পুজোর ছুটিতে বেড়ানোর জন্য খবর অনলাইন উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে সাজিয়ে দিয়েছে পাঁচটি ভ্রমণ-ছক, গাড়োয়াল থেকে তিনটি এবং কুমায়ন থেকে দু’টি। প্রথাগত চার ধামযাত্রার বাইরে রয়েছে একটি ‘অন্য গাড়োয়াল’ ভ্রমণ। চলুন না, এ বার ‘অন্য গাড়োয়াল’ ভ্রমণে। আর কুমায়ুনে চিরপরিচিত জায়গা ছেড়ে যাওয়া যেতেই পারে অল্প চেনা কুমায়ুনে।

ভ্রমণ-ছক ১: চার ধামের বাইরে অন্য গাড়োয়াল

প্রথম দিন – ট্রেন। হাওড়া থেকে দেহরাদুন যাওয়ার জন্য সব থেকে ভালো ট্রেন উপাসনা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১টায় হাওড়া ছেড়ে দেহরাদুন পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা ছ’টায়। রয়েছে দুন এক্সপ্রেস, প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটায় হাওড়া থেকে ছেড়ে দেহরাদুন পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল সাড়ে সাতটায়।

দ্বিতীয় দিন – উপাসনা এক্সপ্রেসে এলে রাত্রিবাস দেহরাদুন।

তৃতীয় দিন – দুনে এক্সপ্রেসে এলে সকালে পৌঁছন দেহরাদুন। টনস্‌ নদীর তীরে তপকেশ্বর মহাদেব (স্টেশন থেকে সাড়ে ৫ কিমি), সহস্রধারা (১৩ কিমি) ও টনস্‌ নদীর কাছে রবার্স কেভ (৮ কিমি) দেখে যাত্রা করুন ডাকপাথারের উদ্দেশে। দূরত্ব ৪০ কিমি। রাত্রিবাস যমুনার ধারে ডাকপাথারে।

রেণুকাজি, হিমাচল।

চতুর্থ দিন – ডাকপাথার থেকে প্রথমে চলুন হিমাচলের পাওনটা সাহেব — গুরু গোবিন্দ সিং-এর স্মৃতিবিজড়িত, ২৫ কিমি। এর পর আরও ৬ কিমি গিয়ে নাহান – শিবালিকের কোলে সুন্দর পাহাড়ি শহর। সব শেষে আরও ৪৫ কিমি গিয়ে রেণুকাজি, হিমাচলের বৃহত্তম লেক, পাহাড়ে ঘেরা। পরশুরামের মায়ের নামে লেক, রয়েছে পরশুরাম লেকও। তার পাড়ে পরশুরাম মন্দির। আরও নানা মন্দির। ফিরুন গিরি নদীর পাড় ধরে পাওনটা হয়ে ডাকপাথারে, ৭২ কিমি। পথে পড়বে যমুনার ওপর আসান ব্যারেজ, ডাকপাথারের ১১ কিমি আগে। রাত্রিবাস ডাকপাথার।

চক্রাতা থেকে বন্দরপুঞ্ছ।

পঞ্চম দিন – ডাকপাথার থেকে চলুন শৈলশহর চক্রাতা (২১৫৩ মিটার), দূরত্ব ৫১ কিমি। পথেই পড়বে কালসি, ডাকপাথার ছাড়িয়ে ৭ কিমি। এখানে দেখে নিন ১৮৬০ সালে আবিষ্কৃত সম্রাট অশোকের শিলালিপি। এখান থেকেই গাড়ি উঠতে শুরু করে পাহাড়ে, পৌঁছে যায় সেনাশহর চক্রাতায়। বন্দরপুঞ্ছ দৃশ্যমান। রাত্রিবাস চক্রাতা।

কানাসার।

ষষ্ঠ দিন ও সপ্তম দিন – অন্তত এই দু’টো দিনও থাকতে হবে চক্রাতায়।

চক্রাতায় দ্রষ্টব্য –

(১) খারাম্বা চুড়ো (৩০৮৪ মি) – ৩ কিমি।

(২) চিরিমিরি লেক – ২ কিমি।

(৩) থানাডাণ্ডা — চিরিমিরি লেক থেকে ১ কিমি চড়াই উঠে।

(৪) রামতাল গার্ডেন – ৮ কিমি।

(৫) চিন্তাহরণ মহাদেব – চক্রাতা বাজার থেকে কিছুটা নেমে।

(৬) কানাসার – বিশাল বিশাল কাণ্ডওয়ালা দেবদারুর জঙ্গল ও কানাসার দেবতার মন্দির ২৬ কিমি।

(৭) দেওবন – তুষারমৌলী হিমালয়ের দৃশ্য। ১০ কিমি, শেষ ২ কিমি হাঁটা।

(৮) চুরানি – ১৮ কিমি, সুন্দর নৈসর্গিক দৃশ্য।

(৯) টাইগার ফলস্‌ – ৫ কিমি।

(১০) লাখামণ্ডল – নানা দেবতার মন্দিররাজি। পাহাড়ের গায়ে বিশাল কিছু গহ্বর। জনশ্রুতি, পঞ্চপাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল লাক্ষার জতুগৃহ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বার্নি নদী।

কেম্পটি ফলস্‌।

অষ্টম দিন – চলুন মুসৌরি, ৮০ কিমি। পথে দেখে নিন কেম্পটি ফলস। রাত্রিবাস মুসৌরি।

নবম দিন – আজও থাকুন মুসৌরিতে। হাঁটাহাঁটি করুন ম্যালে। দেখে নিন ক্যামেলস ব্যাক রোডে দুর্গা মন্দির, ভাট্টা ফলস, নাগ দেবতা মন্দির, গান হিল পয়েন্ট, মোসি ফলস, ফ্লাগ হিল, লাল টিব্বা (২৬১০ মি)। গান হিল বেড়িয়ে নিন রোপওয়ে চেপে। রাত্রিবাস মুসৌরি।

ধনৌলটি থেকে গঙ্গোত্রী রেঞ্জ।

দশম দিন – মুসৌরি থেকে ধনৌলটি (২২৮৬ মি)। দূরত্ব ৩২ কিমি। মুসৌরি থেকে এলে ধনৌলটিতে রাস্তার বাঁ দিক বরাবর গাড়োয়াল হিমালয়ের বিশাল রেঞ্জ চোখে পড়ে। সকাল সকাল চলে আসুন, যাতে সারা দিন হাঁটাহাঁটি করে কাটাতে পারেন। ইচ্ছে হলে চলুন ৩০৪৯ মিটার উচ্চতায় সুরখণ্ডাদেবীর (দুর্গা) মন্দির। চাম্বার পথে ৫ কিমি গিয়ে ২ কিমি চড়াই ভাঙা। হিমালয়ের দৃশ্য ভোলার নয়। বিকেল হওয়ার আগে চলুন ধনৌলটি ভিউ পয়েন্ট। দেড় কিমি ট্রেক। উপরে উঠে বিস্তীর্ণ বুগিয়াল। নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস ধনৌলটি।

একাদশ দিন – ধনৌলটি থেকে চলুন খিরসু, ১৪৬ কিমি। পথ চাম্বা-নিউ টিহরি-শ্রীনগর (কাশ্মীরের নয়) হয়ে। হিমালয়ের দিগন্তবিস্তৃত শিখররাজির জন্য খ্যাতি খিরসুর (১৭০০ মি)। রাত্রিবাস খিরসু।

খিরসু থেকে। একেবারে ডান দিকে চৌখাম্বা।

দ্বাদশ দিন – খিরসু থেকে চলুন পৌড়ি (১৯ কিমি, ১৮১৪ মি)। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে ত্রিশূল, হাতি পর্বত, নীলকণ্ঠ, কেদারনাথ, চৌখাম্বা, ভৃগুপন্থ, গঙ্গোত্রী গ্রুপ, বন্দরপুঞ্ছ ছাড়াও তুষারে মোড়া হিমালয়ের শিখররাজির শোভা দেখুন। দেখুন বাসস্ট্যান্ডে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ২ কিমি দূরে ঘন জঙ্গলে কান্ডোলিয়া শিবমন্দির। রাত্রিবাস পৌড়ি।

ত্রয়োদশ দিন – চলুন ল্যান্সডাউন (১৭১৬ মি), ৮৬ কিমি। রাত্রিবাস ল্যান্সডাউন।

চতুর্দশ দিন – আজও থাকুন ল্যান্সডাউনে। টিপ-এন-টপ পয়েন্ট থেকে দেখুন অসংখ্য গিরিশিরা। রমণীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। আরও দেখুন দরওয়ান সিং মিউজিয়াম, ভুল্লা তাল, সেন্ট মেরি চার্চ, সেন্ট জন চার্চ, কালেশ্বর শিব মন্দির, শাকম্ভরী মন্দির, সেনাবাহিনীর দুর্গা মন্দির।

ভুল্লা তাল, ল্যান্সডাউন।

পঞ্চদশ দিন – ল্যান্সডাউন থেকে নাজিবাবাদ এসে সেখান থেকে ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। দূরত্ব ৬৩ কিমি। পথে সম্ভব হলে দেখে নিন কোটদ্বার থেকে ১৪ কিমি দূরে কণ্বাশ্রম, শকুন্তলার বড়ো হওয়ার জায়গা কণ্ব মুনির আশ্রম।

(নাজিবাবাদ থেকে হাওড়া ফেরার জন্য রয়েছে দুন এক্সপ্রেস। রাত ১১:৪৫-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬:৫৫-এ। রয়েছে অমৃতসর-হাওড়া মেল, রোজ রাত ২.৫০-এ, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৭টায়। রয়েছে অকাল তখৎ এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১:০৫-এ ছেড়ে কলকাতা স্টেশন পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:১৫-এ। এ ছাড়া আছে ডাউন জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস। প্রতিদিন সকাল ৮টায় ছেড়ে কলকাতা স্টেশন পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:৫৫-এ।)

(পঞ্চদশ দিন ল্যান্সডাউন থেকে হরিদ্বার চলে আসতে পারেন। দূরত্ব ১০৬ কিমি। হরিদ্বার থেকে হাওড়া ফেরা — ভ্রমণ-ছক ২-এর চতুর্দশ দিন দেখুন।)

———————————————————————-

ভ্রমণ-ছক ২:  গঙ্গোত্রী-বদরীনাথ

প্রথম দিন – হরিদ্বারের উদ্দেশে ট্রেন। হাওড়া থেকে হরিদ্বার যাওয়ার জন্য রয়েছে উপাসনা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর একটায় ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:৫০-এ। রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস, মঙ্গল এবং শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন দুপুর একটায় হাওড়া থেকে ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৪:৩৫। রয়েছে দুন এক্সপ্রেসও। হাওড়া থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে হরিদ্বার তৃতীয় দিন ভোর পৌনে ৫টায়।

(দিল্লি হয়েও আসতে পারেন। হাওড়া থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে বা শিয়ালদহ থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে দ্বিতীয় দিন দিল্লি আসুন। দিল্লি থেকে হরিদ্বার ১৮০ কিমি। গাড়িতে আসতে পারেন, মুহুর্মুহু বাসও পাবেন।)

দ্বিতীয় দিন – উপাসনা বা কুম্ভ এক্সপ্রেসে বা দিল্লি হয়ে এলে রাত্রিবাস হরিদ্বার।

তৃতীয় দিন – হরিদ্বার থেকে উত্তরকাশী (ভোরে দুন এক্সপ্রেসে এলেও)। দূরত্ব ১৮৫ কিমি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী (১১৫৮ মি)।

উত্তরকাশী।

চতুর্থ দিন – সকালে উত্তরকাশীর বিশ্বনাথ ও অন্যান্য মন্দির দেখে এবং ভাগীরথীর ধারে কেদারঘাট ঘুরে চলুন ভাগীরথী উপত্যকায় পাইন ও দেওদারে ছাওয়া অনুপম সৌন্দর্যের পাহাড়ি জনপদ হরসিল (২৬২০ মি), দূরত্ব ৭৫ কিমি। পথে দেখে নিন গাংনানির উষ্ণপ্রস্রবণ। রাত্রিবাস হরসিল।

গঙ্গোত্রী মন্দির।

পঞ্চম দিন – ঘুরে আসুন গঙ্গোত্রী (৩০৪২ মি), ২৫ কিমি। রাত্রিবাস হরসিল।

ষষ্ঠ দিন – হরসিল থেকে চলুন অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর (৫৭৯ মি), ২২১ কিমি। রাত্রিবাস শ্রীনগর।

সপ্তম দিন – শ্রীনগর থেকে চলুন জোশীমঠ (১৮৭৫ মি), ১২৩ কিমি। দেখে নিন বাসস্ট্যান্ডের ১ কিমি নীচে নৃসিংহ মন্দির, বাসস্ট্যান্ডের উপরে শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত জ্যোতির্মঠ। রাত্রিবাস জোশীমঠ।

অষ্টম দিন – চলুন বদরীনাথ। দূরত্ব ৪৬ কিমি। পথে পড়বে বিষ্ণুপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গার সঙ্গম। রাত্রিবাস বদরীনাথ।

নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়, বদরীনাথ থেকে।

নবম দিন – আজও থাকুন বদরীনাথে। ৩১৫৫ মিটার উচ্চতায় বদরীনাথ। শ্বেতশুভ্র নীলকণ্ঠ (৬৫৯৬ মি) মুকুট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বদরীনাথের শিরে।

বদরীনাথে দেখে নিন —

(১) নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়।

(২) দোকানপাটের মধ্যে দিয়ে নেমে ঝোলাপুলে অলকানন্দা পেরিয়ে বদরীনাথের মন্দির।

(৩) সন্ধায় দেখুন আরতি।

(৪) চলুন মানা গ্রাম, তিব্বতের পথে শেষ বসতি, ৩ কিমি। দেখে নিন ব্যাস গুহা, অলকানন্দা ও সরস্বতীর সঙ্গম কেশবপ্রয়াগ, সরস্বতীর ওপরে পাথরের ভীম পুল। এখান থেকে ৫ কিমি হেঁটে বসুধারা ফলস্‌, ১২২ মিটার উঁচু।

(৫) চরণপাদুকা – জিএমভিএন ট্যুরিস্ট লজ থেকে ৩ কিমি হাঁটা, খুব চড়াই নয়। জনশ্রুতি, পাথরে বিষ্ণুর পায়ের চিহ্ন।

কেবল্‌ কারে আউলির পথে।

দশম দিন – বদরীনাথ থেকে আউলি (২৫১৯-৩০৪৯ মি), দূরত্ব ৫৬ কিমি। পুরোটা গাড়িতে যেতে পারেন, আবার জোশীমঠ থেকে কেবল কারেও ঘুরে আসতে পারেন। আউলিতে দেখুন দিগন্তবিস্তৃত হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি। শৃঙ্গরাজির মাথায় সূর্যাস্ত অতুলনীয়।

(কেবল কারেই চলুন। প্রথমে চলুন ১০ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে, কেবল কার এতটাই আসে। এখানে নেমে গড়সন বুগিয়াল দেখে ফেরার পথে ৮ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে নেমে সেখান থেকে চেয়ার কারে আউলি চলে আসুন। জোশীমঠে কেবল কার স্টেশনে টিকিট কাটার সময় আপনার প্ল্যান জানিয়ে দিলে সেইমতো ব্যবস্থা হয়ে যাবে। টিকিটে যাতায়াতের ভাড়া ধরা। ফেরার দিন জানিয়ে দেবেন। সঙ্গে গাড়ি থাকলে জোশীমঠে এক দিন রেখে দেবেন।)

একাদশ দিন – আউলি থেকে চলুন রুদ্রপ্রয়াগ (৬১০মি), অলকানন্দা-মন্দাকিনী সঙ্গম, ১২৪ কিমি। পথে দেখুন নন্দপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও নন্দাকিনীর সঙ্গম এবং কর্ণপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও পিন্ডারগঙ্গার সঙ্গম। বিকেলে ঘুরে নিন সঙ্গমের কাছে রুদ্রনাথ শিবমন্দির, জগদম্বা মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির। রাত্রিবাস রুদ্রপ্রয়াগ।

দেবপ্রয়াগ।

দ্বাদশ দিন– রুদ্রপ্রয়াগ থেকে হরিদ্বার, ১৬৪ কিমি। পথে দেখে নিন দেবপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ভাগীরথীর সঙ্গম। এখানেই অলকানন্দার যাত্রা শেষ। গঙ্গার পথ চলা শুরু। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

ত্রয়োদশ দিন – আজও থাকুন হরিদ্বারে। হরিদ্বারে দেখে নিন গঙ্গারতি, মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড়, কনখল ইত্যাদি। মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড় যাওয়ার জন্য রোপওয়ে-ও আছে।

চতুর্দশ দিন – হরিদ্বার থেকে ফেরার ট্রেন। উপাসনা এক্সপ্রেস প্রতি বুধ এবং শনিবার রাত ১১:৫৫-এ ছেড়ে, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৩:১৫-এ। বাকি পাঁচদিন একই সময় রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস। দুন এক্সপ্রেস রোজ রাত্রি সওয়া ১০টায় ছেড়ে তৃতীয় দিন সকাল ৬.৫৫-য় হাওড়া। এ ছাড়াও দিল্লি হয়ে ফিরতে পারেন।

——————————————————————-

ভ্রমণ-ছক ৩: প্রথাগত চারধাম যাত্রা

প্রথম থেকে দ্বিতীয় দিন – দেখুন ভ্রমণ-ছক ২।

তৃতীয় দিন – হরিদ্বার থেকে জানকীচটি, ২২১ কিমি। রাত্রিবাস জানকীচটি।

যমুনোত্রীর পথে।

চতুর্থ দিন – যমুনোত্রী (৩২৯১ মি) ঘুরে আসা। যাতায়াতে ১০ কিমি মতো হাঁটা। রাত্রিবাস জানকীচটি।

পঞ্চম দিন – সক্কালে যাত্রা করুন গঙ্গোত্রীর উদ্দেশে, ২২০ কিমি। রাত্রিবাস গঙ্গোত্রী।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন গঙ্গোত্রীতে (৩০৪২ মি)। উপভোগ করুন ভাগীরথী ও কেদারগঙ্গার সঙ্গমে গঙ্গোত্রীর সৌন্দর্য।

সপ্তম দিন – গঙ্গোত্রী থেকে উত্তরকাশী, ৯৫ কিমি। ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ২)

অষ্টম দিন – চলুন গুপ্তকাশী, ১৯৪ কিমি। দেখে নিন বাসপথের কিছুটা উপরে কেদারের মন্দিরের আদলে তৈরি শিব মন্দির। রাত্রিবাস গুপ্তকাশী।

নবম দিন – ভোরে বেরিয়ে গুপ্তকাশী থেকে শোনপ্রয়াগ (৩০ কিমি) পৌঁছে হাঁটা শুরু। ১০ কিমি হেঁটে রাত্রিবাস ভীমবলী (৮৭৩০ ফুট)। অথবা আরও ৬ কিমি এগিয়ে লিনচোলিতেও (১০৩৩০ ফুট) থাকতে পারেন।

কেদারের নতুন পথ।

দশম দিন – ভীমবলী হলে ১০ কিমি হেঁটে অথবা লিনচোলি হলে ৪ কিমি হেঁটে কেদারনাথ (১১৭৫৫ ফুট)। রাত্রিবাস কেদারনাথ।

একাদশ দিন – কেদার থেকে হেঁটে শোনপ্রয়াগ আসুন (২০ কিমি), চলুন উখিমঠ (১৩১১ মি), ৪৪ কিমি। মন্দির দর্শন। রাত্রিবাস উখিমঠ।

দ্বাদশ দিন – উখিমঠ থেকে চলুন জোশীমঠ, ১২৯ কিমি। রাত্রিবাস জোশীমঠ। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ২)।

সীমান্ত গ্রাম মানা।

ত্রয়োদশ দিন থেকে চতুর্দশ দিন – ভ্রমণ-ছক ২-এর অষ্টম দিন ও নবম দিনের মতো।

পঞ্চদশ দিন– বদরীনাথ থেকে পৌঁছে যান হরিদ্বার, ৩১৬ কিমি। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

ষোড়শ দিন – হরিদ্বার ঘুরুন (দেখুন ভ্রমণ-ছক ২)। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

সপ্তদশ দিন – হরিদ্বার থেকে ঘরপানে। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ২)।

কী ভাবে ঘুরবেন

সব জায়গায় বাস পরিষেবা পাবেন। কিন্তু পাহাড়ি জায়গা, বাসের সংখ্যা কম। তার ওপর স্থানীয় মানুষের ভরসা বাসই। তাই মালপত্র নিয়ে বাসে যাওয়া কষ্টকর। শেয়ার গাড়িও মেলে কোনো কোনো জায়গায়, তবে সব জায়গায় নয়। তবে ভ্রমণের সময়সূচি অক্ষুণ্ণ রাখতে, একটু আরামে ঘুরতে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। সে ক্ষেত্রে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করে সেখানে পৌঁছে স্থানীয় গাড়ি নিয়ে ঘোরা যেতে পারে। ভ্রমণ-ছক ১-এর ক্ষেত্রে এটা করা যেতেই পারে। আর বাকি দু’টি ছকের ক্ষেত্রে হরিদ্বার থেকে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো। হরিদ্বারে স্টেশনের কাছেই ট্যাক্সি ইউনিয়নের স্ট্যান্ড।

কোথায় থাকবেন

চক্রাতা ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের (জিএমভিএন) বিশ্রামাবাস। অনলাইনে বুক করার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন পর্যটকরা। সব থেকে ভালো জিএমভিএনের কলকাতা অফিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা। কলকাতা অফিসের ঠিকানা- রুম নং- ২২৪, মার্শাল হাউস, ৩৩/১ এসএফ, নেতাজি সুভাষ রোড। ফোন- ২২৬১০৫৫৪। চক্রাতায় থাকার জন্য অনেক বেসরকারি হোটেল রয়েছে, কিন্তু সব থেকে ভালো জায়গা হোটেল স্নো-ভিউ। যোগাযোগ- ০১৩৬০২৭২২৪১/২৭২৪৮১, ৯৪১১৩৬৩২৩১, ৯৬২৭৫৪৭০০১। ইমেল- [email protected], [email protected]

মনে রাখবেন

(১) চক্রাতায় অনেক জায়গা আছে, যেখানে জিপই ভরসা।

(২) গাড়ি যদি পুরো ভ্রমণটার জন্য ভাড়া করা থাকে, তা হলে আউলির ক্ষেত্রে জোশীমঠে ১ দিন এবং কেদারের ক্ষেত্রে শোনপ্রয়াগে ২ দিন গাড়ি রেখে দিন।

(৩) কেদারযাত্রীদের শোনপ্রয়াগ থেকে কেদার যাত্রার ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।


 

আরও পড়ুন পুজোর ভ্রমণ-ছক/খবর অনলাইনের বাছাই: ত্রিপুরা-অসম-মেঘালয়

ভ্রমণ-ছক ৪: চেনা ছকের বাইরে কুমায়ুন

কুমায়ুন বলতেই বাঙালির কাছে নৈনিতাল-রানিখেত-আলমোড়া-কৌশানি। তবে বেশ কয়েক বছর হল বাঙালিদের কাছে ক্রমে জায়গা করে নিচ্ছে মুন্সিয়ারি, চৌকরির মতো আরও কিছু জায়গা। কুমায়ুন ভ্রমণের প্রথম ছকে সেই সব জায়গার সন্ধান।

প্রথম দিন – ট্রেনে চলুন বরেলি। চেষ্টা করুন এমন ট্রেন ধরতে যেটা সক্কালে বরেলি পৌঁছোয়। এ ক্ষেত্রে সব থেকে ভালো ট্রেন অকাল তখৎ এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রতি বুধ এবং রবিবার সকাল ৭:৪০-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন সকাল সওয়া ছ’টায়। কলকাতা-নাঙ্গাল ড্যাম এক্সপ্রেস, প্রতি বৃহস্পতিবার ছাড়ে। সময় অকাল তখতের মতোই। হাওড়া-লালকুয়াঁ এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার ৮:১৫-য় হাওড়া ছেড়ে বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৪:৫৫-এ। হাওড়া-জয়সলমীর এক্সপ্রেস ছাড়ে প্রতি সোমবার। সময় লালকুয়াঁ এক্সপ্রেসের মতোই।

শ্যামলাতাল।

দ্বিতীয় দিন – বরেলি পৌঁছে যাত্রা করুন লোহাঘাটের উদ্দেশে, দূরত্ব ১৯৯ কিমি। পথে দেখুন শ্যামলাতাল (১৫২৫ মি), চম্পাবতের মন্দিরগুচ্ছ, লোহাঘাটের ৯ কিমি আগে পাহাড়ের মাথায় মানেশ্বর মহাদেব। রাত্রিবাস লোহাঘাট।

তৃতীয় দিন – সক্কালে বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমে চলুন ৯ কিমি দূরে স্বামী বিবেকানন্দ স্মৃতি বিজড়িত মায়াবতী আশ্রম (২০৭৩ মি)। লোহাঘাট ফিরে যাত্রা করুন পিথোরাগড়ের উদ্দেশে। পথে দেখুন ওক ও পাইনে ছাওয়া অ্যাবট মাউন্ট (২০১৮ মি, লোহাঘাট থেকে ৯-১০ কিমি), গুরনামাতা মন্দির (পিথোরাগড় থেকে ১৩ কিমি আগে, পথের ধারেই)। অ্যাবট মাউন্ট ঘুরে এলে লোহাঘাট থেকে পিথোরাগড় ৭৫ কিমি মতো। রাত্রিবাস পিথোরাগড় (১৬৪৫ মি)।

পিথোরাগড়ে দেখে নিন –

(১) কামাখ্যা মন্দির – ৭ কিমি।

(২) রাইগুম্ফা – ৩০টি সিঁড়ি নেমে সোমেশ্বর মহাদেব।

(৩) চন্দক পাহাড় – ৬ কিমি, যাওয়ার প্রশস্ত সময় সূর্যাস্ত, হিমালয়ের নানা শৃঙ্গ দৃশ্যমান।

(৪) মোস্তামানুর শিবমন্দির – চন্দক পাহাড় থেকে ২ কিমি।

(৫) উল্কাদেবীর মন্দির – চন্দকের পথে।

(৬) পশুপতিনাথ মন্দির – মোস্তামানুরের পথে।

সূর্যাস্তে পঞ্চচুল্লি, মুন্সিয়ারি।

চতুর্থ দিন – চলুন মুন্সিয়ারি (২২৯০ মি), ১২৫ কিমি। পথে দেখে নিন বিরথি জলপ্রপাত, কালামুনিতে (৮৮৫৬ ফুট) কালিকাদেবী মন্দির, পঞ্চচুল্লি দর্শন। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। যেন হাত বাড়ালেই পঞ্চচুল্লি। কোথাও না গিয়ে সারা দিন উপভোগ করুন। সূর্যোদয় দেখুন, সূর্যাস্তেও রঙের খেলা চলে পঞ্চচুল্লিতে। ইচ্ছে হলে ঘুরে আসুন সবুজ বুগিয়ালের মাঝে নন্দামাঈয়ের মন্দির, ড. এস এস পাংথির মিউজিয়াম, ১০ কিমি দূরে ধারকোট গ্রাম (১৫০ বছরের পুরোনো ঘরবাড়ি, একটু নেমে গেলেই গৌরীগঙ্গা)।

চৌকরি।

ষষ্ঠ দিন – মুন্সিয়ারি থেকে চৌকোরি (২০১০ মি), ৯৬ কিমি। প্রকৃতির তৈরি এক অসাধারণ ব্যালকনি। চৌখাম্বা থেকে পঞ্চচুল্লি, হিমালয়ের প্যানোরামিক ভিউ। রাত্রিবাস চকৌরি।

সপ্তম দিন – চকৌরি থেকে ঘুরে আসুন পাতাল ভুবনেশ্বর (গুহা ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত) এবং গঙ্গোলিহাট (মহাকালী মন্দির)। মোট দূরত্ব ৮০ কিমি। রাত্রিবাস চকৌরি।

অষ্টম দিন – চৌকোরি থেকে বিনসর (২৪১২ মি), দূরত্ব ১০৬ কিমি। ৩৫০ কিমি বিস্তৃত তুষারশৃঙ্গ দৃশ্যমান। রাত্রিবাস বিনসর।

বিনসর।

নবম দিন – কেএমভিএন লজ থেকে সূর্যোদয় দেখে সকালে বিনসর অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে হেঁটে আসুন জিরো পয়েন্ট, যাতায়াতে ৪ কিমি। নজরমিনার থেকে দেখুন হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি। ঘুরে আসুন কাসারদেবী মন্দির, চিতাই গুলু দেবতা মন্দির, জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ, আলমোড়া রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং আলমোড়া শহর। যাতায়াতে ৮০ কিমি মতো। রাত্রিবাস বিনসর।

দশম দিন – বিনসর থেকে চলুন শীতলাখেত (১৮২৮ মি), ৬০ কিমি। পথে দেখে নিন কাতারমল সূর্য মন্দির। রাত্রিবাস শীতলাখেত।

একাদশ দিন – চলুন মুক্তেশ্বর (২২৮৬ মি), দূরত্ব ৫৯ কিমি। রাত্রিবাস মুক্তেশ্বর।

মুক্তেশ্বর।

দ্বাদশ দিন – আজও থাকুন মুক্তেশ্বরে। দেখে নিন –

(১) আইভিআরআই-এর চত্বর থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গের সারি।

(২)  চৌথি কি জালি – সানসেট পয়েন্ট।

(৩) মুক্তেশ্বর শিবমন্দির – মন্দির থেকে কিছুটা হাঁটার পর মুক্তেশ্বর পাহাড়ের পশ্চিমমুখী অংশ হঠাৎ শেষ, ৩০০০ ফুট নেমে গিয়েছে, বিস্তৃত উপত্যকা।

(৪) ঐতিহাসিক পূর্ত বাংলো – করবেট যেখানে থাকতেন।

ত্রয়োদশ দিন – নৈনিতাল ঘুরে চলুন নৌকুচিয়াতাল। দূরত্ব ৭২ কিমি।

চতুর্দশ দিন – ঘরে ফেরা। ট্রেন ধরতে পারেন কাঠগোদাম থেকে। দুরত্ব ২৫ কিমি। তবে দিল্লি হয়ে ফেরার চেষ্টা করুন। কারণ কাঠগোদাম থেকে হাওড়ার একমাত্র ট্রেন অর্থাৎ বাঘ এক্সপ্রেস সময় অনেক বেশি সময় নেয়। কাঠগোদাম থেকে দিল্লি ফেরার জন্য রয়েছে, উত্তর সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস। প্রতিদিন সকাল ৮:৫০-এ কাঠগোদাম থেকে ছেড়ে নয়াদিল্লি পৌঁছোয় বিকেল ৩:২৫-এ। কাঠগোদাম-নয়াদিল্লি শতাব্দী এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকেল ৩:৩৫-এ ছেড়ে নয়াদিল্লি পৌঁছোয় রাত ৯:০৫-এ। রানিখেত এক্সপ্রেস, প্রতিদিন রাত ৮:৪০-এ ছেড়ে পুরনো দিল্লি পৌঁছোয় ভোর ৩:৫৫-এ। দিল্লি থেকে হাওড়া ফেরুন।

——————————————————————-

ভ্রমণ-ছক ৫: নৈনিতাল, রানিখেত, আলমোড়া, কৌশানী

এখনও অনেক পর্যটক রয়েছেন যাঁদের কুমায়ুনের ট্র্যাডিশনাল অর্থাৎ নৈনিতাল, রানিখেত, আলমোড়া, কৌশানী না দেখলে মন ভরে না। তাঁদের জন্য এই সূচি।

প্রথম দিন – নৈনিতালের উদ্দেশে রওনা। কলকাতা থেকে নৈনিতাল পৌঁছনোর জন্য বাঘ এক্সপ্রেস আছে কিন্তু ট্রেনটি সময় অনেক বেশি নেয়। লেটও করে। তাই অন্য অপশন চেষ্টা করুন। যাত্রার দিন যদি শুক্রবার হয় তা হলে হাওড়া-লালকুয়াঁ এক্সপ্রেস ধরুন। ট্রেনটি সকাল ৮:১৫-য় হাওড়া ছেড়ে লালকুয়াঁ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৮:৩৫-এ। লালকুয়াঁ থেকে নৈনিতালের দূরত্ব ৪৯ কিমি। এ ছাড়াও দিল্লি হয়ে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দিন দিল্লি পৌঁছন। ওই দিন দিল্লিতে থেকে পরের দিন সকাল ছ’টায় নয়াদিল্লি-কাঠগোদাম শতাব্দী এক্সপ্রেসে বেলা ১১:৪০-এ কাঠগোদাম পৌঁছন। অথবা হাওড়া থেকে অমৃতসর মেলে রওনা হয়ে (সন্ধে ৭.১০) দ্বিতীয় দিন বিকেল ৩.১০-এ লখনউ পৌঁছে রাত ৯.৫৫-য় কাঠগোদাম এক্সপ্রেস ধরুন। তৃতীয় দিন সকাল ৮টায় কাঠগোদাম। কাঠগোদাম থেকে নৈনিতাল ২৩ কিমি। (তৃতীয় দিন নৈনিতাল পৌঁছনোর হিসেব করেই এই ভ্রমণসূচি দেওয়া হল।)

নৈনিতাল।

তৃতীয় দিন – নৈনিতাল পৌঁছন। দেখে নিন নৈনি লেক, নয়নাদেবীর মন্দির। কেবল কারে চলুন স্নো ভিউ পয়েন্ট। দেখে নিতে পারেন অবজারভেটরি, নয়না পিক, লরিয়াকান্তা, টিফিন টপ, ল্যান্ডস এন্ড। রাত্রিবাস নৈনিতাল (১৯৩৮ মি)।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। ঘুরে আসুন সাততাল, ভীম তাল, নৌকুচিয়াতাল।

পঞ্চম দিন – চলুন রানিখেত (১৮১৯ মি), ৫৫ কিমি। দেখে নিন চৌবাটিয়া, গলফ কোর্স, কালিকা মন্দির, উপতা, ঝুলা দেবী। রাত্রিবাস রানিখেত।

কৌশানি।

ষষ্ঠ দিন – চলুন কৌশানি (১৮৯০ মি), দূরত্ব ৫৮ কিমি। কৌশানির খ্যাতি তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের শোভার জন্য। সূর্যাস্ত দেখুন গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত অনাশক্তি আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে। রাত্রিবাস কৌশানি।

সপ্তম দিন – পারলে অনাশক্তি আশ্রম থেকে সূর্যোদয় দেখুন। চলুন চৌকরি, ৮৫ কিমি। পথে দেখে নিন বৈজনাথে গোমতীর তীরে ১১ শতকের মন্দিরগুচ্ছ, গোমতী ও সরযূর সঙ্গমে পুণ্য শৈবতীর্থ বাগেশ্বর। রাত্রিবাস চৌকরি।

অষ্টম দিন – ঘুরে আসুন পাতাল ভুবনেশ্বর এবং গঙ্গোলিহাট। যাতায়াত ৮০ কিমি। রাত্রিবাস চৌকরি।

নবম দিন – চৌকরি থেকে আলমোড়া, ১০৬ কিমি। রাত্রিবাস আলমোড়া (১৬৪৬ মি)।

আলমোড়া।

দশম দিন – ঘুরে নিন কাসারদেবী মন্দির, চিতাই গুলু দেবতা মন্দির, জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ, আলমোড়া রামকৃষ্ণ আশ্রম। রাত্রিবাস আলমোড়া।

একাদশ দিন – ফেরার দিন। আলমোড়া থেকে কাঠগোদাম ৮২ কিমি। বাকি নির্দেশ আগের ভ্রমণের চতুর্দশ দিনের মতো।

কী ভাবে ঘুরবেন

পাহাড়ে বাস পরিষেবার ওপর ভরসা না করে একটা গাড়ি ভাড়া করেই ঘুরে নিন।

কোথায় থাকবেন

সব জায়গাতেই বেসরকারি হোটেল এবং রিসোর্টের বন্দোবস্ত থাকলেও লোকেশনের দিক থেকে কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগম (কেএমভিএন)-এর টুরিস্ট রেস্ট হাউসগুলির কোনো তুলনা হবে না। অনলাইনের বুক করার জন্য লগ ইন করুন www.kmvn.gov.in।

1 মন্তব্য

  1. চমৎকার তথ্যে পূর্ণ।তবে কর্বেট জাতীয় ঊদ্যাণ বিবেচনায় আসল না কেন?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here