সোনায় মোড়া পাহাড় চূড়া যেখানে ভোরের ছবি আঁকে

0

সুশোভন গুপ্ত

হাতে আর মাত্র মাস আড়াই। তার পর থেকেই পাহাড়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। ঝটিকা হোক বা ম্যারাথন — পাহাড় সফর এর মধ্যেই সেরে ফেলা ভালো।
যদি হাতে থাকে দিন পাঁচেক ছুটি আর চোখ এবং শরীরের নির্ভেজাল বিশ্রামের ইচ্ছে, তা হলে আমাদের হাতে ছোট্ট একটা টিপ্‌স আছে।
দক্ষিণ সিকিমের বোরং। রাবাংলা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে। নিপাট ৩টে দিনের খাওয়া-শোওয়া-হাঁটা মার্কা বিশ্রাম এবং যাতায়াত মিলে পাঁচ দিনের বেশি সত্যিই দরকার হয় না। সঙ্গে উইকেন্ডকে জুড়ে নিতে পারলে তো সফরের দৈর্ঘ্য আরও বাড়তেই পারে।

2 (1)
কী আছে বোরং-এ ? কিছুই না। এটাই তো আকর্ষণের মূল জায়গা। ছোট্ট একটা গ্রাম। হাতে গোনা কয়েক ঘর মানুষ। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের একটা ছোট্ট শাখা। এক ঘরের একটা পোস্ট অফিস। ব্যস! আর অবশ্যই ওই থাকার জায়গাটা।
স্থানীয় বাসিন্দা মিস্টার শর্মার কাছ থেকে পাহাড়ের গায়ে কিছুটা জমি লিজে নিয়ে কটেজ তৈরি করে চালাচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের কয়েকটি ছেলে। আজকাল উদ্যোগী বাঙালি যুবক দেখলে ভালোই লাগে। পাহাড়ের ধাপে ধাপে চারটে কটেজ। একটা ফ্যামিলি কটেজ এবং একটা ডর্মেটরি। পুরো জায়গাটাই গাছগাছালিতে ঘেরা। একটা ছোট্ট নার্সারিও রয়েছে। এই চত্বরের ভিতরেই রয়েছে হাতে বানানো কাগজ তৈরির একটা কারখানা এবং সেই কাগজ থেকে তৈরি সামগ্রীর একটি স্টুডিও। দর্শনীয় জিনিস বটে। দু’একটা ছোটখাটো ঘর সাজানোর সামগ্রী কেনাও যেতে পারে। নিয়ে আসা যেতে পারে আত্মীয়-বন্ধুদের জন্য।
কিন্তু জায়গাটার আসল রূপ বোঝা যায় ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলে। শীতের মাসে সেই ওঠাটা কষ্ট করে উঠতে হবে। দাঁড়াতে হবে কটেজের বারান্দায়। অথবা সামনের ফাঁকা জায়গায়। সূর্য উঠতেই খাদের উল্টো দিকের বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়াগুলো সোনার মতো রঙে ঝলসে উঠে চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। এটাই সেরা পাওনা। চোখ সয়ে গেলে পাহাড়ের এই রূপটা অল্প কিছু ক্ষণের মধ্যেই মিইয়ে আসবে। তখন দোলনায় বসে ওই পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে সকালের চা-টা খাওয়ার আমেজই আলাদা। হ্যাঁ, কষ্ট করে ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হবে। ওই যে বললাম, এর পর গোটা দিন হেঁটে-গড়িয়ে বিশ্রামের সুযোগ তো আছেই।

amazon

5 (1)
স্থানীয় কোনও লোককে সঙ্গে নিয়ে আশেপাশের দু’একটি গ্রাম, জঙ্গল, প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে নিন। কিছুটা দূরে একটা উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। এই সময় জল পাওয়া যাবে। তবে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে গোটা একটা বেলা হাতে রাখবেন। হেঁটে যাওয়া আসায় সময় লাগবে।
রান্না এখানে এক কথায় অসাধারণ। রাতের বেলায় মুরগি ছাড়িয়ে বন ফায়ার-ও করতে পারেন। ব্যবস্থা করে দেবেন রিসর্টের কর্মচারীরাই। সঙ্গে একটা ছোট্ট টিপ্‌স — কারও অনুপানের সখ বা অভ্যাস থাকলে আগে থেকে ব্যবস্থা করে নিন। এখানে কিচ্ছুটি পাবেন না।
কী ভাবে যাবেন ? শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনেই গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় রিসর্টের পক্ষ থেকে। ফেরাও সে ভাবেই। প্রায় ছ’ঘণ্টার রাস্তা। আশেপাশের দৃশ্য ভালোই উপভোগ করবেন। যদি মাঝেমধ্যে নেমে মনাস্ট্রি, রাবাংলার বিশাল বুদ্ধমূর্তির মতো দর্শনীয় জায়গাগুলো দেখে নিতে পারেন, সেটা বাড়তি পাওনা।
ছবি: লেখক

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন