wrivuশ্রয়ণ সেন:

আলাপ হয়েছিল সুনীতার সঙ্গে। নদীর ধারে ছোট্টো ঝিটেবেড়ার দোকান এই নেপালি তরুণীর। রয়েছে চা-কফি-চাউমিন-মোমোর ব্যবস্থা। শাশুড়ি-মেয়েকে নিয়ে চালসায় থাকে সুনীতা। স্বামী কর্মসূত্রে আছে জলপাইগুড়িতে। সুনীতা রোজ এগারোটা নাগাদ চলে আসে এখানে। বিকেলের দিকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। রাত আটটায় দোকান গুটিয়ে ফিরে যায় বাড়ি।

পাঁচ দিন হল উত্তরবঙ্গে এসেছি, কোনো বিশ্রামের সুযোগ পাইনি সেই অর্থে। হয় হোটেলে চেকইন করেই ছুটতে হয়েছে জঙ্গল সাফারির জন্য। কখনও বা হোটেলে ঢুকেছি এক্কেবারে সন্ধে নাগাদ। এমন কোনো জায়গায় কি যাওয়া যায়, যেখানে গিয়ে শুধু বিশ্রামেই কাটিয়ে দেওয়া যাবে একটা দিন।

murti-resortতখনই নজরে এল মূর্তি। বক্সা-জয়ন্তি, জলদাপাড়া, গরুমারার কাছে যেন কিছুটা পিছিয়েই রয়েছে মূর্তি। পর্যটকদের পা-ও সে ভাবে খুব একটা পড়ে না বোঝা গেল যখন খুব সহজে মূর্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের টুরিস্ট রিসোর্টে জায়গা পাওয়া গেল।

লাটাগুড়ি থেকে মাত্র ১৭ কিমি। মূর্তি পৌঁছে গেলাম মধ্যাহ্নভোজনের অনেক আগেই। লাটাগুড়ি থেকে চালসার দিকে কিছুটা এলে পড়বে বাটাবারি মোড়। সেখান থেকে ডান দিকে সরু পিচ রাস্তা ধরে চার-পাঁচ কিমি গেলেই মূর্তি।

murti-riverপ্রথমেই বলে রাখা, মূর্তি আসলে কোনো জায়গার নাম নয়। এটি একটি নদীর নাম, পাহাড় থেকে নেমে আসা আর পাঁচটা নদীর মতোই। এই নদীর ধারেই গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হোটেল এবং রিসোর্ট। অদূরেই হিমালয়। জায়গার নাম ধুপঝোড়া।

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের টুরিস্ট রিসোর্ট ছাড়াও এখানে রয়েছে বন উন্নয়ন নিগমের বনানী রিসোর্ট। বাইরে থেকে দেখে মনে হল বনানীর ঘর থেকে নদী দেখা যায়। টুরিস্ট রিসোর্টের ঘর থেকে নদী না দেখা গেলেও, বনানীর থেকে এটা অনেক বেশি ফাঁকা ফাঁকা।

মধ্যাহ্নভোজনের পর বেশ কয়েক ঘণ্টা একটা ঘুম দিলাম। বিকেল নাগাদ একটু হাঁটতে বেরলাম নদীর ধারে। নেমে পড়লাম নদীতে। কয়েক দিন আগেই জয়ন্তি নদীর ধারে নেমেছিলাম। কেন জানি না, মূর্তি আমাকে আরও বেশি করে ছুঁয়ে গেল। পাহাড়ি নদী সমতলে নেমেছে, সঙ্গে নিয়ে এসেছে অনেক পাথর। নদীতে জলও এমন কিছু বেশি নেই। এই সুযোগ নিয়ে অনেকেই চলে যাচ্ছেন নদীর মাঝখানে। আমার অবশ্য এ রকম কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। পড়ন্ত বিকেলের শান্ত পরিবেশই আমাকে বেশি করে আকৃষ্ট করছে।

কখন যে সন্ধে নেমে এসেছে খেয়ালই করিনি। তাড়াহুড়ো করে উঠে পড়তে হল। মোমো খেতে গিয়ে আলাপ হয়ে গেল সুনীতার সঙ্গে। ফিরে এলাম রিসোর্টে। রিসোর্টের একজন জানালেন, সকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পরিষ্কার দেখা যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

murti-kanchan-1হ্যাঁ, এখানেও দেখা গেল কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। সক্কালে উঠে একটু প্রাতঃভ্রমণে বেরোলাম নদীর ধারে। রিসোর্টের গেট থেকে বেরিয়ে বাঁ দিকে পাহাড়ের দিকে তাকাতেই দেখি উঁকি মারছে সে। আগের দিন জল্পেশ থেকে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণে প্রথম দেখা হয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে। এখানে কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন আরও বেশি স্পষ্ট, আর হবে নাই বা কেন, পাহাড়ের অনেক কাছে এসে পড়েছি আমরা।

“কী রে কোথায় গেলি?”

মোবাইলের ওপারে চিন্তান্বিত বাবা। আসলে বুঝতেই পারিনি, যে সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর ডান দিকে মূর্তিকে রেখে হাঁটতে হাঁটতে প্রায় এক ঘণ্টা পার করে ফেলেছি। তাড়াতাড়ি হাঁটা লাগালাম রিসোর্টের দিকে। মূর্তির মায়া ত্যাগ করে এ বার যে রওনা হতে হবে।

আরও পড়ুন উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৫/ জল্পেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

কী ভাবে যাবেন

মূর্তির নিকটবর্তী রেল স্টেশন চালসা। শিয়ালদহ থেকে আলিপুরদুয়ারগামী কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে চালসায় পৌঁছোনো যেতে পারে। এখান থেকে মূর্তি ৮ কিমি। এনজেপি স্টেশন থেকে মূর্তি ৬৫ কিমি। জলপাইগুড়ির বাসিন্দারাও মূর্তি আসেন সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতে। জলপাইগুড়ি থেকে মূর্তির দূরত্ব ৪২ কিমি।

কোথায় থাকবেন

এখানে থাকার নিঃসন্দেহে সব থেকে ভালো জায়গা পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের মূর্তি টুরিস্ট রিসোর্ট। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করতে পারে www.wbtdc.gov.in। রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বনউন্নয়ন নিগমের বনানী রিসোর্টও। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন www.wbfdc.net। এ ছাড়াও অনেক বেসরকারি রিসোর্ট এবং হোটেল রয়েছে মূর্তিতে।

1 মন্তব্য

  1. উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৬/ মূর্তির ধারে- লেখাটি ভালো হয়েছে, তবে সমান একটু ভুল আছে কাঞ্চনকন্যা চালসাতে দাঁড়ায় না, মাল জং এই নামতে হবে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন