২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী, দুর্গাপুজো শুরু। এখনই করে ফেলতে হবে পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা। খবর অনলাইন বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। সাজিয়ে দিচ্ছে কতগুলি ভ্রমণ-ছক। এই পর্বে উত্তরপূর্ব ভারত। এ বার পুজো প্রায় বর্ষায়। এ সময়ে সিকিম বা অরুণাচল যাওয়া পর্যটকদের পক্ষে ঠিক হবে না। জায়গায় জায়গায় ধস নামার আশঙ্কা প্রবল। খবর অনলাইন সাজিয়ে দিল ত্রিপুরা, অসম, মেঘালয়ের ভ্রমণ ছক। তবে পর্যটন সম্পদে ভরপুর ত্রিপুরা এ বারের পুজোয় আপনার গন্তব্য হতেই পারে।

ভ্রমণ-ছক ১: ত্রিপুরা

ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্য হওয়ার ফলে পর্যটন মানচিত্রে ত্রিপুরা কিছুটা ব্রাত্যই। কিন্তু প্রাসাদ, জঙ্গল, পাহাড়, মন্দির, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, সব মিলিয়ে দেশের অন্য কোনো রাজ্যের থেকে কম যায় না ত্রিপুরা।

উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, আগরতলা।

প্রথম দিন – কলকাতা থেকে বিমানে আগরতলা। রাত্রিবাস আগরতলা।

দ্বিতীয় দিন– আগরতলায় ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস আগরতলা।

আগরতলায় দ্রষ্টব্য –

(১) উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ – শহর থেকে ১০ কিমি দূরে।

(২) মহারাজ বীর বিক্রম কলেজ – প্রাসাদ থেকে ৩ কিমি, কলেজের চেয়ে দেখার মতো টিলার টঙে পরিবেশটি।

(৩) চতুর্দশ দেবতা মন্দির ও প্রাসাদ – শহর থেকে ৬ কিমি।

(৪) দেখে আসুন শহর থেকে ২ কিমি দূরে বাংলাদেশ বর্ডার।

কমলাসাগর থেকে বাংলাদেশের কসবা রেলস্টেশন।

তৃতীয় দিন – সকালে আগরতলা থেকে বেরিয়ে পড়ুন। ঘুরে আসুন ২৪ কিমি দূরে কমলাসাগর। কমলাসাগরের অদূরে টিলার ওপর কালীবাড়ি। দেখুন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত হাট। কাঁটাতারের বেড়ার ও-পারে বাংলাদেশকে। দেখা যাবে বাংলাদেশের কসবা রেলস্টেশন। আগরতলা ফিরতেও পারেন অথবা কমলাসাগরে ত্রিপুরা পর্যটনের কুমিল্লা ভিউ টুরিস্ট লজে একটা রাত কাটাতেও পারেন। রাত্রিবাস আগরতলা/কমলাসাগর।

সিপাহিজলার চশমা বাঁদর।

চতুর্থ দিন – গন্তব্য সিপাহিজলা অভয়ারণ্য হয়ে মেলাঘর। সিপাহিজলায় দেখুন চশমা বাঁদর-সহ নানা প্রাণী। অভয়ারণ্যের মধ্যে রয়েছে লেক। কমলাসাগর থেকে সিপাহিজলা হয়ে মেলাঘর ৪৬ কিমি। আগরতলা থেকে সিপাহিজলা অভয়ারণ্য হয়ে মেলাঘর ৪৭ কিমি। মেলাঘর থেকে চলুন রুদ্রসাগর, ২ কিমি। বিশাল সরোবর রুদ্রসাগর, এর তীরে নীরমহল প্রাসাদ। কিন্তু নীরমহল দেখতে হলে নৌকায় রুদ্রসাগর পেরোতে হবে। সন্ধ্যায় দেখে নিন নীরমহলের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। রাত্রিবাস মেলাঘর।

পঞ্চম দিন – গন্তব্য পিলাক। দূরত্ব ৬১ কিমি। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিখ্যাত পিলাক। দেখে নিন পিলাক থেকে ১৮ কিমি দূরে মহামুনি প্যাগোডা, কালাপানিয়া নেচার পার্ক (১৪ কিমি)। রাত্রিবাস পিলাক।

ষষ্ঠ দিন – পিলাক থেকে ঘুরে আসুন তৃষ্ণা অভয়ারণ্য। দক্ষিণ ত্রিপুরার এই অভয়ারণ্যে দেখতে পাওয়া যায় গাউর। যাতায়াত ৬৫ কিমি। রাত্রিবাস পিলাক।

সপ্তম দিন – সক্কালেই চলে আসুন উদয়পুর। দূরত্ব ৪৮ কিমি। রবীন্দ্রনাথের ‘রাজর্ষি’ ও ‘বিসর্জন’ খ্যাত ভুবনেশ্বরী মন্দির, মাতাবাড়িতে (৬ কিমি) সতীপীঠ ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, তেপানিয়া ইকো পার্ক (৪ কিমি, পারলে) দেখে ঘুরে আসুন ছবিমুড়া (৩৮ কিমি)। ছবিমুড়ায় গোমতী নদীতে নৌকায় ভেসে দেখুন পাহাড়ের গায়ে খোদিত ১৫-১৬ শতকের নানা শিল্পকর্ম।  রাত্রিবাস উদয়পুর।

জম্পুই হিলস্‌।

অষ্টম দিন – গন্তব্য মিজোরাম সীমানায় জম্পুই হিলসের পাদদেশে ভাংমুনে। দূরত্ব ২১৫ কিমি। রাত্রিবাস ভাংমুনে।

নবম দিন– জম্পুই হিলসের প্রকৃতি উপভোগ করুন। টুরিস্ট লজ থেকে সূর্যোদয় উপভোগ করুন। সূর্যাস্ত দেখতে চলুন ৩০ কিলোমিটার দূরে বেটলিংচিপ-এ। ভাংমুন হেলিপ্যাড থেকেও সূর্যাস্ত দেখা যায়। বেটলিংচিপ পাহাড়ে আছে শিবমন্দির। রাত্রিবাস ভাংমুন।

উনকোটির পাহাড়ে ভাস্কর্য।

দশম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, গন্তব্য কৈলাশহর/ধর্মনগর। ধর্মনগর ৭৭ কিমি, কৈলাশহর ৯১ কিমি। চলুন উনকোটি। উনকোটিকে বিখ্যাত করেছে এখানকার পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা শিল্পকর্ম। জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়, গা ছমছমে পরিবেশ। কৈলাশহর থেকে ১০ এবং ধর্মনগর থেকে ১৯ কিমি। রাত্রিবাস কৈলাশহর/ধর্মনগর।

একাদশ দিন – ফিরুন আগরতলা। ধর্মনগর থেকে দুরত্ব ১৭১ কিমি, কৈলাশহর থেকে ১৪০ কিমি। রাত্রিবাস আগরতলা।

দ্বাদশ দিন – সকালের বিমানে কলকাতা ফিরুন।

মনে রাখবেন

(১) আগরতলা থেকে কলকাতা সারা দিনে অসংখ্য বিমান। তাই কলকাতা থেকে খুব সকালে বিমান ধরতে পারলে সে দিনই আগরতলা শহর ঘুরে নেওয়া যায়। কৈলাশহর বা ধর্মনগর থেকে ফিরে সে দিনই আগরতলা থেকে কলকাতার বিমান ধরা যায়। এই ভাবে ১০ দিনেই সাঙ্গ করা যায় ত্রিপুরা ভ্রমণ। আরও তাড়া থাকলে জম্পুই হিলসে ১ দিনও থাকতে পারেন। তা হলে ৯ দিনেই সাঙ্গ হয় ত্রিপুরা ভ্রমণ। তবে জম্পুই হিলসে এক দিন থাকলে বুড়ি ছোঁয়া হয়, ‘চির বসন্তের দেশ’ উপভোগ করা যায় না।

(২) কলকাতা থেকে আগরতলা এখন ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে। হাতে যদি সময় থাকে তা হলে অন্তত একটা যাত্রা ট্রেনে করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি সেকশনের ট্রেন যাত্রা উপভোগ করতে পারবেন। শিয়ালদহ থেকে প্রতি বৃহস্পতি এবং রবিবার সকাল ৬:৩৫ মিনিটে ছেড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস প্রতি শুক্র এবং সোমবার রাত ন’টায় আগরতলা পৌঁছোয়। ফিরতি ট্রেনটি প্রতি মঙ্গল এবং শনিবার ভোর ৫:১৫-এ আগরতলা থেকে ছেড়ে শিয়ালদহ পৌঁছোয় বুধ এবং রবিবার সন্ধ্যা ৭:২৫-এ।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) ভ্রমণ যে হেতু আগরতলায় শুরু হয়ে আগরতলায় শেষ, তাই একটা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরলে সব থেকে আরামদায়ক হবে। তবে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্য বাস সার্ভিস আছে। তবে তাতে সময়সূচি রক্ষা করা কঠিন।

(২) ত্রিপুরা সরকারের প্যাকেজ ট্যুরেও ঘুরতে পারেন। তবে এক সঙ্গে সবটা কভার হবে না। দেখুন ত্রিপুরা পর্যটনের ওয়েবসাইট  www.tripuratourism.gov.in।

কোথায় থাকবেন

ত্রিপুরা পর্যটন এখন অনেক বেশি উন্নত। সব জায়গাতেই রয়েছে পর্যটন উন্নয়ন নিগমের টুরিস্ট লজ। অন্য রাজ্যের সরকারি হোটেলের থেকে ভাড়াও তুলনায় অনেক কম। আগরতলায় আছে গীতাঞ্জলি গেস্ট হাউস, কমলাসাগরে রয়েছে কুমিল্লা ভিউ টুরিস্ট লজ, মেলাঘরে আছে সাগরমহল টুরিস্ট লজ, পিলাকে রয়েছে পিলাক টুরিস্ট লজ, উদয়পুরে রয়েছে গোমতি যাত্রী নিবাস, জাম্পুইয়ে আছে ইডেন টুরিস্ট লজ, কৈলাশহরে আছে ঊনকোটি টুরিস্ট লজ এবং ধর্মনগরে রয়েছে জুরি টুরিস্ট লজ। সব হোটেল অনলাইনে বুক করা যায় ত্রিপুরা পর্যটনের ওয়েবসাইটে গিয়ে  www.tripuratourism.gov.in।

এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারি হোটেল আছে। হোটেল বুকিং-এর ওয়েবসাইটগুলিতে গিয়ে অনলাইন বুক করতে পারেন।

আরও পড়ুন পুজোর ভ্রমণ-ছক/খবর অনলাইনের বাছাই: কেরল

ভ্রমণ-ছক ২: অসম-মেঘালয়

অভয়ারণ্যের জন্য বিখ্যাত অসম। কিন্তু এ বার পুজোর সময়টা এমন যখন কোনো অভয়ারণ্য অর্থাৎ কাজিরাঙা, মানস, নামেরি, কিছুই খুলবে না। তাই এ বার পুজোয় অসম গেলে পর্যটকদের স্বাদ কিছুটা অপূর্ণই থেকে যাবে। তবুও আমরা ভ্রমণসূচি তৈরি করে দিলাম।

কামাখ্যা মন্দির।

প্রথম দিন – গুয়াহাটির উদ্দেশে ট্রেন। গুয়াহাটি যাওয়ার সব থেকে ভালো ট্রেন সরাইঘাট এক্সপ্রেস। প্রতি দিন বিকেল ৩:৩০-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে গুয়াহাটি পৌঁছোয় পরের দিন সকালে ৯:৪০-এ। কামরূপ এক্সপ্রেস প্রতি দিন বিকেল ৫:৩৫-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে গুয়াহাটি পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:৩৫-এ। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস প্রতি দিন সকাল ৬:৩৫-এ শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে গুয়াহাটি পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৪টেয়।

এই দ্বীপেই উমানন্দ মন্দির।

দ্বিতীয় দিন ও তৃতীয় দিন – থাকুন গুয়াহাটিতে। এখানে অবশ্য দ্রষ্টব্য —

(১) কামাখ্যা মন্দির — শহর থেকে ৯ কিমি দূরে নীলাচল পাহাড়ে কামাখ্যা মন্দির।

(২) ভুবনেশ্বরী মন্দির — কামাখ্যাদেবীকে পুজো দিয়ে চলুন নীলাচল পাহাড়ের মাথায় ভুবনেশ্বরী মন্দিরে। কামাখ্যা থেকে ১ কিমি। ভুবনেশ্বরী মন্দির চত্বর থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য ভোলার নয়।

(৩) উমানন্দ মন্দির — ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝে পিকক আইল্যান্ড। সেখানে উমানন্দ মন্দির। দেবী কামাখ্যার ভৈরব। এখানেই রয়েছে চন্দ্রশেখর মন্দির। কাছারি ঘাট বা ফ্যান্সিবাজার ফেরি ঘাট থেকে বোটে চেপে ব্রহ্মপুত্রের ওপর দিয়ে উমানন্দ যাওয়া এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

(৪) বশিষ্ঠ আশ্রম – শহর থেকে ১২ কিমি দূরে, পাহাড় থেকে নেমে আসা তিনটি ঝরনাধারায় সৃষ্টি হয়েছে বশিষ্ঠ গঙ্গা। কাছেই বশিষ্ঠ মন্দির, শিব মন্দির।

(৫) চিড়িয়াখানা।

চতুর্থ দিন – চলুন তীর্থস্থান হাজো। গুয়াহাটি থেকে দূরত্ব ৩৫ কিমি। হিন্দু, বৌদ্ধ এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে খুব পবিত্র তীর্থস্থান। খুব কাছেই শুয়ালকুছি, মুগা শিল্পীদের গ্রাম।

শিলং-এর এই বাড়িতেই ছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

পঞ্চম দিন – একটা গাড়ি নিয়ে যাত্রা করুন শিলং-এর উদ্দেশে। দূরত্ব ৯৯ কিমি। গুয়াহাটি থেকে নিয়মিত বাসও আছে। পথে পড়বে উমিয়াম লেক তথা বড়াপানি। রাত্রিবাস শিলং।

ষষ্ঠ দিন — আজও থাকুন শিলং-এ। দেখে নিন —

(১) ওয়ার্ডস লেক ও বোটানিল্যাল গার্ডেন। (২) ক্যাথলিক ক্যাথিড্রাল। (৩) ১০ কিমি দূরে শিলং পিক (৬৪৪৫ ফুট)। (৪) শিলং পিক যাওয়ার পথেই এলিফ্যান্ট ফলস্‌। (৫) শিলং গলফ্‌ কোর্স। (৬) ৫ কিমি দূরে বিশপ ও বিডন ফলস। (৭) রিবং-এ রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি-বিজড়িত ‘মালঞ্চ’ বাড়ি। (৮) ওয়াংখার বাটারফ্লাই মিউজিয়াম ইত্যাদি।

সেভেন সিস্টার্স ফলস্‌, চেরাপুঞ্জি।

সপ্তম দিন – খাসি পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে শিলং থেকে চলুন চেরাপুঞ্জি। দূরত্ব ৫৪ কিমি। চেরাপুঞ্জিতে দেখুন রামকৃষ্ণ মিশন (চেরাপুঞ্জির একটু আগে), নোহকালিকাই ফলস্‌, ইকো পার্ক, সেভেন সিস্টার ফলস্‌, খাংখারাং পার্ক, নংগিথিয়াং ফলস্‌, মওসমাই কেভ এবং ডবল ডেকার রুট ব্রিজ। রাত্রিবাস চেরাপুঞ্জি।

এশিয়ার সব চেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম।

অষ্টম দিন – চলুন মওলিনং। এশিয়ার সব থেকে পরিচ্ছন্ন গ্রাম। চেরাপুঞ্জি থেকে দূরত্ব ৮০ কিমি। গ্রামের মাঝে সুন্দর চার্চ, পাশ দিয়ে বয়ে গেছে থাইলাং নদী। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ থাইলাং-এর ওপর লিভিং রুট ব্রিজ। আরও দু’টি দ্রষ্টব্য ব্যালান্সিং রক এবং স্কাই ভিউ পয়েন্ট। রাত্রিবাস মওলিননং।

নবম দিন – মওলিননং থেকে চলুন বাংলাদেশ সীমান্তে প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য ডাওকি। দুরত্ব ৩০ কিমি। ডাওকি দেখে ফিরে চলুন শিলং হয়ে গুয়াহাটি। দূরত্ব ১৮০ কিমি। রাত্রিবাস গুয়াহাটি।

একাদশ দিন – বাড়ি ফেরার ট্রেন ধরুন। প্রতিদিন দুপুর সাড়ে বারোটায় গুয়াহাটি থেকে ছেড়ে পরের দিন ভোর ৫:১০-এ হাওড়া পৌঁছোয় সরাইঘাট এক্সপ্রেস। কামরূপ এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটায় গুয়াহাটি থেকে ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৫:৪৫-এ। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ১০:৫৫-এ গুয়াহাটি  থেকে ছেড়ে শিয়ালদহ পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা ৭:২৫-এ।

ডাবল ডেকার রুট ব্রিজ।

মনে রাখবেন

(১) ডবল ডেকার রুট ব্রিজ যেতে হলে সিঁড়ি দিয়ে ২৫০০ ফুট নামতে হবে আবার উঠে আসতে হবে। মোটামুটি একটা দিনের ধাক্কা। সুতরাং ডবল ডেকার রুট ব্রিজ দেখতে হলে চেরাপুঞ্জিতে আরও একটা দিন থাকা বাঞ্ছনীয়। আর হাঁটুর জোর থাকলেই এ পথে যাবেন, নচেৎ নয়।

(২) শিলং-এ জেল রোডে অবস্থিত ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার (০৩৬৪-২২২৬২২০) মেঘালয় ঘোরার তথ্য পেতে পারেন।

(৩) ওয়াংখার বাটারফ্লাই মিউজিয়াম শনি ও রবিবার বন্ধ থাকে।

(৪) গুয়াহাটিতে কামাখ্যা মন্দিরের খোলা-বন্ধের সময় আগাম জেনে নিলে বেড়ানোর প্ল্যান করতে সুবিধা হবে।

কী ভাবে ভ্রমণ করবেন

(১) গুয়াহাটিতে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে ঘুরে নেওয়াই সব থেকে ভালো। গুয়াহাটি থেকে শিলং বাসে আসতে পারেন। তার পর লোকাল ট্যাক্সিতে শিলং ঘুরে নিয়ে ওই গাড়ি নিয়েই চেরাপুঞ্জি-মাওলিননং ঘুরে এসে শিলং ছেড়ে দিন। শিলং থেকে বাসে ফিরুন গুয়াহাটি।

(২) শিলং-এ পুলিশবাজার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে গাড়ি ভাড়ার তালিকা দেওয়া আছে।

কোথায় থাকবেন

গুয়াহাটি স্টেশনের কাছেই রয়েছে অসম পর্যটক উন্নয়ন নিগমের প্রশান্তি টুরিস্ট লজ। কিন্তু অনলাইনে বুকিং-এর কোনো ব্যবস্থা নেই। বুকিংয়ের জন্য অসম পর্যটনে যোগাযোগ ০৩৬১-২৫৪৭১০২/২৫৪২৭৪৮/২৫৪৪৪৭৫। কলকাতা অফিসে যোগাযোগ ০৩৩-২২২৯৫০৯৪। এ ছাড়া শহরে বিভিন্ন মানের বিভিন্ন দামের বেসরকারি হোটেল রয়েছে। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তার খোঁজ পেয়ে যাবেন।

শিলং শহর জুড়ে হোটেলের ছড়াছড়ি। মেঘালয় পর্যটনের হোটেল পাইনউড (০৩৬৪-২২২৩১১৬), হোটেল অর্কিড (০৩৬৪-২২২৪৯৩৩)। অনলাইনে বুক করতে পারেন mtdc.nic.in। চেরাপুঞ্জিতে থাকার ভালো জায়গা চেরাপুঞ্জি হলিডে রিসর্ট (০৯৪৩৬১১৫৯২৫) আর মাওলিননং-এ থাকুন মাওলিনং গেস্টহাউজ (০৯৮৩০২০৩৯৭৩), ইলা জঙ্গ গেস্টহাউজ (০৯৬১৫০৪৩০২৭) বা স্কাই ভিউ গেস্টহাউজে (০৮৭৩১০৯৫৮০৭, ০৮৫৭৫৬১৫৮৭৭)।

ভ্রমণ-ছক ৩: অসম

অসম মানেই পর্যটকদের কাছে গুয়াহাটি বা কাজিরাঙা, কিংবা অরুণাচলগামী পর্যটকদের কাছে ভালুকপং। তবে খুব সুন্দর একটি পাহাড়ি শহর রয়েছে অসমে। হাফলং। উচ্চতা ৩,২০০ ফুট। হাফলং-কে কী ভাবে সূচিতে ঢোকাবেন তারই সন্ধান দেওয়া হল।

প্রথম থেকে তৃতীয় দিন – ভ্রমণ ছক-২-এর মতো।

চতুর্থ দিন– হাজো ঘুরে বিকেলের মধ্যে গুয়াহাটি ফিরুন। রাতের ট্রেনে বেরিয়ে পড়ুন হাফলং-এর উদ্দেশে। গুয়াহাটি-শিলচর প্যাসেঞ্জার প্রতিদিন রাত ১১:৫৫-এ ছেড়ে, নিউ হাফলং পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৮:৫৫-এ। তবে দিনের বেলায় রেলপথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে যাওয়ার জন্য রয়েছে দু’টি সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস। নয়াদিল্লি-শিলচর এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার সকাল ৯:১০-এ গুয়াহাটি থেকে ছেড়ে, নিউ হাফলং পৌঁছোয় বিকেল ৩:৩৫-এ। রয়েছে নয়াদিল্লি-আগরতলা ত্রিপুরাসুন্দরী এক্সপ্রেস। ট্রেনটি বুধবার চলে। সময় একই। সে ক্ষেত্রে হাজো ঘুরে পরের দিন সকালের ট্রেন ধরুন।

পঞ্চম দিন – হাফলং পৌঁছোন। ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস হাফলং।

ষষ্ঠ দিন – হাফলং ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস।

হাফলং লেক।

বরাইল পর্বতমালায় ৩০০০ ফুট উচ্চতার শৈলশহর হাফলং। অসমের একমাত্র হিলস্টেশন। এখানে দেখবেন —

হাফলং লেক, গরম জলের প্রস্রবণ, ঝুলন্ত ব্রিজ, প্রাচীন সার্কিট হাউস, প্রাচীন কালীবাড়ি এবং হাফলং চার্চ। ঘুরে আসতে পারেন ৯ কিমি দূরের জাটিঙ্গা, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে কৃষ্ণপক্ষের রাতে পাখিদের আত্মহননের জন্য খ্যাত।

সপ্তম দিন – আসুন বাঙালির শহর শিলচরে। দূরত্ব ৯৬ কিমি। হাফলং থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে আসুন শিলচর। ঘোরাঘুরি, রাত্রিবাস শিলচর। হাফলং থেকে ট্রেনেও আসতে পারেন শিলং, তবে ঘন্টা পাঁচেক সময় লাগে।

অষ্টম দিন – সারা দিন শিলচর ঘোরাঘুরি। বিকেলের বিমানে ফিরুন কলকাতা।

শিলচরে দেখবেন বরাক নদীর পাড় থেকে সূর্যোদয়, গান্ধী বাগে ভাষা আন্দোলনের শহিদ স্তম্ভ, কাছাড় ক্লাব, কাছাড়ি রাজবাড়ি, কাঁচাকান্তি কালীমন্দির (শহর থেকে ১৭ কিমি) এবং ভুবন পাহাড়ে ভুবনেশ্বরী মন্দির (শহর থেকে ৫০ কিমি)।

বরাক নদী, শিলচর।

মনে রাখবেন

(১) পঞ্চম দিন সকালে হাফলং পৌঁছে গেলে সে দিনই হাফলং ঘুরে নেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে ভ্রমণ ১ দিন কমতে পারে।

(২) হাতে কয়েকটা দিন থাকলে শিলচর থেকে চলে যাওয়া যায় শিলং, ২১৫ কিমি। মেঘালয় পরিবহণের নানা ধরনের বাস এই রুটে চলে নিয়মিত। শিলং পৌঁছে ভ্রমণ ছক ২-এর মতো করে ঘোরা যায়। অথবা শুধু শিলং- চেরাপুঞ্জি ঘুরে গুয়াহাটি চলে আসা যায়।

(৩) অথবা ভ্রমণ ছক ২-এর মতো ঘুরে গুয়াহাটি ফিরেও হাফলং-শিলচর চলে যাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে ভ্রমণ সূচি দিন পনেরোর হবে।

(৪) শিলচর থেকে কলকাতা ট্রেনেও ফিরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে উপভোগ করবেন ট্রেনপথের সৌন্দর্য। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, প্রতি সোম, বুধ এবং শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় ছেড়ে শিয়ালদহ পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা ৭:২৫-এ।

কী ভাবে ঘুরবেন

একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে গুয়াহাটি শহরে ঘুরে নিন। গুয়াহাটি থেকে ট্রেনে আসুন হাফলং। সেখান থেকে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে, হাফলং শহর ঘুরে শিলচর চলে আসুন। শিলচরে ওই গাড়িকে ছেড়ে দিন।

কোথায় থাকবেন

হাফলং-এ রয়েছে অসম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের টুরিস্ট লজ। শিলচরে আছে প্রশান্তি টুরিস্ট লজ। অনলাইনে বুকিং-এর কোনো ব্যবস্থা নেই। বুকিংয়ের জন্য অসম পর্যটনে যোগাযোগ ০৩৬১-২৫৪৭১০২/২৫৪২৭৪৮/২৫৪৪৪৭৫। কলকাতা অফিসে যোগাযোগ ০৩৩-২২২৯৫০৯৪। এ ছাড়া দুই শহরের কিছু বেসরকারি হোটেল রয়েছে। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তার খোঁজ পেয়ে যাবেন।

খেয়াল রাখবেন

অসম এবং ত্রিপুরা অতিভূমিকম্প প্রবণ রাজ্য। গড়ে মাসে তিন-চার করে ছোটো ছোটো ভূমিকম্পে এখানকার মাটি কেঁপে ওঠে। তবে বড়ো মাপের ভূমিকম্প খুব একটা হয় না, তাই অযথা আতঙ্কিত হবেন না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here