amrokanon, shantiniketan
আম্রকানন।
sudip kumar paul
সুদীপ কুমার পাল

লজ থেকে বলেছিল বেলা ১১টার ঠিক পরেই ট্রেন আছে। রামপুরহাট স্টেশনে এলাম প্রায় পৌনে ১১টায়। জানতে পারলাম দেড়টার আগে ট্রেন নেই বোলপুর যাওয়ার। এতটা সময় বসে বসে নষ্ট হবে! প্রস্তাব দিলাম বামাখ্যাপার জন্মস্থান আটলা ঘুরে আসার। এই গরমে কেউ রাজি হল না। অগত্যা একটা প্লাস্টিকের বড় শিট পেতে স্টেশনে পাখার নীচে বসে পড়লাম।

ভাবলাম সাড়ে ১২টা নাগাদ দুপুরের খাবার খেয়ে নেব। এমন সময় মাইকে ঘোষণা, শান্তিনিকেতন যাওয়ার গাড়ি ১ নং প্ল্যাটফর্মে আসছে। বোঝো ঠ্যালা, খাওয়া লাটে উঠল। পড়িমরি করে দৌড়। গন্তব্য ১ নং প্ল্যাটফর্ম।

নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ল। চললাম তারাক্ষেত্র থেকে রবিক্ষেত্রের উদ্দেশে। চলেছি বীরভূমের মাটির উপর দিয়ে শান্তিনিকেতনের পথে। এই বীরভূম মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্কের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল। দশম শতাব্দীতে পাল রাজাদের অধীনে যায়। বীরভূম যখন সেন রাজাদের অধীনে ছিল তখন কেঁদুলির বাসিন্দা, গীতগোবিন্দ রচয়িতা জয়দেব গোস্বামী লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি ছিলেন। শেষ দিকে বীরভূম মুঘলদের অধীনে যায়।

আরও পড়ুন: তারাক্ষেত্র থেকে রবিক্ষেত্র ১ / আদি মূর্তি দর্শন হল না আজ

অনেকে বলেন, এখানকার অধিবাসীদের বীর বলা হত। তাই এই জায়গাকে বলা হত বীরভূমি।  কালক্রমে বীরভূমি থেকে বীরভূম। অনেকে মনে করেন, বীর পদবী যুক্ত রাজাদের কারণে বীরভূম নাম হয়েছে। কারোর মতে, মুন্ডারি ভাষায় ‘বির’ শব্দের অর্থ জঙ্গল। জঙ্গলময় জায়গা হওয়ায় নাম হয়েছে বীরভূম।

শান্তিনিকেতন আদতে ছিল ভুবনডাঙা, জমিদার ভুবন সিংহের নামানুসারে। ভুবনডাঙা নামটি এখন অবলুপ্ত। তবেও এখনও বিশ্বভারতীর বিপরীতে বিশাল আকারের একটি মাঠ ভুবনডাঙার মাঠ নামে পরিচিত।

chhatimtala, shantiniketan
ছাতিমতলা।

সিংহ পরিবারের সঙ্গে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল। ১২৭৯ বঙ্গাব্দে দেবেন্দ্রনাথ তারাপীঠ আসেন। তখন বামাখ্যাপা তাঁকে বলেছিলেন, “রায়পুরে সিংহবাড়ি যাওয়ার পথে আপনি একটা বিশাল ডাঙা দেখতে পাবেন। সেখানে একটি বিশাল ছাতিম গাছ আছে। ওই ছাতিম গাছতলায় কিছুক্ষণ বসে ধ্যান করবেন। অপার শান্তি পাবেন।”

রায়পুরে যাওয়ার পথে ভুবনডাঙায় রাত হয়ে যায়। সে দিন আবার জ্যোৎস্না ছিল। সেখানকার নৈসর্গিক দৃশ্যে অভিভূত হন দেবেন্দ্রনাথ। বামাখ্যাপার কথামতো সেই ছাতিম গাছের নীচে বসে কিছুক্ষণ ধ্যানও করেন। তাঁর হৃদয় শান্তিতে ভরে যায়। এর পর ১৮৬৩ সালের ৩১ মার্চ কুড়ি বিঘা জমি পাট্টা নিলেন পাঁচ টাকায়। এবং একটি বাড়ি তৈরি করেন। নাম দেন শান্তিনিকেতন। এই অঞ্চলেই পুত্র রবীন্দ্রনাথ ১৯০১ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, পরবর্তীতে যা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে।

বোলপুর এলাম পৌনে তিনটেয়। গরমে তেতে পুড়ে একশা। প্রাতরাশের পর সে ভাবে কিছু খাওয়াও হয়নি। প্ল্যাটফর্মেই রেলের ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার খেয়ে অটোয় চললাম ভুবনডাঙার মাঠের বিপরীতে মা সারদা লজে। দিন দশেক আগে আমাদের সহকর্মী সৈকত এখানেই আমাদের জন্য দু’টো ঘর বুক করে রেখেছে।

লজে এসে প্রথমেই টোটো চালক উদয়কে ফোন করলাম। আমার এক বাল্যবন্ধু ইন্দ্রজিৎ সরকার গত পুজোর ছুটিতে এখানে আসে। তখন উদয়কে তার বেশ ভালো লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই উদয়ের উদয় হল। শান্তিনিকেতন ও আশপাশের যা কিছু দেখানোর, সব দায়িত্ব ওকেই দিয়ে দিলাম। ঠিক হল আজ বিকেলে পুরো বিশ্বভারতী দেখব। যদি কিছু বাকি থাকে সেটা কাল দেখা যাবে।

entrance of vishwabharati
বিশ্বভারতীর প্রবেশদ্বার।

লজ থেকে বিশ্বভারতী বড়োজোর ২০০ মিটার। পৌঁছোতে মিনিট দুয়ের বেশি সময় লাগল না। গাড়ি রেখে উদয় গাইড হিসাবে আমাদের সঙ্গেই ভিতরে এল।

গাছপালায় ঢাকা বিশ্বভারতী চত্বর। লাল মাটির রাস্তা ধরে গাছের তলা দিয়ে হাঁটতে মনটা ভরে যায়। কিছুটা গিয়েই উদয় একটা বাড়ি দেখিয়ে বলল, বিয়ের পর প্রথম দিকে শান্তিনিকেতনে এলে রবীন্দ্রনাথ সস্ত্রীক এই বাড়িতেই থাকতেন। কয়েক পা এগিয়ে  বিপরীত দিকে একটি খড়-ছাওয়া মাটির বাড়ি দেখিয়ে জানাল, এই বাড়িটি রবীন্দ্রনাথ শখ করে তৈরি করিয়ে ছিলেন সপরিবার থাকবেন বলে। কিন্তু ১৯০২ সালের নভেম্বরে কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীর অকালমৃত্যুর কারণে সে স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

rabindranath wanted to live in this house with family
সপরিবার এ বাড়িতেই থাকতে চেয়েছিলেন কবি।

আমরা অফিস, ক্লাসরুম পেরিয়ে আম্রকাননে প্রবেশ করলাম। বাঁ দিকে বিশাল মাঠ। এখানেই সাধারণত বসন্ত উৎসব হয়। মাঠের এক প্রান্তে কংক্রিটের মঞ্চ করা আছে।

পায়ে পায়ে চলে এলাম বকুলবীথিতে। এখানে বকুল গাছের প্রাচুর্য। এই সব নামকরণ কবির নিজের। আম্রকানন, বকুল বীথি – একই বাগানের বিভিন্ন অংশের নাম। দু’ দিন আগে দোল গিয়েছে। আম্রকুঞ্জে, বকুলবীথিতে গাছের গোড়ায়, পাতায় এখনও আবির লেগে। শান্তিনিকেতনে কবির প্রচলিত বসন্ত উৎসব শুরু হয়েছিল ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২২ সাল) ২৬ ফাল্গুন। এর পর থেকে প্রতি বছরই শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব হত এবং এখনও হয়। যত দিন কবি বেঁচে ছিলেন তত দিন তিনিই ছিলেন এই উৎসবের মধ্যমণি। ১৯৪১ সালে কবি তখন গুরুতর অসুস্থ। সে বার বসন্ত উৎসবে তিনি যোগ দিতে পারেননি। সে দিন তাই ব্যথিত চিত্তে লিখেছিলেন, “আর বার ফিরে এলো বসন্তের দিন/বসন্তের অজস্র সম্মান/রুদ্ধ কক্ষে দূরে আছি আমি। এ বৎসর বৃথা হল পলাশবনের নিমন্ত্রণ।”

the place where children's clsses are held.
এখানেই শিশুদের পড়ানো হয়।

পায়ে পায়ে এলাম ছাতিমতলায়। এই সেই জায়গা যেখানে দেবেন্দ্রনাথ ধ্যান করেছিলেন। এই সেই জায়গা যেখানে রবীন্দ্রনাথ প্রথম গাছতলায় তাঁর স্বপ্নের ক্লাস শুরু করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ একটি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “শিক্ষাকে আমরা বহন করিয়া চলিলাম, তাকে বাহন করিতে পারিলাম না।” তাঁর এই আক্ষেপ আমরা ভুলব না। শিক্ষাকে বাহন করার চেষ্টা তিনি নিজেও কিছু কম করেননি। ছাতিমতলায় সুন্দর একটি কংক্রিটের বেদি তৈরি করে রাখা আছে। পুরোনো ছাতিম গাছটি মারা গিয়েছে। সে জায়গায় নতুন একটি ছাতিম গাছ লাগানো হয়েছে কয়েক বছর হল।

shantiniketan bhawan
শান্তিনিকেতন ভবন।

পাশেই শান্তিনিকেতন ভবন। এটিই আশ্রমের সব চেয়ে পুরোনো বাড়ি। এই বাড়ির একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এটির মধ্যে যেন সর্ব ধর্ম সমন্বয় ঘটেছে। হিন্দু প্যাটার্নের বাড়ি, চার্চের মতো পিলার, আবার মসজিদের গম্বুজও শামিল।

বাড়িটি প্রথমে একতলা ছিল। পরে দোতলা হয়। কৈশোরে বাবার সঙ্গে হিমালয়ে যাওয়ার পথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে কিছু দিন বাস করেন। ব্রহ্মচর্য বিদ্যালয় স্থাপনের সময়ও রবীন্দ্রনাথ কিছুকাল সপরিবার এই বাড়িতে বাস করেন। পরে আর কখনও তিনি এটিকে বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করেননি। এখন বাড়িটির সামনে রামকিঙ্কর বেজ নির্মিত একটি বিমূর্ত ভাস্কর্য রয়েছে। উদয় জানাল, ভাস্কর্যের ছায়াটি দেখলে মনে হয় মা শিশুকে কোলে নিয়ে আছেন।

শান্তিনিকেতন ভবনের সামনের রাস্তাটি ধরে এগিয়ে চলে এলাম দেবেন্দ্রনাথ নির্মিত উপাসনাগৃহ বা কাচঘরের কাছে। বড়ো সুন্দর আর্কিটেকচার কাচঘরের। উপাসনাগৃহটি হল ব্রাহ্ম মন্দির। ১৮৯২ সালে এই মন্দিরের উদ্বোধন হয়।

glass house, shantiniketan
কাচঘর।

বিশ্বভারতী বিশাল এলাকা, কয়েকটি কম্পাউন্ডে ভাগ করা। প্রতিটি কম্পাউন্ড তারজালির বেড়া দিয়ে ঘেরা। আমরা এই কম্পাউন্ড থেকে বেরিয়ে এলাম। চলে এলাম পাশেই কলাভবনে। ছাত্রছাত্রীদের তৈরি বিভিন্ন ভাস্কর্য দেখলাম ঘুরে ঘুরে। নন্দলাল বসুর দেওয়াল চিত্র, রামকিঙ্কর বেজের ভাস্কর্য প্রভৃতি সবই দেখলাম। এখানেও প্রচুর চেনা-অচেনা গাছ আছে। সন্ধ্যা হয়েছে দেখতে দেখতে। কোথায় কোন গাছ থেকে মিষ্টি একটা ফুলের গন্ধ আসছে। দখিনা বাতাস এই মাধুর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নন্দলাল বসু আধুনিক ভারতীয় চিত্রশিল্প প্রবর্তকদের অন্যতম। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগ্য শিষ্য নন্দলাল ১৯১৪ সালে শান্তিনিকেতনের কলাভবন পরিদর্শনে যান এবং সেখানে রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসেন। ১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথ জোড়াসাঁকোয় ‘বিচিত্রা’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করে নন্দলাল ১৯২০ সাল থেকে শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯২২ সালে কলাভবনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

আমরা ঘুরে ঘুরে তাঁর শিল্পকর্মগুলো দেখলাম। একটি বাড়ির পুরোটাই সাদা ও কালো রঙের ক্যানভাসে পরিণত। সেই ‘কালোবাড়ি’ দেখলাম। মাটির তৈরি, কিন্তু আলকাতরার প্রলেপ। কালোবাড়ির গায়ে বিভিন্ন ভারতীয় কলার কাজ।

ghantatala, shantiniketan
ঘণ্টাতলা।

নন্দলালের শিল্পকর্ম দেখতে দেখতে রামকিঙ্কর বেজের কথা মনে পড়ে গেল। রামকিঙ্করের বড়ো বড়ো ভাস্কর্যের  প্রায় সবই শান্তিনিকেতনে সংরক্ষিত। তার মধ্যে ‘কলের ডাক’, ‘সাঁওতাল পরিবার’ অন্যতম। ‘সাঁওতাল পরিবার’ ভাস্কর্যটিতে মহিলার বাঁ-কাঁখে একটি শিশু, পুরুষটির কাঁধে থাকা বাঁশের বাঁকের সামনের দিকে আরেকটি শিশু, আর পাশে একটি কুকুর। শরীরগুলো ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্কের বাঁধনে জড়িয়ে। উলঙ্গ শিশু ও ন্যূনতম কাপড়ে ঢাকা তাদের শরীর দেখে বোঝা যায় যে তারা অত্যন্ত দরিদ্র ও কৃষক পরিবারের মানুষ। রামকিঙ্করের আরও একটি বিস্ময়কর সৃষ্টি ‘সুজাতা’। এই ভাস্কর্যে ইটের খোয়া ও সুরকির সঙ্গে প্রয়োজনমতো সিমেন্ট ব্যবহার করেছিলেন রামকিঙ্কর। ১১ ফুট দীর্ঘ এই ভাস্কর্য রামকিঙ্কর তৈরি করেন ১৯৩৫-এ, শান্তিনিকেতনের খোলা মাঠে। ফেরার পথে দেখলাম তিন পাহাড়। তিন ধাপ বেদীর উপর একটি বিশাল বট গাছ।

ভুবনডাঙার মাঠের চার পাশে এক চক্কর দিয়ে আমাদের একটু হাওয়া খাইয়ে লজের কাছে নামিয়ে দিল উদয়।

আরও পড়ুন: তারাক্ষেত্র থেকে রবিক্ষেত্র ২ / অবশেষে তাঁর দর্শন হল

আমাদের শরীর ক্লান্ত কিন্তু মন এখনও ক্লান্ত হয়নি। লজে ফিরে না রাস্তার ধারে বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখতে লাগলাম। বাঁশ, কাঠ, টিন, প্লাইবোর্ড দিয়ে তৈরি দোকানগুলো শান্তিনিকেতন রোড আর ভুবনডাঙার মাঠের মাঝে একটা দেওয়াল তুলে দিয়েছে যেন। দোকান দেখে মাঠে ঢুকলাম। চাঁদের আলো বিছিয়ে রয়েছে। ঘাস দেখে এক জায়গায় গিয়ে বসলাম। রূপ এত বড়ো খোলা জায়গা পেয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিল। রিনরিনে দখিনা বাতাস পরম মমতায় আমাদের গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। এই মাঠেই তো পৌষ মেলা হয়, যার সূচনা হয়েছিল ১৮৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ)।

মাঠে বসে গল্প করতে করতে ন’টা বেজে গেল। এ বার উঠতে হবে। কাল সকালে উদয় আসবে টোটো নিয়ে। (চলবে)

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বোলপুর শান্তিনিকেতন। সেখান থেকে অটো, টোটো বা রিকশায় হোটেল বা লজে। ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in ।

সড়কপথে কলকাতা থেকে দূরত্ব ১৬২ কিমি, পথ জাতীয় সড়ক ১৯ (পূর্বতন জাতীয় সড়ক ২, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে) হয়ে বর্ধমান, তার পর জাতীয় সড়ক ১১৪ বরাবর গুসকরা হয়ে।

কোথায় থাকবেন

শান্তিনিকেতনে থাকার জন্য রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের টুরিস্ট লজ। অনলাইন বুকিং www.wbtdcl.com । রয়েছে যুব দফতরের যুব আবাস। অনলাইন বুকিং youthhostelbooking.wb.gov.in । এ ছাড়াও রয়েছে প্রচুর বেসরকারি হোটেল ও লজ আছে। খোঁজ পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

ছবি: লেখক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here