনে হয় না। পিতৃঋণ থেকে মুক্ত হব, এ আশাও আমি করি না। যত দিন বাঁচব, পিতৃঋণ আমি সানন্দে বহন করতে চাই। এই বলে মানস সরোবরের জল নিয়ে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ শুরু করলাম। তর্পণ করার কোনো সামগ্রীই আমার কাছে ছিল না, সামান্য একটু তিল ছাড়া। সেই তিল হাতে নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে পিতৃদেবকে স্মরণ করে বললাম –

ওঁ পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহি পরমং তপঃ/পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রীয়ন্তে সর্বদেবতাঃ।

কতক্ষণ জলের মধ্যে ছিলাম জানি না, জহরভাইয়ের ডাকে হুঁশ এল – তাড়াতাড়ি চলুন স্যর, হোমযজ্ঞ যে শুরু হয়ে যাবে। মানসের জলে ডুব দিয়ে কিছু পাথর সংগ্রহ করে অতিথিশালার দিকে পা বাড়ালাম।

সরোবরের পাশেই যজ্ঞের স্থান। মুম্বইনিবাসী মুকেশভাই যজ্ঞ করার দায়িত্ব নিলেন। তাঁকে সাহায্য করলেন জহরভাই। যজ্ঞের সামনে বসে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ যেন এক আলাদা অনুভূতি। সবাই মিলে হোম-যজ্ঞে পরমেশ্বরের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করলাম। মুকেশভাই বেদির উপর মাথা ঠুকতে ঠুকতে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্তব পাঠ করতে লাগলেন।

সব তীর্থযাত্রীর চোখে জল। আসলে এই চোখের জল তো শুধুমাত্র জল নয়, এ আনন্দাশ্রু – ঈশ্বরকে দেখার, ঈশ্বরকে কাছে পাওয়ার যে আনন্দ, তারই প্রকাশ। এই বিরল মুহূর্তটাকে ক্যামেরাবন্দি করলাম অতি দ্রুত।

যজ্ঞ শেষ হওয়ার পর অতিথিশালায় ফিরে জানলার ধারে বসে রইলাম। মানস সরোবরের এই রূপ থেকে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। নীল জলের অপর প্রান্তে কৈলাস পর্বত এখনও ঝকঝক করছে। কখন যে চোখ লেগে গিয়েছে, টের পাইনি। জহরভাইয়ের ডাকে ঘুম ভাঙল। রাতের খাওয়া সেরে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। ভোররাতে উঠতে হবে। শুনেছি, ভোররাতেই শিব-পার্বতী মানসের জলে অবগাহন করতে আসেন। চিত্রকল্পটা মনের মধ্যে আঁকতে আঁকতে কখন যে ঘুম এসে গেল!

মানসের ধারে যজ্ঞের আয়োজন।

১৩ আগস্ট। রাত ৩টের সময় সুরজভাইয়ের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। দেখি, কয়েক জন যাত্রী মানসের পাড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাইরে এখন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে। সঙ্গে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া। বাইরে এসে দেখি আমাদের বন্ধুরা সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছেন। সবার মুখে তখন ‘ওঁ নমঃ শিবায়’। ওই মন্ত্র ছাড়া কারও মুখে কোনো কথা নেই। ধীরে ধীরে পুব আকাশে সূর্যের উদয় হল। চারি দিক আলোকিত হয়ে উঠল। কিন্তু স্বপ্নপূরণ হল না। তাঁরা এলেন না। অতিথিশালায় ফিরে এলাম।

আজ আমাদের অখণ্ড অবসর। আজ শুধু মানসের চার পাশে ঘুরে বেড়ানো আর ছবি তোলা। অতিথিশালার সংলগ্ন গুম্ফায় গেলাম। চার দেওয়ালে বৌদ্ধের বাণী আর তৈলচিত্র। বুদ্ধের মূর্তির সামনে বসে এক উপাসক ড্রাম বাজাচ্ছেন। ড্রামের ডুম ডুম আওয়াজ আর ধূপের গন্ধ চারি দিকে স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বুদ্ধের মূর্তির সামনে আমিও বেশ কিছুক্ষণ বসে রইলাম। লাউডস্পিকারে অতি মৃদু স্বরে ভেসে আসছে – বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি (আমি বুদ্ধের শরণ নিলাম)/ধম্মং শরণং গচ্ছামি (আমি ধর্মের শরণ নিলাম)/ সংঘং শরণং গচ্ছামি (আমি সংঘের শরণ নিলাম)। জানতে পারলাম এই গুম্ফা ৩০০ বছরের পুরোনো। ভিতরের তৈলচিত্রগুলোও সেই সময়কার। অথচ এখনও কত উজ্জ্বল।

মানসের ধারে গুম্ফা।

দুপুর হতেই দল বেঁধে চললাম স্নান করতে। কেউ নিয়ম মানছেন না। আশেপাশে কোনো পাহারাদার নেই দেখে সবাই ডুব দিতে জলে নেমে পড়ল। আমিও নেমে পড়লাম মানসের জলে। কাচের মতো স্বচ্ছ জল। সরোবরের অনেক গভীর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।

দুপুরের খাওয়ার পর মানসের জল আনতে ছুটলাম। বোতলে ভরলাম। কলকাতার অনেকেই মানসের জল আনতে বলেছেন। জানি না, এই জল শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক গন্তব্যে পৌঁছোবে কি না। ঘোড়ার পিঠে করে আমাদের মালপত্র যাবে নাজাং পর্যন্ত। সেখান থেকে ট্রাকে করে দিল্লি, তার পর ট্রেনে কলকাতা। তখনও জানতাম না ফেরার সময় আমাদের জন্য কী দুর্যোগ অপেক্ষা করছে।

রাতের খাওয়া শেষ করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে দিল ঘড়ির অ্যালার্ম। হালকা বৃষ্টি পড়ছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। আকাশ মেঘলা থাকলে দৃশ্যমানতা কমে যায়। তবে কি আজও তাঁর দেখা পাব না? এক অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠল। মানস সরোবরে আজই আমাদের শেষ রাত। কাল সকালেই আমরা রওনা দেব তাকলাকোটের উদ্দেশে। হাতে ছাতা নিয়ে মানসের জেটিতে গিয়ে বসলাম। বেশ কিছু যাত্রী অনেক আগে থেকেই অধীর আগ্রহে বসে আছেন। কারও মুখে কোনো কথা নেই। কৈলাসের দিকে তাকিয়ে মনে মনে প্রভুকে ডেকে চলেছি।

ঠিক ৩.২৫ মিনিট। হঠাৎ দেখি মানসের জল স্থির হয়ে গেল। কৈলাস পর্বতের মাথায় একটা হলুদ আলো দপদপ করে জ্বলে উঠল। অনেকটা হ্যালোজেন আলোর মতো। সেই আলোর জ্যোতিতে মানস আলোকিত। আলোটা কৈলাস পর্বত থেকে নেমে এসে মানসের জলে ঘুরপাক খেতে লাগল। ৩০-৪০ সেকেন্ডের পর আলোটা জল থেকে উঠে কৈলাস পর্বতে মিলিয়ে গেল। উত্তেজনায় আমাদের শরীর কাঁপছে, আমরা মূক। কতক্ষণ যে এই ভাবে ছিলাম, জানি না। পাশের যাত্রীর ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে সম্বিত ফিরে পেলাম। নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। এ আমি কী দেখলাম! পরমেশ্বর অবশেষে আমাদের দেখা দিলেন। তা হলে কি সেই কাহিনি সত্যি? সত্যিই কি শিব-পার্বতী ভোররাতে মানসের জলে অবগাহন করতে আসেন?

এই অলৌকিক ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞান আজও দিতে পারেনি। কী ভাবে এই আলোর উৎপত্তি? কেনই বা সেই আলো এসে পড়ে মানসের জলে? আমার সারা শরীর শিহরিত। গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠেছে। সহযাত্রী জহরভাইকে জড়িয়ে ধরলাম। দেখলাম জহরভাই আর সুরজভাই উত্তেজনায় কাঁপছে, মুখে শুধু ‘হর হর মহাদেব’। আমার দু’ চোখে জলের ধারা। পবিত্র মানসের জল মুখে-মাথায় দিলাম। পরমেশ্বরের এই রূপ দেখতেই তো এত কষ্ট করে, বাড়ি-ঘর-সংসার ফেলে এখানে ছুটে আসা। ধীরে ধীরে পুব আকাশে সূর্যদেব দেখা দিলেন। আমরা এখনও বিস্ময়ে বিমূঢ়। (চলবে)

ছবি: লেখক

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
modi rahul pakistan poster boy
দেশ36 mins ago

Coronavirus Second Wave: ‘সরকারে ব্যর্থতাকে’ দুষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন রাহুল গান্ধী

দেশ2 hours ago

Tamil Nadu Oath Ceremony: মন্ত্রীসভায় গান্ধী-নেহরু, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন এমকে স্ট্যালিন

দেশ3 hours ago

Corona Update: দেশের দৈনিক সংক্রমণে আরও কিছুটা বৃদ্ধি, বাড়ল সুস্থতাও

রাজ্য3 hours ago

Bengal Corona Update: গ্রামাঞ্চলেও দাপট বাড়ছে করোনার, মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্য4 hours ago

Bengal Corona Update: থমকে গিয়েছে নিম্নগামী যাত্রা, পর পর পাঁচ দিন রাজ্যের কোভিডমুক্তির হার ঊর্ধ্বমুখী

west bengal lockdown
দেশ5 hours ago

Coronavirus Second Wave: সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের শরণাপন্ন একাধিক রাজ্য, দেখে নিন তালিকা

বিদেশ13 hours ago

বিস্ফোরণে জখম হলেন মলদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, হাসপাতালে ভরতি

দেশ13 hours ago

মুম্বই বিমানবন্দরে পেটে ভর দিয়ে জরুরি অবতরণ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের, যাত্রীরা নিরাপদ

yogi adityanath
দেশ3 days ago

UP Panchayat Polls: বারাণসী, অযোধ্যা, মথুরায় ধরাশায়ী বিজেপি

ক্রিকেট2 days ago

Corona Crisis In IPL: জৈব বলয় ভেদ করে কী ভাবে ঢুকল করোনা, উঠে এল একাধিক কারণ

শিক্ষা ও কেরিয়ার3 days ago

JEE Main 2021: মে মাসের জয়েন্ট এন্ট্রাস (মেইন‌) ২০২১ পরীক্ষা স্থগিত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

রাজ্য2 days ago

Oath Ceremony: তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্য3 days ago

Bengal Corona Update: ঊর্ধ্বমুখী দৈনিক সংক্রমণ, তাল মিলিয়ে বাড়ছে সুস্থতাও

election commission of india
রাজ্য3 days ago

নন্দীগ্রামের সেই রিটার্নিং অফিসারের বাড়তি নিরাপত্তা

রাজ্য2 days ago

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার দাবিতে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্য2 days ago

বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে লোকাল ট্রেন বন্ধ, মেট্রো ও সরকারি বাস অর্ধেক, এক গুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে