গুজরাত বেশ বড়ো রাজ্য, একবারে ঘোরা যায় না। খবর অনলাইন সাজিয়ে দিল দু’টি ভ্রমণ-ছক। একটা উপকূল গুজরাত অর্থাৎ দ্বারকা-পোরবন্দর-সোমনাথ-দিউ ইত্যাদি, অন্যটা আমদাবাদ-সহ কচ্ছ অঞ্চল। এ বার পুজো এমন সময়ে, যখন অত্যধিক গরমের জন্য কচ্ছ ঘোরা পর্যটকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কচ্ছ বেড়ানোর আদর্শ সময় শীত থেকে বসন্ত। তবুও খবর অন লাইনের তরফ থেকে দু’টো ভ্রমণ পরিকল্পনাই দেওয়া হল।

ভ্রমণ-ছক ১: উপকূল গুজরাত

এই ভ্রমণটি রাজকোটকে ভিত্তি করে করতে পারেন। অর্থাৎ রাজকোট থেকে শুরু করে রাজকোটেই শেষ।

প্রথম দিন – ট্রেনে রাজকোটের উদ্দেশে যাত্রা। কলকাতা থেকে রাজকোটের জন্য রয়েছে সাঁতরাগাছি-পোরবন্দর সাপ্তাহিক কবিগুরু এক্সপ্রেস, প্রতি রবিবার রাত ৯:২৫-এ ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় মঙ্গলবার বিকেল ৩:২৮-এ। রয়েছে হাওড়া-ওখা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল, শুক্র এবং শনিবার হাওড়া থেকে রাত ১০:৫০-এ ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় তৃতীয় দিন দুপুর দেড়টায়।

তৃতীয় দিন – রাজকোট পৌঁছোন। রাত্রিবাস রাজকোট।

রাজকোটে দেখে নিন জুবিলি গার্ডেন, গান্ধীজির বাড়ি (ছেলেবেলা কেটেছিল), রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম (বেলুড় মঠের রেপ্লিকা), লালপরী লেক।

চতুর্থ দিন – রাজকোট থেকে সকাল সকাল চলে আসুন জামনগর। দূরত্ব ৯০ কিমি। জামনগর ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস জামনগর।

মেরিন ন্যাশনাল পার্কে। জামনগর।

জামনগরে দেখে নিন –

(১) মেরিন ন্যাশনাল পার্ক – গাড়ি বা অটোতে চলুন বেদি বন্দর, সেখান থেকে নৌকা ভাড়া।

(২) লাখোটা লেকের মাঝে লাখোটা প্রাসাদ ও মিউজিয়াম। পাথরের সেতুতে পারাপার।

(৩) চণ্ডীবাজারে আদিনাথ ও শান্তিনাথের মন্দির।

(৪) স্বামীনারায়ণ মন্দির।

(৫) খিজাদিয়া বার্ড স্যাঙ্কচুয়ারি, ১৫ কিমি।

পঞ্চম দিন – জামনগর থেকে চলুন দ্বারকা, ১৪২ কিমি। রাত্রিবাস দ্বারকা।

ওখা থেকে বেট দ্বারকার পথে।

ষষ্ঠ দিন – আজ চলুন বেট দ্বারকা। রাত্রিবাস দ্বারকা।

দ্বারকা ও বেট দ্বারকায় ঘোরাঘুরি –

(১) দ্বারকার মূল আকর্ষণ গোমতী তটে দ্বারকাধীশ রণছোড়জির মন্দির, কৃষ্ণ মন্দির, রণছোড়জির মন্দিরের দক্ষিণ দ্বার দিয়ে বেরিয়ে ৫৬ ধাপ নেমে গোমতী দেবীর মন্দির।

(২) রুক্মিণীদেবীর মন্দির

(৩) ভদ্রকালী মন্দির।

(৪) মীরাবাঈ মন্দির।

(৫) শংকরাচার্যের সারদা মঠ।

(৬) চলুন পোশিত্রা, ৩০ কিমি দূরে প্রবাল-রাজ্য।

(৭) ৩২ কিমি দূরে ওখা, সেখান থেকে নৌযাত্রায় বেট দ্বারকা। ওখা থেকে ফেরার পথে দেখুন নাগেশ্বর, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম।

সপ্তম দিন – দ্বারকা থেকে পোরবন্দর হয়ে সোমনাথ। দূরত্ব ২৩০ কিমি। পথে দেখে নিন পোরবন্দরে গান্ধীজির জন্মভিটে ‘কীর্তিমন্দির’, সুদামা প্রাসাদ, চোরবাদ সাগরবেলা। রাত্রিবাস সোমনাথ।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন সোমনাথে।

সোমনাথ মন্দির।

সোমনাথে দেখে নিন

(১) সমুদ্রের পাড়ে সোমেশ্বর মহাদেব মন্দির, জ্যোতির্লিঙ্গ।

(২) রাত ৮টায় মন্দির প্রাঙ্গণে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো।

(৩) বল্লভঘাট থেকে সূর্যাস্ত।

(৪) অহল্যাবাঈয়ের গড়া পুরোনো সোমনাথ মন্দির।

(৫) প্রভাস পাটন মিউজিয়াম (বুধ ও ছুটির দিন বন্ধ)।

(৬) পরশুরামের তপোভূমি।

(৭) সরস্বতী, কপিলা ও হিরণ্য নদীর ত্রিবেণী সঙ্গম বা প্রভাস তীর্থ।

(৮) ভেরাবলের পথে ভালুকা তীর্থ, কথিত যেখানে ব্যাধের তীরে বিদ্ধ হয়েছিলেন কৃষ্ণ।

নবম দিন – সোমনাথ থেকে দিউ। দূরত্ব ৮৫ কিমি। রাত্রিবাস দিউ।

দশম দিন – আজও থাকুন দিউয়ে।

দিউ ফোর্ট।

তিন দিকে আরব সাগর আর উত্তর দিকে ব্যাকওয়াটারে ঘেরা দ্বীপভূমি দিউ। দিউয়ের মূল আকর্ষণ এর প্রকৃতি। দেখে নিন পরিখা ঘেরা দুর্গ ও তার ভিতরের কারাগার ও মিউজিয়াম। দুর্গের উপর থেকে সাগর ও দিউ শহরকে দেখুন। মোটরবোটে চলুন পানিকোটা সমুদ্রদুর্গ। ঘুরে আসুন নাগোয়া বিচ, জলন্ধর বিচ (লাগোয়া পাহাড় চুড়োয় মন্দির), চক্রতীর্থ বিচ, আমেদপুর মান্ডভি বিচ। দেখে নিন শহিদস্মারক মারওয়ার, সেন্ট টমাস, সেন্ট পলস এবং সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ। শহর থেকে ৪ কিমি দূরে গঙ্গেশ্বর শিব। জোয়ারের জল পা ধুয়ে দিয়ে যায় শিবের।

একাদশ দিন – দিউ থেকে চলুন জুনাগড়, ১৫০ কিমির মতো। রাত্রিবাস জুনাগড়।

দ্বাদশ দিন – সারা দিন জুনাগড়ে ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যায় রওনা হয়ে যান রাজকোট, ১০৩ কিমি। রাত্রিবাস রাজকোট।

জুনাগড়।

জুনাগড়ে দেখে নিন –

(১) উপারকোট পাহাড়ে জুনাগড় ফোর্ট। দুর্গে দেখুন বেশ কিছু বৌদ্ধ গুম্ফা, নওগড় ভাভ ও আধি চাধি ভাভ (স্টেপ ওয়েল), বিশাল কামান নিলাম তোপ, জামি মসজিদ।

(২) গিরনার পাহাড়ে ওঠার পথে অশোকের শিলালিপি।

(৩) বাজেশ্বরী মন্দির।

(৪) দামোদর কুণ্ড।

(৫) উনিশ শতকের নবাবি প্রাসাদ রংমহল।

(৬) জুনাগড় নবাবদের রাজপ্রাসাদ মহাবত মকবরা।

ত্রয়োদশ দিন – রাজকোট থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা। ওখা-হাওড়া এক্সপ্রেস, প্রতি বুধ, বৃহস্পতি এবং রবিবার সকাল ১১:৪৯-এ রাজকোট থেকে ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৩:৩৫-এ। পোরবন্দর-সাঁতরাগাছি কবিগুরু এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার ১১:৪৯-এ রাজকোট থেকে ছেড়ে সাঁতরাগাছি পৌঁছোয় রবিবার সকাল ৮:০৫-এ।

মনে রাখবেন –

(১) হাওড়া থেকে রাজকোট বা রাজকোট থেকে হাওড়া রোজ ট্রেন নেই। সুতরাং ট্রেনের দিন অনুযায়ী যাওয়া-আসার দিন ঠিক করে নিলে ভ্রমণের মেয়াদ কমতে- বাড়তে পারে। সেই ভাবে বিভিন্ন জায়গায় থাকার মেয়াদ একটু এ-দিক ও-দিক করে নিতে হতে পারে।

(২) বিভিন্ন জায়গায় মন্দির, মিউজিয়াম, প্রাসাদ ইত্যাদি খোলার সময় আগাম জেনে নিন। তবে সোমনাথে মন্দির সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা।

শাবকদের নিয়ে মা। গিরে।

(৩) গির ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ভ্রমণসূচি যদি এমন ভাবে করেন যাতে ১৫ অক্টোবর বা তার পরে গির পৌঁছোবেন, তা হলে ভ্রমণের মেয়াদ এক দিন বাড়িয়ে নিয়ে দিউ থেকে সক্কাল সক্কাল গির চলে আসুন, ৬৫ কিমি। গিরে সাফারি করুন। পরের দিন চলুন জুনাগড়, ১৪৯ কিমি।

(৪) গিরনার পাহাড়ে ৯৯০০ সিঁড়ি ভেঙে বা পালকি করে বা ঘোড়ায় চেপে যদি উঠতে চান তা হলে আরও একটা দিন জুনাগড়ে থাকতে হবে। জৈনদের তীর্থস্থান গিরনারের মাথায় রয়েছে নেমিনাথ ও মল্লিনাথের মন্দির। তা ছাড়া আরও নানা মন্দির।

কী ভাবে ভ্রমণ করবেন

(১) এই সূচি যে হেতু রাজকোটে শুরু হয়ে রাজকোটেই শেষ, তাই রাজকোট থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। তবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িও করতে পারেন। গুজরাতে বাস পরিষেবা ভালো। তবে বাসে ভ্রমণ করলে এই সূচি মেনে চলা কঠিন।

(২) গিরে সাফারি বুকিং-এর জন্য এবং আগাম অনুমতিপত্র পেতে ওয়েবসাইট দেখুন www.girlion.in ।

কোথায় থাকবেন

(১) গুজরাতের অধিকাংশ জায়গাতেই রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল নেই। এই ভ্রমণসূচিতে শুধুমাত্র দ্বারকা এবং জুনাগড়েই যথাক্রমে পর্যটন উন্নয়ন নিগমের টুরিস্ট বাংলো এবং হোটেল গিরনার রয়েছে। অনলাইনের বুক করার জন্য লগইন করুন  booking.gujarattourism.com। তবে বাকি সব শহরেই বেসরকারি হোটেল এবং বিচ রিসোর্ট আছে। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে এই সব হোটেলের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

(২) দিউয়ের হোটেল ও তার বুকিং সম্পর্কে বিশদে জানার জন্য দেখুন https://www.diutourism.com ।

(৩) গিরে যদি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিংহসদন ফরেস্ট লজে থাকতে চান তা হলে যোগাযোগ — Deputy Conservator of Forest, Wild Life Section, Sasangir, Dist – Junagadh 362135. ph 02877-285541/285540


 

আরও পড়ুন পুজোর ভ্রমণ-ছক/খবর অনলাইনের বাছাই: গাড়োয়াল-কুমায়ুন

ভ্রমণ-ছক ২:  বরোদা-আমদাবাদ-কচ্ছ

এই ভ্রমণসূচি শীতকালেই আদর্শ। তবে শুধু বরোদা (ভাদোদরা) এবং আমদাবাদ ঘুরতে চাইলে যে কোনো সময় যাওয়া যেতে পারে।

প্রথম দিন – ট্রেনে বরোদার উদ্দেশে যাত্রা। কলকাতা থেকে বরোদা যাওয়ার বেশ কয়েকটা ট্রেন। হাওড়া-আমদাবাদ  এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ১১:৫৫-য় হাওড়া ছেড়ে বরোদা পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ১১:১০-এ। সক্কালে বরোদা পৌঁছোনোর জন্য ধরুন হাওড়া-ওখা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল, শুক্র এবং শনিবার হাওড়া থেকে রাত ১০:৫৫-য় ছেড়ে বরোদা পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬:৫৫-এ। শালিমার-ভুজ এক্সপ্রেস, প্রতি শনিবার রাত ৮:২২-এ ছেড়ে বরোদা পৌঁছোয় সোমবার সকাল ৭টায়। সাঁতরাগাছি-পোরবন্দর কবিগুরু এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার রাত ৯:২৫-এ ছেড়ে বরোদা পৌঁছোয় মঙ্গলবার সকাল ৮:২৫-এ। হাওড়া-গান্ধীধাম গর্ভ এক্সপ্রেস, প্রতি সোমবার রাত ১১টায় ছেড়ে বরোদা পৌঁছোয় বুধবার সকাল ৮:৩৫-এ।

তৃতীয় দিন – সক্কালে পৌঁছোন বরোদা। ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস বরোদা।

লক্ষ্মীবিলাস প্যালেস। বরোদা।

বরোদায় দেখে নিন —

(১) সুরসাগর লেক। শহরের প্রাণকেন্দ্রে।

(২) সওয়াজি বাগ। সান্ধ্যভ্রমণের আদর্শ জায়গা। এখানেই আছে চিড়িয়াখানা, মিউজিয়াম, আর্ট গ্যালারি।

(৩) শ্রীঅরবিন্দ নিবাস। বরোদায় অবস্থানকালে শ্রীঅরবিন্দ এখানে থাকতেন।

(৪) ই এম ই স্টিল টেম্পল – স্টেশন থেকে ৩ কিমি।

(৫) লক্ষ্মীবিলাস প্রাসাদ।

(৬) মহারাজা ফতে সিং মিউজিয়াম।

(৭) নওলাখি ভাভ – প্রাসাদের ৫০ মিটার উত্তরে।

(৮) কীর্তি মন্দির – চার দেওয়ালে নন্দলাল বসুর শিল্পকর্ম, রবীন্দ্রনাথের নটীর পূজা, মহাভারতের আখ্যান, মীরাবাঈয়ের সাধন-ভজন ইত্যাদি।

(৯) শ্রীসওয়াজি সরোবর।

চতুর্থ দিন – বরোদা থেকে চম্পানের (এক কালে স্বাধীন রাজপুতদের রাজ্য, প্রাসাদ, গড়, শৈল্পিক উৎকর্ষে অনবদ্য জুম্মা মসজিদ) এবং পাওয়াগড় (৪ কিমি পাহাড় প্যাঁচানো পথে হিলস্টেশন মাচি, দেড় কিমি হেঁটে বা রোপওয়ে চেপে পৌঁছে যান পাহাড় চুড়োয়) ঘুরে আসুন। বরোদা থেকে চম্পানের হয়ে পাওয়াগড় ৫৫ কিমি। অর্থাৎ যাতায়াত ১১০ কিমি। রাত্রিবাস বরোদা।

পঞ্চম দিন – বরোদা থেকে লোথাল (সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন) হয়ে আমদাবাদ যাত্রা। বরোদা থেকে লোথাল ১১৪ কিমি। লোথাল থেকে আমদাবাদ ৭৫ কিমি। বিকেল নাগাদ পৌঁছোন আমদাবাদ। রাত্রিবাস আমদাবাদ।

ষষ্ঠ দিন – আমদাবাদ ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস আমদাবাদ।

সবরমতী আশ্রম। আমদাবাদ।

আমদাবাদে ঘোরাঘুরি —

(১) সবরমতীর ধারে আমদাবাদ। শুরু করুন রিভার ফ্রন্ট দিয়ে। চলুন লাল দরোজার কাছে সিদি সৈয়দ জালি মসজিদ। এর পর ভদ্রা ফোর্ট ও ভদ্রকালী মন্দির দেখুন। তার পর চলুন সরখেজ রোজায় সুলতান মামুদ বেগারার সমাধি দেখতে। দেখুন রানি সিপ্রির মসজিদ, স্বামীনারায়ণ মন্দির, জামা মসজিদ, তিন দরওয়াজা। দেখুন এক গুচ্ছ মিউজিয়াম — ক্যালিকো মিউজিয়াম অব টেক্সটাইলস, বেচার ইউটেনসিল মিউজিয়াম, কাইট মিউজিয়াম।

(২) দেখুন গান্ধীজির গড়া সবরমতী আশ্রম। এলিস ব্রিজে সবরমতী পেরিয়ে শহর থেকে ৭ কিমি উত্তরে সবরমতীর ধারে আশ্রম। এলিস ব্রিজে সবরমতী পেরোনোর আগে দেখুন ভিক্টোরিয়া গার্ডেন।

(৩) সর্দার পটেল মিউজিয়াম।

(৪) কাঁকারিয়া হ্রদ – বিনোদনের হরেক ব্যবস্থা। হ্রদের পাড়ে বাল বাটিকা।

(৫) রয়েছে আরও দ্রষ্টব্য — শাহ আলমের রৌজা (শহর থেকে ৩ কিমি দক্ষিণ পুবে), রানি রূপমতী মসজিদ (মির্জাপুরে), মসজিদ-ই-নাগিরা (মানেকচকে), দরিয়া খাঁয়ের সমাধি (গুজরাতের সর্বোচ্চ গম্বুজ), আদালজ ভাভ ইত্যাদি)

রানি কি ভাভ। পাটন।

সপ্তম দিন – আমদাবাদ থেকে মধেরা (সূর্য মন্দির) হয়ে পাটন (সোলাঙ্কি রাজাদের রাজধানী, ১০৮ জৈন মন্দির, রানি কি ভাভ) ঘুরে আমদাবাদ ফিরুন। যাতায়াত ২৬৫ কিমি।

অষ্টম দিন – আমদাবাদ থেকে ধ্রানগাধরা। দূরত্ব ১২৪ কিমি। ক্ষুদ্র রনের জন্য বিখ্যাত ধ্রানগাধরা। রাত্রিবাস করুন দেবজিভাই ধামেচার ইকো ক্যাম্পে। দেবজিভাইয়ের উদ্যোগে বিকেলে একটা সাফারি করুন বন্য গাধার অরণ্যে।

বন্য গাধা, কচ্ছের রনে।

নবম দিন – সকালেও একটা সাফারি করুন দেবজিভাইয়ের উদ্যোগে। দুপুরে রওনা হন ভাচাউয়ের উদ্দেশে। দূরত্ব ১৩৫ কিমি। রাত্রিবাস ভাচাউ।

দশম দিন – ভাচাউ থেকে ধুরে আসুন হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন ধোলাভিরা। যাতায়াত ৩০০ কিমি। রাত্রিবাস ভাচাউ।

একাদশ দিন – ভাচাউ থেকে মাণ্ডবী। দূরত্ব ১৩০ কিমি। কচ্ছ উপসাগরের তটে মাণ্ডবী। সৈকতশহর মাণ্ডবীতে দেখুন বিজয়বিলাস প্যালেস, নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস মাণ্ডবী।

দ্বাদশ দিন – মাণ্ডবী থেকে আসুন ভুজ। কিন্তু ঘুরপথে। প্রথমে যান ভারতের শেষ প্রান্ত কোটিশ্বর (কোটিলিঙ্গেশ্বরের মন্দির) নারায়ণ সরোবর। দূরত্ব ১৪১ কিমি। নারায়ণ সরোবরে কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলুন লাখপাত (দুর্গনগরী, গুরু নানকের স্মৃতিধন্য)। দুরত্ব ৩৩ কিমি। লাখপাত থেকে আসুন মাতা নো মাঢ়। দূরত্ব ৪১ কিমি। দর্শন করুন মা আশাপুরাকে। এখান থেকে চলে আসুন ভুজ। মাণ্ডবী থেকে মোট দূরত্ব ৩১২ কিমি। রাত্রিবাস ভুজ।

লাখপত ফোর্টে প্রবেশপথ।

ত্রয়োদশ দিন – ভুজ ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস ভুজ।

ভুজে দেখে নিন —

(১) আলামপন্না দুর্গে রাও লাক্ষা প্রাসাদ।

(২) মহারাও প্রাসাদ – আয়না মহল।

(৩) হামিরসর লেকের পুবে শারদ বাগ প্যালেস।

(৪) প্রাগ মহল প্রাসাদ।

(৫) লেকের দক্ষিণ পুবে কচ্ছ মিউজিয়াম।

কালো দুঙ্গার থেকে কচ্ছের রন।

চতুর্দশ দিন – ভুজ থেকে চলুন সাদা রন দেখতে। জায়গার নাম ধোরদো। দূরত্ব ৮০ কিমি। ধোরধো থেকে যেতে পারেন কচ্ছের সর্বোচ্চ পর্বত কালো দুঙ্গার দেখতে। দূরত্ব ৪৮ কিমি। উচ্চতা ৪৬২ মিটার। সন্ধ্যায় ফিরে আসুন ভুজ। মোট দূরত্ব হবে ২১৭ কিমি। রাত্রিবাস ভুজ।

পঞ্চদশ দিন – ফেরার দিন। ভুজ থেকে সরাসরি কলকাতা ফিরতে পারেন। ভুজ-শালিমার এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার দুপুর দু’টোয় ভুজ থেকে ছেড়ে শালিমার পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৫৫-এ। গান্ধীধাম থেকেও ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। গর্ভ এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার বিকেল ৫:৪০-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় সোমবার দুপুর ১:০৫-এ। ভুজ থেকে গান্ধীধাম ৫৯ কিমি।

(ভুজ থেকে আমদাবাদ ফিরে সেখান থেকেও হাওড়ার ট্রেন ধরতে পারেন। দূরত্ব ৩৩৩ কিমি। সে ক্ষেত্রে এক রাত আমদাবাদে থেকে পরের দিন ট্রেন ধরুন।)।

মনে রাখবেন

এই ভ্রমণসূচি দীর্ঘ মনে হলে আপনার ভ্রমণ থেকে বরোদা অংশ বাদ দিন। আর কলকাতা থেকে আমদাবাদ বিমানে এলে আরও দু’টো দিন কম লাগবে।

কী ভাবে ভ্রমণ করবেন

(১) বরোদায় নেমে তিন দিনের জন্য একটা গাড়ি বুক করে নিন। প্রথম দিন শহরে ঘোরাঘুরি, দ্বিতীয় দিন চম্পানের-পাওয়াগড় এবং তৃতীয় দিন আমদাবাদ পৌঁছে গাড়িটাকে ছেড়ে দিন।

(২) আমদাবাদে দু’টো দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিন। এক দিন আমদাবাদ ঘুরুন, আর এক দিন মধেরা-পাটন চলুন। তবে আমদাবাদ দেখার জন্য গুজরাত পর্যটনের সারা দিনের ট্যুর আছে – ‘দেখো আমদাবাদ’। যোগাযোগ – ০৭৯-২৬৫৭৮০৪৪/২৬৫৭৮০৪৬/২৬৫৮৯১৭২।

(৩) আমদাবাদ থেকে ধ্রানগাধরা যেতে পারেন ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে। তবে ট্রেনের সময়ের সঙ্গে আপনার সময় মিলতে নাও পারে। সে ভাবেই ধ্রানগাধরা থেকে ভাচাউ ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে আসতে পারেন। তবে ট্রেনের সময় দেখে নেবেন আপনার ভ্রমণসূচির সঙ্গে খাপ খায় কিনা।

(৪) ভাচাউ থেকে দু দিনের জন্য গাড়ি নিয়ে মাণ্ডবীতে রাত কাটিয়ে পরের দিন কোটিশ্বর-লাখপত-মাতা নো মাঢ় ঘুরে ভুজে এসে গাড়ি ছেড়ে দিন।

(৫) ভুজে ঘুরুন স্থানীয় যানবাহনে। ধোরদো, কালো দুঙ্গার যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিন।

কোথায় থাকবেন

একমাত্র আমদাবাদ ছাড়া কোথাওই গুজরাত পর্যটনের কোনো হোটেল নেই। আমদাবাদে গান্ধী আশ্রমের উলটো দিকে রয়েছে গুজরাত পর্যটনের হোটেল তোরণ গান্ধী আশ্রম। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন booking.gujarattourism.com। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল এবং রিসোর্ট। হোটেল বুকিং-এর একাধিক ওয়েবসাইট থেকে তা বুক করতে পারেন। শুধু ধ্রানগাধরায় থাকার চেষ্টা করবেন দেবজিভাই ধামেচার ইকো ক্যাম্পে। বিভিন্ন রকম কটেজ আছে এখানে। ধ্রানগাধরায় সাফারির ব্যবস্থা করে দেবেন দেবজিভাই নিজে। যোগাযোগ ৯৮২৫৫৪৮০৯০। ওয়েবসাইট www.littlerann.com

 

1 মন্তব্য

  1. খুবই ভালো লাগল।এই ছক ধরে চমৎকার ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়ে নেয়া যায়।ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন