murguma-mukhসঞ্জয় চক্রবর্তী

মধ্যতিরিশের যুবক ‘গুঁইবূঢ়া’। পাঁচ বছর বয়স থেকে পুরুলিয়ার জঙ্গল চেনা শুরু। চলে আসুন উইকেন্ডে…গাইড হিসেবে পেয়ে যাবেন।

দেখে দেখে আপনিই ক্লান্ত, ওঁর দেখানোর উৎসাহে কোনো ভাটা নেই। ফিরবেন ঘরে, আপনার জন্য গরম ভাত নিয়ে অপেক্ষা করেছেন ‘দমনবূঢ়া’। জিরিয়ে নিন। সূর্য ঢলবে এখখুনি। পাহাড়ের কোলে। গোটা রাতটাই আপনার…গিটার, বনফায়ার, না চুপ করে রাত পাহাড়ের শব্দ। পছন্দ আপনার। চারদিক পাহাড়-ঘেরা আদিবাসী গ্রামটার নাম ‘মুরগুমা’। গরমের তিন মাস ছাড়া, যখন খুশি আসা যায়। আর শরৎ-মাখা বর্ষায় এলে বাড়তি রূপের প্রেম। থাকার জন্য আছে চারটে কটেজ। শহুরে অভ্যাসের, সমস্ত কিছুই মজুত। আধুনিক বাথরুম, ডাইনিং টেবিল, ২৪ ঘন্টা কারেন্ট…শুধু এসি ছাড়া।

murguma-1

পলাশবিতান ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বানানো এই ইকো হাট। চারজন বেতনভুক কর্মচারী। দুজনের কথা বললাম, ঘুরে এসে বাকিদের কথা আপনি বলবেন। আমি থামলাম। সোমবারের ছুটি…বদলে মঙ্গলবার। একটা বাড়তি-দিন না থাকতে পারার খিঁচখিঁচানি নিয়ে ‘ রুপসি বাংলা’ ছুটছে হাওড়ার দিকে। ওদিকে ‘সহজঝোড়া’ নদী নতুন কোনো ঝরনা বানানোর আনন্দে বয়ে চলেছে।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে সকালে রুপসি বাংলা ধরে পুরুলিয়া বা রাঁচি শতাব্দী ধরে নামুন মুরি স্টেশনে। অথবা পছন্দমতো ট্রেনে ঝালদা। হাতে সময় কম থাকলে, রাতের ক্রিয়াযোগ এক্সপ্রেস (পুরোনো নাম রাঁচি-হাতিয়া) ধরে মুরি। যেখানেই নামুন, তারপর ভাড়া গাড়ি করে মুরগুমা বাঁধ। দূরত্ব পুরুলিয়া থেকে ৪৫ কিমি। মুরি থেকে ৩০ কিমি। ঝালদা থেকে ১৭ কিমি।

murguma-2

কী দেখবেন

পায়ে হেঁটে পাহাড়ি গ্রাম। জঙ্গলের ভেতর ঢুকুন, খুঁজে বের করুন সহজঝোড়াকে। নাম-না-জানা অসংখ্য পাখি, প্রজাপতি, গাছ, মন-ক্যামেরায় ভরতে থাকুন। অ্যাডভেঞ্চার করতে চাইলে বাঁধে চান। পরের দিন ব্রেকফাস্ট করে, গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। অয্যোধ্যা পাহাড়, দুর্গা বেড়া, তুরগা ফলস, ময়ূর পাহাড়, কুকি বাঁধ, বামনি ফলস, মাঠা পাহাড়, খয়রাবেড়া, চড়িদা। পুরুলিয়া ফেরার দিন দেখে নিন দেউলঘাটা।

কোথায় থাকবেন

ওই যে বললাম, পলাশবিতান ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বানানো ইকো হাটে। আর আপনার হয়ে এই পুরো ব্যবস্থাটাই করে দিতে পারে ট্র্যাভেল অ্যান্ড বিয়ন্ড –৯৯০৩৯৯১৫১৮/৯৮৩১০৩০৭০২।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here