পর্যটনসম্পদে মধ্যপ্রদেশের মতো সমৃদ্ধ রাজ্য দেশে খুব কমই আছে। এই রাজ্যকে ভালো করে ঘুরতে হলে এক বার নয়, দু’বার নয়, তিন বার তিনটে পৃথক ভ্রমণে ঘুরতে হবে। খবর অনলাইন সে রকম তিনটে ভ্রমণ-ছক সাজিয়ে দিল।

ভ্রমণ-ছক ১: খাজুরাহো-ওরছা-গোয়ালিয়র

প্রথম দিন – হাওড়া থেকে মুম্বই মেল ভায়া এলাহাবাদ অথবা শিপ্রা এক্সপ্রেসে সাতনার উদ্দেশে যাত্রা। প্রতিদিন রাত দশটায় ছেড়ে মুম্বই মেল সাতনা পৌঁছোয় পরের দিন দুপুর ২:৫০-এ। শিপ্রা এক্সপ্রেস প্রতি সোম, বৃহস্পতি এবং শনিবার বিকেল ৫:৪৫-এ ছেড়ে সাতনা পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ১১:২৫-এ।

দ্বিতীয় দিন – সাতনা থেকে খাজুরাহোর পথে, ১১৬ কিমি। রাত্রিবাস খাজুরাহো।

তৃতীয় দিন – সারা দিন খাজুরাহো দর্শন, রাত্রিবাস খাজুরাহো।

চতুর্থ দিন – খাজুরাহোর সব মন্দির দেখা হলে হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন পান্না জাতীয় উদ্যান। খাজুরাহো থেকে দূরত্ব ৪৪ কিমি। (খেয়াল রাখবেন ১৫ অক্টোবরের আগে মধ্যপ্রদেশের কোনো অভয়ারণ্যের সাফারি করা যাবে না)। রাত্রিবাস খাজুরাহো।

মন্দিরের গায়ে কাজ, খাজুরাহো।

কী দেখবেন, কী ভাবে ঘুরবেন খাজুরাহো

মন্দির ভাস্কর্যে অনুপম খাজুরাহো। তাই খাজুরাহো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। এখানকার মন্দিররাজি তিনটি ভাগে বিভক্ত – পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ। গাড়ি বা অটো ভাড়া করে ঘুরতে পারেন। মিনি বাস রয়েছে। পুব-দক্ষিণ দেখিয়ে পশ্চিমে নামিয়ে দেয়। তবে খাজুরাহোর মন্দির এক দিনে দেখার চেষ্টা না করাই ভালো।

পশ্চিমের মন্দিরগুলি সুরক্ষিত, প্রাচীরে ঘেরা। এখানে রয়েছে লক্ষ্মণ, লক্ষ্মী, বরাহ, কাণ্ডারীয় মহাদেব, মহাদেব, দেবী জগদম্বা, চিত্রগুপ্ত তথা সূর্য, বিশ্বনাথ, নন্দী, পার্বতী, লর্ড মতঙ্গেশ্বর এবং চৌষট্টি যোগিনী মন্দির।

দক্ষিণ গোষ্ঠীতে দু’টি মন্দির – পশ্চিম থেকে ৪ কিমি দূরে চতুর্ভুজ মন্দির এবং সেখান থেকে দেড় কিমি দূরে দুলাদেও মন্দির নিয়ে দক্ষিণ গোষ্ঠী।

পূর্বের মন্দিরগোষ্ঠীতে হিন্দু ও জৈন ধর্মের মন্দির আছে। বেশ কিছু মন্দিরের ভগ্নদশা। হিন্দু মন্দিরে জৈন স্থাপত্যের প্রভাব প্রবল।

খাজুরাহোর কাছে –

(১) পান্না জাতীয় উদ্যান – খাজুরাহো থেকে ৪৪ কিমি। নিজস্ব গাড়িতে ঘোরা যায়। জাতীয় উদ্যানের প্রবেশফটকে যথাযথ চার্জ দিয়ে বন দফতরের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়।

(২) পাণ্ডব ওয়াটার ফলস – পান্নার পথে পড়ে।

পঞ্চম দিন – খাজুরাহো থেকে চলুন ওরছা ১৭৩ কিমি। পথে ওরছার ১৪ কিমি আগে পড়বে বিশাল দিঘি বরুয়া সাগর, টিলার টঙে ভগ্ন দুর্গ। রাত্রিবাস ওরছা।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন ওরছায়।

ওরছা।

ওরছায় ঘোরাঘুরি –

(১) বেতোয়ার তীরে ওরছা বুন্দেলাদের রাজধানী ছিল। রাজা বীর সিং-এর তৈরি বহুমুখী খিলানযুক্ত সেতু পেরিয়ে প্রাসাদ কমপ্লেক্স। মোগলসম্রাট জাহাঙ্গীরের বাসের জন্য রাজা বীর সিং-এর অনুপম হর্ম্য জাহাঙ্গীর মহল।

(২) মণি-মুক্তা-কাচের অলংকরণ শোভিত ষোড়শ শতকের রাজামহল প্রাসাদ।

(৩) সপ্তদশ শতকে গড়া রাই পরভিন মহল।

(৪) রাজামহল ও জাহাঙ্গীরমহলের মাঝে শিশমহল।

(৫) শিশমহল থেকে ১ কিমি দূরে রামরাজা মন্দির।

(৬) রামরাজা মন্দিরের ডাইনে দুর্গাকার চতুর্ভুজ মন্দির।

(৭) রামরাজার পাশ দিয়ে মিনিট পনেরোর হাঁটা পথে দুর্গাকার লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির।

(৮) মোগলি গার্ডেন ফুলবাগ।

(৯) ফুলবাগ পেরিয়ে হরদৌল কা বৈঠক তথা প্রাসাদ।

(১০) বেতোয়ার তীরে বুন্দেল রাজাদের রয়্যাল ছত্তিশ।

(১১) রাজামহল এলাকায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো।

সপ্তম দিন – ওরছা থেকে চলুন শিবপুরী তথা মাধব জাতীয় উদ্যান, ১২৬ কিমি। পথে দেখে নিন ঝাঁসির দুর্গ আর দুর্গের পিছনে রানি কা মহল। ওরছা থেকে ১৭ কিমি। ঘণ্টা দুয়েকে ঘুরে নেওয়া যায় মাধব জাতীয় উদ্যান। রাত্রিবাস শিবপুরী।

অষ্টম দিন – শিবপুরী থেকে গোয়ালিয়র আসুন, ১১৭ কিমি। পথে পড়বে সুলতানগড় ফলস্‌। জাতীয় সড়ক থেকে সামান্য ভিতরে। রাত্রিবাস গোয়ালিয়র।

নবম দিন – আজও থাকুন গোয়ালিয়রে।

গোয়ালিয়র দুর্গ।

গোয়ালিয়রে ঘোরাঘুরি –

(১) প্রধান আকর্ষণ গোয়ালিয়র ফোর্ট। দুর্গে ঢোকার আগে প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়াম। দেখুন গুজরী মহল, মান সিং প্যালেস, বিক্রমাদিত্য প্যালেস, করণ মন্দির, জহর কুণ্ড বা বাউড়ি, জাহাঙ্গীর মহল, শাহজাহান মহল, শাশ-বহু কা মন্দির, তেলি কা মন্দির, দাতা বন্দি ছোড় (ষষ্ঠ শিখগুরু হরগোবিন্দের বন্দিবাসের স্মারক রূপে গড়া), সুরজ কুণ্ড, সিন্ধিয়া স্কুল ইত্যাদি।

(২) দুর্গের অনতিদূরে ঘিঞ্জি পুরোনো শহরে তানসেনের সমাধি ও মহম্মদ ঘাউসের মকবরা।

(৩) শহরের উত্তরে জামি মসজিদ।

(৪) রেল স্টেশনের কাছে মিউনিসিপ্যাল মিউজিয়াম।

(৫) নতুন শহরে জয়বিলাস প্যালেস ও সিন্ধিয়া মিউজিয়াম।

দশম দিন– গোয়ালিয়র থেকে ফেরার ট্রেন ধরুন। কলকাতা ফেরার ট্রেন চম্বল এক্সপ্রেস। প্রতি সোম, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবার সকাল ৭:১৫-এ গোয়ালিয়র ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬:৪৫-এ। অথবা গোয়ালিয়র থেকে আগ্রা এসে সেখান থেকেও ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। গোয়ালিয়র থেকে আগ্রা ১২০ কিমি। আরও দু’টি দিন আগ্রায় থেকে ঘোরাঘুরি করে নিতে পারেন।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) মধ্যপ্রদেশে সরকারি বাস পরিষেবা ভালো হলেও অনলাইন বুকিং-এর কোনো ব্যবস্থা নেই। পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়ি ভাড়া করতে পারেন।

(২) সাতনা থেকে বাসে বা গাড়িতে খাজুরাহো। ওখানে স্থানীয় যানে ঘুরুন। ঠিক সে ভাবেই খাজুরাহো থেকে ওরছা, ওরছা থেকে শিবপুরী, শিবপুরী থেকে গোয়ালিয়র আসুন এবং জায়গাগুলিতে স্থানীয় যানে ঘুরুন।

কোথায় থাকবেন

মধ্যপ্রদেশ পর্যটন উন্নয়ন নিগম (এমপিএসটিডিসি) দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন উন্নয়ন নিগম। সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই ওদের হোটেল রয়েছে। খাজুরাহোতে এমপিএসটিডিসির তিনটে হোটেল আছে, হোটেল পায়েল, হোটেল ঝঙ্কার এবং টুরিস্ট ভিলেজ। ওরছায় রয়েছে দু’টো হোটেল, বেতোয়া রিট্রিট এবং শিশমহল। শিবপুরীতে রয়েছে টুরিস্ট ভিলেজ। গোয়ালিয়র রয়েছে তানসেন রেসিডেন্সি। অনলাইনের বুক করার জন্য লগইন করুন www.mptourism.com। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে অসংখ্য বেসরকারি হোটেল।

খাজুরাহোর মন্দির।

মনে রাখবেন

(১) খাজুরাহোতে যে ক’টা মন্দিরই দেখুন কাণ্ডারীয় মহাদেব, লক্ষ্মণ, বিশ্বনাথ, চিত্রগুপ্ত এবং দেবী জগদম্বা মন্দির দেখতে ভুলবেন না।

(২) খাজুরাহোর মন্দিররাজি দেখার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। ধীরেসুস্থে দেখার জন্য এই ভ্রমণসূচিতে তিন রাত রাখা হয়েছে খাজুরাহোর জন্য।

(৩) খাজুরাহোর মন্দিররাজি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত খোলা।

(৪) পান্না জাতীয় উদ্যান সূর্যোদয়ের আধ ঘণ্টা আগে থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৩টে থেকে সূর্যাস্তের আধ ঘণ্টা পর পর্যন্ত খোলা।

(৫) মাধব জাতীয় উদ্যান সারা বছর খোলা। সোম ছাড়া প্রতি দিন সকাল ৬টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৩টে থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা।

(৬) গোয়ালিয়রে দুর্গ যাবেন ট্যাক্সি করে। টাঙা, অটো, বা রিকশা আপনাকে দুর্গের পাদদেশে নামিয়ে দেবে।

(৭) গোয়ালিয়র দুর্গ সোম ছাড়া সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা।

(৮) খুব সকালে দুর্গে চলুন। দক্ষিণ-পশ্চিম ধরে গিয়ে দুর্গ দেখে উত্তর-পূর্ব ধরে নেমে আসুন। ফেরার পথে দেখে নিন প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়াম ও মকবরা।

(৯) শিবপুরী থেকে যদি খুব সকালে (১০টার মধ্যে) পৌঁছোতে পারেন, তা হলে এক দিনে সাঙ্গ করতে পারেন গোয়ালিয়র দেখা। সে ক্ষেত্রে এক দিন কমতে পারে ভ্রমণের মেয়াদ।


 

আরও পড়ুন পুজোর ভ্রমণ-ছক/খবর অনলাইনের বাছাই: গুজরাত

ভ্রমণ-ছক ২:  অমরকন্টক-জবলপুর-পাঁচমাঢ়ী

প্রথম দিন– হাওড়া থেকে বিলাসপুরের উদ্দেশে যাত্রা করুন। বিলাসপুর যাওয়ার একাধিক ট্রেন রয়েছে কিন্তু সব থেকে ভালো ট্রেন মুম্বই মেল ভায়া নাগপুর। রাত ৮:১৫-য় হাওড়া থেকে ছেড়ে বিলাসপুর পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৭:১৫-য়।

দ্বিতীয় দিন – বিলাসপুর পৌঁছে যাত্রা করুন অমরকন্টকের উদ্দেশে। দূরত্ব ১২৭ কিমি। রাত্রিবাস অমরকন্টক (বিন্ধ্য পর্বতের সর্বোচ্চ শিখর, ১০৬৫ মিটার)।

(অমরকন্টকের সব থেকে কাছের রেল স্টেশন পেন্দ্রা রোড। দূরত্ব মাত্র ৩০ কিমি। কলকাতা থেকে পেন্দ্রা রোড যাওয়ার একমাত্র ট্রেন শালিমার-উদয়পুর সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস। প্রতি রবিবার রাত ৮:২২-এ শালিমার থেকে ছেড়ে পেন্দ্রা রোড পৌঁছোয় পরের দিন সকাল সাড়ে ন’টায় )।

তৃতীয় দিন – আজও থাকুন অমরকণ্টকে।

নর্মদা মন্দির, অমরকণ্টক।

অমরকণ্টকে ঘোরাঘুরি –
(১) বাসস্ট্যান্ড রেখে বাজার পেরিয়ে প্রাচীরে ঘেরা ২৭টি মন্দিরের টেম্পল কমপ্লেক্স। রয়েছে নর্মদা মন্দির, পাতালেশ্বর শিব মন্দির। এ ছাড়া মনসা,  কার্তিকেয়, গোরক্ষনাথ, পার্বতী, রোহিণী, শ্রীদুর্গা ইত্যাদি মন্দির। এগারো কোণের মার্কণ্ডেয় কুণ্ড তথা কোটিতীর্থ। বামে ছোটো কুণ্ড ‘নর্মদা মাইয়া কি উদ্গম’।

(২) বিড়লা মাইনসের পথ ধরে ৭ কিমি যেতে কপিলধারা, ‘নর্মদা উদ্গম’ থেকে অলক্ষ্যে এসে শ’ দুয়েক ফুট নীচে আছড়ে পড়ছে নর্মদা। রয়েছে কমণ্ডলুর মতো দেখতে মহর্ষি ভৃগুর তপোভূমি ভৃগু কমণ্ডলু। সেতু পেরোতেই শ’ খানেক সিঁড়ি ভেঙে কপিলাশ্রম। বামে কপিলধারা, ডাইনে পথ গিয়েছে দুগ্ধধারার। দুগ্ধধারায় ৫০ ফুট লাফিয়ে পড়ছে নর্মদা।

(৩) রংমহল মন্দিরে পিছনে বাঁ দিকের পথ ধরে সোনামুড়া – সোন নদের উৎস। সামনে সানসেট পয়েন্ট। সোনামুড়া থেকে ফেরার পথে তান্ত্রিক মন্দির তথা ১০৮ মন্দিরের টেম্পল কমপ্লেক্স। পথে মার্কণ্ডেয়াশ্রম। আরও দেখুন মাঈ কি বাগিয়া, বাগিচার মাঝে দেবী দুর্গার মন্দির, নানা কুণ্ড।

(৪) শহরে ঢোকার ৫ কিমি আগে কবীর চবুতরা। সন্ত কবীরের সিদ্ধি লাভের স্থান।

চতুর্থ দিন – চলুন জবলপুর, ২২৩ কিমি। রাত্রিবাস জবলপুর।

পঞ্চম দিন ও ষষ্ঠ দিন – থাকুন জবলপুরে।

মার্নেল রক্‌স, জবলপুর।

জবলপুরে ঘোরাঘুরি –

(১) জবলপুরের খ্যাতি মার্বেল রক্‌স-এর জন্য। শহর থেকে ২৩ কিমি দূরে নর্মদা তীরে ভেরাঘাট। এখান থেকে নর্মদায় নৌকা করে ৩ কিমি গেলে মার্বেল রক্‌স। একে একে দেখুন মানকিস লিপ, দত্তাত্রেয় মুনির গুহা, এলিফ্যান্ট ফিট, হর্সেস ফিট। ভেরাঘাট জৈন মন্দির ও বাঙালি কালী মন্দির।

(২) মার্বেল রক্‌স-এর পথে ভেরাঘাটের কাছে ১০৮ ধাপ সিঁড়ি উঠে চৌষট্টি যোগিনী মন্দির।

(৩) চৌষট্টি যোগিনী মন্দির থেকে আরও ৩ কিমি মতো গেলে ধুঁয়াধার – নর্মদার ওপর বিখ্যাত জলপ্রপাত।

(৪) শহর থেকে ৭ কিমি দূরে রানি দুর্গাবতী স্মৃতি বিজড়িত মদনমহল দুর্গ, দুর্গের পাহাড়ি পথে ব্যালান্সিং রক।

(৫) দেখে নিন তিলভাণ্ডেশ্বর মন্দির, রানি দুর্গাবতী সংগ্রহশালা, পিসান হরি জৈন মন্দির, মঙ্গলা দেবীর মন্দির, সংগ্রাম সাগর ইত্যাদি।

সপ্তম দিন – জবলপুর থেকে চলুন পাঁচমাঢ়ী, দুরত্ব ২৪২ কিমি। সাতপুরা পাহাড়ের রানি পাঁচমাঢ়ীর উচ্চতা ৩৬০০ ফুট। রাত্রিবাস পাঁচমাঢ়ী।

অষ্টম দিন ও নবম দিন – থাকুন পাঁচমাঢ়ীতে।

পাঁচমাঢ়ী।

পাঁচমাঢ়ীতে ঘোরাঘুরি –

(১) প্রথম দিন দেখে নিন পাণ্ডব গুহা, বিভিন্ন জলপ্রপাত, হান্ডিখো, রিচগড় ও ধূপগড়।

নামে পাণ্ডব গুহা, আদতে গুহাগুলি বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত, নানা ছবিতে অলংকৃত। হান্ডিখো ইংরেজি ‘ভি’ আকারের পাহাড়, ৩০০ ফুট গভীর খাত, একটা নুড়ি ফেললে পতনের আওয়াজ হয় ৭ সেকেন্ড পরে। ঝরনার দেশ পাঁচমাঢ়ী –অপ্সরা বিহার, সিলভার ফল্‌স (দু’টি দেখতে গাড়ি থেকে নেমে কিছুটা হাঁটতে হয়), ডাচেস ফল্‌স (৪ কিমি হাঁটা), বি ফল্‌স (সবচেয়ে জনপ্রিয়, কিন্তু আড়াই কিমি উৎরাই নামতে হয়, না পারলে দূর থেকে দেখুন)। একটি অনবদ্য প্রাকৃতিক অ্যাম্পিথিয়েটার রিচগড়। দিনের শেষে সূর্যাস্ত দেখতে ধূপগড়। সূর্যাস্ত দেখা যায় রাজেন্দ্রপ্রসাদ পয়েন্ট থেকে।

(২) পরের দিন চলুন বড়া ও ছোটা মহাদেও, চৌচাগড়, জটাশংকর ও প্রিয়দর্শিনী পয়েন্ট।

ধর্মীয় স্থান বড়া ও ছোটা মহাদেও আদতে প্রাকৃতিক গুহা। পাঁচমাঢ়ীর অনবদ্য আকর্ষণ জটাশংকর, পাহাড়ের গা বেয়ে সিঁড়িপথ, স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইটে তৈরি শিবলিঙ্গ এবং উষ্ণ ও শীতল জলের কুণ্ড। পাঁচমাঢ়ীর নৈসর্গিক শোভা দেখুন প্রিয়দর্শিনী পয়েন্ট থেকে। ১৩০০ সিঁড়ি ভেঙে শিবধাম চৌচাগড়।

(৩) পাঁচমাঢ়ীতে চলার পথে দেখে নিন কলোনিয়াল স্থাপত্যের চার্চগুলো।

দশম দিন – পাঁচমাঢ়ী থেকে নেমে আসুন পিপারিয়ায়, দূরত্ব ৫৪ কিমি। পিপারিয়া থেকে সকাল ১০:৩৩-এ মুম্বই-হাওড়া মেল ভায়া এলাহাবাদ ধরে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করুন।

কী ভাবে ঘুরবেন

এই ছকে যে হেতু জবলপুর ও পাঁচমাঢ়ীতে তিন রাত করে থাকার কথা বলা হয়েছে, সে হেতু এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় বাসে যেতে পারেন। প্রথম দিন বাসে এসে বিশ্রাম নিতে পারেন। পরের দু’টো দিন ঘোরাঘুরির জন্য রেখে দিতে পারেন এবং স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে ঘুরবেন। পাঁচমাঢ়ীতে মারুতি জিপসি ভাড়া করে নিতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

সব জায়গাতেই রয়েছে এমপিএসটিডিসির হোটেল। অমরকণ্টকে আছে হলিডে হোম। জবলপুরে রয়েছে কালচুরি রেসিডেন্সি। পাঁচমাঢ়ীতে রয়েছে পর্যটন উন্নয়ন নিগমের অসংখ্য হোটেল। অমলতাস, নন্দনবন কটেজ, দেবদারু বাংলো, হোটেল হাইল্যান্ড, কার্নিকার বাংলো, চম্পক বাংলো, রক-এন্ড ম্যানর, সাতপুরা রিট্রিট, হিলটপ বাংলো, নীলাম্বর কটেজ এবং পঞ্চবটী। অনলাইনের বুক করার জন্য লগইন করুন www.mptourism.com। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি অনেক হোটেল।

হান্ডিখো, পাঁচমাঢ়ী।

মনে রাখবেন

(১) জ্যোৎস্নারাতে মার্বেল রক্‌সে নৌকায় ভ্রমণ এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

(২) হাতে সময় কম থাকলে জবলপুরে দু’ রাত কাটাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কোনো ভাবেই মার্বেল রক্‌স আর ধুঁয়াধার মিস করবেন না।

(৩) পাঁচমাঢ়ীতে ঘুরতে কোনো কোনো জায়গায় পারমিট লাগে। গাড়ির ড্রাইভার জোগাড় করে নেবেন।

———————————————————-

ভ্রমণ-ছক ৩:  ভোপাল-সাঁচি-বিদিশা-উজ্জয়িন-মান্ডু

বর্ষাকাল এই ভ্রমণের পক্ষে আদর্শ। কারণ বৃষ্টির মধ্যে মান্ডু অনন্য রূপ ধারণ করে। তবুও পুজোর ছুটিতে এই ভ্রমণটা করে দেখতে পারেন পর্যটকরা।

প্রথম দিন – হাওড়া থেকে ভোপালের উদ্দেশে যাত্রা। কলকাতা থেকে ভোপাল যাওয়ার চারটে ট্রেন রয়েছে। কলকাতা-আমদাবাদ এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার দুপুর ১:১০-এ কলকাতা থেকে ছেড়ে ভোপাল পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা ৭:৫৫-এ। হাওড়া ভোপাল এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার দুপুর ১:২৫-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে ভোপাল পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায়। শিপ্রা এক্সপ্রেস প্রতি সোম, বৃহস্পতি এবং শনিবার বিকেল ৫:৪৫-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে ভোপাল পৌঁছোয় পরের দিন রাত সাড়ে আটটায়। শালিমার-ভুজ এক্সপ্রেস, প্রতি শনিবার রাত ৮:২২-এ শালিমার থেকে ছেড়ে ভোপাল পৌঁছোয় রাত ৯:২১-এ।

দ্বিতীয় দিন – সন্ধ্যায় ভোপাল পৌঁছন। রাত্রিবাস ভোপাল।

তৃতীয় দিন – আজ থাকুন ভোপালে।

সাঁচি।

ভোপালে দেখে নিন —

গ্রেট লেক ও তার পাড়ে বনবিহার সাফারি পার্ক, লোয়ার লেক ও কমলা পার্ক, এশিয়ার বৃহত্তম তাজ-উল মসজিদ, শ্যামলা পাহাড় (ওঠার পথ আছে), শওকত মহল, সদর মঞ্জিল, জুমা মসজিদ, হাতি মহল, মোতি মসজিদ ইত্যাদি।

বিদিশা।

চতুর্থ দিন – ভোর ভোর বেরিয়ে পড়ুন। ভোপাল থেকে চলুন বিদিশা, ৫৬ কিমি। পথে সম্ভব হলে রায়সেন পাহাড়চুড়োয় ১২ শতকের বিধ্বস্ত দুর্গটি দেখে নিন (রায়সেন ঘুরে গেলে পথ ১৮ কিমি বাড়ে)। বেতোয়ার তীরে সম্রাট অশোকের গড়া স্তূপ ও স্তম্ভ দেখে আসুন সাঁচি, ৮ কিমি। সাঁচি ঘুরে ফিরুন ভোপাল, ৪৮ কিমি। রাত্রিবাস ভোপাল।

ভীমবেটকার গুহাচিত্র।

পঞ্চম দিন – ভোপাল থেকে ঘুরে আসুন ভীমবেটকা, ৪৫ কিমি। রাত্রিবাস ভোপাল।

শাল ও সেগুনে ছাওয়া ২২০০ ফুট উঁচুতে অনন্য প্রকৃতির মাঝে ভীমবেটকা। পাথর কেটে তৈরি তিন ধাপে ৭০০-রও বেশি গুহায় ভারতের প্রাচীনতম মানব-ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রতিটি গুহাই লাল-সাদা বা সবুজ-হলুদ রঙের ছবিতে অলংকৃত। মানব ও জানোয়ার চিত্র ছাড়াও পশু শিকার, নৃত্যকলা তথা সেই সময়কার সমাজজীবনের ছবি।

ষষ্ঠ দিন – চলুন উজ্জয়িন, ১৯২ কিমি। ভোপাল থেকে সকাল ৬.৪০–এর উজ্জয়িন প্যাসেঞ্জার সময় নেয় সাড়ে ৪ ঘণ্টা, সকাল ৭.৪০–এর মালব এক্সপ্রেস সময় নেয় প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা। নিয়মিত বাস আছে, সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় নেয়। গাড়ি ভাড়া করেও আসা যায়। রাত্রিবাস উজ্জয়িনে।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন উজ্জয়িনে।

রামঘাট, উজ্জয়িন।

উজ্জয়িনে দেখে নিন –

শিপ্রার নদীর পাড়ে মহাকালেশ্বর মন্দির, অদূরে হরসিদ্ধি মার্গে বড়া গণেশ মন্দির, শিপ্রা-তটে সিদ্ধ বট, রামঘাট, ঘাট থেকে ১ কিমি দূরে গোপাল মন্দির, স্টেশন থেকে ১ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে যন্তর মন্তর, স্টেশন থেকে ৮ কিমি দূরে শিপ্রার অপর পাড়ে চিন্তামণি গণেশ মন্দির, শিপ্রা নদীর বাম তীরে ১১ শতকের ভর্ত্রিহরি গুহা, পথে গড়কালিকা মন্দির, ২ কিমি দূরে কালভৈরব মন্দির। তা ছাড়াও রয়েছে কালিদহ প্যালেস, মঙ্গলনাথ, সন্দীপন পাঠশালা ইত্যাদি।

অষ্টম দিন – চলুন মান্ডু, ১৪৭ কিমি। উজ্জয়িন থেকে গাড়ি ভাড়া করে আসাই শ্রেয়। বাস আছে, তবে কম। টানা বাসের স্বল্পতায় ধার-এ বাস পালটে আসা যায়। উজ্জয়িন থেকে ধার ১১২ কিমি, ধার থেকে মান্ডু ৩৫ কিমি। রাত্রিবাস মান্ডু।

নবম দিন  – থাকুন মান্ডুতে।

রূপমতী প্যাভিলিয়ন, মান্ডু।

মান্ডুতে ঘোরাঘুরি –

বিন্ধ্য পর্বতমালায় ২০০০ ফুট উঁচু মান্ডুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে – ভিলেজ গ্রুপ, দ্য রয়্যাল এনক্লেভ গ্রুপ, রেওয়া কুণ্ড গ্রুপ।

৩টি দরওয়াজা পেরিয়ে মান্ডুর বাজার তথা ভিলেজ গ্রুপ। দেখুন মামুদ শাহের তৈরি মার্বেল পাথরের আসরফি মহল তথা মামুদ শাহের সমাধি। রয়েছে জামি মসজিদ। বিপরীতে রাম মন্দির। জামি মসজিদ লাগোয়া হোসাং শাহের সমাধি।

মসজিদের পাশ দিয়ে সোজা গেলেই রয়্যাল এনক্লেভ গ্রুপের জাহাজমহল, মুঞ্জ তালাও ও কাপুর তালাওয়ের মাঝে। বিপরীতে অশ্বশালা তাবেলি মহলে বসেছে প্রত্নতত্ত্ব দফতরের মিউজিয়াম। সামান্য যেতে হিন্দোলা মহল বা সুইং প্যালেস। মুঞ্জ তালাওয়ের উত্তরে রূপমতীর মহল বা চম্পা বাওড়ি। এরই পাশে দিলওয়ারা খান মসজিদ তথা মকবরা। বামে জল মহল, নাহার ঝরোখা। ফেরার পথে লোহানি কেভ, পাহাড় কাটা খাড়া সিঁড়ি। লোহানি কেভের ঠিক ওপরেই সানসেট পয়েন্ট।

রেওয়া কুণ্ড গ্রুপ। সাগর তালাও পেরিয়ে বাস স্ট্যান্ড থেকে ৫ কিমি দক্ষিণে রাজা বাজ বাহাদুরের গড়া রূপমতী প্যাভিলিয়ন। প্যাভিলিয়নের ছাদ থেকে পাহাড়ি উপত্যকাকে অসাধারণ লাগে। লাগোয়া পাহাড়ের ঢালে রূপমতীর অনুরোধে বাজ বাহাদুরের সংস্কার করা রেওয়া কুণ্ড। কুণ্ডের পাড়ে নাসিরুদ্দিন শাহের গড়া প্রাসাদ, পরবর্তী কালে বাজ বাহাদুরের প্রাসাদ।

এ ছাড়াও দেখে নিন নীলকণ্ঠ মহল, নীলকণ্ঠ শিবের মন্দির, দরিয়াখানের সমাধি, জালিমহল, দাই কি ছোটি বহিন কি মহল, দাই কি মহল, হাতিমহল, সাগর তালাওয়ের পাড়ে ইকো পয়েন্ট, সানসেট পয়েন্ট।

দশম  দিন – মান্ডু থেকে বাস বা গাড়িতে চলুন নর্মদা তীরের মহেশ্বর, ৩৮ কিমি। রাত্রিবাস মহেশ্বর।

মহেশ্বর।

মহেশ্বরে দেখে নিন –

মন্দির আর ঘাটের শহর মহেশ্বর। মাঝে অহল্যা, পশ্চিমে ফানাসে এবং পুবে পেশোয়া-সহ ঘাটের পর ঘাট। নর্মদা ও মহেশ্বর নদীর সঙ্গমে সপ্তমাতৃকার সাত মন্দির। সঙ্গমের পুবে টিলার টঙে কালেশ্বর, পশ্চিমের টিলায় জলেশ্বর মন্দির, নর্মদার মাঝে ডুবো পাহাড়ে বানেশ্বর। বাস স্ট্যান্ড থেকে ৩ কিমি দূরে আকবরের গড়া দুর্গে অহল্যাবাঈয়ের রাজওয়াড়া বা প্রাসাদ। হোলকার পরিবারের স্মারক মিউজিয়াম, দশেরা তীর্থমণ্ডপ, সতী বুরুজ, ব্রহ্মা মন্দির, কুবেরের তপস্যাক্ষেত্র সহ আরও অনেক দর্শনীয় মহেশ্বরে।

একাদশ দিন – বাস বা গাড়িতে চলুন ওঙ্কারেশ্বর, ৬৫ কিমি। রাত্রিবাস ওঙ্কারেশ্বর।

ওঙ্কারেশ্বর।

ওঙ্কারেশ্বরে দেখুন –

নর্মদা ও কাবেরী (দক্ষিণের কাবেরী নয়) মিলনে সৃষ্ট দ্বীপে মন্দিরতীর্থ ওঙ্কারেশ্বর। ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান। দু’পাশে মন্দিরময় বিন্ধ্য পর্বত। ওঙ্কার পাহাড়ের ঢালে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম ওঙ্কারেশ্বর মহাদেব। ওঙ্কারনাথের বাঁয়ে ঢালু পথে শংকরাচার্য গুহা। নর্মদার পাড় ধরে সিদ্ধিনাথ মন্দির, চব্বিশ অবতার মন্দিরগুচ্ছ, সপ্তমাতৃকা মন্দির কমপ্লেক্স, গৌরী সোমনাথ মন্দির সহ বহু মন্দির। মন্দির পরিক্রমা সেরে চলুন রামঘাটে, নৌকায় ভেসে পড়ুন নর্মদার বুকে। চলুন নর্মদা ও কাবেরীর সঙ্গমে।

দ্বাদশ দিন – বাসে বা গাড়িতে চলুন ইন্দোর, ৭৮ কিমি। রাত্রিবাস ইন্দোর।

ইন্দোরে দেখে নিন –

কাচমন্দির, গীতা ভবন, প্রাচীন রাজওয়াড়া বা প্রাসাদ, গোপাল মন্দির, আর্ট গ্যালারি, লালব্যাগ প্যালেস, মানিক বাগ প্যালেস।

ত্রয়োদশ দিন – ইন্দোর থেকে ফেরার ট্রেন। প্রতি মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় ইন্দোর থেকে শিপ্রা এক্সপ্রেস হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬:৪৫-এ।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) স্থানীয় যানবাহনে ভোপাল ঘুরে নিন।

(২) ভোপাল থেকে ট্রেনে/বাসে/গাড়িতে বিদিশা চলুন। ঘণ্টা খানেকের জার্নি। সেখান থেকে স্থানীয় গাড়িতে সাঁচি আসুন। ফিরুন ট্রেনে/বাসে/গাড়িতে। অথবা ভোপাল একেবারে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নিতে পারেন।

(৩) ভোপাল থেকে গাড়িতে ভীমবেটকা বা দেড় ঘণ্টায় ওবেদুল্লাগঞ্জ এসে সেখান থেকে জিপে ভীমবেটকা।

(৪) স্থানীয় যানে উজ্জয়িন ঘুরে নিন।

(৫) মান্ডুতে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরুন।

(৬) মহেশ্বর ও ওঙ্কারেশ্বরে অনেকটাই হাঁটতে হবে। বাকিটা স্থানীয় যানে ঘুরবেন।

(৭) ইন্দোরে স্থানীয় যানে ঘুরবেন।

কোথায় থাকবেন

ইন্দোর ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে এমপিএসটিডিসির হোটেল। ভোপালে রয়েছে পর্যটন নিগমের পলাশ রেসিডেন্সি, লেক ভিউ অশোক, উইন্ড এন ওয়েভস, কেরোয়া রিসোর্ট। উজ্জয়িনীতে রয়েছে শিপ্রা রেসিডেন্সি, অবন্তিকা যাত্রী নিবাস, হোটেল উজ্জয়িন। মান্ডুতে আছে মালব রিট্রিট এবং মালব রিসোর্ট। মহেশ্বরে নর্মদা রিট্রিট এবং ওঙ্কারেশ্বরে নর্মদা রিসোর্ট। অনলাইনের বুক করার জন্য লগইন করুন www.mptourism.com। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল।

জাহাজমহল, মান্ডু।

মনে রাখবেন

(১) ইন্দোর থেকে ফেরার বার (মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি) মনে রেখে হাওড়া থেকে যাত্রার দিনের টিকিট কাটবেন।

(২) সাঁচি ও বিদিশায় গাইড নিলে ভালো হয়। সাঁচি খোলা সকাল ৮টা থেকে সন্ধে ৬টা।

(৩) দোকানপাটের অভাব ভীমবেটকায়। তাই ড্রাই ফুড আর জল সঙ্গে রাখবেন।

(৪) মান্ডুতে ঢুকতেই পড়বে ফসিল পার্ক। টিকিট কেটে ঢুকতে হয়, অবশ্যই ঢুকবেন।

(৫) মান্ডুতে আরও একটা দিন সময় দিতে পারলে ভালো হয়। সে ক্ষেত্রে ইন্দোরে রাত্রিবাস নাও করতে পারেন। সকাল সকাল ইন্দোর চলে আসুন, ফেরার ট্রেন রাত সাড়ে ১১টায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here