২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী, দুর্গাপুজো শুরু। এখনই করে ফেলতে হবে পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা। খবর অনলাইন বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। সাজিয়ে দিচ্ছে কতগুলি ভ্রমণ-ছক। এ বার কেরল। রইল দু’টো ভ্রমণ সূচি।

ভ্রমণ-ছক ১: দক্ষিণ কেরল

প্রথম দিন থেকে তৃতীয় দিন – হাওড়া থেকে এর্নাকুলামের উদ্দেশে যাত্রা।  হাওড়া-এর্নাকুলাম অন্ত্যোদয় এক্সপ্রেস, শনিবার বিকেল ৫টায় হাওড়া ছেড়ে এর্নাকুলাম পৌঁছোয় সোমবার সকাল ৬টায়। শালিমার-নাগেরকোয়েল সাপ্তাহিক গুরুদেব এক্সপ্রেস, বুধবার রাত ১১:০৫-এ ছাড়ে, এর্নাকুলাম পৌঁছোয় শুক্রবার বিকেল ৩:১৫-য়। শালিমার-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস ছাড়ে প্রতি মঙ্গল এবং রবিবার রাত ১১:০৫-এ। এর্নাকুলাম পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার এবং মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয়। চেন্নাই হয়েও এর্নাকুলাম যাওয়া যায়। হাওড়া থেকে করমণ্ডল বা চেন্নাই মেলে পৌঁছন চেন্নাই। চেন্নাই থেকে রোজ সন্ধে ৭:৪৫-এ ছাড়ে তিরুঅনন্তপুরম মেল, এর্নাকুলাম পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬:৫০-এ। আছে আলেপ্পি এক্সপ্রেস। ২০:৪৫-এ ছেড়ে পরের দিন সকাল ৮:৪০-এ পৌঁছোয়। রোজ বিকেল ৩:২৫-এ চেন্নাই ছেড়ে তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস এর্নাকুলাম পৌঁছোয় রাত ৩টেয়। তৃতীয় দিনে এর্নাকুলামে ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস এর্নাকুলম।

চাইনিজ ফিশিং নেট।

এর্নাকুলামে দেখুন — (১) চাইনিজ ফিশিং নেট- ভেম্বানাড় হ্রদের ধারে। সূর্যাস্ত নয়নাভিরাম। (২) সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ – চাইনিজ ফিশিং নেটের কাছেই। কোচিতে মৃত্যুর পর ভাস্কো-দা-গামার দেহ কয়েক বছর এখানেই রাখা হয়েছিল। (৩) সিনাগগ – ১৫৬৭ সালে তৈরি। মাতাঞ্চেরিতে। (৪) মাতাঞ্চেরি প্রাসাদ – সিনাগগের পাশেই। (৫) ভেম্বানাড়ে নৌকাযাত্রায় ভাইপিন দ্বীপ – ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম নোনাজলের হ্রদ ভেম্বানাড় লেকে আধঘণ্টার নৌকাবিহারে ঘুরে আসুন ভাইপিন দ্বীপে। কোচির জেটি থেকে নিয়মিত লঞ্চ ছাড়ছে।

চতুর্থ দিন – থাকুন এর্নাকুলামে। ঘুরে আসুন শঙ্করাচার্যের জন্মস্থান খ্যাত কালাডি, ৪৩ কিমি এবং সেখান থেকে আথিরাপল্লি জলপ্রপাত, ৩৫ কিমি।

পঞ্চম দিন – এর্নাকুলামে থেকে আজ চলুন গুরুবায়ুর, ৮৮ কিমি। বিখ্যাত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির। পোশাকবিধি পালনীয়।

মুন্নার।

ষষ্ঠ দিন – এর্নাকুলাম থেকে চলুন মুন্নার (১৭০০ মিটার), ১২৭ কিমি। কেরলের শৈলশহর। চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত। রাত্রিবাস মুন্নার।

সপ্তম দিন – মুন্নারে ঘোরাঘুরি, রাত্রিবাস।

মুন্নারে দ্রষ্টব্য — (১) এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান- মুন্নার থেকে ৭ কিমি। নীলগিরি থরের জন্য বিখ্যাত। অভয়ারণ্যের মধ্যেই রয়েছে সুন্দর ঝরনা। (২) পল্লিভাসাল জলপ্রপাত – মুন্নার থেকে ২৩ কিমি। কোচির দিকে কিছুটা এসে বাঁ দিকে রাস্তা নেমে গিয়েছে, পথের শেষে জলপ্রপাত। (৩) ইকো পয়েন্ট – টপ স্টেশনের পথে ১৮ কিমি দূরে। মাট্টুপেট্টি ড্যামের জলে তৈরি হ্রদ। হ্রদের এ-পার থেকে চিৎকার করলে, ও-পারের পাহাড়ে ধাক্কা লেগে তা ইকো হয়। (৫) কুন্ডলা ড্যাম – ইকো পয়েন্ট থেকে ৭ কিমি। (৬) টপ স্টেশন ভিউ পয়েন্ট (৬১০০ ফুট) – কুন্ডলা ড্যাম থেকে ১০ কিমি। এক দিকে পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণি, অন্য দিকে তামিলনাড়ুর থেনি জেলার উপত্যকা দেখা যায়।

অষ্টম দিন– মুন্নার থেকে আসুন পেরিয়ার, ৯৮ কিমি। রাত্রিবাস পেরিয়ার।

নবম দিন– ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস পেরিয়ার।

পেরিয়ারে সাফারি ছাড়াও করতে পারেন প্ল্যান্টেশন ট্যুর অর্থাৎ মশলার বাগান দেখা।

দশম দিন– চলুন আলাপুজা (আলেপ্পি) ১২৮ কিমি। রাত্রিবাস।

আলেপ্পির দ্রষ্টব্য – (১) আম্বালাপুজায় পনেরো শতকের শ্রীকৃষ্ণ মন্দির – আলাপুজা স্টেশন থেকে ১৪ কিমি। (২) আলেপ্পি সৈকত ও লাইট হাউস। (৩) বিকাশনম সৈকত – আলাপুজা স্টেশন থেকে সাড়ে ৪ কিমি। (৪) থুম্পলি সৈকত – বিকাশনমের পাশে।

আলেপ্পি থেকে কোল্লাম চলুন বোটে।

একাদশ দিন – আলেপ্পি থেকে কোল্লাম। সড়কপথে দূরত্ব ৮৬ কিমি। ট্রেনে দেড় ঘণ্টার মতো। বোটে ৮ ঘণ্টা। (তবে বোটেই আসা উচিত)। বাস/গাড়ি বা ট্রেনে কোল্লাম এলে সে দিনই ঘুরে আসুন ৩২ কিমি দূরে ভারকালা সৈকত। কোল্লামে ফিরে সন্ধ্যায় দেখে নিতে পারেন মহাত্মা গান্ধী সৈকত। রাত্রিবাস কোল্লাম।

দ্বাদশ দিন – আগের দিন আলাপুজা থেকে বোটে কোল্লাম এলে আজ ভারকালা সৈকত হয়ে চলুন তিরুঅনন্তপুরম, ৭৯ কিমি। দেখে নিন (১) পদ্মনাভস্বামী মন্দির, (২) চিড়িয়াখানা, (৩) সম্মুঘম সৈকত, স্টেশন থেকে ৯ কিমি ও (৪) ভেলি টুরিস্ট ভিলেজ, সম্মুঘম ৪ কিমি।

বিকেলে চলুন ১৮ কিমি দূরে কোভালম সৈকত। সূর্যাস্ত দেখুন।

পোনমুড়ি আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে।

ত্রয়োদশ দিন – আজও থাকুন তিরুঅনন্তপুরমে, চলুন নেয়ার ড্যাম ও অভয়ারণ্য হয়ে হিলস্টেশন পোনমুড়ি (১১০০ মিটার)। ২২টি হেয়ারপিন বেন্ড পোনমুড়ির পথে। পথে পড়বে কাল্লার ও মিনমুট্টি ফলস্‌। যাতায়াত ১৩৫ কিমি।

চতুর্দশ দিন– ফিরুন ঘরপানে। তিরুঅনন্তপুরম থেকে বৃহস্পতি এবং শনিবার বিকেল ৫টায় শালিমার এক্সপ্রেস। শালিমার পৌঁছোয় শনি এবং সোমবার দুপুর ১:৫০-এ। নাগেরকোয়েল-শালিমার গুরুদেব এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার বিকেল ৪:০৫-এ ছেড়ে শালিমার পৌঁছোয় মঙ্গলবার দুপুর ১:৫০-এ। চেন্নাই হয়েও ফিরতে পারেন। চেন্নাই মেল দুপুর ২:৫০-এ ছেড়ে চেন্নাই পৌঁছোয় পরের দিন সকাল সাড়ে ৭টায়। চেন্নাই এক্সপ্রেস বিকেল ৫:১৫-য় ছেড়ে চেন্নাই পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ১০টায়।

কী ভাবে ঘুরবেন

কেরলে বাস পরিষেবা ভালো। কিছু কিছু জায়গায় অনলাইনে বাসের টিকিট বুকিং-এর ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরতে চাইলে মুন্নার যাওয়ার দিন এর্নাকুলাম থেকে গাড়ি ভাড়া করে তিরুঅনন্তপুরমে ছেড়ে দিন।

কোথায় থাকবেন

সব জায়গাতেই রয়েছে কেরল পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল। তবে এর্নাকুলমের বোলগাট্টি আইল্যান্ড রিসোর্ট এবং মুন্নারে টি-কাউন্টিতে ঘরভাড়া তুলনায় অনেক বেশি। পেরিয়ারে আছে পেরিয়ার হাউস, আলেপ্পিতে আছে ট্যামারিন্ড আলাফুজা, কোল্লামে রয়েছে ট্যামারিন্ড কোল্লাম এবং তিরুঅনন্তপুরমে রয়েছে হোটেল চৈত্রম। হোটেলগুলি অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন www.ktdc.com। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন

(১) পেরিয়ারে পৌঁছেই যেখানে থাকবেন সাফারি নিয়ে খোঁজখবর করে নেবেন। চেষ্টা করবেন প্রথম দিনেই বিকেলের সাফারি ধরতে।

(২) পেরিয়ারে অটো ভাড়া করে প্ল্যান্টেশন ট্যুর করতে পারেন।

(৩) আলাপুজায় ১৮৬২ সালের লাইটহাউসে টিকিট ১০ টাকা। সোম থেকে শুক্রবার বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৪টে খোলা।

(৪) আলাপুজা থেকে কোল্লাম চলুন বোটে। স্টেট ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের জেটি থেকে বোট ছাড়ে রোজ সকাল সাড়ে ১০টায়। পাম্বা নদী, কায়ামকুলাম কয়াল ও অষ্টমুড়ি লেক দিয়ে ৮ ঘণ্টার এই যাত্রা এক বিরল অভিজ্ঞতা। বোট যায় কুট্টানাড় দিয়ে, সমুদ্রতল থেকে ২.২ মিটার নীচে অবস্থিত ভারতের একমাত্র অঞ্চল। এখন জনপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। যাওয়ার আগে বোটের সময় ও ভাড়া জেনে নেবেন।


আরও পড়ুন পুজোর ভ্রমণ-ছক/খবর অনলাইনের বাছাই: হিমাচল ২

ভ্রমণ-ছক ২: উত্তর কেরল

যাত্রা শুরু করুন বেঙ্গালুরু থেকে। চলে আসুন ওয়েনাড়, সেখান থেকে কোঝিকোড়, কান্নুর, বেকাল দেখে কাসারগোড়।

প্রথম দিন– ট্রেনে বেঙ্গালুরু রওনা। হাওড়া-যশবন্তপুর দুরন্ত এক্সপ্রেস সোম ও বৃহস্পতি বাদে পাঁচ দিন বেলা ১১টায় হাওড়া ছেড়ে পরের দিন যশবন্তপুর পৌঁছোয় বিকেল ৪টেয়। যশবন্তপুর এক্সপ্রেস রোজ বিকেল ৮:৩৫-এ হাওড়া ছেড়ে যশবন্তপুর পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৭:১৫-য়।

দ্বিতীয় দিন– দুরন্তয় গেলে বেঙ্গালুরুতে রাত্রিবাস। পরের দিন সকালে সুলতান বাথেরি রওনা।

তৃতীয় দিন– যশবন্তপুর এক্সপ্রেসে বেঙ্গালুরু পৌঁছলে ট্রেন থেকে নেমেই রওনা হয়ে যান সুলতান বাথেরি, ২৬৯ কিমি। রাত্রিবাস সুলতান বাথেরি।

মুথুঙ্গার জঙ্গলে।

চতুর্থ দিন– সুলতান বাথেরি ঘোরাঘুরি। সকালে যান এড়াক্কাল গুহা। টিকিট কেটে পাহাড়ে ওঠা শুরু। প্রথম ৭০০ মিটার বাঁধানো রাস্তা, তার পর পাহাড়ের গা বেয়ে খাড়া ওঠা। কিছুটা অংশ পাথরের ওপর দিয়ে সন্তর্পণে উঠে শেষ চড়াইটা সিঁড়িতে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের আঁকা গুহাচিত্রের জন্যই বিখ্যাত এই এড়াক্কাল। এড়াক্কাল গুহা দেখে ফিরে মধ্যাহ্নভোজন সেরে চলুন হাতির জন্য বিখ্যাত মুথাঙ্গা অভয়ারণ্য।  মুথাঙ্গা থেকে ফেরার সময়ে দেখে নিন জৈন মন্দির। রাত্রিবাস সুলতান বাথেরি।

লক্কিড়ি থেকে কোঝিকোড়ের পথ।

পঞ্চম দিন – সক্কালেই চলুন কোঝিকোড়, ৯৭ কিমি। পথে দেখুন পুকোট লেক (৩৭ কিমি) এবং লক্কিড়ি ভিউ পয়েন্ট (আরও ৪ কিমি)। লক্কিড়িতে পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা যায় দূরের সমতলভূমি। জঙ্গলের মাঝেমাঝে উঁকি দেয় জাতীয় সড়ক। মধ্যাহ্নভোজন সেরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। দেখুন –

১) কেরল শৈলীর তিরুভাচিরা শ্রীকৃষ্ণ মন্দির – মুন্ডু পরতে হয় না, তবে জামা খুলতে হয়।

বেপোর সৈকত।

(২) বেপোর সৈকত – ১১ কিমি দূরে, সমুদ্রের মধ্যে দিয়েই এক কিমি দীর্ঘ বাঁধানো পথ। ডান দিকে আরব সাগরের ক্লান্তিহীন ঢেউ, বাঁ দিকে শান্ত ব্যাকওয়াটার তথা চেলিয়ার নদী। পথের শেষে পুরোটাই সমুদ্র। সূর্যাস্ত দেখার মতো।

(৩) মানানচিরা স্কোয়ার – দিঘি ও পার্ক। সান্ধ্যভ্রমণের আদর্শ জায়গা, বিকেল  সাড়ে ৩টে থেকে রাত ৮টা।

ষষ্ঠ দিন – ভোরবেলায় ঘুরে আসুন কোঝিকোড়ের সৈকতে। প্রাতরাশ সেরে চলুন কান্নুর, ৯৭ কিমি। পথে দেখুন কাপ্পাড় সৈকত, ১৮ কিমি। ১৪৯৮ সালে এখানেই নেমেছিলেন ভাস্কো। স্মারক আছে। এখান থেকে চলুন মুড়াপ্পিলানগাড় সৈকত, ৬৩ কিমি। গাড়ি চলাচলে উপযুক্ত ভারতের দীর্ঘতম। গাড়ি চলাচলের জন্য বিবিসি নির্বাচিত বিশ্বের ষষ্ঠ সৈকত। মুড়াপ্পিলানগাড় থেকে চলুন থোটাড্ডা সৈকত, ৬ কিমি। সেখান থেকে কান্নুর ১০ কিমি। কান্নুরের হোটেলে চেক ইন করে বিকেলে চলুন সেন্ট অ্যাঞ্জেলো ফোর্ট। সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত খোলা। রাত্রিবাস কান্নুর।

সপ্তম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, গন্তব্য কাসারগোড়, ৭৭ কিমি। পথে দেখুন –

(১) কান্নুর থেকে ১৮ কিমি দূরে চেরুকুন্নুর অন্নপূর্ণেশ্বরী মন্দির।

(২) আরও ১৭ কিমি গিয়ে এড়িমালা ভিউ পয়েন্ট – আছে সৈকত, ন্যাভাল অ্যাকাডেমি, ৪১ ফুটের হনুমান মূর্তি, ২৮৬ মিটার উঁচু পাহাড়।

বেকাল ফোর্ট।

(৩) বেকাল ফোর্ট – আরও ৫৫ কিমি, ভারতের এক অনন্য রত্ন এই দুর্গ এবং লাগোয়া সৈকত।

বেকাল দেখে চলুন কাসারগোড়, ১২ কিমি। রাত্রিবাস কাসারগোড়।

মাধুর মন্দির।

অষ্টম দিন– আজই ঘরে ফেরা। তবে তার আগে সকালে চলুন ৭ কিমি দুরের মাধুর মন্দিরে, মধুবাহিনী নদীর ধারে। কেরলের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।

সরাসরি কলকাতা ফিরতে চাইলে প্রতি শনিবার বিবেক এক্সপ্রেস। কাসারগোড় ছাড়ে রাত ১১.৪০-টায়, সাঁতরাগাছি পৌঁছয় সোমবার সকাল ৬টায়।

তবে হাতে আরও সময় আছে। সুতরাং ফেরার পথে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বা মহীশুরে দিন দুয়েক কাটিয়ে ফিরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে —

(১) চেন্নাইয়ের ট্রেন — চেন্নাই মেল দুপুর ২.১০-এ ছেড়ে পৌঁছয় ভোর ৫.৪০-এ, চেন্নাই এক্সপ্রেস বিকেল ৫টায় ছেড়ে পৌঁছয় সকাল ৮টায় এবং ওয়েস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস রাত ১১টায় ছেড়ে পৌঁছয় দুপুর ২.৪০-এ।

(২) মহীশুর/বেঙ্গালুরুর ট্রেন – বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস বিকেল ৫.৫৫-য় ছেড়ে মহীশুর পৌঁছয় ভোর ৫.১৫-য়, বেঙ্গালুরু সকাল ৮.২০-তে।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) বেঙ্গালুরু থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন সুলতান বাথেরি। সুলতান বাথেরি ঘুরুন স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে।

(২) সুলতান বাথেরি থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন কোঝিকোড়।

(৩) এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে গাড়ি ছেড়ে দিন কাসারগোড়ে।

ভ্রমণ-ছক ২-এর বিকল্প

প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিন — ভ্রমণ-ছক ২-এর মতো।

তৃতীয় দিন – যশবন্তপুর স্টেশন থেকে রাত ৮টায় ধরুন কান্নুর এক্সপ্রেস।

চতুর্থ দিন – সকাল ৭.২৫-এ পৌঁছন কোঝিকোড়। স্টেশন থেকে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে চলে যান ৯৭ কিমি দুরের সুলতান বাথেরি।

(এর পর বাকিটা পুরোপুরিই ভ্রমণ-ছক ২-এর মতো। এ ক্ষেত্রে ভ্রমণ ১টা দিন বাড়বে। কলকাতা থেকে সরাসরি কোঝিকোড় আসতে চাইলে সাঁতরাগাছি থেকে মেঙ্গালুরুগামী সাপ্তাহিক বিবেক এক্সপ্রেস ধরুন। প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেল ৩:৫০-এ ছেড়ে কোঝিকোড় পৌঁছোয় শনিবার ভোর ৪:৫৫-এ। তৃতীয় দিন চলে যান সুলতান বাথেরি। ওখানে দু’ রাত কাটিয়ে ফিরুন কোঝিকোড়, ঘুরুন ভ্রমণ-ছক ২ অনুযায়ী।

কোথায় থাকবেন

কাসারগোড় ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে কেরল পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল। সুলতান বাথেরিতে আছে পেপ্পার গ্রোভ, কোঝিকোড় বিমানবন্দরের কাছে আছে ট্যামারিন্ড কোন্ডুত্তি, কান্নুরে আছে ট্যামারিন্ড কান্নুর। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন www.ktdc.com। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি অনেক হোটেল, রিসোর্ট। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন

(১) মাথা ঘোরার সমস্যা থাকলে এড়াক্কাল গুহা না যাওয়াই ভালো।

(২) সুলতান বাথেরি থেকে ১০ কিমি দূরে মুথাঙ্গার প্রবেশফটক থেকে শুরু হয় দেড় ঘণ্টার জিপ সাফারি।

(৩) কোঝিকোড়ে কেরল পর্যটনের হোটেল যে হেতু শহর থেকে কিছু দূরে তাই এখানে শহরের মাঝে বেসরকারি হোটেলেই থাকা ভালো। এখানে প্যারাগন রেস্তোরাঁয় ব্রেকফাস্ট করতে ভুলবেন না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here