ছবি: দেবাশিস দে
অসীম সেন

(গুরুদংমার হ্রদ পর্বের পর)

লাচেন থেকে লাচুং এ পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা নেমে এল। রাস্তায় কোনো এক পাহাড়ের কোলে মুখ লুকলো সূর্য। এ এক বাড়তি পাওনা। পাহাড়ে সন্ধ্যা নামে ঝুপ করে। যত রাত তাপমাত্রার কাঁটা তত নিম্নমুখী। সকালে উঠে দেখুন আপনার আগে জেগে গেছে পাহাড়। হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে মেঘ ছোঁয়া পাইন গাছের আবডালে সূর্যের সোহাগ দেখুন কফির কাপ হাতে। তবে এই আলস্য মাখা বিলাশ বেশিক্ষণ থাকবে না। ইতিমধ্যেই আপনার গাড়ির চালক জানিয়ে দিয়েছে এবার যাত্রা শুরু করার পালা।

আরও পড়ুন: গরমে সিকিমে: গুরুদংমার হ্রদ

ছবি: দেবাশিস দে

লাচুং থেকে ইয়ুংথাং ২৫.৮ কিলোমিটার। যাত্রাপথে চারিদিকে পাহাড়ের চুড়ায় কারা যেন সোনা লেপে দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে প্রচ্ছদপট। পাহাড়ে এই রোদ এই বৃষ্টি। দুটোই চোখের আরাম দেয়। পারলে একটা ছাতা নিয়ে নেবেন। ইয়ুংথাং ভ্যালির রাস্তায় এসময়ে রোডোডেনড্রনের মেলা। গোলাপি, সাদা, লাল, বেগুনি হরেক রকম রঙের চাদর যেন বিছিয়ে রাখা হয়েছে রাস্তার দুপাশে। অবশেষে বহু প্রতিক্ষিত ইয়ুংথাং ভ্যালি। পাহাড়ি নদী বছরের বেশিরভাগ সময়ে ঢাকা থাকে বরফের চাদরে।

ছবি: দেবাশিস দে

এ সময়ে আসলে এর অন্য রূপ। কথা না শোনা অবাধ্য তিস্তা বয়ে চলেছে। দুপাশে পাহাড়ের গা বেয়ে বরফ চুঁইয়ে পড়ছে সমতলে। ভ্যালির চার পাশে নানা রঙের ফুলের চাঁদর। গোটা ভ্যালিটিকে ফুলের ঝুড়ি বলেও ভুল হতে পারে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষদের বিশ্বাসের পতাকা হাওয়ায় উড়ছে। একের পর এক গাড়ি এসে থামছে। ইয়ুংথাং হয়ে উঠছে মেলা ক্ষেত্র।

ছবি: লেখক

ভ্যালির ওপরেই সামান্য কিছু জলযোগ করে নিতে পারেন। সামনেই বাজার ইয়ুংথাং ভ্যালির একটি স্মৃতি চিহ্ন থাকুক আপনার সঞ্চয়ে। আপনার সঙ্গে আপনার গাড়ির চুক্তি থাকবে ইয়ুংথাং ভ্যালি পর্যন্ত। রাস্তাতেই তারা বলে দেবে যদি জিরো পয়েন্ট যেতে চান তাহলে দিতে হবে অতিরিক্ত রেঁস্তো। ইয়ুংথাং ঢোকার মুখেই জিরো পয়েন্টের বোর্ড চোখে পড়বে। সাধারণ গাড়ি পিছু ২৫০০ টাকা। ডিলাক্স গাড়ি হলে ৩০০০ টাকা। সামান্য দরদস্তুর করে রওনা দিন জিরো পয়েন্ট বা ইয়ামেসামডং এর দিকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫৩০০ ফুট ওপরে জিরো পয়েন্ট। ইয়ুংথাং থেকে দুরত্ব ২৬ কিলোমিটার। গাড়িতে সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা। শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন।

সাধারণত মে জুন মাসে সিকিমে সেভাবে বরফ মেলে না। কিন্তু  ইন্দো চিনা সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে এই সময় বরফ মেলার সম্ভাবনা থাকে। বরফের রাজত্বে পায়ে বরফের পোষাক । আপনার দিকে বরফের গোলা ছুড়ে দিচ্ছে আপনার প্রিয় জন। আপনি চায়েক কাপে চুমুক দিয়ে উষ্ণতার খোঁজ নিচ্ছেন। প্রয়োজন পড়লে আপনি এবং আপনার পরিবারের প্রত্যেকে হ্যান্ডগ্লাভস পড়ে নেবেন। ফ্রস্ট বাইট হলে মুশকিলে পড়বেন। জিরো পয়েন্ট থেকে আবার লাচুং এর হোটেলে। দুপুরে ভালো করে খাওয়া দাওয়া করে রওনা গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে। গ্যাংটকে এসে নিজেকে ফ্রেস করে বেরিয়ে পড়তেই পারেন স্থানীয় বাজারে। পরেরদিন গন্তব্য বাবা মন্দির, ছাঙ্গু লেক।

(ক্রমশ)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here