৩০ এপ্রিল সোমবার বুদ্ধ পূর্ণিমা, পরের দিন মঙ্গলবার মে দিবসের ছুটি। তাই তার আগের সপ্তাহান্তের ছুটি ধরে এপ্রিলের শেষে, মে-র গোড়ায় চারটি দিন ছুটি হাতে রয়েইছে। এর সঙ্গে একটা দিন যদি একটা সিএল ম্যানেজ করা যায়, তা হলে আর পায় কে! ২৭ এপ্রিল থেকে ১ মে – পাঁচ দিনের ছুটিতে বেরিয়ে পড়ুন পেলিং-এর উদ্দেশে। বুদ্ধ পূর্ণিমায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক অপরূপ দৃশ্য। মনে হয়, কাঞ্চনজঙ্ঘার যে ভেলাসদৃশ চুড়ো, তাতে বসে রয়েছে পূর্ণ চন্দ্রটি । এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। তা হলে আসুন আপনাদের জন্য ছোট্টো ভ্রমণছকটি সাজিয়ে ফেলি।

মনে করিয়ে দিই, ওই সময় রাতের ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার জায়গা নেই। তবে দিনের ট্রেনে জায়গা অঢেল। আছে রাতের বাসও, সাধারণ বাস এবং এসি বাস। আর দমদম থেকে বাগডোগরা উড়ান তো আছেই। তা হলে ট্রেনে বা বিমানে গেলে আসন সংরক্ষণ করে নিন। আর বাস হলে যাত্রার কয়েক দিন আগে করলেই হবে। তবেফেরার জন্য রয়েছে বিমান আর বাস। ট্রেনে জায়গা নেই।  

প্রথম দিন (২৭ এপ্রিল)– কলকাতা থেকে সকাল ৯টা ৫-এর হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এনজেপি পৌঁছে দেবে সন্ধে ৬টা ৫৫ মিনিটে। হাওড়া এনজেপি শতাব্দী ছাড়ে দুপুর সোয়া ২টোয়, এনজেপি পৌঁছোয় রাত সাড়ে ১০টা। এনজেপি স্টেশনের কাছে বা শিলিগুড়ি শহরে কোনো হোটেলে রাত কাটান। আর কলকাতা থেকে রাতের বাসে এলে এনজেপি বা শিলিগুড়িতে রাত কাটানোর প্রশ্ন নেই।

helipad at pelling
হেলিপ্যাড, পেলিং।

দ্বিতীয় দিন (২৮ এপ্রিল) – চলুন পেলিং (২০৮৫ মিটার)। শিলিগুড়ি থেকে দূরত্ব ১৩৫ কিমি। পেলিং পৌঁছোতে ঘণ্টা ছয়েক লাগবে। যত তাড়াতাড়ি শিলিগুড়ি থেকে রওনা হবেন, তত তাড়াতাড়ি পেলিং পৌঁছোবেন। এ দিন পেলিং-এই ঘোরাঘুরি। এখানে ম্যাল না থাকলেও রয়েছে সুন্দর একটা হেলিপ্যাড। দেখুন সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে  কোকতাং, কুম্ভকর্ণ, রাতোং, কাব্রু ডোম, কাঞ্চনজঙ্ঘা, পান্ডিম, জোপুনো, সিম্ভো, নরসিং, সিনিয়লচু-সহ আরও নানা শিখর

তৃতীয় দিন (২৯ এপ্রিল) – আলো ফোটার আগে ৪ কিমি হেঁটে চলুন সাঙ্গা চোলিং মন্যাস্ট্রি। কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে অপরূপ সূর্যোদয়ের সাক্ষী থাকুন। মন্যাস্ট্রি থেকে দেখুন ফুলের উপত্যকা বার্সে

singshore bridge
সিংশোর ব্রিজ।

ফিরে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন। চলুন পেমেয়াংসে, ৩০০ বছরের বেশি পুরোনো মন্যাস্টেরি দেখতে। সেখান থেকে চলুন রাবদান্তসে, সিকিমের দ্বিতীয় চোগিয়ালের দ্বিতীয় রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ।ফিরে মধ্যাহ্নভোজ। এ বার বেরিয়ে পড়ুন ছাঙ্গে ফলস্‌ (১৫ কিমি), সিংশোর ব্রিজ (আরও ১২ কিমি, এশিয়ার দ্বিতীয় গভীরতম গর্জের ওপর ১৯৮ মিটার লম্বা ৬৭৮ ফুট উঁচু সেতু) হয়ে নেপাল সীমান্তে রডোডেনড্রনে ছাওয়া উতরে গ্রামের (আরো ১০ কিমি) কিমি) উদ্দেশে।

চতুর্থ দিন (৩০ এপ্রিল) – প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন। চলুন রিমবি ফলস্‌ (১৮ কিমি, পাহাড় থেকে নামছে রিমবি নদী)। সেখান থেকে চলুন ১৫ কিমি দূরে লেপচাদের পবিত্র লেক খেচিপেড়ি (ইচ্ছেপূরণের জন্য খ্যাত খেচিপেড়ি পেয়ার ফ্ল্যাগ আর গাছগাছালিতে ছাওয়া, লেকের জলে পাতা পড়ে না, লেকের পাড়ে ছোট্টো গুম্ফা। খেচিপেড়ি দেখে চলুন ১৫ কিমি দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্‌। ৩০০ ফুট ওপর থেকে দুদ্দাড় বেগে নামা কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্‌ আকর্ষণে অনবদ্য। এ বার চলুন ১২ কিমি দূরে ইয়াকসাম। ১৭৮০ মিটার উঁচু ইয়াকসাম সিকিমের প্রথম রাজধানী। তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্ম লাল টুপি শাখার পত্তনও এই ইয়াকসামে। কার্থোক লেকের পাড়ে পাইন গাছের তলায় প্রথম চোগিয়ালের মাটি ও পাথরে গড়া করোনেশন থ্রোন। পাথরে পায়ের ছাপ। অতীতের চোর্তেনের ধ্বংসাবশেষ। চার কিমি দূরে নিরালা নির্জনে সিকিমের দ্বিতীয় প্রাচীন দুবদি মন্যাস্টেরি

ফিরে আসুন ৪২ কিমি দূরে পেলিং-এ। আজ পূর্ণিমা। কাঞ্চনজঙ্ঘার ভেলাসদৃশ চুড়োয় আজ যে পূর্ণ চন্দ্রের থাকার কথা।

kacheopalri lake
খেচিপেড়ি লেক।

পঞ্চম দিন (১ মে) – ফিরুন ঘরপানে। পেলিং থেকে শেয়ার জিপ বা গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন শিলিগুড়ি।

কী ভাবে যাবেন

শিলিগুড়ি এসএনটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে ট্যাক্সিস্ট্যান্ড থেকে শেয়ার ট্যাক্সি পেয়ে যাবেন। গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন। বাসও চলে। তবে সংখ্যায় খুব কম। এসএনটি বাসস্ট্যান্ডে খোঁজ করে নিতে হবে।

কী ভাবে ঘুরবেন

পেলিং থেকে জিপ ভাড়া করে ঘুরে নেবেন দ্রষ্টব্যগুলো।

কোথায় থাকবেন

পেলিং-এ এখন বেসরকারি হোটেলের সংখ্যা প্রচুর। এদের খোঁজ পাবেন triviago.in, make my trip, goibibo, yatra.com ইত্যাদির মতো ওয়েবসাইটগুলিতে

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন